নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে স্থানীয় এক নারী মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি ও হামলার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনাস্থল হিসেবে পূর্ব মানিকনগরের একটি ঠিকানা এবং ঘটনার সময় হিসেবে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নাবালক শিশুদের টার্গেট করে মাদক ব্যবসা ও দেহব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজের সন্তানদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মতিঝিল এলাকায় বদলির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে, আর অভিযোগের নিষ্পত্তিই বা কবে?
অভিযোগের পরও পাঁচ কনস্টেবল বহাল
মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবল এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের দায়িত্ব পালন ও কথিত অর্থ লেনদেন নিয়ে আগেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথাও এলাকায় আলোচিত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ নেই।
তাই প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করেছে?
‘মোটা ঘুষ’—অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়?
ফাঁড়িকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, বিভিন্ন ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে।
তবে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সাক্ষ্য, লেনদেনের প্রমাণ, কল রেকর্ড, লিখিত অভিযোগ, মামলা-জিডির নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
অতএব তদন্তের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
অভিযোগপত্রেই গুরুতর তথ্য
১৮ সেপ্টেম্বরের লিখিত অভিযোগে বাদী শাকিলা আক্তার রুমা তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার ঘটনায় তিনি আহত হয়ে মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসাপত্র সংযুক্ত করেছেন।
এখন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি—ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছে কি না, কারা জড়িত এবং অভিযোগের সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না।
প্রশ্ন এখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে
১. ১৮ সেপ্টেম্বরের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কে ছিলেন?
২. অভিযোগের পাঁচ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার কারণ কী?
৩. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হয়ে থাকলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে?
৪. মানিকনগর ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো বিভাগীয় যাচাই হয়েছে কি?
৫. অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি?
তথ্যবক্স | নথিতে যা আছে
অভিযোগের তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অভিযোগের ধরন: মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি, হামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন
অভিযোগকারী: শাকিলা আক্তার রুমা
থানা: মুগদা, ঢাকা
ঘটনাস্থল: পূর্ব মানিকনগর
অভিযোগে উল্লেখিত সময়: সকাল ৭টা
চিকিৎসা: মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—অভিযোগপত্র অনুযায়ী
বর্তমান প্রশ্ন: তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?
মানিকনগর ফাঁড়িকে ঘিরে আগে থেকেই মাদক, জুয়া ও অর্থ লেনদেনের নানা অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। তার মধ্যে লিখিত অভিযোগ, তদন্তে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়গুলো নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিতে হবে; অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তদন্ত না হলে কোনো পক্ষই স্বচ্ছ জবাব পাবে না।
মানিকনগরবাসীর প্রশ্ন—অভিযোগ জমা পড়েছে, সময়ও পেরিয়েছে; এখন তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগে স্থানীয় এক নারী মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি ও হামলার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনাস্থল হিসেবে পূর্ব মানিকনগরের একটি ঠিকানা এবং ঘটনার সময় হিসেবে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নাবালক শিশুদের টার্গেট করে মাদক ব্যবসা ও দেহব্যবসায় জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজের সন্তানদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাকে মারধর, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মতিঝিল এলাকায় বদলির বিষয়টি সামনে এসেছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে, আর অভিযোগের নিষ্পত্তিই বা কবে? অভিযোগের পরও পাঁচ কনস্টেবল বহাল মানিকনগর পুলিশ ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবল এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের দায়িত্ব পালন ও কথিত অর্থ লেনদেন নিয়ে আগেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথাও এলাকায় আলোচিত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের হাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ নেই। তাই প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করেছে? ‘মোটা ঘুষ’—অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়? ফাঁড়িকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, বিভিন্ন ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে। তবে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন সাক্ষ্য, লেনদেনের প্রমাণ, কল রেকর্ড, লিখিত অভিযোগ, মামলা-জিডির নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। অতএব তদন্তের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগপত্রেই গুরুতর তথ্য ১৮ সেপ্টেম্বরের লিখিত অভিযোগে বাদী শাকিলা আক্তার রুমা তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ প্রয়োজন। অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেছেন, হামলার ঘটনায় তিনি আহত হয়ে মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চিকিৎসাপত্র সংযুক্ত করেছেন। এখন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি—ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছে কি না, কারা জড়িত এবং অভিযোগের সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না। প্রশ্ন এখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ১. ১৮ সেপ্টেম্বরের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কে ছিলেন? ২. অভিযোগের পাঁচ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ার কারণ কী? ৩. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হয়ে থাকলে তদন্তের দায়িত্ব কার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে? ৪. মানিকনগর ফাঁড়ির পাঁচ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো বিভাগীয় যাচাই হয়েছে কি? ৫. অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি? তথ্যবক্স | নথিতে যা আছে অভিযোগের তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অভিযোগের ধরন: মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি, হামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন অভিযোগকারী: শাকিলা আক্তার রুমা থানা: মুগদা, ঢাকা ঘটনাস্থল: পূর্ব মানিকনগর অভিযোগে উল্লেখিত সময়: সকাল ৭টা চিকিৎসা: মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—অভিযোগপত্র অনুযায়ী বর্তমান প্রশ্ন: তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়? মানিকনগর ফাঁড়িকে ঘিরে আগে থেকেই মাদক, জুয়া ও অর্থ লেনদেনের নানা অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। তার মধ্যে লিখিত অভিযোগ, তদন্তে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়গুলো নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিতে হবে; অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তদন্ত না হলে কোনো পক্ষই স্বচ্ছ জবাব পাবে না। মানিকনগরবাসীর প্রশ্ন—অভিযোগ জমা পড়েছে, সময়ও পেরিয়েছে; এখন তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?
বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাস, চোরাচালানে সহযোগিতা, বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই পণ্য ছাড় এবং অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. আমিনুল ইসলাম ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিজীবনে তিনি কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম ও ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব কর্মস্থলেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা কাস্টম হাউসের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য খালাসের বিষয়টিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, Alien Apparels Ltd, Uranus Apparels (Pvt.) Ltd এবং QUICK APPARELS LIMITED নামে তিনটি বন্ধ বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কুরিয়ার খাঁচায় আসা পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়ায় আমিনুল ইসলামের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনায় কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ শাখার একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করলে ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও অবৈধভাবে পণ্য খালাসে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে কাস্টমসের সরকার হানিফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হানিফ ও শরিফ নামে আরও দুই ব্যক্তির সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, ভুয়া ইউডি ব্যবহার করে পণ্য খালাসের ঘটনায় ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে আমিনুল ইসলামের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। এ কারণে ঘটনাটি ফৌজদারি মামলায় না নিয়ে অন্যভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি পাওয়া যায়নি। শিশু খাদ্য ও প্রসাধনীজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকার পরও প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব পণ্য ছাড়ের বিনিময়ে আমিনুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিপুল অর্থ লেনদেনের এই দাবির পক্ষে কোনো ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের রেকর্ড বা অন্য কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগে ‘Closet Cloud’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের এক নিকটাত্মীয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন ও টিআইএন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সাবিহা জাহানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের সদ্য সাবেক সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নামও এসেছে। অভিযোগকারীর দাবি, মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন অনিয়ম এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আমিনুল ইসলামের আয়কর নথি নম্বর উল্লেখ করে তার বৈধ আয়, ঘোষিত সম্পদ ও জীবনযাপনের মধ্যে অসামঞ্জস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, তার সম্পদ ও আয়ের উৎস যাচাই করা হলে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে ভুয়া ইউডি, শুল্ক ফাঁকি, বিএসটিআই ছাড়পত্র ছাড়া পণ্য খালাস এবং কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
রংপুর গণপূর্ত বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে বিভাগটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উঠেছে গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের দিকেও। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। রংপুরেও সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও পেশাগত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞাপনের কথা বলে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তাকে ৭ লাখ টাকার একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগটির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে চেক বা লেনদেনের কোনো নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে ‘একই জায়গায় বারবার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয় বলে জানা গেছে। রংপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে করা ওই আবেদনে তামিম ইকবাল, আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদা, আরমান, আব্দুর রশীদ মিয়া, সুজন মিয়া ও আলমগীরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, অভিযোগ দাখিলের প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক গেলে ঠিকাদার আবু বকর সিদ্দিক মিঠু তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আতিকুর রহমানের অভিযোগ, এ সময় তাকে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে একই ঠিকাদার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ফেরদৌসি আক্তার এবং সাংবাদিক ও এনসিপি নেতা রুস্তম আলী সরকার ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, হাজীরহাটে নভোথিয়েটারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেকোরেশন বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার মিঠু চক্রের বিরুদ্ধে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বৈদ্যুতিক, সাউন্ড সিস্টেম, এসি সরবরাহ ও সিভিল কাজসহ বিটা প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন টেন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের সমন্বয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন একই দপ্তরে থাকার প্রশ্ন অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলম ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কীভাবে একই দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন এবং এর মধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করানো হয়েছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাফিউল মন্ডলের বিরুদ্ধেও টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চললেও অনেক প্রকল্পে যথাযথ সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রকল্পের ব্যয়, ঠিকাদার ও কাজের সময়সীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিজার্ভার নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রংপুর মেডিকেল কলেজের পেছনে রিজার্ভার নির্মাণকাজ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ যথাযথভাবে না করায় পাশের ভবন ও আশপাশের রাস্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য খনন করা মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, পুরোনো ইট ব্যবহার এবং নির্ধারিতসংখ্যক ট্যাংক স্থাপন না করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ২০২০-২১ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজিয়া সুলতানা নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অডিটের কথা বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে এক ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ঠিকাদারদের বৈষম্যের অভিযোগ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, কাজের ভাগ-বাটোয়ারা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়। ই-জিপি ও ওটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী—বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহারিয়া আরেফিনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন রংপুরে কর্মরত থাকার সুযোগে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আরএফকিউ ও কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের বিভিন্ন কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি প্রকাশ্যে আসেনি। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। পরে বদলি হয়ে আবার রংপুরে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ নিয়ে প্রশ্ন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ক্যান্সার রোগী ও সচেতন নাগরিকরা। এ ছাড়া জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পাঁচতলা রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের কাজও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, তার জানা মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক রংপুরে আসেননি। এর কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তদন্তের দাবি রংপুর গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্য এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানকে অর্থ দিতে হয় এবং এ কারণেই কাজ শেষ করতে তাকে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বক্তব্যও পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।