ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবারের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। পাকিস্তানের প্রস্তাবে এবং ইরানের সম্মতিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরিণতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের জনগণকে সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে রেজায়ি আলোচনাকে ‘খুবই ভালো’ বলে বর্ণনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে নতুন একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং আলোচনায় তিনি ইতিবাচক পরিস্থিতি অনুভব করেছেন। সৌদি আরব জানিয়েছে, সামরিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আলোচনার পথ খোলা রাখাই এ সফরের উদ্দেশ্য। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে এ ধরনের আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে চার দেশ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি উপস্থিত ছিলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়াতে যেকোনো সমঝোতাকে সমর্থন করে ইরান। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার ও বিরোধ নিষ্পত্তিতেও দেশটি প্রস্তুত। সূত্র: তাসনিম; আল অ্যারাবিয়া
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১২তম পার্লামেন্টারি ফোরামে অংশ নিচ্ছেন না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ কারণে তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। তবে গালিবাফ না গেলেও ইরানের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের দূতাবাস এ তথ্য জানায়। তবে গালিবাফের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন ও বিভিন্ন বৈঠকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় ও কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই ধারাবাহিকতায় দেশটির সংসদীয় প্রতিনিধিদল ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাবে। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের উদ্যোগে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। তখন জোটটির নাম ছিল ‘ব্রিক’। চার বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে এর নাম হয় ‘ব্রিকস’। পরে জোটটি সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে এর সদস্যদেশের মধ্যে রয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াও।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। গতকাল চেন্নাইয়ে ভোটার তালিকার অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়। বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটে গত ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এটিই টিভিকে ও দলটির প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের প্রথম বিক্ষোভে অংশগ্রহণ। গণতন্ত্র রক্ষা’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে চেন্নাইয়ের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের সাতটি শরিক দলের নেতারা অংশ নেন। গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। এর কয়েক দিন পরই কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিল তার দল। কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সাউথ ফার্স্ট জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় ও তার দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের সাফল্যের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। চেন্নাইয়ের বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেন তারা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু তামিলনাড়ুতেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, এসআইআরের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধানের মূল চেতনার ওপর আঘাত করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়। এ কারণে তাঁরা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট)’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের ‘বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই বৈশ্বিক কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঐতিহাসিক বৈশ্বিক কাঠামোকে সমর্থনকারী দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেন। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি সম্মেলনে ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উন্মোচন করা হয়। বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই বৈশ্বিক ঘোষণার পাশাপাশি সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে, মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে।
ভারতে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে লন্ডনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি । শনিবার ব্রিটিশ রাজধানীতে পার্লামেন্ট স্কয়ারের বাইরে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাঠি জানান, তিনি লন্ডনে পৌঁছেছেন। সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনিবার দুপুর ১২টায় পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পোস্টে রাঠি লেখেন, ‘আপনারা যদি এখানে থাকেন, তাহলে আগামীকাল দুপুর ১২টায় পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।’ এ সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পোস্টে হিন্দিতে রাঠি লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলে ঢাক পেটানোর সময় এসে গেছে।’ পোস্টের শেষে তিনি ‘জয় হিন্দ’ লেখেন। লন্ডনে বিক্ষোভের এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যার এক সপ্তাহ আগে দিল্লিতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস
অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ শুক্রবার সরকার পরিবর্তনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তন অবশ্যই নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমে হতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের তুলনা করেন, যেখানে যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের অস্বীকৃতিই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবিকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নাগরিকেরা প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।”
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। গতকাল বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে এ দণ্ড দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হিজরি ১৪৪৮ সালের ৩ জমাদিউল আউয়াল, অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিবৃতিতে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন বা অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আইন কার্যকর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। সূত্র: আজেল নিউজ
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বিভিন্ন দেশের ঋণের বোঝা নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পাশাপাশি ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গত আট মাসের বেশির ভাগ সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এতে বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ বেড়েছে। জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের এই বৈঠকে অংশ নেবেন অধিকাংশ সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা। থাকবেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী ও জি-২০-এর বর্তমান সভাপতি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট বৈঠকে থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে বেসেন্ট বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর বদলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন উপঅর্থমন্ত্রী ফ্রান্সিস ব্রুক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এরিন ব্রাউন। জি-২০-এর অর্থমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকগুলোর একটি এটি। এ বৈঠকের আলোচনা আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের মূল সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে। অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স বৈঠকের আগে বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব অর্থনীতির এখন এটাই জরুরি প্রয়োজন। এক বিবৃতিতে চালমার্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ ঋণের বোঝা ও বাণিজ্যবিরোধও আলোচনায় বৈঠকে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সরকারি ঋণ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বুধবার এক বক্তব্যে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সরকারের কর বাড়ানো বা ব্যয় কমানোর প্রয়োজন এড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি’ সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জি-২০-এর সদস্যদেশগুলো তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরো কিছু বিষয় বৈঠকে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ব্যবস্থার কারণে চীনের রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য বিদেশের বাজারে ছাড়তে পারছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চীনের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের ক্রমপুঞ্জীভূত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার। বুধবার আইএমএফের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসেন্ট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অ-বাজারভিত্তিক নীতি ও চর্চা এবং বিনিময় হার কীভাবে বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, তা নিয়ে আইএমএফের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার করা প্রয়োজন।’ বেসেন্ট আরো বলেন, ‘কিছু অর্থনীতির বাজার বিকৃতকারী নীতি প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের কঠিন আলোচনা করতে হচ্ছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ উঠেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এরমধ্যেই কর্ণাটকের একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ দেখাতে না পারায় ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৩ সালে কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। প্রথমে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেন। এরপর এই কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পোস্টাল ব্যালটের গণনায় ২০১ ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী। এই ফলাফল নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টেও। কংগ্রেস প্রার্থী গণনা এবং পুনর্গণনার ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানোর আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জিব সচদেবের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথি প্রকাশ্যে আনা উচিত কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রী নায়ডু আদালতে জানান, গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি দেশটির শীর্ষ আদালত। কমিশনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দুই বিচারপতি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের উদ্দেশে বলে, ‘কীভাবে আপনারা বলতে পারেন যে আমরা (ভিডিও রেকর্ডিং) খোঁজার চেষ্টা করছি? যা তথ্যপ্রমাণ আপনাদের কাছে আছে, পরের শুনানিতে তা জমা করুন। না হলে আমরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হব। আমরা এ ধরনের বাজে অজুহাত শুনব না।’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ ফেব্রুয়ারি। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগে এক সৌদি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের আবদুল রহমান আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর দপ্তরের একটি কক্ষে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান সংস্থার কর্মীরা। আলফোজানের বিরুদ্ধে সংস্থার সান ফ্রান্সিসকোর কার্যালয়ে গোপন অডিও রেকর্ডিং যন্ত্র বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। তবে এখন পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য বা গ্রাহকদের তথ্য চুরি হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আমেরিকার বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটি ঘরের একটি টেলিভিশনের পেছনে ইউএসবি সংযোগে লাগানো ছিল। বাইরে থেকে যাতে সহজে বোঝা না যায়, সে জন্য সেটিকে টিস্যু পেপারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই রুমে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং ভবিষ্যতের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতো। ফলে সেখানে গোপনে কথাবার্তা রেকর্ড করার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, নজরবিহীন জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও উচ্চ সুদহারের চাপে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশে দেশে চলছে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার উদ্যোগ। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ সোমবার শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণের বোঝা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিজেদের সদর দপ্তরের বাইরে হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব অর্থনীতি যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি। বিশ্ব অর্থনীতি এত বড় ধাক্কা এককভাবে সামলাতে পারছে। তবে নতুন করে চাপ বাড়ছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সারে খরচ বেড়ে যাওয়া ও এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এল নিনোর কারণে তীব্র তাপপ্রবাহসহ প্রতিকূল আবহাওয়া আসতে পারে। জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে বিশ্বের সাতটি বৃহৎ অর্থনীতির জোট জি-৭ জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, শুধু এল নিনো নয়, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঋণের চাপে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই পূর্বাভাস কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ইউক্রেন এবং ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। আইএমএফ আরও বলছে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম অনেকটা বেড়ে গেলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে দারিদ্র্য বাড়বে। হুমকির মুখে পড়বে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আইএমএফের হিসাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত বেশি। তবে উদীয়মান ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোও ঝুঁকিতে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেশি থাকায় এসব দেশ থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করে আইএমএফ। বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। চাপ পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে সুদের হার বৃদ্ধি ও ঋণমান সংস্থার পূর্বাভাস ইতিবাচক না হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বড় বাজারে চাহিদা কমে গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ব্যাংককের আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের এই সম্মেলনে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক বৈঠকের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৬ অক্টোবর। এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর উন্নয়ন কমিটির বৈঠক এবং ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের সমর্থকেরা। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ২৮ বছর বয়সি এক বিক্ষোভকারী অভয় আরিয়ান বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কত বড় জনসমাগম হয়েছে। সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে।’ সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ গেছে। সমালোচকদের দাবি, এ পদক্ষেপে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন এবং ভুয়া এন্ট্রি বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মেহভাইশ নামের এক ব্যক্তি বলেন, মোদি সরকারের অধীনে গত ১২ থেকে ১৩ বছরে যে অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন, তা আর সহ্য করতে পারছেন না তাঁরা। তার ভাষায়, ‘এখন যদি আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আর কী থাকে?’ মানবাধিকারকর্মী ও সরকারের সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, মোদি সরকারের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে সরকার। নিরাপত্তা জোরদার, আটক হাজারো বিক্ষোভকারী টানা তৃতীয় দিনের মতো সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ভারী ধাতব ব্যারিকেড। বন্ধ রাখা হয় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। সোমবারের মিছিলে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে গেলে বিক্ষোভকারীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে রিট আবেদন করেন তিনি। এর আগে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে আয়োজকসহ হাজারো মানুষকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের তিনজন শীর্ষ নেতাও রয়েছেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা ও প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, রোববারের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে হেনস্তা, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া এবং মারধর করেছে। তার ভাষায়, এটি শুধু একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের আটক করে। ডিজিটাল সাংবাদিক নীতিন কাটিয়ার ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে জানান, পুলিশ তাঁর চোখে ঘুষি মেরেছিল। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে এবং বিক্ষোভের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলেও পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি। মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলন এখন মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অধিকারকর্মীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জন্তর মন্তরকে আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারিত রাখা হচ্ছে না। এর পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা। আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বন্ধ করে দিলেই প্রতিবাদ থামবে না। তার ভাষায়, ‘জন্তর মন্তর শুধু একটি জায়গা নয়, এটি প্রতিরোধের চেতনা—যা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ এদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটাধিকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আন্দোলন আরো বিস্তৃত হলে তা মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স
‘ভোট চুরির’ বিরুদ্ধে করা মামলায় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার দুপুরে দিল্লিতে কংগ্রেসের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমাতে পারছেন না।’ ভারতের সিইসিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা। আপনি (জ্ঞানেশ) অপরাধ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।’ সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সরকার ভেঙে দেওয়ার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আটকের অভিযোগ করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির দাবি, জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) জুনায়েদ আকবরসহ আরও কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছে। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। রোববার কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করে গভর্নরের শাসন চালু করা হয়। এর ফলে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে পিটিআই। শনিবার ছিল এই কর্মসূচির সপ্তম দিন। ওই দিনও মিছিলটি প্রদেশের ভেতরেই ছিল। পিটিআইয়ের প্রাদেশিক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শাফি জান অভিযোগ করেন, লংমার্চ চলাকালে সোহেল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আটকের সময় আফ্রিদি তার সঙ্গে ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পায়নি ডন। পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখার নেতা শহিদ খাত্তাকও অভিযোগ করেছেন, জুনায়েদ আকবরসহ দলের আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, লংমার্চে তিনি নেতৃত্ব দেবেন। পিটিআইয়ের নেতারা এসব আটকের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচিত নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলটির মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির ঘটনা থেকে আটকের অভিযোগকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করে। তিনি আটক নেতাদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দলের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে বলেন, ‘সোহেল আফ্রিদি কোথায় আছেন, তাকে কী অবস্থায় রাখা হয়েছে—আমরা কিছুই জানি না। জুনায়েদ আকবরেরও কোনো খোঁজ নেই।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল আফ্রিদি আছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। তালাল চৌধুরীর ভাষ্য, যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যারা পুলিশের খোঁজের তালিকায় নেই, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখন বাংলাদেশকে আর কেবল দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কে নয়, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়ার।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পর্বের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইইউ রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অংশীদারিত্ব থাকলেও এখন আর সেই পুরোনো সম্পর্কে আটকে থাকা সম্ভব নয়। ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ করেনি—এমন কোনো দেশের সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়া এটাই প্রথম। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ সামাল দিতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই সংস্কার কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) পরিবারের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। তিনি দেশটির ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। ১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মাহাথির মোহাম্মদের দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রয়াণে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমা বা স্টেট দুমার নির্বাচনে ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫০ আসনে বিজয়ী হয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ ফলাফল থেকে জানা গেছে এ তথ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন দুমার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছে রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে রাশিয়ার মোট ভোটারের ৫৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এবং শতকরা হিসেবে মোট গণণাকৃত ভোটের ৫৮ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে শুরু, তারপর টানা ২৫ বছর ধরে স্টেট দুমা শাসন করছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। প্রতি ৫ বছর পর পর দুমার নির্বাচন হয়। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনের আগে গত ২৫ বছরে আরও ৪টি নির্বাচন হয়েছিল এবং প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে পুতিনের রাজনৈতিক দল; কিন্তু এত বড় বিজয় বা এত বেশি ভোটপ্রাপ্তি এবারই প্রথম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার মস্কো প্রতিনিধি দিমিত্রি মেদভেদেঙ্কো বলেছেন, “এই ফলাফল এবং প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারের বিপুল অংশগ্রহণকে মস্কো সম্ভবত তাদের কর্মকাণ্ডের—বিশেষ করে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপের প্রতি জনসমর্থন হিসেবে এবং নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখবে।” এর আগে দুমার সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালে; আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। সেই হিসেবে এই প্রথম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় এই প্রথম দুমার নর্বাচন হলো। রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন এল্লা পামফিলোভা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির পর দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়ান কমিউনিস্ট পার্টি। ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্টেট দুমার ৪০ আসনে জয়ী হয়েছে এ দলের প্রার্থীরা। এছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি আসন এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসনে জয় পেয়েছে।
এবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর একাধিক বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন–এমন খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ভারত। সেইসঙ্গে সামাজিকমাধ্যম ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট–চেকিং ইউনিট সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখে, ‘ফেক অ্যালার্ট’। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের ক্ষতিকর পোস্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এরআগে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিক্স সম্মেলনের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে তাকে চীনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চীন সরকারিভাবে কিছু জানা যায়নি এবং এই দাবির সত্যতাও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামফোসা । ব্রিক্স সম্মেলন থেকে ফেরার পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকেদের পরামর্শে তিনি বিশ্রামে আছেন। এই সময়ে কোনো জনসংযোগমূলক কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন না। এই সময়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তবে ভারত সফরকালেই নাকি দেশে ফেরার পরে তিনি অসুস্থ হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস সম্মেলন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত সব রাজ্যে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতাসীনদের এই উদ্যোগ ভারতে বসবাসকারী বিশাল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতে বসবাসকারী ১৪০ কোটি মানুষের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইন এক হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি সর্বজনীন আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল। ভারতের অন্তত চারটি রাজ্য ইতোমধ্যেই এই নতুন আইন চালু করেছে। রোববার (ভারতের) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি এবং আমি আশাবাদী, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যের সবকটিতেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে।’ একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের এই পদক্ষেপ বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এই আইনের সমর্থকরা দাবি করছেন, এটি বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করবে, সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের সমানাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক করে মুসলিম নারীদের অধিকার সমপর্যায়ে নিয়ে আসবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত মূলত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে দেশটিতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম গোষ্ঠী
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জোটের নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা যাবে না। খবর এনডিটিভির। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে গৃহীত ১৪০ দফার ঘোষণাপত্রের ৪০তম দফায় পেহেলগাম হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছেন তারা। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। পেহেলগামের বৈসারান উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর চালানো ওই হামলা ভারতের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও স্থানীয় এক ঘোড়ার গাড়িচালক ছিলেন। ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সব কর্মকাণ্ডই অপরাধমূলক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল বা কারা তা সংঘটিত করেছে, তা বিবেচনা না করেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। ঘোষণাপত্রে কোনো রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর প্রতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে দ্বৈত মানদণ্ড প্রত্যাখ্যান এবং জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘোষণাপত্রে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রবাদ ও মৌলবাদী চিন্তার বিস্তার ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর আগেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ব্রিকস। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেও হামলাটির নিন্দা জানানো হয় এবং সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এরপর চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনেও পেহেলগাম হামলার নিন্দা জানানো হয়।
বাংলাদেশ থেকে কোনো ইসলামিক বক্তাকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুভেন্দু বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আসতেন। তবে বিজেপি সরকারের আমলে তাদের আর পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ থেকে দুই বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে আসা এক ধর্মীয় বক্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, ওই বক্তা জনসংখ্যা বাড়িয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘দু’বছর আগে বসিরহাটে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা এক হুজুর বলছেন—আমেরিকার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে, আমরা জনবিস্ফোরণ করে পারমাণবিক অস্ত্রকেও ধ্বংস করে দিতে পারি। তিনি এখানে এসে জনবিস্ফোরণ ও ডেমোগ্রাফি (জনবিন্যাস) বদলে দেওয়ার কথা বলছেন।’ শুভেন্দুর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ‘আধ্যাত্মিক জাগরণের’ প্রয়োজন রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই সময় তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।