স্বাস্থ্য

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু আরও ৭, আক্রান্ত ১২৯৫
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু আরও ৭, আক্রান্ত ১২৯৫

  দেশে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৯৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২ জন করে এবং ঢাকা ও বরিশালে ১ জন করে মারা গেছেন। এসময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের।  ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ২৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৮ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৬৩ জন (যা শুধু ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছে)।  এসময়ে হাম রোগীদের মধ্যে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৪ জন।  চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনে। এর মধ্যে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এসময়ে মোট সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৩৫ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। একই সময়ে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯০ জন।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
বালিয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ৬০টি মশারি বিতরণ
বালিয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ৬০টি মশারি বিতরণ

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।   এতে ইউনিয়নের সাহসী, একতা ও সন্ধানী মহিলা ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী এবং ফোরামের দরিদ্র সদস্যদের মধ্যে বিনামূল্যে মোট ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক কমিটির সভাপতি মোছা. মাজকুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিডিবির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকার।   প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা, ব্যক্তিগত সতর্কতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল বলেন, ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা সভা শেষে এলাকার অসহায়,   দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে অতিথিরা তাদের হাতে মশারি তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিসিডিবির প্রোগ্রাম অফিসার লিটন বাড়ৈ। কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমাজ সংগঠক সিনথিয়া বায়েন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মহিলা ফোরামগুলোর সভানেত্রী ও সদস্যদের পাশাপাশি সিসিডিবির কর্মকর্তা গিরীশ চন্দ্র বর্মন ও রাজীব বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনায় ৪১ কোটি টাকা চায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ
১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনায় ৪১ কোটি টাকা চায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ

  দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২৩টি পৌরসভার অধীন ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার পরিচালনায় ৪১ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ৬ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় মেটাতে এ অর্থ চাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে গত ১২ অক্টোবর অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বরাদ্দ চাওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল। চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন পরিচালিত ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২৩টি পৌরসভার ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে এসব কেন্দ্র বুঝে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কর্মীদের বেতন-ভাতা, ওষুধ, চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এ জন্য ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের সম্ভাব্য পরিচালন ব্যয়ের হিসাব করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের অনুকূলে প্রাতিষ্ঠানিক কোড সৃষ্টির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনদের অনুকূলে অথরাইজেশনের মাধ্যমে ন্যস্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় নির্বাহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থীদের খাবার প্রত্যাখ্যান, চুয়েট ভিসির জন্য খাবার আনা হলো ডিবি পুলিশের মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের খাবার প্রত্যাখ্যান, চুয়েট ভিসির জন্য খাবার আনা হলো ডিবি পুলিশের মাধ্যমে

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকা ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের পাঠানো খাবার গ্রহণ করেননি। তবে তিনি ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বাইরে থেকে নিজের জন্য খাবার আনিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও সেই খাবার তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অপরদিকে, ভিসি নিজেকে অসুস্থ দাবি করলে দুজন চিকিৎসক তার রক্তচাপ পরীক্ষা করে ভিন্নমত দিয়েছেন। এ নিয়ে চুয়েট ক্যাম্পাসে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিসিকে অসুস্থ দাবি করা চিকিৎসককে ঘিরে ধরেন আন্দোলনকারীরা। পরে দুজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে ভিসির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ভেতরে পাঠান তারা। মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চুয়েটের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ভিসির শরীর সুস্থ রয়েছে এবং তার কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তার রক্তচাপও স্বাভাবিক রয়েছে; তবে কিছুটা সাফোকেশনে ভুগছেন। অপরদিকে, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আসা ডা. টিবলু দে জানিয়েছেন, ভিসি শেখ শরীফুল আলমের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেই। তার বর্তমান রক্তচাপ ১০০/১৫০। তাই তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল থেকে নাশতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাঠানো হলেও ভিসি তা গ্রহণ করেননি। তিনি ডিবি পুলিশের মাধ্যমে খাবার আনিয়েছেন। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে অবরুদ্ধ ভবনের পানির সংযোগ চালু রাখা হয়েছে। চুয়েটের ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, ‘ভিসি বাইরের খাবার খাচ্ছেন, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরাও সেই খাবার পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছি। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থই রয়েছেন।’

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

  ​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ  মঙ্গলবার   ৬ অক্টোবর  ২০২৬,  বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাঝপাড়া বালিগ্রাম গোরস্থান সংলগ্ন   ও আশপাশের এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।​মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৬নং ওয়ার্ডের মাঝপাড়া  এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।​জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়।​   অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার কর নির্ধারক মো. এনামুল হক, পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.নওরোজ হুদা। এছাড়াও অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী  অন্যান্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ​অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবল ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজ নিজ বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সূত্রাপুর ও কোতোয়ালিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সূত্রাপুর ও কোতোয়ালিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

  ডেঙ্গু মশা নিধন ও নগরী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি এলাকায় বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সূত্রাপুর থানার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজে ময়লা পরিষ্কার করেন এবং ড্রেন পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন। ঢাকা-৬ আসনের আওতাধীন এসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সড়ক, ড্রেন ও আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা হয়। ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬নং ওয়ার্ডে  ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬নং ওয়ার্ডে  ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

  ​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার  ৪ অক্টোবর  ২০২৬,  বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শান্তি মোড়, রামকৃষ্টপুর  ও এর আশপাশের এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।​মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৬নং ওয়ার্ডের রামকৃষ্টপুর এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।​জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়।​অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার তথা কর নির্ধারক মো. এনামুল হক, পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.নওরোজ হুদা। এছাড়াও অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী  অন্যান্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ​অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবল ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজ নিজ বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে ছোটেন চিকিৎসক
ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে ছোটেন চিকিৎসক

    ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালালচক্র ও অবৈধ ক্লিনিক বাণিজ্য। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় রোগীর সেবা না করে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্র দূর-দূরান্তের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ও ভয় দেখিয়ে বাইরের মানহীন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তারা প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসবের পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়মিত চুরির ঘটনাও ঘটছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের ১৫ থেকে ২০০ গজের মধ্যে প্রায় ১৫-২০টি এবং কোতোয়ালি-চকবাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের পাশে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, মেডিসান হেলথ কেয়ার, ডক্টরস ক্লিনিক; ২ নম্বর গেটের মুখে আল আরাফাত, বাঁধন, ম্যাক্স এইড, নিউ ঢাকা মডার্ন ও ঢাকা হাসপাতাল এবং ১ নম্বর গেটসংলগ্ন মুনলাইট, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক ও মেডি লাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল অন্যতম। এসব ক্লিনিক ভবনের বেশির ভাগই নিচে সারিবদ্ধ দোকান, কেমিক্যাল গোডাউন এবং ওপরেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যূনতম নির্দেশনা মানছে না এবং নেই ভৌত অবকাঠামোও। নেই পর্যাপ্ত ডিউটি ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, টেকনিশিয়ান কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। মূলত সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে ব্যবসা করাই এসব ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য। এসব ক্লিনিকের প্রচারসামগ্রী ও চিকিৎসক তালিকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের নাম ব্যবহারের বিষয়টিও লক্ষণীয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা হয়। এরপর দালালের মাধ্যমে রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। একাধিক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়েছে। সরেজমিন বেলা ১টা ২০ মিনিটে মিটফোর্ড হাসপাতালের বহির্বিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীরকে হাসপাতালের পাশের ‘ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে’ রোগী দেখতে দেখা গেছে। অথচ ওই সময়ে তার হাসপাতালেই ডিউটিতে থাকার কথা ছিল। একই সময়ে শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের আরও তিন চিকিৎসককে ওই ক্লিনিকে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালাল রোগী সংগ্রহ করার পর কল দিলেই চিকিৎসকরা চা-শিঙাড়া খাওয়ার অজুহাতে ডিউটি ফেলে ক্লিনিকে ছোটেন। দালালরাও মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে রোগীকে ভাগাতে ওতপেতে বসে থাকে। এমনই এক দালালের খপ্পরে পড়া রোগী আব্দুল মজিদ (৭৫)। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার আশায় মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা এসে দালালচক্রের ফান্দে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। দ্রুত সুচিকিৎসার নামে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালের বাইরে গড়ে ওঠা মেডিসান ক্লিনিকে। মজিদ জানান, পিত্তথলির পাথর ও তলপেটের ব্যথার সমস্যা নিয়ে কষ্ট করে ডাক্তার দেখাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু বহির্বিভাগে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানোর পর থেকেই একাধিক দালাল কম খরচে ও দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। একপর্যায়ে না বুঝে তাদের কথায় বিশ্বাস করে হাসপাতালের বাইরে ক্লিনিকে যান মজিদ। সেখানে নেওয়ামাত্রই শুরু হয় নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খেলা। শারীরিক পরিস্থিতি বোঝার নামে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকা সামান্য টাকার পুরোটাই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অর্থ খরচের পরও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা। সর্বস্ব হারিয়ে মজিদ বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ভাবছিলাম কম খরচে চিকিৎসা পামু। দালালরা আমারে ফুসলাইয়া বাইরে নিয়া গেল। যা টাকা-পয়সা আছিল সব টেস্টের নামে কাইড়া নিছে। এহন আমার কাছে বাড়ি ফেরার ভাড়াও নাই, চিকিৎসাও পাইলাম না।’ মিটফোর্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন মজিদ মিয়ার মতো শত শত গ্রামীণ ও দরিদ্র রোগী এভাবে দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের ভেতরের ভিড় ও চিকিৎসকদের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি রোগীদের বাইরে পাঠায়। সেখানে ক্লিনিকে অনৈতিক চুক্তি অনুযায়ী কমিশন পাওয়ার লোভে ভুয়া ও নিম্নমানের প্যাথলজি টেস্ট করিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতা এবং নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অফিস সময়ে এভাবে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখা ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ নম্বর ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। চিকিৎসকদের এই অনিয়মের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমগ্র দেশের ডাক্তারদের বদনাম হচ্ছে। অবিলম্বে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের মাধ্যমে দালালচক্রকে কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম বলেন, ‘অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হাসপাতালে চুরি ও দালালদের উপদ্রব সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘দালাল ও চুরি প্রতিরোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে চোররা প্রায়ই স্বজন সেজে ভেতরে ঢোকে, ফলে আনসারদের শনাক্ত করতে কষ্ট হয়। তবুও নিয়মিত চোর ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে গঠিত ৮ টিমের সদস্যরা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে টিম নম্বর-৮ বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নং     ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাবুপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন, গাছগাছালি কাটাসহ কীটনাশক ওষুধ ছিটানো হয়।  এছাড়া এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র এবং ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌরসভার কর নির্ধারক ও পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি মোঃ এনামুল হক,পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মো:আব্দুল আজিজ খাঁন,  মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: নওরোজ হুদা, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেকসহ অন্যান্য সদস্য। অভিযানে অংশ নেন রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটস সদস্যসহ পৌরসভার কর্মচারীরা। অপরদিকে, অন্যান্য টিমও বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিস্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, ফুলের টব বা যেকোনো খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।    ​এরই ধারাবাহিকতায়, আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, সোমবার  বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের  নামোনিমগাছি , ও আশপাশের এলাকায়  মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।  ​অভিযানের মূল কার্যক্রমসমূহ ​মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৭নং ওয়ার্ডের নামোনিমগাছি  মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।  ​জনসচেতনতা বৃদ্ধি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করতে   লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়।  অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার কর নির্ধারক মো: এনামুল হক,পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন,ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো: নওরোজ হুদা, এছাড়া অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী অন্যান্যরা অংশ নেন।  ​​গঠিত টিমের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

News সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

​ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ​ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনার মোড় থেকে মাছপাড়া ও এর আশপাশের এলাকায় এই কার্যক্রম চালানো হয়। ​পৌরসভার ‘টিম-০৮’-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই অভিযানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হয়।   “রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধন কর্মী, যুবসমাজ ও স্কাউটসের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।​অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌরসভার কর নির্ধারক মোতালেব/মো. এনামুল হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শাখার আতাউর রহমান এবং পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ খাঁনসহ অন্যান্যরা।​অভিযান চলাকালে এলাকার বিভিন্ন ড্রেন, জঙ্গল ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হয় এবং মশা নিধনে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।   পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। ​আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পৌরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।  

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
সরকারি হাসপাতালের এক কিমির মধ্যে স্থাপন করা যাবে না ক্লিনিক, প্র্যাকটিস করতে পারবেন না চিকিৎসকও
সরকারি হাসপাতালের এক কিমির মধ্যে স্থাপন করা যাবে না ক্লিনিক, প্র্যাকটিস করতে পারবেন না চিকিৎসকও

  দেশের সরকারি হাসপাতালের সেবামান বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিদ্যামান সরকারি হাসপাতালসমূহের এক কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন নিষেধাজ্ঞা ও ডাক্তারদের চেম্বার খুলে প্র্যাক্টিস করাকে ‍নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের উদ্দেশ্যে জারি করা  এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।    সেখানে আরও বলা হয়েছে, ‘উপযুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভার কার্যবিবরণীর ক্রমিক নং ০৬ নং এর গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ০১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা যাবে না এবং একই সাথে উক্ত সীমানার মধ্যে বিদ্যমান ক্লিনিকে কোনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।’ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এমতাবস্থায়, উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নিম্ন স্বাক্ষরকারীকে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’  

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  সরকারি হাসপাতালের সামনে আর কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারে আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেয়া হবে না, এটি টোটালি বন্ধ। আর বর্তমানে যেগুলোর অনুমোদন রয়েছে সেগুলো যদি যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে, তবে তাও বন্ধ করে দেয়া হবে। ​উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও সাপের কামড়ে কেন রোগী মারা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাপ কামড়ানোর পর রোগীটি বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত কি না তা বোঝার জন্য কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে আসতে দেরি করায় রোগীর অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসুন। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ১০ জন রোগীকে একসঙ্গে ডায়ালাইসিস দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দুই বছরের মধ্যে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালু করা হবে। ​পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। ​অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নুসরাত ফারজানা খানসহ অন্যান্যরা।

News সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
এক্স-রে বন্ধ, জনবল সংকট: পুঠিয়া হাসপাতালে চরম ভোগান্তিতে রোগীরা
এক্স-রে বন্ধ, জনবল সংকট: পুঠিয়া হাসপাতালে চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

  রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। প্রায় এক মাস ধরে এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় বন্ধ রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০টি পদে জনবল সংকট, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর চালক না থাকা এবং রোগীদের খাবার রান্নার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এক্স-রে পরীক্ষা করাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালের এক্স-রে ফিল্ম অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে হাসপাতাল থেকে এক্স-রে পরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪০টি পদে জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি রোগীদের জন্য খাবার রান্নার কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মীও নেই। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পুঠিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের এসব সংকট নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হলেও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী মোল্লা বলেন, “এসব সমস্যা আছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। দেখা যাক সমস্যাগুলো কবে সমাধান হয়।” এক্স-রে ফিল্ম সংকটের বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, “এক্স-রে ফিল্ম শেষ হয়েছে, বিষয়টি জানি। কিন্তু আগামী ডিসেম্বরের আগে টেন্ডার না হলে এক্স-রে ফিল্ম দেওয়া সম্ভব নয়।” এদিকে, এক মাস ধরে সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকলেও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের মতে, জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যারও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। স্থানীয়দের দাবি, পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল, এক্স-রে সেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীদের খাবারসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

News সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
`চিকিৎসাসেবায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, দেশে আসছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি
`চিকিৎসাসেবায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, দেশে আসছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি

  দেশের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসার পরিবেশ ও ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের হরমোনজনিত ও বিপাকীয় জটিলতা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বন্ধ্যাত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের সন্তান ধারণের পথ সুগম হয়েছে। তিনি আরও জানান, চীনসহ উন্নত দেশের এসব আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকপর্যায়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন এই পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ভুগছেন। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটি নারীদের হরমোন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে বিঘ্ন ঘটায়, যা পরবর্তীতে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।  

News সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ 0
চিকিৎসক সংকট; একজনেই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস
চিকিৎসক সংকট; একজনেই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস

  ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। চিকিৎসকের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরও রয়েছে ব্যাপক সংকট। ৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত রয়েছেন। বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোসহ রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দিচ্ছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী। সদর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এই কার্যালয়ের ওপর। চিকিৎসকের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীরও রয়েছে ব্যাপক সংকট। ৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৮ জন স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত রয়েছেন। এত কম জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবল সংকটের মধ্যেও ডা. প্রদীপ কুমার বকসী নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে প্রায় ২৫-৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চিকিৎসা ও ওষুধের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও ডা. প্রদীপ কুমার বকসীর আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ তার কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, ‘বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে ১৩ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে একমাত্র আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। চিকিৎসকের এই তীব্র সংকটের কারণে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগীসেবা, উপজেলা মাসিক সভা, অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে ৫৫ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে মাত্র ৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।’ বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স মো. মাহবুবুল আলম বলেন,‘জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও মাঠকর্মী পদায়নের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে। সদর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’  

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হয়নি স্যালাইন, কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হয়নি স্যালাইন, কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ওই সময় ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।  টানা এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের মোবাইলফোন নম্বরে কল করে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।  পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।  স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। এদিকে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
অনুদানের হাসপাতালে করপোরেট ব্যবসা  আহছানিয়া মিশন হাসপাতাল
অনুদানের হাসপাতালে করপোরেট ব্যবসা  আহছানিয়া মিশন হাসপাতাল

: রোগীর কল্যাণের কথা বলে জাকাত সংগ্রহ করে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির থেকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অনুদান পায় হাসপাতালটি। কিন্তু সেই টাকা রোগীর পেছনে খরচ না করে জমা রাখছে ব্যাংকে। তাতে মিলছে বড় অঙ্কের সুদ। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে করা হচ্ছে বিনিয়োগ। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালগুলোর মতো চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ কথা ছিল, জাকাত ও অনুদানের টাকায় রোগীরা বিনামূল্যে থেকে শুরু করে একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময়ে ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের অনন্য প্রতিষ্ঠান ছিল এ হাসপাতাল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, আহছানিয়া মিশনের মুনাফার দিকে গুরুত্বের ফলে ডুবতে বসেছে হাসপাতালটি। ক্যানসার থেকে এখন সাধারণ অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সীমিত হয়ে আসছে ক্যানসার চিকিৎসার পরিধি। মাসে হাসপাতাল থেকে আয় ৩০ কোটি ২০০১ সালে ‘আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ডিটেকশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৪ সালে ক্যানসার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এককালীন হিসেবে ৭৪ কোটি টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বছর কয়েক আগে প্রতি বছর জাকাত থেকে তিন কোটি টাকার মতো। গত বছরও দুই কোটি টাকার বেশি এসেছে। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত জাকাত এসেছে ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়াও প্রতি বছর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি টাকার বেশি অনুদান আসে। এ ছাড়া সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয় এক থেকে দেড় কোটি। সবমিলিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৫ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি। তবে হাসপাতালের সেবা খাত থেকে প্রতি মাসে কী পরিমাণ আয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাসপাতালটি। হাসপাতালের মাসিক আয় জানতে সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এশিয়া পোস্টকে তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ওষুধ বিক্রি, রোগ নির্ণয় ফি, শয্যা ভাড়াসহ হাসপাতালের সামগ্রিক আয় ৩০ কোটি টাকার মতো; বছরে যা দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি। টেস্ট, ভর্তি ফি বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালের মতোই লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে গত ৫ জুন সালেহা বেগমকে (৬৫) ভর্তি করা হয় উত্তরার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থার অর্থায়নে চলে বলে অনেকটা সরকারি খরচে চিকিৎসা মিলবে এমন আশা থেকে এ হাসপাতালে মাকে ভর্তি করান তাসলিমা জাহান। ভর্তির তিন দিনে শুধু রোগ নির্ণয়েই গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দৈনিক শয্যা ভাড়া দুই হাজার ২০০ টাকা, ডাক্তার ফি এক হাজার টাকাসহ দুজন মানুষের খাওয়া ও অন্যান্য খরচ মিলে পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা গেছে। তখনও শুরু হয়নি সালেহার পূর্ণ চিকিৎসা। তাসলিমার ভাষ্য, বেসরকারি আরদশটা করপোরেট হাসপাতাল নাকি চ্যারিটেবল কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছি সেটি পার্থক্য করা যাচ্ছে না। যে প্রতিষ্ঠান মানুষের দান ও অনুদানের টাকায় চলে, সেখানে এত বেশি খরচ কেন হবে? একেকটা টেস্টের দাম প্রথম সারির বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মতোই। সম্পূর্ণ অনুদানের হাসপাতালে এমন চড়া দামে চিকিৎসা কেনার অভিজ্ঞতা শুধু এ পরিবারের নয়, চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীর। সম্প্রতি সরেজমিন হাসপাতালে গেলে, ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কী কী রোগ নির্ণয় হয় এবং কত টাকায় করা হয় সেই তালিকা। এতে দেখা যায়, রক্তে কোলেস্টরেল ও চর্বির পরিমাণ জানতে সর্বাধুনিক পরীক্ষা লিপিড প্রোফাইল করাতে গুনতে হয় এক হাজার ২০০ টাকা, যা দেশের যে কোনো বেসরকারি শীর্ষপর্যায়ের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পপুলারের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি বা কিছুটা বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এই টেস্টের দাম এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। প্রথম সারির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেইনের সিটি স্ক্যানে গুনতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। অনুদানের হাসপাতাল হলেও সমপরিমাণ টাকা দিতে হয় আহছানিয়া হাসপাতালে। অথচ এই পরীক্ষা চার হাজার টাকায়ও করা যায় বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। শুধু এ দুই পরীক্ষা নয়, শরীরে আয়রনের মাত্রা জানতে করা এস আয়রন প্রোফাইল টেস্ট করাতে লাগে তিন হাজার, বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে করা ট্রপোনিন আই এক হাজার ২০০ টাকা, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি, গঠন দেখার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি অব প্রেগন্যান্সি প্রোফাইল এক হাজার ২০০ টাকা, সিটি স্ক্যান (চেস্ট) ছয় হাজার টাকা, চেষ্টের এমআরআই সাত হাজার টাকা- যা দেশের শীর্ষ বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর দামের সমান বা কাছাকাছি। প্রতিষ্ঠানটির একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাম বছর কয়েক আগেও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি বাড়ানো হয়েছে। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন, শুধু কম দামে ভালোমানের চিকিৎসা পেতে। কিন্তু এখন সবকিছুই ব্যবসা হয়ে গেছে।’ কম দামে ওষুধ কিনে বাজারদরে বিক্রি জটিল ও মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় শিরায় ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হয় অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম (এক গ্রাম)। বাজারে এ অ্যান্টিবায়োটিকের দাম এক হাজার ২৩৫ টাকা। চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আহছানিয়া হাসপাতালকে ওষুধ প্রস্তুতকারী একটি কোম্পানি ট্রেড প্রাইস বা নির্দিষ্ট দাম ৭০০ টাকায় দিয়ে থাকে। উদ্দেশ্য, রোগীদের সুলভমূল্যে দেওয়া। কিন্তু হাসপাতালটির ফার্মেসি বিভাগে গিয়ে খোঁজ নিলে দেখা যায়, রোগীদের কাছে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ২৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই ঘটনা ঘটেছে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে বা গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরেক অ্যান্টিবায়োটিক নিউপেনেমও। এটিও ৭০০ টাকায় কেনা হলেও রোগীদের কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২৮৩ টাকায়।  শুধু এ দুই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, আরও বেশকিছু ওষুধে ফার্মাসিউটিক্যালসগুলো রোগীদের স্বার্থে বিশেষ ছাড় দিলেও তার সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আইসিইউতে নষ্ট অধিকাংশ ভেন্টিলেটর, ফেরত যেতে হয় রোগীদের ৩৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৫টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। প্রত্যেকটিতে রয়েছে একটি করে ভেন্টিলেটর বা জীবনরক্ষাকারী শ্বাসযন্ত্র। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাস ধরে অধিকাংশ ভেন্টিলেটর বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঠিক করা হলেও বাকিগুলো বিকল। এ অবস্থায় একদিকে অনেক সংকটাপন্ন রোগী আসলেও ফেরত যেতে হচ্ছে, আবার যারা চিকিৎসাধীন, তাদেরও সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে, এমনকি ভেন্টিলেটর সমস্যা একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ভেন্টিলেটর রোগীর জীবন-মৃত্যুর সমস্যা। এটি বিকল হলে রোগীর শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেনের মারাত্মক অভাব (হাইপোক্সিয়া) দেখা দেয় এবং মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আইসিইউ ইনচার্জ ডা. জাকারিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানে। আমি চিকিৎসক, কর্তৃপক্ষ যে ধরনের ফ্যাসিলিটিজ (সুযোগ-সুবিধা) দিয়েছে, সেখান থেকেই আমাকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।’ এর বেশিকিছু বলতে রাজি হোননি তিনি। রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে মাস পর বছর খানেক আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ফাতেমা বেগমের (৪৮)। নিজ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। তবে সেখানে তিন মাসেও চিকিৎসা শুরু করতে না পেরে ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে মাস ছয়েক চিকিৎসা নিলেও খরচ মেটাতে না পেরে আসেন আহছানিয়া ক্যানসার হাসপাতালে।  স্বামী বয়স্ক হওয়ায় নানা জটিলতা নিয়ে বিছানায়। একমাত্র ছেলে রিকশাচালক তিনিও পরিবার নিয়ে থাকেন আলাদা বাসায়। ধারদেনা করে এ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি নিতে এসেছেন ফাতেমা বেগম। গত ১৬ জুন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত বিমূর্ষ ফাতেমা বেগম রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে কখনও তথ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কখনও বা হাসপাতালের স্টাফদের কাছে অনুরোধ করছেন। ফাতেমা বেগম জানান, স্বামী কাজ করতে পারেন না, নিজেই অসুস্থ। ছেলে কিছু টাকা দিয়েছে আর মানুষের কাছে ধারদেনা করে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছি। বেসরকারিতে চিকিৎসা করার মতো টাকা নেই, সরকারিতে ভর্তি নেয় নাই। এ হাসপাতালে আসছি তিন দিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু এক মাসের মধ্যে সিরিয়াল দিচ্ছে না। হাসপাতালটিতে রেডিওথেরাপি পেতে এমন দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প ফাতেমার মতো শত শত ক্যানসার রোগীর। সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ যেমন বেশি, একই সঙ্গে যন্ত্রগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১০০-১২০ জন রেডিওথেরাপি পেলেও অন্যদের ফেরত যেতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চারটি রেডিওথেরাপির যন্ত্র রয়েছে। ২০১৪ সালে এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একাধিক যন্ত্রের মেয়াদ শেষের পথে। ফলে ঠিকমতো রেডিয়েশন পড়ে কি না সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জানতে চাইলে রেডিওলোজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুপ এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমানে চারটি রেডিওথেরাপি ও দুটি বেকিথেরাপি যন্ত্র রয়েছে এ হাসপাতালে। এর বাইরে নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ এমন পাঁচটি যন্ত্রের মধ্যে কয়েকটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, রোগীর তুলনায় যন্ত্রের যথেষ্ট অভাব। পুরো বাংলাদেশেই রেডিওথেরাপি মেশিন মাত্র ৩৫টির মতো। যেখানে দরকার ২৮০টি। এত অল্প যন্ত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে সিরিয়াল পেতে রোগীদের বিলম্ব হয়। আর মেশিনেরও ধারণক্ষমতা রয়েছে। দৈনিক ৫০ থেকে ৬০টির মতো থেরাপি দেওয়ার কথা, সেখানে করা হচ্ছে দ্বিগুণ। নতুন যন্ত্র না কিনলে চাপ কমবে না। অদক্ষ নার্স দিয়ে চলে সেবা হাসপাতালটিতে দুই শতাধিক নার্স কর্মরত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অদক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে রোগীর ক্যানুলা করতেও গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন এখানকার কিছু কিছু নার্স। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে কী হয়েছে জানি না। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দক্ষ নার্সদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্যানুলা শুধু নার্সরা দেয় না, ডাক্তাররাও অনেক দেন। ক্যানুলা দিতে গিয়ে নার্সদের অদক্ষতা ও বিভিন্ন কারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’ হাসপাতালের অর্থে ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সিতে ব্যবহারের অভিযোগ বিপুল পরিমাণ এ আয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মানের হওয়ার কথা। দরিদ্ররা বিনামূল্যে আর অন্যান্য শ্রেণির মানুষ একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা কিনতে পারবেন এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু আহছানিয়া ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে ঘটেছে এর বিপরীত। সরেজমিন অনুসন্ধানে হাসপাতালের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জাকাত ও অনুদানের অর্থ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আহছানিয়া মিশন তা ব্যবসায় ঘাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া অর্থ মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে প্রতি বছর মুনাফা তুলছে। পাশাপাশি সেই অর্থ দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলে ‘নগরদোলা’ নামে একটি ফ্যাশন হাউস গড়া হয়েছে। হাসপাতালটির সাবেক একজন পরিচালক এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রতি বছর শুধু জাকাত থেকে দেড় থেকে তিন কোটি টাকা আসে। কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যয় না করে ৮ কোটি টাকা আহছানিয়া মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে ব্যাংকে রেখেছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা ফেরত দেয়নি। প্রতি মাসে বড় অঙ্কের মুনাফা আসে সেখান থেকে। অথচ শুধু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মানুষ এই টাকা জাকাত দিয়েছে। গভর্নিং বডির অনুমতি ছাড়াই এসব টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের টাকা দিয়ে তারা ফ্যাশন হাউস খুলেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী দেশের দরিদ্র ক্যানসার রোগীরা ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ওষুধ, খাবারসহ সবকিছুই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। আগে জাকাত মানুষ সরাসরি হাসপাতালে দিয়ে যেত। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। একপর্যায়ে জাকাতের টাকা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না অনেক দাতারা জানতে চান। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করত। কিন্তু মিশন অফিস তাতে বাধা দিত। তারা জানায়, হাসপাতালে নয়, এই অর্থ মিশনের অফিসে জমা দিতে হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু জাকাত নয়, মেডিকেল কলেজের তিন কোটি টাকাও নিয়েছে। অনেক চেষ্টার দুই কিস্তিতে প্রায় দুই কোটি টাকা ফেরত দিলেও বাকিটা এখনও বাকি। ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের সেরা একটি হাসপাতাল ছিল এটি। সেখানে এখন মেডিকেল কলেজ হয়েছে, ফলে জেনারেল হাসপাতাল রূপে নিয়েছে। মেডিকেল কলেজ তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের জায়গায় করায় ক্যানসার চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত সীমিত হয়ে আসছে।  হাসপাতালের টাকা সরানোর ব্যাপারে জানতে আহছানিয়া মিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কথা বলেছেন, মিশনের কোষাধ্যক্ষ হলেন ড. এম এ জলিল। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, জাকাতের টাকা সরানোর বিষয়টি সত্য নয়। এফডিআর করা থাকলে সেটি অনুদানের টাকা হতে পারে। ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সি আছে। তবে এখানকার অর্থ দিয়ে করা হয়েছি বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। যা বলছে কর্তৃপক্ষ উচ্চমূল্যে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি ও নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয় আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুনের সঙ্গে। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হলেও এটাকে সাসটেইন (টিকিয়ে রাখা) করতে হবে। ১০০ টাকা ব্যয় করে সমানসংখ্যক টাকা আয় করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান চলবে কীভাবে? চিকিৎসক, নার্সসহ ৮ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে এ হাসপাতালে। তাদের বেতন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি মেরামতেও তো খরচ রয়েছে। এগুলোর জন্য অর্থ দরকার। আমরা অন্য বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেই, আবার কেউ সহযোগিতা চাইলে সেটাও করা হয়। আইসিইউতে ভেন্টিলেটর বিকলের বিষয়ে আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, আইসিইউতে তিনটি ভেন্টিলেটর নষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তাই জরুরি যেসব সংকটাপন্ন রোগী আসে তাদের ভর্তি নেওয়া হয় না। আইসিইউতে নিয়ে যদি ভেন্টিলেটর দিতে না পারি, তাহলে ভর্তি করে কী করব। পরিচালক বলেন, টেস্টের খরচের উচ্চমূল্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওষুধ বিক্রিতে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না সেটিও তদন্ত করা হবে। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি হাসপাতাল) মো. মহসীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সবকিছু আমাদের নখদর্পণে নেই। বোর্ডে সদস্য হলেও যাওয়া হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো দেখার কথা। তারপরও যেহেতু তদারকির দায়িত্ব আমাদের, বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে।  

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে বিগত পাঁচ মাসে সারা দেশে ২৫০ টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কিছু অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভিযান চালানো হয়েছে। ২৫০ টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের সময় দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করে অনুমোদন করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম এবং নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এরপর রংপুরে ১১১, ময়মনসিংহে ২৫২, রাজশাহীতে ৫৫, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ৪৮, খুলনায় ১৫৬ এবং সিলেটে রয়েছে ৮টি। জানা গেছে, গত কয়েক মাস অভিযান চালিয়ে রাজধানীর প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেন এবং তাদের মধ্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এছাড়াও ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৬টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে ২টি ক্লিনিক, নরসিংদীতে ২টি, পাবনায় ২টি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে ১টি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১টি ক্লিনিকস দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে।  অভিযানের অংশ হিসেবে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। 

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

  সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই শিশু হলো তাসমিন ও তামিম। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬ মাস ও ৯ মাস। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন মোট ৩২১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৯ জন। একই সময়ে ১১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগে মোট ৯৮৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। এদিকে, রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার (১৬ আগস্ট) পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮০৯ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৯ শিশুর। সব মিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জনে।

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
সংকটে অকেজো প্রায় গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সংকটে অকেজো প্রায় গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  শরীয়তপুর জেলার অন্যতম একটি উপজেলা গোসাইরহাট। যার জেলা শহর থেকে দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে অনেক বেশি। তবে এই উপজেলার থেকে বেশি নাজুক অবস্থা এখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া হাসপাতালটিতে ২২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১১ জন। যার মধ্যে নেই গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক। ফলে চালুর পর থেকেই বন্ধ আছে গুরুত্বপূর্ণ সব অপারেশন। আর এই সুযোগটি নিয়ে রোগীদের গলা কাটছে আশপাশে গড়ে ওঠা নামে-বেনামের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকগুলো। স্থানীয় ও সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু হয় গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির। ১৯৮৩ সালে এটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালে এটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবার ভরসা এই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক ঘাটতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ২২টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধু চিকিৎসক রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বাকি ১১টি পদ শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া) চিকিৎসকের পদগুলো সম্পূর্ণ শূন্য পড়ে আছে। ফলে বন্ধ আছে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। এছাড়াও হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও শূন্য। অপরদিকে দুইজন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে রয়েছে একজন, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের ৪টি পদের বিপরীতে রয়েছে ২টি। এছাড়াও সহকারী সার্জন ৭টি পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র দুই জন। অর্থাৎ এখানে পাঁচটি পদই ফাঁকা। . রয়েছে জনবল সংকটও। সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ল্যাব), উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ (রেজিওলজি ও ইমাজিং) মোট ৩৭টি পদ সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের এমন ভঙ্গুর দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন ও রোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, অপারেশন না হওয়ায় ওটি কক্ষটি বন্ধ রয়েছে। একজন কর্মচারীর মাধ্যমে কক্ষটির তালা খোলা হলে ভেতরে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন ব্যবস্থা চালু না থাকায় যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, মাইক্রোপিপেট, মাইক্রোস্কোপ মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মেশিন। যদিও এসব যন্ত্রপাতি দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুচাইপট্টি এলাকার ষাটোর্ধ্ব নজরুল ঢালী সম্প্রতি নারিকেল গাছ থেকে পড়ে গিয়ে একটি পা ভেঙে গেছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় প্রথমেই শরণাপন্ন হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। পরবর্তীতে জানতে পারেন এখানে পা ভাঙার অপারেশন হয় না। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মোটা অংকের টাকা খরচ করে অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। উপজেলা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ এমন চিকিৎসা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চরের মানুষ। কামলা দিয়া খাই। পড়শীর নারিকেল পাড়তে উঠে গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙে যায়। পোলারে নিয়া হাসপাতালে আইছিলাম চিকিৎসা করাতে। পোলায় খোঁজ নিয়া কইলো এইখানে অপারেশনের ডাক্তার নাই। পরে একটা ক্লিনিক থেকে বেশি টাকা দিয়া অপারেশন করাইছি। আমরা গরিব মানুষ, চাইলেও দূরে যাইতে পারি না। যদি আমাদের এই হাসপাতালে সব ধরনের ডাক্তার থাকতো আমরা চরের মানুষজন ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারতাম। স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত টেপার ক্ষোভও হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকা নিয়ে। তিনি বলেন, আমাদের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক রোগের চিকিৎসক নেই। বিশেষ করে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় গর্ভবতী মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও হাসপাতালে সিজার না হওয়ায় বাইরের একটি ক্লিনিক থেকে সিজারের সময় বাচ্চাটা মারা গেছে। মায়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। আমাদের এই উপজেলা থেকে জেলা শহরের দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে বেশি। তাই চাইলেই সব সময় রোগী শহরে নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা চাই এই উপজেলাটিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালু করা হোক। সেফালী বেগম নামের এক রোগী বলেন, আমার বাচ্চাকে কুকুরের কামড় দিয়েছে, তাই এখানে নিয়ে এসেছি। এসে জানতে পারি এখানে কোনো কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নেই। তারা আমাকে সদরে নিয়ে যেতে বললো। সদরে যেতে আমাকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। আমরা চাই এখানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য থাকায় এখানে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাতও ঘটছে। গাইনি চিকিৎসক, সার্জারি চিকিৎসক ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনও এখানে সরবরাহ করা হয় না। আমরা চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি মনে করি খুব দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা খুবই জরুরি।

News আগস্ট ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Top week

Serbia
অর্থনীতি

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0