ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখন বাংলাদেশকে আর কেবল দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কে নয়, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়ার।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পর্বের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইইউ রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অংশীদারিত্ব থাকলেও এখন আর সেই পুরোনো সম্পর্কে আটকে থাকা সম্ভব নয়। ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ করেনি—এমন কোনো দেশের সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়া এটাই প্রথম। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ সামাল দিতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই সংস্কার কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। তিনি দেশটির ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মাহাথির মোহাম্মদের দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রয়াণে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমা বা স্টেট দুমার নির্বাচনে ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫০ আসনে বিজয়ী হয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ ফলাফল থেকে জানা গেছে এ তথ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন দুমার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছে রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে রাশিয়ার মোট ভোটারের ৫৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এবং শতকরা হিসেবে মোট গণণাকৃত ভোটের ৫৮ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে শুরু, তারপর টানা ২৫ বছর ধরে স্টেট দুমা শাসন করছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। প্রতি ৫ বছর পর পর দুমার নির্বাচন হয়। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনের আগে গত ২৫ বছরে আরও ৪টি নির্বাচন হয়েছিল এবং প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে পুতিনের রাজনৈতিক দল; কিন্তু এত বড় বিজয় বা এত বেশি ভোটপ্রাপ্তি এবারই প্রথম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার মস্কো প্রতিনিধি দিমিত্রি মেদভেদেঙ্কো বলেছেন, “এই ফলাফল এবং প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারের বিপুল অংশগ্রহণকে মস্কো সম্ভবত তাদের কর্মকাণ্ডের—বিশেষ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের প্রতি জনসমর্থন হিসেবে এবং নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখবে।” এর আগে দুমার সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালে; আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। সেই হিসেবে এই প্রথম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় এই প্রথম দুমার নর্বাচন হলো। রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন এল্লা পামফিলোভা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির পর দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্টেট দুমার ৪০ আসনে জয়ী হয়েছে এ দলের প্রার্থীরা। এছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি আসন এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসনে জয় পেয়েছে।
এবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর একাধিক বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন–এমন খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ভারত। সেইসঙ্গে সামাজিকমাধ্যম ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট–চেকিং ইউনিট সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখে, ‘ফেক অ্যালার্ট’। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ক্ষতিকর পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এরআগে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিক্স সম্মেলনের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে তাকে চীনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চীন সরকারিভাবে কিছু জানা যায়নি এবং এই দাবির সত্যতাও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসা । ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফেরার পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকেদের পরামর্শে তিনি বিশ্রামে আছেন। এই সময়ে কোনো জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন না। এই সময়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তবে ভারত সফরকালেই নাকি দেশে ফেরার পরে তিনি অসুস্থ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস সম্মেলন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত সব রাজ্যে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতাসীনদের এই উদ্যোগ ভারতে বসবাসকারী বিশাল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতে বসবাসকারী ১৪০ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইন এক হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সর্বজনীন আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। ভারতের অন্তত চারটি রাজ্য ইতোমধ্যেই এই নতুন আইন চালু করেছে। রোববার (ভারতের) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি এবং আমি আশাবাদী, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যের সবকটিতেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।’ একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের এই পদক্ষেপ বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এই আইনের সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করবে, সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের সমানাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক করে মুসলিম নারীদের অধিকার সমপর্যায়ে নিয়ে আসবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে দেশটিতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠী
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোটের নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা যাবে না। খবর এনডিটিভির। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে গৃহীত ১৪০ দফার ঘোষণাপত্রের ৪০তম দফায় পেহেলগাম হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছেন তারা। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। পেহেলগামের বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর চালানো ওই হামলা ভারতের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক ঘোড়ার গাড়িচালক ছিলেন। ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সব কর্মকাণ্ডই অপরাধমূলক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল বা কারা তা সংঘটিত করেছে, তা বিবেচনা না করেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। ঘোষণাপত্রে কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে দ্বৈত মানদণ্ড প্রত্যাখ্যান এবং জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘোষণাপত্রে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রবাদ ও মৌলবাদী চিন্তার বিস্তার ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর আগেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ব্রিকস। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেও হামলাটির নিন্দা জানানো হয় এবং সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এরপর চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানানো হয়।
বাংলাদেশ থেকে কোনো ইসলামিক বক্তাকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুভেন্দু বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আসতেন। তবে বিজেপি সরকারের আমলে তাদের আর পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ থেকে দুই বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে আসা এক ধর্মীয় বক্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, ওই বক্তা জনসংখ্যা বাড়িয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দু’বছর আগে বসিরহাটে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা এক হুজুর বলছেন—আমেরিকার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, আমরা জনবিস্ফোরণ করে পারমাণবিক অস্ত্রকেও ধ্বংস করে দিতে পারি। তিনি এখানে এসে জনবিস্ফোরণ ও ডেমোগ্রাফি (জনবিন্যাস) বদলে দেওয়ার কথা বলছেন।’ শুভেন্দুর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ‘আধ্যাত্মিক জাগরণের’ প্রয়োজন রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই সময় তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। পরে সেটি ২ ডলারের নিচেও নেমে আসতে পারে। তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পর নাগরিকদের এ আশ্বাস দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রে মালিক হতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে, হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে নৌপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল করেছে মাত্র ৭৭টি। কাতার জানিয়েছে, এই সংকট অব্যাহত থাকলে বিশ্ব একটি শিল্প বিপর্যয়ের সম্মুখিন হবে। তাই প্রণালীটি খুলে দেয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কাতার। হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকায় হামলার হুমকি দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। চুক্তিতে আরও দেশ যুক্ত হলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাড়তে পারে সামরিক সহযোগিতা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার হামলা কিংবা ড্রোনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়লে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে। বাড়তে পারে কূটনৈতিক প্রভাব অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে চুক্তিটির কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়বে। আঞ্চলিক সংঘাত, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলো সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথ অবস্থান তৈরি হলে এটি সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পেও সম্ভাবনা চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া এবং কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এখনই ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলো বাস্তবে কতটা সামরিক সমন্বয় গড়ে তুলতে পারে এবং কোনো সদস্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে অন্যরা কী ধরনের সহযোগিতা করে তার ওপর। এ ছাড়া নতুন কোনো দেশের যোগদানের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে চুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তেমনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে এর সদস্যপদ কতটা বিস্তৃত হয় এবং দেশগুলো বাস্তবে কতটা সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে তার ওপর।
ইমাম-উলামা পরিষদের আপত্তির পর কিশোরগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত একটি কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আলিশান রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে জনপ্রিয় ব্যান্ড এ্যাশেজ ও সংগীতশিল্পী নোবেল গান পরিবেশন করার কথা ছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের কারণে কনসার্টটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। আয়োজকরা জানান, গত ১৭ আগস্ট কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পরে ১৮ আগস্ট কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদ। আবেদনে গান-বাজনার আয়োজনকে শরিয়তবিরোধী উল্লেখ করে অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। ইমাম-উলামা পরিষদের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ বলেন, তাদের আবেদনের পর জেলা প্রশাসন কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে। অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠান আলিশান রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, রেস্টুরেন্টের র্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে কনসার্টটির আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে বুধবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান না করার কথা জানানো হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই বলেও জানান তিনি। তবে আয়োজকদের দাবি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেই তারা অনুমতি নিয়েছিলেন। এদিকে, শেষ মুহূর্তে কনসার্টের অনুমতি বাতিল হওয়ায় স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি, সংগীত ও বিনোদনের চর্চারও প্রয়োজন রয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। সোমবার (১৭ আগস্ট) কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে এক অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা দেন। দুই দেশের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সম্মানসূচক জেনারেল করার দীর্ঘদিনের রীতির অংশ হিসেবে তাকে এ পদমর্যাদা দেয়া হলো। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে রয়েছেন জেনারেল শেঠ। ১৯৫০ সালে এই প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে ভারত ও নেপাল একে অপরের সেনাপ্রধানকে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে আসছে। সফরে জেনারেল শেঠ নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল সিগদেলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। নেপালের প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার নেপালে পৌঁছান জেনারেল শেঠ। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাপ্রধানের নেপাল সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতীয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর সামগ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে দূতাবাস জানিয়েছে। এদিকে সোমবার জেনারেল শেঠ নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জামও হস্তান্তর করেন। নেপাল সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি সেনা সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন। নেপালের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘জেনারেল ধীরাজ শেঠের এই সফর নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ জেনারেল শেঠের এই সফরে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান, সামরিক বৈঠক, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তরের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারত ও নেপালের চলমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি মারা যান। এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি ও বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে আনা এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনাক্তকরণ শেষে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও খরচে সৎকার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিহত ১৬ জনের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়া হবে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকার বলছে, এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। উল্লেখ্য, গত রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম অনানুষ্ঠানিক গোপন ভোট। 'স্ট্র পোল' নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বসংস্থার সর্বোচ্চ পদের লড়াইয়ে থাকা সাতজন প্রার্থীর প্রতি সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের মাত্রা পরখ করা হবে। টানা পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদে ১০ বছর দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। পর্তুগালের নাগরিক গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হতে মূলত লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর প্রার্থীরা দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, সেনেগাল এবং উগান্ডার মনোনীত প্রার্থীরা এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা এই অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রাক-বাছাই হিসেবে তিন ধরনের মতামত দিতে পারবেন—‘সমর্থন করি’, ‘সমর্থন করি না’ এবং ‘কোনো মতামত নেই’। সাধারণত একাধিক দফায় এই গোপন ভোটাভুটি পরিচালনা করা হয়, যা সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুর দিকে চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। তবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে অথবা একক ঐকমত্যে পৌঁছাতে দেরি হলে এই প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর তীব্রতা যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে। সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। এই যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে, এবং সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়। ভারতের কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, ঠিক তেমনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলাম গ্রহণ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল। এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী। বিশেষ করে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। ২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি। নেট বা নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক। ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)। তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে–কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন। অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র। অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন। কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি। ২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ! এর মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়–ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ–সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি
এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিহত সেনাসদস্যদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বলেছে দলটি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ হতাহতের তথ্য নিয়ে দেশটির সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। মোদি সরকারের দাবি, একবছর আগের ওই সংঘাতে ভারতের ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন সদস্য রয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সেনাসদস্যবিষয়ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য অভিযোগ করেন, নিহত ছয় সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার তাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে। উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য দাবি করেন, আগের সরকারগুলো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিটি সেনাসদস্যকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তারা বারবার দেশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’ কর্নেল রোহিত চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভোটের সময় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে বলেছিলেন, কোনও সেনাসদস্য নিহত হননি। তখন বিজেপির সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়েছিলেন। রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের অপমান করেছেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’ একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিহত সেনাসদস্যদের নাম প্রকাশ করতে সরকারের ১৩ মাস সময় লাগল কেন। কংগ্রেসের দাবি তুলে ধরে কর্নেল রোহিত চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ (ব্রিচ অব প্রিভিলেজ) আনার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত চলাকালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি প্রকাশ করে ভারত। এর আগে ওই সংঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হতাহতের খবর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও, অপারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পারমাণবিক ও শান্তি চুক্তি রোববার সই হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই চুক্তিকে মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা। তারা ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই চুক্তি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ এক্সে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন যুদ্ধ শেষ। আমি আশা করি তিনি সঠিক। কিন্তু আমরা এর আগেও অনেক ভঙ্গ হওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এমন কথা শুনেছি।’ তিনি বলেন, ‘তিনি নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু ব্যয় কমাতে পারেননি। আর এর ফলে আমেরিকার জনগণ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ‘মূলত একটি আত্মসমর্পণের দলিল’ বলে অভিহিত করেছেন। এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোল্টন বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ চুক্তি! এটি মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, ১৪ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন, আর আমরা এমন একটি চুক্তি পাচ্ছি, যা শুধু সেই প্রণালীটি আবার খুলে দিচ্ছে, যা ট্রাম্প এই অহেতুক যুদ্ধ শুরু করার আগেই খোলা ছিল। এতে জয়ের কী আছে?’
এবার আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইসরাইলের সঙ্গে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দেশটির প্রভাবশালী নীতি–নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মোহসেন রেজায়ি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ এবং লেনদেন চলছে। তবে আমিরাতের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে—তারা যেন কোনোভাবেই ইসরাইলের কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ–রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আমিরাতকে সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এনে জাতিসংঘ একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীজুড়ে গড় তাপমাত্রা পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই বৈশ্বিক উষ্ণতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২4 সালের জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম মাস, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংকেত মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের ভয় নয়, এটি বর্তমানের বাস্তব দুর্যোগ।” রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা ও এর পরিণতি WMO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রধান সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আগেই অস্বাভাবিক দাবদাহ শুরু হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, স্পেনে জলসংকট এবং চীনের নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়া—এইসব ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের সরাসরি উদাহরণ। এ ছাড়া গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা, এবং খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশে। জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাপমাত্রার এই রেকর্ডব্রেকিং ধারা অব্যাহত থাকলে লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও পৃথিবীর বড় অর্থনীতিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জলবায়ু সংকটের সময়েও কয়লা পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চলতে পারে না। সময় এসেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাহসিকতার সঙ্গে।” এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নে গতি কম। চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল শক্তিগুলোও উন্নয়ন চাহিদার দোহাই দিয়ে নিঃসরণ কমাতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ পরিবেশবান্ধব নীতিমালায় সরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, “এই লড়াই শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।” পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুলাই মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয়, তবে সেটি হবে মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই সংকেতকে নেতারা কতটা গুরুত্ব দেন, আর মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকে এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছে ইউক্রেন। পশ্চিমা সমর্থিত ইউক্রেনীয় প্রশাসন এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিয়েভ এবং মস্কোর মধ্যকার আলোচনার বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না হলেও, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে—প্রস্তাবিত চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, নিরাপদ সীমান্ত নির্ধারণ, যুদ্ধবন্দি বিনিময় এবং পূর্ব ইউক্রেনের ভবিষ্যত রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একটি টেকসই শান্তির পথ খুঁজছি, তবে তা হবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড অক্ষুন্ন রাখার ভিত্তিতে।” রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছে এবং একে "গঠনমূলক প্রক্রিয়া" বলে উল্লেখ করেছে। তবে তারা পশ্চিমা সামরিক প্রভাব থেকে ইউক্রেনকে মুক্ত রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা এখনো সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সতর্ক করেছে যাতে তারা চাপে পড়ে কোনও অসম চুক্তিতে না যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা চাই ইউক্রেন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিক, তবে মনে রাখতে হবে—শান্তি চুক্তি যেন যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ না দেয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া বর্তমানে কৌশলগতভাবে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে থাকলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের কিছু সাফল্যও রয়েছে। বিশেষ করে দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনী আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের দাবিকে শক্তিশালী করতে পারে। এদিকে, ইউক্রেনের জনগণের মধ্যেও এই আলোচনাকে ঘিরে মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধক্লান্তি থেকে মুক্তির পথ এটি, অন্যদিকে অনেকে বলছে—এটি মূলত রাশিয়ার পক্ষে আত্মসমর্পণের আরেক নাম। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো ও চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হতে পারে, যার আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা এবং দেশান্তরিত জনগণকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—ক্রাইমিয়া ও ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ। রাশিয়া ক্রাইমিয়াকে ইতোমধ্যেই তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে ইউক্রেন কোনোভাবেই এই অঞ্চলগুলোর উপর রুশ আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। মস্কোভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক আন্দ্রেই লুকাশেঙ্কো বলেন, “যদি উভয় পক্ষই বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণ করে, তবে একটি সীমিত পরিসরের চুক্তি সম্ভব হতে পারে, তবে এর জন্য উভয়পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে।” তবে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট—এই আলোচনা যতই অগ্রসর হোক না কেন, এটি পুরোপুরি সফল হতে হলে পশ্চিমা শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন অপরিহার্য। কারণ ইউক্রেনের সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বড় উৎসই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায় আগ্রহের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহেই হয়তো জানা যাবে—দীর্ঘ যুদ্ধের পর প্রকৃত শান্তির পথে কতটা এগোতে পারল ইউক্রেন ও রাশিয়া।
দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS Theodore Roosevelt এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি বিতর্কিত এই অঞ্চলে প্রবেশ করে টহল মিশনে অংশ নেয়। পেন্টাগনের দাবি, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে চীন এই পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে এবং তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা ‘প্রত্যুত্তর’ দিতে প্রস্তুত। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও ২০১৬ সালের হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই দাবি খারিজ হয়েছে। আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজেরাই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল আকারের যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে উভয় দেশের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন। এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকার কাছাকাছিও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেটি চীন এবং ফিলিপাইন উভয় দেশের দাবির কেন্দ্রবিন্দু। এই যৌথ মহড়া চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে এককভাবে নয় বরং মিত্রদের নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই চার দেশকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীন এই মহড়াকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিজের ভূখণ্ড ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ আমাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।” বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বর্তমানে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ইস্যু হিসেবে দেখলেও চীন বিষয়টিকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লি ঝাও বলেন, “দুই পক্ষের সেনাবাহিনী যখন এত ঘন ঘন এবং এত কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম চালায়, তখন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষ ভুলক্রমেও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলটাই অস্থির হয়ে উঠতে পারে।” বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই উত্তেজনা শুধুই সামরিক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে গোপনে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করেছে—যদিও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি অব্যাহত এবং সূক্ষ্ম পদক্ষেপ। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণের পরও টেবিলে কূটনৈতিক বিকল্প রেখেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক জবাববৎ কিছু সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ নিয়েছে । মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, "আলোচনাগুলো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, সরাসরি ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে" এবং তিনি এগুলোকে “promising” হিসেবে বর্ণনা করেন । এদিকে রিপোর্টগুলো অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সমন্বিত প্রস্তাব দিতে পারে: ২০–৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, নিষিদ্ধ নয়-সমৃদ্ধি পারমাণবিক উদ্যোগে এবং জমানো তহবিল মুক্ত করার সম্ভাবনা সহ । তবে ইরানের পক্ষ থেকে তেমন আগ্রহ প্রকাশ না করেই তারা জানাচ্ছে, “সংঘাত চলাকালীন কোনো অর্থবোধক আলোচনা হয়নি” এবং ইরান কোনো আলাপ-আলোচনায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নয়—এ পর্যন্ত পরোক্ষ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে । এই পরিস্থিতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের যৌক্তিকতা হলো—এটি একটি "হেডফেক" বা প্রকাশ্য হুমকির ছায়ায় গোপন দ Diplomacy, যা ইরানের উত্তেজনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে তাকে পুনরায় টেবিলে আনাতে চায় । বেশ কিছু অনুসন্ধানমূলক মিডিয়া যেমন CNN ও NBC বলছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মুক্তি এবং ফোর্ডো কেন্দ্রটি একটি বেসামরিক পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পুনর্গঠন উপস্থাপন করা হয়েছে । উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মিডিয়া প্রকাশনাগুলোতে সহজ-সরল বৈঠক নয়, বরং একটি স্ট্র্যাটেজিক কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যেখানে সামরিক হামলা ও কূটনৈতিক আমন্ত্রণ একই ছত্রছায়ায় অনুদিত হচ্ছে । এই প্রসঙ্গে সামুদ্রিক মধ্যপ্রাচ্যীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ যেমন ওমান ও কাতার নির্দ্বিধায় ভূমিকায় রয়েছে, যাতে তারা গোপন পর্যায়ে যোগাযোগ সহজতর করতে পারে । এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পুনরায় আলোচনায় ফেরাতে চায়। যদিও সামনের দুর্গম পদক্ষেপগুলো নির্ভর করছে ইরানের উত্তর ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনার দিকে নজর দিয়ে — আর তা জোরালো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।