দেশজুড়ে

পর্ষদে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অনিয়মে সংকটগ্রস্ত পূবালী ব্যাংক
পর্ষদে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অনিয়মে সংকটগ্রস্ত পূবালী ব্যাংক

  পর্ষদে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আদালতের রায় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বারবার অমান্য করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের পুনরাবৃত্তি; সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে পুরোনো বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পূবালী ব্যাংকের সুশাসন গভীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনুসন্ধানে ব্যাংকটিতে গুরুতর অনিয়ম বের হলেও তদন্ত স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটা প্রমাণ হয় যে, পরিচালনা পর্ষদে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ও দুর্বল তদারকি পূবালী ব্যাংককে ঠেলে দিয়েছে কাঠামোগত সংকটের দিকে। এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অনিয়ম। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বারবার এসব সমস্যা চিহ্নিত করলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের (এফআইাসিএসডি) আংশিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পূবালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা ডলার বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত বাজারদরের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করেছে। এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে না গিয়ে অন্য এক গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়েছে ; যা ব্যাংকিং আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে টাইমস অব বাংলাদেশ এই অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তৈরি করা অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল বাজার রোড শাখার গ্রাহক মোহাম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার অ্যান্ড মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেড ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ডলারের একটি আমদানি এলসি খোলে। এলসির দায় নিষ্পত্তির সময় ব্যাংকটি বাজারদরের তুলনায় প্রতি ডলারে প্রায় ৬ দশমিক ৫ টাকা বেশি নেয়। ওই অতিরিক্ত অর্থ সবমিলিয়ে হয় প্রায় ১৪ দশমিক ৫ লাখ টাকা। যা একই দিনে মতিঝিল করপোরেট শাখার গ্রাহক রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেডের হিসাবে জমা করা হয়। রিফাত গার্মেন্টস হা-মীম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান দ্যাটস ইট ফ্যাশনস লিমিটেড পূবালী ব্যাংকের বড় শেয়ারহোল্ডার। দ্যাটস ইট ফ্যাশনসের প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক মন্ডল ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্তকারীরা দেখেছেন, এই অতিরিক্তি দরে ডলার লেনদেন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই বছরে সিলেট শাখায় মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের খোলা চারটি আমদানি এলসিতেও একই নমুনা পাওয়া গেছে, যেখানে ঘোষিত ডলারদরের বাইরে অতিরিক্ত ৮ দশমিক ৮০ লাখ টাকা আদায় করে রিফাত গার্মেন্টসের চলতি হিসাবে জমা করেছে পূবালী ব্যাংক। এফআইসিএসডি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক শাখা ও গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ৬ দশমিক ৫ টাকা থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই উদ্বৃত্ত অর্থ রিফাত গার্মেন্টসের হিসাবে জমা হয়েছে। এই অর্থপ্রবাহের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান দলকে জানিয়েছে, এলসি খোলা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রিফাত গার্মেন্টসের ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। তবে বৈধ লেনদেন প্রমাণে ভ্যাট চালান বা অন্য নথি চাইলে ব্যাংক তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঘোষিত দরের বাইরে অর্থ আদায় করে তা তৃতীয় পক্ষের হিসাবে স্থানান্তর করা অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির মানি লন্ডারিং। কারণ এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস বা করসংক্রান্ত নথি শনাক্ত করা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে একে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তদন্তকারীরা জানান, প্রায় ৫০টি এলসিতে একই ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে। তবু মাত্র পাঁচটি এলসি বিশ্লেষণের পরই এফআইসিএসডি’র অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়। আংশিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দপ্তরে পড়ে রয়েছে। এতে চিহ্নিত আইন-লঙ্ঘনের অপরাধে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে এ ধরনের অনিয়ম পূবালী ব্যাংকের জন্য নতুন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এর আগের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত একটি শাখা সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনে প্রায় ২১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। একই সময়ে সরকারি প্রণোদনা তহবিল থেকে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা অপচয়ের তথ্যও উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকরা সতর্ক করেছিলেন, একটি শাখায় এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখা পরিদর্শনে আরও বড় পরিসরের সমস্যা ধরা পড়তে পারে। তবে ওই অনুসন্ধানও আর এগোয়নি। এদিকে পূবালী ব্যাংকের ঋণ বিতরণ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে খাত সংশ্লিষ্টদের মাঝে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিএফআইইউ’র নথি অনুযায়ী, রিফাত গার্মেন্টস, ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন, করিম গ্রুপ, বন্দর স্টিল, হক গ্রুপ, রানু এগ্রো, তামিম এগ্রোসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ওই ঋণের অর্থ অন্য ব্যাংকের দায় পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তহবিল স্থানান্তর ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পূবালী ব্যাংকের গুরুতর ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। এই ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতেই দুদক ও বিএফআইইউ আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। বড় শেয়ারহোল্ডারদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও ব্যাংকের সম্পদ অপব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে সংস্থা দুটি। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান টাইমসকে বলেন, কমিশন বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে তিনটি আলাদা অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। অভিযোগগুলো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘন এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের অগ্রগতি জানাতে তিনি বলেন, ডলারের অতিরিক্ত দর নিয়ে একটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানে এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, আর বাকি অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান। তিনি আরও জানান, পূবালী ব্যাংক বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন করেছে কি না, এর সঙ্গে কে কে জড়িত, তা যাচাই করা হচ্ছে। ‘তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ৭০টি নিয়োগসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছি, পাশাপাশি ঋণসংক্রান্ত নথিও নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত প্রমাণ বিশ্লেষণের কাজ চলছে।’ এই তদন্তগুলোর পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পুনর্নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হতে ন্যূনতম ২০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, যেখানে আলীর অভিজ্ঞতা ১৬ বছরের। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, এ বিধানটি পূর্বপ্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান টাইমসকে বলেন, নতুন নীতিমালা চালুর আগে যাদের নিয়োগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যারা এমডি পদে আছেন কিন্তু ২০ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক্সেপশনাল কেস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ ব্যাংকের সংকট ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ফোন ও মেসেজে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও এই প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বোর্ডে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পূবালী ব্যাংকের পর্ষদের ভেতরের দ্বন্দ্বটি আদালতের রায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সকেন্দ্রিক একটি ক্ষমতার বলয়ে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিফলন। ২০০৮ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও এর সহযোগী প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিদের হাতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করেছে এবং তদারকি দুর্বল করেছে। পূবালী ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগ এমপি হাফিজ আহমেদ মজুমদার, যিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সময়ের সঙ্গে চেয়ারম্যান বদলালেও নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র বদলায়নি। ২০২০ সালে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধি মনজুরুর রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং এরপর থেকে ওই পদে বহাল রয়েছেন। রহমান চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে মজুমদার ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বড় শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে এবং তাদেরকে পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব থেকে পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। ২০১৩–১৪ সালে ব্যাংকটিতে এক আইনি সংকট তৈরি হয়েছিল, যখন পূবালী ব্যাংকের নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম শেয়ারধারণের শর্ত পূরণ না করায় মজুমদারসহ আট পরিচালককে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট ওই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করেন এবং আপিলে সেই রায় বহাল থাকে, যদিও পর্ষদের কাঠামো বলতে গেলে অপরিবর্তিতই থাকে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও পরিচালক পুনর্নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক বাড়ে। দুদকের নথি অনুযায়ী, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং বহু প্রবাসী শেয়ারহোল্ডার অনুপস্থিত থাকার সময় এজিএম সভা আয়োজন করে প্রক্সি ভোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করে ওই মহল। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালে ১০ জন পরিচালক অপসারণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য চেয়ারম্যান বদলালেও ২০২০ সালে নিয়ন্ত্রণ আবার ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রতিনিধির হাতেই ফিরে যায়। তবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্তও ওই একই সিন্ডিকেটের হাতে পর্ষদ কুক্ষিগত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সংস্থায়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, একক ক্ষমতাকেন্দ্রের দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি দুর্বল করে। আর পুনরাবৃত্ত অনিয়ম ও মাঝপথে থেমে যাওয়া তদারকির প্রেক্ষাপটে খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
বাংলার এপস্টেইন’ আশিয়ান , বিয়ে করতে রাজি না হওয়ার অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
বাংলার এপস্টেইন’ আশিয়ান , বিয়ে করতে রাজি না হওয়ার অভিনেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

  : ঢাকাই সিনেমার মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, বিয়ের জন্য চাপ এবং পরিচয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন তিনি। বাংলাসংবাদ স্নিগ্ধা চৌধুরীর অভিযোগ, গত ২৪ জুলাই রাতে একটি বিজ্ঞাপনের কাজের বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনের সঙ্গে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে দেখা করেন। অভিনেত্রীর দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম তাকে অন্য একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিয়ের জন্য চাপ দেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। স্নিগ্ধা অভিযোগ করেন, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা, হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমনকেও নির্যাতন করা হয়েছে। ইমনের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাতের অভিযোগও করেছেন তিনি। স্নিগ্ধার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরে চিকিৎসা নেন। তার পরিবারের সদস্যরাও দাবি করেছেন, ঘটনার পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তার দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি জানান, স্নিগ্ধাকে তিনি আগে থেকে চিনতেন এবং ঘটনাটি নিয়ে পরে কথা বলবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
ডিমলায় রাস্তার কাজের ব্যাপক অনিয়ম,তদারকীতে গাফিলতি ; কাজ আটকে দিলেন স্থানীয় জনতা
ডিমলায় রাস্তার কাজের ব্যাপক অনিয়ম,তদারকীতে গাফিলতি ; কাজ আটকে দিলেন স্থানীয় জনতা

  মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি) :  নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা নাউতার টু বুড়িরহাট রাস্তাটির মেরামতের কাজ চলমান।    কিন্তু মেরামত চলমান প্রক্রিয়াধীন রাস্তাতে দু'পাশে সোল্ডারের ইট গুলো দুই নম্বর, খোয়া দিয়ে গর্ত সমান না করা এবং পাথরে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিটুমিন না দেওয়া সহ রাস্তার কার্পেটিং করার পূর্বে তেল না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে। যাহার কারনে স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন শ্রমিকগন চলমান কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করা হউক।  সারেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার দুপাশে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দাগন ও পথচারীগণ রাস্তায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত ব্যক্তিদের অবগত করেন কিন্তু তারা তাদের কথা কোর্নপাত না করে উল্টো তাদেরকে ধমক দিয়ে বলেন তোমরা বেশি কথা বলো। কাজ কাজের গতিতেই হবে। তাদের এমন শৈরাচারী মনোভাব দেখে স্থানীয় জনগণ চলমান কাজ আটকিয়ে দেয়।   জনগণের দাবি আমরা চাই এখানে নিয়ম মাফিক কাজের নিশ্চয়তা এখানে এলজিইডি এর কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত থাকবেন এবং তাদের উপস্থিতিতেই রাস্তার কাজ নিয়মমাফিক বুঝে নেওয়া হইবে।  এ ব্যাপারে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিরোজ  আহম্মেদ এর সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি দায়সারা বক্তব্য প্রদান করেন। এবং তাকে ঘটনা স্থলে এসে দেখার জন্য আহ্বান জানানো হইলে তিনি ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন নাই।  উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসার মফিজুল ইসলামকে অনিয়মের  বিষয়টি অবগত করলে তিনি বলেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঘটনার স্থলে দ্রুত লোক পাঠাচ্ছি।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে
জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে

  বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে,আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ৯ জেলায় চলমান স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এদিকে উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব অথবা কিছুটা অবনতি হতে পারে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর: সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ); কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট); সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে।  আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার ভিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে আপার করতোয়া নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অভিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।

News জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

  ​রাঙ্গামাটি  জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,  সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধ্বস এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি সদর জোন। আজ ১১ জুলাই সকালে রাঙ্গামাটি সদর ও কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৮০টি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী   বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত, পিএসসি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র ও সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয় কেন্দ্র এবং কাউখালী উপজেলার আর টি এম সরকারি   প্রাথমিক বিদ্যালয় (ঘাগড়া আশ্রয় কেন্দ্র) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।​পরিদর্শন শেষে জোন কমান্ডার উক্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ৮০টি পরিবারের সর্বমোট ২০৪ জন সদস্যের হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ   সামগ্রী তুলে দেন।ত্রাণ বিতরণকালে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারগণ, সাপছড়ি ও ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।​রাঙ্গামাটি সদর জোন সূত্রে জানানো হয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের পাশে সেনা সদস্যরা সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন।  

News জুলাই ১১, ২০২৬ 0
ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক।
ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক।

  আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টার:---- বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় শাহরিয়ার করিম নামে এক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।আটক শাহরিয়ার করিম ঝিনাইদহ জেলা সদরের উকিলপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঝিনাইদহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন।বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাহরিয়ার করিম ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এলে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে রয়েছে বলে শনাক্ত হয়। পরে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬) এর অধীনে ঝিনাইদহ থানার মামলা নং-২০, তারিখ ৮ জুন ২০২৪, ধারা ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ অনুযায়ী একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণেই তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানিয়েছেন আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন আটক শাহরিয়ার করিমের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ঝিনাইদহ থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ এলে তাদের কাছে সোপর্দ করা হবে। আঃজলিল  স্টাফ রিপোর্টার

News জুলাই ৯, ২০২৬ 0
জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০ আবেদন ভুয়া
জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০ আবেদন ভুয়া

  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দাবি করে জমা পড়া আবেদন যাচাইয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০০ আবেদনে পাওয়া গেছে নানা ধরনের অসংগতি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে জমা পড়া ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই যাচাই করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা মিলেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। কারও চিকিৎসার নথি পাওয়া যায়নি, কারও দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের নাম ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও ধরা পড়েছে। এছাড়া একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন এবং বিভিন্ন তথ্যগত অসংগতিও পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, অসংগতি থাকা আবেদনগুলোর মধ্যে আরও কিছু আবেদন অতিরিক্ত যাচাই শেষে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। নতুন করে ১ হাজার ৫৯০ জন যুক্ত হলে এই সংখ্যা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৯৬০। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আবেদন এখনো গ্রহণ করা হচ্ছে। যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আবেদনকারীদের গেজেটভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, কেউ ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তার নামও বাতিল করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদেরই স্বীকৃতি দিতে প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুয়া আবেদনকারী গেজেটভুক্ত হতে না পারেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ তালিকা আরও হালনাগাদ করা হবে।

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0
আগস্টে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুইবারে ৮ দিনের ছুটির সুযোগ
আগস্টে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুইবারে ৮ দিনের ছুটির সুযোগ

  আগামী আগস্ট মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুই দফায় টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মাসটিতে দুটি সাধারণ সরকারি ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি ছুটির পরের কর্মদিবসে একদিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানো সম্ভব হবে। প্রথম দফায়, ৫ আগস্ট (বুধবার) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সরকারি অফিস খোলা থাকবে। তবে ওই দিন একদিনের ছুটি নিলে ৫ আগস্ট (বুধবার)-এর সরকারি ছুটির সঙ্গে ৭ আগস্ট (শুক্রবার) ও ৮ আগস্ট (শনিবার)-এর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় দফায়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা থাকলেও, ওই দিন একদিনের ছুটি নিলে ২৬ আগস্ট (বুধবার)-এর সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ও ২৯ আগস্ট (শনিবার)-এর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আবারও টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করা সম্ভব হবে। আগস্ট মাসের সরকারি ছুটির তালিকা *৫ আগস্ট (বুধবার): জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। *২৬ আগস্ট (বুধবার): পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0
ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেল রেললাইন, মাঝপথে আটকা কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’.
ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেল রেললাইন, মাঝপথে আটকা কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’.

  চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এরপর থেকেই ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে আবার পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।  তবে রেলওয়ে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
ভোলাহাটে তহশিলদারের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
ভোলাহাটে তহশিলদারের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

  চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেওয়া (দালাল) এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে উম্মুক ধুম্মুক টাকা লাই, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো ২ হাজার, আবার কখনো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।’ জামবাড়িয়া ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা মো. আলিমুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা যার কাছ থেকে যেমন পারছে, তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দুটি দলিলের কথা বললে ৯ হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দুটি দলিল খারিজের জন্য ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।’ এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হয়। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ হয় না।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন। ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
ভারতে পাচারের শিকার ৫০ জন বাংলাদেশি নারী,পুরুষকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত।
ভারতে পাচারের শিকার ৫০ জন বাংলাদেশি নারী,পুরুষকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত।

  আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টার:---- ভারতে পাচারের শিকার ৫০ জন বাংলাদেশি নারী,পুরুষকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।রোববার রাত সাড়ে ৮ টার সময় তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। এসময় নোম্যান্সল্যান্ডে বিএসএফ বিজিবির ও দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ উপস্থিত । রাইটস যশোর ও জাস্টিস এন্ড কেয়ার নামে দুটি মানবাধিকার সংস্থ্যা তাদের গ্রহন করেছে। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৪৪ পুরুষ, ৬ নারী  রয়েছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ৫০ বাংলাদেশিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে পোর্টথানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, থানা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসা নারী ও পুরুষদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ ও রাইটস যশোরের  জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এর কর্মকতা শফিকুল ইসলাম জানান,ফেরত আসা ৫০ জন কে থানা থেকে এনজিও জিম্মাই নেওয়া হয়েছে।সেখান থেকে যার যার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রেরক আঃজলিল  স্টাফ রিপোর্টার

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা করল সরকার
প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা করল সরকার

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানী গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে বাসভবনটি নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে। গত ১৫ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর শুক্রবার (৩ জুন) সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের এই বাড়িটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। জানা গেছে, গত বছরের ৫ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৯৮১ সালের ৩১ মে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশানের এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। নামজারির পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে বসবাসের উপযোগী করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ওই বাসভবনে ওঠেন তারেক রহমান। এরপর থেকে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও এই বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনটির বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য পৃথক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে প্রতিটি বিশেষ শ্রেণির কেপিআইয়ের জন্য পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের
ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের

  নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগের রাতে কৌশলে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগ  নিহতের বোনের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে এই নারী আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত এবং প্রায়ই হত্যার হুমকি দিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দিত। আমার ছেলে একটি স্বনামধন্য হোটেলে চাকরি করত। যে বাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও মূলত আমার ছেলের উপার্জনের টাকায় নির্মিত। আমার নিরীহ ছেলেটাকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের সবাইকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। হাসপাতাল সূত্র হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশের বক্তব্য ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিষয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওসি বলেন, “তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।” পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
শাহজালালের কার্গো হোলে মিললো দুবাই থেকে আসা ৪৫ কোটির ১৬০টি স্বর্ণের বার!
শাহজালালের কার্গো হোলে মিললো দুবাই থেকে আসা ৪৫ কোটির ১৬০টি স্বর্ণের বার!

  রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হোল থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দরে একটি কার্গো বিমানের হোল অংশে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ১৯ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায় কার্গো হোলটি ঘিরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পরে স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান জানান, দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বৃহস্পতিবার সকালে কার্গো হোল্ডে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।Geographic Reference তিনি জানান, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল উড়োজাহাজটির কার্গো হোল্ড থেকে টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্বর্ণের চালানের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, স্বর্ণ চোরাচালানের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

News জুলাই ২, ২০২৬ 0
‘রাশিয়ার কারণে রাতে ঘুমাতে পারি না’, বললেন ন্যাটোপ্রধান
‘রাশিয়ার কারণে রাতে ঘুমাতে পারি না’, বললেন ন্যাটোপ্রধান

  “রাশিয়ার কারণেই রাতে ঘুমাতে পারি না।” এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তার মতে, বর্তমান সময়ে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি রাশিয়াই। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন মার্ক রুটে। তিনি বলেন, “সাধারণত আমি রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু যদি কোনো বিষয় আমাকে জাগিয়ে রাখে, তবে তা হলো রাশিয়া।” রুটের ভাষায়, চীন দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ালেও বর্তমান এবং দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়া। তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তাই বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তবে তার মতে, তাৎক্ষণিক হুমকির দিক থেকে রাশিয়াই ন্যাটোর প্রধান উদ্বেগ। ন্যাটোপ্রধান জানান, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা জোটের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাও এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে। তার আশা, আঙ্কারা সম্মেলন শেষে সদস্য দেশগুলো গত বছরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরতে পারবে। ক্লোজিং: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোপ্রধানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে

News জুলাই ১, ২০২৬ 0
রামগঞ্জ পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রথম পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত: নাগরিকদের মতামত গ্রহণ
রামগঞ্জ পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রথম পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত: নাগরিকদের মতামত গ্রহণ

  ​বিশেষ প্রতিনিধি:  মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন।  রামগঞ্জ পৌরসভার টেকসই উন্নয়ন ও একটি আধুনিক শহর বিনির্মাণের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা (মাষ্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (০১ জুলাই, ২০২৬) পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই প্রথম পরামর্শ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ​সভায় রামগঞ্জ পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত নাগরিকরা তাদের নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিজস্ব মতামত ও গঠনমূলক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ​পৌরসভার সামগ্রিক রূপরেখা পরিবর্তনের এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন রামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক জনাব কাজী আতিকুর রহমান। তিনি নাগরিকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, ​উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ​স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। ​পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ​প্রশাসকের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ​সভাপতির বক্তব্যে পৌরসভার প্রশাসক জনাব কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ​"একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে জনগণের মতামতের কোনো বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের সচেতন নাগরিকদের পরামর্শ নিয়ে আমরা এমন একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে চাই, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও উন্নত রামগঞ্জ পৌরসভা উপহার দেবে।" ​তিনি আরও জানান, নাগরিকদের দেওয়া প্রতিটি যুক্তিযুক্ত পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া তৈরি করা হবে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ​সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা পৌরসভার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং রামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

News জুলাই ১, ২০২৬ 0
ডিমলায় বিদ্যুতস্পৃট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
ডিমলায় বিদ্যুতস্পৃট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

  মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি) :   নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃট হয়ে মোঃ শাকিব ইসলাম(২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। বুধবার পহেলা জুলাই দুপুরে ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বড় জুম্মা তিতপাড়া এলাকায় উক্ত মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।  নিহত সাকিব ইসলাম উক্ত এলাকার মোহাম্মদ আজিজুল হক ও মোছাঃ সাবিনা বেগমের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় সকাল ১১:৩০ মিনিটের দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরার জন্য একটি সেচ মোটার স্থাপনের জন্য পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ এর লাইন এনে মটরের সংযোগ দেন। মটর দিয়ে পানি সেচের সময় অসাবধানতাবশত পদ্ধতিক তারের সংস্পর্শে গেলে বিদ্যুৎস্পৃট হয়ে তার হয়।  বিদ্যুৎস্পৃট হওয়ার পর  সাকিব ইসলামকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দ্রুত নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে  মরা দেহের সুরতহাল প্রস্তুত করেন।

News জুলাই ১, ২০২৬ 0
দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার
দুবাইয়ের খাঁচায় এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ এবং একটি চিঠির হাহাকার

  ক্ষমতা ও দম্ভের যুগে বসে যিনি একসময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের পুতুল ভাবতেন, সেই প্রতাপশালী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পতন আজ ইতিহাসের নির্মম পরিহাস। ২০২৬ সালের ১২ জুন দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিসে গ্রেপ্তার হন তিনি। সাধারণ মানুষ আজ তার দুর্নীতির পাহাড় দেখে চমকে উঠলেও, পর্দার আড়ালে কীভাবে এক সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ‘সুরক্ষাকবচ’ ভেঙে এই দানব তৈরি করা হয়েছিল, তা এখনো এক অপ্রকাশিত অধ্যায়। অথচ এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস অনেক আগেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো চিঠিতে নথিবদ্ধ ছিল। সেই নীতিগত প্রস্তাবনা মানলে আজ এই কলঙ্কজনক অধ্যায় এড়ানো যেত। নিয়মের সেই ব্যত্যয় কীভাবে একটি এলিট ফোর্সকে পথভ্রষ্ট করে ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ তৈরি করল, তা জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে এর জন্মলগ্নে। ২০০৩-০৪ সালের দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন চরম অবক্ষয়ের তলানিতে, তখন রাজনৈতিক চাপ ও নৈতিক স্খলনের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় প্রথাবদ্ধ পুলিশ বাহিনী। এই সংকটকালে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কালা ফারুক’ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর একটি বিশেষায়িত ফোর্স গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রথম প্রয়াস ‘র‍্যাট’ (RAT) পুলিশের কর্মকর্তাদের শারীরিক অযোগ্যতার কারণে ব্যর্থ প্রজেক্টে পরিণত হয়। এই ব্যর্থতার পটভূমিতেই সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা ও রণকৌশলকে কাজে লাগিয়ে জন্ম নেয় এলিট ফোর্স ‘র‍্যাব’, যার নেপথ্য আইন ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এনএসআই ও ডিজিএফআই। তবে শুরু থেকেই র‍্যাবে সামরিক বাহিনীর এই আধিপত্যকে পুলিশ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে, যার ফলে শীর্ষ স্তর থেকে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অসহযোগিতা শুরু হয়। এনএসআইয়ের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তখন সরকার একটি কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করে। সেই সমীকরণ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মহাপরিচালকের পদটি সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত থাকলেও, পুলিশের ক্ষোভ প্রশমনে তা অতিরিক্ত আইজিপি আনোয়ার ইকবালকে দেওয়া হয়। তবে বাহিনীর মূল অপারেশনাল মেরুদণ্ড ও কঠোর সামরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG-Operations) পদটি সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর (তৎকালীন কর্নেল মিল্লাত) হাতেই ন্যস্ত রাখা হয়। ‘২ বছরের প্রেষণ নীতি’ : ফাইলে নিশ্চিত করা সেই অমোঘ সুরক্ষাকবচ র‍্যাব সফলভাবে কার্যক্রম শুরু করার পর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সততা ও পেশাদারিত্ব আজীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে এনএসআই একটি বিশেষ নীতিগত প্রস্তাবনা তৈরি করে, যা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। সেই ফাইলে একটি অমোঘ সুরক্ষাকবচ যুক্ত ছিল, তা হলো, র‍্যাবে প্রেষণে আসা কোনো কর্মকর্তা বা জোয়ানের কাজের মেয়াদ কোনোভাবেই যেন ‘২ বছর’-এর বেশি না হয়। সাধারণত সব বাহিনীতে পোস্টিংয়ের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর হলেও, র‍্যাবের ক্ষেত্রে তা কঠোরভাবে ‘২ বছর’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর একমাত্র কারণ ছিল, কোনো সংবেদনশীল পদে দীর্ঘদিন থাকলে কর্মকর্তারা যেন স্থানীয় অপরাধী চক্র, রাজনীতি বা দুর্নীতির সিন্ডিকেটে জড়াতে না পারেন। দুই বছর পর মূল বাহিনীতে ফিরে গেলে কোনো স্থায়ী কায়েমি স্বার্থ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রেষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পঙ্গুত্ব চেইন অব কমান্ড ভেঙে জিয়াকে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের ডিরেক্টর, এডিজি অপারেশনস ও ভারপ্রাপ্ত ডিজির দাপুটে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর এনএসআই এবং পরে এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের পতন পর্যন্ত তিনি চেয়ার আঁকড়ে রাখেন। সামরিক বাহিনীর বাইরে একটানা ১৫ বছর প্রেষণে কাটানোর এ ঘটনা সামরিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন রেকর্ড। সামরিক মানদণ্ডে জিয়া যে অত্যন্ত সাধারণ মানের অফিসার ছিলেন, তা ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্যেই প্রমাণিত। তিনি জানান, জিয়া স্টাফ কলেজ সম্পন্ন করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি, যা লে. কর্নেল পদের জন্য আবশ্যক; এমনকি তিনি কোনো ব্যাটালিয়নও কমান্ড করেননি, যা কর্নেল পদের পূর্বশর্ত। সাবেক সেনাপ্রধানের মতে, পদোন্নতি বোর্ডের অনেক সদস্য তখন নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে জিয়ার এই মারাত্মক প্রাতিষ্ঠানিক অযোগ্যতা ও নিয়মের ব্যত্যয়কে চোখ বুজে সায় দিয়েছিলেন। নিজের মূল বাহিনীর কোনো প্রথাগত ফর্মেশন কমান্ড না করেই জিয়ার এই উল্কাগতির উত্থান সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস ও পেশাদার অফিসারদের মধ্যে চরম হতাশা এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, যা স্পষ্ট প্রমাণ করে কীভাবে রাজনৈতিক অপশক্তি দ্বারা সামরিক বাহিনীর নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন এবং পেশাদার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে পঙ্গু ও কুক্ষিগত করা হয়েছিল। বেনজীরের আগমন ও সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ডমিনেশন ছিনতাই জিয়া যখন র‍্যাবের ভেতর তার শিকড় শক্ত করছিলেন, ঠিক সেই সময়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন বেনজীর আহমেদ। চতুর বেনজীর র‍্যাবে এসেই এই রাজনৈতিক সমীকরণের পূর্ণ সুযোগ নেন এবং পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পদ আঁকড়ে ধরে রাজত্ব করেন। র‍্যাবের জন্মলগ্ন থেকে ক্ষমতার যে একটি অলিখিত ভারসাম্য (Balance of Power) ছিল, যেখানে সেনাবাহিনী থেকে আসা এডিজি এবং তার টিমের অপারেশনাল ও ফিল্ড ডমিনেশন অক্ষুণ্ণ থাকার কথা ছিল, বেনজীর এসে সেই নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজের মুঠোয় ছিনতাই করে নেন। তিনি এডিজির চেইন অব কমান্ডকে কার্যত অকেজো ও ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেন। সেনাবাহিনী থেকে আসা চৌকস অফিসারদের সুকৌশলে সাইডলাইন করে, তিনি জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান ও শক্তিশালী রাজনৈতিক কানেকশনকে নিজের স্বার্থে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। বেনজীর এবং জিয়ার এই যৌথ ছত্রছায়ায় র‍্যাবে এক ভয়ংকর ও কলঙ্কিত চেইন অব কমান্ড তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে পরবর্তী বছরগুলোয় শত শত মানুষের গুম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। ক্ষমতার মোহে অন্ধত্ব : রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও ‘পরিচিত’ হওয়ার দম্ভ ক্ষমতার মোহে বেনজীর আহমেদ এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে একটি কথা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল, রাষ্ট্রের যেকোনো বড় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের চেয়ে মাঠপর্যায়ে তার কথাই ছিল বেশি প্রভাবশালী। রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র, গণমাধ্যম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তিনি এই কৃত্রিম দম্ভোক্তিপূর্ণ পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল ব্যবস্থা তখন এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল, উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একজন পুলিশপ্রধানের উপস্থিতিতে কিছু কিছু মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরাও সসম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে যেতেন, যা প্রথাগত প্রশাসনিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। একজন প্রজাতন্ত্রের সাধারণ কর্মচারীর সামনে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের এই নতজানু অবস্থা প্রমাণ করে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে গিয়ে বেনজীরকে আইনের ঊর্ধ্বে এমন এক দানবীয় জায়গায় বসিয়েছিলেন, যেখানে তিনি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সাহস পেয়েছিলেন। সামরিক ঐতিহ্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : আইজিপি বনাম সেনাপ্রধানের বিতর্কিত যৌথ বিবৃতি বেনজীরের এই ক্ষমতার দম্ভ শুধু বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা সরাসরি আঘাত করেছিল দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার ওপর। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান ১২ নম্বর আর্টিকেলে উচ্চতর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ভোগ করেন, যেখানে পুলিশের আইজিপি অবস্থান করেন ১৬ নম্বরে। পাশের দেশ ভারতেও সামরিক প্রধানরা প্রতিমন্ত্রীর সমতুল্য মর্যাদা পান, যা বেসামরিক প্রশাসনের চেয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অতি-ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বেনজীর নিজেকে সব নিয়মের ঊর্ধ্বে নিয়ে যান, যা সশস্ত্র বাহিনীর চিরাচরিত মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক ছিল। এর চূড়ান্ত ও বিতর্কিত রূপ দেখা যায় ২০২০ সালে টেকনাফে পুলিশের ওসি প্রদীপের হাতে সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর। এই নির্মম ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়। সেই পটভূমিতে, প্রোটোকল অনুযায়ী যেখানে আইজিপির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ একজন মেজর জেনারেলের যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে বেনজীর নিজের অবস্থানকে সেনাপ্রধানের সমকক্ষ জাহির করার সুযোগ নেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বয়ং সেনাপ্রধানকে পাশে বসিয়ে বেনজীর এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। একটি সাধারণ অভ্যন্তরীণ বিভাগের প্রধান হয়েও বেনজীরের এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ সমকক্ষতা জাহির করার চেষ্টা এবং সেনাপ্রধানকে সেই প্রোটোকল সংকটে ফেলা সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার অফিসারদের গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট করেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্যুতির খতিয়ান : ভাঙা সুরক্ষাকবচ ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা ইন্টেলিজেন্স ফিল্ডের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেষে আমি যখন আবার নৌবাহিনীতে ফিরে আসি, তখনই নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কোনো চরম ব্যতিক্রমী বা বিশেষ কৌশলগত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে যেন দুই বছরের বেশি র‍্যাবে প্রেষণে রাখা না হয়। জুনিয়র অফিসাররা র‍্যাবের অ্যাডভেঞ্চারাস পজিশন সাময়িকভাবে উপভোগ করলেও, দীর্ঘ মেয়াদে তা তাদের মূল পেশাদারিত্ব ও ক্যারিয়ার গঠনে মারাত্মক ক্ষতি করে। সামরিক বাহিনীর মতো একটি উচ্চ-সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নৈতিক মানদণ্ড এবং পেশাদার শৃঙ্খলা ধরে রাখতে এই দুই বছরের সময়সীমা কঠোরভাবে বজায় রাখা অপরিহার্য ছিল। এনএসআইয়ের পক্ষ থেকে এই দূরদর্শী প্রেষণনীতিটি আমার হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন ও ইনিশিয়েট করা হয়েছিল। সেদিন ফাইলের সেই ‘২ বছরের সুরক্ষাকবচকে’ বিন্দুমাত্র সম্মান জানানো হলে আজ ইতিহাস এতটা কলঙ্কিত হতো না এবং কোনো কর্মকর্তা দানব হওয়ার সুযোগ পেত না। এই একটিমাত্র পলিসি লেটার অনুসরণ করলে রাষ্ট্র এক মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেত। আগ্রহী পাঠকরা এই নীতির সুগভীর গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তার বিবরণ আমার ‘জাতীয় দিশা’ গ্রন্থের ‘র‍্যাব কি পথ হারিয়েছে’ এবং ‘পুলিশ শুধু ঘুস খায় না, দেয়ও’ প্রভৃতি প্রবন্ধগুলো থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন। নীতিনির্ধারকদের এখন উচিত আন্তর্জাতিক উদাহরণ অনুসরণ করে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা, যা নিয়মিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কাজ করবে। নীতিনির্ধারকদের জন্য শিক্ষার ক্রান্তিকাল এবং তিন স্তম্ভের প্রতি নির্দেশনা ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় কর্মের দাগ থেকে যায় আজীবন। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ভাঙার চড়া মূল্য রাষ্ট্রকে কীভাবে দিতে হয়, বেনজীর ও জিয়ার পতন আজ তার জীবন্ত প্রমাণ। এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য শুধু সমালোচনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভালো উদাহরণগুলো অনুসরণ করে আমাদের নীতিনির্ধারক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। এই অধ্যায় থেকে আমাদের রাজনীতিবিদ, সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক আমলাতন্ত্র, তিনটি স্তম্ভেরই গভীর নীতিগত শিক্ষা নেওয়া জরুরি। প্রথমত, রাজনীতিবিদদের বুঝতে হবে যে সাময়িক ফায়দা বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পেশাদার কর্মকর্তাদের আইনের ঊর্ধ্বে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচ (Policy Letters) ভাঙার পরিণতি কত বিধ্বংসী হতে পারে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যাদের ক্ষমতার শীর্ষে বসানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই পুরো ব্যবস্থাটিকে গ্রাস করেছিল। ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস যে, খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল শুধু সেই প্রাজ্ঞ নীতিগত চিঠি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ডকে অগ্রাহ্য করার কারণে। অন্য কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও, নিয়মের এমন আত্মঘাতী লঙ্ঘন চিন্তাই করা যায় না। দ্বিতীয়ত, সামরিক বাহিনীর জন্য নির্দেশনা হলো, জুনিয়র অফিসারদের সাময়িক রোমাঞ্চের চেয়ে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি নৈতিকতা, ঐতিহ্য এবং কোর পেশাদারিত্ব রক্ষা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রেষণনীতির সুরক্ষাকবচ কঠোরভাবে ধরে না রাখলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং তৃতীয়ত, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের আগামী প্রজন্মের কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, আইনের শাসন, পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মেরুদণ্ড সোজা রেখে সততার পথে চলাই একমাত্র মূলমন্ত্র। পদপদবি বা ক্ষমতার দম্ভ সময়ের স্রোতে একসময় বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু নিয়মের আত্মঘাতী লঙ্ঘনের যে বিচার ইতিহাস করে তা এড়ানো অসম্ভব। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আজ আমাদের গভীরভাবে শিক্ষা নিতেই হবে এই ‘বেনজীরের নজির’ থেকে।

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
নওগাঁয় বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১৫ জন আহত, গুরুতর আশংকাজনক ৪ জনকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর"
নওগাঁয় বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১৫ জন আহত, গুরুতর আশংকাজনক ৪ জনকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর"

  নওগাঁর সরস্বতীপুর থেকে (স্টাফ রিপোর্টার) মোঃ আকতার হোসেন।  নওগাঁর মহাদেবপুরে বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর উল্টে গিয়ে ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মহাদেবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত ৪ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ জুন ২০২৬ রোববার ৬ টায় মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের শেরপুর দিঘীরপাড় এলাকায়। এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহাদেবপুর সিভিল ডিফেন্স ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।   বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা ওই বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাসটি সাপাহার যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ অঞ্চলিক মহাসড়কের দুর্ঘটনাস্থলে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহন করার ফলে সড়কের উপর কাদা জমে যায়। ওই কাদার উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় বাসটি ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত সাপাহার উপজেলার মৃত মনিজ এর ছেলে আশরাফুল ইসলাম, আব্দুর রহিম এর ছেলে বেলাল হোসেন, পত্নীতলা উপজেলার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে রেজওয়ান ও ক্ষিতীশ চন্দ্রের ছেলে বাঁধনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

News জুন ২৯, ২০২৬ 0
এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা
এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

  দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।” তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ। শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ। বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।” ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”

News জুন ২৮, ২০২৬ 0
সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যেই ২২ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক
সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যেই ২২ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক

  যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকের মাত্র ৩০০ গজের ভেতরেই গড়ে উঠেছে ২২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে আবার ২০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা হালনাগাদ লাইসেন্সও নেই। অথচ ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ল্যাবরেটরি স্থাপন কিংবা পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া সড়কের একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পরিচালিত হচ্ছে ইউনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালের প্রধান ফটকের ঠিক সামনে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২৫০ বর্গফুটের প্রতিটি কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয়টি শয্যা। একই ভবনের নিচতলায় রয়েছে কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যা স্থানীয়ভাবে দালালনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে অর্থোপেডিক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং অন্য অংশে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। নিচতলায় রয়েছে ল্যাবজোন স্পেশালাইজড হাসপাতাল। পাশাপাশি অন্যান্য ভবনের নিচতলায় ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার এবং বিপরীতে ইসলামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার সচল রয়েছে। আরেকটি ভবনের নিচতলায় প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওপরের তলায় আল্ট্রাভিশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সংলগ্ন ভবনের নিচতলায় পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওপরের তলায় ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে। একই স্থানে এভাবে একাধিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস, প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনার সুযোগ নেই। কিন্তু যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনে সেই বিধান পুরোপুরি উপেক্ষিত। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে এসব প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী যশোর সদরের আবদুলপুর গ্রামের হাশেম আলী এবং দৌগাছিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনসহ একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকে। উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের হাসপাতালের সামনের এসব নিম্নমানের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। কোনো রোগী যেতে অস্বীকৃতি জানালে দালালদের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং এই হয়রানি বন্ধে তারা দ্রুত অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, হাসপাতালে দালাল রয়েছে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রতিটি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসক হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এবং বৈধ কাগজপত্রবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করা হবে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মানহীন ও অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News জুন ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0