দেশজুড়ে

বগুড়ার শিবগঞ্জে আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
বগুড়ার শিবগঞ্জে আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

​গোলাম রব্বানী শিপন, বগুড়াঃ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মেধা বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহমূলক শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশন’। ​ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ​অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন ও বর্তমান সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ, সহ-সভাপতি রিজু ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মারজান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজ বাবু ফিরোজ, কোষধ্যক্ষ আবু সায়েম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসলামুল হক সাগর এবং সদস্য শাহ আলম, মোমিন, বাঁধন, নয়ন, শুভসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ। ​অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সভাপতি তাবরিজ আহম্মেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ভালো ও খারাপ, দুই দিকই আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হতে হবে।” তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ​অনুষ্ঠান শেষে করতকোলা জোনাব আলী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও করতকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ আলোকবর্তিকা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে উৎসাহিত করা হলে তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এমন মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: আর্থিক খাতের ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: আর্থিক খাতের ভয়াবহ বাস্তবতা উন্মোচিত

  জাতীয় সংসদে ঘোষিত অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনের এই হিসাব দেশের আর্থিক খাতের এক ভয়াবহ ও জঘন্য বাস্তবতাকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে। এককভাবে জনতা ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা মোট রাষ্ট্রায়ত্ত খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া অগ্রণী, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার মন্দ ঋণ প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অপশাসন এবং চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। দেশের জনগণের করের টাকায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর এই দশা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বণ্টন, ভুয়া জামানত, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের তোষণ এবং দুর্বল তদারকির অনিবার্য ফল। বিশেষ করে কোনো কোনো একক ব্যাংকে এত বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুঞ্জীভূত হওয়ার অর্থ হলো—সেখানে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যাংকিং খাতে যে ‘ঋণ খেলাপি অপসংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে, তার মাসুল এখন গুনতে হচ্ছে পুরো দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণকে। খেলাপি ঋণের এই বিশাল বোঝার কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা মেটাতে শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল অর্থাৎ জনগণের পকেটের টাকা ব্যবহার করতে হয়। এতে শুধু ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ ক্ষমতাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিও থমকে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে এই হিসাব পেশ করে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন না। আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে বিশেষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, যেসব বড় বড় অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপির কারণে ব্যাংকের এই করুণ অবস্থা, তাদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত আইনি আওতায় আনতে হবে। বিশেষ ঋণ আদালত বা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে খেলাপি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিশেষে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও স্বাধীন পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনা ছাড়া এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো বিকল্প নেই।

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
সাভারে মিঠুনকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
সাভারে মিঠুনকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

    সাভারে সাংবাদিক নির্যাতনকারী ভয়ঙ্কর প্রতারক, চাঁদাবাজ ও এক ডজনের অধিক মামলার আসামি মিঠুন সরকারকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাভারে কর্মরত সাংবাদিকরা। কয়েকদিন ধরে সাভারে কয়েকজন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। শনিবার সকালে এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাভার প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাভারে কর্মরত সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, মিঠুন সরকার একজন চিহ্নিত প্রতারক ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে মরধর, হত্যাচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, সমকামিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ১৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া এক ডজনেরও বেশি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাই অবিলম্বে সন্ত্রাসী মিঠুন সরকারকে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান সাংবাদিকরা। সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে ও তোফা সানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র বরুন ভৌমিক নয়ন, সাভার প্রেস ক্লাবের সম্পাদক গোবিন্দ আচার্য্য, অরূপ রায়, মিজানুর রহমান মাসুদ, শেখ আবুল বাশার, নজমুল হুদা শাহীন, আব্দুল হালিম, গোলাম পারভেজ মুন্না, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, ফাহাদ-ই আজম, জিয়াউর রহমান জিয়া, নাজমুল হুদা, ওমর ফারুক, শম্ভু সরকার, সোহেল রানা প্রমুখ

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে যুবকদের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ শুরু

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  ​সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে “ইলেকট্রিক্যাল এন্ড হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ-২০২৬”। ​আজ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মোট ৩৫ জন যুবক এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। ​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং চরবাগডাঙ্গা বিওপি কমান্ডারসহ বিজিবি’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। ​সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার যুবসমাজ কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে একটি নিরাপদ জীবন গড়তে সক্ষম হবে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

News সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন
ভারতে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

  ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলায় রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেটের ভেতরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ নামে মসজিদটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের প্রবেশপথও নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ৩১৫ বর্গমিটার জমি, যা রাজস্ব নথিতে কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত বলে আদালতে জানানো হয়। ২০২৫ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাবেক এক নেতা অভিযোগ করেন, কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি ও ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং গত মার্চ মাসে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, মসজিদটি বহু পুরোনো—প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে তাদের পক্ষে নথিও রয়েছে। তারা সরকারি পক্ষের জমির মালিকানা দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মসজিদটি ব্রিটিশ আমল থেকে, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ বছর ধরে সেখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক নথিতে ১৯১১ সালে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রমাণও রয়েছে, যা কালেক্টরেট ভবন তৈরিরও আগের। গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ হিসেবে বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস (অননুমোদিত দখলদার উচ্ছেদ) আইন, ১৯৭২-এর আওতায় উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত সেই আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখে। তবে আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ ছিল না; সেখানে আগের উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশই বহাল রাখা হয়। আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোরের আলো ফোটার আগেই মসজিদটি ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।

News সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী
এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী

  সেবা না পেয়ে পেলেন কর্মকর্তার চড়! জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা চাইতে গিয়ে এমনটাই অভিযোগ পর্তুগাল থেকে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে আসা এক প্রবাসীর। অভিযোগ রয়েছে , সেবা দেওয়ার পরিবর্তে তার গায়ে হাত তুলেছেন খোদ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওই প্রবাসীর অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একটি সমস্যার সমাধানে অফিসে যান তিনি। কিন্তু সেবা পাওয়ার বদলে কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের শিকার হন। একপর্যায়ে তাকে চড় মারা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরেই এই অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির মুখে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলেও দিনের পর দিন ঘুরতে হয় বিভিন্ন ডেস্কে। অনেকেই দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। প্রবাসীকে চড় মারার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। তবে তিনি ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে সাধারণ নাগরিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে নিছক ভুল বোঝাবুঝি বলে চালিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

  বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করতে চান স্থানীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি)। সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সংসদ সদস্যদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত ই জাহান। বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ার সব সংসদ সদস্য ওই সভায় অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বগুড়া ৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ার যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। প্রতিবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। একটি নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশ এবং ভালো জায়গা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের অনুরোধ জানান মোরশেদ মিলটন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির সভায় বগুড়ার সাতজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’ এর বাইরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ সংসদে পাস হয়েছে। এখন উপাচার্য প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের। বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করতে চাইলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। এরপর সংসদে পাস হতে হবে; যা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ফোন করা হলে তারা রিসিভ করেননি। তাদের মোবাইল নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি। তথ্যমতে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন করা হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি। দুটি বিভাগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তখন। পরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অনুমোদন পেয়েছি। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

   মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি  চাঁপাইনবাবগঞ্জে অগ্রণী সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের পাশে থাকা একটি কাঁচা রাস্তা অল্প পানিতেই তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টি কিংবা ক্যানেলের পানি বাড়লেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে যায়।   ফলে এ পথে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থায় তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যাওয়ায় পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অগ্রণী সেচ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, “রাস্তাটি অল্প পানিতেই তলিয়ে যায়। এতে এলাকাবাসীর চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হয়।   বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান হয়নি।” স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

  মোঃ জাকির খান টাঙ্গাইল।   মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত জাতীয় "দৈনিক মজলুমের কন্ঠ" ৩১ বছর পেরিয়ে ৩২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।  মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)২০২৬ ইং তারিখে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ।   এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি "সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু", সহ-সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য, মোঃ পলাশ ইসলাম, মোঃ জাহিদ সরকার, মোঃ কোভিদ হোসেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক  মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রিন্স এডওয়ার্ড মানসাং, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ তুহিন সহ আরো অনেকেই,,,

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য
পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

  রাজধানীর ধানমন্ডির কথা শুনলেই এক অভিজাত আবাসিক এলাকার চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে। এখানে লেক আছে। আছে সবুজে ঘেরা পার্ক। আশির দশকেই এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হারিয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। তখন থেকেই এই এলাকার কিছু অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কেই মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পদে পদে আইন লঙ্ঘন করে হাসপাতাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের দুই পাশে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার ও আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। প্রায় ৪৫ কাঠা জমিতে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–রাজউক অবৈধ সুবিধা নিয়ে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজকে আবাসিক এলাকায় এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গত ২৬ ও ৩০ আগস্ট সরেজমিন দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের পূর্বপাশে ১৭ ও ১৭/১ হোল্ডিংয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ভবন। এই ভবনের বেইসমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা থাকলেও সেখানে জেনারেটর রাখা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেইসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েক শ গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে দুটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের বেইসমেন্টের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় মালামাল রাখা হয়েছে। তবে আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতালের (প্রস্তাবিত) জায়গায় টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জানতে চাইলে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. এনায়েত হোসাইন শেখ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রাজউকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়েই এখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। কার্ডিয়াক সেন্টারের পাশে তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করবেন। তবে ৮ নম্বর সড়কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে পড়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজউক বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজউক অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পারায় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় চিকিৎসকদের চেম্বার, অভ্যর্থনা কক্ষ ও ফার্মেসি স্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া রাজউক একাধিকবার অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম ও নকশার ব্যত্যয় করে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় গুদাম করায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সতর্ক করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন অঙ্গীকারনামা দিয়ে রক্ষা পাওয়ার পর আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরে যায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে আতাঁত করে। এরপর থেকে তারা হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পূর্ব পাশেই পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচে প্যানারোমা হসপিটাল লিমেটেড নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ১৬। ভবনের দেয়ালে বিশেষজ্ঞ ডজনখানেক চিকিৎসকদের নামফলক শোভা পাচ্ছে। হাসপাতালের সামনের সড়ক দখল করে সাত–আটটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ব্যাংক, স্কুল ও করপোরেট অফিস রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের মাথায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এই সড়কের পুরোটাই আবাসিক। কনকর্ড টাওয়ারের বিপরীতে একটি ভবনে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারও রয়েছে। ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের পাশের ভবনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ভবনে হাসপাতালের পাশাপাশি ব্যাংক, স্কুল, করপোরেট অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। ধানমন্ডির ভুতের গলির স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডির গ্রিন রোড ও আশপাশে পুরোটাই আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক করার জন্য যেসব সংস্থা অনুমোদন দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নগরবিদের বক্তব্য এ বিষয়ে বিশিষ্ট স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘রাজউক ঢাকা শহরের বারোটা বাজিয়েছে। পরিবেশবিদদের কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও রাজউক রাজধানীর অনেক এলাকাকে মিশ্র বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা ঢাকা শহরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট না করে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।’ ইকবাল হাবিব আরও বলেন, যেকোনো স্থানে হাসপাতাল করা যায় না। আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এর সব দায়ভার রাজউকের। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠেছে চিকিৎসকদের চেম্বার, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আশির দশকের শেষে এবং নব্বই দশকের শুরুতে রাজধানীর গ্রিন রোডে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়। শুরুতে গড়ে ওঠে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এরপর কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন রাজউক দিয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন শুধু রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নির্মাণ করে। এই বিষয়ে রাজউকের সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হতে পারবেন। অবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ফি জমা দিয়ে আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক করার একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর সড়কে নির্মিত হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিক অনুমোদন নিয়েছিল কি না-সে বিষয়টি এই মুহূর্তে ফাইল না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ বলতে পারবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়ন্টিফোরকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকা কনভারশন ফি দিয়ে বাণিজ্যিক করার শর্ত ছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না–তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সচিব আরও বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ
দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

  উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায় একটি চক্র অবৈধভাবে টিএসপি সার মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তা অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। পরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পোল্লাকান্দি এলাকা থেকে ১০০ বস্তা টিএসপি সারসহ একটি ট্রলি জব্দ করে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন অভিযান পরিচালনা করেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্ভবত কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে সারগুলো জব্দ করা হয়।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘জব্দ করা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ
বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ

​গোলাম রব্বানী শিপন, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন(৩৫) নামের এক যুবককে পি টিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হ ত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শামিম সদরের নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক আত্মীয়ের দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বারপুর এলাকায় গিয়ে ছিলেন শামিম। সোমবার রাতে এলাকায় হাঁটাহাঁটির সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন তাঁকে আটক করেন। নিহতের শ্বাশুড়ি ছোবেদা বেগম অভিযোগ করে জানান, আটকের পর শামিমের ওপর রাতভর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর পায়ের রগ কেটে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। ​পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তাঁর মৃ ত্যু ঘটে। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে শামিম এর মৃ ত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সকালে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। তাঁরা নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নামুজা-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, "চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।" সাংবাদিক/ গোলাম রব্বানী শিপন ।  মোবাইল, ০১৭১১২৫২৪৯৬ মঙ্গলবার, ১/৯/২৬ইং

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিনদুপুরে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই
এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিনদুপুরে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই

  এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পিস্তলসহ তানভীর আবেদীন জুয়েল (৪১) নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের দিকে ধানমন্ডি লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানমন্ডি থানা পুলিশ জুয়েলকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। ৯৯৯–এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, এক কলার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর ভুক্তভোগী ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে এক ছিনতাইকারী রাস্তায় ছিটকে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে পিস্তলসহ আটক করে। খবর পেয়ে ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ধানমন্ডি থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জানানো হয়। ৯৯৯–এর কলটেকার কনস্টেবল মজিবুর রহমান কলটি গ্রহণ করেন। পুলিশ ডিসপাচার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম কলার ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। পরে ধানমন্ডি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পিস্তলসহ তানভীর আবেদীন জুয়েলকে আটক করে। পুলিশ জানায়, জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডি থানার আরও কয়েকটি টিম এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে একই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ছিনতাই হওয়া ৩৯ লাখ টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ডলার সহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ডলার সহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

   রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতে সদর উপজেলার ১ নম্বর গড়েয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজী মিলনপুর এলাকার মৃত নছিন আলীর ছেলে মো. জালাল উদ্দীন (৪৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. ফরিদ জামান (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ডলার দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তিকে কৌশলে মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। পরে তাকে পুলিশ পরিচয়ে আটক করে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও  ০১৭৪৮৬১০৮০

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ
সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর আওতাধীন সোনামসজিদ আইসিপি চেকপোস্টে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনা বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস ও অন্যান্য পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ​সোমবার (৩০ আগস্ট) রাতে ৫৯ বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট আনুমানিক ১৮৩০ ঘটিকায় সোনামসজিদ আইসিপি চেকপোস্টে বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে এক ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীর নিকট থেকে ৩৯৭ পিস বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় কসমেটিক্স, ০৩ পিস ভারতীয় শাড়ী, ৯১ পিস মলম এবং ২৪ পিস কনফেকশনারী জব্দ করেন। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪,০৫,৪০০/- (চার লক্ষ পাঁচ হাজার চারশত) টাকা। ​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রী দীর্ঘদিন ধরে মাল্টিপল ভিসার মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাংলাদেশ ভ্রমন করে নিয়মিত রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশে নিয়ে আসছিল। ​মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বলেন, "আমাদের সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে চোরাচালান প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী/চোরাকারবারী প্রতিবেশী দেশের চোরাকারীদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে বৈধ পথে অবৈধ উপায়ে রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়া এই ধরণের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।" ​জব্দকৃত পণ্যসামগ্রী প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমসে জমা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ​এই সফল অভিযানের ফলে সোনামসজিদ আইসিপি সীমান্তে চোরাকারবারিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিজিবি'র এই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র
ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র

​ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  ​চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ অর্থ। ​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রাত আনুমানিক ০২:০০ টায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ চাঁনশিকারী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। টহল দল সীমান্ত পিলার ২০০/এমপি হতে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, ভোলাহাট থানাধীন চাঁনশিকারী গ্রামস্থ হাউসপুর জামে মসজিদের আম বাগানে অভিযান চালায়। ​অভিযান চলাকালীন দলটি ৩ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলেন ​    মোঃ শরিফুল ইসলাম মোশারফ (৩২), পিতা- মোঃ আনারুল হক, গ্রাম- চাঁনশিকারী, থানা- ভোলাহাট।    আশরাফুল হক সানাউল (৩৩), পিতা- কছিম উদ্দিন, গ্রাম- আলালপুর, থানা- ভোলাহাট।.    মোঃ আমির (২৬), পিতা- আব্দুল লতিফ, গ্রাম- চাঁনশিকারী, থানা- ভোলাহাট। ​আটককৃতদের কাছ থেকে ৩৪ পুড়িয়া হেরোইন, ০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০১টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩,১০৭/- বাংলাদেশী টাকা জব্দ করা হয়েছে। ​বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, আটককৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারত হতে চোরাচালানের মাধ্যমে হেরোইন ও ইয়াবা এনে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে আসছিল। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি জানান, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিজিবি’র পক্ষ হতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিজিবি’র এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
বয়স ও পদবি জালিয়াতি: ইন্তেজারের বিরুদ্ধে তদন্তের পরও নীরব প্রশাসন
বয়স ও পদবি জালিয়াতি: ইন্তেজারের বিরুদ্ধে তদন্তের পরও নীরব প্রশাসন

  সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় বয়স জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে প্রবীণদের কল্যাণে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম)’-এ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সদস্যপদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান মহাসচিব ইন্তেজার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় একমাস পূর্বে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হলেও ‘অদৃশ্য’ কারণে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধা নিয়ে চাকরি শেষ করা এবং পরবর্তীতে সংস্থার শর্ত ভেঙে মহাসচিবের চেয়ার দখল করার এই ঘটনার সত্যতা পেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাইগাম কর্তৃপক্ষ। বাইগামের গঠনতন্ত্র ও সদস্য আবেদনপত্রের বিশেষ শর্তাবলির ৫ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তাঁর আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সদস্যপদ লাভের পরও এ ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে মহাসচিব মো. ইন্তেজার রহমানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম তোয়াক্কাই করা হয়নি। বাইগামের সদস্য ফরমে ইন্তেজার রহমান তাঁর জন্মতারিখ উল্লেখ করেছেন ১ মে ১৯৫৬। অন্যদিকে ১৯৭৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যখন তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগ দেন, তখন সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ দেখানো হয় ১ জানুয়ারি ১৯৫৫ এবং বয়স ছিল ১৮ বছর ১ মাস ২৫ দিন। এই জন্মতারিখ দেখিয়েই তিনি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ৬০ বছর বয়সে অবসরে যান ও সরকারি সকল ভাতা ভোগ করেন।  কিন্তু তাঁর মূল এসএসসি সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ছিল ১ মে ১৯৫৬। ১৯৭১ সালের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ১৯৭৩ সালে পুলিশে যোগদানের সময় তাঁর প্রকৃত বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস ২৫ দিন—যা সরকারি চাকরিতে যোগদানের জন্য আইনিভাবে অযোগ্য। চাকরি বাঁচাতে তিনি প্রথমবার বয়স বৃদ্ধি করেন এবং বাইগামে এসে পুনরায় আসল সনদ ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার অসত্য তথ্য দেন। এ ছাড়া বাইগামের সদস্য আবেদনপত্রে তিনি নিজেকে 'সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ সরকারি পেনশন বই ও অবসরের দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী তিনি অবসরে যান 'সহকারী পুলিশ সুপার' হিসেবে। জালিয়াতির এই সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এবং দাপ্তরিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ইন্তেজার রহমানের জমা দেওয়া তথ্যের অসঙ্গতি ও জালিয়াতির পূর্ণ সত্যতা পায় এবং তদানুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকা সদর কার্যালয়ের উপপরিচালক (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) মো. কামাল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ ছিল। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়। প্রায় মাসখানেক আগেই রিপোর্টটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তথ্য জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ার পর ইন্তেজার রহমানের সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও বাইগামের বর্তমান সভাপতি বিষয়টির সত্যতা জানার পরও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে মহাসচিব পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর ইন্তেজার রহমান, কোষাধ্যক্ষ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় সংস্থায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন। সংস্থার একাধিক সাধারণ সদস্যের দাবি—অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তারা ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্তেজার রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। সময়ের কণ্ঠস্বরকে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যাপারে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতির কথাও জানান। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শামসুল হক এ ব্যাপারে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। প্রতিষ্ঠানটি প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে অভিযুক্ত মহাসচিবের সদস্যপদ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতিতে ঝুলছে উন্নয়নকাজ, বারবার ছাড় পাচ্ছেন ঠিকাদার
উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতিতে ঝুলছে উন্নয়নকাজ, বারবার ছাড় পাচ্ছেন ঠিকাদার

  নির্ধারিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক উন্নয়নকাজ শেষ হয়নি। অনেক প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এলজিইডি থেকে প্রাপ্ত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের IRIDP-3 প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরেএ ২২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই মেয়াদেও কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। একই নথিতে দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণের কাজ পায় পঞ্চগড় সদরের মেসার্স প্রধান এন্টারপ্রাইজ। কাজটি শুরু হয় গত বছরের ১৬ এপ্রিল। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। পরে এই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে কাজ পিছিয়ে পড়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে একই অর্থবছরে Tulo-2 প্রকল্পের আওতায় মেসার্স সোহান ট্রেডার্স দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই। কাজটি শেষের জন্য নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের ৫ মে। অথচ কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। সবচেয়ে কম অগ্রগতির পরও মেয়াদ বৃদ্ধির ঘটনা দেখা গেছে ওই অর্থবছরের Tulo-2 প্রকল্পের টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণকাজে। দেবীগঞ্জের মেসার্স সুমন ট্রেডার্স ২০২৫ সালের ৮ জুলাই কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ মে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কাজটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ। এরই মধ্যে পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া GDDRIDP প্রকল্পের আওতায় পামুলী ইউনিয়নে ৫০ দশমিক ১০ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এরপরও ২০২৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর ভৌত অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। সরেজমিনে দেখা যায়, উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। পামুলী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন প্রায় ৫০ মিটার সেতুটিও স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পামুলী ইউনিয়নের শান্তিরহাট ও দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি বাদাম কেনাবেচার একটি আঞ্চলিক হাব গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ট্রাকে করে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সাথে নদী পারাপারের জন্য বিকল্প বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে কয়েক দিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার নিচে পড়ে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। গুরুতর আহন হন চালক ও যাত্রী। সেতুটি নির্মাণ হলে দণ্ডপাল, সুন্দরদিঘী ও পামুলী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং দূরত্বও কমে আসবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু যোগাযোগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। সরকারি বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি ও দায় বিবেচনায় চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি কম থাকার পরও বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পঞ্চগড় জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা বলেন, “কাজের অগ্রগতি কম থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত বা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হলে ঠিকাদাররা স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ পান। প্রকৌশলীর দায়িত্ব শুধু সময় বাড়ানো নয়, ঠিকাদারের কাছ থেকে সময়মতো কাজ শেষ করে তা বুঝে নেওয়াও। কেন তিনি কাজটি সময়মতো বুঝে নিতে পারছেন না, সেটিও প্রশ্ন। এভাবে কাজ ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।” উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল হক প্রধান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে এবং বারংবার এভাবে সময় বৃদ্ধি অবশ্যই ব্যত্যয়। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ বুঝিয়ে নেওয়ার দায় উপজেলা প্রকৌশলী এড়াতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিৎ বিষয়গুলো যাচাই করে কঠোর ব্যবস্হা গ্রহণ। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি জেলা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। ঠিকাদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বৃদ্ধি করা হয়, এটা নিয়মেই আছে। বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবনের কাজ সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে থেমে আছে। আর শীঘ্রই সোনাহার ও পামুলীর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সফিউল আলমকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এইদিকে দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুনগত মান বজায় রেখে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়কে যথাযথ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেবীগঞ্জে যোগদানের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার ইসলাম শাকিলের বদলি আদেশ হলেও উপর মহলকে ম্যানেজ করে সেই বদলি আদেশ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। এইদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি সংক্রান্ত ২২ মে ১৯৮৩ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ জুন ১৯৮৩ তারিখে ইডি/এস এ ১-১৩/৮৩-২৫৭(১০০) স্মারকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, দপ্তর, পরিদপ্তর এবং অন্যান্য বদলিযোগ্য পদে থাকা যেসব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বা একই পদে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত আছেন, তাদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
ইসিকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ইসিকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক, শক্তিশালী ও সুসংহত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, এনআইডি সংশোধন এবং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ বিষয়ে দায়িত্ব পালনে তিনি রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখারও আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে আসন্ন স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ব্যাপারে তার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি
যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি

  মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’র নাম করে তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আনা হয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। যেটির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।  চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, পৃথক গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করলে গাড়ির মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে চালানটি সাধারণ ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ নয়, বরং আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।  চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। বিপরীতে পুরো চালানটি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে পণ্যগুলো আনা হয়। এনবিআর জানায়, চালানটিতে ১৪ ধরনের পণ্যের মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে ছিল ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, সাসপেনশন শক অ্যাবসরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিরিং হুইল, বাম্পার ইত্যাদি। এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় ঘোষিত আলাদা গাড়ির যন্ত্রাংশের বিপরীতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ব্যবস্থা, সংবেদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় সামনের কাটা অংশ, সম্পূর্ণ পেছনের কাটা অংশ, সামনের ও পেছনের অংশ কাটা ও ছাদ কাটা প্যানেল এসেম্বল পাওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে বলে কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। শনাক্ত চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে—২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এর মধ্যে রেঞ্জ রোভারের বাংলাদেশি বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বিএমডাব্লিউর ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা, লেক্সাসের ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি এবং টয়োটা ক্রাউনের এর ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে, চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে এগুলো আনুমানিক বাজারমূল্য; চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও শুল্ক-কর নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুল্কায়নের মাধ্যমে হবে। এনবিআর জানায়, চালানটির ইনভয়েস মূল্য ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। ঘোষণায় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২.৭৪৩৩ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৯ হাজার ৫৭৭ টাকা ধরে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৯৬ টাকা এবং অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। তবে গাড়িগুলোকে পৃথক ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে না দেখিয়ে জিআরআই আইন অনুযায়ী আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলে কত শুল্ক-কর প্রযোজ্য হতো, তা এখন নির্ধারণ করা হচ্ছে। গাড়ির প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয় এবং প্রযোজ্য শুল্ক-করসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। আইন অনুযায়ী কোনো পণ্য অসম্পূর্ণ, অসমাপ্ত বা খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও তাতে যদি সম্পূর্ণ পণ্যের ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর ধরন ও বিন্যাস বিবেচনায় এসব গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মোটরযানের এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার বিদ্যমান বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঢাকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চেয়ারে বসার মরিয়া চেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুলের
শাস্তির তোয়াক্কা না করে ঢাকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চেয়ারে বসার মরিয়া চেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুলের

  নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতি, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং মালামাল না বুঝে নিয়েই ভুতুড়ে বিল পরিশোধের অভিযোগে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক বদলি (Stand Release) করা হয়েছে।   অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনা জেলায় বদলি করে।** দুর্নীতির মূল অভিযোগসমূহ:**১. ১০০ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল সংস্কার ও শয্যা উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় আসবাবপত্র কেনার নিয়ম ছিল 'গুডস' বা পণ্য সরবরাহ ক্যাটাগরিতে। কিন্তু প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম পিপিআর (PPR) বা সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করে তা 'ওয়ার্কস' বা নির্মাণকাজ ক্যাটাগরিতে আহ্বান করেন।   উদ্দেশ্য ছিল নিজের পছন্দের ও লাইসেন্সবিহীন কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ২২টি কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়া।২. পণ্য ছাড়াই ৪ কোটি টাকার বিল পাস: জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কোনো আসবাবপত্র সরবরাহ বা বুঝে না নিয়েই, কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র ২ দিনের মাথায় ঠিকাদারকে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি টাকার ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করেন তিনি।   বদলি ও বর্তমান পরিস্থিতি:এই দুর্নীতির খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে আসার পর তোলপাড় সৃষ্টি হলে মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকা থেকে পাবনায় বদলি করে দেয়। পাবনায় দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পেও পদায়িত হন। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটির অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

Top week

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য
দেশজুড়ে

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0