অপরাধ

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

লিটন আলী সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের
লুটপাটের কাজ

 

 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন দেশে অস্থিরতা চলছে, ঠিক সেই সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে শুরু হয় লুটপাটের কাজ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প, কোথাও কাজ না করে—কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো কাজের বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের ঠিক একদিন আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ইস্যু করা হয় ১৭টি চেক; এসব চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর চার দিন আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। অর্থাৎ ১৪ ও ১৮ আগস্টের নথিতে থাকা অঙ্ক যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যদিও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে এই দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।


নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ হয়নি। আবার কোথাও আংশিক কাজ হলেও পুরো কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে। আবার কোনও কোনও ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে চারটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর চেয়ারম্যান অপসারণের আগের দিন ১৮ আগস্ট বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ইস্যু করা হয় আরও ১৭টি চেক। এসব চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড়ের ঘটনা ঘটে। এই ১৭টি চেকের মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে একদিনেই সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।
হলরুমের কাজে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিলের প্রশ্ন
নথিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেসার্স শরীফ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স আরিফুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের নামে নেওয়া এই দুটি প্রকল্পের মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। অনুসন্ধান দেখা গেছে, বাস্তবে কোনও কাজ না করেই প্রকল্প দুটির বিপরীতে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
যা বলছেন ঠিকাদার
মেসার্স শরীফ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী শরীফ মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, “জেলা পরিষদের হলরুমের কোনও কাজ আমি করিনি—এটি শতভাগ নিশ্চিত। তবে আমার লাইসেন্সে অন্যরা দুই-তিনটি কাজ করেছে। ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে একজনের লাইসেন্সে আরেকজন কাজ করে, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এ কাজটি কে করেছে, এ বিষয়ে আসলে আমার খোঁজ নিতে হবে।”
তবে এর একদিন পর নিজের আগের বক্তব্য পরিবর্তন করে তিনি বলেন, “আমার লাইসেন্সে কাজ করেছি বলেই আমার নামে বিল হয়েছে। আমরাই কাজ করেছি।”
অন্যদিকে হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ প্রকল্পের ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, “এ দুটি কাজ সম্পর্কে আমি জানি না। কাজগুলো কী ছিল, তাও বলতে পারবো না। প্রকল্প পাসের প্রক্রিয়াও আমার জানা নেই।”
তার অভিযোগ, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাকে ফোন করে সকালে চেক নিয়ে যেতে বলেন এবং বিকালে টাকা ফেরত নেওয়ার কথা জানান। আরিফুল ইসলাম বলেন, “টাকা উত্তোলনের পর ওই দিন বিকালেই প্রায় ১৮ লাখ টাকা ইঞ্জিনিয়ার আমার কাছ থেকে নিয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সহজ-সরলভাবেই আমার লাইসেন্সে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলাম। ঠিকাদারি সেক্টরে এটি প্রায়ই হয়ে থাকে। তবে প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। যদি কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাহলে আমি এর বিচার দাবি করছি।”
একদিনেই ঠিকাদার নজরুলের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রকল্পের কয়েকটির কাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে শেখ নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজেরই বিল নিয়েছেন।
একদিনে ৭০ লাখ টাকা উত্তোলনের কথা শুনে প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি যে কাজ করেছি, তারই বিল নিয়েছি। কাজের বাইরে কোনও বিল নিইনি। অফিস বা ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞেস করুন। তারা জানেন।”
তিনি বলেন, “মার্কেটের সাইট প্রস্তুতকরণের জন্য অবকাঠামো অপসারণের কাজের জন্য ভেকু ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী কর্মকর্তা কন্টাক্ট করেছেন। তারা বলতে পারবেন কত টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে আমাকে দিয়ে টাকা উঠিয়ে তারা লেনদেন করেছেন।”
বালু ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাবুরহাট বাজারের মসজিদের সামনে খাল ভরাট করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার আর নির্বাহী কি কাজ না দেখে আমাকে বিল দিয়েছেন? আমি কাজ করা ছাড়া কোনও টাকা নিইনি।”
তবে বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের পর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরাও নিজেদের উদ্যোগে কিছু জায়গায় বালু ফেলেছেন। এরপরও পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, ওই সময়ের বালুর মূল্য হতে পারে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
আরও ৩৪ লাখের পাঁচ চেক
নথিতে আরও পাঁচটি চেকের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান স্যারের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফাইলগুলো আমার কাছে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেই ফাইলগুলোর জন্য আমি চেক লিখে চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করি। চেকগুলোতে চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেন। তবে পরবর্তীতে কী কারণে নির্বাহী স্যার চেকগুলো বাতিল করেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন।”
ভুয়া প্রজেক্ট তৈরি করে ৩৪ লাখ টাকার চেক তৈরি
তবে জেলা পরিষদের প্রশাসক সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, “এই পাঁচটি চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল নেই, প্রজেক্ট নেই। নির্বাহী কর্মকর্তা কেন স্বাক্ষর করলেন? তিনি স্বাক্ষর করা মানে প্রজেক্ট সম্পন্ন হওয়া। সম্পূর্ণ ভুয়া প্রজেক্ট তৈরি করে ৩৪ লাখ টাকার পাঁচটি চেক তৈরি করেন।”
কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি—‘দু-একটি কাজ মোটেই হয়নি’
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ না হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার জানামতে যেসব প্রকল্পের কথা বলে বিল নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অফিসের ভেতর কোনও কাজ হয়নি। অন্যান্য কাজ আংশিক হয়েছে। কয়েকটি কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে। সব অনিয়ম হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়; আবার সব যে ঠিকঠাক হয়েছে, তাও নয়।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাজের সাইট পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্ব প্রকৌশলীর। প্রকৌশলী কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন যাচাই করে সার্টিফাই করলে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “নথি পর্যালোচনা করে দেখেছি, কোনও ফাইলে সার্টিফাই লেখা আছে, আবার কোনোটিতে নেই। তবে তিনিই বিল প্রস্তুত করেছেন, স্বাক্ষর দিয়েছেন—সে অনুযায়ী সমস্ত প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়।”
প্রশাসক বলছেন, প্রজেক্ট নেই, কাজ হয়নি
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, “সকল ফাইল স্বাক্ষর করতে হবে জেলা পরিষদের অফিসে বসে। কিন্তু তিনি অফিসে না বসলেও চার দিনের ব্যবধানে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিল অনুমোদন হয়ে গেলো। এগুলো আমি যাচাই-বাছাই করে দেখেছি—প্রজেক্ট নেই, কাজ হয়নি। সম্পূর্ণ ভুয়া প্রজেক্ট দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের বাস্তবতা ও কাজের অগ্রগতি যাচাই করা হয়নি।
সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন ভুল করে লেখা হয়েছিল
চেক বাতিলের বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, “চেকগুলো কীভাবে হয়েছে, তা জানার পরই সেগুলো বাতিল করা হয়।” তিনি বলেন, “যতদূর মনে পড়ে, ওই ফাইলগুলো সঠিক ছিল না। ভুল করে লেখা হয়েছিল।”
তার দাবি, প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন ছাড়া কোনও বিল দেওয়া হয় না। তিনি আরও বলেন, “বরং অনেকে ঠিকঠাক কাজ না করা, ব্যক্তি স্বার্থের প্রকল্প—এ ধরনের কয়েকটি প্রকল্প ৫ আগস্টের পর বাতিল করেছি।”
ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান অনেকটা ওয়ান ম্যান শো। এসব প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান-ইঞ্জিনিয়ারের পছন্দের লোকজন বেশির ভাগ জায়গায় এনলিস্টেড হয়। ঘুরেফিরে ওইসব ঠিকাদারই কাজ পায়। আমরা শুধু নিয়ম-কানুনগুলো দেখে দিই। আমাদের এখানে কোনও ব্যক্তি স্বার্থ নেই।”
ঠিকাদারদের অভিযোগ সম্পর্কে তার প্রশ্ন, “বিল তো তাদের কাছেই গিয়েছে। তিনি না জানলে বিলের জন্য আবেদন করলো কে?”
প্রকৌশলী বললেন কাজ হওয়ার পরই বিল দিয়েছি
জেলা পরিষদের সাবেক প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রকল্পকে পুরোপুরি বাস্তবায়িত দেখিয়ে কাজ বুঝে নেওয়ার সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ হওয়ার পরই বিল দিয়েছি, কাজ ছাড়া তো বিল দেওয়ার কথা না। চেকগুলো সম্ভবত আগের চেয়ারম্যান স্যার স্বাক্ষর করেছেন।”
ঠিকাদারদের লাইসেন্সে কারা কাজ করলো?
অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কাজের প্রকল্প, বাস্তবায়ন এবং অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য।
একাধিক ঠিকাদার বলেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের ধরন, কাজের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের স্থান সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, বিল ঠিকাদারদের কাছেই গেছে এবং তারা না জানলে বিলের জন্য আবেদন করলো কে—এ প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।
ফলে কোন ঠিকাদারের লাইসেন্সে কোন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে কাজ কে করেছেন, কে সাইট পরিদর্শন করেছেন, কে কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং উত্তোলিত অর্থ শেষ পর্যন্ত কার হাতে গেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্তে দুদক
এসব অভিযোগ সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা অন্য কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার।
তিনি বলেন, “আমি এখানে যোগদানের পরে সম্প্রতি আমরা দুদক থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে তারা তথ্য চেয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে দুদকের চিঠি পাওয়ার পর। এখন যেহেতু বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে, তাদের আমরা যতটুকু সম্ভব তথ্য দেবো। আমাদের আলাদা করে তদন্ত করার বিষয় থাকবে না।”
নথিতে পাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, কাজ না হওয়ার অভিযোগ, ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যয়ন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন দুদকের তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে, প্রকল্পগুলোর বাস্তব কাজ কতটুকু হয়েছিল এবং উত্তোলিত অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ
গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ

  গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে ঢাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলে পোস্টিং বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসাসহ ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি সরকারি বরাদ্দের বড় একটি অংশ পকেটে পুরেছেন বলে তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুর রহমান সবচেয়ে বেশি অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়ে তিনি আজিমপুর বিভাগে নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট প্রথা চালু করেন, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি ফাইলে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ কমিশন না দিলে সাইফুর রহমান কোনো বিলে স্বাক্ষর করতেন না। এছাড়াও আজিমপুরে অবস্থানকালে এক নারী হিসাব সহকারীকে ঘিরেও তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তালিকায় আরো রয়েছে কুখ্যাত ঠিকাদার জিকে শামীম ও গোল্ডেন মনিরের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। এমনকি গুলশানের রেডিসন ও ওয়েস্টিন হোটেলে তাদের অর্থায়নে আয়োজিত বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত গণহত্যায় আওয়ামী লীগের পক্ষে নেপথ্যে তিনি অর্থ যোগান দিয়েছিলেন বলেও জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। নামে-বেনামে রূপকথার মতো সম্পদের পাহাড়: সরকারি চাকরির সুবাদে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও ঘুষ-কমিশনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সাইফুর রহমান দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে: রাজধানীতে আবাসন: ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে দুটি বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি এবং পূর্বাচল নতুন শহরে মূল্যবান প্লট।   টাঙ্গাইলে বিশাল সাম্রাজ্য: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সুবিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি, বাজার রোডে ৩ তলা বাণিজ্যিক মার্কেট (যাকে তিনি ভাইদের সম্পদ বলে দাবি করেন), ঘাটাইলে সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ে পূর্বে স্থাপিত এলপিজি ফিলিং স্টেশন (যা বর্তমানে ভেঙ্গে সোনার তরী পার্ক তৈরি করা হয়েছে) এবং এর কাছেই কোটি টাকা মূল্যের জমিতে গড়ে তোলা কাঠবাদাম রেস্টুরেন্ট।   বিদেশে অঢেল সম্পদ: যুক্তরাষ্ট্রে তার মেয়ের নামে কেনা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সব মিলিয়ে তার বর্তমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য অর্ধশতাধিক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী সাইফুর রহমানকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  জনস্বার্থে এই কর্মকর্তার সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধানী তথ্য ধারাবাহিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
নানা অপকর্মের পরও কুয়েত স্টেশনে বহাল বিমানের ‘প্রভাবশালী’ শাহজাহান-শামীমা দম্পতি

নানা অপকর্মের পরও কুয়েত স্টেশনে বহাল বিমানের ‘প্রভাবশালী’ শাহজাহান-শামীমা দম্পতি

রাজউকের পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

রাজউকের পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

বদলি-বাণিজ্য থেকে কমিশন আদায়ের বিস্তর অভিযোগ

বদলি-বাণিজ্য থেকে কমিশন আদায়ের বিস্তর অভিযোগ

বিমানের ভুয়া বিল দেখিয়ে ১,১৩৮ কোটি টাকা পাচার লন্ডনে!!দুই সরকারের আমলেই রমরমা লুটপাট!
বিমানের ভুয়া বিল দেখিয়ে ১,১৩৮ কোটি টাকা পাচার লন্ডনে!!দুই সরকারের আমলেই রমরমা লুটপাট!

 ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর আদি জন্মস্থান ও দেশের বাড়ি হলো সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামে।  মাত্র ১১ বছর বয়সে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো এই তাসবিরুল লন্ডনের ‘ফোর্ট লোটন হাই স্কুল’ ও ‘হ্যাকনি কলেজ’ থেকে এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড এভিয়েশন’ থেকে বিমান চালনার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউকের সিভিল এভিয়েশন থেকে কমার্শিয়াল লাইসেন্স পেয়ে তিনি আমেরিকার আকাশে এবং দেশে ফিরে বেক্সিমকোর জিএমজি এয়ারলাইনসের প্রধান পাইলট হিসেবে দাপটের সাথে বিমান চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।  ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ’ ব্যবসাটি চালু করা হয়েছিল।. পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাসবিরুল সিন্ডিকেট রাতারাতি খোলস বদলে ওবায়দুল কাদের ও সালমান এফ রহমানদের প্রভাবশালী এভিয়েশন সিন্ডিকেটের সাথে হাত মেলায়। . সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পেছনে মোটা অঙ্কের নগদ ঘুষ ঢেলে শেয়ার বাজারে এই মহাজালিয়াতি সফল করতে তাসবিরুলকে সরাসরি বুদ্ধি ও ছক দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তাঁর স্ত্রী, সিলেটেরই আরেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশী খন্দকার তাসলিমা চৌধুরী। . সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও ক্ষোভের আসল জায়গা হলো এই দুই চোরের ঠিকানা; বাংলাদেশে থাকাকালীন এই তাসবিরুল দম্পতির রাজকীয় আস্তানা ছিল রাজধানী ঢাকার অতি অভিজাত উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে (৫ম তলা)।. দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া বানাতে এবং নিজেদের সিলেট অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে এক পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শত শত কোটি টাকা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিজেদের পকেটে ভরে নেন। . দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমানের ভুয়া পার্টস ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ভুয়া খরচ দেখিয়ে এই তাসবিরুল দম্পতি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে মধ্যপ্রাচ্যের অতি বিলাসী দেশ দুবাইয়ের জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেল এলাকায় নিজের নামে ৭টি আলিশান অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। . আজ দেশের সাধারণ মানুষ যখন একবেলা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন এই শীর্ষ অর্থ পাচারকারী ও চরম বেইমান তাসবিরুল বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে সুদূর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। . যুক্তরাজ্যের ল্যান্ড রেজিস্ট্রি এবং কোম্পানি হাউজের অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাকনি বরোর অভিজাত আবাসিক এলাকা ‘স্টোক নিউইংটন’ (N16 7SL)-এর বিলাসভহুল ফ্ল্যাটে সস্ত্রীক নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছেন। . কালো টাকা সাদা করার আড়ালে লন্ডনে তাঁর গড়া সুগন্ধি ব্যবসা "TAC PERFUMES & COSMETICS (UK) LTD" (মূল শোরুম: 12 Railway Street, Chatham) এখনও সেখানে সম্পূর্ণ সচল ও লাভজনকভাবে চালানো হচ্ছে। . এই সুগন্ধি ব্র্যান্ডের আড়ালেই সেন্ট্রাল লন্ডনের অতি দামী কমার্শিয়াল জোন ‘সিটি রোড’ (128 City Road)-এর আলিশান দপ্তরে বসে তিনি আয়েশী জীবন কাটাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের আইনি চোখ ফাঁকি দিচ্ছেন। . অন্যদিকে, এই চোরের ফেলে যাওয়া কয়েকশ কোটি টাকার ১১টি পরিত্যক্ত বিমান বছরের পর বছর ধরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দখল করে আছে। . এই বিশাল লোহার কঙ্কালগুলো সরাতে এবং স্ক্র্যাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিলাম করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপুল পরিমাণ আইনি ব্যয় ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  এই মেগা ডাকাতির পেছনে থাকা সাবেক পরিচালনা pর্ষদের অন্যতম হোতারা হলেন তাঁর আপন ভাই তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ও শ্যালক খন্দকার মাহফুজুর রহমান, যারা সাধারণ মানুষের শেয়ারের টাকা লুটে এখন আত্মগোপনে আছেন।  আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্যে পুরোনো উড়োজাহাজ কেনা ও শেয়ার জালিয়াতির অকাট্য অভিযোগে ২০১৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই তাসবিরুল ও তাঁর দোসরদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অনুসন্ধান ও তলবি নোটিশ জারি করেছিল।. কেবল শেয়ার বাজারই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে তা সম্পূর্ণ খেলাপি করে দেশের শীর্ষ ৩০০ মেগা ঋণখেলাপির তালিকায় অফিশিয়ালি নাম লিখিয়েছেন এই তাসবিরুল দম্পতি।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা তুলে নিলো কারা, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কেটেও পদোন্নতি, জাল সনদে প্রধান প্রকৌশলী: খালেকুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কেটেও পদোন্নতি, জাল সনদে প্রধান প্রকৌশলী: খালেকুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়

সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ

সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ

পূর্তে ‘বীরদর্পে’ ফিরেছে প্যারাডাইম
পূর্তে ‘বীরদর্পে’ ফিরেছে প্যারাডাইম

  একটা সময় সরকারি যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাজসজ্জা কিংবা ভিআইপি অনুষ্ঠানের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো ‘প্যারাডাইম আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’কে। গত দেড় যুগ ধরে এমন অঘোষিত সংস্কৃতি ছিলো সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সময়ের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত প্যারাডাইম সাময়িকভাবে হোঁচট খায়। কিন্তু এ সংকট কাটিয়ে ‘বীরদর্পে’ ফিরতে খুব বেশি সময় লাগেনি প্রতিষ্ঠানটির। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনেকটা হাঁকডাক দিয়ে প্যারাডাইমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সংক্রান্ত নথিপত্র বস্তাবন্দি অবস্থায় পূর্ত ভবনের প্রশাসন বিভাগে পড়ে আছে বলে জানা যায়। আর নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিও গত দুই বছরে সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেতু ভবন, মন্ত্রিপাড়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনবিআর ভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ অডিট প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ আঁতাতের মাধ্যমে কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ গণপূর্তের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে সাবেক এক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসিরের আশীর্বাদ বন্ধ হলেও সেখানে নতুন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দাড়িঁয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) ড. আবু নাসের চৌধুরী। ঢাকা সার্কেল-২ এর দায়িত্বে থাকা এ প্রকৌশলী বর্তমানে সার্কেল-১ এর অতিরিক্ত দায়িত্বও বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুটি সার্কেলের অধীনে থাকা সব কাজ প্রচলিত বাজার দর থেকে উচ্চমূল্যে প্যারাডাইমের ঝুড়িতে জমা পড়ছে। সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্যারাডাইমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। তার চাহিদামত সব ডিভিশন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর নথিপত্র সংগ্রহ করলেও তা পূর্ত ভবনের সংস্থাপন শাখায় বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আবু নাসেরের এখতিয়ারাধীন রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল-২ এর আওতায় রয়েছে- গণপূর্ত ভবন, হাইকোর্ট, ইডেন গণপূর্ত বিভাগ (সচিবালয়), তেজগাঁও, বিটিভি, ওয়ারী, কেরানীগঞ্জ কারাগার এবং ঢাকার বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ। সরকারি ভবন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বড় অংশই এই সার্কেলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। সেখানে প্যারাডাইমের কাজই বেশি। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৭১ পুরানা পল্টন ভবনে সিটিজেন সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের জন্য ৩৮ লাখ টাকার সংস্কারকাজ পায় প্যারাডাইম। এরপর সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের বিভিন্ন কক্ষ সংস্কারের ৬১ লাখ টাকার কাজ, একই ভবনের ১৪/ক নম্বর কক্ষ আধুনিকায়নের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ভিভিআইপি কনফারেন্স রুমসংলগ্ন নতুন টয়লেট নির্মাণ ও অন্যান্য সংস্কারকাজে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশও যায় প্রতিষ্ঠানটির হাতে। এছাড়া সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ৫৫ লাখ টাকা, ৪ নম্বর ভবনে ৭৪ লাখ টাকা এবং ডে-কেয়ার সেন্টার সংস্কারে ৪৪ লাখ টাকার কাজও পেয়েছে তারা। একই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স রুম নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশ, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির দেয়াল সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫৭ লাখ টাকার কাজ এবং সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আইসিটি রুম, টয়লেট ও শেড নির্মাণসহ নানাবিধ উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশও পেয়েছে প্যারাডাইম। শুধু সচিবালয়ই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য সরকারি স্থাপনাতেও বিস্তৃত হয়েছে প্যারাডাইমের কার্যক্রম। শেরেবাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪২ লাখ টাকার সংস্কারকাজ, আগারগাঁওয়ের এসএমআরসি ভবনের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের নির্মাণ, পরিবর্তন ও সম্প্রসারণসংক্রান্ত দুটি প্রকল্পে মোট ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে বনানীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সেতু ভবন সংস্কার, রেট্রোফিটিং ও পুনর্নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্যাকেজে প্রায় ১১ কোটি টাকার কার্যাদেশও পায় প্যারাডাইম। পাশাপাশি এনবিআর ভবনের ৪৯ লাখ টাকার কাজও বাগিয়ে নেয় তারা। স্বাস্থ্যখাতেও সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পূর্ত অধিদপ্তরের ডেলিগেটেড কাজ হিসেবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার গ্লাস কার্টেইন ওয়াল স্থাপন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়ামের ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সংস্কার এবং অডিটোরিয়াম চত্বরের রাস্তা মেরামতের ৩৭ লাখ টাকার কাজও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে প্যারাডাইমের কার্যাদেশ বাড়ার সময়ই প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসেন আবু নাসের চৌধুরী। গত ১৩ আগস্ট নারীঘটিত বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগে সার্কেল-১ এর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেই দায়িত্বও পান তিনি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোর একটি ‘সার্কেল-১’। এর আওতায় রয়েছে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২, নগর গণপূর্ত বিভাগ এবং আরবরিকালচার বিভাগ। এই সার্কেলের অধীনেই রয়েছে বঙ্গভবন, মন্ত্রীপাড়া, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জুলাই জাদুঘর (সাবেক গণভবন), ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, রমনা পার্ক এলেনবাড়ি, জাজেস কমপ্লেক্স, মতিঝিল এবং কাকরাইল থানাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। ফলে বর্তমানে রাজধানীর সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিপুল অঙ্কের পরিচালন বাজেট তদারকির দায়িত্ব রয়েছে আবু নাসেরের হাতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ব্যয়ের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সার্কেল-২ এর আওতাধীন ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের জন্য ২৫ কোটি টাকা, মেডিকেল গণপূর্ত বিভাগ ঢাকার জন্য ১৫ কোটি টাকা, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর জন্য ১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর জন্য ২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সার্কেল-১ এর আওতাধীন নগর গণপূর্ত বিভাগের জন্য ৩০ কোটি টাকা, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর জন্য ১১ কোটি ৭৫ লাখ, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর জন্য ২৩ কোটি এবং আরবরিকালচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এলেনবাড়ীতে বঙ্গবন্ধু কর্ণার করে আলোচনায় থাকা আবু নাসের সরকার পরিবর্তনের পর প্রভাব যেন আরও বেড়েছে। এ প্রকৌশলীর ছোঁয়ায় বড় পরিসরে কাজ পেতে শুরু করেছে প্যারাডাইম। একপর্যায়ে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের সচিবালয়ের কার্যালয়ের সাজসজ্জার দায়িত্বও দেওয়া হয় প্যারাডাইমকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না।’ অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যারাডাইম আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল মোহাম্মদ  বলেন, ‘সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে আমাদের ফার্মের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির অবসরে যাওয়ার পর আমাদের ফার্মে শুধু পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।’ প্যারাডাইমের বিষয়ে গঠিত তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিটি গঠন হয়েছে কি না তা আমরা জানি না। আমাদের কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।’ প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাজ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে কোনো কাজ করিনি। প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীর সার্কেলের অধীনেও কোনো প্রকল্পে কাজ করিনি।’

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
১৪তম গ্রেডের চাকরি, এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

১৪তম গ্রেডের চাকরি, এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

শার্শায় পুলিশের অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা সহ ১ জন গ্রেপ্তার।

শার্শায় পুলিশের অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা সহ ১ জন গ্রেপ্তার।

গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

0 Comments