অপরাধ

ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট

হোসেন মাঝি অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট
ঢাকা ওয়াসায়

 

আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির পানি সরবরাহের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং দাবি করা টাকা না পেলে পুনরায় বেশি হারে বিল চাপিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওয়াসার একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়া ও নেতৃত্বে এসব অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সহযোগী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর কম্পিউটার অপারেটর মাহাদীর নামও এসেছে।

এক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিজ্ঞতায় এ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকা পানির সংযোগ আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আবাসিক শ্রেণিতে বিল আসতে শুরু করে। তবে কোনো আবেদন ছাড়াই আগস্ট মাসে সংযোগটি আবার বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে পুনরায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, আগের সব বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ হলে রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে বিলিং ক্যাটাগরি।


ওয়াসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিং সহকারী জানান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের চুক্তিতে যান। সেই চুক্তি অনুযায়ী সংগৃহীত অর্থ সিআরওর মনোনীত রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অর্থ পাওয়ার পর সিআরওর নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়। দিন শেষে লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান ওই বিলিং সহকারী।

ওয়াসার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা।

এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন অনিয়মের সব অভিযোগ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

অপরাধ

View more
রাজউকের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
রাজউকের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

  রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার, স্বজনতোষণ, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজউকের জোন-৫ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রকল্প দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (অতিরিক্ত দায়িত্বে উচ্চমান সহকারী) ফাতেমা বেগম মলি এবং এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজ। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই ধরনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করার সুযোগে তারা রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল, ঠিকাদারদের বিল, চুক্তি সম্পাদন, বোর্ড সভার কার্যপত্র, ভবন নির্মাণের নকশা এবং এস্টেট ও ভূমি-সংক্রান্ত নথি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফাইল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ: অভিযোগ অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন, ঠিকাদারি চুক্তি, রানিং বিল ও ফাইনাল বিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ফাতেমা বেগম মলির টেবিল হয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হতো। অন্যদিকে অর্থ না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ঠিকাদারের কাজের বাস্তব অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই না করেই বিল ছাড়ের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজের বিপরীতে সরকারি অর্থ পরিশোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। স্বামীর প্রতিষ্ঠানে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ: ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো—তার স্বামীর মালিকানাধীন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে রাজউকের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, দাপ্তরিক দায়িত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের তথ্য, ফাইলের গতিপ্রকৃতি এবং প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোন কোন কাজ কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গেছে এবং এতে সরাসরি তার দাপ্তরিক ভূমিকা ছিল কি না—তা নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভূমি ও এস্টেট শাখায়ও অনিয়মের অভিযোগ: অন্যদিকে রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভূমি ও এস্টেট-সংক্রান্ত নথি, আবেদন, ফাইলের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে কাজ এগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের আয় ও চাকরিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধানের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে কী পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে রয়েছে, সম্পদের বৈধ উৎস কী এবং এসব সম্পদ অর্জনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করতে সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাই প্রয়োজন। তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র: অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট ফাইল, টেন্ডার ও ক্রয়সংক্রান্ত নথি, ঠিকাদারি চুক্তি, বিল-ভাউচার, বোর্ড সভার কার্যপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও নেওয়া জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতা

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি আজ

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি আজ

জুলাই হত্যা মামলার আসামি ৫ আ.লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানে ডিএনসিসির ৮০৫ কোটি টাকার কাজ

জুলাই হত্যা মামলার আসামি ৫ আ.লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানে ডিএনসিসির ৮০৫ কোটি টাকার কাজ

ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট
ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, নেপথ্যে সিআরও আনোয়ারের সিন্ডিকেট

  আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির পানি সরবরাহের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং দাবি করা টাকা না পেলে পুনরায় বেশি হারে বিল চাপিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওয়াসার একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়া ও নেতৃত্বে এসব অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সহযোগী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর কম্পিউটার অপারেটর মাহাদীর নামও এসেছে। এক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিজ্ঞতায় এ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকা পানির সংযোগ আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আবাসিক শ্রেণিতে বিল আসতে শুরু করে। তবে কোনো আবেদন ছাড়াই আগস্ট মাসে সংযোগটি আবার বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে পুনরায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, আগের সব বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ হলে রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে বিলিং ক্যাটাগরি। ওয়াসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিং সহকারী জানান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের চুক্তিতে যান। সেই চুক্তি অনুযায়ী সংগৃহীত অর্থ সিআরওর মনোনীত রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অর্থ পাওয়ার পর সিআরওর নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়। দিন শেষে লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান ওই বিলিং সহকারী। ওয়াসার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা। এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন অনিয়মের সব অভিযোগ।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান ৫০টি চোরাই ভারতীয় মোবাইল জব্দ

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান ৫০টি চোরাই ভারতীয় মোবাইল জব্দ

রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপ্রক্রিয়া
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপ্রক্রিয়া

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর পরিকল্পনা বিভাগে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী মো. নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে স্থপতি পদে নিয়োগ নেওয়া, প্রায় ২২ বছর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাভার পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট সময়ে সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ পদ ছিল না। এমনকি ওই পৌরসভায় নজরুল ইসলামের চাকরির তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য পাঁচ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্বও পেয়েছেন। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে স্থপতি পদে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর তাঁকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথির স্বাধীন যাচাই এবং আইনগত পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট নয়। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও এই শর্তের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের আবেদনের সঙ্গে নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় কাজ করার একটি অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। কিন্তু সনদে উল্লিখিত সময়ে ওই পৌরসভায় সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ নামে কোনো পদ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি ওই সময়ে তিনি সাভার পৌরসভায় অন্য কোনো পদেও চাকরি করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাভার পৌরসভার রেকর্ডপত্রেও নজরুল ইসলামের চাকরির গ্রহণযোগ্য তথ্য নেই। এ দাবি সত্য হলে নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতার শর্ত তিনি পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময়ই তাঁর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। এ বিষয়ে অভিযোগও জমা পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর নিয়োগপত্র দীর্ঘদিন আটকে ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয় ও বড় অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময় সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন, আপত্তি ওঠার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোন নথি বিবেচনা করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। সে সময় স্থপতি পদে দায়িত্ব পালনকারী সিরাজুল ইসলামকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা তাঁর ছিল না। স্থপতি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এরপরও তিনি প্রায় ২২ বছর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে বহাল ছিলেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সাময়িকভাবে কোনো কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই সময়ে মেয়র, প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, কেন পদটিতে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তগুলো কোন প্রশাসনিক যুক্তিতে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ডিএসসিসির তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর মো. নজরুল ইসলামকে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নগর পরিকল্পনাবিদের মূল পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর নিয়োগের সময় দাখিল করা অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে পদে নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল, তা পূরণ হয়েছিল কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে নিয়োগের বৈধতা, দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক ভিত্তি এবং পরবর্তী পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠতে পারে। ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগ ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত। ফলে এ বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নগর উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য ছাড়া ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে যোগ্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতা, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্বে পদ পরিচালনা এবং নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নজরুল ইসলামের সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদ কে যাচাই করেছিলেন এবং কীভাবে তা গ্রহণ করা হয়েছিল, সনদে উল্লেখ করা পদ ও চাকরির মেয়াদের সঙ্গে পৌরসভার মূল নথির মিল রয়েছে কি না এবং নিয়োগের সময় ওঠা অভিযোগ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। একইভাবে, সিরাজুল ইসলাম কী ভিত্তিতে ২০০৪ সাল থেকে দীর্ঘ সময় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পসংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থানও প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। সাভার পৌরসভার নথি, ডিএসসিসির নিয়োগ ফাইল, সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি সামনে এসেছে। মূল প্রশ্ন শুধু কে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্বে আছেন, তা নয়; বরং নিয়োগের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে

২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে

ইমদাদুল-মিজান সিণ্ডিকেটের সার গ্রাস, নড়েচড়ে বসেছে দুদক

ইমদাদুল-মিজান সিণ্ডিকেটের সার গ্রাস, নড়েচড়ে বসেছে দুদক

এত মধু চট্রগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে, চেটে খাচ্ছে সহকারী পরিচালক!

এত মধু চট্রগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে, চেটে খাচ্ছে সহকারী পরিচালক!

0 Comments