ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের চরম হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশের বক্তারা। মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। ‘প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে এয়ারপোর্ট ট্যাক্স নেওয়া হলেও এর বিনিময়ে প্রবাসীদের নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হয়। এর প্রতিবাদ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে লন্ডনপ্রবাসী সুরত মিয়া নিহত হলেও আজ পর্যন্ত তার বিচার হয়নি। বর্তমানে সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান প্রবাসীদের মালামাল চুরি ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে পুলিশের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল অক্সিজেন হলেও তারা পদে পদে বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘদিন জার্নি শেষে দেশে পৌঁছানোর পর লাগেজ না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এবং লাগেজ কেটে মালামাল ও জমজমের পানি চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সাবেক এক সংসদ সদস্যকে বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হয়রানি করছে। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি না দিলে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রায় ২ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকের আহ্বায়ক সলিসিটর জহির আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শিপার ও জুবের আহমদ আহাদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান এবং সাংবাদিক নেতা অলিউল্লাহ নোমান। এতে আরও বক্তব্য দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এমদাদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী রফিকুল ঈসা, সংগঠক আবদুল্লাহ আল মুনিম, ‘রাইট ফর কনসার্ন’-এর প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান খান, ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’-এর প্রেসিডেন্ট মুসলিম খান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুর রহমান পারভেজ ও রায়হান আহমেদ প্রমুখ। সভার শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন ফজলুর রহমান।
দেশকে অস্থির করতে এবং একটি নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা নানাভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে এরা নাশকতামূলক কাজে জড়িত হচ্ছে জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হলে সবার প্রচেষ্টা প্রয়োজন মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগে থেকে সচেতন হওয়া গেলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসার আশেপাশে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে ডেঙ্গু বাসা না বাঁধতে পারে। আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়া হতো, এখন তা বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় রিজভী প্রশ্ন তোলেন, পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে? তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার, কোনো ধরনের নৈরাজ্য অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধীদের দমন ও ধ্বংস করতে সর্বাত্মক নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অস্ত্র। দেড় যুগ ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দল ও মতের লোকজনকে গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন, হামলা, মামলার এক কালো অধ্যায় রচনা করে। অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সমর্থন নিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে তৃণমূলপর্যায় পর্যন্ত ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। জীবন রক্ষায় বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া, অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জনপদ বিশেষভাবে পরিচিতি পায় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে। এ ধরনের একটি এলাকা ছিল কুষ্টিয়া। অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে কুষ্টিয়ার আওয়ামী নেতাকর্মীরা ছিলেন অনেক বেশি বেপরোয়া। আমার দেশ-এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে ১৩০টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের করা মামলা। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার পর কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে কথিত অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগে মানহানি মামলা করা হয়। ওই মামলায় জামিন নিতে মাহমুদুর রহমান ২০১৮ সালের ২২ জুলাই কুষ্টিয়ার আদালতে হাজির হন। আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। সেদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। দুপুর থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক সন্ত্রাসী। জামিন পাওয়ার পর তারা মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ অবস্থায় বিকেল গড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে মাহমুদুর রহমান আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে নিজের গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা এবং ইটপাথর নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আদালত চত্বরে তাদের নৃশংস হামলায় মাহমুদুর রহমানের সারা শরীর রক্তে ভিজে যায় সেদিন। হামলাকারীরা এ সময় তার গাড়িটি ভাঙচুর করে। এই হামলার সময় তখনকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু নীরব ভূমিকা পালন করেনি, কুষ্টিয়ার তৎকালীন বিতর্কিত এসপি মেহেদী হাসান পেছন থেকে এই হামলার সব আয়োজন করেছিলেন । চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে, কিন্তু কুষ্টিয়াসহ দেশের নানা স্থানে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিরোধীদের ওপর হামলার চরিত্র বদলায়নি। এই কুষ্টিয়াতেই গত ৪ অক্টোবর লালন শাহর মাজারে হামলার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ব্যক্তিগত কাজে পাটওয়ারী গিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি লালন শাহর মাজার পরিদর্শনে যান। এটি কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় কর্মসূচি ছিল না এবং তিনি সেখানে কোনো বক্তব্যও দেননি। কিন্তু এরপরও পরিদর্শন শেষে মাজার প্রাঙ্গণে তার ওপর হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের উচ্ছৃঙ্খল একদল নেতাকর্মী। ভাঙচুর করা হয় তার গাড়ি। এনসিপির পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলকে দায়ী করা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দেশে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর পঞ্চমবারের মতো হামলা। কুষ্টিয়ায় আরেকটি ঘটনা সম্প্রতি দেশজুড়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জেলার দৌলতপুরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে সঠিক উচ্চারণ হয়নি বলে সমালোচনার অভিযোগে পুলিশ আটক করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আটক হওয়া এই ব্যক্তি বাংলার একজন সহকারী শিক্ষক। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলার ক্লাস নেওয়ার সময় তিনি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের সময় বাংলা উচ্চারণগত কিছু সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে কিছু শিক্ষার্থী এ ঘটনা তাদের অভিভাবকদের জানান। এ ঘটনাকে অনেক অতি উৎসাহী অভিভাবক প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কটূক্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরের দিন বিএনপির নেতাকর্মীরা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে। অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ভূত বিরূপ পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমের কল্যাণে এ ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে আটক শিক্ষককে মুক্তি দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর এ ত্বরিত পদক্ষেপ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা কিংবা শিক্ষককে ধরে পুলিশে দেওয়ার এসব ঘটনার মূলে রয়েছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা। আওয়ামী আমলে কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার মাধ্যমে আওয়ামী নেতাকর্মীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিচার ও আদালত নয়, পেশিশক্তির মাধ্যমে তারা ভিন্নমত দমন করবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কুষ্টিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আমরা একই ধরনের মানসিকতা দেখছি। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের কারো বিচার হয়নি। হবিগঞ্জে হামলার বিচার হলে কুষ্টিয়ায় হামলা হতো না। এর মাধ্যমে মূলত পাটওয়ারীর ওপর হামলাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে। তার আক্রমণাত্মক বক্তব্যের সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু একজনের কথা ভালো লাগছে না বলে তার ওপর হামলা করা কোনো রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। তার ওপর হামলার কারণে বরং তিনি সবসময় আলোচনায় থাকছেন, এমনকি অনেকে সহানুভূতি পাচ্ছেন। পাটওয়ারীর কথা পছন্দ হচ্ছে না বলে তার ওপর হামলা করা বৈধ হতে পারে না। অন্তত চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর হামলার মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের সংস্কৃতি মেনে নেওয়া যায় না। দেশের মানুষ আশা করেছিল, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। কিন্তু তা তো হচ্ছে না, বরং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যেন আওয়ামী পান্ডাদের অনুসরণ করতে চাইছে। পুলিশের চরিত্রের বদল হবে বলে যে আশা করা হয়েছিলো তাও হয়নি। পুলিশ যেনো আগের মতো দলীয় বাহিনীর ভুমিকায় অবতীর্ন হতে চাইছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর প্রশাসনসহ সর্বস্তরে যেভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। শেখ হাসিনা দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে তাদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইভাবে প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপরও তার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এভাবে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন বিরোধী দল, মত দমন ও ধ্বংস করার জন্য এবং রাষ্ট্রের ওপর স্থায়ীভাবে একচ্ছত্র পারিবারিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দখল, লুটপাট, ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগী ও অন্ধভক্ত দলীয় একটি শ্রেণি ছাড়া পুরো দেশবাসী শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণের অপেক্ষায় ছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ছিল সেই দীর্ঘ গণআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। দেশের গণমানুষকে বিরুদ্ধে ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রের সব বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং দলীয় বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েও শেখ হাসিনার শেষ রক্ষা হয়নি। সুতরাং দল ও অঙ্গসংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ সব ক্ষেত্রেই অতিউৎসাহীদের থেকে সাবধান হতে হবে। বিশেষ করে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী থেকে পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করতে না পারলে বর্তমান সরকারের জন্যও তারা বিপর্যয়ের কারণ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের মাঠের আবহাওয়া এখন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে। তিনি বলেন, মানুষ মুখে যা-ই বলুক না কেন, মনে মনে তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার নিয়ত করে রেখেছেন। নির্বাচনের পরিবেশ যদি ঠিক থাকে এবং ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তাহলে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশা করছি। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন জাতীয় বা কেন্দ্রীয় গুরুত্বের নির্বাচন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নজর এখন ঠাকুরগাঁওয়ে, আমরা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারাও পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন। আশপাশের জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা এসে তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছে দাঁড়িপাল্লার জন্য ভোট চাইবেন।’ নির্বাচনের দিন যেকোনো মূল্যে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দেবেন; কোনো অবস্থাতেই সেই ভোট যেন কেউ ছিনতাই করতে না পারে। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রের ভেতরে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদেরও সজাগ থাকতে হবে, যাতে ভোট গণনায় কোনো জালিয়াতি করা না যায়। ১১ দলীয় ঐক্যের বিজয় যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর জেলা আমির আনিসুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিটিএমএ বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্যরা ছাড়াও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমির সভার শুরুতেই বিটিএমএ নেতাদের স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিরোধী দল হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব থাকে; সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করা পূর্বের বিরোধী দলগুলোর মতো সেই কালচার এই বিরোধী দলের নয় বলে জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পার্লামেন্টে বর্তমান বিরোধী দল যে পলিসি অনুসরণ করছে—সরকারের সব ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করব, সব জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব এবং তাদের ভুল আমরা ধরিয়ে দেব। সরকার যখন জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে, তার প্রতিবাদ করা, সমালোচনা করা, প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ করা—এ ভূমিকা গঠনমূলকভাবে আমরা পালন করব, সেটা তিনি বলেছেন। কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, এটি আল্লাহ তাআলারই বিধান; আল্লাহই বলেছেন যে, তোমরা সব ভালো কাজে সহযোগিতা কর, মন্দ কাজে তোমরা বাধা দাও। গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের প্রাণশক্তি হচ্ছে শিল্প খাত এবং বিটিএমএ সেখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে, সেটা জামায়াত আমির বলেছেন এবং সেই খাতের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো শোনার জন্য তিনি আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বিটিএমএ নেতারা তাদের কথাগুলো বলেছেন এবং জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন, আপনারা ইনশাআল্লাহ পারবেন, যেহেতু আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে এবং আপনাদের নিজেদের ব্যবসা ও পেশার প্রতি আন্তরিকতা ও সিনসিয়ারিটি আছে; আপনাদের পাশে আমরা থাকব এবং জাতীয় সংসদে আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করব। তারা বলেছেন, আপনার বক্তব্য শুনে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আপনি আমাদের সব সমস্যা বুঝতে পেরেছেন। এই খাতের বিনিয়োগ প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা খাতের কিছু সমস্যার কথা তারা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দুবার দেখা করেছেন, খাতের সমস্যাগুলো তার দৃষ্টিতে এনেছেন, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন এবং সব দিক থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং মিয়া গোলাম পরওয়ার আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সময় দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের অবহিত করেছি, আমাদের টেক্সটাইল খাত একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাত, এখানে ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। আমাদের এই খাতের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা পূরণ হয় এবং আমরা কাঁচামাল দিয়ে এই শিল্পকে সমর্থন করি। এই সমস্ত বিষয় আমরা সুন্দরভাবে আলোচনা করেছি এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেছি যে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি এবং এই সমস্যাগুলো আমরা সরাসরি সরকারকে জানিয়েছি। সরকার আমাদের বিভিন্ন সময়ে সুযোগ দিয়ে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছে এবং এগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বারবার প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের কথা শুনেছেন এবং অনেক সমস্যা ইতিমধ্যেই সমাধান করেছেন; কিছু কিছু সমস্যা নিয়ে আমরা এখনো কাজ করছি, সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। বিটিএমএ নেতা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন—সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সহযোগিতা করে এই সমস্যাগুলো যেন তাড়াতাড়ি সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করবেন। আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল আমাদের পরিচিতি পর্ব এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া, যা আমরা পেয়েছি। এজন্য বিরোধীদলীয় নেতা ও তার সহকর্মীদের সবাইকে বিটিএমএর পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল পরিচিত হওয়া এবং সচরাচর গণমাধ্যমে যে কথাগুলো তিনি শোনেন, সে বিষয়ে আলোচনা করা। তার কিছু প্রশ্ন ছিল এবং আমাদের সমস্যার ব্যাপারে আমরা তাকে জানিয়েছি। সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ইনসেন্টিভের সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, এলডিসি উত্তরণে (গ্র্যাজুয়েশনে) যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে তা নিয়ে সমস্যা এবং বিভিন্ন ট্যাক্সের বাধা নিয়ে সমস্যা—সেগুলো সরকারকে আমরা নিয়মিতই বলছি। সরকারও সেগুলোর অনেকটাই এরইমধ্যে সমাধান করেছে এবং বাকিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেগুলো আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকেও অবহিত করেছি। তিনি সংসদে এ বিষয়ে কথা বলবেন এবং সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। বাটেক্সপো মেলার সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতাকে দাওয়াত না দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘকালের ঐতিহ্য হলো এই মেলার উদ্বোধন দেশের প্রধানমন্ত্রী করেন এবং সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধান অতিথি থাকেন। এবারই তার ব্যতিক্রম হয়েছে এবং আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন ঘটনার ব্যাপারে বিজিএমইএর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রাখাটা খানিকটা রাজনৈতিক ও সংকীর্ণ দলীয়করণের দৃষ্টিতেই দেশবাসী দেখবে। অর্থনীতির কোনো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণের মধ্যে বন্দী করে ফেললে ব্যবসায়িক খাতে ভুল বার্তা যাবে। সেটি উল্লেখ করে আমরা বিবৃতিতে বলেছি, এখনো সময় আছে, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে সমাপনীতে প্রধান অতিথি করার উদ্যোগ নিতে পারে। মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সংলাপের মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জটি হলো, শেখ হাসিনা ও তার দল দিল্লিতে অবস্থান করছে। তারা দিল্লিতে বসে একটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এটি ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনছে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ এর এক ফাঁকে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সংবাদপত্র দ্য হিন্দুকে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমির’ (কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন) গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনায় ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে বুঝতে হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এসময় তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রশংসা করেন। বলেন, ‘তিনি ভালো ভূমিকা পালন করছেন।’ দিল্লি তার মতামতের গুরুত্ব দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ আনেন হুমায়ুন কবির। তিনি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বলেন, ‘১৫ বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত প্রক্রিয়ায় মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাই অতীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের একটি ‘‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’’ প্রয়োজন।’ তবে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় তা স্বাগত জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। ভারত তাদের (শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের) নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে এটাই স্বাভাবিক রীতি। তারা যদি নিয়ন্ত্রিত থাকেন, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না।’ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য সম্পর্ক অগ্রাধিকারে আছে বলেও জোর দেন তিনি। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর একটি অনুকূল সময়ে হবে এবং আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে, তিনি ভারত সফরে যাবেন না।’ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘এখানে ভারতীয় হাইকমিশনার ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করছি, দিল্লি তার মতামতকে গুরুত্ব দেবে। তারা যদি তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের পরামর্শ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে ‘বাধা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য কিছু ‘‘পারস্পরিক সহযোগিতা’’ প্রত্যাশা করে ঢাকা।’ তিনি বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা সম্ভব।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ।’ একই ধরনের পদক্ষেপ ভারতও নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। দ্য হিন্দুর সঙ্গে আলাপকালে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ ধারণাটির ব্যাখ্যা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রতিটি দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। ভারতও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। এই ধারণাটি মূলত আমাদের কী প্রয়োজন, সেটিকে ঘিরে।’
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি রেজিস্ট্রেশন করতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে দলিল লেখক সমিতির নামে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির নামে প্রতি দলিল থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে দলিলের কাজ এগোয় না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় চলে আসলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ হয়নি। এমনকি সমিতির নামে দলিল প্রতি নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় না করতে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও ঠাকুরগাঁও সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বর্তমানে ৮১ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী দলিল লেখকরা নির্ধারিত হারে দলিল লেখার পারিশ্রমিক নিতে পারেন। এ ছাড়া দলিল লেখকদের ফি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও থাকার কথা। কোনো লাইসেন্সধারী দলিল লেখক আইন বা বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রারের। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মের বাইরে দলিল লেখক সমিতির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির সদস্য কছির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দলিল লেখা হয়। প্রতিটি দলিলের বিপরীতে সমিতির নামে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয় এবং তা সংগঠনের ফান্ডে জমা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এখানকার নিয়ম হলো ৩০০ টাকা করে দিতে হবে। টাকা না দিলে কাজ কিভাবে হবে? নিজের পকেট থেকে তো দেওয়া সম্ভব না।” অন্যদিকে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা আরিফুল ইসলাম, সমসের আলী ও আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, দুই শতক জমি রেজিস্ট্রি করতে তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার টাকা দলিল লেখক সমিতির নামে এবং দেড় হাজার টাকা অফিস খরচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, সমিতির নামে নেওয়া অর্থ পরে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় বলে তারা শুনেছেন। তবে টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এগোয় না—এ কারণে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। সদর উপজেলার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির রেজা অভিযোগ করেন, দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সেবা নিতে হয়। লিখনীর ফি কত জানতে চাইলে নির্দিষ্ট কোনো ফি জানানো হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, “সমিতির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।” অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিচয় পাওয়ার পর কথা না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তবে সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সমিতির নামে চাঁদাবাজি করা হয় না; দলিল লেখকরা তাদের পারিশ্রমিক নেন। সেবা-প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ সমিতির ফান্ডে জমা হয় এবং ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের সহায়তায় সেই অর্থ ব্যয় করা হয়। দলিল লেখার নির্দিষ্ট ফি কত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলিল লেখার নির্দিষ্ট কোনো ফি নেই। অনেকেই খুশি হয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দেন, আবার কেউ দুই হাজার টাকা দেন। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর সাব-রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বলেন, সমিতির নামে দাতা বা গ্রহিতাকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে অফিসিয়ালি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফিতে মানুষ যাতে সেবা পান, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। এরপরও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। মাঝে মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলা হয় এবং অভিযোগ পেলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তার অগোচরে অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, সমিতির নামে চাঁদা বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের অর্থ আদায় করে থাকলে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় থেকেও দেশের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে দলিল লেখক সমিতির ব্যানারে দলিল প্রতি নির্দিষ্ট হারে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় না করার বিষয়ে সতর্কতা ও নজরদারির নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় সরকারি ফি ও অনুমোদিত পারিশ্রমিকের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ ৮ অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করছে আইসিটি প্রসিকিউশন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আপিল করা হয়। গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। একইসঙ্গে এ মামলার দুটি চার্জে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উভয় চার্জে ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে খালাস দেয় আদালত। আলাদা আলাদা দণ্ড হলেও তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি। প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, ‘বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নানা হয়রানি এবং মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ দায়ের ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে একজন রিপোর্টার ও একজন ফটো সাংবাদিক পাঠানোর জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
’ ব্যাংক খাতকে নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের ‘জমিদারি’ বানিয়ে রাখার পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। স্ট্যাটাসে বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে অতীতে এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক এবং টানা ছয় বছরের বেশি পদে না থাকার নিয়ম ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে প্রভাবশালী অলিগার্কদের ব্যাংক দখলের সুযোগ দিতে ২০১৮ সালে পরিচালকের মেয়াদ বাড়িয়ে ৯ বছর এবং এক পরিবারের চারজনকে পর্ষদে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সদস্যসংখ্যা তিনজন করা হলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়। সে সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়া ড. আহসান এইচ মনসুর এগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে ছিল—পুনরায় এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক ও সর্বোচ্চ ছয় বছরের মেয়াদ, পর্ষদে অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখা এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের দায়ভার সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ওপর ন্যস্ত করা। তবে ড. মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আমির খসরু। বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রস্তাব নাকচ করে দিতে চাইছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর ফলে ব্যাংক পর্ষদে এক পরিবারের তিনজনের পরিচালক থাকার সুযোগ, ৯ বছরের মেয়াদ এবং পরিচালকদের খেলাপি ঋণের দায়মুক্তির পুরোনো নিয়মগুলোই ফিরে আসছে। এমনকি খেলাপি ঋণের কারণে পদ হারানোর পর পুনরায় পর্ষদে ফেরার অপেক্ষার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাসে নামানোর চেষ্টা চলছে। হাসিনা আমলের অলিগার্কদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বিএনপি সরকার এসে আবার ফিরিয়ে আনছে দাবি করে স্ট্যাটাসের শেষাংশে বলা হয়, মাঝখান থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল। ব্যাংক জনগণের আমানতের টাকায় চলে, এটি কোনো পরিবারের জমিদারি নয়। সংস্কার বাতিল করে বিএনপি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক নতুন অলিগার্কদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য।
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের টাকা ঘাটে ঘাটে, স্থানে স্থানে চুরি করা হলে আমরা আর বসে থাকব না। রোববার সকালে রাজধানীর মধুবাগ মাঠে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে না পারলে দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হবে, যারা তা করতে পারবে। রাজধানীসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত। বিমানবন্দরে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা ‘মিথ্যা’। তার দাবি, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি। তাকে ঘিরে আনা অভিযোগ ‘হাজার ভাগ মিথ্যা’। আখতারুজ্জামানকে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সারাদেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে। এ ঘটনাকে দেশবাসী ও প্রবাসীদের হালকাভাবে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, একটি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমরা ডেঙ্গুকে মহামারির মতো দেখছি। এ কারণেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং এ রোগ প্রতিরোধে আমরা ভূমিকা রাখব।
রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ৪০ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। একই সময়ে ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের হিসাব তুলে ধরছেন রাকসু নেতারা। নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে—তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা–সমালোচনা ও প্রশ্ন। দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন রাকসু সহ–সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কোন জনপ্রিয় নেতা হওয়ার জন্য না, আমি অনেক বড় নেতা হব; এমন উদ্দেশ্যও না। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকে এই ক্যাম্পাাসে, অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সমস্যায় আছে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারা পর্যন্ত আমার শান্তি হচ্ছে না এবং আমি যেন এই বাকি সময়ের মধ্যে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি। অনেক শিক্ষার্থী এসে কান্নাকাটি করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো। তিনি বলেন, রাকসুকে শতভাগ সফল করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি আরও কিছু কাজ চলমান আছে। কিছু কাজ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেজন্য অল্প কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যাটা আমার কাছে অনুভব হয়েছে সেটা হলো শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ভাতা এবং আবাসন সমস্যা, এই চ্যালেঞ্জটা দূর করতে কোটি কোটি টাকার ব্যাপার। আর একটা হলো বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আমাদের বাহিরে থাকে। প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। ‘এই ২০ হাজার স্টুডেন্টকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় যে এই সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করা যায়। চাইলে হল তৈরি করাও সম্ভব না, হল করতেও কয়েকবছর সময় লাগবে। এই কয়েকবছর কীভাবে চলবে। এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রতিমাসে যদি ভাতাও দেওয়া যায় ১ হাজার করে। তবে দিলেও কয়েক কোটি টাকা লাগে, ওইটাও সরকার কোন ফান্ড থেকে দেবে? কীভাবে দেবে আমরা যোগাযোগ করছি। এই সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।’
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতসহ ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। বৈধ ঘোষিত ছয় প্রার্থী হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ, ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং সবাই তা জমা দিয়েছেন। তফশিল অনুযায়ী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে পরাজিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আসনটিতে উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া এবং সংগঠনটির একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থেকে ক্যাম্পাসের তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রশিবির। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদসংলগ্ন সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটকের একপর্যায়ে ওই কর্মীর ফোনে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ার ভিডিও কল দেন বলে জানা গেছে। আটক মো. হাসিবুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহজাহান মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সেকশন অফিসার এবং তাদের বাসভবন বিশ্ববিদ্যালয়ের পামবাগান সংলগ্ন এলাকায়। শিবিরনেতা ও চাকসু প্রতিনিধিরা জানান, আটকের পর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি ১৬৫ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রলীগের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন; যেখানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান, চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ার, সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম, সৌমেন দত্ত ও পিজুসহ অন্যরা যুক্ত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নানা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতেন। ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মো. হাসিবুল হাসান জানান, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তার মাধ্যমেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নেন। পরবর্তীতে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম তাকে কিছু পোস্টার বিতরণের জন্য দিলে নিজের ক্ষতির আশঙ্কায় তা ফেলে দেন বলে দাবি করেন হাসিবুল। ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার পরেই তাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ও চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, রাতে একদল শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করার সময় বিজ্ঞান অনুষদ ও পামবাগান সড়কের মোড়ে ওই শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নজর রাখা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী ‘ক্যাম্পাসে শিবিরের টহল চলছে’ লিখে মেসেজ পাঠালে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে (৫৯) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমপির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় এমপি আব্দুল গফুর বাসাতেই ছিলেন। তার সামনে থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে ডিবি। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের যেসব এলাকায় বেহেশতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি করে একটি দল নির্বাচিত হয়েছে, সেসব এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের অবদানের কথা স্মরণ করে মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ আবু সাঈদের যে অবদান, তা শুধু ইতিহাস নয়, এটি সবার অনুপ্রেরণা। তার বাবা-মা গর্বিত বাবা-মা। শহীদ আবু সাঈদ রংপুরের সম্পদ, এই দেশের সম্পদ। আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের বীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে শহীদ আবু সাঈদের বাবা-মায়ের জন্য ঘর নির্মাণ এবং তার কবরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করছি। পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন কারণে অবহেলিত এলাকাগুলোকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কে নির্বাচিত হয়েছেন, কে হননি—তা দেখা হবে না। সবার জন্য কাজ করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচি। দেশের কোনো পরিবার এ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়বে না। ধর্মীয় বিষয় ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বলে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছে। তারা মসজিদ ও ইমামদের নিয়ে কি চিন্তা করেছিল? এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিন্তা করেছেন।’ বাংলাদেশের মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জন্য কাজ করেনি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর সংকটপূর্ণ অবস্থায় দেশ পেয়েছে। গ্যাসের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সরকারের কাজ চলমান রয়েছে। চার বছর সময় দিতে হবে। এরপর দেখতে হবে সরকারের কোথায় ব্যর্থতা।
গণঅভ্যুত্থানের পর একটি দেশে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আসে, তা যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, তেমনি মারাত্মক বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করতে পারে। ইতালীয় দার্শনিক অ্যান্তোনিও গ্রামশি অন্তর্বর্তীকালীন সংকটের ধারণায় বলেছেন, পুরোনো ব্যবস্থা মারা যাচ্ছে, কিন্তু নতুন ব্যবস্থার জন্ম হতে পারছে না; এই অন্তর্বর্তী সময়ে নানা ধরনের রোগাক্রান্ত লক্ষণ (Morbid Symptoms) দেখা যায়। গণঅভ্যুত্থানের পর দুই বছর চলে গেলেও সেই বিশৃঙ্খলা ও শূন্যতা যেন পূরণ করা যাচ্ছে না। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ আশা করেছিল নিপীড়নমূলক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও নতুন ব্যবস্থা জন্ম নিতে পারছে না। দিন দিন যেন সেই আশা ফিকে হয়ে আসছে। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থা থেকে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আরো নানা মাত্রায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমরা এই লক্ষণগুলো দেখতে পাচ্ছি। দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলনের ব্যর্থতার পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের চাকরির আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে উঠেছিল হাসিনাবিরোধী গণআন্দোলন। নির্যাতিত বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল দুঃশাসনের অবসানের জন্য। কিন্তু এই আন্দোলন হয়েছিল একটি অরাজনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিল কোটা প্রথার নামে দলবাজি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরির নিয়োগের অবসানের দাবিতে। তারা স্লোগান দিয়েছিল—‘কোটা নয় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চাই।’ এই তরুণরা দেখছে, দুই বছরের মাথায় আবার সরকারি চাকরিতে মেধার বদলে ভিন্নরকম এক কোটার মধ্যে তাদের ঢোকানো হচ্ছে। সরকার যেন তরুণদের মনের ভাষা আর পড়তে পারছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের কারণে এই শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে তাদের যোগদানের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এরপর দেখা দেয় গোলমাল। সমকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টের কারণে তাদের নিয়োগ আটকে আছে। প্রশ্ন হলো, পুলিশ ভেরিফিকেশনে কী এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যার কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণের নিয়োগ আটকে গেল? যদি কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকেন বা মামলা না হয়, তাহলে এ দেশের কোনো নাগরিকের যোগ্যতা থাকার পরও কি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা যায়? না যায় না। এভাবে কোনো নিয়োগ আটকে দেওয়া স্পষ্টভাবে একজন নাগরিকের অধিকারের লঙ্ঘন। নিয়োগপত্র না পাওয়া অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা সমর্থক ছিলেন, এ কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার কারো পরিবারের কোনো সদস্য বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকেও বাদ দেওয়া হয়েছে । প্রশ্ন হলো, বিরোধী দলের রাজনীতি করা বা সমর্থন করা কি বাংলাদেশের কোনো আইনে অপরাধ? বিরোধী দল সমর্থন করলে তিনি যে সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হবেন, এ সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিতে পারেন। একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সব মানুষের সরকার। যারা ক্ষমতাসীন দলকে ভোট দেয়নি তাদেরও সরকার। এবারের নির্বাচনে ৩৮ শতাংশ মানুষ বিরোধী দলকে ভোট দিয়েছে। তাহলে তারা কি সবাই সরকারের শত্রু। আরো ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, সরকারি চাকরির নিয়োগের সব প্রক্রিয়াকে দলীয় বিবেচনার মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
এবার গাজীপুরের শ্রীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ‘গালাগালসহ আপত্তিকর পোস্ট’ দেওয়ার পর আশরাফুল ইসলাম ওরফে সজল (২৬) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আশরাফুলকে পোস্ট দেওয়ার জন্য নয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা আগের একটি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আশরাফুল ইসলাম উপজেলার বরামা গ্রামের ইমতিয়াজ উদ্দীনের ছেলে। তিনি এনসিপির শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ। তিনি এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সজলের (আশরাফুল) দলীয় পরিচয় নিশ্চিত জেনেও তাকে গ্রেফতার করা হলো। প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী কাজ চলছেই। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ আবু রায়হান মেজবাহ বলেন, ‘সজলের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার রাতে বরমী বাজারে দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি চাই।’ আশরাফুল ইসলামের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরে তার আইডিতে গিয়ে সেই স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। গ্রেফতার আশরাফুল ইসলামের মা আসমা আক্তার জানান, তিন–চার দিন আগে তাঁর ছেলে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিল। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পোস্ট আর মন্তব্য করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ছেলে সহজ–সরল। তাই ভুল করতে পারে। আসমা আক্তার বলেন, ‘অনেকেই এই পোস্ট ডিলিট করতে বলেছে। এরপর ছেলে পোস্ট ডিলিট করে দেয়। তবু তাকে গ্রেফতার করা হলো, এটা মানতে পারি না।’ শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অভিযান চালিয়ে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য নয়; বরং তাকে গ্রেফতারের অনেক পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেছেন। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় মশালমিছিল করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় করা মামলায় আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়।
এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আসামীর কাঠগড়ায় বসে যখন কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের উদ্দেশ্য উচু স্বরে কথা বলছিলেন, তখন সুলতান মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্য বলেন, আসামী কাঠগড়ায় থেকে এভাবে উচ্চস্বরে কথা বলতে পারেনা। উচ্চস্বরে কথা বলা আদালতের প্রতি চরম অবমাননাকর। এসময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সুলতানা মাহমুদ কোনো ভুল করেননি। এদিকে, জবানবন্দি গ্রহনের পরে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে কামরুল ইসলাম দু্ব্যবহার করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে হানিফ মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন। আজ সকালে কারাগার থেকে মেনন–কামরুল কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।সরকারি সেবা খুঁজুন এদিন, সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে হানিফ মিয়া জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা–রামপুরায় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে সাক্ষী দিচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এসব অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। কারন তিনি টিভিতে এই নেতাদের মিটিং করে আন্দোলন কারীদের দমন–পীড়ন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেছিলেন। তখন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আপনি ১৪ দলের নেতাদের কথা বলছেন, তাদের নাম বলেন। তখন আসামীদের জন্য সংরক্ষিত কাচের গ্লাসের ভিতর থেকে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশ্য উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন, এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষী কে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন। তখন সুলতান মাহমুদ কামরুল ইসলামের উদ্দেশ্য বলেন, আপনি এভাবে সাউট করেন কেন। আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন। এসময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল করেনি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায়, তিনি নাম বলতে বলেছেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদ মুনসুরুল হক বলেন, It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন। তখন মিজানুল ইসলাম বলেন, এটা লিডিং প্রশ্ন না। পরে, সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দিতে থাকেন। উল্লেখ্য, গত ২৩শে জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এদিকে, সবেক মন্ত্রী কালাম আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, মাইনুল ইসলাম নিখিল সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জুলাই গনুভ্যুত্থানে মিরপুর এলাকায় সংগঠিত মানবতাবিরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ একটি ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ২১শে সেপ্টেম্বর মামলার তালিকায় সালমান এফ রহমানের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানির জন্য আজ ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দেশের বাহিরে থাকায় তারা এটি আজকে শুনানি করতে আগ্রহী নয়। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ২৬শে অক্টোবর পুন নির্ধারন করেন।
শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর এক ফেসবুক পোস্টে ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে মন্তব্য করায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি হোসেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে রাব্বি হোসেনকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের মূলনীতি, দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতিপরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য মো. রাব্বি হোসেনকে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তার একটি ফেসবুক পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়ে কমেন্ট করেন রাব্বি হোসেন। ওই কমেন্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে রাব্বি হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে “শুভ জন্মদিন, আপা” বলাটা আমি সার্কাজম হিসেবে বলেছিলাম। আমি ২০২৪ সালের আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের বিপক্ষে ছিলাম এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নিয়েছি। আমি কখনো কোনোদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলাম না এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, সে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। বর্তমানে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।