আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চুক্তিতে আরও দেশ যুক্ত হলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাড়তে পারে সামরিক সহযোগিতা
চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়তে পারে।
এর ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়
সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার হামলা কিংবা ড্রোনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে।
দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়লে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।
বাড়তে পারে কূটনৈতিক প্রভাব
অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে চুক্তিটির কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়বে। আঞ্চলিক সংঘাত, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলো সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথ অবস্থান তৈরি হলে এটি সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পেও সম্ভাবনা
চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া এবং কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়
বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এখনই ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলো বাস্তবে কতটা সামরিক সমন্বয় গড়ে তুলতে পারে এবং কোনো সদস্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে অন্যরা কী ধরনের সহযোগিতা করে তার ওপর।
এ ছাড়া নতুন কোনো দেশের যোগদানের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে চুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তেমনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে এর সদস্যপদ কতটা বিস্তৃত হয় এবং দেশগুলো বাস্তবে কতটা সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে তার ওপর।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। চুক্তিতে আরও দেশ যুক্ত হলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাড়তে পারে সামরিক সহযোগিতা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত সামরিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সাইবার হামলা কিংবা ড্রোনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়লে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে। বাড়তে পারে কূটনৈতিক প্রভাব অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে চুক্তিটির কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়বে। আঞ্চলিক সংঘাত, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলো সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথ অবস্থান তৈরি হলে এটি সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পেও সম্ভাবনা চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া এবং কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এখনই ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলো বাস্তবে কতটা সামরিক সমন্বয় গড়ে তুলতে পারে এবং কোনো সদস্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে অন্যরা কী ধরনের সহযোগিতা করে তার ওপর। এ ছাড়া নতুন কোনো দেশের যোগদানের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে চুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তেমনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে এর সদস্যপদ কতটা বিস্তৃত হয় এবং দেশগুলো বাস্তবে কতটা সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে তার ওপর।
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম অনানুষ্ঠানিক গোপন ভোট। 'স্ট্র পোল' নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বসংস্থার সর্বোচ্চ পদের লড়াইয়ে থাকা সাতজন প্রার্থীর প্রতি সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের মাত্রা পরখ করা হবে। টানা পাঁচ বছর করে দুই মেয়াদে ১০ বছর দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের। পর্তুগালের নাগরিক গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হতে মূলত লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোর প্রার্থীরা দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, গায়ানা, সেনেগাল এবং উগান্ডার মনোনীত প্রার্থীরা এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা এই অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রাক-বাছাই হিসেবে তিন ধরনের মতামত দিতে পারবেন—‘সমর্থন করি’, ‘সমর্থন করি না’ এবং ‘কোনো মতামত নেই’। সাধারণত একাধিক দফায় এই গোপন ভোটাভুটি পরিচালনা করা হয়, যা সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুর দিকে চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। তবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে অথবা একক ঐকমত্যে পৌঁছাতে দেরি হলে এই প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। ইসরাইলের সঙ্গে আবু ধাবির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সংযম দেখালেও তাদের এই ধৈর্যের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। ইরানের আধা–সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন দেশটির প্রভাবশালী নীতি–নির্ধারক ও ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর বর্তমান সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, তেহরান এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে আমিরাতের মনে রাখা উচিত, ইরানের ধৈর্যের দেয়াল ভেঙে পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মোহসেন রেজায়ি সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ এবং লেনদেন চলছে। তবে আমিরাতের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে—তারা যেন কোনোভাবেই ইসরাইলের কোনো ফাঁদ বা ষড়যন্ত্রের অংশ না হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত এবং ভূ–রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে তেহরান যে কোনোভাবেই আপস করবে না, এই বার্তার মাধ্যমে আমিরাতকে সেটিই স্মরণ করিয়ে দিল ইরান। সূত্র: মিডল ইস্ট আই