দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় ৫০০ সাধারণ কর্মী (জেনারেল ওয়ার্কার) পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া ঘিরে বড় ধরনের নথি জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। সার্বিয়ার একটি অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা চাহিদাপত্রে স্পষ্ট জালিয়াতি এবং আদালতের সিলের তারিখে দুই বছরের গরমিল থাকার পরও কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাতে সরকারি সত্যায়ন (অ্যাটেস্টেশন) দিয়েছে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সার্বিয়ার যে প্রতিষ্ঠানটি ৫০০ কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে, তাদের সারা বছরের পরিচালন আয়ের অঙ্ক দিয়ে কর্মীদের এক দিনের বেতন দেওয়াও সম্ভব নয়। অন্যদিকে ঢাকায় দূতাবাস সত্যায়িত চাহিদাপত্র দেখিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার তোড়জোড় চললেও কর্মীদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ভিন্ন শর্ত ও কম বেতনের চুক্তিপত্র। এমনকি চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) যে রিক্রুটিং এজেন্সির নামে এসেছিল, তাদের বাদ দিয়ে অন্য একটি এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে কর্মী পাঠানোর সরকারি অনুমোদনও বের করে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অস্তিত্বহীন ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মী পাঠানোর এই প্রক্রিয়া মূলত বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে মানবপাচারের একটি বড় ফাঁদ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে সার্বিয়ায় যাওয়া শত শত কর্মী চরম বিপদে পড়বেন। আবাসিক ফ্ল্যাটে অফিস, বাৎসরিক আয়ে এক দিনের বেতনও অসম্ভব নথিপত্র অনুযায়ী, সার্বিয়ার ভোজভোদিনা অঞ্চলের সোমবোর (Sombor) শহরের ‘ইন্টারস্টাফ সার্ভিস ডিওও সোমবোর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫০০ কর্মীর চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে। সার্বিয়ার করপোরেট ও অর্থনৈতিক তথ্যভান্ডার (কোম্পানিওয়াল বিজনেস সার্বিয়া) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি মূলত একটি অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ)। সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দেখানো হয়েছে সোমবোরের ‘প্রোতে মাতেয়ে নেনাদোভিচা ২৪’ ভবনের ৫ নম্বর আবাসিক ফ্ল্যাটে। প্রতিষ্ঠানটি ‘অস্থায়ী কর্মসংস্থান সংস্থা’ (কোড: ৭৮.২০) হিসেবে নিবন্ধিত। এর অর্থ হলো, তাদের নিজস্ব কোনো কারখানা বা শিল্প প্রকল্প নেই, এরা মূলত বাইরে থেকে শ্রমিক এনে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিনমজুর বা সাব-কন্ট্রাক্টে ভাড়া দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ঘেঁটে দেখা যায়, পুরো বছরে তাদের মোট পরিচালন আয় ছিল মাত্র ৯ লাখ ৪৫ হাজার সার্বিয়ান দিনার (আরএসডি), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পৌনে ৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার)। অথচ কর্মীদের চাহিদাপত্রে প্রতি মাসে মূল বেতন ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার দিনার। ৫০০ কর্মীকে এই বেতন দিতে গেলে প্রতি মাসে প্রয়োজন পড়বে ৩ কোটি ৭৫ লাখ দিনার। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির সারা বছরের যে মোট আয়, তা দিয়ে ৫০০ কর্মীর এক দিনের বেতন দেওয়াও সম্ভব নয়। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কর্মীদের বিনা খরচে আবাসন, খাবার, উড়োজাহাজের টিকিট ও চিকিৎসা বিমা দেওয়ার অঙ্গীকার পুরোটাই কাগুজে প্রতারণা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০২৪ সালের নোটারি সিলে ২০২৬ সালের তথ্য প্রত্যয়ন! নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান আইনি দলিল হলো সার্বিয়ান ভাষায় করা আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি)। এই নথিতে পাওয়া গেছে জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। অনূদিত দলিলের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় দেখা যায়, সার্বিয়ার নোভি সাদ মৌলিক আদালতের পাবলিক নোটারির কার্যালয়ের সই ও সিলমোহর রয়েছে ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখের। অথচ সেই একই নোটারি প্রত্যয়নে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির তথ্য যাচাই করা হয়েছে সার্বিয়ার বিজনেস রেজিস্ট্রি এজেন্সির (এপিআর) ৭ জুন ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী। আবার সার্বিয়ান ভাষায় মূল আমমোক্তারনামার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৫ মে ২০২৬ এবং এর ইংরেজি অনুবাদের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে। আইনবিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোনো আদালত বা নোটারি কীভাবে দুই বছর পরের (২০২৬ সালের জুন) তথ্য প্রত্যয়ন করতে পারে? নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, অতীতের কোনো পুরোনো দলিলের নোটারি সিল ও স্বাক্ষরের পাতা স্ক্যান করে জালিয়াতির মাধ্যমে এই দলিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল চাহিদাপত্রে তারিখ দেওয়া রয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অথচ আমমোক্তারনামায় চাহিদাপত্রের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ মে ২০২৬। ফলে আইনিভাবে এই আমমোক্তারনামা দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের চাহিদাপত্র কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো যাচাই ছাড়াই রোম দূতাবাসের সিলমোহর সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কোনো আবাসিক মিশন নেই। ফলে ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসই সার্বিয়ার কূটনৈতিক ও শ্রমের বিষয়গুলো অনাবাসিক হিসেবে দেখভাল করে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর রোম দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম ও কল্যাণ) আসিফ এনাম সিদ্দিকী কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই বিতর্কিত চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামায় সত্যায়ন (রেফারেন্স: Rec. RM. Ser 2026/20(1) ও 20(2)) দেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী, ইউরোপের কোনো অচেনা বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদাপত্র এলে সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা, কর পরিশোধের তথ্য এবং কাজের পরিবেশ সরেজমিন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা। কিন্তু রোম দূতাবাস কোনো তদন্ত ছাড়াই এই নথিতে সিলমোহর দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং সিন্ডিকেটের সুবিধা নিশ্চিত করতেই তড়িঘড়ি করে এই সত্যায়ন দেওয়া হয়েছে। চাহিদাপত্র এক এজেন্সির, ছাড়পত্র অন্যের চাহিদাপত্র ও আমমোক্তারনামা অনুযায়ী, সার্বিয়ার প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তাদের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল মেসার্স মোহাম্মদী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে (লাইসেন্স নং: RL-919)। অথচ এই একই চাহিদাপত্র ব্যবহার করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ১৫ জন কর্মীর নিয়োগানুমতি বের করে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স এইচ.পি ওভারসীজ লিমিটেড (লাইসেন্স নং: RL-1388; ব্যবস্থাপনা পরিচালক: প্রবীর বণিক)। বিএমইটির তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর এইচ.পি ওভারসীজের অনুকূলে এই ১৫ জনের নিয়োগানুমতি (অনুমোদন নম্বর: RS-RL1388-2026-615276) দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক এজেন্সির চাহিদাপত্র অন্য এজেন্সির কাছে বিক্রি করে কর্মী পাঠানোর যে অবৈধ চক্র সক্রিয়, এটি তারই অংশ। চুক্তিপত্রে মাসে ১৮ হাজার টাকা গায়েব রোম দূতাবাস যে চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে, তার সঙ্গে কর্মীদের ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত নিয়োগপত্র (জব অফার লেটার) ও সার্বিয়ান ভাষার মূল শ্রমচুক্তির (উগোভর ও রাদু) শর্তে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। দূতাবাস সত্যায়িত চাহিদাপত্রে কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি এবং মাসিক মূল বেতন ৭৫ হাজার সার্বিয়ান দিনার উল্লেখ ছিল। কিন্তু কর্মীদের হাতে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে সপ্তাহে মাত্র এক দিন ছুটি এবং মাসিক বেতন কমিয়ে ৬০ হাজার দিনার করা হয়েছে। অর্থাৎ কাগজে-কলমে উচ্চ বেতন ও দুই দিন ছুটির কথা বলে দূতাবাস থেকে সরকারি অনুমোদন নেওয়া হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ থেকেই কর্মীদের কম বেতনের চুক্তিতে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কর্মীর বেতন থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার দিনার বা প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। বলকান রুটে মানবপাচারের শঙ্কা আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়া, বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া হয়ে বলকান রুট দিয়ে ইতালি ও ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য মানবপাচারকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ৫০০ সাধারণ কর্মী নেওয়ার এই প্রক্রিয়া মূলত মানবপাচারেরই বড় ফাঁদ। কর্মীরা সার্বিয়ায় পৌঁছানোর পর কাজ না পেয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে আটক কিংবা অমানবিক বন্দিদশায় পড়তে পারেন। নথিপত্রে এমন গুরুতর অসংগতি থাকার পরও কেন সত্যায়ন দেওয়া হলো, তা জানতে রোম দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ এনাম সিদ্দিকীর দাপ্তরিক ই-মেইল ও অফিশিয়াল টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি। এইচ.পি ওভারসীজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর বণিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর (RMMRU) এক জ্যেষ্ঠ ফেলো ন্যাশনাল ভয়েস নিউজ বাংলা একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা না থাকা এবং নোটারির তারিখে দুই বছরের গরমিল থাকার পরও দূতাবাস কীভাবে তাতে সিল মারল, তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে রোম দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার এবং এই চাহিদাপত্রের অধীনে সব ধরনের ছাড়পত্র বাতিল করা উচিত। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ন্যাশনাল ভয়েস নিউজ বাংলা দূতাবাস সত্যায়িত নথিতে জালিয়াতির প্রমাণ থাকলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। রোম মিশন ও বিএমইটির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ঘোষিত এ কমিটিতে সভানেত্রী মনোনীত হয়েছেন নূরুস সাবিহা এবং সম্পাদিকার দায়িত্ব পেয়েছেন আলেমা মাফরুহা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মারকাজ ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সভ্যতা নির্মাণে নারীর ভূমিকাই প্রধান। মানব শিশুর মানসিক বিকাশ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের মূল ভিত্তি নারী। তাই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার আলোকে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করতে হবে এবং সমাজে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ‘বর্তমানে তথাকথিত পশ্চিমা ভাবধারার আলোকে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণের অপচেষ্টা চলছে, যা নারীকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নবগঠিত মহিলা ইউনিটকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে ঘোষিত ২০২৭-২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা: • সভানেত্রী: নূরুস সাবিহা • সহ-সভানেত্রী: জাকেরা রহমান, ফাতিমা আক্তার ও সাইয়েদা মাকসুদা আক্তার • সম্পাদিকা: আলেমা মাফরুহা • সহ-সম্পাদিকা: হাফেজা বুশরা • সাংগঠনিক সম্পাদিকা: রেক্সোনা জাহান জুবাইদা • সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা: সাওদা মাসরুবা • ছাত্রী সংগঠন পরিচালিকা: মারিয়া কামাল (কেন্দ্রীয়), আফরোজা জান্নাত (বিশ্ববিদ্যালয়), আলেমা রাফিয়া আহমাদ (কওমি মাদরাসা), সায়মা জান্নাত (আলিয়া মাদরাসা), হাফিজা খাতুন (কলেজ) ও ফারজানা নাদিরা (স্কুল) • বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদসমূহ: o ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা: মরিয়ম আক্তার রূপা o প্রশিক্ষণ সম্পাদিকা: হালিমাতুস সাদীয়া (সহ-প্রশিক্ষণ: পাপিয়া খাতুন) o দপ্তর সম্পাদিকা: নেবিন্নাহার (সহ-দপ্তর: মাহমুদা আক্তার) o অর্থ সম্পাদিকা: খাদিজাতুল কুবরা (সহ-অর্থ: হালিমা সাদীয়া রুবা) o প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদিকা: মোসাম্মাৎ তাহেরা বেগম (সহ-প্রচার: ইসরাত জাহান মারিয়াম) o নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদিকা: সৈয়দা নায়লা কারীম (সহ-নির্বাচন: খাদিজা আহমাদ) o যোগাযোগ সম্পাদিকা: মোর্শেদা বেগম (সহ-যোগাযোগ: আলেমা ফাওজিয়া মাসরুবা) • নির্বাহী সদস্য: আকলিমা খাতুন, সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, কোহিনুর বেগম, মোসা. মাকসুদা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মোসা. মাহমুদা আক্তার, আনোয়ারা বেগম, আমেনা খাতুন ও বুশরা জান্নাত।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ইউনিয়নের সাহসী, একতা ও সন্ধানী মহিলা ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী এবং ফোরামের দরিদ্র সদস্যদের মধ্যে বিনামূল্যে মোট ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক কমিটির সভাপতি মোছা. মাজকুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিডিবির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকার। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা, ব্যক্তিগত সতর্কতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল বলেন, ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা সভা শেষে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে অতিথিরা তাদের হাতে মশারি তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিসিডিবির প্রোগ্রাম অফিসার লিটন বাড়ৈ। কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমাজ সংগঠক সিনথিয়া বায়েন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মহিলা ফোরামগুলোর সভানেত্রী ও সদস্যদের পাশাপাশি সিসিডিবির কর্মকর্তা গিরীশ চন্দ্র বর্মন ও রাজীব বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না। শনিবার বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজে সরকারি সেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের অংশ। এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার ধামরাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা শফিকুল ইসলাম, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম সাদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার এই আত্মত্যাগ গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তার আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হলে এটি শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস স্মরণে রাখার একটি স্মারক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, বীর শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন আমরা তাঁদের স্মরণ করে যাব। সাভারে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ঢাকার ধামরাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের বাবা শফিকুল ইসলাম, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম সাদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার এই আত্মত্যাগ গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তার আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হলে এটি শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস স্মরণে রাখার একটি স্মারক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, বীর শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন আমরা তাঁদের স্মরণ করে যাব। মানচিত্রদেখুন তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। যাঁরা দেশের পরিবর্তনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের স্মৃতি ধরে রাখতে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা শহীদ আফিকুল ইসলাম সাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার পদত্যাগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। এ ছাড়া গত ৭ সেপ্টেম্বর একযোগে পদত্যাগ করেন পাঁচ আইন কর্মকর্তা। তারা হলেন— অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি ও মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা। সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিমও পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে গত জুনে সরকারের গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
রাজধানী ঢাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিশুদ্ধ বায়ু সুনিশ্চিতে প্রচুর নিমগাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান দেখতে রাজধানীর মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বায়ুদূষণ রোধে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের ঢাকার বায়ুমান প্রায়ই অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিশুদ্ধ বায়ু সুনিশ্চিত করতে আমাদের প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। বিশেষ করে নিম গাছ রোপণে জোর দেওয়া প্রয়োজন, কারণ এটি সাধারণ গাছের তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ সংগঠনের অধীনে আয়োজিত কর্মসূচিতে তোমরা নিয়মিত অংশ নেবে। মনে রাখবে, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বা নির্ধারিত প্রোগ্রামের মধ্যেই তোমাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, প্রোগ্রামের বাইরেও নিজ উদ্যোগে কাজ করে যেতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা তোমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি। তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। যদি তোমরাই ভবিষ্যৎ হও, তবে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে। তাই এই কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে। একটি পরিষ্কার ও সুস্থ পরিবেশে বাস করলে আমরা সবাই সুস্থ থাকতে পারবো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা ব্যক্তি যে স্বাস্থ্য সুবিধা পায়, অপরিচ্ছন্ন ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে থাকা মানুষ তা পায় না।’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযানের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা। বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে, তাই এই সময়টিতে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সবশেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা নিজেদের এবং স্বজনদের জন্মদিন বা বিশেষ দিনগুলোতে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করবে। একদিনে হয়তো সবাই সচেতন হবে না, কিন্তু বারবার বোঝানোর মাধ্যমে একদিন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই। আসো, আমরা সবাই মিলে আমাদের মাটি, পানি ও বাতাসকে পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নিই এবং একটি সুন্দর ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের নামে নতুন নাটক করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশ যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন গঠনমূলক ভূমিকা না রেখে বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশজুড়ে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও চক্রান্তের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর কেবল ‘নাই নাই’ জিকির। দেশের উন্নয়ন কিংবা জনগণের কল্যাণে তাদের কোনো নজর নেই। নিজেদের দলীয় দ্বন্দ্ব আড়াল করতেই তারা রাজপথে নামার নতুন নতুন বাহানা খুঁজছে এবং নানা কর্মসূচির নামে নাটক সাজাচ্ছে।’ স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্যায় ও অপশাসন চালিয়ে কোনো শাসকই শেষ রক্ষা করতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ রাজপথে জেগে উঠলে অপরাধী শাসকদের পালিয়ে যেতে হয়। এ দেশেও জোর করে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী শক্তিকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে দলের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। বেইমানি ও হত্যার রাজত্ব এ দেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। আইন ও আদালতের মাধ্যমে সব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মিশু, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহানারা সিদ্দীকা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রকিবুল ইসলাম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কাজী সাখাওয়াত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তাওহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরুতেই পুলিশের বাধার মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সড়ক অবরোধ ঠেকাতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পোশাক শ্রমিকরা শনিবার সকালে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, এতে আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের রাস্তা অবরোধ করতে দেওয়া হয়নি। সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে দেশের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০ অক্টোববর চট্টগ্রাম শহরে পূজার উৎসবে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নগরে সাজ সাজ রব বইছে। তাকে বরণ করে নিতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধর সম্ভাষণ জানাব। প্রধানমন্ত্রীর আগমননকে ঘিরে সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় চসিক মেয়র বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের এসে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি জেএম সেন হলের পূজামন্ডপে আসবেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চট্টগ্রামকে একটি সাম্যের শহর, সৌহার্দ্যের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারই বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। এ সময় পূজামন্ডপটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ আজ আনন্দে আত্মহারা। শারদীয় দুর্গা উৎসবে এবার নবমীর দিনে তাদের সঙ্গে সামিল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষও তাকে একনজর দেখতে মুখিয়ে আছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজামন্ডপে এসে চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল প্রমুখ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছে। পূজামন্ডপটির নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিভিন্ন প্রবেশ পথে নজরদারি বাড়ানোতে কাজ করছে তারা। একইসাথে বিএনপি বিভাগীয় ও মহানগর নেতারাও কয়েক দফায় পূজামন্ডটটি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। শনিবার সকালে এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এসআরবি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই উৎসব যেন আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন থাকে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই চট্টগ্রামের সকল পূজামন্ডপে ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা উপভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব শেষ হবে। পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখলে আমরা যেকোন ধরনের অপশক্তিকে প্রতিহত করতে পারব। তিনি জানান, পূজা চলাকালিন সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল, টহল দল নিয়োজিত থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যান্ত জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবুর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ বাবু লেখেন, দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।” একই সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার জেল মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আতাউস সামাদ বাবুর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে এভাবে বাবু সাহেব আমার নামে যে ভিত্তিহীন কথা লিখেছেন, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমি মাদকের একটি তদন্তে তার গ্রামের পাশে গিয়েছিলাম। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি ফেসবুকে যে লেখালেখি করেছেন, তা নিতান্তই বোকামি। স্বীয় দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। জানা যায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভালো কাজের জন্য তিনি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, আতাউস সামাদ বাবু মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এখন থেকে অনলাইনে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর বাসা বরাদ্দের জন্য এই অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইন বাসা বরাদ্দের ফলাফল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনলাইনে বাসা বরাদ্দের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবা সহজ করা সরকারের অঙ্গীকার। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে অনলাইনে বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে বাসা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদন গ্রহণ করা হয় ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এখন অনলাইনে বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম শুরু হলো। প্রথম দফায় বিভিন্ন শ্রেণির ৫৪টি শূন্য বাসার বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৫৯৬টি। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে ৩৪২টি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় বাতিল হয়েছে ২৫৪টি আবেদন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের জন্য বাসা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। পরিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে কর্মরত সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার। এর বিপরীতে সরকারি বাসা রয়েছে ২১ হাজার। ফলে সরকারি বাসার চাহিদা অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনলাইনে বাসা বরাদ্দের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ২০২১ সাল থেকেই পরিদপ্তরের ছিল। তবে বিভিন্ন চাপ ও অসাধু চক্রের বাধার কারণে এত দিন তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন অনলাইন পদ্ধতি চালু হওয়ায় বাসা বরাদ্দে অনিয়মের সুযোগ কমবে। সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সচিব ভবনে গ্রেড-১ ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সুপিরিয়র, এফ, ই, ডি-১ ও ডি-২ শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণির বাসা রয়েছে। বাসা বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে বরাদ্দপ্রত্যাশীরা সহজেই অনলাইনে ফলাফল জানতে পারবেন। ফলাফল জানতে সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব আবদুল মতিন এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সিংহভাগ ভবনেরই নকশার অনুমোদন নেই। প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানই চলছে ভবন ব্যবহারের বৈধ সনদ ছাড়া। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চরম ঘাটতি, জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং কলাম-বিমে ফাটলসহ নানা কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়েই চলছে এসব হাসপাতালের কার্যক্রম। জানা গেছে, ৭৩ শতাংশ হাসপাতালই ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই চিকিৎসা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ৫৯ শতাংশ ভবনের নেই অনুমোদিত নকশা। পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ হাসপাতালে ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার ডোর ও স্মোক ডিটেক্টরের মতো প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। তবে রাজউক জানিয়েছে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় ৬ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ঢাকার ১৯৪টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত এক অনুসন্ধানী পরিদর্শনে এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এলাকাভিত্তিক পরিদর্শনের তথ্য রাজউকের পরিদর্শক দল গাজীপুর, টঙ্গী ও পূর্বাচল সংলগ্ন জোন-১ এলাকায় সর্বমোট ৩৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র তদারকি করে। এর মধ্যে জোন ১/১-এ ২৭টি, জোন ১/২-এ ৪টি এবং জোন ১/৩-এ রয়েছে ৩টি হাসপাতাল। উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান নিয়ে গঠিত জোন-২ এলাকায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ২/১ থেকে ২০টি এবং জোন ২/২ থেকে ৭টি হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। আর মিরপুর, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন জোন-৩ এলাকার ২৭টি হাসপাতালের চিত্র উঠে এসেছে; যেখানে জোন ৩/১-এ ৭টি, জোন ৩/২-এ ৮টি এবং জোন ৩/৩-এ ১২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক তদারকি করা হয়। অন্যদিকে গুলশান, বনানী, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকা নিয়ে গঠিত জোন-৪-এর মোট ১০টি হাসপাতালের নথিপত্র ও কাঠামো পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে জোন ৪/১-এ ৬টি এবং জোন ৪/২-এ ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালবাগ সংলগ্ন জোন-৫ এলাকায় ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ৫/১-এ ৮টি, জোন ৫/২-এ ১৬টি এবং জোন ৫/৩ এলাকায় ৯টি হাসপাতাল পরিদর্শনের আওতায় আসে। এ ছাড়া মতিঝিল, মগবাজার ও পুরান ঢাকা নিয়ে গঠিত জোন-৬-এ সর্বোচ্চ ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে তদারকি চালানো হয়; যেখানে জোন ৬/১-এ ২০টি, জোন ৬/২-এ ২০টি এবং জোন ৬/৩-এ ৭টি হাসপাতাল রয়েছে। আর কেরানীগঞ্জ, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ সংলগ্ন জোন-৭ এলাকার ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে জোন ৭/১ থেকে ১০টি, জোন ৭/২ থেকে ৫টি এবং জোন ৭/৩ এলাকা থেকে ১টি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে রাজউকের দল। ৭৩ শতাংশেরই নেই ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ ভবনকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়েছে। বাকি ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ছাড়পত্রের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ২৬ শতাংশ ভবনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে সনদসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। পরিদর্শনে ৫৯ শতাংশ ভবনের অনুমোদিত নকশা পাওয়া যায়নি। বাকি ৪১ শতাংশ ভবনের অবশ্য রাজউক অনুমোদিত নকশা রয়েছে। শুধু অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রেই অনিয়ম সীমাবদ্ধ নয়, ভবনের ব্যবহারেও রয়েছে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ শতাংশ হাসপাতাল ভবন ব্যবহারের অনুমোদিত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ২২ শতাংশ ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বা ‘ভয়েড এরিয়া’ রাখা হয়নি। ১৮ শতাংশ হাসপাতালের ক্ষেত্রে সামনের রাস্তার প্রস্থ নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ৫২ শতাংশ ভবনে ইমারত নির্মাণের ‘সেটব্যাক’ বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তায় ভয়াবহ চিত্র হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও পরিদর্শনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শিত ভবনগুলোর ৭০ শতাংশে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। ৮১ শতাংশে ফায়ার ডোর এবং ৮২ শতাংশে স্মোক ডিটেক্টর পাওয়া যায়নি। ৭২ শতাংশ ভবনে ছিল না জরুরি নির্গমন পথের কোনো নির্দেশক। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও সীমিত। মাত্র ২৭ শতাংশ ভবনে জরুরি আলোর ব্যবস্থা পাওয়া গেছে। ফায়ার হাইড্রেন্ট রয়েছে ২৫ শতাংশ ভবনে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ২০ শতাংশ ভবনে। এসব ঘাটতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছেমাফিক সম্প্রসারণ, ছাদে ভারী কাঠামো পরিদর্শনে কয়েকটি হাসপাতাল ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্রও উঠে এসেছে। দুটি হাসপাতালের বিম ও কলামে ফাটল দেখা গেছে। ছয়টি ভবনের ভেতরের রডে মরিচা ধরে কংক্রিট খসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ৪৬টি হাসপাতাল ভবনে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ বা ওপরের অংশে অননুমোদিত ভারী কাঠামো নির্মাণ করে অতিরিক্ত ভার চাপানো হয়েছে। এসব অনিয়ম ভবনের স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না। নেই পার্কিং, বাস্তবে দোকান-গুদাম হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত পার্কিং সুবিধা রাখার বিধান থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না। রাজউকের পরিদর্শনে ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের পার্কিংয়ের জায়গা নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় দোকান, গুদাম, অফিস, আবাসন ইউনিট ও ব্যাংকের শাখা। এতে হাসপাতালের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা সংকুচিত হয়েছে। যার প্রভাবে কোনো কোনো হাসপাতালের সামনে প্রায়ই জ্যাম লেগে থাকে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ১৯৪টির মধ্যে মাত্র ৪টিতে অভিযান আইন অমান্য করে হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা এসব প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২২টিকে নোটিশ দিয়েছে রাজউক এবং মাত্র ৪টি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেহেতু স্পর্শকাতর সেবামূলক জায়গা, তাই চাইলেই হুট করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোকে নোটিশ দিয়েছি। এ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে আলাদা বিল্ডিং কোড ও মানদণ্ড রয়েছে। এসব ভবনের জন্য বিশেষায়িত নকশা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো এ বিষয়টি মানে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনকে হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাজউক কেন শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করেনি। তার মতে, শুরু থেকেই যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পেত এবং এই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো না।
গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ভণ্ড ডাক্তার খালিদুজ্জামান শেখ হাসিনার বিপক্ষে ফেসবুকে কখনো কোনো পোস্ট দেন নি। গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ভণ্ড ডাক্তার খালিদুজ্জামান শেখ হাসিনার বিপক্ষে ফেসবুকে কখনো কোনো পোস্ট দেন নি। কিন্তু এই ভণ্ড ডাক্তার প্রায়ই দেখি নেতিবাচকভাবে আমাদের লড়াই- সংগ্রাম প্রশ্নবিদ্ধ করে পোস্ট করে। যার মানুষের কাছে পরিচয় দিতে হয় জনাব তারেক রহমানের আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, সে আবার অন্যদের ত্যাগকে ছোট করে কোন লজ্জায়? তিনি আরও বলেন, এই পরিচয়হীন নির্লজ্জ নব্য রাজকার, কাপুরষ, গুপ্ত খালিদুজ্জামান ফেসবুক পেজ খুলেছে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্টে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে এসব ভণ্ড খালিদুজ্জামানরা নব্য বিপ্লবী হয়েছে। আবার কখনো শেখ হাসিনা ফিরলে এরা গোঁফদাড়ি ছেঁটে ফেলে হয়তো নতুন রুপে আবির্ভূত হবে অথবা পাকিস্তানে পালাবে। সুযোগ সন্ধানী পাকি ভণ্ডরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, বিগত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার সন্তান হিসেবে এরা লীগ হয়ে বেঁচে ছিলো। এখন এরা জামায়াত-শিবির রুপে ফিরে এসেছে। এদেরকে দেশ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করা উচিত। গণঅভ্যুত্থানের পরে এরা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা হিসেবে দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে। একজন প্রকৃত ডাক্তারের ভাষা ও আচরণ ভণ্ড খালিদুজ্জামানের মতো হতে পারে না। এই খালিদুজ্জামান টোটালি একটা বিকৃতমস্তিষ্কের মানুষ।
পাকিস্তানের সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের (সিএনএসসি) প্রধান জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা। শনিবার কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির (পিএমএ) এক পাসিং আউট অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানের অবস্থান আপসহীন। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করলে তার পরিণতি হবে কল্পনাতীত। জেনারেল রাজা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে। এ বাস্তবতায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বহুমাত্রিক রূপান্তর কার্যক্রম চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, অপারেশন সিন্দুরে ব্যর্থতার পর প্রতিপক্ষ প্রক্সি সন্ত্রাসবাদ, অপপ্রচার ও প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান শান্তি, সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সূত্র: জিও নিউজ
পানামায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, ‘তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।’ তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। লুক আরো বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলোর সঙ্গে গত ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সরাসরি যোগসূত্র থাকা আবশ্যক নয়। এদিকে পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমির পরিবর্তনের বিষয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উপকূলের কিছু এলাকায় পাথর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। লুকের ব্যাখ্যা, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে কিংবা নিচে দেবে যেতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠের আকৃতিতেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করবেন। এছাড়া পানির রঙ পরিবর্তনের খবরও খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা। কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লুক বলেন, ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। তবে এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পানির রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটি যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে লুক বলেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেই ফাটল সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন ভূতত্ত্ববিদেরা। এ ধরনের ফাটলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভূচ্যুতির প্রমাণ হতে পারে। এদিকে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। আর দেশব্যাপী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০টি সেন্সর। সূত্র: আনাদোলু
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। গতকাল চেন্নাইয়ে ভোটার তালিকার অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়। বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটে গত ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এটিই টিভিকে ও দলটির প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের প্রথম বিক্ষোভে অংশগ্রহণ। গণতন্ত্র রক্ষা’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে চেন্নাইয়ের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের সাতটি শরিক দলের নেতারা অংশ নেন। গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। এর কয়েক দিন পরই কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিল তার দল। কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সাউথ ফার্স্ট জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় ও তার দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের সাফল্যের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। চেন্নাইয়ের বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেন তারা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু তামিলনাড়ুতেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, এসআইআরের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধানের মূল চেতনার ওপর আঘাত করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়। এ কারণে তাঁরা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ শিবলী বলেছেন, উদারনৈতিক মনোভাব নিয়ে মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম ও মতের কারণে দেশে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না—এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নতুন সদস্য বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ছালেহ শিবলী বলেন, আগামী দিনগুলোতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবেন। এতে প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি একজন নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকারেও বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনো থামেনি, বরং বিস্তৃত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে নিয়ে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে নিয়ে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা থেকে ঘৃণা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনা দেখা গেছে। গত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্যের শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ছালেহ শিবলী। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করলে সেটিকে তিনি অন্যায়, অপরাধ বা অস্বাভাবিক কিছু মনে করেন না। কারণ, একজন সাংবাদিক সারাক্ষণ লেখাপড়া করেন, দেশ-বিদেশের খবর রাখেন এবং চারপাশের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে বিভিন্ন বিষয়, আদর্শ ও রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে তার মতামত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ছালেহ শিবলী বলেন, কোনো বিষয়ে নিজের জানা, শোনা বা বোঝা কিংবা ব্যক্তিগত পক্ষপাত যদি সত্য তুলে ধরতে বাধা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস তার নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। বন্ধের আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) খোলা থাকছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন দুর্গাপূজার ছুটি। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর বদলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন আজ শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকার একই সময়ে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেন সম্পৃক্ত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, পূজার ছুটিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথগুলোতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টে লাগা এ আগুন ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি লাশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে একটু সময় লাগবে। ঘড়িকিনুন ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি): ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং শুক্রবার, ঠাকুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পশ্চিম ছাতনাই- ইউনিয়নের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আব্দুস সাত্তার বিএনপি সরকারের ঘুস বানিজ্য, বিভিন্ন চাকুরীতে দলীয় করন, চাদাবাজি, সারের ডিলারসীপে বিএনপি নেতাদের দলীয় করন ও আন্তীয়করন ও টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের পাইয়ে দেওয়া সহ নানান প্রকার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিলো সবার আগে বাংলাদেশ কিন্তু এখন সকল ক্ষেত্রে সবার আগে বিএনপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান, আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা, কাজী অধ্যাপক মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা। কাজী মাওলানা রুকনুজ্জামান, উপজেলা সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা। মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান বাবুল, উপজেলা বায়তুলমাল, ডিমলা উপজেলা শাখা। সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল আলিম শিপন, সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১নং পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন শাখা । বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন শাখা আয়োজনে জনাব মোঃ আব্দুল আলিম শিপন সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।