দেশজুড়ে

জুলাইয়ে উসকানির অভিযোগ, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা ট্রাইব্যুনালে
জুলাইয়ে উসকানির অভিযোগ, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা ট্রাইব্যুনালে

  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দিন ধার্য রয়েছে। সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।তিন সাংবাদিক হলেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। এর আগে গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিকের বক্তব্য ও প্রশ্নের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়েছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে মন্তব্য করেন।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এ ধরনের উসকানি ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করছে তদন্ত সংস্থা।   

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট
দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট

  দীর্ঘ এক মাস ১০ দিনের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে। তবে প্রথম কার্যদিবসে আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে কোনো বিচারিক কার্যক্রম চলবে না। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবকাশের পর প্রথম কার্যদিবসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ইনার ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান বিচারপতি ও আপিল এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের কারণে আজ আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

  আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ। পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
সড়কে নামার চেষ্টা পোশাক শ্রমিকদের, জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ
সড়কে নামার চেষ্টা পোশাক শ্রমিকদের, জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ

  বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরুতেই পুলিশের বাধার মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সড়ক অবরোধ ঠেকাতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পোশাক শ্রমিকরা শনিবার সকালে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, এতে আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের রাস্তা অবরোধ করতে দেওয়া হয়নি। সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
অনুমোদনহীন নকশায় ঢাকার ৫৯% হাসপাতাল, ব্যবহার ছাড়পত্র নেই ৭৩%
অনুমোদনহীন নকশায় ঢাকার ৫৯% হাসপাতাল, ব্যবহার ছাড়পত্র নেই ৭৩%

  রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সিংহভাগ ভবনেরই নকশার অনুমোদন নেই। প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানই চলছে ভবন ব্যবহারের বৈধ সনদ ছাড়া। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চরম ঘাটতি, জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং কলাম-বিমে ফাটলসহ নানা কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়েই চলছে এসব হাসপাতালের কার্যক্রম। জানা গেছে, ৭৩ শতাংশ হাসপাতালই ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই চিকিৎসা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং ৫৯ শতাংশ ভবনের নেই অনুমোদিত নকশা। পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ হাসপাতালে ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার ডোর ও স্মোক ডিটেক্টরের মতো প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। তবে রাজউক জানিয়েছে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় ৬ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন ঢাকার ১৯৪টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত এক অনুসন্ধানী পরিদর্শনে এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এলাকাভিত্তিক পরিদর্শনের তথ্য রাজউকের পরিদর্শক দল গাজীপুর, টঙ্গী ও পূর্বাচল সংলগ্ন জোন-১ এলাকায় সর্বমোট ৩৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র তদারকি করে। এর মধ্যে জোন ১/১-এ ২৭টি, জোন ১/২-এ ৪টি এবং জোন ১/৩-এ রয়েছে ৩টি হাসপাতাল। উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান নিয়ে গঠিত জোন-২ এলাকায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ২/১ থেকে ২০টি এবং জোন ২/২ থেকে ৭টি হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। আর মিরপুর, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন জোন-৩ এলাকার ২৭টি হাসপাতালের চিত্র উঠে এসেছে; যেখানে জোন ৩/১-এ ৭টি, জোন ৩/২-এ ৮টি এবং জোন ৩/৩-এ ১২টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক তদারকি করা হয়। অন্যদিকে গুলশান, বনানী, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকা নিয়ে গঠিত জোন-৪-এর মোট ১০টি হাসপাতালের নথিপত্র ও কাঠামো পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে জোন ৪/১-এ ৬টি এবং জোন ৪/২-এ ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালবাগ সংলগ্ন জোন-৫ এলাকায় ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জোন ৫/১-এ ৮টি, জোন ৫/২-এ ১৬টি এবং জোন ৫/৩ এলাকায় ৯টি হাসপাতাল পরিদর্শনের আওতায় আসে। এ ছাড়া মতিঝিল, মগবাজার ও পুরান ঢাকা নিয়ে গঠিত জোন-৬-এ সর্বোচ্চ ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে তদারকি চালানো হয়; যেখানে জোন ৬/১-এ ২০টি, জোন ৬/২-এ ২০টি এবং জোন ৬/৩-এ ৭টি হাসপাতাল রয়েছে। আর কেরানীগঞ্জ, সাভার ও নারায়ণগঞ্জ সংলগ্ন জোন-৭ এলাকার ১৬টি হাসপাতালের মধ্যে জোন ৭/১ থেকে ১০টি, জোন ৭/২ থেকে ৫টি এবং জোন ৭/৩ এলাকা থেকে ১টি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে রাজউকের দল। ৭৩ শতাংশেরই নেই ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ ভবনকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাজউকের প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র নিয়েছে। বাকি ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ছাড়পত্রের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ভবন ব্যবহারের সনদ ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর ২৬ শতাংশ ভবনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে সনদসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। পরিদর্শনে ৫৯ শতাংশ ভবনের অনুমোদিত নকশা পাওয়া যায়নি। বাকি ৪১ শতাংশ ভবনের অবশ্য রাজউক অনুমোদিত নকশা রয়েছে। শুধু অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রেই অনিয়ম সীমাবদ্ধ নয়, ভবনের ব্যবহারেও রয়েছে বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ শতাংশ হাসপাতাল ভবন ব্যবহারের অনুমোদিত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ২২ শতাংশ ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা বা ‘ভয়েড এরিয়া’ রাখা হয়নি। ১৮ শতাংশ হাসপাতালের ক্ষেত্রে সামনের রাস্তার প্রস্থ নিয়ম অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ৫২ শতাংশ ভবনে ইমারত নির্মাণের ‘সেটব্যাক’ বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তায় ভয়াবহ চিত্র হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও পরিদর্শনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শিত ভবনগুলোর ৭০ শতাংশে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। ৮১ শতাংশে ফায়ার ডোর এবং ৮২ শতাংশে স্মোক ডিটেক্টর পাওয়া যায়নি। ৭২ শতাংশ ভবনে ছিল না জরুরি নির্গমন পথের কোনো নির্দেশক। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও সীমিত। মাত্র ২৭ শতাংশ ভবনে জরুরি আলোর ব্যবস্থা পাওয়া গেছে। ফায়ার হাইড্রেন্ট রয়েছে ২৫ শতাংশ ভবনে। সাধারণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ২০ শতাংশ ভবনে। এসব ঘাটতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছেমাফিক সম্প্রসারণ, ছাদে ভারী কাঠামো পরিদর্শনে কয়েকটি হাসপাতাল ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্রও উঠে এসেছে। দুটি হাসপাতালের বিম ও কলামে ফাটল দেখা গেছে। ছয়টি ভবনের ভেতরের রডে মরিচা ধরে কংক্রিট খসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ৪৬টি হাসপাতাল ভবনে অতিরিক্ত সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ বা ওপরের অংশে অননুমোদিত ভারী কাঠামো নির্মাণ করে অতিরিক্ত ভার চাপানো হয়েছে। এসব অনিয়ম ভবনের স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা থাকে না। নেই পার্কিং, বাস্তবে দোকান-গুদাম হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত পার্কিং সুবিধা রাখার বিধান থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না। রাজউকের পরিদর্শনে ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টিতে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের পার্কিংয়ের জায়গা নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় দোকান, গুদাম, অফিস, আবাসন ইউনিট ও ব্যাংকের শাখা। এতে হাসপাতালের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা সংকুচিত হয়েছে। যার প্রভাবে কোনো কোনো হাসপাতালের সামনে প্রায়ই জ্যাম লেগে থাকে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ১৯৪টির মধ্যে মাত্র ৪টিতে অভিযান আইন অমান্য করে হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা এসব প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২২টিকে নোটিশ দিয়েছে রাজউক এবং মাত্র ৪টি ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেহেতু স্পর্শকাতর সেবামূলক জায়গা, তাই চাইলেই হুট করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোকে নোটিশ দিয়েছি। এ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে আলাদা বিল্ডিং কোড ও মানদণ্ড রয়েছে। এসব ভবনের জন্য বিশেষায়িত নকশা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলো এ বিষয়টি মানে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনকে হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাজউক কেন শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করেনি। তার মতে, শুরু থেকেই যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পেত এবং এই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো না।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক
পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক

  পানামায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, ‘তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।’ তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। লুক আরো বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলোর সঙ্গে গত ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সরাসরি যোগসূত্র থাকা আবশ্যক নয়। এদিকে পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমির পরিবর্তনের বিষয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উপকূলের কিছু এলাকায় পাথর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। লুকের ব্যাখ্যা, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে কিংবা নিচে দেবে যেতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠের আকৃতিতেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করবেন। এছাড়া পানির রঙ পরিবর্তনের খবরও খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা। কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লুক বলেন, ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। তবে এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পানির রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটি যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে লুক বলেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেই ফাটল সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন ভূতত্ত্ববিদেরা। এ ধরনের ফাটলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভূচ্যুতির প্রমাণ হতে পারে। এদিকে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। আর দেশব্যাপী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০টি সেন্সর। সূত্র: আনাদোলু

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
কক্সবাজার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ড—নিহত বেড়ে ৭
কক্সবাজার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ড—নিহত বেড়ে ৭

  কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টে লাগা এ আগুন ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি লাশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ওই রিসোর্টে মোট ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, অনেকে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে একটু সময় লাগবে। ঘড়িকিনুন ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টটিতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ
ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ

​ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী ও চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় কোডিনযুক্ত সিরাপ জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ মধ্যরাত আনুমানিক ১২:৪০ ঘটিকায় (০২৪০ ঘটিকা) মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভোলাহাট বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। টহল দলটি সীমান্ত পিলার ১৯৬/৪-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোলাহাট উপজেলার ১নং ভোলাহাট ইউনিয়নের চামুচা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৩ বোতল নেশাজাতীয় ‘ইস্কাফ’ সিরাপ উদ্ধার ও জব্দ করতে সক্ষম হয়।​জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ​এ ব্যাপারে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "যুবসমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
বৃক্ষনিধনে উজাড় হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল
বৃক্ষনিধনে উজাড় হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল

  পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে তা মানা হচ্ছে না। বৃক্ষনিধন করে দখল হয়ে যাচ্ছে এই বনাঞ্চল। ফলে মধুপুর বনাঞ্চল এখন উজাড় হওয়ার পথে। জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন হচ্ছে অক্সিজেনের কারখানা। সেই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। এই বনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে । দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে । স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। পরে এসব জমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করছেন । স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণ করাও অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধু গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প । বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না। যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে আর বন বিভাগ সর্বোচ্চ যে ব্যবস্থাটা নেয় সেটা হচ্ছে কাঠ জব্দ করা, মামলা দেওয়া, বন যেভাবে কাটা হচ্ছে তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব না। এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে রক্ষা করা সম্ভব না। দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এছাড়া তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, আমাকে তথ্য দেন বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ঘুমিয়ে পড়লেন চালক, বাস খাদে পড়ে নিহত ৮
ঘুমিয়ে পড়লেন চালক, বাস খাদে পড়ে নিহত ৮

  ভারতের রাজস্থানের কোটায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৭ জন। আজ শনিবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ২৭ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে রাজস্থানের খাতু শ্যাম মন্দিরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে কোটার এমবিএস হাসপাতাল ও নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আটজনের মধ্যে পাঁচজন নারী। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন অরুণা, বৈষ্ণবী, তৃষা, কৃষ্ণা, অনিতা, ওম, সূর্যবংশী ও রাজু। এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার সকালে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসচালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের পাশের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে চিৎকার ও হইচই শুরু হলে পুলিশ সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের দাবিতে দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম
ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কারের দাবিতে দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

  বাংলাদেশে কূটনৈতিক শিষ্টাচার না মেনে আধিপত্য বিস্তারের তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। এ দাবিতে আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তিনি বলেন, ১৫ দিন আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে সরকারকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান ঘটানোর দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি। উল্টো ভারতীয় মদদে দেশে-বিদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খোমেনী ইহসান বলেন, এ অবস্থায় দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার করে ভারতকে জবাব দেওয়া সময়ের দাবি। আগামী ২৯ অক্টোবরের ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব দেশপ্রেমিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খোমেনী ইহসান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর জুলাইয়ের সহিংসতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের এবং দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচার না করে সংস্কার কার্যক্রমে সময় ব্যয় করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সুযোগে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশে-বিদেশে দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। নিউইয়র্কে হুইলচেয়ারে থাকা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি অবমাননার অভিযোগে চার জুলাই যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন খোমেনী ইহসান। ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী দল এবং ভারতকে এর মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খোমেনী ইহসান বলেন, নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ভারত ও আওয়ামী লীগ সব সীমা অতিক্রম করেছে বলে তাঁরা মনে করেন। এখন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমঝোতার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ‘এখন শুধু প্রতিরোধ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের উচিত সব অস্পষ্টতা দূর করে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন, ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব অধীনতামূলক চুক্তি বাতিলের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সহকারী সদস্যসচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতা খাইরুল ইসলাম এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও সাকিব সামিন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্যসচিব মো. আরিফুল ইসলামসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
গফরগাঁওয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
গফরগাঁওয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

  শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল নাঈমের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল হুদা মনির, উপজেলা কৃষি অফিসার শাকুরা নাম্নী, উপজেলা প্রকৌশলী কে এস আর এম জি কিবরিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনোয়ার হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, আইসিটি অফিসার আহসান হাবিব, সহকারী শিক্ষা অফিসার হেলাল উদ্দিন আরিফ রব্বানী, বিএনপি নেতা শেখ মো. ইসহাক, এ কে এম আনসার উদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি আজহারুল হক, দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতা দিলীপ কুমার রায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। বক্তারা শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। পাশাপাশি নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহেরও দাবি করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা। 

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি-গভর্নিং বডি গঠন স্থগিত
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি-গভর্নিং বডি গঠন স্থগিত

  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ‌‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ক্রেতা সংকটে ধুঁকছে আবাসন খাত
ক্রেতা সংকটে ধুঁকছে আবাসন খাত

  ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও নির্মাণসামগ্রীর চড়া মূল্যের কারণে বেড়েছে আবাসন খাতের নির্মাণব্যয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে কমেছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা। এই দুইয়ের প্রভাবে বর্তমানে ক্রেতা সংকটে ধুঁকছে বিপুল সম্ভাবনার আবাসন খাত। এমন পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাটের বেচাকেনা প্রায় ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। ফ্ল্যাট ও প্লটের চাহিদা কমার পাশাপাশি উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় এবং করের বোঝায় অনেক প্রকল্প অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই আবাসন খাত খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নীতিসহায়তা জরুরি। তাদের মতে, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, ডেভেলপারদের সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেওয়া এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে বাজারে ক্রেতার চাহিদা ফেরানো সম্ভব। এতে শুধু আবাসন খাতেই নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রড, সিমেন্ট, গ্লাস ও সিরামিকসহ ২৬৯টি সহায়ক শিল্পের কার্যক্রমেও গতি আসবে। একই সঙ্গে দেশের ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিরাপদ হবে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) দেওয়া তথ্যমতে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আবাসন খাতের অবদান আট শতাংশের বেশি। সংযোগ শিল্পসহ এই খাতের সামগ্রিক অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ ২০২৫ সালে বাজারভিত্তিক একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্পের আকার ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে আবাসন নির্মাণ, ডেভেলপমেন্ট, প্রকৌশল, স্থাপত্য, ইন্টেরিয়র, নির্মাণশ্রমিকসহ প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতে। রিহ্যাবের ২০২৫ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অগ্রিম আয়কর (এআইটি), স্ট্যাম্প ডিউটি, নিবন্ধন ফি, গেইন ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি বাবদ কেবল আবাসন খাত থেকেই সরকারের রাজস্ব আদায় হয় ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি নির্মাণসংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো থেকে রাষ্ট্র বছরে সরাসরি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা পেয়ে থাকে। রিহ্যাবের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে সংগঠনটির সদস্য প্রায় ৯২৫টি। প্রতি বছর প্রায় এক লাখ নতুন অ্যাপার্টমেন্টের প্রয়োজন হলেও ডেভেলপাররা বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ শতাংশের মতো সরবরাহ করতে পারছেন। অর্থাৎ, আবাসনের বিপুল চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ অনেক কম। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর বাংলাদেশের ক্রয় সমক্ষমতা সূচক (পিএমআই)। গত বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথভাবে প্রকাশিত বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, চলতি বছরের আট মাসের পাঁচটিতেই নির্মাণ খাতের স্বাভাবিক মান সংকোচন দেখা গেছে। এমনকি সর্বশেষ সেপ্টেম্বরেও এই খাতের পিএমআই তিন দশমিক আট পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক পাঁচে নেমে গেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, আবাসন খাতে বর্তমান ক্রেতা সংকটের সূত্রপাত করোনার সময় থেকেই। মহামারির পর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলের শেষ দিকে অস্থিরতার মধ্যে স্থানীয় বেচাকেনা আরো কমে যায়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অনিশ্চয়তার কারণে মানুষ ফ্ল্যাট, প্লট বা সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে স্বস্তিতে ছিল না। সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আবাসন বাজারে ক্রেতার চাহিদা তৈরি হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহার। আগে যারা ফ্ল্যাট বা জমি কিনতেন, তাদের তুলনামূলক কম সুদে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল। এখন সেই সুবিধা কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ফ্ল্যাট কেনার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে অনেকেই সরে আসছেন। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রেতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির পর রড ও সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দামও প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। পরে কর বাড়ানোর ফলে নির্মাণ ব্যয় আরো ১২ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির বাইরে গিয়ে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় ডেভেলপারদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ছোট ছোট অনেক কোম্পানির প্রকল্প অর্ধসমাপ্ত পড়ে আছে। কারণ, প্রকল্প শেষ করতে গেলে যে ব্যয় হবে, সেই ব্যয় ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা থেকে উঠবে নাÑ এমন আশঙ্কায় অনেকে কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না। এ কারণে, আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ ও নির্মাণ দুটোই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবাসন খাতে মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইস্পাত শিল্পেও। এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসুদুল আলম (মাসুদ) আমার দেশকে বলেন, শিল্প খাত এমনিতেই দুর্বল অবস্থায় আছে। এর মধ্যে নতুন ট্যাক্স কাঠামো পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেন, আগের অবস্থার তুলনায় আমাদের উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এতে চাহিদা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছিল। সিজনাল কারণে (বাজেটের পরে) ডিমান্ড কিছুটা বেড়েছে, তবে সেটাকে ১০ শতাংশও বলা যাবে না। কারণ অনেক ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও চাহিদা এখনো আগের জায়গাতেই আছে— প্রায় ৩০ শতাংশের মধ্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) একজন নেতা সংশ্লিষ্ট খাতের পরিস্থিতি নিয়ে আমার দেশকে বলেন, আগস্ট পর্যন্ত গত আট মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র এক দশমিক ২০ শতাংশ। এর কারণÑ চাহিদা কম, ইমপোর্ট বেজড শিল্প হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, ডলার রেটও হাই। আগে যেখানে ডলার ৮৪ থেকে ৮৬ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১২০ থেকে ১২৩ টাকায় উঠে গেছে। এ ছাড়া রয়েছে অগ্রিম আয়কর (এআইটি)। বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা থাকলেও কোনো ট্যাক্স মওকুফ হয়নি। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মোনালিসা সিরামিকস (বিডি) লিমিটেডের পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, মফস্বল থেকে যেভাবে মানুষ শহরের দিকে আসছে, সেই অনুযায়ী সিরামিকস শিল্পে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। একসময় যারা ফ্ল্যাট কিনত বা জমি কিনত, তাদের খুব সস্তায়, কম ইন্টারেস্টে লোন দেওয়া হতো। এগুলো এখন বন্ধ। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি আরেকটা বোঝা। তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে যারা মিডল ক্লাস বা আপার-মিডল ক্লাস, তারা এই ফ্ল্যাটগুলো কেনে। কিন্তু এখন ব্যবসায়িক মন্দার কারণে তাদের ওইভাবে পারচেসিং পাওয়ারও বাড়েনি। ফলে রিয়েল এস্টেট সেক্টরেও ধস নেমেছে। রিয়েল এস্টেট সেক্টরের সঙ্গে যারা রিলেটেড— সিমেন্ট, টাইলস— সবকিছু মিলিয়ে মার্কেটের ডিমান্ড ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। আবাসন খাত ও সংযোগ শিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমির উচ্চব্যয়, অর্থায়ন সংকট ও নীতিগত জটিলতার কারণে এই খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমান সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— বিক্রি কমলেও ফ্ল্যাটের দাম কমেনি। কারণ, নির্মাণসামগ্রী, জমি, শ্রম, অর্থায়ন ও কর-নিবন্ধন ব্যয় এখনো বেশি। ফলে ডেভেলপারদের খরচ কমেনি। বরং ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়। কারণ বাংলাদেশে নগরায়ণ বাড়ছে, নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হচ্ছে এবং প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য নতুন আবাসনের প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণে, বর্তমান সংকট মূলত চাহিদার অভাব নয়; বরং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও আবাসনের দামের মধ্যে বড় ব্যবধানের কারণেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, প্লট-ফ্ল্যাটের যেটুকু বেচাকেনা হচ্ছে সেখানে আবার ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিবন্ধন ব্যয়। এলাকাভেদে নিবন্ধন খরচ ১১ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। এর সঙ্গে টেবিলের নিচ দিয়ে চালান করা খরচ যুক্ত হলে প্রকৃত ব্যয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তাদের মতে, এ ধরনের উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় ক্রেতাদের বৈধভাবে সম্পত্তি নিবন্ধনে নিরুৎসাহিত করছে। এর প্রভাব সরকারের রাজস্বেও পড়ছে বলে মনে করছেন তারা। কারণ, উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা ফ্ল্যাট নিবন্ধন করছেন না। কেউ আবার পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে সম্পত্তি রাখছেন, কেউ নিবন্ধন না করেই চুক্তির ভিত্তিতে বসবাস করছেন। ফলে উচ্চ করহার থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব পাচ্ছে না। এছাড়া সরকারের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) ফ্লোর এরিয়া অনুপাত (ফার) ও ভবনের উচ্চতা/আয়তনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে ডেভেলপার ও জমির মালিকদের বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ড্যাপের কারণে অনেক এলাকায় ভবনের নির্মাণযোগ্য আয়তন কমে গেছে। ফলে জমির মালিকরা আগের মতো ডেভেলপারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না এবং নতুন প্রকল্পও অনেক ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছে। আবাসনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল আমার দেশকে বলেন, এই খাতের বেচাকেনা এখন প্রায় ৬৫ শতাংশ কমে গেছে। আবাসন খাতের মূল দাবি ছিল— নিবন্ধন ব্যয়, কর ও ভ্যাটের চাপ কমানো, গৃহঋণের সুদহার হ্রাস এবং মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ আবাসন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাজেট আবাসন খাতকে রাজস্বের উৎস হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করবে। কিন্তু বাজেটে জমির মালিকদের ফ্ল্যাটের ওপরেও ১৫ শতাংশ কর বসানো হয়েছে। আমাদের দেশে রেজিস্ট্রেশন খরচ অস্বাভাবিক বেশি, এত বেশি ট্যাক্স সাউথ এশিয়ার কোনো দেশেই নেই। আলী আফজাল বলেন, সরকার যদি এই খাতেই সব ধরনের করারোপ করে, তাহলে এটি টিকবে না। এটা বন্ধ হলে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, রাষ্ট্র এই খাত থেকে বছরে সরাসরি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা পায়। বিদেশ থেকে আসে ২০ থেকে ২১ শতাংশ অর্থ। জিডিপিতে সাপোর্ট ইন্ডাস্ট্রিসহ আবাসনের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশÑ সরকার সেটা পাবে না। খাতটি বন্ধ হলে এখানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়ে রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ২৬৯টি সাপোর্ট ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ক্রেতাও আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। আবাসন বন্ধ হয়ে গেলে এসব সংযোগ শিল্পও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সরকারের উদ্দেশে পরামর্শ তুলে ধরে আবাসন খাতের এই ব্যবসায়ী বলেন, খাতটির গতি ফেরাতে উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে হবে। আবাসনকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খাত মনে করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সিঙ্গেল ডিজিট ইন্টারেস্টে ঋণ দিতে হবে। অস্বাভাবিক রেজিস্ট্রেশন ব্যয় স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে হবে। নিবন্ধন ব্যয় ১৫ শতাংশের পরিবর্তে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়বে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে। এভাবে করহার কমিয়ে লেনদেন ও নিবন্ধনের পরিমাণ বাড়ানো গেলে রাষ্ট্রের রাজস্ব এবং আবাসন বাজার— দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন গাছ লাগিয়ে গ্রামের চিত্র বদলে দেওয়া ইমাম
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন গাছ লাগিয়ে গ্রামের চিত্র বদলে দেওয়া ইমাম

  আগামী প্রজন্মের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস ও আল্লাহকে রাজিখুশি করতে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ৩৪ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি স্থাপনের মধ্যদিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে নানা ধরনের গাছের চারা লাগিয়ে আলোচনায় আসা ভোলার সেই মসজিদের ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের (৬০) ব্যতিক্রমী এই কর্মকাণ্ডের খবর পৌঁছে গেছে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর '৩৪ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে গ্রামের চিত্র বদলে দিলেন ইমাম' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা পোস্টে। অন্যান্য গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, সচিবালয়ে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব জেনেছেন এবং জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরে তিনি ধন্যবাদ জানান। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নে। তিনি স্থানীয় জনতা বাজার-সংলগ্ন কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম, এই মসজিদেই দুই যুগ ধরে ইমামতি করছেন তিনি। সেখানকার সম্ভ্রান্ত মাস্টার তোফায়েল আহমেদ সেক্রেটারির আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি চার নম্বর। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে প্রায় তিন যুগ ধরে মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি সরকারি রাস্তার পাশে নানা ধরনের বৃক্ষরোপণ করে আসছেন তিনি। ইতোমধ্যে বদলে দিয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়কের দুপাশের চিত্র। তার এ ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল  ১৯৯৩-৯৪ সালে ৮ লাখ টাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্থানীয় ভূইয়ারহাটে গাছের নার্সারি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। সে সময়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে বিভিন্ন গাছের চারা দিয়েছেন এবং গাছ লাগানোর জন্য উদ্ধুদ্ধও করেছেন, সেখান থেকেই শুরু। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০-৬০ হাজার ফলদ ওষুধিসহ অন্যান্য গাছের চারা লাগিয়েছেন। এরমধ্যে শুধু তাল গাছের বীজই রয়েছে প্রায় ২৫-৩০ হাজার। তবে নানান  কারণে সব গাছ টিকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। স্থানীয় ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়ক ছাড়াও আরও চারটি সড়কে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
শীতের কামড় কখন টের পাবেন, জানাল আবহাওয়া অফিস
শীতের কামড় কখন টের পাবেন, জানাল আবহাওয়া অফিস

  দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের আগমনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাতেও উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। ডিসেম্বর মাসে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে এবং জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। আর নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়বে। গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন বুধবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮০ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩ মিনিটে। আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

   মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘কৃষি শ্রমিক সমাবেশ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   এতে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষি শ্রমিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ‘কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি খামার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাঃ মনিমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী।. সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুস সবুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ কৃষিজীবি শ্রমিক ইউনিয়ন পৌর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম।     সমাবেশে বক্তারা কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “কৃষি শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” দেশের কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে কৃষি শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরে তিনি তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   একই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকদের নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা আবুজার গিফারী বলেন,    কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে   সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে কৃষি শ্রমিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী
সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

  সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িক বিধিনিষেধ ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ঢাকা থেকে ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা সৌদিগামী ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বার্তায় জানানো হয়, এ পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী। বেবিচক জানায়, এই ৮৬টি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি চালিত ফ্লাইট ছিল ৩৬টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল ৫০টি। সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি যাতায়াতকারী এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দর হয়ে যেসব ট্রানজিট ফ্লাইট সৌদি আরবে যাত্রী পরিবহন করে, সেগুলোর ওপরও বড় প্রভাব পড়েছে। বিঘ্নিত ৫০টি ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৬টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৪টি ও ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।  

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  মামুন শাহরিয়ার জাতীয় সাপ্তাহিক বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে রাজধানীর পুরান ঢাকায়। ঐতিহ্যবাহী লালবাগ কেল্লার বিপরীতে লালবাগ ওয়াটার গার্ডেন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন হলে সন্ধ্যা ৭টায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো: মামুন শাহরিয়ার। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হামিদুর রহমান হামিদ,উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল চৌধুরী এবং দেশ- বিদেশ খ্যাত ল্যাপারোস্কপি সার্জন অধ্যাপক ডা. আনহারুর রহমান।   এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা তাসাদ্দেক হোসেন বাবলু, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা হাজী শফিউদ্দিন আহমেদ সেন্টু, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা সাঈদ হাসান মিন্টু, বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মো. সাবের, ওল্ড ঢাকা ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি হাজী মোঃ রাশেদ হাসান এবং আলাউদ্দিন আগ্রো ফুড প্রোডাক্টের কর্ণধার হাজী মোঃ মারুফ আহমেদ আপেল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ-এর সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উন্নতি আশা করেন। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানের সম্পাদক ও প্রকাশকের মাতাকে শ্রেষ্ঠ মা ও পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
গণপূর্তে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে দুইজনের পদোন্নতি
গণপূর্তে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে দুইজনের পদোন্নতি

  বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডারের দুই কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের ৫০তম সভার সুপারিশ অনুযায়ী তাদের এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. আবু নাছের। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- মো. কায়কোবাদ ও মাহবুবুল হক চৌধুরী। বর্তমানে তারা যথাক্রমে গণপূর্ত ই/এম জোন, চট্টগ্রাম এবং গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়, তারা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর ৩য় গ্রেডে বেতন-ভাতা পাবেন। এই গ্রেডের বেতনক্রম ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৬ ইউনিট
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৬ ইউনিট

  গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হচ্ছে।  এদিকে ওষুধ কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানার চারতলা ভবনের চাতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওষুধ তৈরির কাঁচামালের গুদাম ও সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়ামাত্রই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Top week

Serbia
অর্থনীতি

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0