রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিরীক্ষা শাখার সহকারী পরিচালক নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রাখা, গ্রাহক হয়রানি এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তাঁকে ঘিরে রাজউকের নিরীক্ষা শাখায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয়, যাকে কেউ কেউ ‘টুম্পা সিন্ডিকেট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তবে অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগগুলোর সবকটির পক্ষে নথিভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত তথ্য ও সরকারি নথিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
রাজউকের সরকারি কর্মকর্তা তালিকায় নাদিয়া আহমেদ টুম্পাকে সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই তালিকায় তাঁর দাপ্তরিক ই-মেইল ও মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
১. অভিযোগের উৎস: কোথা থেকে উঠছে ‘সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ?
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সূত্রগুলোর কাছ থেকে মূলত পাঁচ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রথমত, ফ্ল্যাট হস্তান্তর, নামজারি, জমির মালিকানা পরিবর্তন ও কমিশন-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন বা নিষ্পত্তিতে অর্থ দাবির অভিযোগ।
দ্বিতীয়ত, জমি তদন্ত বা কমিশনের কার্যক্রমের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার দাবি।
তৃতীয়ত, রাজউকে হাজিরা বা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ।
চতুর্থত, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়মিত ‘মাসোহারা’ নেওয়ার দাবি।
পঞ্চমত, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, নতুন আপত্তি তৈরি করা কিংবা ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ—ফাইল আটকে রাখা, তদন্ত ও হাজিরার নামে অর্থ নেওয়া এবং ডেভেলপারদের কাছ থেকে মাসিক অর্থ আদায়ের দাবি—প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ সেখানে উপস্থাপন করা হয়নি।
অর্থাৎ, অভিযোগগুলো একেবারে নতুন নয়; কিন্তু অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের আরও যাচাই প্রয়োজন।
২. ভুক্তভোগীর বক্তব্য: ফাইল কেন আটকে থাকে?
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আসে সেবা নিতে যাওয়া ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
তাঁদের অভিযোগ, একটি ফাইলের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কখনো সেটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর নতুন আপত্তি বা অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। এরপর অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে কাজটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।
কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, জমি তদন্ত কিংবা কমিশনের কাজে তাঁদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, রাজউকে হাজিরা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে পাওয়া এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিচয়, তাঁদের ফাইল নম্বর, অর্থ প্রদানের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কেউ অভিযোগ করলেই সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়।
এ কারণে এই অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট ফাইল, চিঠি, নোটশিট এবং অনুমোদনের সময়কাল মিলিয়ে দেখা জরুরি।
৩. নথিপত্র: অভিযোগের সঙ্গে কী মেলে?
সরকারি নথিতে অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করা যায়—নাদিয়া আহমেদ টুম্পা রাজউকের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজউকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের তালিকায় তাঁর নাম ও পদবি রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায় কিংবা ‘সিন্ডিকেট’ পরিচালনা—এসবের পক্ষে কোনো বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন, অডিট আপত্তি, শাস্তির আদেশ বা আদালতের নথি অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
এখানেই অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন:
যেসব ফাইল নিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে, সেসব ফাইলের নোটশিটে কী আছে?
একই কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার পর কত দিন ফাইল পড়ে ছিল, কখন আপত্তি দেওয়া হয়েছে, কখন তা নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে অভিযোগের একটি নথিভিত্তিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
একইভাবে ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট চিঠির কপি এবং পরে সংশোধিত চিঠি পাশাপাশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৪. রাজউকের জবাব: তদন্ত হয়েছে কি?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে—নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো লিখিতভাবে করা হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তার ভিত্তিতে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না।
এ ছাড়া জানতে হবে—
তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় অভিযোগ রয়েছে কি না;
কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল কি না;
কোনো অডিট আপত্তি বা প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ আছে কি না;
অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে কখনো দায়িত্ব থেকে সরানো বা বদলি করা হয়েছিল কি না;
তাঁর অধীনে নিষ্পত্তি হওয়া ফাইলের কোনো নমুনা অডিট করা হয়েছে কি না।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের গুরুত্ব ও বাস্তব ভিত্তি অনেকটাই পরিষ্কার হবে।
এদিকে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। ফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এই অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন।
৫. টাকার প্রবাহ: কোটি টাকার দাবির ভিত্তি কোথায়?
অভিযোগের সবচেয়ে বড় দাবি হলো—এই চক্রের মাধ্যমে মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থের লেনদেন হয়।
কিন্তু এখানেই অনুসন্ধানের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি আসে:
এই কোটি টাকা কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায়?
ডেভেলপারদের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়—এমন দাবি সত্য হলে প্রথমে শনাক্ত করতে হবে কতটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অর্থ দেয়। এরপর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাইলের সংখ্যা, নিষ্পত্তির সময়, কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ প্রদানের ধরন যাচাই করতে হবে।
একইভাবে জমি তদন্ত বা কমিশনের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং হাজিরার নামে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেই অর্থের কোনো রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য, মধ্যস্থতাকারীর যোগাযোগ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি।
শুধু ‘কোটি টাকা লেনদেন হয়’—এমন সূত্রের বক্তব্য দিয়ে অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা যায় না। অর্থের প্রবাহ প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন লেনদেনের প্রমাণ, একাধিক স্বাধীন সূত্র এবং নথির সঙ্গে তথ্যের মিল।
এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন
নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণের আগে পাঁচটি বিষয়ে নথিভিত্তিক উত্তর প্রয়োজন—
১. কোন কোন ফাইল অর্থের বিনিময়ে আটকে রাখা বা ছাড়ার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত?
২. অভিযোগ করা ভুক্তভোগীরা কি তাঁদের ফাইল নম্বর ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ দিতে পারবেন?
৩. রাজউকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অডিটে কোনো অনিয়ম ধরা পড়েছে কি না?
৪. অভিযোগের বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষ আগে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
৫. মাসে কোটি টাকা লেনদেনের দাবির পক্ষে আর্থিক বা নথিগত প্রমাণ কোথায়?
বর্তমানে সরকারি নথিতে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার পদ ও কর্মস্থলের তথ্য নিশ্চিত করা গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন নথি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে রাজউকের নথি, ভুক্তভোগীদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন এবং কর্তৃপক্ষের তদন্ত—সবগুলো একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব মিললে অনুসন্ধানের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিরীক্ষা শাখার সহকারী পরিচালক নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রাখা, গ্রাহক হয়রানি এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তাঁকে ঘিরে রাজউকের নিরীক্ষা শাখায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয়, যাকে কেউ কেউ ‘টুম্পা সিন্ডিকেট’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগগুলোর সবকটির পক্ষে নথিভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত তথ্য ও সরকারি নথিকে আলাদা করে দেখা জরুরি। রাজউকের সরকারি কর্মকর্তা তালিকায় নাদিয়া আহমেদ টুম্পাকে সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই তালিকায় তাঁর দাপ্তরিক ই-মেইল ও মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। ১. অভিযোগের উৎস: কোথা থেকে উঠছে ‘সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ? অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সূত্রগুলোর কাছ থেকে মূলত পাঁচ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথমত, ফ্ল্যাট হস্তান্তর, নামজারি, জমির মালিকানা পরিবর্তন ও কমিশন-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন বা নিষ্পত্তিতে অর্থ দাবির অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, জমি তদন্ত বা কমিশনের কার্যক্রমের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার দাবি। তৃতীয়ত, রাজউকে হাজিরা বা সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ। চতুর্থত, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়মিত ‘মাসোহারা’ নেওয়ার দাবি। পঞ্চমত, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, নতুন আপত্তি তৈরি করা কিংবা ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ—ফাইল আটকে রাখা, তদন্ত ও হাজিরার নামে অর্থ নেওয়া এবং ডেভেলপারদের কাছ থেকে মাসিক অর্থ আদায়ের দাবি—প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ সেখানে উপস্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ, অভিযোগগুলো একেবারে নতুন নয়; কিন্তু অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নথি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের আরও যাচাই প্রয়োজন। ২. ভুক্তভোগীর বক্তব্য: ফাইল কেন আটকে থাকে? অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আসে সেবা নিতে যাওয়া ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, একটি ফাইলের কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কখনো সেটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর নতুন আপত্তি বা অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়। এরপর অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে কাজটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, জমি তদন্ত কিংবা কমিশনের কাজে তাঁদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, রাজউকে হাজিরা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া এসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিচয়, তাঁদের ফাইল নম্বর, অর্থ প্রদানের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কেউ অভিযোগ করলেই সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়। এ কারণে এই অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট ফাইল, চিঠি, নোটশিট এবং অনুমোদনের সময়কাল মিলিয়ে দেখা জরুরি। ৩. নথিপত্র: অভিযোগের সঙ্গে কী মেলে? সরকারি নথিতে অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করা যায়—নাদিয়া আহমেদ টুম্পা রাজউকের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজউকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের তালিকায় তাঁর নাম ও পদবি রয়েছে। কিন্তু অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায় কিংবা ‘সিন্ডিকেট’ পরিচালনা—এসবের পক্ষে কোনো বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন, অডিট আপত্তি, শাস্তির আদেশ বা আদালতের নথি অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। এখানেই অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন: যেসব ফাইল নিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে, সেসব ফাইলের নোটশিটে কী আছে? একই কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার পর কত দিন ফাইল পড়ে ছিল, কখন আপত্তি দেওয়া হয়েছে, কখন তা নিষ্পত্তি হয়েছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে অভিযোগের একটি নথিভিত্তিক চিত্র পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট চিঠির কপি এবং পরে সংশোধিত চিঠি পাশাপাশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ৪. রাজউকের জবাব: তদন্ত হয়েছে কি? অভিযোগগুলোর বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে—নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনো লিখিতভাবে করা হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তার ভিত্তিতে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না। এ ছাড়া জানতে হবে— তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় অভিযোগ রয়েছে কি না; কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল কি না; কোনো অডিট আপত্তি বা প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ আছে কি না; অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে কখনো দায়িত্ব থেকে সরানো বা বদলি করা হয়েছিল কি না; তাঁর অধীনে নিষ্পত্তি হওয়া ফাইলের কোনো নমুনা অডিট করা হয়েছে কি না। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের গুরুত্ব ও বাস্তব ভিত্তি অনেকটাই পরিষ্কার হবে। এদিকে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে। ফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এই অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন। ৫. টাকার প্রবাহ: কোটি টাকার দাবির ভিত্তি কোথায়? অভিযোগের সবচেয়ে বড় দাবি হলো—এই চক্রের মাধ্যমে মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থের লেনদেন হয়। কিন্তু এখানেই অনুসন্ধানের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি আসে: এই কোটি টাকা কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায়? ডেভেলপারদের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়—এমন দাবি সত্য হলে প্রথমে শনাক্ত করতে হবে কতটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অর্থ দেয়। এরপর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাইলের সংখ্যা, নিষ্পত্তির সময়, কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ প্রদানের ধরন যাচাই করতে হবে। একইভাবে জমি তদন্ত বা কমিশনের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং হাজিরার নামে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেই অর্থের কোনো রসিদ, ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য, মধ্যস্থতাকারীর যোগাযোগ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি। শুধু ‘কোটি টাকা লেনদেন হয়’—এমন সূত্রের বক্তব্য দিয়ে অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা যায় না। অর্থের প্রবাহ প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন লেনদেনের প্রমাণ, একাধিক স্বাধীন সূত্র এবং নথির সঙ্গে তথ্যের মিল। এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণের আগে পাঁচটি বিষয়ে নথিভিত্তিক উত্তর প্রয়োজন— ১. কোন কোন ফাইল অর্থের বিনিময়ে আটকে রাখা বা ছাড়ার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত? ২. অভিযোগ করা ভুক্তভোগীরা কি তাঁদের ফাইল নম্বর ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ দিতে পারবেন? ৩. রাজউকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অডিটে কোনো অনিয়ম ধরা পড়েছে কি না? ৪. অভিযোগের বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষ আগে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? ৫. মাসে কোটি টাকা লেনদেনের দাবির পক্ষে আর্থিক বা নথিগত প্রমাণ কোথায়? বর্তমানে সরকারি নথিতে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার পদ ও কর্মস্থলের তথ্য নিশ্চিত করা গেলেও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন নথি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে রাজউকের নথি, ভুক্তভোগীদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য, আর্থিক লেনদেন এবং কর্তৃপক্ষের তদন্ত—সবগুলো একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব মিললে অনুসন্ধানের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বদলি ও পদায়নে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে গত ১৬ জুলাই একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাঁর নিজ জেলায় পদায়নের ঘটনায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলিতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বিভিন্ন পদায়নের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে কার্য সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও অস্বীকার করে প্রধান প্রকৌশলী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পদায়ন ও দায়িত্ব প্রদান কমিটির সুপারিশ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জন নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে রংপুরে বাড়ি, রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর আয়কর বিবরণীতে যে সম্পদের তথ্য রয়েছে, এর বাইরে তাঁর কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। রংপুরের বাড়িটি তাঁর নিজের এবং সেটি তাঁর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বেলাল হোসেন বলেন, তাঁর পদোন্নতি ও নিয়োগ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, চাকরির রেকর্ড ও এসিআরের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, তিনি প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি তাঁর দায়িত্বকালে হয়নি। অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পদায়ন ও বদলির প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এসবকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি): নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ রাকিব ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও একটি সাইকেল জব্দ করা হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ঠাকুরগঞ্জ, মশোর মোড় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে যানা যায় । বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগঞ্জ বিওপির একটি টহলদল সুবেদার মোঃ ইমরুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৭৯৩/৫-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৌশলগত ভাবে অবস্থান নেন। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি সাইকেলযোগে সেখানে এলে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দেয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি সাইকেল ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে টহলদল ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হন। আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট,, দুটি বাটন মোবাইল ফোন, তিনটি মোবাইল সিমকার্ড ও একটি সাইকেল জব্দ করে। আটক রাকিব ইসলাম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই গ্রামের মোঃ আইবুল ইসলামের ছেলে বলে যানা যায় । পরে আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে যানা যায়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে ডিমলা থানা ওসি আশরাফুল ইসলাম।