শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছে দেশ। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। ফলে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর টানা তিনদিন পূজার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের হিসাব তুলে ধরছেন রাকসু নেতারা। নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে—তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা–সমালোচনা ও প্রশ্ন। দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন রাকসু সহ–সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কোন জনপ্রিয় নেতা হওয়ার জন্য না, আমি অনেক বড় নেতা হব; এমন উদ্দেশ্যও না। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকে এই ক্যাম্পাাসে, অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সমস্যায় আছে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারা পর্যন্ত আমার শান্তি হচ্ছে না এবং আমি যেন এই বাকি সময়ের মধ্যে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি। অনেক শিক্ষার্থী এসে কান্নাকাটি করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো। তিনি বলেন, রাকসুকে শতভাগ সফল করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি আরও কিছু কাজ চলমান আছে। কিছু কাজ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেজন্য অল্প কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যাটা আমার কাছে অনুভব হয়েছে সেটা হলো শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ভাতা এবং আবাসন সমস্যা, এই চ্যালেঞ্জটা দূর করতে কোটি কোটি টাকার ব্যাপার। আর একটা হলো বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আমাদের বাহিরে থাকে। প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। ‘এই ২০ হাজার স্টুডেন্টকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় যে এই সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করা যায়। চাইলে হল তৈরি করাও সম্ভব না, হল করতেও কয়েকবছর সময় লাগবে। এই কয়েকবছর কীভাবে চলবে। এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রতিমাসে যদি ভাতাও দেওয়া যায় ১ হাজার করে। তবে দিলেও কয়েক কোটি টাকা লাগে, ওইটাও সরকার কোন ফান্ড থেকে দেবে? কীভাবে দেবে আমরা যোগাযোগ করছি। এই সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।’
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বাংলাদেশের স্পিকার তেহরান যাবেন, তিনি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অংশ নেবেন। খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে কয়েকদিনের আয়োজন করছে ইরান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৪ জুলাই। ওইদিন হবে তার প্রথম জানাজা। এরপর রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে ৭ জুলাই হবে দ্বিতীয় জানাজা। সবশেষ ৯ জুলাই আরেকবার জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি। নিহত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন
জুন ৩০, ২০২৬
কুড়িগ্রাম সদর ও চিলমারী—দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম মো. মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্য অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক নেতারা। চিলমারী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলির নীতিমালা ভঙ্গ করে বেশ অনিয়ম করা হয়েছে। তালিকায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক মহসিনা খাতুনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৩ নম্বর ক্রমিকের বাবলু মিয়াকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৪ নম্বর ক্রমিকের তামান্না ইসলাম তৃষাকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ৫ নম্বর ক্রমিকের নূর আলমকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৮ নম্বর ক্রমিকের মনোয়ারুলকে চারজনের মধ্যে থেকে, ৯ নম্বর ক্রমিকের মোবারক হোসেনকে তিনজনের মধ্যে থেকে, ১০ নম্বর ক্রমিকের জনাব আলীকে দুজনের মধ্যে থেকে এবং ১১ নম্বর ক্রমিকের মাসুমা আক্তারকে দুজন শিক্ষকের মধ্য থেকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমা আক্তার ও তামান্না ইসলাম তৃষাসহ একাধিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির আদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কমিটির বিরুদ্ধে। একই ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিক্ষক বদলির তালিকাতেও। এই উপজেলায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক বাশিরুল মুমিন খন্দকারকে দুজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা রোখসানা পারভীনকে ৩ জনের, ৪ নম্বর তালিকায় থাকা পাপড়ী রানীকে ৬ জনের এবং ৮ নম্বর ক্রমিকে থাকা ফরিদা বেগমকে সর্বোচ্চ ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বদলির সুযোগ দিয়েছে উপজেলা কমিটি। তালিকায় ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা শিক্ষক আব্দুর রহিমকে সদরের পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। অথচ শিক্ষা অফিসের শূন্য পদের তালিকায় ওই স্কুলটির নাম ছিল না। এমনকি আব্দুর রহিম তাঁর বদলির পছন্দক্রমেও ওই স্কুলের নাম উল্লেখ করেননি। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে চিলমারী ও সদর উপজেলার শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করে ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’। এতে চিলমারী উপজেলায় ১১ জন এবং সদর উপজেলায় ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপরই রাজনৈতিক চাপ ও অর্থবাণিজ্যের মাধ্যমে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাপ্যতাহীন শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কমিটির বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই উপজেলাতেই ৮ জন করে শিক্ষকের ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের সত্যতা রয়েছে। এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এ বিষয়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুজনের মধ্যে থেকে একজনকে বদলি করার নীতিমালা আছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’ অন্যদিকে, বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রকাশিত বদলির আদেশ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা মিটিং করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবারও মিটিং করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।’
আট বছরের প্রবাস জীবনের ক্লান্তি ভুলে আপন ঘরে স্বজনদের সঙ্গে একটু স্বস্তিতে দিন কাটানোর আশায় দেশে ফিরেছিলেন নজরুল ইসলাম রাব্বি। কিন্তু দেশে ফিরে নিজের আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা পরিবারেই ঠাঁই হয়নি তার। বাবার বাধার মুখে গত এক সপ্তাহ ধরে ঘরের বাইরে রাত কাটাচ্ছেন এই প্রবাসী যুবক। এ নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ফেনী মডেল থানার ওসির কক্ষে মীমাংসা বৈঠক হয়। সেখানেও উপস্থিত বাবা-ছেলে মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে পুলিশ তাদের পারিবারিক এসব বিষয় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য অনুরোধ জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের দক্ষিণ খানে বাড়ি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম রাব্বি গত ২৮ সেপ্টেম্বর ৮ বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। বাড়ি গিয়ে দেখেন বাবার ঘরে তালা ঝুলছে এবং পাশের ঘরটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই প্রবেশ করতে না পারেন। রাব্বির অভিযোগ, তার বাবা জামাল উদ্দিন তাকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং এখন তাকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি তার বোনকেও নিজের সন্তান বলে মানছেন না বাবা। রাব্বি বলেন, প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করেছি। বাবা ও আমি মিলেমিশে জায়গা কিনে এই ঘর তৈরি করেছি। এখন ২৯ বছর বয়সে এসে শুনতে হচ্ছে আমি নাকি তার ছেলেই না! উনি আমার মাকে ২০২৩ সালের দিকে ডিভোর্স দিয়েছেন, তা তিনি দিতেই পারেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে আমাদের ওপর কেন এই অবিচার? আমার অনুরোধ থাকবে, প্রশাসন যেন বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়। তবে ছেলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাবা জামাল উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ও আমার ছেলে না। আড়াই বছর আগে তার মায়ের সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আমি নিজেও এক সময় প্রবাসী ছিলাম। কুমিল্লার ভিটেমাটি বিক্রি করে নতুন করে ১৬ শতক জায়গা কিনে নিজস্ব উপার্জনে ১০ বছর আগে এই দোতলা ঘর করেছি, কারও এক টাকাও নেইনি। বর্তমানে আমি ডায়বেটিসহ নানা রোগে ভুগছি। কেউ আমার কোনো খবর রাখেনি। ছেলেকে বেপরোয়া উল্লেখ করে জামাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে ওকে কুয়েত পাঠিয়েছিলাম। সেখানে কাজ না করে অনলাইনে বন্ধুদের আড্ডায় পড়ে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। পরে হোটেল ব্যবসা দিয়েও লস খায়। দেশে এনে আবার আত্মীয়স্বজনদের সহযোগিতায় সৌদি পাঠানো হয়। সে আমাকে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে এবং আমাকে ‘মানসিক রোগী’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছে। এর আগে সে আমাকে আট মাস ঘরে ঢুকতে দেয়নি। উল্টো আমার ভাড়াটিয়াদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছে। বাধ্য হয়ে আমি তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছি। এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে রাব্বি বলেন, মাকে এত বছরের সংসারের পর তালাক দিয়েছে। তখন সাময়িক রাগারাগি থেকে কিছু বলেছিলাম। তাই বলে আমাকে তো তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। অন্যদিকে, জামাল উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্তে যাওয়া ফেনী মডেল থানার (এসআই) আবু হাসনাত মিশু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়ে জামাল উদ্দিনের অভিযোগ পেয়ে সোমবার আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেসহ সবার সঙ্গে কথা বলেছি। যতটুকু বুঝতে পারছি এটি একটি পারিবারিক কলহ। যার কারণে বাবা ছেলের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শর্শদি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল মনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি আসলে দীর্ঘ দিনের পারিবারিক কলহ। স্থানীয়রা বহুবার চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেনি। এর কারণে এলাকার বদনাম হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এ বিবাদের মিমাংসা হোক। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি আসলে একটি পারিবারিক কলহের ঘটনা। এ বিষয়ে মীমাংসার জন্য আমরা মঙ্গলবার সকালে বাবা ছেলে দুইজনকেই থানায় ডেকেছিলাম। তারা এলাকার লোকসহ থানায় এসেছিলেন। আমরা উভয় পক্ষের বিস্তারিত আলোচনা শুনে সমঝোতার প্রস্তাব দিলে কোনো পক্ষই আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। পরে এই বিষয়ে তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করে আমরা বৈঠক শেষ করেছি।
পঞ্চগড়ের বোদায় ‘কথা আছে’ বলে এক নারী মোটরসাইকেল থামানোর পর চালককে মারধর, টাকা ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে রনি (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) মোটরসাইকেলে করে বোদা উপজেলা শহরসংলগ্ন প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। এ সময় অপরিচিত এক নারী তাঁর মোটরসাইকেল থামিয়ে ‘কথা আছে’ বলে জানান। পরিমল ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন যুবক সেখানে এসে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি বসে সমাধান করার কথা বলে ইউসুফ আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ওই বাড়িতেও পরিমল ওই নারীকে দেখতে পান। এ সময় তাঁর পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চারটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানান পরিমল। পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বোদা থানায় পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন পরিমল চন্দ্র বর্মন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)। এদিকে, ঘটনার পর রাজু ইসলাম ছাড়া অপর চার যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল। পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান ও সদস্যসচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযুক্তদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায় বলেন, গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই সেতু দিয়ে পারাপার হয় এবং আদায় হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি টোল। কিন্তু সেই টোল আদায় ও হিসাব সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক অভিযোগের কেন্দ্রে এসেছে টোল আদায়ের স্বচ্ছতা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা, টোকেন/রসিদ প্রদান এবং আদায়কৃত অর্থের সঙ্গে সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের সামঞ্জস্য। এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী (চ: দা:) মো. মাইদুল ইসলামের দায়িত্বে শাহ আমানত সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন টোল আদায়ে জড়িত কর্মচারীরা। টোকেন ছাড়া টোল আদায়ের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত সেতুতে টোল আদায় নিয়ে এর আগেও গণমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে টোকেন না দিয়ে টাকা আদায় এবং আগের প্রিন্ট করা রসিদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এবং রশিদ দিলেও রশীদে গাড়ীর নাম্বার উল্লেখ থাকে না, লেখা থাকে শুধু চার ডিজিটের শূন্য। এখনো সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী। এই অনিয়মের কারণে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, টোকেন ছাড়াই টোল আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি মাসভিত্তিক মোট টোল আদায়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রকাশ করে না সওজ। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—প্রতিদিন সেতু দিয়ে কত যানবাহন পার হচ্ছে, তার বিপরীতে কত যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় হচ্ছে এবং আদায়কৃত অর্থের পুরোটা সরকারি হিসাবে জমা হচ্ছে কি না? হিসাবের অমিলেই কি লুকিয়ে আছে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ? তথ্য সূত্রে জানা যায়, যানবাহনের সংখ্যা ও টোল আদায়ের হিসাব নথিভুক্ত করা টোল আদায় কারি প্রতিষ্ঠানের এবং সওজ কর্তৃপক্ষ তা তদারকি করবে। কিন্তু টোল আদায় বেড়ে গেলে, এবং পরিমাণ কমে গেলে ওই সময়ে কত যানবাহন সেতু পার হয়েছে—সে তথ্য দিতে পারেনা সংশ্লিষ্ট টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান। এখনো সেই অনিয়ম চলছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক কর্মকর্তা জানান, শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে সংঘবদ্ধ সিণ্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া কখন কিভাবে আদায় করা টোল মেরে দেয় কেউও টের পায় না, এই টাকার একটি প্যাকেট প্রতিদিন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে চলে যায়। এই চেয়ারে শুধু তিনি নন যেই বসে সেই হরিলুটের সঙ্গে জড়িত। সরকারি (ই-জিপি) নথিতে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর তিন বছরের (Web-Based Toll Collection, Operation and Management) সেবার জন্য চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের মাধ্যমে একটি ক্রয়প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রাক্কলিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ টোল ব্যবস্থাপনা কেবল টাকা সংগ্রহের বিষয় নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন গণনা, টোল হিসাব, ডাটা সংরক্ষণ, অর্থ জমা এবং সরকারি রাজস্বের হিসাব মিলিয়ে দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই অবস্থায় অভিযোগ উঠছে—সওজ থেকে এসব কার্যক্রমের যথাযথ তদারকি হচ্ছে কি না এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সিণ্ডিকেটের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ? একাধিকবার অভিযোগ, তারপরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে শাহ আমানত সেতুর টোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু রাজস্বের হিসাব নয়, টোল প্লাজায় যানজট এবং অটোমেশন নিয়েও আগেও সমস্যা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে আরএফআইডি ও এএনপিআর ক্যামেরা, অনিবন্ধিত যানবাহন এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়ার জটিলতার কথা উঠে আসে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা থাকার পরও যদি টোল আদায় ও যানবাহনের সংখ্যার মধ্যে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কোথায়? এভাবেই কি সংঘবদ্ধ সিণ্ডিকেট মাসের পর মাস টোল আদায়ে কি হরিলুট করে যাবে? তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিদিনের যানবাহন চলাচলের ডাটা, প্রতিটি লেনের টোল আদায়ের হিসাব, টোকেন ও রসিদের সিরিয়াল, সফটওয়্যার/সার্ভারের লগ, সিসিটিভি ফুটেজ, দৈনিক আদায়কৃত অর্থের ব্যাংক জমা, সরকারি কোষাগারে জমার চালান, টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের বিল ও পেমেন্ট, এবং সওজের তদারকি প্রতিবেদন পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। তখন থলের বিড়াল দ্রুত বেরিয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে—নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বনাম টোল আদায়ের অর্থ—এই দুটি তথ্য পাশাপাশি রাখলেই কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি আছে কি না, তা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে। নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম টোল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে, তিনিও সুকৌশলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন নিয়মিত, সওজ অফিসের নির্দিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টোল আদায়কারীরা মাইদুলের সহযোগী বলে জানা যায়, তারা কখন কি ভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করবে তার হিসাব পানির মত সচ্ছ। কারণ এই দপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীরাও টোল আদায়ে হরিলুট করেছেন বলে সওজের সুত্রে জানা গেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন লাখ লাখ সরকারি টাকা মাইদুলের পকেটে ঢুকে, এটা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলমান প্রক্রিয়া, এখানে যেই নির্বাহী প্রকৌশলী আসুক টোলের টাকা তাদের কাছে স্ব-সম্মানে পৌছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি শাহ আমানত সেতুর টোল আদায় সরকারি রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এখানে সামান্য অনিয়মও সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সওজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুদকের তদন্ত ও নিরপেক্ষ অডিট বা তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে টোল আদায়ের সম্পূর্ণ ডাটা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং প্রতিদিনের যানবাহন সংখ্যা ও আদায়কৃত অর্থের স্বয়ংক্রিয় মিল নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। উল্লেখ্য— চট্টগ্রামের কর্ণফুলী (শাহ আমানত) সেতুর টোল আদায়ের জন্য ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি ‘সেল-ভ্যান জেভি’ তারা চুক্তির মাধ্যমে শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় এবং সেতুর সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে আসছিল, কিন্তু তাদের মেয়াদ শেষ হওয়াতে বর্তমানে সওজের সড়ক বিভাগ নিজস্ব পদ্ধতিতে টোল আদায় করছে বলে জানা গেছে।
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
সময় বদলেছে, বদলে গেছে আমাদের খাবারের অভ্যাসও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এখন খাবার মানেই যেন ফাস্টফুড—বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস বা কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস। হেঁসেলে মায়ের রান্না করা ভাত-ডাল-সবজি কিংবা ফলমূলের প্রতি আগ্রহ অনেক কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারণ প্রযুক্তি ও জীবনের গতি। স্মার্টফোনে স্ক্রল করতে করতে খাবারের অর্ডার দেওয়াটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই ফাস্টফুড এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফাস্টফুডের কড়চা ফাস্টফুড খেতে যতটা আকর্ষণীয়, এর স্বাস্থ্যঝুঁকি ততটাই ভয়ের বিষয়। অতিরিক্ত তেল, চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকায় এসব খাবার নিয়মিত খেলে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। নিউট্রিশনিস্ট ডা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শুধু ফাস্টফুড থেকে বিরত রাখতে বললে হবে না, তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। খাবার যে শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য—এই বার্তাটা পৌঁছাতে হবে।” পুষ্টিকর খাবার কি হার মানছে? দেশি ফলমূল, ডাল, শাকসবজি, ডিম, দুধ—এসবই আমাদের খাবারের ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক তরুণ এখন এসবকে 'বোরিং' মনে করেন। অথচ ঠিকমতো রান্না বা পরিবেশন করলে পুষ্টিকর খাবারও হতে পারে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়। শিশুদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি না হলে শিশুরাও সহজেই ফাস্টফুডের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সমাধান কী হতে পারে? ১. স্কুলে পুষ্টি শিক্ষা চালু করা। ২. মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার। ৩. হোমমেড ফাস্টফুডের বিকল্প শেখানো। ৪. পরিবারে নিয়মিত ফল ও সবজি রাখা। ৫. সাপ্তাহিক ফাস্টফুড 'ডে' নির্ধারণ করে মাত্রা বজায় রাখা। খাদ্য শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের বিকাশের জন্য। নতুন প্রজন্ম যদি এখনই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সচেতন না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে। 📉 কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি ক্ষতি করছে কিশোরদের? ১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে। ২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। 4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। ✅ কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয় ১. ডিজিটাল ডিটক্স পরিকল্পনা করুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প। ২. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। ৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ৪. শখ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে। ৫. মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন অনুশীলন করুন মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬. অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর। 🧠 মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়। ✨ উপসংহার স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাঝপাড়া বালিগ্রাম গোরস্থান সংলগ্ন ও আশপাশের এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৬নং ওয়ার্ডের মাঝপাড়া এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার কর নির্ধারক মো. এনামুল হক, পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.নওরোজ হুদা। এছাড়াও অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী অন্যান্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবল ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজ নিজ বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
ডেঙ্গু মশা নিধন ও নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি এলাকায় বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সূত্রাপুর থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজে ময়লা পরিষ্কার করেন এবং ড্রেন পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন। ঢাকা-৬ আসনের আওতাধীন এসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সড়ক, ড্রেন ও আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা হয়। ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার ৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তি মোড়, রামকৃষ্টপুর ও এর আশপাশের এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৬নং ওয়ার্ডের রামকৃষ্টপুর এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার তথা কর নির্ধারক মো. এনামুল হক, পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.নওরোজ হুদা। এছাড়াও অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী অন্যান্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবল ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজ নিজ বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালালচক্র ও অবৈধ ক্লিনিক বাণিজ্য। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় রোগীর সেবা না করে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্র দূর-দূরান্তের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বাইরের মানহীন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তারা প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসবের পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়মিত চুরির ঘটনাও ঘটছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের ১৫ থেকে ২০০ গজের মধ্যে প্রায় ১৫-২০টি এবং কোতোয়ালি-চকবাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের পাশে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, মেডিসান হেলথ কেয়ার, ডক্টরস ক্লিনিক; ২ নম্বর গেটের মুখে আল আরাফাত, বাঁধন, ম্যাক্স এইড, নিউ ঢাকা মডার্ন ও ঢাকা হাসপাতাল এবং ১ নম্বর গেটসংলগ্ন মুনলাইট, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক ও মেডি লাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল অন্যতম। এসব ক্লিনিক ভবনের বেশির ভাগই নিচে সারিবদ্ধ দোকান, কেমিক্যাল গোডাউন এবং ওপরেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যূনতম নির্দেশনা মানছে না এবং নেই ভৌত অবকাঠামোও। নেই পর্যাপ্ত ডিউটি ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, টেকনিশিয়ান কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। মূলত সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে ব্যবসা করাই এসব ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য। এসব ক্লিনিকের প্রচারসামগ্রী ও চিকিৎসক তালিকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাম ব্যবহারের বিষয়টিও লক্ষণীয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর দালালের মাধ্যমে রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। একাধিক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়েছে। সরেজমিন বেলা ১টা ২০ মিনিটে মিটফোর্ড হাসপাতালের বহির্বিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীরকে হাসপাতালের পাশের ‘ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে’ রোগী দেখতে দেখা গেছে। অথচ ওই সময়ে তার হাসপাতালেই ডিউটিতে থাকার কথা ছিল। একই সময়ে শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের আরও তিন চিকিৎসককে ওই ক্লিনিকে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালাল রোগী সংগ্রহ করার পর কল দিলেই চিকিৎসকরা চা-শিঙাড়া খাওয়ার অজুহাতে ডিউটি ফেলে ক্লিনিকে ছোটেন। দালালরাও মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে রোগীকে ভাগাতে ওতপেতে বসে থাকে। এমনই এক দালালের খপ্পরে পড়া রোগী আব্দুল মজিদ (৭৫)। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার আশায় মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা এসে দালালচক্রের ফান্দে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। দ্রুত সুচিকিৎসার নামে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালের বাইরে গড়ে ওঠা মেডিসান ক্লিনিকে। মজিদ জানান, পিত্তথলির পাথর ও তলপেটের ব্যথার সমস্যা নিয়ে কষ্ট করে ডাক্তার দেখাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু বহির্বিভাগে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানোর পর থেকেই একাধিক দালাল কম খরচে ও দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। একপর্যায়ে না বুঝে তাদের কথায় বিশ্বাস করে হাসপাতালের বাইরে ক্লিনিকে যান মজিদ। সেখানে নেওয়ামাত্রই শুরু হয় নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খেলা। শারীরিক পরিস্থিতি বোঝার নামে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকা সামান্য টাকার পুরোটাই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অর্থ খরচের পরও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা। সর্বস্ব হারিয়ে মজিদ বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ভাবছিলাম কম খরচে চিকিৎসা পামু। দালালরা আমারে ফুসলাইয়া বাইরে নিয়া গেল। যা টাকা-পয়সা আছিল সব টেস্টের নামে কাইড়া নিছে। এহন আমার কাছে বাড়ি ফেরার ভাড়াও নাই, চিকিৎসাও পাইলাম না।’ মিটফোর্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন মজিদ মিয়ার মতো শত শত গ্রামীণ ও দরিদ্র রোগী এভাবে দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের ভেতরের ভিড় ও চিকিৎসকদের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি রোগীদের বাইরে পাঠায়। সেখানে ক্লিনিকে অনৈতিক চুক্তি অনুযায়ী কমিশন পাওয়ার লোভে ভুয়া ও নিম্নমানের প্যাথলজি টেস্ট করিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতা এবং নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অফিস সময়ে এভাবে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ নম্বর ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। চিকিৎসকদের এই অনিয়মের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমগ্র দেশের ডাক্তারদের বদনাম হচ্ছে। অবিলম্বে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের মাধ্যমে দালালচক্রকে কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম বলেন, ‘অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হাসপাতালে চুরি ও দালালদের উপদ্রব সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘দালাল ও চুরি প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে চোররা প্রায়ই স্বজন সেজে ভেতরে ঢোকে, ফলে আনসারদের শনাক্ত করতে কষ্ট হয়। তবুও নিয়মিত চোর ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে গঠিত ৮ টিমের সদস্যরা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে টিম নম্বর-৮ বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাবুপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন, গাছগাছালি কাটাসহ কীটনাশক ওষুধ ছিটানো হয়। এছাড়া এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র এবং ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌরসভার কর নির্ধারক ও পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি মোঃ এনামুল হক,পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মো:আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: নওরোজ হুদা, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেকসহ অন্যান্য সদস্য। অভিযানে অংশ নেন রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটস সদস্যসহ পৌরসভার কর্মচারীরা। অপরদিকে, অন্যান্য টিমও বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিস্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, ফুলের টব বা যেকোনো খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, সোমবার বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নামোনিমগাছি , ও আশপাশের এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল কার্যক্রমসমূহ মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৭নং ওয়ার্ডের নামোনিমগাছি মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার কর নির্ধারক মো: এনামুল হক,পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন,ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: নওরোজ হুদা, এছাড়া অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী অন্যান্যরা অংশ নেন। গঠিত টিমের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে জায়গা সংকটের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে কৃষি যন্ত্রাংশ। দেশের ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরি হয় এখানে। বছরে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয় এখানকার ঢালাই কারখানায় বানানো যন্ত্রপাতিতে। এদিকে দুই দশক ধরে ফাইলবন্দি থাকা বগুড়ার বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্প এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ৪০০ একর জমিতে এই শিল্পপার্কে শতাধিক কলকারখানার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, আগামী শীতে এই শিল্পপার্কের কাজ শুরু হতে পারে। এতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হাজারো শ্রমিকের মেধা আর শ্রমে জাহাজ ভাঙা লোহা থেকে তৈরি হচ্ছে কৃষির অতিজরুরি যন্ত্রাংশ। কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরি করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন এ শিল্পনগরীর উদ্যোক্তারা। বগুড়ায় তৈরি এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে সারা দেশে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পে কাজ করছেন ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক। বছরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে, এখানে তৈরি হচ্ছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচ পাম্প, লাইনার, পিস্টন, টিউবওয়েল, পাওয়ারটিলারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, লেদ মেশিন ও গাড়ির ব্রেক ড্রাম। এছাড়া করাতকল, ফ্লাওয়ার মিল, টেক্সটাইল মিল, অয়েল মিল, এমনকি ধান কাটার মেশিনসহ অন্যান্য মেশিনের যন্ত্রাংশও তৈরি করা হচ্ছে। শ্যালো ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, যানবাহনের ছোট পার্টস, কলকারখানার প্রয়োজনীয় পার্টসসহ কৃষির প্রায় সব যন্ত্রাংশ বগুড়ায় তৈরি হয়। কৃষির জন্য পাওয়ারটিলারের লোহার চাকা, শ্যালো মেশিন দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, গজল পিন ও লাইনার হেডপিটও তৈরি হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশের ওপর দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। এসব যন্ত্রাংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন দামে কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। জাহাজ ভাঙা লোহা গলিয়ে ঢালাই কারখানায় নিয়ে এসব পণ্য বানানো হয়। ফিনিশিংয়ের জন্য রয়েছে প্রায় এক হাজার লেদমেশিন কারখানা। ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাধীনতার আগে থেকে বগুড়ায় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশের খুচরা পার্টস তৈরি হতে থাকে। শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় বিসিক শিল্প ও কাটনারপাড়াসহ বেশকিছু এলাকায় এসব যন্ত্রাংশ তৈরি হতে থাকে। এক পর্যায়ে কারখানাগুলোর বিকাশ বেড়ে যাওয়ায় বগুড়া বিসিক শিল্প এলাকার প্লট শেষ হয়ে যায়। বেশকিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে শহরের ফুলবাড়ি, গোহাইল রোড, রেলওয়ে মার্কেট, শাপলা মার্কেট, কাটনারপাড়া, ভবের বাজার চারমাথা, তিনমাথা ও বনানী এলাকায়। এসব কলকারখানায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়ে থাকে বাসাবাড়ি, কারখানা ও কৃষিকাজে। দেশের কৃষি যন্ত্রাংশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশের জোগানদাতা বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্প। বগুড়া বিসিকের মিল্টন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজার রহমান মিল্টন জানান, আশির দশকে ব্যক্তি উদ্যোগে বগুড়াতে প্রথম ফাউন্ড্রি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ঢালাইনির্ভর প্রায় ১০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার ২৭ কারখানায় অন্তত ৮০ ভাগ যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। লোহা গলিয়ে বর্তমানে ১৬ ধরনের উন্নত যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যায় প্লটগুলো। উদ্যোক্তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে আরো ১৮.৬৭ একর জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু সেটির বরাদ্দও ১৯৯০ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এভাবে দুই দফায় ২৩৩ প্লটে ৮৫টি শিল্প ইউনিট গড়ে ওঠে। বিএনপি সরকার ২০০৫ সালে শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণে প্রকল্প গ্রহণ করে। তবে ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর এটি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে। বিএনপি চলতি বছর পুনরায় সরকার গঠন করার পর ২০ বছর আগের বিসিকের পক্ষ থেকে বগুড়ায় শিল্পনগরী সম্প্রসারণের সেই প্রকল্প সামনে আনা হয়েছে। বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি জানান, বগুড়ায় ইঞ্জিন বাদে প্রায় সব ধরনের পার্টস তৈরি হয়। বগুড়া মোটরসের তৈরি করা এয়ার ফিল্টার, মবিল ফিল্টার ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়। এসব পার্টস দেশের প্রায় সব জেলায় কম-বেশি বিক্রি হয়। এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি বড় শিল্পপার্ক না হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কারখানা নির্মাণ হয়, তাহলে কৃষিজমি নষ্ট হবে। পুরান বগুড়া তিনমাথা রেলগেট টু কাহালু আঞ্চলিক রাস্তার পাশে ফাঁপোর ইউনিয়নের কৈচর এলাকায় প্রস্তাবিত এই শিল্পপার্কটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল ও সহসভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় এসে এর ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, এখানে যেন কোনো গাফিলতি না হয়। আমরা আশাবাদী, খুব তাড়াতাড়িই আলোর মুখ দেখতে পারব। শিল্পপার্ক নির্মিত হলে বগুড়াকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বাড়ার এক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিনের দাম ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। চলতি বছরে এটি জ্বালানি তেলের দামে তৃতীয় দফা বৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সবজি পরিবহনে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল থেকে সবজি আনা আড়তদার মো. খলিলুর রহমান বলেন, একেকটি ট্রাকে পরিবহন খরচ কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে। তার হিসাবে, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় একটি ট্রাকের ভাড়া ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। বাড়তি পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরই পড়বে বলে জানান তিনি। মানিকগঞ্জ থেকে সবজি আনা পাইকারি ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, তার একটি পরিবহনের ভাড়া ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। বাড়তি ব্যয় নিজের পকেট থেকে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ব্যয় ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। তার হিসাবে, কিছু সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের খুচরা সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম আরো বাড়তে পারে। কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার সকালে আড়তেই দাম বেড়েছে। ফলে কিছুটা লাভ রেখে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আরও কিছুদিন পর নতুন সবজি বাজারে এলে দাম কমতে পারে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শুধু সবজি নয়, দূরবর্তী এলাকা থেকে ঢাকাসহ বড় শহরে চাল, মাছ, মাংস, ডিম, আলু ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ডিজেলনির্ভর যানবাহন ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিপিডির গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ভোগান্তি সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু খাদ্যপণ্যে নয়, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ওপরও পড়বে। তিনি পরিবহন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানভেদে ট্রাক ভাড়া ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে হ্যান্ডলিং চার্জ গড়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি করা পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের বিক্রয়মূল্যে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে কিছু রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসের বাসে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএসএম আহম্মেদ খোকন বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি বাসে শুধু জ্বালানি বাবদ প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কথা বলছে সরকার। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। বিভাগের হিসাবে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। নতুন দাম কার্যকর করার ফলে বার্ষিক লোকসান কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করলে সরকারের টিকা কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহের মতো কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারত। জনগণের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিকেও সেই চাপ বহন করতে হয়। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পণ্যের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়লে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়বে। আয় একই থাকলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলমও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে সরকার জ্বালানি খাত থেকে যে রাজস্ব বা ভর্তুকি-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কা ইতোমধ্যে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে। এখন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এই বাড়তি ব্যয় নিত্যপণ্যের খুচরা বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে শহরের বাজারে আসা সবজি, মাছ, মাংস ও চালের ওপর দ্রুত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবহন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কুড়িগ্রামে সার সংকট দেখা দিয়েছে। রাত ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন তারা। সার সংকটে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। মঙ্গলবার জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবর পেয়ে ভোর ৩টা থেকেই শত শত কৃষক মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সার উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘আমরা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি। ডিলার সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা, অথচ কৃষকের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার বস্তা। কৃষকেরা সার না পেলে এবার ধানের আবাদ খারাপ হবে।’ চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, ‘সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫টায় আসি। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার পাইলাম না। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নেই, তাহলে আমি সার পেলাম না কেন?’ মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি এবং আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এই ইউনিয়নে মাত্র দুজন ডিলার হওয়ায় কৃষকদের চাপ অনেক বেশি।’ এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোপা আমনের জন্য সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সামনে কৃষকেরা ভুট্টা চাষ করবেন, তাই অনেকে আগে থেকেই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশের স্বনামধন্য বৃহৎ রিসোর্ট ব্র্যান্ড ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন করে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছুটি রিসোর্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মিম, যিনি নিজ হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ছুটি রিসোর্ট নিরলসভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও ছুটি রিসোর্ট নতুন উদ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ছুটি রিসোর্টের চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন নতুন প্রকল্পসমূহে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সামসুল ইসলাম মাসুদসহ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আগত অতিথিরা। সকলের অংশগ্রহণে এই সবুজ উদ্যোগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ছুটি রিসোর্ট সকলকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ শেষে মিম বলেন, “আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য ছুটি রিসোর্টকে ধন্যবাদ জানান। ছুটি রিসোর্ট লি: concern of Chuti group: www.chutigroup.com
শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন- ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং সাঘাটা উপজেলার নম্বর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। এছাড়া বজ্রপাতে নাটোরের সিংড়ায় একজন, জামালপুরের মেলন্দাহে দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, বগুড়ার গাবতলীতে একজন এবং সকালের দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার। জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা। এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হার এক্সেলেন্সি লিস্টিওয়াতি (H.E. Listyowati) রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় গভর্নর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরী পোশাকসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ, প্রভৃতি রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিউ রিয়াদি (Wahyu Riadi), Minister Counsellor/Head of Chancery; রবি ফিরলি হারখা (Robbi Firly Harkha), Third Secretary/Economic Affairs; এবং সাপতো রুদিয়ান্তো (Sapto Rudiyanto), Officer। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশের সমঝোতায় ওই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেয়। দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে এসে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চান। বইটি বের করে দেওয়ার পর তারা এটি বিক্রি করা নিয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে আশপাশের আরও কয়েকজনকে জড়ো করে তারা বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটক করা হয়। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন , তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০২৪ সালের পর আর ছাপানো হয়নি। তাই বইটি আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। এদিকে ইউপিএলের সম্পাদকমণ্ডলীর পরিচালক ফিরোজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে আমরা বই সরিয়ে নিতে বাধ্য হবো। কিন্তু সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা নিজেরা কোনও বই বাজার থেকে সরাব না।’ তিনি বলেন, ‘শুধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী নয়, আগেও বিভিন্ন বই নিয়ে চাপ এসেছে। কিন্তু আমরা কোনও বই বাজার থেকে সরাইনি। কারণ, বই প্রকাশের পেছনে আমাদের শ্রম ও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করলে অবশ্যই আমরা তা সরিয়ে নেবো।’
জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের নতুন মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন— শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে প্রসিকিউটর মইনুল করিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এজন্য তাদেরকে এ গ্রেপ্তারের আবেদন জানাচ্ছি। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ১৭ আগস্ট এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজকের দিনে হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আজ সকালে তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় বাবু-ফারজানা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন শ্যামল দত্ত।
সিলেটের ওসমানীনগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় জরিমানা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বছরজুড়ে আলোচিত ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ‘আপা’ সম্বোধন করায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এ ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার আমার দেশ অনলাইনে ‘ইউএনওকে আপা সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন ইউএনও মুনমুন। গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ইউএনও মুনমুন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকের অধীন উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় । কিন্তু ওই টাকা বণ্টন না করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও মুনমুন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ খাত থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অথচ প্রকৃত সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ গোপন রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্রুত বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ক্যামেরা স্থাপন শুরু করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাজপুর বাজারে একটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওর স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ফলে উচ্চ আদালতে চলমান রিট মামলা থাকা অবস্থায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের রাজস্ব খাতে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ৯৬ হাজার টাকা, উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় ও মেরামতের নামে ৭৩ হাজার টাকা, বাংলোর পানির পাম্প মেরামত ও স্থাপনে ৭২ হাজার টাকা এবং ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট সংযোজন বাবদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে আংশিক কাজ বা কোনো কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্ড ইয়াকুব বিরিয়ানি হাউজে’ সরকারি চাল মজুত রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিপন রায় প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ইউএনও মুনমুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি ১২০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাছুম আবির ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে চালের বৈধতা স্বীকার করে দ্রুত বাজারজাত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চাল বৈধ ঘোষণা করার পরও ফুডগ্রেইন (খাদ্যশস্য) সনদ না থাকার অভিযোগে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আল মাছুম আবির অভিযোগ করেন, ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আল মাছুম আবির ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় ইউএনও তার বিরুদ্ধে আগের মানববন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানান। এর আগে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকাবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আন্দালন করে কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার তাজপুর বাজারে বারণী মেলার নামে অবৈধভাবে র্যাফেল ড্র বিক্রির অভিযোগে ভাড়ায় কাজ করা লিপন আহমদ নামে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন ইউএনও মুনমুন। একই সঙ্গে প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত টমটম ও মাইক জব্দ করা হয়। অথচ পরদিন ৪ এপ্রিল তাজপুর বাজারে জনসম্মুখে ওই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা টমটম, মাইক ও টিকিট বই পরদিন আয়োজকরা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভাড়ায় কাজ করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ায় ইউএনওর রায় নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান । . সোমবার দুপুরে তিনি এতথ্য জানান। এর আগে মামলা করার আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার মধ্যরাতে রাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা। আহতদের মধ্যে আছেন— দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম। প্রথমে আহত চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। হামলার প্রতিবাদে ওই রাতেই জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সাংবাদিকেরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর রাত ১০টার পর ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হলে রাত সোয়া একটার দিকে সাংবাদিকেরা কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানান তারা। এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদে শহীদ জিয়াউর হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন। সাংবাদিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব আছে, তাদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন, এমন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও আছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে—তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় আগামীকাল (আজ সোমবার) হল প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা করা হবে। অন্য দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য, হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। এদিকে এ হামলার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ’ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলমকে রাখা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
" জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের (জেএসপিএস-ইউজিসি বাই-লেটারাল জয়েন্ট রিসার্চ প্রজেক্ট) প্রজেক্ট মেম্বার ও জেএসপিএসের গবেষণা ফেলো হিসেবে গবেষণার কাজে জাপান যাচ্ছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম। ৫ অক্টোবর ২০২৬ গবেষণাসংক্রান্ত কাজে জাপানের তোহোকু ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে রাতে চায়না সাউদার্ণ এয়ারলাইন্সে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। জাপানে অবস্থানকালে তাঁর গবেষণার যাবতীয় ব্যয় জাপান সরকার বহন করবে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম “Reduction of arsenic contamination from rice fields through engineered biochar application: A fundamental understanding of metallomics at the soil-biochar interface.” শিরোনামে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের একজন অন্যতম গবেষক ও ফেলো। উক্ত গবেষণা প্রকল্পের গবেষক টিমের জাপান সাইডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তোহুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান এর অধ্যাপক ড. তোময়ুকি মাকিনো এবং বাংলাদেশ সাইডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম। প্রকল্পের অন্য গবেষকরা হলেন পবিপ্রবির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, বিএআরআই এর প্লানিং ডাইরেক্টর ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের এবং উক্ত প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আছেন পবিপ্রবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম মিয়া যিনি বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। উল্লেখ্য অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম একজন বিশিষ্ট পেডোলজিস্ট ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশের চলন বিলের মাটির শ্রেণীবিভাগ নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পবিপ্রবির উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত সফরের জন্য তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির উদ্যোগে কৃষক ও কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান,কৃষি বনায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন,"আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত যে, আজ আপনাদের মতো কঠোর ও পরিশ্রমী মানুষের মাঝে উপস্থিত হতে পেরেছি। আপনারা দিন ও রাত পরিশ্রম করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চার দেয়ালের মাঝে শিক্ষা দেবার জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো তার গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে পবিপ্রবি'র এই অঞ্চলের কৃষক দের প্রতি একটি গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অধিকার রয়েছে। এই এলাকার কৃষক দের উন্নয়ন মানেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকতা।আপনাদের যে কোন কৃষিভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে এবং কাজ করে যাবে। আমরা যে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করলাম এটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপনারা আপনাদের কাজ করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা ফেস করেন আমাদের বললে আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি দিন দিন চ্যালেন্জিং হয়ে উঠেছে। এ চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আপনাদের পাশে দাঁড়াতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা আপনাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি। এ ওয়ান স্টপ সার্ভিসে এসে আপনারা এক জায়গাতেই কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে সরাসরি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান পেয়ে যাবেন। উক্ত কৃষক প্রশিক্ষণে এলাকার ৫০ জন কৃষক কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। পরে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতরা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। তারা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন। যারা পাবেন না, তাদের নিয়ে আমরা কাজ করব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র। সে সময় দেখা গেছে, তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টেছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যেসব প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের দাবি, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি। এদিকে ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ প্ল্যাটফর্মও দাবি করেছে, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে আছে। বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কারণ জনসম্মুখে প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জেলা ভিত্তিক উত্তীর্ণদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইডিয়াল কলেজ ও ঢাকা কলেজের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডিয়াল কলেজের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় সাইন্সল্যাবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা কলেজে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ মিছিল নিয়ে থেকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আইয়ুব বলেন, সাইন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ আর আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে একটু উত্তেজনা ছিল। সেটা যাতে না হয়, এজন্য পুলিশ সাইন্সল্যাবে অবস্থান করছে। কোনো অঘটন যাতে না ঘটে এজন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, উভয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে আছে। বাইরে থেকে কোনো ধরনের কেউ কাউকে ঢিল বা পাথর নিক্ষেপ না মারতে পারে, সেজন্য আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। সাইন্সল্যাবে ৬০ জনের মতো পুলিশ আছে। নিউমার্কেট, কলাবাগান এবং ধানমন্ডি তিন থানা থেকে আলাদা আলাদা স্থানে পুলিশ অবস্থান করছে।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুরে মাদরাসাতুর রাইহানের ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচ এম মুস্তাকিম বিল্লাহ নিশান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রাইহানুল ইসলাম লুনা। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মুহসিন উদ্দিন। বিশেষ আলোচক ছিলেন মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম নবী। অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফলাফল ঘোষণার পর কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মাদরাসাতুর রাইহান পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইলমে দ্বীন ও আমলে বরকত এবং কুরআন-সুন্নাহর আদর্শে গড়ে ওঠার জন্য দোয়া করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৭ জন নেতাকর্মী ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের বিশেষ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে তারা এ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে ৪৭ সদস্যের এই ওমরাহ কাফেলা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে লুৎফুজ্জামান বাবরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মির্জা মো. হায়দার আলী জানান, এমপি মহোদয়ের নিজস্ব অর্থায়নে তার নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনা-৪-এর মোহনগঞ্জ উপজেলার ১৮ জন, মদন উপজেলার ১৭ জন, খালিয়াজুরী উপজেলার ১১ জন এবং আমি নিজে—মোট ৪৭ জনকে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে এমপি মহোদয় নিজে এই কাফেলার সঙ্গে যাচ্ছেন না। উনার ইচ্ছা নির্বাচনি এলাকার নেতৃবৃন্দ যাতে ধর্মীয় অনুশাসনে নিজেদের পরিচালিত করেন, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওমরাহ কাফেলায় যারা যাচ্ছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা (১৮ জন): উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন, সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক গোলাম এরশাদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভিপি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী পুতুল, সাবেক পৌর মেয়র মাহাবুবুন্নবী শেখ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন তালুকদার, সাবেক পৌর আহ্বায়ক ফজলুল হক মাসুম, সাবেক উপজেলা সদস্য সচিব টিপু সুলতান, সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান খান চৌধুরী, সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ মহসিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুজ্জামান খান রনি, সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ খোকন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামিউল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদী চৌধুরী অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরন খাঁ ও সাবেক সদস্য সচিব জাকির আহমেদ বাবু। খালিয়াজুরী উপজেলা (১১ জন): উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্ট, সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তরুক, সদস্য হালিম আজাদ আকবরী, যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ছুটন, সদস্য সচিব রাজিব হোসেন পলাশ, ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল হক পলিন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়। এছাড়াও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মদন উপজেলা সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসেন এই প্রতিনিধিদলে কাফেলার সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, এমপি মহোদয় এতজন নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে তার মহৎ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে উনার মতো একজন অভিভাবক ও নেতা পেয়েছি। একই অনুভূতি প্রকাশ করে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, আমাদের নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর আমাদের পবিত্র ওমরাহ পালনের এই অসামান্য সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় ভারি বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হয়েছে। এ সময় মসজিদুল হারামে কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে এ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃষ্টির সময় মসজিদুল হারামের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। ভারি বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় অব্যাহত রাখেন। আবহাওয়ার অবনতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উপত্যকা এবং নিচু এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসেও মক্কাসহ কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। আল-জাজিরার ভিডিওতে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামের পরিবেশ এবং কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে কাবা শরিফ। আজ বুধবার সূর্য সরাসরি কাবা শরিফের ওপরে অবস্থান করবে। এ সময় সূর্য ঠিক পবিত্র কাবার ওপর অবস্থান করবে, ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য কাবা শরিফের কোনো ছায়া দেখা যাবে না। এ ধরনের ঘটনা বছরে দুইবার ঘটে। ঘটে। এ ঘটনার ভিত্তিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নির্ভুলভাবে কিবলার দিক নির্ণয় করে থাকেন। জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির তথ্যমতে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে সূর্য পবিত্র কাবার ঠিক ৯০ ডিগ্রি ওপরে অবস্থান করবে। ওই মুহূর্তে সূর্য ও কাবা একই উল্লম্ব রেখায় অবস্থান করায় কাবার ছায়া সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাবে। জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সভাপতি মাজেদ আবু জাহরা বলেছেন, দিগন্তের ওপরে সূর্য দৃশ্যমান এমন সব স্থানে ওই মুহূর্তে সূর্য সরাসরি কাবার দিকে থাকবে। ফলে যেকোনো খাড়া বস্তুর ছায়া ঠিক বিপরীত দিকে পড়বে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনার মাধ্যমে কিবলার দিক নির্ধারণ করতে দর্শনার্থীরা বা পর্যবেক্ষকরা একটি সমতল জায়গায় খাড়াভাবে একটি বস্তু স্থাপন করতে পারেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে সূর্য বা বস্তুর ছায়ার দিক অনুসরণ করে কিবলার দিক নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন
পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিশ্বকে ২০১৬ সালের সেই বিষাদময় স্মৃতির কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবারও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মহাতারকা। মেসির সেই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সংহতি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সর্বকালের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে চিলির বিপক্ষে স্পটকিকে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মেসি এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হয় আলবিসেলেস্তেদের। পর পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে মানসিকভা ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মেসির এই বিদায়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। তবে মাঠের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সেই কঠিন মুহূর্তে মেসির পাশে এসে দাঁড়ান পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। পর্তুগালের এই মহাতারকা তখন বলেছিলেন, মেসি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানুষের উচিত তার পরিস্থিতি বোঝা। টাইব্রেকারে মেসির পেনাল্টি মিসের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করে রোনালদো মন্তব্য করেছিলেন, মেসি কখনোই হার বা দ্বিতীয় হওয়াতে অভ্যস্ত নয়। তবে একটি পেনাল্টি মিস করলেই কোনো ফুটবলার খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যান না। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই মহাতারকার তীব্র লড়াই সবসময়ই খবরের শিরোনাম হলেও, রোনালদোর মনে মেসির জন্য ছিল গভীর সম্মান। ফাইনাল শেষে মেসিকে কাঁদতে দেখে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে সিআরসেভেন বলেছিলেন, মেসিকে চোখের পানি ফেলতে দেখে তারও কষ্ট লেগেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, দেশ ও সমর্থকদের স্বার্থে মেসি যেন পুনরায় জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন। রোনালদোর সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেয়েছিল। অবসর নেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন মেসি। এরপরের ঘটনা তো ইতিহাস-২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জয় করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলার ইতি ঘটে। গত সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিশ্চিত করেন যে, আর্জেন্টিনার হয়ে তাকে আর মাঠে দেখা যাবে না। ২০১৬ সালে রোনালদো যে প্রত্যাবর্তনের আশা করেছিলেন, এবার হয়তো সেই ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।
বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেছে। সফর শেষে বাংলাদেশের মাঠ ও অবকাঠামো নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে প্রতিনিধি দলটি। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় ঢাকায় আসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল। সফরকালে তারা রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ, ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখে। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও পরিদর্শন করেন তারা। জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ এবং সংলগ্ন বিভিন্ন সুবিধা পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠের মান ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত দেন। তবে আন্তর্জাতিক মানের বড় দলকে আতিথেয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ ও বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে এসব উন্নয়ন স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। সফর শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে প্রতিনিধি দলটি। চলতি সপ্তাহেই তারা ঢাকায় পরিদর্শনের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে দ্রুত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার উদ্যোগ নেবে। ওই বৈঠকে ব্রাজিল জাতীয় দলকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ব্রাজিলের নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ উন্নয়নে বাফুফে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে সংস্কারকাজ করেছে, ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মূল্যায়নকে সেই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে বাফুফে। আন্তর্জাতিক দল ও খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় স্টেডিয়ামকে আরও উপযোগী করে তুলতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বাফুফের। সফরের শেষ পর্যায়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ ও পিচ ডেভেলপমেন্ট, যৌথ কোচিং প্রোগ্রাম, স্পোর্টস সায়েন্সের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি তারা লক্ষ্য করেছেন। বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় দল খেলতে এলে এখানকার ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকেও একই ধরনের সমর্থন ও ভালোবাসা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বাংলাদেশে ব্রাজিলের জাতীয় দলের একটি ম্যাচ আয়োজন হলে তা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বাফুফে। একই সঙ্গে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, মাঠ উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাফুফের ম্যানেজার-মিডিয়া সাদমান সাকিব জানান, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের এই সফরকে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ দেখার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে দেশের কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে (নতুন) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাচোল উপজেলাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা,চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মশিউর রহমান মিঠু, সদস্য মো. তৌফিকুল ইসলাম তোফা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. বদিউজ্জামান বুধু, সাবেক সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান রজুসহ সংশ্লিষ্টরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে শিবগঞ্জ উপজেলা দল। প্রতিপক্ষ নাচোল উপজেলা দলও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিবগঞ্জের দাপটের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের খেলায় শিবগঞ্জ ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় মোমিনুল ইসলাম ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। খেলা দেখতে জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে এমন বড় আয়োজন ঘিরে তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তরুণ প্রজন্ম, যুবক, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর ধারার খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
দক্ষিণ কোরিয়া সফর উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় খিম্পু শহরের খিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, দক্ষিণ কোরিয়া। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও নানান শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডায়াস্পোরা সদস্যদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখন প্রবাসীরা মুক্তির আশা জাগিয়ে রেখেছিল। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মতো জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার অব্যাহত রাখতে এনসিপি কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কোরিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার পলিসিতেও তারা ভূমিকা রাখবে। আমি এসেছিলাম গোয়াংজু ডেমোক্রেসি ফোরামে। এখানে এসে কোরিয়ার অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক লড়াই দেখেছি। আগামীতে বাংলাদেশের লড়াই-সংগ্রামকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের মরদেহ বিনা মূল্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, কোরিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দালালদের অপতৎপরতা রোধ, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে অধিক অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আয়মান রাহাত, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ও সদস্য সচিব বাবুল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনকে (ডন হক) আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ রোববার, ৯ আগস্ট, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটক এই অভিনেতাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। . ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে উদ্ধার করা হয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করলেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা থামেনি। অবশেষে এ ঘটনায় তদন্তের গতি ফেরাতে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। সালমান শাহর পরিবারের দাবি, শুরু থেকেই ঘটনাটিকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চলচ্চিত্রে পা রেখে মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি বাণিজ্যিকভাবে সফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সালমান শাহ। দীর্ঘ সময় পর নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের ও আসামি ডনকে আটকের ঘটনায় বহুল আলোচিত এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নতুন আশার আলো দেখছেন ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। বার্তায় বলা হয়, ঢাকা সফরের শেষ দিনে অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পুনরুদ্ধার করা হাম্মামখানা ঘুরে দেখেন এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অবদান সম্পর্কে অবগত হন। তিন দিনের সফরে গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন মার্কিন প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার। উল্লেখ্য, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা মুঘল স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।
স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি। এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান। অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ কতটা এগিয়েছে, বইয়ের মান ঠিক আছে কি না- তা সরেজমিনে দেখতে গভীর রাতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর পূর্বঘোষণা ছাড়াই এসব প্রেসে গিয়ে পাঠ্যবই ছাপার কাজের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শন করা প্রেসগুলো হলো- মৌসুমী অফসেট প্রেস, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, শৈলী প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা অফসেট প্রিন্টার্স, সোনালী ওয়েব প্রিন্টার্স ও ন্যাশনাল প্রিন্টার্স। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি কতটা সন্তোষজনক, তা যাচাই করতেই মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিভিন্ন প্রেসে পাঠ্যবই ছাপার কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখেন। পাশাপাশি বইয়ের ছাপার মান, কাগজের গুণগত মান এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রেস মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বই ছাপার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের গাফিলতি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাপার কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা নির্ধারিত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। পাঠ্যবই ছাপার কাজের সার্বিক অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন শিক্ষামন্ত্রী।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সৃজণী স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো:আসলাম হোসেন।অদ্য ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সৃজনী স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। এ উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার খান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো:আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবি'র উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনী স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আজ আমি এখানে কেবল একজন অতিথি হিসেবে আসিনি,এসেছি তোমাদের কথা শুনতে, তোমাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাগুলোকে কাছ থেকে উপলব্ধি করতে। ছাত্র- ছাত্রীদের বিভিন্ন দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ তোমরা আমার কাছে তোমাদের কিছু যৌক্তিক দাবির কথা তুলে ধরেছ।তোমরা একটি আধুনিক লাইব্রেরী,সায়েন্স ল্যাবরেটরি চেয়েছ এবং খেলার মাঠ ভরাটসহ ক্যাম্পাসের কিছু অবকাঠামোগত সমস্যার কথা জানিয়েছ।আমি বলতে চাই তোমাদের এ দাবীগুলো কোন বিলাসিতা নয়, এগুলো তোমাদের অধিকার। একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুসজ্জিত লাইব্রেরী ও ল্যাবরেটরি অপরিহার্য। তোমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবো। তিনি আরও বলেন, তোমরাই এদেশের ভবিষ্যৎ। আজকের এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে নিজেকে শুধু জিপিএ ৫ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং মানবিক গুণসম্পন্ন সত্যিকার মানুষ হতে হবে। প্রধান অতিথি সৃজনী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ফলাফল,শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে মুগ্ধ হন।তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তিনি সৃজনী বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গনে গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে প্রধান অতিথি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে
ঢাকা কলেজ উচ্চমাধ্যমিক ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে সাইন্সল্যাবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা কলেজে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ মিছিল নিয়ে থেকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আইয়ুব বলেন, সাইন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ আর আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে একটু উত্তেজনা ছিল। সেটা যাতে না হয়, এজন্য পুলিশ সাইন্সল্যাবে অবস্থান করছে। কোনো অঘটন যাতে না ঘটে এজন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, উভয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে আছে। বাইরে থেকে কোনো ধরনের কেউ কাউকে ঢিল বা পাথর নিক্ষেপ না মারতে পারে, সেজন্য আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। সাইন্সল্যাবে ৬০ জনের মতো পুলিশ আছে। নিউমার্কেট, কলাবাগান এবং ধানমন্ডি তিন থানা থেকে আলাদা আলাদা স্থানে পুলিশ অবস্থান করছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা, কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিন্ডিকেট সদস্যের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে ১ জনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া র্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত শাস্তির বিষয়ে অবহিত করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগের ২ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের ১ জন রয়েছেন। সব মিলিয়ে এসব বিভাগে মোট ৯৯ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র্যাগিং, বিভাগের মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে শুনেছি। তবে আমি সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। তিনি বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ বহাল থাকলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় কেউ কঠোর শাস্তি, কেউ সতর্কতামূলক শাস্তি এবং কারও হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের সন্তানদের বিষয়ে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রক্টর আরও বলেন, শাস্তির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করা নয়, বরং ভুল থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করার সুযোগ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রাখতে চায়। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত গতকাল সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও কঠোর সতর্কতাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি রয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন। এছাড়াও আরও বেশকিছু বিভাগ উপকমিটিতে তদন্তনাধীন রয়েছে, পরবর্তী সিন্ডিকেটে তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান এ উপাচার্য।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২০২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের এক বছরে তিনি ডাকসু বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ বা উত্তোলন করেননি। বরং বরাদ্দ সংকটের কারণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গত এক বছরে নিজের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কার্যক্রমের খতিয়ান তুলে ধরেন মুসাদ্দিক। লিখেন, ‘ডাকসু দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ৩৬৫ দিনে প্রতিদিন কি করেছি– তা দিনলিপি হিসেবে একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করার অভিপ্রায় রয়েছে, আমি শীঘ্রই সেটি প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।’ তুলে ধরেন নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্যও। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হয়। মুসাদ্দিক লিখেন, ‘গত এক বছর শুধু পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে গিয়েছি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কাজ করতে গিয়ে অনেক রাত ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। শুধু নিজের আত্মসম্মান এবং আমার উপর শিক্ষার্থীরা যে আস্থা রেখেছেন, সেটির রক্ষার তাগিদে প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। পরিচিত ও অপরিচিত অনেক শিক্ষার্থী, বন্ধু, সিনিয়র ভাই ও আপু, ছোট ভাই, ছোট বোন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ তার ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই এই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম যে, আমার জন্য যারা এত পরিশ্রম করেছেন, দিন শেষে বিজয়ী হওয়ার পর যদি আমি তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারি–যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে আমার পক্ষে ভোট চেয়েছেন–তাহলে তাঁদের মুখ কালিমালিপ্ত হবে; তারা তাদের নিজ নিজ সার্কেলে আমার কারণে ছোট হবে। আমার সহপাঠী, ছোট ভাই, ছোট বোন ও সহযোদ্ধারা যে আস্থা ও সম্মান নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সেই সম্মান রক্ষা করা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে কারণেই আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, যেন মেয়াদকাল শেষে অন্তত শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেই আস্থাটুকু অক্ষুণ্ন রেখে তাঁদের প্রত্যাশার প্রতি সুবিচার করে দায়িত্বটি শেষ করতে পারি। তার জন্য গত একবছর আমি এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করিনি। প্রতি মুহূর্তই শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছি, তারপরও থামিনি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করে গিয়েছি অব্যাহতভাবে।’ ডাকসুর উদ্যোগের প্রকাশিত গ্রন্থডাকসু নেতা লিখেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিচার করবে। ১৯–এর ডাকসু তো শিক্ষার্থীবিরোধী ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সময় হয়েছিল, তারপরেও সেই ফ্যাসিবাদী প্রশাসন ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ডাকসুকে বরাদ্দ দিয়েছিল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ দিয়েছিল মোট ৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এবারের ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মাত্র দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমার কাছে মনে হয়েছিল এই অপমানজনক বরাদ্দ যদি আমরা গ্রহণ করি, তাহলে তারা যে প্রতারণামূলকভাবে সাহিত্য–সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে একটা ভিক্ষামূলক বরাদ্দ দিয়েছে, সেটিকে বৈধতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আমার দাবি ছিল বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে বাজেট পাশ হতে হবে এবং বিগত ৩৫ বছর (১৯ এর ডাকসু আগের ২৮ বছর এবং পরের ৬ বছর এবং ১৯–সহ মোট ৩৫ বছর) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসু বাবদ যে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, সেই চাঁদার টাকার হিসাব দিতে হবে এবং ১৯ এর ডাকসুকে দেওয়া ১.৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দের অডিট সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আমি বাজেট গ্রহণ করব না, আমাদেরকে যে বরাদ্দ দেওয়া হবে সেটাও গ্রহণ করব না। সেজন্য আমি এই বরাদ্দটি গ্রহণ করিনি। এই বাজেটকে অনুমোদনও করিনি। ডাকসুর ফান্ড থেকে আমি একটি টাকাও উত্তোলন করিনি।’ মুসাদ্দিক লিখেন, দীর্ঘদিন আমরা অপেক্ষা করেছি; আন্দোলন করেছি যে, প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হবে এবং সম্মানজনক বরাদ্দ আমরা পাব, কিন্তু পাইনি। যে কারণে আমাদের প্রতিটা কাজই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ম্যানেজ করে করতে হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আমরা অনেকগুলো প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম, অনেকগুলো পত্রিকা প্রকাশ ও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। ফান্ড ক্রাইসিস এর কারণে সেগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারিনি। যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, যে লেখালেখির আহ্বান করেছিলাম ডিসেম্বর মাসে, সেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বা সেই লেখাটি প্রকাশ করতে আমাদের সেপ্টেম্বর মাস অর্থাৎ ৮ মাস লেগে গেছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার একমাত্র কারণ ছিলো ফান্ড সংকট।তিনি আরও লিখেন, ‘আমি বিভিন্ন ছোট–বড় মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় দেড়শতের মতো একক আয়োজন গত এক বছরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে করেছি। এর মধ্যে প্রকাশনা বের করেছি প্রায় ২৮টির মতো। এর বাইরে অসংখ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সকল আয়োজনে সকলের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে।’ স্ট্যাটাসের নিজের সম্পাদনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ও স্মারক গ্রন্থের তথ্য উল্লেখ করেন মুসাদ্দিক। এর মধ্যে রয়েছে– ১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০১ আভাস ২. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০২ প্রকাশ ৩. সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এর শাহাদাৎ বার্ষিকী– ২০২৫ উপলক্ষ্যে স্মারকগ্রন্থ “তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা থেকে জুলাইয়ের নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধ” ৪. ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা শহিদ ফেলানী ৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস স্মারকগ্রন্থ– ২০২৫ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার ৬. ‘মানুষের এ মিছিলে দিতে পারো যদি গতিবেগ’ কবি ফররুখ আহমদ: পাঠ ও প্রাসঙ্গিকতা ৭. ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত লগি–বৈঠার লাশতন্ত্র থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ৮. ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণে জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৯. ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব: স্মরণে শহিদ আবরার ফাহাদ ১০. অবাঙালি অর্থাৎ চাকমা, মারমা, সাাঁওতাল ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ বহুমাত্রিক ১১. ডাকসু সাহিত্য পত্রিকা, বর্ষ: ২০২৫, সংখ্যা: ০৩ প্রতিভাস ১২. গেস্টরুম–গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান ১৩. শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন বারুদমাখা কথামালা ১৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য গেস্টরুম–গণরুম এর বই এর ব্রেইল ভার্সন। ১৫. ক্যাম্পাসে দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিভে যাওয়া জীবন প্রদীপ স্মারক গ্রন্থ–২০২৫ রক্তের আখরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৬. ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারক–২০২৫ হাতেখড়ি ১৭. নবাব সলিমুল্লাহ স্মারক গ্রন্থ– ২০২৬ ইশারাত মনজিল ১৮. জুলাই বিপ্লব গল্প সংকলন ‘মহাকালের মর্সিয়া’ ১৯. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে লেখা জুলাই– জনতার অভ্যুত্থান ২০. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: শ্রাবণের কান্না ২১. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ধূসর কৃষ্ণচূড়া ২২. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ব্যারিকেডের ওপারে ২৩. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তাক্ত কোটায় কৃষ্ণচূড়া ২৪. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: রক্তে ভেজা জুলাই. ২৫. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লস্করহাট ২৬. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: লাল জুলাইয়ের দিনগুলো ২৭. জুলাই বিপ্লব শীর্ষক উপন্যাসের নাম: ইলিশ ফাইল ২৮. এফ আর হলে হল সংসদের সাথে যৌথভাবে দেয়াল পত্রিকা স্থাপন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসির পুনঃনিরীক্ষণের ফলে ৩ হাজারেও বেশি জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবারের এসএসসির খাতা দেখায় যারা অবহেলা করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী। আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। আপনার শিক্ষকরা আমার সামনে বসে আছেন। এটা কি আপনাদের মনে প্রশ্ন আসে না? হঠাৎ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে গেল। প্রশ্নটা কী আসে? কেন?’ তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমি পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০-তে খাতা পুনঃপরীক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি না করতাম, এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হতো কি না? বঞ্চিত হতো। তাহলে এর প্রমাণ কী? আমাদের খাতা পরীক্ষণের মধ্যে সমস্যা রয়েছে বলেই তো এই ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম? এক্সামিনার ট্রেনিং প্রোগ্রাম আমাকে করাতেই হবে। যে পরীক্ষক খাতাগুলো ঠিকমতো দেখেননি, তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু নম্বর দিয়ে দিয়ে আমি চুপচাপ বসে থাকব, তা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আগের নিয়ম ছিল, ট্যাবুলেশন শিটের যোগফল ঠিক আছে কি না, সেটা দেখা হবে। কিন্তু খাতার ভেতরে পরীক্ষক ঠিকমতো দেখেছেন কি না, আন্ডারমার্কিং বা ওভারমার্কিং করেছেন কি না, তা দেখার সুযোগ ছিল না। এই সুযোগ দেওয়ায় অনেকে অপব্যবহারও করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমাকে অনেক বেশি খাতা দেখতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে ডিফল্ট পরীক্ষকদের মধ্যেই ছিল। আই মাস্ট গো ব্যাক অ্যান্ড ভেরিফাই থিং। আমি খাতাগুলো আলাদা রেখেছি।’ শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিচিং প্রফেশনে আসলেও আমাদের শিক্ষকরা অনেক সময় হাল ছেড়ে যায়। এটা তাদের দোষ নয়। আমাদের প্রয়োজন তাদেরকে গাইড করা, মোটিভেট করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া। আমাদেরকে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে। না আনলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষাবৃত্তি অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু হলো।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে। নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে। তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।” সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।
এআই প্রযুক্তি: কী কাজ হারাবে মানুষ, আর কোন কাজে হবে সহায়ক? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) — একসময় যা ছিল কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিষয়, এখন তা বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, মুখ চিনে ফেলা ক্যামেরা, কিংবা রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যার—সব কিছুতেই এখন এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে: “আমার চাকরি কি এখন নিরাপদ?” সত্যি বলতে, এআই কিছু চাকরি মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছে—তবে একইসঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে। প্রথমেই দেখা যাক, কোন ধরনের কাজ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। সাধারণত, যেসব কাজ বারবার একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি করে—সেগুলোই প্রথমে এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। যেমন: ডাটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং: এই ধরনের কাজ এখন সহজেই সফটওয়্যার দ্বারা করা যাচ্ছে, সময়ও কম লাগে। কাস্টমার সার্ভিস: চ্যাটবট ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইতোমধ্যেই হাজার হাজার কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর কাজকে সীমিত করে ফেলেছে। টেলিমার্কেটিং ও ব্যাসিক অ্যাকাউন্টিং: সহজ হিসাব বা স্ক্রিপ্টভিত্তিক সেলস কলগুলো এখন এআই করতে পারে নিখুঁতভাবে। সার্ভিল্যান্স ও সিকিউরিটি মনিটরিং: স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি মানুষের জায়গায় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ করছে। এই তালিকা দেখে ভয় পাওয়ার কারণ থাকলেও, একে একপেশেভাবে দেখলে ভুল হবে। কারণ এআই প্রযুক্তি অনেক কাজে মানুষের সহায়ক হিসেবেও কাজ করছে, বিশেষ করে যেখানে বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও মানবিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়: এআই এখন ক্যানসার শনাক্তকরণ, হার্ট ডিজিজ বিশ্লেষণ, ওষুধের গবেষণা—এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের সহায়তা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও মানুষের। ডিজাইন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন: গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, এমনকি কবিতা বা গল্প লেখায় এআই সাহায্য করছে—but human touch is still irreplaceable. এডুকেশন ও পার্সোনাল লার্নিং: এআই ভিত্তিক অ্যাপ যেমন Duolingo বা Khan Academy এখন শিক্ষার্থীদের জন্য পার্সোনালাইজড শিখন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট: কোডিং এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে কোড-সহায়ক এআই টুলের কারণে, যা সময় ও শ্রম দুটোই কমায়। তবে এই সবের মাঝেও একটা বিষয় পরিষ্কার—মানবিক গুণাবলি এখনও অপরিহার্য। নেতৃত্ব, সহানুভূতি, জটিল সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল চিন্তা—এই গুণগুলো এখনো কোনো এআই পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতের কাজের দুনিয়া কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে, আজকের নির্ভরযোগ্য কাজও আগামী দিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। তাই করণীয় একটাই—মানুষকেও পরিবর্তিত হতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, নতুন স্কিল শেখা—এই তিনটি দিকেই বেশি জোর দিতে হবে। সবশেষে বললে বলা যায়, এআই শত্রু নয়, বরং এক শক্তিশালী সহচর, যদি আমরা তাকে বুঝে ব্যবহার করতে পারি। কাজ হারানোর ভয় না পেয়ে বরং নতুন কাজের ধরন ও দক্ষতার জন্য প্রস্তুত হওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
“আপনার কি কখনও মনে হয়েছে, আপনার কাজটা একদিন হয়তো AI করে ফেলবে?” একসময় যে কাজগুলো ছিল কেবল মানুষের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, আজ সেগুলো একে একে চলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে। লেখালেখি, ডিজাইন, কাস্টমার সার্ভিস, এমনকি কোডিং পর্যন্ত—সবখানে এখন AI-এর হাতছানি। এই পরিবর্তনের গতি দেখে অনেকেই আতঙ্কিত। কেউ বলছেন, "চাকরি হারাবো", আবার কেউ বলছেন, "AI আমাদের দাস বানাবে!" কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আতঙ্কের পেছনে আসল সত্যটা কী? বস্তুত, AI হচ্ছে একটা দ্বিমুখী বাস্তবতা: একদিকে এটি অনেক কাজ অটোমেট করছে, কম খরচে, বেশি গতিতে। অন্যদিকে, এটি এমন কিছু কাজ তৈরি করছে, যা আগে কখনো ছিল না। ফলে ভয় যেমন আছে, তেমনি সুযোগও অসীম। এই লেখায় আমরা চেষ্টা করবো সেই “ভয়ের কুয়াশা” সরিয়ে দেখে নিতে বাস্তবতা কতটা গাঢ় বা আশাব্যঞ্জক। আপনি জানতে পারবেন— AI ইতিমধ্যে কোন কোন খাতে প্রভাব ফেলছে ভবিষ্যতে কোন পেশা ঝুঁকিতে, আর কোনটা উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন এই প্রযুক্তির ঢেউয়ে টিকে থাকার জন্য চলুন, চোখ রাখি সেই সত্যের দিকে—যেটা আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতার গল্প বলে। ১. AI কোথায় কোথায় কাজ করছে ইতিমধ্যে? এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মানেই ছিল সাই-ফাই সিনেমার রোবট। এখন সেটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়েছে—চুপচাপ, কিন্তু গভীরভাবে। আপনি হয়তো বুঝতেও পারছেন না, দিনে ৫–১০ বার আপনি AI-এর সাথে যোগাযোগ করছেন! চলুন দেখি AI ইতিমধ্যে কোন কোন জায়গায় কাজ করছে— 📝 কনটেন্ট তৈরি চ্যাটজিপিটি (ChatGPT): ব্লগ লেখা, ইমেইল লেখা, এমনকি কবিতা বা স্ক্রিপ্টও লিখে দিচ্ছে Grammarly, Quillbot: লেখার ভুল ধরছে, লেখাকে প্রফেশনাল করছে Jasper.ai, Copy.ai: মার্কেটিং কনটেন্ট তৈরি করছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে 👉 অনেক কনটেন্ট রাইটার এখন AI-কে সহকারী হিসেবে নিচ্ছেন, কেউ কেউ চাকরি হারাচ্ছেনও। 🎨 ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট Canva AI, Midjourney, DALL·E: ব্যানার, পোস্টার, থাম্বনেইল—সবই বানিয়ে দিচ্ছে AI Runway: ভিডিও জেনারেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ, অডিও ক্লিনিং—সেকেন্ডের মধ্যে ব্র্যান্ডিং/ক্যাম্পেইন ডিজাইনেও এখন মানুষ AI-এর সাহায্য নিচ্ছে 👉 ফলে গড়পড়তা ডিজাইনারদের কাজ কমে যাচ্ছে, কিন্তু দক্ষদের জন্য AI শক্তি বাড়াচ্ছে। 💬 কাস্টমার সার্ভিস ও কমিউনিকেশন চ্যাটবট (Like Zendesk, Intercom): কাস্টমার সার্ভিসে মানুষ বসানো লাগছে না ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট (Siri, Alexa, Google): মানুষের ভাষা বুঝে উত্তর দিচ্ছে AI এখন এমনকি কল করে কথা বলছে (Google Duplex!) 👉 কোম্পানি খরচ কমাচ্ছে, অথচ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ঠিক রাখছে। 💻 কোডিং ও ডেভেলপমেন্ট GitHub Copilot: ডেভেলপাররা কোড লেখার সময় AI থেকে সাজেশন পাচ্ছেন Code Interpreter/AI Debuggers: বাগ ধরছে, কোড অপটিমাইজ করছে 👉 জুনিয়র ডেভেলপারদের কাজ অনেকটাই অটোমেটেড হচ্ছে, কিন্তু সিনিয়রদের দক্ষতা আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে। 📊 ডেটা অ্যানালাইসিস ও বিজনেস ইনটেলিজেন্স AI Tools (Tableau AI, Power BI, ChatGPT plugins): বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ করছে, ট্রেন্ড বের করছে পূর্বাভাস, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টেও AI ব্যবহৃত হচ্ছে 👉 যেসব কাজ আগে এক্সেল আর বিশ্লেষকের ওপর নির্ভর করতো, এখন সেখানে AI কাজের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। 🔍 তাহলে প্রশ্ন: AI কি মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে? আসলে AI “চাকরি নিচ্ছে” না, বরং চাকরির ধরন বদলে দিচ্ছে। যারা AI জানে না বা মানিয়ে নিচ্ছে না, তাদের ঝুঁকি বেশি। কিন্তু যারা শিখছে, তারা AI-কে সহকারী বানিয়ে আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে। ২. কোন পেশাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে? প্রযুক্তি এসেছে সুবিধা দিতে, তবে সেটা সবসময় সবার জন্য সুখবর নয়। বিশেষ করে যেসব পেশা পুনরাবৃত্তিমূলক (repetitive), পূর্বনির্ধারিত নিয়মে চলে বা খুব বেশি মানুষের সংবেদনশীলতা দরকার হয় না—সেই কাজগুলো এখন AI ও অটোমেশন দ্বারা প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে। চলুন দেখে নিই কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ও সেক্টর: 🧮 ১. ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস কাজ এই কাজগুলোতে শুধু নিয়ম মেনে তথ্য বসানো হয়—যা AI খুব সহজে করতে পারে। এক্সেল-ভিত্তিক ইনপুট ডকুমেন্ট প্রসেসিং রিপোর্ট তৈরি 👉 কোম্পানিগুলো এখন সফটওয়্যার বা AI টুল দিয়ে এসব কাজ মিনিটেই করে নিচ্ছে। 📞 ২. কাস্টমার সার্ভিস / কল সেন্টার চ্যাটবট ও ভয়েসবট এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। FAQ support প্রোডাক্ট ইনফো বেসিক সমস্যা সমাধান 👉 ফলে মানবিক কল সেন্টার এজেন্টদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ✍️ ৩. সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং AI এখন ব্লগ, ক্যাপশন, প্রোডাক্ট ডিসক্রিপশন লিখে ফেলতে পারে কয়েক সেকেন্ডে। কম্পিটিশন বাড়ছে কনটেন্টের দাম কমছে 👉 যারা কেবল rewriting বা basic writing করতেন, তারা ঝুঁকিতে। তবে যারা স্ট্র্যাটেজি ও ক্রিয়েটিভিটি জানেন, তারা এখনো নিরাপদ। 🔁 ৪. অ্যাকাউন্টিং-এর নির্দিষ্ট কিছু অংশ বেসিক হিসাব, ইনভয়েস, রিপোর্টিং—সবই সফটওয়্যার দিয়ে করা যাচ্ছে QuickBooks, Xero, Zoho Books ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো অটোমেট করছে রেকর্ড কিপিং আর রিপোর্ট জেনারেশনের কাজ কমে যাচ্ছে 👉 তবে কনসালটিং, ট্যাক্স স্ট্র্যাটেজি ও জটিল অডিট এখনো মানুষের ওপর নির্ভরশীল। 🌍 ৫. ট্রান্সলেশন ও সাবটাইটলিং Google Translate, DeepL, বা AI-চালিত সাবটাইটল টুল এখন অনেক বেশি নিখুঁত বহুজাতিক মিডিয়া, ইউটিউবাররা এখন AI দিয়ে সাবটাইটেল বানাচ্ছেন Human translator এর প্রয়োজন কমে যাচ্ছে 👉 তবে সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক অনুবাদে এখনো AI পুরোপুরি দক্ষ নয়। 📌 কেন এই কাজগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? কারণ এগুলোর কাজ খুব স্ট্রাকচার্ড ও পুনরাবৃত্তিমূলক AI এসব কাজ অল্প সময়ে, কম খরচে, ভুল কম করে করতে পারে কোম্পানিগুলো efficiency ও cost-saving-এর জন্য AI বেছে নিচ্ছে 🎯 তাহলে করণীয় কী? এইসব পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলে এখনই নিজেকে রিস্ক থেকে বাঁচানোর সময়— শুধু কাজ না, মূল্য যোগ করা শিখুন Creative thinking, emotion, human judgment যেখানে দরকার—সেই স্কিলে জোর দিন AI-কে প্রতিদ্বন্দ্বী না, সহযোগী বানিয়ে ফেলুন ৩. AI চাকরি নিচ্ছে, কিন্তু তৈরি করছে না? আমরা যখন বলি “AI চাকরি কেড়ে নিচ্ছে”, তখন একটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়—"তাহলে মানুষ কোথায় যাবে?" কিন্তু প্রশ্নটা শুধু চাকরি হারানোর না, বরং এটা জানা দরকার, AI কি নতুন চাকরিও তৈরি করছে না? 📊 বাস্তবতা: কিছু চাকরি যাচ্ছে, অনেক নতুন সুযোগ আসছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে: ২০২৫ সালের মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন চাকরি বিলুপ্ত হবে, তবে ৯৭ মিলিয়ন নতুন ধরনের চাকরি তৈরি হবে। মানে স্পষ্ট—পুরনো কাজ হয়তো কমে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন ধরণের স্কিলভিত্তিক কাজ বাড়ছে। 🌱 AI-ভিত্তিক নতুন পেশা ও রোল 🧠 ১. Prompt Engineer AI-কে কাজ করাতে হলে তাকে ঠিকভাবে প্রশ্ন করতে হয়। 👉 যারা জানে কীভাবে গঠনমূলক, কৌশলী প্রম্পট দিতে হয়—তাদের চাহিদা বাড়ছে। 🛠️ ২. AI Trainer / Evaluator AI যেন ভুল না শেখে, সেটা নিরীক্ষণ করার জন্য দরকার মানুষ। 👉 এই ট্রেইনাররা সিস্টেমকে “মানবিকভাবে” শেখাতে সাহায্য করেন। 🔍 ৩. AI Ethicist / Policy Expert AI যেন পক্ষপাত না করে বা মানুষের ক্ষতি না করে—এ জন্য নীতিমালা দরকার। 👉 এই ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরি। 🧩 ৪. Human-AI Collaboration Specialist মানুষ ও AI একসাথে কাজ করবে—এই সমন্বয় যারা বুঝবেন, তারা অনেক মূল্যবান হয়ে উঠবেন। 👉 বিশেষ করে বড় কোম্পানিতে AI Integration ম্যানেজ করতে। 📈 ৫. Automation Manager / Analyst যেসব কোম্পানি AI বা অটোমেশন চালু করছে, তাদের জন্য দরকার বিশেষজ্ঞ 👉 যিনি বুঝবেন কোন অংশ অটোমেট করা উচিত, আর কোনটা নয়। 📌 উপসংহার: বদলাবে কাজ, থাকবে কাজ AI হয়তো কিছু পুরনো স্কিলের দাম কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু নতুন কাজের বাজার তৈরি করছে অন্যদিকে। ✅ যারা বদলাবে, শিখবে, মানিয়ে নেবে—তারা আগেই থাকবে ❌ যারা ভাবছে “AI তো আমার জায়গা নিচ্ছে”, কিন্তু কিছু করছে না—তারা সত্যিই ঝুঁকিতে ৪. বাংলাদেশে কী হবে? বিশ্বে যখন AI নিয়ে বিপ্লব চলছে, তখন প্রশ্নটা খুব প্রাসঙ্গিক—বাংলাদেশ এর প্রভাবে কতটা বদলাবে, আর আমরা কতটা প্রস্তুত? বাংলাদেশের চাকরির বাজার এখনও মূলত শ্রমনির্ভর, তবে ডিজিটাল রূপান্তরের ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। আর এই সময়েই AI ধীরে ধীরে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবনে—অনেকে টেরও পাচ্ছেন না। 🖥️ 🧾 ১. আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে AI-এর প্রভাব বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটা অংশ কাজ করেন: কনটেন্ট রাইটিং গ্রাফিক ডিজাইন ভিডিও এডিটিং ডেটা এন্ট্রি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এই সব কাজেই এখন AI বিকল্প হয়ে উঠছে। যেমন— Fiverr বা Upwork-এ অনেক ক্লায়েন্ট AI দিয়ে বেসিক কনটেন্ট করাচ্ছেন বেসিক ডিজাইন বা সাবটাইটল বানাতে Midjourney বা Descript ব্যবহার হচ্ছে Virtual Assistant-এর কাজ অনেকটাই এখন Zapier বা AI চ্যাটবট দিয়েই সেরে ফেলা যাচ্ছে 👉 যারা শুধু টাস্ক-ভিত্তিক কাজ করতেন, তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে বা কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। 🎓 ২. শিক্ষার মানসিকতা ও স্কিল-গ্যাপ AI ব্যবহারের জন্য শুধু প্রযুক্তি না, দরকার mindset. কিন্তু এখনও— অনেক শিক্ষার্থী টাইপিং শিখে মনে করছে, “আইটি পারি” কোডিং না শিখেও “ডেভেলপার” দাবি করা হয় বাস্তবভিত্তিক স্কিল শেখার চেয়ে সনদপত্র বেশি গুরুত্ব পায় 👉 এভাবে AI-সহযোগী বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে, যদি না mindset বদলানো যায়। 💡 ৩. AI-র মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সব খবর খারাপ না! বরং যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, বাংলাদেশ অনেকদূর এগোতে পারে। ✅ গ্রামে বসেই একজন তরুণ ChatGPT, Canva AI, এবং freelancing দিয়ে আয় করতে পারেন ✅ AI দিয়ে কাস্টমার সার্ভিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট অটোমেশন করে ছোট ব্যবসাও চালাতে পারেন ✅ SME বা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অল্প খরচে প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে পারেন বাংলাদেশের তরুণদের অনেকেই এখন AI Tools-ভিত্তিক কোর্স, ইউটিউব চ্যানেল, এমনকি স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন—এটাই ভবিষ্যতের পথে আশা জাগায়। ⚠️ তাহলে চ্যালেঞ্জ কী? AI নিয়ে সচেতনতা কম স্কিল গ্যাপ বেশি ইংরেজি দুর্বলতা AI ব্যবহারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণের অভাব 📌 সমাধানের দিক AI ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্কিল শেখাতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে উদ্যোগ বাংলাভাষায় AI শেখার কোর্স, টিউটোরিয়াল তৈরি ফ্রিল্যান্সারদের রিস্ক থেকে বেরিয়ে “AI-Augmented Worker” হওয়ার প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে AI একদিকে সুযোগ, আরেকদিকে হুমকি। যাদের মানসিকতা দ্রুত শিখে মানিয়ে নেওয়ার, তাদের জন্য AI হতে পারে জয় করার অস্ত্র। আর যারা পরিবর্তন মানতে ভয় পান—তাদের জন্য এটা হতে পারে পিছিয়ে পড়ার সাইরেন। ৫. আতঙ্ক নয়, প্রস্তুত হও AI নিয়ে যে ভয়, তা একেবারেই স্বাভাবিক। যখনই বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, মানুষ উদ্বিগ্ন হয়। তবে ভয় আর হতাশায় আটকে থাকলে কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। আসল কথা হলো—আমাদের কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। 🔑 AI কে শত্রু না, বরং সহযোগী মনে করুন AI আসছে মানুষকে বদলাতে নয়, সাহায্য করতে। যারা AI-কে বোঝে, তাকে হাতিয়ার বানায়, তারা আজকের পৃথিবীর শীর্ষে। 🧰 নিজের কাজকে AI-proof করতে করণীয় ১. সৃজনশীলতা (Creativity) যেসব কাজ AI করতে পারে না, যেমন নতুন কিছু ভাবা, নকশা করা, গল্প বলা—সেগুলো শিখুন। নতুন আইডিয়া দিয়ে কাজের মান বাড়ান। ২. সমস্যা সমাধান (Problem Solving) জটিল পরিস্থিতি বোঝা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া AI-এর চেয়ে মানুষের হাতে। এই দক্ষতা উন্নত করুন। ৩. মানবিক স্পর্শ (Human Touch) মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বোঝাপড়া, সহানুভূতি—এগুলো AI এখনো সম্পূর্ণ অনুকরণ করতে পারে না। এই স্কিলগুলো বিকাশ করুন। ৪. সফট স্কিলস ও নেতৃত্ব (Soft Skills & Leadership) টিম ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশন, এবং নেতৃত্বের কাজ AI দিয়ে করা যায় না। এগুলো শিখে নিজেকে আলাদা করুন। 📚 লাইফটাইম লার্নিং—অর্থাৎ সারাজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা শুধু একবার কিছু শেখা নয়, বরং নিয়মিত নিজেকে আপডেট করতে হবে নতুন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, ট্রেন্ড জানতে আগ্রহী থাকতে হবে কোর্স, ওয়েবিনার, টিউটোরিয়াল থেকে শিখতে থাকা এখন জীবনের অপরিহার্য অংশ 🎯 ছোট থেকে শুরু করুন, বড় বদল আসবে প্রতিদিন অল্প একটু AI টুল ব্যবহার করে অভ্যস্ত হোন নিজের কাজের ক্ষেত্রে AI কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেটা খুঁজে বের করুন নতুন স্কিল শেখার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করুন ভয়কে পেছনে ফেলে, সামনের দিকে এগোতেই হবে। AI-কে শত্রু নয়, ক্ষমতাবর্ধক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করুন। সেই শক্তি নিয়ে আপনার ক্যারিয়ার ও জীবনকে উন্নত করুন। ৬. উপসংহার: বদলাও না, থেমে যাও না! আগামী দশক প্রযুক্তিতে আসবে এক দারুণ রূপান্তর—AI, অটোমেশন, 6G, মেটাভার্স সব মিলিয়ে আমাদের জীবন বদলে দেবে। চাকরি যাবে কিছু, আসবে নতুন কাজ; ভয় আসবে, তবে সুযোগও থাকবে অসীম। তবে একটাই সত্যি — পরিবর্তন অবধারিত। যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সফল হবে। যারা ভয় পেয়ে থেমে থাকবে, তারা পিছিয়ে যাবে। তাই আজ থেকেই তৈরি হতে হবে— নতুন দক্ষতা শিখে সচেতনতা ও নৈতিকতা বজায় রেখে AI ও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে আমাদের সামনে এখন এক প্রশ্ন: “আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”
সরকার লবণাক্ত পানি শোধন করে পাইপলাইনে সারা দেশে সরবরাহের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি শহরের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা যাবে। সেখানে ঢাকা শহরে আমরা ৭৪ শতাংশ উত্তোলন করছি। আর উপরিভাগের পানি (সারফেস ওয়াটার) মাত্র ২৪ শতাংশ। এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের আঘাত আনবে। ভূমিকম্প হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যাবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো স্যালাইন ওয়াটারকে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সরবরাহের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘সমুদ্রের উপরিভাগ বা নদী গিয়ে যেখানে মিলিত হয়েছে, চাঁদপুর ও মোংলায় দুটি পয়েন্টে বড় ধরনের প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন,’ বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্প দুটির ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হয়েছে এবং এডিবি এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ‘গ্যাস বা বিদ্যুৎ যে রকম জাতীয় গ্রিড থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আমরা এই পানি দেশের প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবো। গ্যাস যদি দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে পানিও সারা দেশে (সরবরাহ করা) অসম্ভব কিছুই হবে না,’ সরকারের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। শাহে আলম জানান, ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ৩ কোটি ২৫ লাখ লিটার। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগ মিলিয়ে ওয়াসা সরবরাহ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫ লাখ লিটার পর্যন্ত। প্রতিদিনই আমাদের কিছু ঘাটতি থেকে যায়। তিনি জানান, এই ঘাটতি পূরণ এবং ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে গন্ধর্বপুর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিগগির (নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার) প্রকল্পটি চালু হবে। এটি চালু হলে মেঘনা থেকে প্রতিদিন ঢাকায় আমরা ৫০ কোটি লিটার পানি পাব। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সায়েদাবাদ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প। আমরা শোধনাগার নির্মাণ করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে মেঘনা থেকে ৯৫ কোটি লিটার পানি নিয়ে আসব। এই ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করব। শেষ পর্যায়ের কাজে ডেনমার্ক সরকার বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ। মাত্র দেড় থেকে ২ শতাংশ সুদ হারে কাজ শেষ হওয়ার পরবর্তী ২০ বছরে শোধ করতে হবে। ‘ফলে সরকারের ওপর খুব একটা চাপ হবে না। আমরা এটা গ্রহণ করেছি এবং আমরা উনাদের সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছি।’ এর বাইরেও ডেনমার্ক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, ওয়াটার সাপ্লাই ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাহায্য করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।’ ‘আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করেন। বিশেষ করে সরাসরি ওয়েস্ট টু এনার্জিতে বিনিয়োগ করতে বলেছি। উনারা বলেছেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখবেন যে তারা কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারেন।’
চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মাঠে গড়ানো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টটি আরও গোছানোভাবে আয়োজন করতে চান তিনি। দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিপিএল নিয়ে তামিম বলেন, ‘এ বছর নাও হতে পারে বিপিএল। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আরও ভালো বলতে পারবেন।’ বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বিপিএলটা গুছিয়ে করা। যেখানে খেলা নিয়ে আলোচনা হবে, হার-জিত নিয়ে কথা হবে। টাকাপয়সা নিয়ে নেতিবাচক খবর হোক, সেটা চাই না। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হলেও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট। ইমেজ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ বছর বিপিএল না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘আমরা এ বছর করতে না পারলেও ২০২৭ সালে ভালোভাবে করতে পারব। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে।’ এছাড়া ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আমরা আসার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে। তৃতীয় বিভাগ হয়েছে। নতুন মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিভাগে দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি, সেই খেলোয়াড়দের আর্থিক অনুদান দেওয়ার একটি ব্যাপার আছে। আলোচনা করে সেটাও সমাধান করে ফেলবো।’
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।
ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখন বাংলাদেশকে আর কেবল দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কে নয়, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়ার।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পর্বের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইইউ রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অংশীদারিত্ব থাকলেও এখন আর সেই পুরোনো সম্পর্কে আটকে থাকা সম্ভব নয়। ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ করেনি—এমন কোনো দেশের সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়া এটাই প্রথম। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ সামাল দিতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই সংস্কার কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। তিনি দেশটির ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মাহাথির মোহাম্মদের দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রয়াণে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমা বা স্টেট দুমার নির্বাচনে ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫০ আসনে বিজয়ী হয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ ফলাফল থেকে জানা গেছে এ তথ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন দুমার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছে রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে রাশিয়ার মোট ভোটারের ৫৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এবং শতকরা হিসেবে মোট গণণাকৃত ভোটের ৫৮ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে শুরু, তারপর টানা ২৫ বছর ধরে স্টেট দুমা শাসন করছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। প্রতি ৫ বছর পর পর দুমার নির্বাচন হয়। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনের আগে গত ২৫ বছরে আরও ৪টি নির্বাচন হয়েছিল এবং প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে পুতিনের রাজনৈতিক দল; কিন্তু এত বড় বিজয় বা এত বেশি ভোটপ্রাপ্তি এবারই প্রথম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার মস্কো প্রতিনিধি দিমিত্রি মেদভেদেঙ্কো বলেছেন, “এই ফলাফল এবং প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারের বিপুল অংশগ্রহণকে মস্কো সম্ভবত তাদের কর্মকাণ্ডের—বিশেষ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের প্রতি জনসমর্থন হিসেবে এবং নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখবে।” এর আগে দুমার সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালে; আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। সেই হিসেবে এই প্রথম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় এই প্রথম দুমার নর্বাচন হলো। রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন এল্লা পামফিলোভা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির পর দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্টেট দুমার ৪০ আসনে জয়ী হয়েছে এ দলের প্রার্থীরা। এছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি আসন এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসনে জয় পেয়েছে।
এবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর একাধিক বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন–এমন খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ভারত। সেইসঙ্গে সামাজিকমাধ্যম ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট–চেকিং ইউনিট সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখে, ‘ফেক অ্যালার্ট’। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ক্ষতিকর পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এরআগে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিক্স সম্মেলনের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে তাকে চীনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চীন সরকারিভাবে কিছু জানা যায়নি এবং এই দাবির সত্যতাও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসা । ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফেরার পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকেদের পরামর্শে তিনি বিশ্রামে আছেন। এই সময়ে কোনো জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন না। এই সময়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তবে ভারত সফরকালেই নাকি দেশে ফেরার পরে তিনি অসুস্থ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস সম্মেলন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত সব রাজ্যে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতাসীনদের এই উদ্যোগ ভারতে বসবাসকারী বিশাল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতে বসবাসকারী ১৪০ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইন এক হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সর্বজনীন আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। ভারতের অন্তত চারটি রাজ্য ইতোমধ্যেই এই নতুন আইন চালু করেছে। রোববার (ভারতের) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি এবং আমি আশাবাদী, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যের সবকটিতেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।’ একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের এই পদক্ষেপ বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এই আইনের সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করবে, সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের সমানাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক করে মুসলিম নারীদের অধিকার সমপর্যায়ে নিয়ে আসবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে দেশটিতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠী
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোটের নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা যাবে না। খবর এনডিটিভির। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে গৃহীত ১৪০ দফার ঘোষণাপত্রের ৪০তম দফায় পেহেলগাম হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছেন তারা। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। পেহেলগামের বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর চালানো ওই হামলা ভারতের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক ঘোড়ার গাড়িচালক ছিলেন। ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সব কর্মকাণ্ডই অপরাধমূলক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল বা কারা তা সংঘটিত করেছে, তা বিবেচনা না করেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। ঘোষণাপত্রে কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে দ্বৈত মানদণ্ড প্রত্যাখ্যান এবং জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘোষণাপত্রে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রবাদ ও মৌলবাদী চিন্তার বিস্তার ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর আগেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ব্রিকস। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেও হামলাটির নিন্দা জানানো হয় এবং সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এরপর চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানানো হয়।