জাতীয়

মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি

রতন লাল সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি
(এইচআরডব্লিউ)।

 


বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে বিএনপি সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা সেটি রক্ষা করতে পারেনি। বরং সম্প্রতি এমন তিনটি আইন পাস করা হয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আবারও পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

যে তিনটি আইন নিয়ে সংস্থাটি এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, সেগুলো হলো: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন- ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন- ২০২৬ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে দেওয়া `স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন- ২০২৬’।


সংস্থাটি বলছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসেন নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার সুরক্ষায় বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা নতুন তিন আইন পাসের পর বাতিল হয়ে গেছে।

এর ফলে অতীতে ব্যাপকভাবে ঘটে যাওয়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঠেকানোর ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে।

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাগ্রহণের পর তারেক রহমানের সরকার সেই কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে এবং নতুন আইনে প্রতিষ্ঠানটির তদন্তের ক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে।

এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের জন্য দায়ী পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করার দাবি করা হলেও কার্যত কেবল সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এমনকি সাধারণ পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে যে ধরনের সুরক্ষামূলক নিয়ম প্রযোজ্য হয়, সেগুলো নতুন আইনে রাখা হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে এইচআরডব্লিউ ।

বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলায়িন পিয়ারসন বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীকে তদন্ত ও জবাবদিহিতার বাইরে রাখার নতুন সরকারের যে প্রচেষ্টা, সেটি থেকে এমনটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না যে, হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা অতীতের বিষয় হয়ে থাকবে।’

তিনি মনে করেন, অতীতে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রয়োজন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

জাতীয়

View more
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে গিয়ে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
আওয়ামীপন্থিদের সরিয়ে পুনর্গঠন হচ্ছে সব সরকারি কমিটি

আওয়ামীপন্থিদের সরিয়ে পুনর্গঠন হচ্ছে সব সরকারি কমিটি

মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি

মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি

পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি

পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের টার্গেট সরকারের
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের টার্গেট সরকারের

  ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের টার্গেট নিয়েছে সরকার। একে উচ্চাভিলাষী বললেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের বিকল্প নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিজস্ব গ্যাস-কয়লা উত্তোলন ও আমদানির সংমিশ্রনে চাহিদা পূরণ করতে হবে সরকারকে। বলেন, গভীর সমুদ্রে বিদেশি কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রয়োজনে উৎপাদন-বন্টন চুক্তি-পিএসসিতে পরিবর্তন আনতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দেশের আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাতকে ফেলেছে সঙ্কটে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এরইমধ্যে দু'দফায় বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এলএনজি আমদানি করে চাপ তৈরি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় কোষাগারের ওপর। জ্বালানি খাতে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এরইমধ্যে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। এ  পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব জটিলতা দূর করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।  চাহিদার জোগান দিতে এখনই আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হতে পারছে না সরকার। তাই বিশ্লেষকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদে বহুমাত্রিক জ্বালানি উৎসের দিকে।   বর্তমান সরকারের জন্য সুখবর হলো, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে নতুন করে প্রতিদিন ১২মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে।

News সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের সুযোগ হবে না: হুমায়ুন কবির

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের সুযোগ হবে না: হুমায়ুন কবির

নারায়ণগঞ্জ পাউবো ও জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

নারায়ণগঞ্জ পাউবো ও জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ৪ জন অপরাধ স্বীকার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ৪ জন অপরাধ স্বীকার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।  সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনাটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। সারাদেশবাসী খুব মর্মাহত। একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুই বলা যায়। তার বয়স সম্ভবত ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং ডেড বডি উদ্ধার করা হয়।’ ডেড বডি উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সমস্ত আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন, আজ একজনসহ মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছে। ওর নাম তুহিন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কিশোররা, তাদের বয়স... দুইজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এখনও এনআইডি চেক করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়। অনেকে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়।’ হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’ একইসঙ্গে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে  আশা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমমের ছেলে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।  

News সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধানমন্ডি ও গুলশান-বনানী লেক দ্রুত আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধানমন্ডি ও গুলশান-বনানী লেক দ্রুত আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments