বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন আর সনদ জালিয়াতি নিয়ে যেন অনিয়মের এক রাজত্ব গড়ে উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে। এ রাজত্বের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার, জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভেঙে পদ বাগানো ও বেইলি রোডের ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিতর্কিত ভবন গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকার পরও তিনি রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীর গুরু দায়িত্বে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি অধিদপ্তরে শক্ত এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে চালানো হয় বদলির খেলা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লটারির মাধ্যমে বদলির নিয়ম করা হলেও বাক্সে আগে থেকেই পছন্দের প্রার্থীর নাম রাখা এবং স্বজনপ্রীতি ও কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ আনা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ঠেকানোর নামেও ফান্ড সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এক প্রকল্পের একাধিক প্যাকেজ দেখিয়ে বাড়তি বিল উত্তোলন এবং নানা বিতর্কিত কাণ্ডের পাশাপাশি সাজানো মামলায় সহকর্মীদের ফাঁসানো ও অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েও পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপরাধের পাহাড় আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য বলছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলিতে প্রশ্ন ওঠে সেই স্বচ্ছতা নিয়েই। বিশেষ করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ কেন্দ্র করে প্রকৌশলীরা তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীরা, যারা লটারির মাধ্যমে বদলি চান না। আরেকটি গ্রুপে আছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীরা, যাদের স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য সৃষ্টি করে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় গ্রুপটিতে রয়েছেন সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীরা, যে গ্রুপের সবাইকে বদলি করা হয়েছে ঢাকার বাইরে। বিশেষ করে যেসব প্রকৌশলী মাত্র কয়েক মাস আগে বদলি হয়েছেন ও দীর্ঘদিন পর ঢাকায় যোগদান করেছিলেন, কয়েক মাসের মাথায় তাদের আবার ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
৫ আগস্টের পর বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলীর পদ, গড়েন সিন্ডিকেট: জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব নেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এরপরই নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, টেন্ডার কমিশন আদায় ও ভাগবাটোয়ারা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ আনতে ফান্ড সংগ্রহ ও ঘুষ আদান-প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, ঢাকা সার্কেল-১ থেকে সদ্য বদলিকৃত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান এবং ঢাকা সার্কেল-২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী।
তথ্য বলছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলি শেষেই নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি হওয়ার কথা এবং প্রধান প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলি করতে পারবেন। কিন্তু সেই ক্ষমতাবলে নির্বাহী প্রকৌশলীদের তিনি বদলি করতে চাচ্ছেন না, যা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এ ছাড়া অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এক প্রকল্পের একাধিক প্যাকেজ দেখিয়ে কাজের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা বিল উত্তোলন, কাজ না করে বিল প্রদান, বিতর্কিত নারীঘটিত ঘটনা, ব্ল্যাক মেইল, দলীয় কারণ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রধান প্রকৌশলী; বরং এসব ঘটনার কারণে যারা সাময়িক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তাদের বহালে নানা কৌশল করেছেন তিনি।
বদলির লটারিতে স্বজনপ্রীতি-বৈষম্য: বদলির লটারিতে বৈষম্যের শিকার প্রকৌশলীরা বলছেন, লটারির বদলির কার্যক্রম শুরুর আগেই পরিচিত ও তদবির করা অনেকের নাম রাখা হয় ঢাকার বাক্সে। স্বজনপ্রীতিতে নিজ জেলায় স্বপদে রাখতেও করা হয় আর্থিক লেনদেন। এ ছাড়া আরও সাতজনকে কোনো লটারির আওতায় আনা হয়নি, যাদের মধ্যে তিনজন সিভিল ও চারজন ই/এম বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, আবু তাহের মোহাম্মদ খাইরুল বাশারকে রংপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উপবিভাগে; গোলাম রাব্বিকে লালমনিরহাট থেকে রক্ষণাবেক্ষণ উপবিভাগ ও ছাইফুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জ থেকে হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি করা হয়েছে। এ এস এম সাখওয়াত ইসলাম ও রেজাউল করিম মিঠু ফের ঢাকায় পদায়ন পান। এ এস এম সাখওয়াত ইসলাম এর আগে রাজারবাগ গণপূর্ত উপবিভাগ-১, গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগ, শেরে-বাংলা উপবিভাগে ছিলেন; কিন্তু তাকে মিরপুর উপবিভাগে বদলি করা হয়েছে, অথচ তার বাড়ি বগুড়া। ফরিদপুরের রেজাউল করিম মিঠু মতিঝিল গণপূর্ত উপবিভাগ, শেরে-বাংলা উপবিভাগ-৩, মহাখালী উপবিভাগ, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৭ হয়ে পদায়ন পেয়েছেন ঢাকা সম্পদ উপবিভাগে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জয় চৌধুরীর নাম চট্টগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে উঠলেও নিজ জেলার অজুহাত দিয়ে তাকে লটারি পরিবর্তন করে অন্যত্র বদলি করা হয়। অথচ ঢাকা নিজ জেলা হওয়া সত্ত্বেও মো. মেহবুবুর রহমান ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে যথাক্রমে পিলখানা গণপূর্ত উপবিভাগ ও রমনা গণপূর্ত উপবিভাগ-৩-এ পদায়ন করা হয়। এর আগে মেহবুবুর রহমান ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রকৌশলী বরকত মজুমদার ও শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকের নিজ জেলা ঢাকা বিভাগে হওয়া সত্ত্বেও তাদের যথাক্রমে চুয়াডাঙ্গা ও চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসাইনের নাম একই সঙ্গে লটারিতে ফরিদপুর ও নরসিংদী জেলায় ওঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর জেলায় পদায়ন করে বদলি আদেশ জারি করা হয়। চাকরি জীবনে কখনোই ঢাকার বাইরে চাকরি করেননি প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সাদ। উত্তরা উপবিভাগ, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৩, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ (হাইকোর্ট) থেকে তেজগাঁও উপবিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। মো. মামুনুর রশিদের নিজ জেলা রংপুর হলেও তিনি পাঁচ বছরের অধিককাল সময় সাভার গণপূর্ত উপবিভাগে কর্মরত ছিলেন। মাঝে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হলেও বছর না ঘুরতেই তিনি গাজীপুর উপবিভাগে পদায়ন পান। লটারিতে অনিয়মের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবার ঢাকার উপবিভাগ পদায়ন হয় তার। নেত্রকোনার ইজাজ আহমেদ খানের লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগে তাকে ঢাকার বাক্সে স্থানান্তর করা হয় এবং শেরেবাংলা নগর উপবিভাগ-৯ থেকে ধানমন্ডিতে পদায়ন পান।
এ বিষয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বদলির নানা অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন কিছু প্রকৌশলী। লটারি স্বচ্ছ না হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগও আনা হয় স্মারকলিপিতে।
এ প্রকৌশলীদের অভিযোগ, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলির ক্ষেত্রে নিজ জেলা বাদ দিয়ে নিজ নিজ প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে লটারির মাধ্যমে পদায়নের কথা। কোনো বিভাগে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি হলে অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে অপেক্ষাকৃত কম কর্মকর্তা থাকা বিভাগে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে ঢাকায় পোস্টিং এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘অতিরিক্ত কর্মকর্তা’ দেখিয়ে লটারিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট প্রকৌশলীদের নাম ঢাকা জেলার বাক্সে ঢোকানো হয়। পরে ওই বাক্স থেকে তাদের নাম উঠিয়ে পোস্টিং দেওয়া হয় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে। অভিযোগকারী এক প্রকৌশলীর ভাষ্য, পছন্দের পোস্টিং পাইয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিভাগের জন্য দুটি লটারির বাক্স রাখা হয় ‘ঢাকা জেলা’ ও ‘ঢাকা বিভাগ’ নামে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ঢাকা জেলার বাক্সে শুধু ঢাকা জেলার বা সংশ্লিষ্ট যোগ্য কর্মকর্তাদের থাকার কথা হলেও সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম কীভাবে এলো। লটারির আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিভিলের ঢাকা জেলার বাক্সে ৪১ জনের নাম যুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
বদলি বা পদায়নের বিপরীতে অর্থ লেনদেন: তথ্য বলছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬৫ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের সুযোগ করে দিতে ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক দিনেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এত বড় পরিসরে বদলি-পদায়নের আগে মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীকে বদলির সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়াগত নিয়ম যথাযথ অনুসরণ করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে তলব করে গণপূর্তমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান বলে জানা গেছে।
তবে প্রধান প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে আগের গণবদলির অধিকাংশই বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। এরপরও ছোট পরিসরে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে।
ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার: নথি বলছে, ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি দোষ স্বীকার করলেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর (যাকে তিনি ফুফু ডাকতেন) প্রভাবে নামমাত্র শাস্তি দেন তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। লঘুদণ্ড বদলে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি বন্ধের সাজা দেওয়া হয়। এর তিন বছরের মধ্যে খালেকুজ্জামান হন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং তার পর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে বনে যান তিনি। এর মধ্য দিয়ে এক বছরে দুটি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। পরে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। তবে ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বনে যান জামায়াতের বিশ্বস্ত সদস্য। সাবেক গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের হাত ধরে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে জামায়াতপন্থি হিসেবে পুরস্কার পান প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব। এ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এবং স্থবিরতা দেখা দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজে।
মন্ত্রণালয়ের নথি বলছে, জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে মো. খালেকুজ্জামান নিজের নাম দেন। বাকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের প্রতিযোগী ভেবে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাজানো মামলার তথ্য জমা দেওয়া হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের গ্রামে এসব মামলার নথি পাঠানো হয়, যাতে মামলার বিষয়টি সামনে আসে। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে খালেকুজ্জামান প্রায় ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। এর মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে আসেন। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভাগীয় মামলা হলেও সাজেদা চৌধুরীর লিখিত সুপারিশে তিন বছরের মধ্যেই শাস্তির বদলে একই বছরে পান দুই দফায় পদোন্নতি।
সাজানো মামলায় সহকর্মীদের ফাঁসানোর অভিযোগ: পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিযোগী মনে করে তালিকা থেকে সিনিয়রদের স্থায়ীভাবে বাদ দিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামির তালিকায় কৌশলে ৪৭ প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয় এবং মামলার নথি এসএসবি কমিটিতে জমা দেওয়া হয়। গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নামে তালিকা। অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের (ঢাকা জোন) ও উৎফল কুমার দের থাকলেও তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিজের নাম তালিকার ১ নম্বরে দেন। মো. শহিদুল আলম (স্বাস্থ্য উইং) এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার (প্রেষণে মহাপরিচালক, এইচআরআই) নামও তালিকায় দেওয়া হয়।
গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদনে সম্পৃক্ততা: রাজধানীর বেইলি রোডে ২০২৪ সালের শুরুতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় গ্রিন কোজি কটেজ। সাততলার এ বাণিজ্যিক ভবনে ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিল ৪৬ জন; দগ্ধ ও আহত হয় আরও ১৩ জন। প্রাণহানির ঘটনা পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে ভবনটি নকশার অনুমোদন নিয়ে। পরবর্তীকালে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে ২০১১ সালে এ ভবনের নকশার অনুমোদন দিয়েছিলেন রাজউকের তৎকালীন অথরাইজড অফিসার মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীসহ কয়েকজন। কিন্তু ওই রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বছর না পেরোতেই ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নেন সেই খালেকুজ্জামান।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, গ্রিন কোজি কটেজে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করতেন, তবে ভবনটিতে কোনো জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ভবনে চলাচলের সিঁড়িও ছিল না। জরুরি নির্গমন পথ থাকলে বা সিঁড়িটা প্রশস্ত হলে এত প্রাণহানি হতো না। অভিযোগ আছে, তদন্ত প্রতিবেদনে যেন তাকে জড়ানো না হয়, এজন্য বিভিন্নভাবে তদবির করেন তিনি। যদিও অথরাইজড অফিসার হিসেবে এ ভবনের অনুমোদনের পুরো দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
কোনো অনিয়ম হয়নি, দাবি খালেকুজ্জামানের: নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিষয়টি মন্ত্রণালয় জানে। নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারিতে বদলি করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ত অধিদপ্তরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্বাহী প্রকৌশলীরা। লটারি নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলি হবে। অন্য সিনিয়র প্রকৌশলীদের প্রতিযোগী ভেবে ছাত্র হত্যা মামলার নথি মন্ত্রণালয় পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমার কোনো প্রতিযোগী নেই।
যা বলছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করা হবে না, এ কথা বলার দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়নি।
প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে যারা রয়েছেন, তাদের প্রতিযোগী ভেবে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া ছাত্র হত্যা মামলার নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগে। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন লেখালেখি হচ্ছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। খালেকুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়েছেন গত বছর। তালিকা অনুযায়ী তিনি তিন নম্বরে আছেন। তার সিনিয়র রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন্য গ্রেড-ওয়ান হওয়ার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার জন্য এসএসবিতে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী যিনি থাকবেন, তাকেই বানানো হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন আর সনদ জালিয়াতি নিয়ে যেন অনিয়মের এক রাজত্ব গড়ে উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে। এ রাজত্বের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার, জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভেঙে পদ বাগানো ও বেইলি রোডের ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিতর্কিত ভবন গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকার পরও তিনি রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীর গুরু দায়িত্বে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি অধিদপ্তরে শক্ত এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে চালানো হয় বদলির খেলা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লটারির মাধ্যমে বদলির নিয়ম করা হলেও বাক্সে আগে থেকেই পছন্দের প্রার্থীর নাম রাখা এবং স্বজনপ্রীতি ও কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ আনা ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ঠেকানোর নামেও ফান্ড সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এক প্রকল্পের একাধিক প্যাকেজ দেখিয়ে বাড়তি বিল উত্তোলন এবং নানা বিতর্কিত কাণ্ডের পাশাপাশি সাজানো মামলায় সহকর্মীদের ফাঁসানো ও অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়েও পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপরাধের পাহাড় আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তথ্য বলছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলিতে প্রশ্ন ওঠে সেই স্বচ্ছতা নিয়েই। বিশেষ করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ কেন্দ্র করে প্রকৌশলীরা তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি গ্রুপে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীরা, যারা লটারির মাধ্যমে বদলি চান না। আরেকটি গ্রুপে আছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীরা, যাদের স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য সৃষ্টি করে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় গ্রুপটিতে রয়েছেন সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীরা, যে গ্রুপের সবাইকে বদলি করা হয়েছে ঢাকার বাইরে। বিশেষ করে যেসব প্রকৌশলী মাত্র কয়েক মাস আগে বদলি হয়েছেন ও দীর্ঘদিন পর ঢাকায় যোগদান করেছিলেন, কয়েক মাসের মাথায় তাদের আবার ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ৫ আগস্টের পর বাগিয়ে নেন প্রধান প্রকৌশলীর পদ, গড়েন সিন্ডিকেট: জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব নেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এরপরই নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, টেন্ডার কমিশন আদায় ও ভাগবাটোয়ারা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ আনতে ফান্ড সংগ্রহ ও ঘুষ আদান-প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, ঢাকা সার্কেল-১ থেকে সদ্য বদলিকৃত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান এবং ঢাকা সার্কেল-২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী। তথ্য বলছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলি শেষেই নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি হওয়ার কথা এবং প্রধান প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলি করতে পারবেন। কিন্তু সেই ক্ষমতাবলে নির্বাহী প্রকৌশলীদের তিনি বদলি করতে চাচ্ছেন না, যা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এ ছাড়া অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এক প্রকল্পের একাধিক প্যাকেজ দেখিয়ে কাজের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা বিল উত্তোলন, কাজ না করে বিল প্রদান, বিতর্কিত নারীঘটিত ঘটনা, ব্ল্যাক মেইল, দলীয় কারণ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না প্রধান প্রকৌশলী; বরং এসব ঘটনার কারণে যারা সাময়িক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তাদের বহালে নানা কৌশল করেছেন তিনি। বদলির লটারিতে স্বজনপ্রীতি-বৈষম্য: বদলির লটারিতে বৈষম্যের শিকার প্রকৌশলীরা বলছেন, লটারির বদলির কার্যক্রম শুরুর আগেই পরিচিত ও তদবির করা অনেকের নাম রাখা হয় ঢাকার বাক্সে। স্বজনপ্রীতিতে নিজ জেলায় স্বপদে রাখতেও করা হয় আর্থিক লেনদেন। এ ছাড়া আরও সাতজনকে কোনো লটারির আওতায় আনা হয়নি, যাদের মধ্যে তিনজন সিভিল ও চারজন ই/এম বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, আবু তাহের মোহাম্মদ খাইরুল বাশারকে রংপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উপবিভাগে; গোলাম রাব্বিকে লালমনিরহাট থেকে রক্ষণাবেক্ষণ উপবিভাগ ও ছাইফুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জ থেকে হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি করা হয়েছে। এ এস এম সাখওয়াত ইসলাম ও রেজাউল করিম মিঠু ফের ঢাকায় পদায়ন পান। এ এস এম সাখওয়াত ইসলাম এর আগে রাজারবাগ গণপূর্ত উপবিভাগ-১, গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপবিভাগ, শেরে-বাংলা উপবিভাগে ছিলেন; কিন্তু তাকে মিরপুর উপবিভাগে বদলি করা হয়েছে, অথচ তার বাড়ি বগুড়া। ফরিদপুরের রেজাউল করিম মিঠু মতিঝিল গণপূর্ত উপবিভাগ, শেরে-বাংলা উপবিভাগ-৩, মহাখালী উপবিভাগ, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৭ হয়ে পদায়ন পেয়েছেন ঢাকা সম্পদ উপবিভাগে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জয় চৌধুরীর নাম চট্টগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে উঠলেও নিজ জেলার অজুহাত দিয়ে তাকে লটারি পরিবর্তন করে অন্যত্র বদলি করা হয়। অথচ ঢাকা নিজ জেলা হওয়া সত্ত্বেও মো. মেহবুবুর রহমান ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে যথাক্রমে পিলখানা গণপূর্ত উপবিভাগ ও রমনা গণপূর্ত উপবিভাগ-৩-এ পদায়ন করা হয়। এর আগে মেহবুবুর রহমান ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রকৌশলী বরকত মজুমদার ও শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকের নিজ জেলা ঢাকা বিভাগে হওয়া সত্ত্বেও তাদের যথাক্রমে চুয়াডাঙ্গা ও চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসাইনের নাম একই সঙ্গে লটারিতে ফরিদপুর ও নরসিংদী জেলায় ওঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর জেলায় পদায়ন করে বদলি আদেশ জারি করা হয়। চাকরি জীবনে কখনোই ঢাকার বাইরে চাকরি করেননি প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান সাদ। উত্তরা উপবিভাগ, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৩, ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ (হাইকোর্ট) থেকে তেজগাঁও উপবিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। মো. মামুনুর রশিদের নিজ জেলা রংপুর হলেও তিনি পাঁচ বছরের অধিককাল সময় সাভার গণপূর্ত উপবিভাগে কর্মরত ছিলেন। মাঝে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হলেও বছর না ঘুরতেই তিনি গাজীপুর উপবিভাগে পদায়ন পান। লটারিতে অনিয়মের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবার ঢাকার উপবিভাগ পদায়ন হয় তার। নেত্রকোনার ইজাজ আহমেদ খানের লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগে তাকে ঢাকার বাক্সে স্থানান্তর করা হয় এবং শেরেবাংলা নগর উপবিভাগ-৯ থেকে ধানমন্ডিতে পদায়ন পান। এ বিষয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বদলির নানা অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন কিছু প্রকৌশলী। লটারি স্বচ্ছ না হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগও আনা হয় স্মারকলিপিতে। এ প্রকৌশলীদের অভিযোগ, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলির ক্ষেত্রে নিজ জেলা বাদ দিয়ে নিজ নিজ প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে লটারির মাধ্যমে পদায়নের কথা। কোনো বিভাগে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি হলে অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে অপেক্ষাকৃত কম কর্মকর্তা থাকা বিভাগে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে ঢাকায় পোস্টিং এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘অতিরিক্ত কর্মকর্তা’ দেখিয়ে লটারিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট প্রকৌশলীদের নাম ঢাকা জেলার বাক্সে ঢোকানো হয়। পরে ওই বাক্স থেকে তাদের নাম উঠিয়ে পোস্টিং দেওয়া হয় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে। অভিযোগকারী এক প্রকৌশলীর ভাষ্য, পছন্দের পোস্টিং পাইয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিভাগের জন্য দুটি লটারির বাক্স রাখা হয় ‘ঢাকা জেলা’ ও ‘ঢাকা বিভাগ’ নামে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ঢাকা জেলার বাক্সে শুধু ঢাকা জেলার বা সংশ্লিষ্ট যোগ্য কর্মকর্তাদের থাকার কথা হলেও সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম কীভাবে এলো। লটারির আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিভিলের ঢাকা জেলার বাক্সে ৪১ জনের নাম যুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। বদলি বা পদায়নের বিপরীতে অর্থ লেনদেন: তথ্য বলছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬৫ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের সুযোগ করে দিতে ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ পৃথক কয়েকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক দিনেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এত বড় পরিসরে বদলি-পদায়নের আগে মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীকে বদলির সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়াগত নিয়ম যথাযথ অনুসরণ করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে তলব করে গণপূর্তমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান বলে জানা গেছে। তবে প্রধান প্রকৌশলীর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৫ ও ৮ মার্চ পৃথক আদেশে আগের গণবদলির অধিকাংশই বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। এরপরও ছোট পরিসরে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুয়া পিএইচডি সনদ ব্যবহার: নথি বলছে, ভুয়া পিএইচডি সনদ দেখিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ছুটিতে প্রেষণ ভোগের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে জালিয়াতি ও অসদাচরণের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি দোষ স্বীকার করলেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর (যাকে তিনি ফুফু ডাকতেন) প্রভাবে নামমাত্র শাস্তি দেন তৎকালীন গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। লঘুদণ্ড বদলে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি বন্ধের সাজা দেওয়া হয়। এর তিন বছরের মধ্যে খালেকুজ্জামান হন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং তার পর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে বনে যান তিনি। এর মধ্য দিয়ে এক বছরে দুটি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। পরে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। তবে ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বনে যান জামায়াতের বিশ্বস্ত সদস্য। সাবেক গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের হাত ধরে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে জামায়াতপন্থি হিসেবে পুরস্কার পান প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব। এ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এবং স্থবিরতা দেখা দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজে। মন্ত্রণালয়ের নথি বলছে, জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে মো. খালেকুজ্জামান নিজের নাম দেন। বাকি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের প্রতিযোগী ভেবে তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাজানো মামলার তথ্য জমা দেওয়া হয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি)। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের গ্রামে এসব মামলার নথি পাঠানো হয়, যাতে মামলার বিষয়টি সামনে আসে। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির সুযোগে খালেকুজ্জামান প্রায় ১১ বছর অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। এর মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হলেই দেশে ফিরে আসেন। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভাগীয় মামলা হলেও সাজেদা চৌধুরীর লিখিত সুপারিশে তিন বছরের মধ্যেই শাস্তির বদলে একই বছরে পান দুই দফায় পদোন্নতি। সাজানো মামলায় সহকর্মীদের ফাঁসানোর অভিযোগ: পদোন্নতির সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিযোগী মনে করে তালিকা থেকে সিনিয়রদের স্থায়ীভাবে বাদ দিতে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রামপুরা থানার একটি মামলার আসামির তালিকায় কৌশলে ৪৭ প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয় এবং মামলার নথি এসএসবি কমিটিতে জমা দেওয়া হয়। গত ৬ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় পাঁচজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নামে তালিকা। অধিদপ্তরের দাপ্তরিক জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের (ঢাকা জোন) ও উৎফল কুমার দের থাকলেও তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান চৌধুরী নিজের নাম তালিকার ১ নম্বরে দেন। মো. শহিদুল আলম (স্বাস্থ্য উইং) এবং ড. মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন হায়দার (প্রেষণে মহাপরিচালক, এইচআরআই) নামও তালিকায় দেওয়া হয়। গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদনে সম্পৃক্ততা: রাজধানীর বেইলি রোডে ২০২৪ সালের শুরুতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় গ্রিন কোজি কটেজ। সাততলার এ বাণিজ্যিক ভবনে ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিল ৪৬ জন; দগ্ধ ও আহত হয় আরও ১৩ জন। প্রাণহানির ঘটনা পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে ভবনটি নকশার অনুমোদন নিয়ে। পরবর্তীকালে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে ২০১১ সালে এ ভবনের নকশার অনুমোদন দিয়েছিলেন রাজউকের তৎকালীন অথরাইজড অফিসার মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীসহ কয়েকজন। কিন্তু ওই রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বছর না পেরোতেই ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নেন সেই খালেকুজ্জামান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, গ্রিন কোজি কটেজে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করতেন, তবে ভবনটিতে কোনো জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ভবনে চলাচলের সিঁড়িও ছিল না। জরুরি নির্গমন পথ থাকলে বা সিঁড়িটা প্রশস্ত হলে এত প্রাণহানি হতো না। অভিযোগ আছে, তদন্ত প্রতিবেদনে যেন তাকে জড়ানো না হয়, এজন্য বিভিন্নভাবে তদবির করেন তিনি। যদিও অথরাইজড অফিসার হিসেবে এ ভবনের অনুমোদনের পুরো দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কোনো অনিয়ম হয়নি, দাবি খালেকুজ্জামানের: নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিষয়টি মন্ত্রণালয় জানে। নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারিতে বদলি করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ত অধিদপ্তরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্বাহী প্রকৌশলীরা। লটারি নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলি হবে। অন্য সিনিয়র প্রকৌশলীদের প্রতিযোগী ভেবে ছাত্র হত্যা মামলার নথি মন্ত্রণালয় পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমার কোনো প্রতিযোগী নেই। যা বলছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বদলিতে অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করা হবে না, এ কথা বলার দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়নি। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে যারা রয়েছেন, তাদের প্রতিযোগী ভেবে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া ছাত্র হত্যা মামলার নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগে। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন লেখালেখি হচ্ছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। খালেকুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়েছেন গত বছর। তালিকা অনুযায়ী তিনি তিন নম্বরে আছেন। তার সিনিয়র রয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন্য গ্রেড-ওয়ান হওয়ার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার জন্য এসএসবিতে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী যিনি থাকবেন, তাকেই বানানো হবে।
আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টার:--- যশোরের শার্শায় থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রেজাউল ইসলাম (৪৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকাল ৯:৪৫ ঘটিকার সময় শার্শা থানার এসআই (নিঃ) শ্রীকান্ত বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম টেংরা এলাকায় মাদকবিরোধী চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেংরা পশ্চিমপাড়া সাকিনস্থ ছবেদা গাছতলা মোছার ব্যাক মোড় থেকে রেজাউলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল ইসলাম যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ ধৃত রেজাউল এবং তার এক অজ্ঞাতনামা সহযোগীর বিরুদ্ধে শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যেকে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে চার পুলিশ সদস্যেকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন এটিএসআই খোকন ইসলাম (৩৫), কনস্টেবল ফজলে রাব্বি (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও আশিকুল রহমান (৩০)। ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তল্লাশির কথা বলে ওই নারীকে খাবার কারোজে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তার সঙ্গে অসদাচরণ ও টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই নারী। ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ওই নারীকে উদ্ধার এবং ক্যান্টিনবয়কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন বলেন, মামলায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার দিন ওই চার পুলিশ সদস্যের ট্রেনে দায়িত্ব থাকায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।