একসময় ছিলেন সামান্য বেকার যুবক। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়কে কাজে লাগিয়ে গত প্রায় ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ৮ তলা বিশিষ্ট বিশাল আলীশান বাড়ী এবং সিরামিস এর ব্যবসা যা বিভিন্ন ভাবে চাঁদার টাকায় এই অবৈধ সম্পদের মালিক —এমন অভিযোগ উঠেছে মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সোনাপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন জুয়েল। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজের একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন জুয়েল। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। কেউ টাকা দিতে আপত্তি করলে তাকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে জুয়েলের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। কিন্তু গত ১৬ বছরে তার জীবনযাপন ও সম্পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এই বিপুল সম্পদ অর্জিত হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জুয়েলের নামে থাকা সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরোপুরি সোলারের (সৌরশক্তি) ওপর নির্ভরশীল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় সংসদ নেতা এই ঘোষণা দেন। স্পিকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছি। ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি সোলারের ওপর ডিপেন্ডেন্ট হবে।’ তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সময়ের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবেলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যেকে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে চার পুলিশ সদস্যেকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন এটিএসআই খোকন ইসলাম (৩৫), কনস্টেবল ফজলে রাব্বি (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও আশিকুল রহমান (৩০)। ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তল্লাশির কথা বলে ওই নারীকে খাবার কারোজে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তার সঙ্গে অসদাচরণ ও টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই নারী। ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ওই নারীকে উদ্ধার এবং ক্যান্টিনবয়কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন বলেন, মামলায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার দিন ওই চার পুলিশ সদস্যের ট্রেনে দায়িত্ব থাকায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এআইয়ের প্রভাব ও অপব্যবহার থেকে বিচারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও কণ্ঠস্বর নকল করা, ছবি পরিবর্তন বা সুপারইম্পোজড করা এবং মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি এআই মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআইয়ের ঝুঁকি ও অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এআই যুগে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। আগামী দিনে এআই যেভাবে মানুষকে নির্দেশনা দেবে, প্রভাবিত করবে এবং কখনো সঠিক আবার কখনো বিভ্রান্তিকর পথে পরিচালিত করতে পারে, তা চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে। তাই বিচারকদের সবার আগে এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো তথ্য বা উপাদান এআই-নির্ভর কি না, সে বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের গতিপথও নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এআইও বিচারব্যবস্থার সামনে তেমন একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, এআই নিষিদ্ধ করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। বরং এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করা সম্ভব। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না। বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্তকে অধিকতর যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সরকার সে পথেই এগিয়ে যেতে চায়।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা। ট্রাইব্যুনালকে তিনি জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারে আসতেন। বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে গুলি করে হত্যা করা হতো, পরে সাংবাদিক ডেকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, কীভাবে ২০১০ এবং ২০১১ সালে র্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে হত্যা করতেন এবং লাশ গুম করতে পেট কেটে ও সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেন। মাঝরাতে বন্দি নিয়ে আসত র্যাব সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক জানান, যেদিন এলাকায় অভিযান হতো, সেদিন বিকালে সাদা পোশাকে দুইজন র্যাব সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র্যাবের ৪ খেকে ৫টি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে এসে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র্যাব সদস্যরা সঙ্গে করে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন। আব্বাস মল্লিকের জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। গভীর পানিতে যাওয়ার পর ট্রলারের গতি কমিয়ে দেয়া হতো এবং ট্রলারের ভেতর থেকে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট নামের অংশে বন্দিকে দুইজন র্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে ওই বন্দির মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতেন। পেট চিরে ও বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ গুম গুলির পর মৃতদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য লাশ নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে ফেলা হতো। এরপর সুন্দরবনে নিয়ে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো এবং সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো। হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক। নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ প্রত্যক্ষদর্শী এই মাঝি ট্রাইব্যুনালে তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু র্যাবের এই বর্বর কর্মকাণ্ডের কথা আলকাছ বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় অন্য বোটের মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, র্যাব তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। পরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ, কারণ র্যাব থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিল যে, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আজ পর্যন্ত তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং ঢাকার র্যাব কার্যালয়ে ঘুরেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি আব্বাস মল্লিক। পাথরঘাটা থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেখানে জিয়াউল আহসান ও র্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করে আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালের কাছে তার ছোট ভাই নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। বুধবার দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। অভিযোগসংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ, মানিলন্ডারিং, বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন। এছাড়া চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও দুদকে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এবার ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ধউর–আশুলিয়া রুটের দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলার সময় সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প হিসেবে এসব সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দুটি টোলমুক্ত রাখা হয়েছে। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। নিরাপদ চলাচলের জন্য সেতু দুটিতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সার্ভিস সেতু চালুর ফলে উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। একই সঙ্গে মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়ালসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এ ছাড়া সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে মাল্টি–লেভেল ইন্টারচেঞ্জ, বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন–১ স্টেশনে যাতায়াতের পৃথক সংযোগ নির্মাণ করা হচ্ছে।
দুই দেশের জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা চলমান। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সব আলোচনাই চলমান থাকবে। দুই দেশের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপও তৈরি করতে হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ভারত সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান স্পিকার খুবই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং ভালো ফুটবলার। ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সংসদ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে পারে, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা চলবে। আর এটাই গণতন্ত্র।
রাজধানীর উত্তরায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। বুধবার দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুদকের এডি শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম উত্তরার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে, কী ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এদিকে, কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেও দুদকের আরেকটি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তানজির আহমেদ। দুই প্রতিষ্ঠানে চলমান অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অভিযান শেষে জানা যাবে বলে জানিয়েছে দুদক।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর। আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে ফিডটি অনুসরণ করুন রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ করার কাজ। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মো. খয়রুল কবির জানান, ওই দিন রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন। সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর তিনি শহরের সেনুয়া গোরস্থানে তার পিতার কবর জিয়ারত করবেন। পরে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পর সরাসরি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইস্রাফিল শাহীন জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সীমিতসংখ্যক অতিথি উপস্থিত থাকবেন। রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন জানান, রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এখন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো প্রতীক যাতে প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানের পাশের ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্তিকে কেন্দ্র করে ‘ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। সংগঠনটির দাবি, প্রায় ৪০ কেজি মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হলেও সামান্য কিছু পোনা মারা যায়। অথচ একটি মহল ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীরা জানান, ক্রিসেন্ট লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্তির কর্মসূচিটি ছিল সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের নিজস্ব উদ্যোগে। এতে সরকার বা সরকারের কোনো সংস্থার সহযোগিতা কিংবা অর্থ ব্যয় হয়নি। দলের নেতাকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ৪০ কেজি মৎস্য পোনা লেকে ছাড়া হয়। অবমুক্তির সময় ৮০ থেকে ৯০টি পোনা পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু ছিল অর্ধমৃত। খোলা পানির সংস্পর্শে এসে অক্সিজেন গ্রহণের পর অর্ধমৃত পোনাগুলোর কিছু স্বাভাবিক হয়ে পানিতে ডুবে যায়। শেষ পর্যন্ত মৃত পোনার পরিমাণ আধা কেজিরও কম বলে দাবি করেছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পোনাগুলো রাত ৩টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজের পাশ থেকে পলিথিনে অক্সিজেন দিয়ে প্যাকেটজাত করে ভোর ৬টার আগেই ক্রিসেন্ট লেকের পাশে নেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সকাল সাড়ে ৯টায় থাকায় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশে সকাল ৮টার দিকে পলিথিন থেকে পোনাগুলো ড্রামে রাখা হয়। তাদের অভিযোগ, পোনাগুলো প্রায় দেড় ঘণ্টা ড্রামে থাকার সময় পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় কিছু পোনা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুরো ৪০ কেজি পোনার তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সামান্য বলে দাবি তাদের। নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মসূচিস্থলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের মাত্র পাঁচজন নেতাকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মধ্যে কোনো প্রশিক্ষিত মৎস্যকর্মী বা ট্রেইনার ছিলেন না। ট্রেইনার থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হতো বলে দাবি তাদের। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আরও জানান, কর্মসূচির সময় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে দেখেছেন এবং মৃত পোনাগুলো সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, একটি সামান্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণাকে তারা ‘ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের পক্ষ থেকে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
মোঃ জাকির খান টাঙ্গাইল। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত জাতীয় "দৈনিক মজলুমের কন্ঠ" ৩১ বছর পেরিয়ে ৩২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)২০২৬ ইং তারিখে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় । এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি "সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু", সহ-সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী সদস্য, মোঃ পলাশ ইসলাম, মোঃ জাহিদ সরকার, মোঃ কোভিদ হোসেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রিন্স এডওয়ার্ড মানসাং, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ তুহিন সহ আরো অনেকেই,,,
জরিমানা ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারি সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন: ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে। গ্রাহকদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। এর আগে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রি করার পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এতে বিক্রেতাকে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরোনো মালিককেই ওই মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যা বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব মোটরযান মালিক ও ক্রেতাকে দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা শুরু করেছে সংস্থাটি। বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হচ্ছে।
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেবেন, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। তবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহকরা নির্ধারিত ৮ টাকার চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাদের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনোভাবেই নগদ অর্থ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব সরঞ্জামকে BSTI ও SREDA নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। সরকার জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে প্রায় ৫ মাস পর আজ দেশে ফিরবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় তাকে বহনকারী বিমানটির রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফেরছেন। মালয়েশিয়া থেকে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আশা করছি, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকায় পৌঁছাব উনাকে নিয়ে। তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভালো। তবে তাকে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে। প্রতিদিন উনাকে থেরাপি দিতে হবে; তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উনি দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে যাবেন বলে তাগাদা দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা তার সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে দেশে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন। এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ‘প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। এতদিন তিনি সেখানে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।
মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, সোমবার দিনগত রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানার বাড়বকুণ্ড ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারী। এ সময় ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বহন করা ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যান। ফলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
এবার ঢাকা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, দূরপাল্লার বাস যাত্রী নামিয়ে রাস্তার পাশে অথবা বাস টার্মিনালে দাড়িয়ে থাকলেই ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেবে। অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, তিন মাসের মধ্যে মহাখালীর অপেক্ষমাণ বাস গাড়ি পূর্বাচলে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্বাচলে ১০ একর জমি নেয়া হয়েছে বাস স্ট্যান্ড এর অস্থায়ী ডিপো করার জন্য। ইতিমধ্যেই ৬০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা আছে সেখানে। সকালে যাত্রী নামিয়ে এখানকার বাসগুলো পূর্বাচলে চলে যাবে। যাত্রী পরিবহনের নির্ধারিত সময় এলে আবার মহাখালীতে ফিরে আসবে বাসগুলো। বাস মালিক সমিতি পূর্বাচলে বাস পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছেন। নির্দেশনা অমান্য করে যদি কেউ টার্মিনালে বাস অথবা রাস্তার পাশে বাস থামিয়ে রাখে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন শান্ত প্রবাসীর স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনার বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন শান্তকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রিপন হোসেন ও আল-আমিন হোসেন শান্তকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ-উর-রহমান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন একই সঙ্গে বহিষ্কৃত দুই নেতার সাথে ছাত্রদলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিকভাবে যোগাযোগ বা সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গতকাল ৩০ আগস্ট রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট নরসিংদীর জেলার বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী কাউসারের ছোট ভাই মো. সুমন বিমানবন্দর থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১ নম্বর আসামি করা ছাড়াও বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে ২ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্তকে ৩ নম্বর আসামি ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আমার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ২৮ আগস্ট তিনি আমাদের বোনের বিবাহ ও আমার পরিবারের ব্যবহারের জন্য মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। পরবর্তীতে আমি ও আমার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ওইদিন রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত এক লোকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও আমার বন্ধু রোহানের কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দিয়ে ভাড়া করা একটি হায়েস গাড়িতে উঠি। এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ওইদিন রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশের রাস্তায় আসামিরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তারা আমাদের আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মী আখ্যা দিয়ে আমাদের কাছে বোমা আছে বলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এরপর স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে। ওই সময় একজন পথচারী আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে ও অপর একজন পথচারীর কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে আরও লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখে আসামিরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস্ লিমিটেড এর ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার চিলারং এলাকার আখ চাষি ফয়েজ উদ্দিনের জমিতে আখ রোপণ করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী সুগার মিল হতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মিলের ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান সুরুজ। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ সময় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ বিএসএফআইসি’র টেকনিক্যাল সার্ভিস (টিএস) প্রধান কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক। এ সময় চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আবু রায়হান, উপমহাব্যবস্থাপক (সম্প্র: ও ঋণ) মো: তাজুরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (পরি: প্রকৌ:) হাসনাত হাবিব, কেন্দ্রীয় আখচাষি সমিতির উপদেষ্টা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহ্বাজ মো: ইউনুস আলী, বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ও ঠাচিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ঠাচিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খাঁন রতন, আখচাষি সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সহ স্থানীয় আখচাষীরা উপস্থিত ছিলেন। মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আবু রায়হান জানান, একটা সময় আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভালো দামের কারণে আবার তাঁরা আশাব্যঞ্জকভাবে আখচাষে ঝুঁকছেন। দিন দিন আমাদের আখ রোপণের পরিমাণও বাড়ছে। মিল জোন এলাকায় এবার আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার একর জমি। আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ মেঃ টন, চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩শত মেঃ টন ও চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। মিল গেটে ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ টাকা। আর মন প্রতি দাম নির্ধারন করা হয়েছে ২৬০ টাকা। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, মিল জোন এলাকায় একযোগে ৫৭টি কেন্দ্রের ৯৬টি ইউনিটে আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা গত বছর সকল দিক বিবেচনায় চালুকৃত মিলগুলোর মধ্যে ২য় অবস্থানে ছিলাম। আশা করছি এবছর আমরা আরও ভালো করবো। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অথমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না। যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে একটি বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফলাফল পাচ্ছি কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চার শর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রজেক্ট পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কিনা; দ্বিতীয়ত এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কিনা এবং চতুর্থত পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কিনা। এই চার শর্ত পূরণ না করলে আমার কাছে কোনো প্রজেক্ট আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না। আমির খসরু বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি- এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়, তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত এবং এখান থেকে কী আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে। ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব এবং চুয়েট ভিসিকেও ঢাকায় এসে বৈঠক করে এই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করার পরামর্শ দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য চুয়েট উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আশা করি বিজনেস-অ্যাজ-ইউজুয়াল ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।ac
রাজশাহী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালিটি মোহনপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দেন। র্যালিকে কেন্দ্র করে মোহনপুরের রাজপথে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। র্যালিতে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন