স্বাস্থ্য

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট
২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট

  দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই আইনজীবী বলেন, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করবেন। এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। টুথপেস্ট ব্যবহারের অভ্যাস এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা জানতে এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে কোনও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে।বাংলাদেশ সংবাদ দেশে তৈরি ও আমদানি করা উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ২টি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরীক্ষা করা কোনও টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা যেমন জানতে পারছেন না তারা কী ব্যবহার করছেন, তেমনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও এসব পণ্য কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।  

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়

  নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক আনসার সদস্য। উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক নারী হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।  ভুক্তভোগী আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম গত ১ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, গত রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে রোগী ও যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে গেটের সামনে রাখা মোটরসাইকেল নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে রাখতে বলেন সোহানুর ইসলাম। এ সময় বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি আনসার সদস্যকে মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সোহানুর ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিকেলে আলাউদ্দিন হাসপাতালে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি প্লাটুন কমান্ডার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। সোমবার সকালে ফের হাসপাতালে ঢুকে আলাউদ্দিন আনসার সদস্য সোহানকে মারধরের হুমকি দেন। মঙ্গলবার দুই সহযোগীকে নিয়ে আনসার ক্যাম্পে গিয়ে তাকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের বাইরে ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সোহানুর ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দায়িত্ব পালন ছাড়া ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছি না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সমাধানের আশ্বাস পেলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আনিসুর রহমান বলেন, রোববার এক আনসার সদস্যের সঙ্গে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই ব্যক্তি বারবার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা কমান্ডারকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সভায় থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, সাবাই গেটের সামনে গাড়ি রাখলেও আমাকে ওই আনসার সদস্য বাধা দেয়। পরে আমাকে বেয়াদব বলে। দুপুরে আমি গিয়ে দেখি আবারও ওখানে অনেক গাড়ি রাখা। মঙ্গলবার সকালে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি আনসার ক্যাম্প। তবে রোববারের পর ওই আনসার সদস্যের সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি। আমাকে ট্র্যাপে ফেলতে সে আমার নামে অপপ্রচার করছে। বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুন বলেন, আনসার সদস্যই প্রথমে আমার স্বামীর সঙ্গে বেয়াদবি করেন। পরে আমার স্বামীও উত্তেজিত হয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজকে বসার কথা রয়েছে। আমি একটি মিটিংয়ে আছি। বের হয়ে এবিষয়ে কথা বলব। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা
১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা

  দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।  এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ টিসিভি প্রদান করা হবে। একই সেশনে এমআর-২ (গজ-২) টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেওয়া যাবে। মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সহজীকরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে। মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে ভ্যাকসিনের অপচয় কমানো সম্ভব হয়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

  প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে।   দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।   তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

News জুলাই ৯, ২০২৬ 0
আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান কোনো অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ ওষুধই অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সেখানকার রোগীরা এসব ওষুধ ব্যবহার করে সন্তুষ্ট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। আর এটিই প্রধানমন্ত্রীর মূল স্লোগান। আমরা শুধু মুখে বলছি না, এটি বাস্তবায়নও করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চলতি মাস থেকে নতুন বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এটির পর্যবেক্ষণ করছেন। একই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকার উৎসাহিত করছে, এবারের বাজেটেও আমরা তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর সুযোগ–সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়েছি। বাংলাদেশে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক নীতিমালা পেলে তারাও বিশ্বে অন্যতম সেরাটা দেখাতে পারেন। এই সবকিছুর পেছনে দিনশেষে নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের একজন নেতা আছেন, যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। আমরা এখন সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করছি। আমরা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং তা পূরণ করবে সরকার।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
দেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর অবহেলার মুখোমুখি হয়েছে : জুবাইদা রহমান
দেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর অবহেলার মুখোমুখি হয়েছে : জুবাইদা রহমান

  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর ধরে অবহেলা এবং জবাবদিহিতার অভাবের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়। এর ফলে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জুবাইদা রহমান বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর ফলে আমাদের দেশের মানুষ দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতিকে বদলে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি
রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি

  গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহসহ নানা বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে গাইবান্ধা–২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রোগীদের জন্য পরিবেশন করা মাংসের ওজন পরীক্ষা করে গুরুতর অসঙ্গতি দেখতে পান। হাসপাতালের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য দুপুরে ১৯০ গ্রাম (ব্রয়লার) মাংস দেওয়ার কথা। কিন্তু সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ওজন করে দেখা যায়, মাংসের পরিমাণ মাত্র ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম। এ ঘটনায় হাসপাতালের সেবার মান ও রোগীদের খাবারের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সড়কের স্থানীয় বাসিন্দা সুজন মিয়া বলেন, ‘ঠিকাদার শাহাদাৎ আওয়ামী লীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে হাসপাতালের সব কেনাকাটা করতো। ওই সময় তিনি দুটি কাজ করতেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুজন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাজের দায়িত্বসহ ৯টি কাজ করছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এই ব্যক্তি এখন কোটি টাকার মালিক। গাইবান্ধাবাসী দীর্ঘদিনের এ জুলুম ও অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার চায়।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাদ্য সরবরাহকারী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিকাদার না। ঠিকাদার বাহিরের।’ কোন জায়গার ঠিকাদার এবং নাম কী জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাহিরের ঠিকাদার, আমি জড়িত আছি। বাদ দাও তো ভাই।‘ গাইবান্ধা–২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের খাবারসহ ঠিকাদারের শাস্তির বিষয়ে বলেন, ‘রোগীদের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই আত্মসাৎ না হয়। রোগীদের প্রাপ্য খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কারো এককভাবে কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমিও অনেক অভিযোগ শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে সংসদে কথা বলেছি। আর অনিয়ম যাতে না হয়, সেজন্য আমি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবো  

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল
শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল

  দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নরমাল ডেলিভারি অর্থাৎ লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। GeographicReference ‎স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে। মন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’ এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়। চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ‎স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক শিশুই চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে অনেক মায়ের শরীরেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নেই। ফলে নবজাতকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ‎এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়। ‎তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশই মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন। ‎তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ‎অনুষ্ঠানের শেষদিকে মিডওয়াইফদের সংগঠন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংগঠন মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‎কর্মশালায় জানানো হয়, ৪০টা নরমাল ডেলিভারি পরে একজন ধাত্রী রেজিষ্ট্রেশন পান। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে উঠেন। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে তাদের কাজের সুযোগ না থাকায় এ সকল ধাত্রীদের সিংহভাগই ঝরে পড়েন। এর মধ্যে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বছরে শুধুমাত্র ৫০০ ধাত্রী কাজ করার সুযোগ পেলেও বাকীরা সাধারণ নার্স হিসাবে কাজ করেন। এতে শিশু জন্মের সময় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কর্মশালায় বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার ও বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

  দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News জুলাই ৫, ২০২৬ 0
ক্যানসার, কিডনিসহ ৬ ধরনের রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার
ক্যানসার, কিডনিসহ ৬ ধরনের রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার

  দেশের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও গুরুতর অসুস্থ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন অর্থবছরে বড় ধরনের বিশেষ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত—এই ৬ ধরনের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সরকার।  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের এক আনুষ্ঠানিক বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।  প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দেশের সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও শক্তিশালী করতে ১২টি উল্লেখযোগ্য কার্যাবলি, প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম’ পরিচালনা করা।  একই সঙ্গে অসহায় নারীদের সহায়তায় ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রম’ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম’ জোরদার করা হবে। অবহেলিত শিশুদের সুরক্ষায় ‘বেসরকারি এতিমখানায় আর্থিক সহায়তা’ প্রদানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম’ পরিচালনা করবে সরকার।  পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম’ এবং বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের সকল প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান ও অধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরি’র বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এর পাশাপাশি অটিজমে আক্রান্তদের কল্যাণে ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’ এবং দেশের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়নে ‘স্ট্রেন্দেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।   জানা যায়, নতুন অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ৩০,৪৪২,৬৬,০০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে নিয়মিত পরিচালন খাতে ১৫,১৭৪,৭৬,০০ হাজার টাকা এবং সরাসরি উন্নয়ন খাতে ১৫,২৬৭,৯০,০০ হাজার টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

News জুন ২২, ২০২৬ 0
ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন, মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা
ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন, মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে, যা ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধটি বাজারে এনেছে। বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় (আইভি) ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা এ পদ্ধতিতে বেশি সুবিধা পাবেন এই চিকিৎসা মূলত নন–স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি–এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি–এল১–এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির উপযুক্ত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে চিকিৎসা পদ্ধতিটি যতটা আধুনিক, এর খরচও ততটাই বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি

News মে ১৮, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়ছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।   বাড়ছে জটিলতা চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচলিত জ্বর, ব্যথা ছাড়াও অনেক রোগী পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবির রহমান জানান, "অনেকে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, ফলে শরীরে প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ছে।"   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা সোমবার এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। সবাইকে বাসা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।"   কী করণীয়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি জমে থাকে এমন জায়গা—ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রেন বা প্লাস্টিক পাত্র—সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে অনেক এলাকাবাসী এখনও অভিযোগ করছেন, তাদের এলাকায় কার্যকর ফগিং বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

জানিফ হাসান জুন ১০, ২০২৫ 0
মেটালযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।   বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।   ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।   সরকারি অবস্থান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানিফ হাসান জুন ৯, ২০২৫ 0
বাড়ছে শিশুদের মধ্যে হাঁপানির প্রকোপ, চিকিৎসকরা বলছেন দূষণ দায়ী

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিশুদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই অবস্থার পেছনে বায়ুদূষণই মূল কারণ। জাতীয় শিশু হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন শিশু শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুই হাঁপানির লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।   দূষণই মূল দায়ী: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহরাজুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা বায়ু দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার। ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া ও শিল্পবর্জ্যের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলো তাদের ফুসফুসে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, শুধু শহর নয়, এখন গ্রামীণ এলাকাতেও হাঁপানির হার বেড়েছে, কারণ ধানের খড় পোড়ানো, ইটভাটা ও স্থানীয় সড়কের ধুলোবালি শিশুরা সহজে সহ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের উদ্বেগ: রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমার ৬ বছরের ছেলের প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কাশি ও নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়। ডাক্তার বলেছেন, এটা হাঁপানি। মাস্ক পরানো ও ঘরের বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শহরাঞ্চলে স্কুলগামী শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশুদের ধুলাবালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাসায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   উপসংহার: শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। নইলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানিফ হাসান জুন ২৫, ২০২৫ 0
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু? এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে। আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
করোনা পরবর্তী জটিলতায় বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা

করোনা মহামারির পর থেকে দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মহামারির সময়কার বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর মতো মানসিক ধাক্কা এখনো অনেক মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, মহামারি-পরবর্তী সময়ে অন্তত ৪২ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক চাপে ভুগছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত উদ্বেগ, বিষণ্নতা, নিদ্রাহীনতা এবং আচরণগত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞ মতামত: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা সুলতানা বলেন, "করোনা শুধু শারীরিক রোগ নয়, এটা মানুষের মানসিক ভারসাম্যও ভেঙে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা, চাকরি হারানো, আত্মীয়স্বজনের মৃত্যু—এসব ঘটনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রোগী আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ও মাদকাসক্তি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।   স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা: সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ না থাকায় রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।   প্রতিরোধ ও করণীয়: বিশেষজ্ঞরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক সহানুভূতি, সামাজিক যোগাযোগ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রাত্যহিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সম্প্রসারণ ও হেল্পলাইন চালুর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জানিফ হাসান জুন ১৭, ২০২৫ 0
তুলসি পাতার ৫টি আশ্চর্য স্বাস্থ্যগুণ

হাজার বছর ধরে উপমহাদেশের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ঘরোয়া পথ্য ব্যবস্থায় তুলসি পাতা এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তুলসি শুধু একটি গাছ নয়—এটি স্বাস্থ্য, উপকারিতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। বৈজ্ঞানিক গবেষণাও প্রমাণ করেছে যে তুলসিতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হৃদরোগ প্রতিরোধ পর্যন্ত বিস্তৃত।   নিচে তুলে ধরা হলো তুলসি পাতার পাঁচটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যগুণ, যা প্রতিটি ঘরে জানার মতো।   ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তুলসি পাতায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সিজনাল ফ্লু, ঠান্ডা-কাশি বা ভাইরাস সংক্রমণের সময় নিয়মিত তুলসি পাতা সেবন করলে শরীর অনেক বেশি প্রতিরোধক্ষম হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলসি চায়ের নিয়মিত গ্রহণ ৪৫% পর্যন্ত সাধারণ ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।   ২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় তুলসি পাতার সুগন্ধ ও উপাদান মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ হরমোনের নিঃসরণ কমায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। অনেকে তুলসিকে ‘ন্যাচারাল অ্যাডাপ্টোজেন’ বলে থাকেন, কারণ এটি শরীরকে মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তুলসি পাতা চিবালে বা তুলসি চা পান করলে সারাদিন মন শান্ত ও সতেজ থাকে।   ৩. রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলসি একটি উপকারী প্রাকৃতিক সহায়ক। তুলসি পাতা ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়—পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে তুলসি পাতা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ভারতের ‘জার্নাল অব ক্লিনিকাল হেরবাল মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৬ সপ্তাহ তুলসি পাতা সেবনের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।   ৪. শ্বাসতন্ত্রের রোগে কার্যকর তুলসি পাতায় থাকা ইউজেনল ও সাইনোল নামক উপাদান কাশি, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ নানা শ্বাসতন্ত্রের রোগে উপকারী হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগা, গলায় খুশখুশ ভাব বা শ্বাসকষ্টের সময় তুলসি পাতার রস মধুর সঙ্গে খেলে উপশম মেলে। গ্রামাঞ্চলে তুলসি পাতা, আদা ও গোল মরিচ দিয়ে তৈরি পানীয় ‘কাড়া’ এখনো ব্যাপক জনপ্রিয়।   ৫. ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক তুলসি পাতার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান ত্বকের ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চুলকানি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া তুলসি চুলের গোড়া মজবুত করে ও খুশকি দূর করে। অনেক হোমমেড ফেসপ্যাক ও হেয়ার মাস্কে তুলসি পাতা গুঁড়ো বা রস ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত ব্যবহারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

জানিফ হাসান জুন ১১, ২০২৫ 0
প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস বদলে দিতে পারে জীবন

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাবে আমরা দিন দিন অলস হয়ে পড়ছি। শরীরচর্চার অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছেন বহু মানুষ। অথচ প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিয়মিত হাঁটলেই অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।   হাঁটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা শরীরের জন্য একটি সহজ, স্বাভাবিক এবং ঝুঁকিহীন ব্যায়াম। এটি কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সক্রিয় করে, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তারেক বলেন, “সাধারণ হাঁটা প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও ঘটে।”   কোন কোন উপকারিতা পাওয়া যায়? নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার ফলে শরীর ও মনের উপর যেসব প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো: হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায় রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন কমাতে ও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে অস্থি ও পেশির শক্তি বাড়ায় মানসিক চাপ কমায় ও মন ভালো রাখে ঘুমের মান উন্নত হয়   কখন হাঁটা সবচেয়ে উপকারী? গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে খালি পেটে হালকা হাঁটা বা বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের আগের সময়টি হাঁটার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে সময়ের অভাবে কেউ যদি রাতে খানাপিনার কিছুক্ষণ পর হাঁটেন, তবুও সেটি উপকারি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হাঁটার সময় যেন জুতার আরাম, রাস্তার নিরাপত্তা এবং শরীরের পানির চাহিদা খেয়াল রাখা হয়।   হাঁটার সময় কীভাবে হাঁটবেন? হাঁটার সময় কিছু বিষয় অনুসরণ করলে উপকারিতা আরও বাড়ে: সোজা হয়ে হাঁটুন গতি ধীরে বাড়ান এবং ধীরে কমান প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন আরামদায়ক ও হালকা জুতা পরুন মোবাইল বা হেডফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে চারপাশের দিকে খেয়াল রাখুন   হাঁটার অভ্যাস গড়বেন কীভাবে? হঠাৎ করেই দীর্ঘ সময় হাঁটা শুরু না করে ধাপে ধাপে অভ্যাস তৈরি করা উচিত। প্রথমে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে শুরু করুন, এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। চাইলে পরিবারের কাউকে সঙ্গী করতে পারেন। এমনকি অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করাও একটি কার্যকর উপায়।   প্রযুক্তির ব্যবহারেও সুবিধা বর্তমানে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন কত পা হাঁটলেন বা কত ক্যালোরি খরচ হল তা সহজেই নজরদারি করা যায়। এ প্রযুক্তি মানুষকে হাঁটার প্রতি আগ্রহী করতে সাহায্য করছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাঁটা একটি "মেডিসিন-বিহীন থেরাপি"। এমন অভ্যাস গড়ে তুললে ঔষধের উপর নির্ভরতা কমে, স্বাস্থ্যব্যয় কমে এবং জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়। তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ফোরাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের মতামত

জানিফ হাসান জুন ২৬, ২০২৫ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0