রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান । . সোমবার দুপুরে তিনি এতথ্য জানান। এর আগে মামলা করার আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার মধ্যরাতে রাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা। আহতদের মধ্যে আছেন— দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম। প্রথমে আহত চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। হামলার প্রতিবাদে ওই রাতেই জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সাংবাদিকেরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর রাত ১০টার পর ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হলে রাত সোয়া একটার দিকে সাংবাদিকেরা কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানান তারা। এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদে শহীদ জিয়াউর হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন। সাংবাদিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব আছে, তাদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন, এমন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও আছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে—তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় আগামীকাল (আজ সোমবার) হল প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা করা হবে। অন্য দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য, হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। এদিকে এ হামলার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ’ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলমকে রাখা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
" জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের (জেএসপিএস-ইউজিসি বাই-লেটারাল জয়েন্ট রিসার্চ প্রজেক্ট) প্রজেক্ট মেম্বার ও জেএসপিএসের গবেষণা ফেলো হিসেবে গবেষণার কাজে জাপান যাচ্ছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম। ৫ অক্টোবর ২০২৬ গবেষণাসংক্রান্ত কাজে জাপানের তোহোকু ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে রাতে চায়না সাউদার্ণ এয়ারলাইন্সে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। জাপানে অবস্থানকালে তাঁর গবেষণার যাবতীয় ব্যয় জাপান সরকার বহন করবে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড.এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম “Reduction of arsenic contamination from rice fields through engineered biochar application: A fundamental understanding of metallomics at the soil-biochar interface.” শিরোনামে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ গবেষণা প্রকল্পের একজন অন্যতম গবেষক ও ফেলো। উক্ত গবেষণা প্রকল্পের গবেষক টিমের জাপান সাইডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তোহুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান এর অধ্যাপক ড. তোময়ুকি মাকিনো এবং বাংলাদেশ সাইডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম। প্রকল্পের অন্য গবেষকরা হলেন পবিপ্রবির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, বিএআরআই এর প্লানিং ডাইরেক্টর ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের এবং উক্ত প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আছেন পবিপ্রবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম মিয়া যিনি বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। উল্লেখ্য অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলাম একজন বিশিষ্ট পেডোলজিস্ট ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশের চলন বিলের মাটির শ্রেণীবিভাগ নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পবিপ্রবির উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত সফরের জন্য তিনি সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির উদ্যোগে কৃষক ও কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান,কৃষি বনায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন,"আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত যে, আজ আপনাদের মতো কঠোর ও পরিশ্রমী মানুষের মাঝে উপস্থিত হতে পেরেছি। আপনারা দিন ও রাত পরিশ্রম করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চার দেয়ালের মাঝে শিক্ষা দেবার জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো তার গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে পবিপ্রবি'র এই অঞ্চলের কৃষক দের প্রতি একটি গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অধিকার রয়েছে। এই এলাকার কৃষক দের উন্নয়ন মানেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকতা।আপনাদের যে কোন কৃষিভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে এবং কাজ করে যাবে। আমরা যে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করলাম এটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপনারা আপনাদের কাজ করার ক্ষেত্রে কি কি সমস্যা ফেস করেন আমাদের বললে আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি দিন দিন চ্যালেন্জিং হয়ে উঠেছে। এ চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আপনাদের পাশে দাঁড়াতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা আপনাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি। এ ওয়ান স্টপ সার্ভিসে এসে আপনারা এক জায়গাতেই কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে সরাসরি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান পেয়ে যাবেন। উক্ত কৃষক প্রশিক্ষণে এলাকার ৫০ জন কৃষক কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। পরে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতরা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জন বাকি আছেন। তারা আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন। যারা পাবেন না, তাদের নিয়ে আমরা কাজ করব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র। সে সময় দেখা গেছে, তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টেছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও যেসব প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের দাবি, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি। এদিকে ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ প্ল্যাটফর্মও দাবি করেছে, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে আছে। বাদ পড়ার সুস্পষ্ট কারণ জনসম্মুখে প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জেলা ভিত্তিক উত্তীর্ণদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইডিয়াল কলেজ ও ঢাকা কলেজের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডিয়াল কলেজের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় সাইন্সল্যাবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা কলেজে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ মিছিল নিয়ে থেকে সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আইয়ুব বলেন, সাইন্সল্যাবে ঢাকা কলেজ আর আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে একটু উত্তেজনা ছিল। সেটা যাতে না হয়, এজন্য পুলিশ সাইন্সল্যাবে অবস্থান করছে। কোনো অঘটন যাতে না ঘটে এজন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, উভয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে আছে। বাইরে থেকে কোনো ধরনের কেউ কাউকে ঢিল বা পাথর নিক্ষেপ না মারতে পারে, সেজন্য আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছি। সাইন্সল্যাবে ৬০ জনের মতো পুলিশ আছে। নিউমার্কেট, কলাবাগান এবং ধানমন্ডি তিন থানা থেকে আলাদা আলাদা স্থানে পুলিশ অবস্থান করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে ২০ বছর। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি ক্যাফেটেরিয়া। এর আসনসংখ্যা মাত্র ৬০। বেশ কিছু আসন আবার ভাঙাচোরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ খাবারের দাম ও মান নিয়েও। নিম্নমানের খাবার অথচ দাম বেশি—এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ফলে কম খরচে খাবারের জন্য ক্যাফেটেরিয়ার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি আসন ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাফেটেরিয়ায় আসন রয়েছে মাত্র ৬০টি। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একটি আসন। এর মধ্যে কিছু চেয়ার-টেবিল নষ্ট থাকায় ব্যবহারযোগ্য আসন সংখ্যা আরো কম। দুপুরের ব্যস্ত সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। টোকেন নেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেউ দাঁড়িয়ে খাবার খান আবার কেউ খাবার নিয়ে ক্যাম্পাসের অন্য কোনো ফাঁকা জায়গায় চলে যান। শিক্ষার্থীদের মতে, ক্লাসের ফাঁকে দ্রুত খাবার শেষ করে পরের ক্লাসে যেতে হয়। কিন্তু বসার জায়গা না থাকায় খাবার হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে খাবার খাওয়ার সময়টুকুও অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাবারে পোকামাকড় ও তেলাপোকা ক্যাফেটেরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে খাবারে পোকামাকড় ও তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময় খাবারের মধ্যে এ ধরনের পোকামাকড় পাওয়া গেছে। এতে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি রান্নার পুরো প্রক্রিয়ায়ই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। মান নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ক্যাফেটেরিয়ায় তেহারি ৪০ টাকা, ভাতের সঙ্গে এক পিস মুরগি অথবা ছোট মাছ ও পাতলা ডাল ৪০ টাকা, খিচুড়ি ও ছোট ডিম ৪০ টাকা, ছোট পরোটা পাঁচ টাকা এবং ছোট শিঙাড়া চার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কম দাম হলেও খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীদের অনেকে। তাদের ভাষ্য, স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তবে কম দামের অজুহাতে খাবারের মান, পরিমাণ ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত সীমিত কয়েক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। ফলে প্রতিদিন একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাদের প্রত্যাশা, স্বল্পমূল্যের মধ্যে কয়েক ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না ও খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। রান্নার স্থান, খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের জায়গায় যথাযথ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তাদের মতে, খাবারে পোকামাকড় বা তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে রান্নাঘরের পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রান্নাঘরসহ পুরো ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থী সাইমা মিমের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কেউ কেউ নিয়মিত বিনামূল্যে বা ‘ফাও’ খাবার খান। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, টোকেন বিক্রি, খাবারের আয়-ব্যয় এবং বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ হিসাব রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত হিসাব প্রকাশ ও তদারকি থাকলে এ ধরনের অভিযোগের সুযোগ কমবে বলে তারা মনে করেন। ভর্তুকির দাবি জকসুর এদিকে, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকির দাবি তুলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। গত ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন লাখ টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়ে লিখিত আবেদন করে জকসু। সেখানে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যে ভর্তুকির পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতভাগ টোকেন ব্যবস্থা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সেবার মান উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে ভর্তুকির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা বিনামূল্যে খাবার চান না। নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার চান। পাশাপাশি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান রাখা, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, খাবারের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং বসার ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও মূল্য পর্যবেক্ষণে একটি মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কেএএম রিফাত হাসান বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার মান ও সেবার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এ আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা—সদ্য অপসারিত অধ্যাপক ড. সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিও পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক ছাত্রীও অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অধ্যাপক ড. সায়েমকে স্বপদে ফেরানোর দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর তারা একজন অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য পেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মেধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের শিল্পায়ন, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়।আজকের এই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের পুনরুদ্ধার করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে। আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। তাই আবারও তোমাদেরকে বলব, তোমরা নিজেরা ভেবে দেখো, তোমাদের ভবিষ্যৎ কে করবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে রয়েছে। নেপোলিয়নের মতো হাতের রেখা কেটে বলতে হবে, আমার ভাগ্য রয়েছে। আমি আমার নিজের ভাগ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিন্তু তোমরা সকলেই স্বাধীন। বাবা-মা কেউ কাছে নেই এবং তারা তোমাদের কোনো রকম বাধা-বিপত্তি দিচ্ছেন না। তোমরা তোমাদের মতো লেখাপড়া করছো, তোমরা তোমাদের মতো বেরিয়েছো, তোমরা তোমাদের নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব, বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন, এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদের আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কোন পথে তোমরা যাবে? তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। ভেবো না, তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে। কী হতে চাও? কী করতে চাও? কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে? সেই সময়টা আজ, এখনই।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে নবীন বরণ নয়। আজকে সারা জীবনকে কীভাবে তুমি বরণ করবে? আগামী জীবন তুমি কীভাবে চলবে? আগামী বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেই প্রতিজ্ঞা করার সময় আজকে।’ কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে চীনের মডেল দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেরি রিসেন্টলি ১৮০ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে যদি কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়, আমি কিছু মডেল দেখতে চাই। তিনি জানতে চাইলেন, কোনটা দেখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম, চীনেরটা দেখতে চাচ্ছি। ইউরোপ-আমেরিকা আমার খানিকটা জানা রয়েছে। আমি চায়না মডেল জানতে চাইলাম।’ তিনি বলেন, ‘তিনি বললেন, বেশ, ঘুরে আসেন। আমি চলে গেলাম চীনে চার দিনের সফরে। দেখে আসলাম, তারা তাদের টিভেট সেক্টর, অর্থাৎ কারিগরি সেক্টর, কীভাবে গড়ে তুলছে। অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।’ চীনের শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা বলার অবকাশ রাখে না। যখন তারা লেখাপড়া শিখছে, একই সময়ে কে কোন বিষয়ে পারদর্শী হবে, কে কোথায় কর্মসংস্থানে যাবে, কে কোথায় ইনোভেটর হবে, সেটিও নির্ধারিত
দেশের প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এম.ফিল-পিএইচ.ডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক ফোরাম। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান ফোরামের সভাপতি ড. মোহা. আহমাদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ তোফায়েল উদ্দিন। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধারক হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা প্রদান করে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬২৮টি, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৩টি, সরকারি কলেজ ৬৩৭টি এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৭টি। অথচ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা মাত্র তিনটি। এরকম চরম বাস্তবতা ও পাহাড়সম বৈষম্য নিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান গৌরব করার মতো। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও টেকসই করতে মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। এতে আরও বলা হয়, তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এক সাথে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব না হলে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত। তাতে বৈষম্য কিছুটা হলেও কমবে। জাতীয় স্বার্থে ও মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন ফোরামের নেতারা।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামী বছর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’ ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু–কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪–এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু–কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী–পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন–অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত। মন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা–দর্শনের মূলকথা হলো–মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক
সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’—এসএসএসডিডব্লিউ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া। মহড়ায় ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে টহল, চোরাচালানিদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রমেও ড্রোনের ব্যবহার তুলে ধরা হয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে ম্যাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে প্রদর্শন করা হয় আকর্ষণীয় ‘ড্রোন ফ্লাই-পাস্ট’। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। নতুন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সীমান্ত নজরদারি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস থেকে সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। একাধিকবার তার কাছে হিসেব চাইলে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান দেই দিচ্ছি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ২০২৫ সালে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন মাদ্রাসাটির সহকারী গ্রন্থাগারিক খালিদ বিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী আব্দুল আজিজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি অডিট ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝিয়ে দিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান তদন্ত কমিটির কাছে একমাস সময় চেয়ে নেন। এরপর একমাস পেরিয়ে বছর হলেও তিনি অডিট কমিটির কাছে হিসেব বুঝিয়ে দিতে পারেন নি। পরে মাদ্রাসার সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝে পাওয়ার আগে কোন কাগজে সাক্ষর করবে না বলে জানান। এরপর গত ২০ আগষ্ট অগ্রণী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার ০২০০০০১৪০০৯২৯ সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। টাকা তোলার পর ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নান ওই টাকা নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করে আত্মসাৎ করেন। প্রথমে সাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা উত্তলনের প্রমাণ দেখানে তিনি টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে থানায় ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এডহক কমিটির সভাপতি। এমন ঘটনার পর মাদ্রসা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক টিউলিজ রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাঝে মধ্যেই তিনি বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। বেতন আমাদের একাউন্টে ঢুকছে না কেনো,এমন প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন সভাপতি সাক্ষর দিচ্ছে না তাই বেতন পাচ্ছি না। গত মাসে আমাদের বেতন উত্তলন করে নিজের একাউন্টে রেখে দিছে। পরে শুনতে পারি সভাপতির সাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সুপার টাকা উত্তলন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আমাদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে। তিনি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আমাদের সাথে যেই কাজ করেছে আমরা এই সুপারের বিচার দাবি করছি।
পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা:)২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ২৪ আগষ্ট দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সিরাতুন্নবী উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর এম. জহুরুল হক এর সভাপতিত্বে ও ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এবিএম সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)।তিনি কেবল একটি ধর্মের প্রচারক ছিলেন না,বরং তিনি ছিলেন একজন আদর্শ সমাজ সংস্কারক,সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক। অন্ধকার ও বর্বরতার যুগে অবতীর্ণ হয়ে তিনি এক আলোকোজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।তরুন সমাজ যদি তার প্রদর্শিত পথ ও নৈতিকতা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে তবে একটি সুন্দর, সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠন করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, মাদক, ইভটিজিং, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবন আমাদের শেখায় কিভাবে ভালবাসা,ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা দিয়ে সমাজকে বদলে দেয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কেবল তও্বীয় তার জীবনী না পড়ে বাস্তবজীবনে তাঁর প্রতিটি গুণ যেমন নম্রতা,পরোপকার, সদাচার ও দেশপ্রেমের অনুশীলন করা। তবেই একটি মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব। পরে বিশ্ববিদ্যালয়,সৃজণি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের হামদ,নাত,কেরাত,আজান,উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় ফিশারিজ অনুষদের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। উক্ত রেলিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.মো: সাজেদুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম,ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের সংস্কৃতি,অর্থনীতি এবং পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস্য হলো মৎস্য সম্পদ।আমরা যুগের পর যুগ ধরে নদীকে কেবল শাসন করতে চলেছি।বাঁধ দিয়ে,নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে কিংবা পরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরী করে নদীকে খাঁচায় বন্দী করার চেষ্টা করছি। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেএগুলো ধ্বংস হয়েছে, নদীর নাব্যতা কমেছে এবং এতে করে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। তিন বলেন, শুধুমাএ নদীকে শাসন করলেই হবে না,মাছের চাহিদা পূরনে নদীকে লালন করতে হবে। এর অর্থ হলো নদীকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া, নদীর যত্ন নেওয়া,নদীতে দুষনমুক্ত রাখা এবং মাছের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যগুলোকে রক্ষা করা। মাছ যখন নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার পরিবেশ পাবে, তখনই আমাদের নদীগুলো আবার মাছে মাছে ভরে উঠবে।তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের গবেষণা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও টেকসই মৎস্য চাষের মডেল উদ্ভাবন করেছেন যা সরাসরি আমাদের জেলে ও চাষীদের মৎস্য উতপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলকমল লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষা র্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মসজিদে আসা মুসল্লিরা। সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এসিগুলো। মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি ব্যবস্থার দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তাগাদার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে এসি ব্যবস্থা চালু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে জোহরের নামাজ আদায় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে ভালো লাগল। সেখানে মসজিদের নতুন এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করলাম। মুসল্লিদের মুখে স্পষ্টতই আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ দেখলাম।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর অবশেষে মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।’ অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে। এর উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ড. ফাওজুল কবির খান তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় ওই দাতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পরবর্তী কয়েক মাস ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সাবেক উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এসি ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মসজিদের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে মসজিদের এসি সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, একটা লম্বা সময় যুদ্ধের পর মসজিদে এসি চালু হলো। মসজিদের পুরো কাজটা করতে যে কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে এসির লাইন পেতে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি, নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস—সব জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরেছি।’ ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রেখেছে।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। আবু সাদিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দিয়েছে দলীয় প্রভাবশালী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোও সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।
নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। ডা. জুবাইদা বলেন, নারীদের সমতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এছাড়া, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিএনপি সরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করে সমতা ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন ড. জুবাইদা রহমান। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা করছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি জুলাইকে জনগণের যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে অনেক চিকিৎসক শপথ ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হওয়া চিকিৎসকদের শনাক্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং প্রতিটি শহীদের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায়।
আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুরের বিলায়েত খান উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, বিগত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এক মানসিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিমুখ করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে হতাশায় পড়ে অনেকে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ছোবলে জড়িয়ে পড়ে। কারণ ফ্যাসিবাদী শাসক চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা যেন মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিবাদ করতে না শেখে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে ফের টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা এখন সংস্কৃতি পেরিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে সারা দেশের খেলার মাঠেও পৌঁছে গেছে। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা থেকে বিরত থেকে ক্লাসেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে তিনি এবি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। কর্মী সভায় লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ পাপ্পু এবং গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দেশের একটি উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত রোববার (২৬ জুলাই) জারি করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ার দক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগে সক্ষমতা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর ফল আশানুরূপ না হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও শিক্ষার্থীদের শিখনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে কেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, রতনগঞ্জ, ভবানীপুর, রূপপুর, ঢালারচর, খাস আমিনপুর, গোপিন্দা, ধর্মগঞ্জ, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া ও বেড়া সান্যালপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে টানা দুই থেকে তিন মাসও পরিদর্শন করা হয়নি। এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। এতে মূল্যায়নের প্রকৃত চিত্র বিকৃত হচ্ছে এবং এফএলএন কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি নিরূপণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, শুধু শিক্ষকদের শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গোপিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পর্যাপ্ত পড়াশোনার সুযোগ পায় না। তবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষকদের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে পরীক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তাদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। শুধু রাজধানী নয়, শাহবাগ, মিরপুর এবং সায়েন্সল্যাবেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে এসব স্থানে কর্মসূচি শুরুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সম্প্রতি ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসুক। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।’ ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য সব ধরনের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বা ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নির্ধারণ করা হবে। এর আওতায় ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলা পাঠ এবং বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোচিং বাণিজ্যের কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোচিং বাণিজ্য চাই না। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এ রূপান্তর করা সম্ভব হলে আলাদা আইটি ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি স্থাপনে উদ্যোগ নিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সভায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোকে জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো যাবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও করের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যুৎ বিল মওকুফের বিষয়ে তিনি বলেন, সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে খাতা-কলম বিতরণ এবং ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা চালুর কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষকদের জন্য ‘মাইক্রো ট্রেনিং’ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ‘কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, দাবি ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।