শিক্ষা

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

  দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক পদায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আগামী বছর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করব। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরো নিড বেসড মানে ফাইনান্সিয়াল নিড বেস হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইনান্সিয়াল নিড বেসিসের ওপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরো বাড়ে।’ ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু–কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪–এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু–কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী–পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন–অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত। মন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা–দর্শনের মূলকথা হলো–মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0
সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল
সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল

  সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’—এসএসএসডিডব্লিউ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া। মহড়ায় ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে টহল, চোরাচালানিদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রমেও ড্রোনের ব্যবহার তুলে ধরা হয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে ম্যাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে প্রদর্শন করা হয় আকর্ষণীয় ‘ড্রোন ফ্লাই-পাস্ট’। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। নতুন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সীমান্ত নজরদারি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার

  শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস থেকে সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। একাধিকবার তার কাছে হিসেব চাইলে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান দেই দিচ্ছি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ২০২৫ সালে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন মাদ্রাসাটির সহকারী গ্রন্থাগারিক খালিদ বিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী আব্দুল আজিজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি অডিট ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝিয়ে দিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান তদন্ত কমিটির কাছে একমাস সময় চেয়ে নেন। এরপর একমাস পেরিয়ে বছর হলেও তিনি অডিট কমিটির কাছে হিসেব বুঝিয়ে দিতে পারেন নি। পরে মাদ্রাসার সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝে পাওয়ার আগে কোন কাগজে সাক্ষর করবে না বলে জানান। এরপর গত ২০ আগষ্ট অগ্রণী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার ০২০০০০১৪০০৯২৯ সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। টাকা তোলার পর ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নান ওই টাকা নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করে আত্মসাৎ করেন। প্রথমে সাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা উত্তলনের প্রমাণ দেখানে তিনি টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে থানায় ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এডহক কমিটির সভাপতি। এমন ঘটনার পর মাদ্রসা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক টিউলিজ রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাঝে মধ্যেই তিনি বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। বেতন আমাদের একাউন্টে ঢুকছে না কেনো,এমন প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন সভাপতি সাক্ষর দিচ্ছে না তাই বেতন পাচ্ছি না। গত মাসে আমাদের বেতন উত্তলন করে নিজের একাউন্টে রেখে দিছে। পরে শুনতে পারি সভাপতির সাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সুপার টাকা উত্তলন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আমাদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে। তিনি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আমাদের সাথে যেই কাজ করেছে আমরা এই সুপারের বিচার দাবি করছি।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ
পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

   পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা:)২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার  পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অদ্য ২৪ আগষ্ট দুপুর  ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সিরাতুন্নবী উদযাপন  কমিটির আহবায়ক প্রফেসর এম. জহুরুল  হক এর সভাপতিত্বে  ও ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড.  রাহাত মাহমুদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এবিএম সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)।তিনি কেবল একটি ধর্মের প্রচারক ছিলেন না,বরং তিনি ছিলেন একজন আদর্শ সমাজ সংস্কারক,সফল  রাষ্ট্রনায়ক এবং মানবতার মূর্ত প্রতীক। অন্ধকার ও বর্বরতার যুগে অবতীর্ণ হয়ে তিনি  এক আলোকোজ্জ্বল  ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।তরুন সমাজ যদি তার প্রদর্শিত পথ ও নৈতিকতা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে তবে একটি সুন্দর, সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠন করা সম্ভব।   শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, মাদক, ইভটিজিং, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবন আমাদের শেখায় কিভাবে ভালবাসা,ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা দিয়ে সমাজকে বদলে দেয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কেবল তও্বীয় তার জীবনী না পড়ে বাস্তবজীবনে তাঁর প্রতিটি গুণ যেমন নম্রতা,পরোপকার, সদাচার ও দেশপ্রেমের অনুশীলন করা। তবেই একটি মানবিক  ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব। পরে বিশ্ববিদ্যালয়,সৃজণি স্কুল এন্ড  কলেজের  শিক্ষার্থীদের হামদ,নাত,কেরাত,আজান,উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত
বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত

  “রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় ফিশারিজ অনুষদের সামনে থেকে এক  বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। উক্ত রেলিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.মো: সাজেদুল হক এর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম হেমায়েত জাহান।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম,ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর  প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আমাদের সংস্কৃতি,অর্থনীতি এবং পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস্য হলো মৎস্য সম্পদ।আমরা যুগের পর যুগ ধরে নদীকে কেবল শাসন করতে চলেছি।বাঁধ দিয়ে,নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে কিংবা পরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরী করে নদীকে খাঁচায় বন্দী করার চেষ্টা করছি। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন  ক্ষেএগুলো ধ্বংস হয়েছে, নদীর নাব্যতা কমেছে এবং এতে করে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। তিন বলেন, শুধুমাএ নদীকে শাসন করলেই হবে না,মাছের চাহিদা পূরনে নদীকে লালন করতে হবে।   এর অর্থ হলো নদীকে তার  নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া, নদীর যত্ন নেওয়া,নদীতে দুষনমুক্ত রাখা  এবং মাছের প্রাকৃতিক  অভয়ারণ্যগুলোকে রক্ষা করা। মাছ যখন নির্বিঘ্নে  ডিম ছাড়ার পরিবেশ পাবে, তখনই আমাদের নদীগুলো  আবার মাছে মাছে ভরে উঠবে।তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের গবেষণা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও টেকসই  মৎস্য চাষের মডেল  উদ্ভাবন  করেছেন যা সরাসরি আমাদের জেলে ও চাষীদের মৎস্য উতপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের  নীলকমল লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষা র্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি

  দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মসজিদে আসা মুসল্লিরা। সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এসিগুলো। মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি ব্যবস্থার দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তাগাদার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে এসি ব্যবস্থা চালু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে জোহরের নামাজ আদায় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে ভালো লাগল। সেখানে মসজিদের নতুন এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করলাম। মুসল্লিদের মুখে স্পষ্টতই আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ দেখলাম।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর অবশেষে মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।’ অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে। এর উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ড. ফাওজুল কবির খান তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় ওই দাতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পরবর্তী কয়েক মাস ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সাবেক উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এসি ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মসজিদের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে মসজিদের এসি সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, একটা লম্বা সময় যুদ্ধের পর মসজিদে এসি চালু হলো। মসজিদের পুরো কাজটা করতে যে কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে এসির লাইন পেতে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি, নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস—সব জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরেছি।’ ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রেখেছে।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। আবু সাদিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দিয়েছে দলীয় প্রভাবশালী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোও সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।  

News আগস্ট ১০, ২০২৬ 0
স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা
স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা

  নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। ডা. জুবাইদা বলেন, নারীদের সমতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন,  ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এছাড়া, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিএনপি সরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করে সমতা ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন ড. জুবাইদা রহমান। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা করছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি জুলাইকে জনগণের যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।  তিনি বলেন, জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে অনেক চিকিৎসক শপথ ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হওয়া চিকিৎসকদের শনাক্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং প্রতিটি শহীদের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায়।  

News আগস্ট ৯, ২০২৬ 0
আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

  আওয়ামী লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) নাটোরের লালপুরের বিলায়েত খান উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, বিগত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এক মানসিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিমুখ করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে হতাশায় পড়ে অনেকে অনলাইন জুয়া ও মাদকের ছোবলে জড়িয়ে পড়ে। কারণ ফ্যাসিবাদী শাসক চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা যেন মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিবাদ করতে না শেখে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করতে ফের টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা এখন সংস্কৃতি পেরিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে সারা দেশের খেলার মাঠেও পৌঁছে গেছে। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রাইভেট পড়ানোর প্রবণতা থেকে বিরত থেকে ক্লাসেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন। পরে তিনি এবি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। কর্মী সভায় লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ পাপ্পু এবং গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম বক্তব্য দেন।

News আগস্ট ৯, ২০২৬ 0
একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ
একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

  শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দেশের একটি উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশটি গত রোববার (২৬ জুলাই) জারি করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ার দক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগে সক্ষমতা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর ফল আশানুরূপ না হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও শিক্ষার্থীদের শিখনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে কেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, রতনগঞ্জ, ভবানীপুর, রূপপুর, ঢালারচর, খাস আমিনপুর, গোপিন্দা, ধর্মগঞ্জ, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া ও বেড়া সান্যালপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে টানা দুই থেকে তিন মাসও পরিদর্শন করা হয়নি। এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। এতে মূল্যায়নের প্রকৃত চিত্র বিকৃত হচ্ছে এবং এফএলএন কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি নিরূপণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, শুধু শিক্ষকদের শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গোপিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পর্যাপ্ত পড়াশোনার সুযোগ পায় না। তবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষকদের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

News জুলাই ২৯, ২০২৬ 0
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অবরোধ, স্থবির রাজধানীর একাংশ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অবরোধ, স্থবির রাজধানীর একাংশ

  দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে পরীক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তাদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। শুধু রাজধানী নয়, শাহবাগ, মিরপুর এবং সায়েন্সল্যাবেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে এসব স্থানে কর্মসূচি শুরুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে
২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে

  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সম্প্রতি ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসুক। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।’ ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য সব ধরনের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড’ বা ন্যূনতম শিক্ষাগত মান নির্ধারণ করা হবে। এর আওতায় ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলা পাঠ এবং বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোচিং বাণিজ্যের কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোচিং বাণিজ্য চাই না। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’-এ রূপান্তর করা সম্ভব হলে আলাদা আইটি ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি স্থাপনে উদ্যোগ নিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সভায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোকে জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো যাবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও করের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যুৎ বিল মওকুফের বিষয়ে তিনি বলেন, সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে খাতা-কলম বিতরণ এবং ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা চালুর কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষকদের জন্য ‘মাইক্রো ট্রেনিং’ কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি ‘কমপ্লেইন সেল’ চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, দাবি ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
পবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
পবিপ্রবির বিজয়-২৪ হলে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

  পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ জুন) রাত ৮টায় বিজয়-২৪ হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান।বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম. জহুরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সোহেল রানা জনি, এ এইচ এম সামিউল হাসান ও মো. জামিউল রিয়ন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "ফল শুধু সুস্বাদু খাদ্য নয়, এটি সুস্থ ও সুষম জীবনের অন্যতম প্রধান উপাদান। মৌসুমি ফল ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে   ।গ্রীষ্মকালীন ও বর্ষাকালীন সময়ে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এই মৌসুমের ফুলগুলোতে পানি ও খনিজের পরিমাণ বেশী থাকে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনই একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব বিকাশে এগিয়ে নিয়ে যায়।"তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং এ ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।"অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হয়।   পরে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে ফল উপভোগ করেন- যা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এ উৎসবে  বিভিন্ন অনুষদের ডিন,বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
কেন্দ্রের ২০০ গজে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ
কেন্দ্রের ২০০ গজে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ

  আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগরের সব পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২ জুলাই থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। ডিএমপি জানায়, ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা চলাকালীন এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
বাংলা সাহিত্যে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ, থাকবে ওসমান হাদীর বীরত্বগাথাও!
বাংলা সাহিত্যে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধ, থাকবে ওসমান হাদীর বীরত্বগাথাও!

  আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম–দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়েশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিকনতুন একটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শরীফ ওসমান বিন হাদীর বীরত্বগাথাও তুলে ধরা হবে। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জনসংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষা সচিবের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবম–দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ প্রস্তুত করা হবে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদীকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সূত্র বলছে, সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে তার বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হতে পারে। জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মুগ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, একই ধরনের বিন্যাসে শরীফ ওসমান বিন হাদীকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)। উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন পরিমার্জন আনা হয়। এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

News জুন ১১, ২০২৬ 0
২০২৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম পাবে: ববি হাজ্জাজ
২০২৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নতুন কারিকুলাম পাবে: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং শেষে ২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। নতুন কারিকুলামে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।   রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত প্রাথমিক স্তরের ভাষার দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন প্রাথমিক শিক্ষার মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শিখিয়ে বের করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মূল্যায়িত করা হবে সকল কর্মকর্তাদের। এতে উন্নত ওয়াশরুম এবং শ্রেণি কক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।   তিনি বলেন, ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন এবং একই সাথে স্পোর্টস, কালচার এই ভিত্তিতে আমরা নতুন কারিকুলাম শেখাচ্ছি। এই নতুন কারিকুলাম ক্লামরুমে আবদ্ধ থাকবে না। আগামীদিন থেকে প্রত্যেকটা স্ট্রাকচার হবে, শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শেখাতে পারলাম, তার উপর ভিত্তি করে। এসময় নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

News মে ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

Top week

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য
দেশজুড়ে

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0