অপরাধ

ওয়াসার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবেদন উধাও

Montu Mian নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0
ওয়াসার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবেদন উধাও
(তৃতীয়বার সংশোধিত

 


ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্প (তৃতীয়বার সংশোধিত)’ বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি হয়েছে। দরপত্র আহ্বান থেকে কার্যাদেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি, ঠিকাদারকে চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত বিল দেওয়াসহ বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম হয়েছে। যথাসময়ে শেষ করা হয়নি কাজ। নানা অজুহাতে বারবার বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ। এতে সরকারের কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অনিয়ম-দুর্নীতির এই চিত্র উঠে এসেছে।

আইএমইডি গত বছরের ২০ অক্টোবর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে এই প্রতিবেদন পাঠায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ আজও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু তারা এই প্রতিবেদন খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে।
.

এই অনিয়মের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএমইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাকা মহানগরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভূ-উপরিস্থ নদীর পানি সরবরাহ নিশ্চিতে ঢাকা ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পটিতে নানা পর্যায়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইএমইডি চার সদস্যের অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। আইএমইডি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।


শ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার এই প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আইএমইডিকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সে অনুযায়ী আইএমইডির নেতৃত্বে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর–৭-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), আইএমইডি আল আমিন সরকারকে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। প্রতিবেদনে তুলে ধরা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা মুঠোফোনে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আইএমইডি থেকে তাদের ‘ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ অনিয়মের বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূল্যায়ন শেষে তারা একটি প্রতিবেদন আইএমইডির সচিবের কাছে পাঠান।


বারবার আলোচনায় আসা এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদকে বাঁচাতেই আইএমইডির অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের চিঠি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আইএমইডির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, পিপিআর এবং আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বারবার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিবর্তন করায় প্রকল্পের গতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আইএমইডি থেকে গত বছরের অক্টোবর মাসে অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন ও দাপ্তরিক চিঠি দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে তারা এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাচ্ছে না।

অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল অনুমোদিত আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে নানা সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৭৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০৯ শতাংশ ও মেয়াদ বৃদ্ধির হার ১২৬.৭৬ শতাংশ। গত ১১ বছর ৯ মাসে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯০ দশমিক ২০ শতাংশ, যা মোটেই প্রত্যাশিত না। এক্ষেত্রে কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা স্পষ্ট।


সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ৯২৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ঠিকাদারকে এ প্যাকেজের চুক্তি মূল্যের চেয়ে ৯২৩.২৬ কোটি টাকা (৩০.৭১ শতাংশ) অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের জন্য সিসিজিপির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিআর) পরিপন্থি।

প্রকল্পের প্রতিটি প্যাকেজে চুক্তিমূল্য পরিবর্তিত হলেও তৃতীয় সংশোধনীতে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধনের সময় প্রকৃত চুক্তিমূল্য অন্তর্ভুক্ত না করে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। যা উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিপত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপি বা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) বরাদ্দের বিপরীতে অব্যয়িত ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। যা প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দপ্তরের অদক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। জাতীয় বেতন স্কেল- ২০১৫ বাস্তবায়নের পর প্রকল্পের বিশেষ সংশোধন না করে ডিপিপির সংস্থানের বাইরে গ্যাস, জ্বালানি, স্টেশনারি ও জরিপসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া এডিবির আরপিএ অংশে নিয়োজিত ২৪ কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অস্বাভাবিক বেতন ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ডিএমপি (ট্রাফিক), ডিএমটিসিএল (এমআরটি-১) এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্যাকেজের আওতায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গত ১০ অর্থবছরে এই প্রকল্পে মোট ৮৩টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৪টি আপত্তি এখনও ১ হাজার ৫৪৪ কোটি ২২ লাখ টাকার আর্থিক সংশ্লেষ নিয়ে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

ওয়াসার প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধে আইএমইডির সুপারিশ

আইএমইডির অনুসন্ধান কমিটি সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনসহ নানাভাবে তদন্ত করে ওয়াসার এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অসঙ্গতি ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে;

ব্যয় কমাতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষের তাগিদ

বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুমোদিত মেয়াদের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ নিশ্চিতভাবে শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে কর্মপরিকল্পনা অনুসারে বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতি দুই মাস পরপর তদারকি ও পর্যালোচনা করবে।


স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা

প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে কার্যাদেশ দেওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে প্রায় ১ বছর ৯ মাস থেকে ৩ বছর ৮ মাস পর্যন্ত। উপরন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্যাকেজ-১ এর মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় সর্বশেষ অনুমোদিত তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ১০০.২৩ শতাংশ, প্যাকেজ-২ এ ৫০.৩২ শতাংশ, প্যাকেজ-৩.১ এ ৭৪.৭০ শতাংশ এবং প্যাকেজ-৩.২ এ ৯৭.৫ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা রয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজে এরূপ ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন ও নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত আছে। পিপিএ ও পিপিআর এ ভেরিয়েশনের লিমিট নির্ধারিত আছে। এক্ষেত্রে ভেরিয়েশন ও নতুন আইটেম পৃথক করা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি প্যাকেজের ক্ষেত্রে ভেরিয়েশনের সীমা অতিক্রম করেছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একাধিকবার ডিপিপি সংশোধন করে প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিটি সংশোধনের পর এসব ভেরিয়েশন/নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (সিসিজিপি) অনুমোদন না নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দপ্তর ও ঠিকাদারের মূল চুক্তিমূল্য সংশোধন না করে অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। তাই সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছতা ও একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।


চুক্তিমূল্যে সংশোধনে ব্যাখ্যা প্রয়োজন

প্রকল্পের চুক্তিমূল্যই সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের প্রতিটি সংশোধনে চুক্তিমূল্যের অধিক মূল্য ডিপিপিতে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিপত্রের ব্যত্যয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তরের ব্যাখ্যা নেওয়া প্রয়োজন।

অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিতে হবে

২০২১-২২ অর্থবছরে আরএডিপিপিতে বরাদ্দের বিপরীতে অব্যয়িত ও অডিট আপত্তিকৃত ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি, যা প্রকল্প দপ্তরের অদক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তাই এ অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা

কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদন ছাড়াই মূল চুক্তি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম পিপিআর ও আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন। প্রতিটি প্যাকেজে ভেরিয়েশনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হয়েছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অপচয় বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।

জনবল নিয়োগের বিষয়েও তদন্ত

প্রকল্পের এডিবির আরপিএ অংশে সাকুল্যে বেতনে ২৪ কর্মী নিয়োগ, তাদের বর্ধিত বেতন ও ভাতা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত করে দেখতে পারে।

কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে

বকেয়া বিল না পাওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের বিশনন্দীতে নির্মিত দৈনিক ১০৫ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক পাম্পিং স্টেশনের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের পর ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করে এই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কাছে গেলে এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে জানান।


এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ (পাস–২) শাখার কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী সচিব তাছলিমা শিরিনের কাছে ওয়াসার প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘এই বিষয়ে সচিব স্যার বলতে পারবেন।’ পরে স্থানীয় সরকার সচিব মো. শহীদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা ওয়াসা ও পানি সরবরাহ শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। পানি সরবরাহ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. সামছুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

পরে গত ৪ নভেম্বর যুগ্মসচিব সামছুল ইসলামের কার্যালয়ে পুনরায় গেলে তিনি শাখা কর্মকর্তার কাছে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। কিছুক্ষণ পর শাখা কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) তাছলিমা শিরিন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ ভৌমিক যুগ্মসচিবের কক্ষে আসেন। তখন তারা বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পের বিষয়ে আইএমইডির কোনো প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এলেও তারা সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না।’


পরে যুগ্মসচিব মো. সামছুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ অনিয়মের বিষয়ে আইএমইডির সুপারিশ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে।”

আইএমইডির অনুসন্ধানে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির বিষয়ে জানতেপক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদের মুঠোফোনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেশ কয়েকবার কল করা হয়। এর মধ্যে শুধু একবার তিনি ফোন ধরে বলেন, ‘আমি একটি জানাজায় ছিলাম। এজন্য আপনার ফোনটি রিসিভ করতে পারিনি। আপনার সঙ্গে একটু পরে কথা বলব।’ এরপর কয়েক দফা কল দিলেও তিনি আর ধরেননি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে তার মুঠোফোন নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।

Popular post
সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

অপরাধ

View more
ওয়াসার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবেদন উধাও
ওয়াসার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের প্রতিবেদন উধাও

  ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্প (তৃতীয়বার সংশোধিত)’ বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি হয়েছে। দরপত্র আহ্বান থেকে কার্যাদেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি, ঠিকাদারকে চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত বিল দেওয়াসহ বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম হয়েছে। যথাসময়ে শেষ করা হয়নি কাজ। নানা অজুহাতে বারবার বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ। এতে সরকারের কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অনিয়ম-দুর্নীতির এই চিত্র উঠে এসেছে। আইএমইডি গত বছরের ২০ অক্টোবর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে এই প্রতিবেদন পাঠায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ আজও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু তারা এই প্রতিবেদন খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। . এই অনিয়মের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইএমইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য ঢাকা মহানগরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভূ-উপরিস্থ নদীর পানি সরবরাহ নিশ্চিতে ঢাকা ওয়াসা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পটিতে নানা পর্যায়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইএমইডি চার সদস্যের অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। আইএমইডি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ঢাকা ওয়াসার এই প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী আইএমইডিকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আইএমইডির নেতৃত্বে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সেক্টর–৭-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), আইএমইডি আল আমিন সরকারকে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। প্রতিবেদনে তুলে ধরা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা মুঠোফোনে সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আইএমইডি থেকে তাদের ‘ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ অনিয়মের বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূল্যায়ন শেষে তারা একটি প্রতিবেদন আইএমইডির সচিবের কাছে পাঠান। বারবার আলোচনায় আসা এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদকে বাঁচাতেই আইএমইডির অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের চিঠি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। আইএমইডির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, পিপিআর এবং আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করা হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বারবার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিবর্তন করায় প্রকল্পের গতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আইএমইডি থেকে গত বছরের অক্টোবর মাসে অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন ও দাপ্তরিক চিঠি দেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে তারা এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাচ্ছে না। অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল অনুমোদিত আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ২৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে নানা সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯৭৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০৯ শতাংশ ও মেয়াদ বৃদ্ধির হার ১২৬.৭৬ শতাংশ। গত ১১ বছর ৯ মাসে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯০ দশমিক ২০ শতাংশ, যা মোটেই প্রত্যাশিত না। এক্ষেত্রে কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা স্পষ্ট। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদন ছাড়াই ৩ হাজার ৯২৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ঠিকাদারকে এ প্যাকেজের চুক্তি মূল্যের চেয়ে ৯২৩.২৬ কোটি টাকা (৩০.৭১ শতাংশ) অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ের জন্য সিসিজিপির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা আর্থিক শৃঙ্খলা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিআর) পরিপন্থি। প্রকল্পের প্রতিটি প্যাকেজে চুক্তিমূল্য পরিবর্তিত হলেও তৃতীয় সংশোধনীতে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধনের সময় প্রকৃত চুক্তিমূল্য অন্তর্ভুক্ত না করে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। যা উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিপত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপি বা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) বরাদ্দের বিপরীতে অব্যয়িত ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। যা প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দপ্তরের অদক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। জাতীয় বেতন স্কেল- ২০১৫ বাস্তবায়নের পর প্রকল্পের বিশেষ সংশোধন না করে ডিপিপির সংস্থানের বাইরে গ্যাস, জ্বালানি, স্টেশনারি ও জরিপসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া এডিবির আরপিএ অংশে নিয়োজিত ২৪ কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অস্বাভাবিক বেতন ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ডিএমপি (ট্রাফিক), ডিএমটিসিএল (এমআরটি-১) এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্যাকেজের আওতায় পাইপলাইন স্থাপনের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গত ১০ অর্থবছরে এই প্রকল্পে মোট ৮৩টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৪টি আপত্তি এখনও ১ হাজার ৫৪৪ কোটি ২২ লাখ টাকার আর্থিক সংশ্লেষ নিয়ে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। ওয়াসার প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধে আইএমইডির সুপারিশ আইএমইডির অনুসন্ধান কমিটি সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনসহ নানাভাবে তদন্ত করে ওয়াসার এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অসঙ্গতি ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে; ব্যয় কমাতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষের তাগিদ বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুমোদিত মেয়াদের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ নিশ্চিতভাবে শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করে কর্মপরিকল্পনা অনুসারে বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতি দুই মাস পরপর তদারকি ও পর্যালোচনা করবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান থেকে কার্যাদেশ দেওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে প্রায় ১ বছর ৯ মাস থেকে ৩ বছর ৮ মাস পর্যন্ত। উপরন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে এ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্যাকেজ-১ এর মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় সর্বশেষ অনুমোদিত তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ১০০.২৩ শতাংশ, প্যাকেজ-২ এ ৫০.৩২ শতাংশ, প্যাকেজ-৩.১ এ ৭৪.৭০ শতাংশ এবং প্যাকেজ-৩.২ এ ৯৭.৫ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা রয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজে এরূপ ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন ও নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত আছে। পিপিএ ও পিপিআর এ ভেরিয়েশনের লিমিট নির্ধারিত আছে। এক্ষেত্রে ভেরিয়েশন ও নতুন আইটেম পৃথক করা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি প্যাকেজের ক্ষেত্রে ভেরিয়েশনের সীমা অতিক্রম করেছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একাধিকবার ডিপিপি সংশোধন করে প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিটি সংশোধনের পর এসব ভেরিয়েশন/নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (সিসিজিপি) অনুমোদন না নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দপ্তর ও ঠিকাদারের মূল চুক্তিমূল্য সংশোধন না করে অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। তাই সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছতা ও একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। চুক্তিমূল্যে সংশোধনে ব্যাখ্যা প্রয়োজন প্রকল্পের চুক্তিমূল্যই সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের প্রতিটি সংশোধনে চুক্তিমূল্যের অধিক মূল্য ডিপিপিতে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিপত্রের ব্যত্যয় করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তরের ব্যাখ্যা নেওয়া প্রয়োজন। অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিতে হবে ২০২১-২২ অর্থবছরে আরএডিপিপিতে বরাদ্দের বিপরীতে অব্যয়িত ও অডিট আপত্তিকৃত ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি, যা প্রকল্প দপ্তরের অদক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তাই এ অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদন ছাড়াই মূল চুক্তি মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম পিপিআর ও আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন। প্রতিটি প্যাকেজে ভেরিয়েশনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হয়েছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অপচয় বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। জনবল নিয়োগের বিষয়েও তদন্ত প্রকল্পের এডিবির আরপিএ অংশে সাকুল্যে বেতনে ২৪ কর্মী নিয়োগ, তাদের বর্ধিত বেতন ও ভাতা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত করে দেখতে পারে। কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে বকেয়া বিল না পাওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের বিশনন্দীতে নির্মিত দৈনিক ১০৫ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক পাম্পিং স্টেশনের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার। তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের পর ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ করে এই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কাছে গেলে এই বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে জানান। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ (পাস–২) শাখার কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী সচিব তাছলিমা শিরিনের কাছে ওয়াসার প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘এই বিষয়ে সচিব স্যার বলতে পারবেন।’ পরে স্থানীয় সরকার সচিব মো. শহীদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা ওয়াসা ও পানি সরবরাহ শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। পানি সরবরাহ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. সামছুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে গত ৪ নভেম্বর যুগ্মসচিব সামছুল ইসলামের কার্যালয়ে পুনরায় গেলে তিনি শাখা কর্মকর্তার কাছে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। কিছুক্ষণ পর শাখা কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) তাছলিমা শিরিন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ ভৌমিক যুগ্মসচিবের কক্ষে আসেন। তখন তারা বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পের বিষয়ে আইএমইডির কোনো প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এলেও তারা সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না।’ পরে যুগ্মসচিব মো. সামছুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পে’ অনিয়মের বিষয়ে আইএমইডির সুপারিশ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন তাদের কাছে আসেনি। এই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে যে সুপারিশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে।” আইএমইডির অনুসন্ধানে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির বিষয়ে জানতেপক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদের মুঠোফোনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেশ কয়েকবার কল করা হয়। এর মধ্যে শুধু একবার তিনি ফোন ধরে বলেন, ‘আমি একটি জানাজায় ছিলাম। এজন্য আপনার ফোনটি রিসিভ করতে পারিনি। আপনার সঙ্গে একটু পরে কথা বলব।’ এরপর কয়েক দফা কল দিলেও তিনি আর ধরেননি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে তার মুঠোফোন নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।

News নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0
হবিগঞ্জে মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের চিত্র

হবিগঞ্জে মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত

শাহজালালে ই-সিগারেটসহ ৩২ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

শাহজালালে ই-সিগারেটসহ ৩২ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

গোপালগঞ্জে তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা।

তিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে একাধিক মামলার পর

হবিগঞ্জ সদর এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশ হস্তক্ষেপের দৃশ্য
হবিগঞ্জ সদর এলাকায় মোবাইল চুরির কারণে সংঘর্ষে শতাধিক আহত

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় জয়রামপুর ও নিতাইরচক গ্রামের লোকদের মধ্যে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোবাইল চুরির কারণে সংঘর্ষ ঘটে।দুদিন আগে নিতাইরচক গ্রামের নানু মিয়ার বাসা থেকে একটি মোবাইল সেট চুরি হওয়ার ঘটনায় জয়রামপুর গ্রামের জালাল মিয়াকে জড়িত বলা হয়।উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটি চলাকালীন স্থানীয় মুরুব্বিরা সালিশি বৈঠক আয়োজন করেন, কিন্তু সকাল ১০টার দিকে উভয় পক্ষ সালিশে না গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িত হয়।হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল এবং ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পুলিশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসার পর উভয় পক্ষের অন্তত ১০০-র বেশি লোক আহত হয়।আহতদের মধ্যে তোফাজ্জুল মিয়া, জিতু মিয়া, আব্দুল আহাদ, আদম আলী, সোহেল মিয়া, সানু মিয়া, নানু মিয়া, লিটন মিয়া, নুরুজ মিয়া, মারাজ মিয়া, হাবিবুর রহমান, এমদাদুল মিয়া, শিশ আলী, পারভেজ মিয়া, বিলাল মিয়া, আক্কাস মিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানিয়েছেন যে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0
পুলিশ একটি মৃতদেহ সংগ্রহ করছে

শুক্রবার ঝিনাইদহে হোটেল পরিচালকের মৃতদেহ উদ্ধার

রাংখালি পাহাড়ে মানব পাচার অপারেশন

কক্সবাজারে মানব পাচার অপারেশনে ৫৬ জন মুক্তি, সৈনিক নিহত

কারাগারের টয়লেটের দরজায় ঝুলন্ত কাপড়ের বিমূর্ত চিত্র

ক্যাশিমপুর জেলে রাজু হ্যাংগিং করে মৃত্যু

বাংলাদেশে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা ও সাইবার অপরাধের প্রতীকী চিত্র।
বাংলাদেশে অনলাইন সহিংসতা ও সাইবার অপরাধে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি

করোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ে অনলাইন ক্লাস এবং দূরশিক্ষণের কারণে বাংলাদেশে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক আগে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার না করা ব্যক্তিরাও এখন দৈনন্দিন কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।তবে এই ব্যবহারের সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত সাইবার অপরাধের জটিলতা ও মাত্রাও বেড়েছে। অপরাধীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ করে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে।সাইবার অপরাধীরা ভিকটিমদের ব্ল্যাকমেইলিং, অপমান এবং সামাজিকভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভিকটিমদের মানসিক সংকটের সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব অপরাধের প্রভাব ভিকটিমদের মানসিক ও ব্যক্তিগত জীবনে মারাত্মক হতে পারে, যদিও অপরাধীরা এ বিষয়ে অনুশোচনা করে না।গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল সহিংসতার ব্যবধান কমে গেছে এবং গ্রামাঞ্চলের নারীরাও ভার্চুয়াল সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটের গবেষণায় দেখা গেছে।তবে সরকারি ব্যবস্থায় অনলাইন সহিংসতার অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয় না এবং কার্যকর পদক্ষেপ কম নেওয়া হয়। আইনি সহায়তার জন্য পুলিশের কাছে গেলে ভিকটিমরা জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে সমস্যায় পড়েন।পুলিশের সাইবার সেলগুলোতে অপরাধী শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত কারিগরি সুবিধা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার কারণে দেরি হয়। আইনের অপপ্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধীরা সহজে শাস্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছে।নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার কাঠামো গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের সাইবার সেল আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দ্বারা উন্নত করতে হবে বলে জানা গেছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে ছুরিকাঘাতের ঘটনা এবং পুলিশি তদন্তের প্রতীকী চিত্র।

কিশোরগঞ্জে শাহরিয়ার জামাল রানা ছুরিকাঘাতে আহত, হামলাকারী গ্রেফতার

উত্তরা ও পোস্তগোলায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতীকী চিত্র

উত্তরায় কাভার্ডভ্যান ও পোস্তগোলায় ট্রাকের ধাক্কায় চারজন নিহত

ধাক্কা আদালতে মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারক ও আদালতের কক্ষের চিত্র

সুদান চন্দ্রের অভিযোগে পারিমরন রক্ষকরা জবাবদিহি

0 Comments