ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট
# হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প
# যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের এন্তার অভিযোগ, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো বিতর্কের মধ্যেই ২১ কোটি টাকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করা, কমিশন-বাণিজ্য এবং ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান আমলাদের একটি অংশের তদবিরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে তার প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ ১ ও ৩-এর কার্যাদেশ পায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এসব কাজের পাশাপাশি প্রকল্পটির লিড এজেন্সি হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রকল্পটি ঘিরে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন-বাণিজ্য এবং আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক ও বর্তমান আমলাদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন মাসুদ আলম। ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্র বলছে, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার কাজ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সে সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মাসুদ আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরাসরি পেয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মাসুদ আলম বলেছিলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর বাবা আজাহার উদ্দিন আওয়ামী লীগ করতেন বলে তখন তাঁকে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। ওই সময় তিনি সংসারের দায়িত্ব নেন। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ২০২৩ সালে জাতীয় যুব কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন মাসুদ আলম। ওই নির্বাচনে তাঁর প্যানেলের ব্যবহৃত পোস্টার ও ব্যানারে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ছবি যুক্ত করা হয়। প্যানেলটি ছিল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন মাসুদ আলম। ওই নির্বাচনের পোস্টারে শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ছবি যুক্ত ছিল। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংবাদে মাসুদ আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বলা হয়েছিল, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত একজন কর্মী এবং পদ-পদবির পেছনে না ছুটে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শীর্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পেজ—এমএসপিএম—সামরিক সচিব ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালনা করার কথাও তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাসুদ আলম বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও ওই পরিচিতিতে উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ ২০২৩, ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ ২০২২ এবং ‘জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৩’। এ ছাড়া যুবসমাজের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিভাগে ‘শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মী’ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পুরস্কার পান। ওই পরিচিতিতে আরো বলা হয়েছিল, মাসুদ আলমের বাবা আজাহার উদ্দিন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং তাঁর ছোট ভাই রাসেল আলম বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী। গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছিলেন মাসুদ আলম। গাড়িতে দেড় কোটি টাকা, পরে হস্তান্তর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় একটি প্রাইভেট কার আটক করেন ছাত্র-জনতা। গাড়িটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-১৫৮১। গাড়িতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ভর্তি একটি বস্তা পাওয়া যায়। সে সময় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, গাজীপুরের সাবেক মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের লোকজনকে দেওয়ার জন্য টাকাগুলো নেওয়া হচ্ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তারা গাড়িটি আটক করেছিল। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ছিল। সেদিন গাড়িতে মাসুদ আলম নিজেও ছিলেন। তিনি নিজেকে ‘প্রমিজ গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ওই সময় মাসুদ আলম দাবি করেছিলেন, টাকাগুলো তাঁর অফিসের কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ জেলায় কর্মীদের প্রত্যেককে ছয় লাখ টাকা করে দিতে হয় এবং অফিস ভাড়া বাবদ মাসে ৩২ লাখ টাকা খরচ হয়। ব্যাংক হিসাব ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা টাকাসহ আটকের ঘটনার পর মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের বিষয়টি সামনে আসে। দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের হিসাবসহ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। মাসুদ আলম ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শত কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও মাসুদ আলমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব এখনো জব্দ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের এমডি মাসুদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং ছড়ানো হচ্ছে। উদ্যোক্তা হওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা ছবি ছড়িয়ে আমাকে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।’ এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এই বিষয়ে আমার আসলে জানা নেই। জানলে হয়তো বলতে পারতাম।’
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাঘারচর বাজারে গৃহবধূ ফারহানা ইয়াসমিন শিলার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।স্থানীয় যুবনেতা এম. রাশেল মাহমুদকে তার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক করা হয়েছে। ফারহানা ছিলেন সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের স্ত্রী এবং রাশেলের দ্বিতীয় স্ত্রী।ফারহানার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম কামাল অভিযোগ করেছেন, রাশেল জমি ও অর্থের জন্য ফারহানাকে হুমকি দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি দাবি করেছেন, জমি ও ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের পর ফারহানা তার জমি হস্তান্তর করতে অস্বীকার করলে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যার ছদ্মবেশে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।রাশেলের প্রথম স্ত্রী লাবিবা আকতার, যার বয়স ১১ বছর, অভিযোগ করেছেন যে রাশেলের বাবা তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়েছেন এবং এক বছর ধরে তার মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছেন।শনিবার দুপুরে নিহতার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং তারা পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা রাশেলের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।পুলিশ ইন্সপেক্টর ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ বছর বয়সী সিমির মা চান্দানী তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্টতা চান। তিনি অভিযোগ করেছেন, মৃত্যুর পূর্বে তার মেয়েকে নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক মাদক সেবনের মতো ঘটনা ঘটেছে।চান্দানী জানান, তিনি বনানী থানায় সিমির নিখোঁজের অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে সহায়তা করেনি। এই অভিযোগগুলো জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।মাহাখালীতে বসবাসরত চান্দানীর বাড়িতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সাইদুর ও টুম্পা নামের দম্পতি তাদের দুই সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন। তারা ১ মে বাড়ি ছেড়ে যান। পরে জানতে পারেন, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।মে ২০, ২০২৬ সকাল ৭:৩০ টায় সিমি স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত সে ফেরেনি এবং স্কুলও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেনি। সন্ধ্যায় চান্দানী বনানী থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন।রাত ৩:৩০ টায় বনানী থানার একজন উপ-পরিদর্শক সিমিকে ফিরিয়ে দেন, কিন্তু চান্দানীকে সিমির উদ্ধার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। সিমির সঙ্গে কথা বলে চান্দানী জানতে পারেন, তাকে নির্যাতন, ভয় দেখানো, জোরপূর্বক মাদক সেবন করানো, ধর্ষণ এবং ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে।জুলাই ৮, ২০২৬ তারিখে চান্দানী সিমিকে নিয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপর কয়েক দিন তাকে অফিস থেকে অফিসে পাঠানো হয় বলে চান্দানী অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।জুলাই ১৫, ২০২৬ সন্ধ্যায় চান্দানী বাড়ি ফিরে সিমির অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। সিমি শোবার ঘরের দরজা লক করে। প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা খুলে দেখা যায় সিমি সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সিমির মৃত্যুর পর পরদিন চান্দানী বনানী থানায় গেলে পুলিশ তার অভিযোগের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।চান্দানী একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, মোবাইল ফোনের তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ। তিনি বলেছেন, তার লক্ষ্য মিথ্যা অভিযোগ নয়, সত্য উদঘাটন এবং যেকোনো অবহেলার জন্য দায়িত্বশীলদের accountability নিশ্চিত করা।