গাইঘাটা থেকে ২৫ অক্টোবর সকালে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, কিশোরী ২৪ অক্টোবর রাতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এবং রাত ১১টার দিকে ফোন পেয়ে বেরিয়ে যান।পরবর্তীতে তার পরিবার ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলার পর অভিযুক্ত তার আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পালানোর সময় গুলি চালানোর ফলে অভিযুক্ত মারা যায় বলে পুলিশের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণের নামে কারসাজি, গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) বিবেচনার পরিবর্তে প্রভাব ও পছন্দের ভিত্তিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পদায়ন করা হয়েছে। আসন্ন ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও অর্থায়নের সঙ্গে এসব পদায়নের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি- এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের লিখিত নীতিমালা, মূল্যায়নের বিস্তারিত এবং অনুমোদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়নি। একাধিক বাক্সে কর্মকর্তাদের নাম আলাদাভাবে রেখে লটারির ফল প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার চার থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কারা দায়িত্ব পাবেন, তা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের গ্রেডিং ও পদায়নপ্রক্রিয়া তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আগে গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো. জিয়াউর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব, সংস্থাপন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহার এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩, রেলওয়ে ডিভিশন ও প্রকল্প বিভাগ-৫-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন। সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা পদায়নে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। ২০০০-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মো. জিয়াউর রহমান সংস্থাপন-২ শাখায় দায়িত্ব পালনের পর শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ পদায়ন পান। সংসদ ভবন ও সংসদ সদস্যদের আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে তাঁর পদায়নের যোগ্যতা, অনুমোদন এবং প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাঁর চাকরি পাওয়া এবং প্রথম কর্মস্থলে পদায়নের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই বদলির আওতায় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্যদের আবাসন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদর দপ্তর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সাবেক রাজনৈতিক দলের এক নেত্রীর সম্ভাব্য আগমন, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়নের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীরা মনে করেন, ক্যাটাগরি নির্ধারণের নীতিমালা, গ্রেডিং শিট, লটারিতে ব্যবহৃত বাক্স ও নামের তালিকা, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী এবং চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ পরীক্ষা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গণপূর্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং বদলি-বাণিজ্যের মাধ্যমে পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি, প্লট, দোকান, জমি, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ শত কোটি টাকার কাছাকাছি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ ও বিভাগ-৪-এ দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের ভুয়া প্রাক্কলন তৈরি, দরপত্রের গোপন তথ্য ফাঁস এবং কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে দাখিল করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। রাজিবুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর আবার একই বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর পদায়নের ধারাবাহিকতা এবং বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। রেজা তাইমুর মালিক ঢাকা মেইনটেন্যান্স বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালনের পর এনএসআই ও দুদকের সদর দপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসংশ্লিষ্ট স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই ও প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁর বাবা মো. রেজাউল হক মালিক (মুকুল) চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাশেদ আহসানের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মিরপুর এবং বর্তমানে আজিমপুর-সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে তাঁর পদায়নে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। পূর্তভবন-সংশ্লিষ্ট একটি পদে শামসুন্নাহার ঝুমার নাম লটারিতে উঠলেও একই পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তাদের নাম কেন বাদ পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। লিবনী জামানকে হবিগঞ্জে পদায়ন করা হলেও একই পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তাঁদের দাবি। একই পদমর্যাদার অর্ধশত কর্মকর্তা বহাল থাকা সত্ত্বেও কারা লটারির আওতায় এসেছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। লটারি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে কথিত সিন্ডিকেট গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার অর্থের উৎস এবং তাঁদের নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবন, ডিজিএফআই প্রধানের বাসভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কর্মকর্তাদের হাতে থাকলে তা সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে এখনই গভীরভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, তাঁর বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাইরে অন্য কারও জীবনের হুমকি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এসব পদায়ন দিয়েছেন, তাঁরা জেনেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিষয়টি না জেনে পদায়ন করেছেন এমনটি মনে করার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলারা চৌধুরীর মতে, এসব পদায়নের পেছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার, স্বজনতোষণ, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজউকের জোন-৫ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রকল্প দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (অতিরিক্ত দায়িত্বে উচ্চমান সহকারী) ফাতেমা বেগম মলি এবং এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজ। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই ধরনের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করার সুযোগে তারা রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল, ঠিকাদারদের বিল, চুক্তি সম্পাদন, বোর্ড সভার কার্যপত্র, ভবন নির্মাণের নকশা এবং এস্টেট ও ভূমি-সংক্রান্ত নথি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফাইল আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ: অভিযোগ অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন, ঠিকাদারি চুক্তি, রানিং বিল ও ফাইনাল বিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ফাতেমা বেগম মলির টেবিল হয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হতো। অন্যদিকে অর্থ না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো ঠিকাদারের কাজের বাস্তব অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই না করেই বিল ছাড়ের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজের বিপরীতে সরকারি অর্থ পরিশোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। স্বামীর প্রতিষ্ঠানে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ: ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো—তার স্বামীর মালিকানাধীন একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে রাজউকের বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, দাপ্তরিক দায়িত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের তথ্য, ফাইলের গতিপ্রকৃতি এবং প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোন কোন কাজ কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গেছে এবং এতে সরাসরি তার দাপ্তরিক ভূমিকা ছিল কি না—তা নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভূমি ও এস্টেট শাখায়ও অনিয়মের অভিযোগ: অন্যদিকে রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভূমি ও এস্টেট-সংক্রান্ত নথি, আবেদন, ফাইলের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে কাজ এগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের আয় ও চাকরিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধানের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে কী পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে রয়েছে, সম্পদের বৈধ উৎস কী এবং এসব সম্পদ অর্জনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করতে সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাই প্রয়োজন। তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র: অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট ফাইল, টেন্ডার ও ক্রয়সংক্রান্ত নথি, ঠিকাদারি চুক্তি, বিল-ভাউচার, বোর্ড সভার কার্যপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও নেওয়া জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সংস্থাটির সব দায়িত্ব এককভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ শাখা-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ধারা ৪২ (খ) অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের অপসারণকালীন সময়ের জন্য বোর্ডের সকল দায়িত্ব বর্তমান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে প্রদান করা হলো।’ স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহলিমা শিরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ সংক্রান্ত সংকট নিয়ে অসন্তোষ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন আখতারুজ্জামান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন করেছেন কারাগারে থাকা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিকালে আসামিপক্ষে জামিনের পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরবেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। এর আগে গত ২ অক্টোবর রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলে তিনি বর্তমানে জেলহাজতেই দিন কাটাচ্ছেন।. মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ সংক্রান্ত সংকট নিয়ে অসন্তোষ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন আখতারুজ্জামান। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, আঘাত, ইচ্ছাকৃত অবমাননা এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে গুমের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন কিসমৎ হায়াৎ। সেই সরকারের পতনের পরও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ঠিকাদারি কাজে আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর তিন মাসে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ৮০৫ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছে ডিএনসিসি। এই অর্থ একই সময়ে করপোরেশনটির দেওয়া মোট ঠিকাদারি কাজের প্রায় ২৯ শতাংশ। ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএনসিসি মোট ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছে। এ সময় কাজ পেয়েছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ফরিদ আহমেদসহ আরও কয়েকজন। ডিএনসিসির বড় ঠিকাদার আবদুল হাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান, সেখান থেকে যান নেপালে। পরে দেশে ফিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় হন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে মুগদা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া পল্টন মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। গুলিস্তান ও পল্টন এলাকায় দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অর্থ জোগানোর অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়। মুগদা থানার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তা গোপন করে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ডিএনসিসির বড় ঠিকাদারদের একটি। আবদুল হাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রতিষ্ঠান এম এস আলিফ ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠান দুটির ঠিকানা একই হলেও কাগজে-কলমে মালিক আলাদা। এম এস আলিফ ট্রেডার্সের লাইসেন্স রয়েছে আবদুল হাইয়ের ভাতিজা ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকের নামে। ওই লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে একক ও যৌথভাবে ডিএনসিসির কাজ করা হয়েছে। ই-জিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই প্রতিষ্ঠান একক ও যৌথভাবে ৫৭টি দরপত্রে ৩০২ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রাজধানীর নয়াপল্টনের ইনার সার্কুলার রোডের ৫০/১ নম্বর রিজ আহমেদ স্কয়ারের ১১ তলায় একই ফ্লোরে চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। এগুলো হলো আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, এম এস আলিফ ট্রেডার্স, জান্নাত ট্রেডার্স এবং ওয়াই অ্যান্ড এস ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে। এম এস আলিফ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি চাচার কোম্পানিতে স্টাফ হিসেবে আছি। এম এস আলিফ ট্রেডার্সের লাইসেন্স আমার নামে করা। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানও আমাদের নামে।’ একই ঠিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির রাজস্ব কর্মকর্তা আতাহার আলী খান বলেন, ‘একই ভবনের একই ফ্লোর ব্যবহার করে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়া অনৈতিক। করপোরেশন থেকে এ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এটি খতিয়ে দেখতে হবে যে তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একই ঠিকানায় একাধিক লাইসেন্স নিয়েছে কি না। এমন হয়ে থাকলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আবদুল হাই ভারত ও নেপালে পলাতক ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতায় যুক্ত হন। যেসব পাঁচ নেতার ছয় প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে ডিএনসিসির কাছ থেকে কাজ পাওয়া পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড, আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, এম এস আলিফ ট্রেডার্স, ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং জনি এন্টারপ্রাইজ। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ পারভেজ কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মিরপুর মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেডের মালিক এইচ এম হেলাল। তিনি ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের ছোট ভাই। প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হেলালের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়। মামলার এজাহারে তাঁকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পাগলা মিজান। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী ও আসাদগেট এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহকারী হিসেবেও তাঁর নাম আলোচনায় আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাগলা মিজানের প্রভাবে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে একচেটিয়া দরপত্র বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে হেলালের বিরুদ্ধে। জনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার ঘোষ। ভাটারা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে তাঁকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দিলীপ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তের ব্যবসায়িক অংশীদার। ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ফরিদ আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। বাকি ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক তাঁর স্ত্রী রামেহা আহমেদ রোজা, যাঁকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ফরিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে। এক বছর তিন মাসে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ ই-জিপির তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএনসিসিতে মোট ৫৬৮টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কাজের মোট মূল্য ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫২৫টি দরপত্রের মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে (ওটিএম) ২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। সীমিত দরপদ্ধতিতে (এলটিএম) হয়েছে ৬৪ লাখ টাকার একটি কাজ। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। অন্যদিকে, সিঙ্গেল সোর্স ও দরপ্রস্তাব আহ্বান (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে ৪২টি কাজ হয়েছে ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়। এসব দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পেয়েছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান একটি করে কাজ পেয়েছে। বাকি ৮৯টি প্রতিষ্ঠান একাধিক কাজ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ২৪০টি দরপত্রে ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে, যা মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগ নেতা বা তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড ২৪টি দরপত্রে ১৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ১৩টি দরপত্রে পেয়েছে ১৫৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার কাজ। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কাজের পরিমাণ ১২৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও এম এস আলিফ ট্রেডার্স যৌথভাবে ১৪টি দরপত্রে ১৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। এম এস আলিফ ট্রেডার্স এককভাবে ১৯টি দরপত্রে পেয়েছে ৩৬ কোটি টাকার কাজ। প্রতিষ্ঠান দুটির ঠিকানা রাজধানীর নয়াপল্টনের ইনার সার্কুলার রোডের ৫০/১ নম্বর রিজ আহমেদ স্কয়ারের ১১ তলা। এ ছাড়া জনি এন্টারপ্রাইজ চারটি দরপত্রে ৯৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং আটটি দরপত্রে পেয়েছে ১০৬ কোটি টাকার কাজ। জামান কনসোর্টিয়াম ১১টি দরপত্রে ৯৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার এবং এমআর এন্টারপ্রাইজ পাঁচটি দরপত্রে ৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। জামান কনসোর্টিয়ামের মালিক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রশাসক পরিবর্তনের পরও একই চিত্র জুলাই অভ্যুত্থানের পর ডিএনসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ এজাজ। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় এক বছর তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন। ডিএনসিসিতে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার ৩৩০টি দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৯টি দরপত্রে উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে ১ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। সিঙ্গেল সোর্স ও আরএফকিউ পদ্ধতিতে ২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ৪১টি কাজ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ১১৭টি দরপত্রে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। এটি ওই সময়ে দেওয়া মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ১২টি দরপত্রে ১৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড ১৪টি দরপত্রে পেয়েছে ১২৬ কোটি টাকার কাজ। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ১৮টি দরপত্রে পেয়েছে ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার কাজ। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও এম এস আলিফ ট্রেডার্স যৌথভাবে সাতটি দরপত্রে ৮০ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। এম এস আলিফ ট্রেডার্স এককভাবে ১৪টি দরপত্রে পেয়েছে ৩১ কোটি টাকার কাজ। মেসার্স শহীদ ব্রাদার্স আটটি দরপত্রে পেয়েছে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার কাজ। চলতি অর্থবছরে ফরিদ আহমেদের প্রতিষ্ঠান ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড তিনটি দরপত্রে ৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। গত ২ জুলাই একই দিনে তিনটি দরপত্রের চুক্তি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরিদ আহমেদ মাল্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি করতেন। নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। এমআর এন্টারপ্রাইজ তিনটি দরপত্রে পেয়েছে ৫২ কোটি ১২ লাখ টাকার কাজ। সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে ৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। জামান কনসোর্টিয়াম লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে পেয়েছে ৪৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার কাজ। ইয়াসিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে পেয়েছে ৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কাজ। এ ছাড়া মেসার্স লরিন এন্টারপ্রাইজ ছয়টি দরপত্রে ৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। হৃদয় কনস্ট্রাকশন লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে পেয়েছে ২৬ কোটি ১৩ লাখ টাকার কাজ। এসএবি-ওয়াইআইপিএল যৌথ উদ্যোগ একটি দরপত্রে পেয়েছে ২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার কাজ। এস এম রহমান ইন্টারন্যাশনাল চারটি দরপত্রে ২৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। আরএনএল-এইচটিবিএল যৌথ উদ্যোগ একটি দরপত্রে পেয়েছে ২৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কাজ। জনি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড একটি দরপত্রে পেয়েছে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার কাজ। দরপত্রে সিন্ডিকেট ও কারসাজির অভিযোগ ডিএনসিসি সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের সময়েও ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে দরপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির সাতজন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী জানান, ই-জিপি ব্যবস্থায় এসএলটি ও টিডিএসের ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হলেও সেখানে ডিজিটাল কারসাজির সুযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম শুধু ডিএনসিসিতে নয়, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও ঘটে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রয়কারী সংস্থা বা প্রকিউরিং এনটিটি (পিই) পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে দরপত্র খোলার পর টেন্ডার ডেটা শিটের (টিডিএস) শর্ত যাচাইয়ের সময় অনানুষ্ঠানিকভাবে এক্সেল শিটে এসএলটি পরিমাপ করে। এ প্রক্রিয়ায় পছন্দের ঠিকাদার বাদ পড়লে তাঁকে প্রথম স্থানে আনতে অন্য যোগ্য প্রতিযোগীদের বাদ দেওয়া হয়। টিডিএসের ছোটখাটো শর্ত পূরণ না করার অজুহাতে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরপর যোগ্য বিবেচিত ঠিকাদারদের এসএলটি পরিমাপ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের আরও দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পিইর কাছ থেকে প্রাক্কলিত দর জেনে ঠিকাদারেরা একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একই দরপত্রে অংশ নেন। এতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দর পরিকল্পিতভাবে কমবেশি নির্ধারণ করা হয়। দরপত্রের শর্ত, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সরাসরি যাচাইয়ের কোড এবং যন্ত্রপাতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, দরপত্র জমা দেওয়ার দিনে ন্যাশনাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (এনপিপিএ) তথ্য ব্যবহার করে ঠিকাদার ও পিই যৌথভাবে হিসাব করে কাছাকাছি দর নির্ধারণ করেন। প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ক্যাপাসিটি বা দরপত্রে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অনুরূপ কাজের সক্ষমতা বা সিমিলার ক্যাপাসিটি পূরণ না হলেও প্রকৌশলীরা সাধারণ ক্যাপাসিটি গ্রহণ করেন। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেশি থাকলেও দরপত্রে তার অর্ধেক বা তার চেয়ে কম দেখানো হয়। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। অভিযোগ অস্বীকার ডিএনসিসি প্রশাসকের দরপত্রে কারসাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে দরপত্রের কার্যক্রম ইজিপিতে হয়। এখানে যারা এসএলটিতে ও টিডিএসে এগিয়ে থাকে তারা কাজ পায়। কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশনের সুযোগ থাকে না। অনেক সময় যেসব ঠিকাদার যোগ্যতার অভাবে কাজ পায় না তারা ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ তোলেন।’
আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির পানি সরবরাহের বিলিং ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন এবং দাবি করা টাকা না পেলে পুনরায় বেশি হারে বিল চাপিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক হাজার গ্রাহকের সংযোগ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে ওয়াসার একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়া ও নেতৃত্বে এসব অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে সহযোগী হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাস এবং জোন-১-এর কম্পিউটার অপারেটর মাহাদীর নামও এসেছে। এক ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিজ্ঞতায় এ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক শ্রেণিতে থাকা পানির সংযোগ আবাসিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আবাসিক শ্রেণিতে বিল আসতে শুরু করে। তবে কোনো আবেদন ছাড়াই আগস্ট মাসে সংযোগটি আবার বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে পরিবর্তন করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে পুনরায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য তাঁর কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬ অনুযায়ী, ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আবেদন, সরেজমিন তদন্ত, আগের সব বকেয়া পরিশোধ এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ হলে রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে বিলিং ক্যাটাগরি। ওয়াসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিং সহকারী জানান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব পরিদর্শক ও বিলিং সহকারীরা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের চুক্তিতে যান। সেই চুক্তি অনুযায়ী সংগৃহীত অর্থ সিআরওর মনোনীত রাজস্ব কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র দাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। অর্থ পাওয়ার পর সিআরওর নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে বিলিং সিস্টেমে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়। দিন শেষে লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও জানান ওই বিলিং সহকারী। ওয়াসার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সরকার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা। এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) সাধন চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন অনিয়মের সব অভিযোগ।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাফল্য আসে।গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোররাত ১২টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ তেলকুপি বিওপি থেকে একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৭৯/৪-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামস্থ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালীন চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন মডেলের ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "বিজিবি সকল প্রকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/১ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ভবন নকশা অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জোনটিতে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ফি ও বৈধ প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী অনিয়মের সিন্ডিকেট। অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইমারত উচ্ছেদ বা নিয়মমাফিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মোবাইল কোর্টের নামে কেবল লোকদেখানো ও প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা রাজউকের সার্বিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জোন-৫/১ এলাকায় ৫ থেকে ৬ তলা বিশিষ্ট ছোট বা মাঝারি আবাসিক ভবনের নকশা (Plan Approval) অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ঘুষ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবন ৬ তলা হোক কিংবা ১০ থেকে ১২ তলা—এমন কোনো ফাইল নেই যেখানে ৫ লাখ টাকার কমে লেনদেন হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি ফি এবং নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে যদি কেবল নকশা পাস করাতেই ৫ লাখ টাকা গুনে দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে বাড়ি নির্মাণ করবে? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘুষের এই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ নিয়ে ভুক্তভোগীরা আপত্তি তুললে অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম নাকি সাফ জানিয়ে দেন যে, “এই টাকা একা আমার পকেটে যায় না; পরিচালক থেকে শুরু করে ওপরের মহলের সবাইকে ভাগ দিতে হয়।” ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম জড়ানোর ঘটনায় পুরো রাজউক কার্যালয়ে তীব্র গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত বা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্য ও শিথিলতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও ইমারত সম্পূর্ণ অপসারণ, সিলগালা বা আইনানুগ কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে কেবল বিদ্যুৎ সংযোগ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সাময়িক মিটার খুলে নেওয়ার মতো দায়সারা ও প্রতীকী পদক্ষেপে অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে অভিযানের পরদিনই পুনরায় অননুমোদিত নির্মাণ কাজ চালু হয়ে যায়। তাছাড়া, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ইমারত পরিদর্শকদের (Buildings Inspectors) দাপ্তরিক কাজেও অযাচিত হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ রয়েছে সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে। কোনো পরিদর্শক আইনগত নিয়ম মেনে কোনো ইমারতের বিরুদ্ধে নোটিশ বা ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাকে কড়া সুরে বলা হয়— “আমাকে না জানিয়ে কিছু করবেন না।” নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালীর ভবনের ক্ষেত্রে অভিযান নামমাত্র রক্ষা করার সংস্কৃতি জোনটিতে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের দাপ্তরিক কাজের ধীরগতি ও ফাইল নিষ্পত্তির স্থবিরতা নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত আইডিতে বর্তমানে অর্ধশতাধিক অনুমোদনের ফাইল দিনের পর দিন আটকে বা ঝুলে রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলের নামমাত্র অনুমোদন সম্পন্ন হলেও বিপুলসংখ্যক আবেদন টেবিলবন্দী করে রাখা হয়েছে। অভিযোগকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবি, নির্ধারিত অতিরিক্ত ঘুষের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই ফাইলগুলো এক ইঞ্চিও সামনে এগোয় না, যার ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাসের পর মাস রাজউকের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী, নির্ধারিত নকশা ও শর্ত ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে নকশা যাচাই করা এবং অবৈধ নির্মাণ তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ বা সিলগালা করা। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, সরকারি পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণ করা এবং ওপরের মহলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে। রাজউকের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন সংস্থায় দুর্নীতি ও ফাইল বাণিজ্যের এই চিত্র শহরবাসীর মৌলিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে, অভিযুক্ত সাইদা ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি ও বিধিমালার প্রসঙ্গ তুলে পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান। নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের জোর দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সাইদা ইসলামের আমলের ফাইল জট, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হোক। জোন-৫/১-এ সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
সরকারি স্থাপনায় সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় ও মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগকেই টাকা বানানোর হাতিয়ার বানিয়েছেন গণপূর্তের ধূর্ত কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন! রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গণপূর্ত আরবরিকালচার বিভাগের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবশেষে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে মো. রুহুল কুদ্দুসকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এই বদলিই করে তাঁকে রক্ষা নয়; তাঁর বিচারের দাবিতে সরব গণপূর্তের অন্যান্য কর্মকর্তারা। মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় একটি গাছও না লাগিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ। মোয়াজ্জেম হোসেন যেন এক জীবন্ত সুবিধাবাদী চরিত্রের নাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ডিও লেটার ও দলীয় শীর্ষ নেতাদের ছাতার নিচে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে নেমে জালভোট প্রদানে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর! মুহূর্তেই পুরোনো খোলস বদলে নিজেকে কট্টর বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন এই ধূর্ত চাটুকার। রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে নতুন কৌশলে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রেখে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি অর্থ লুণ্ঠন। তাঁর অনিয়মের খাতাটি বেশ পুরোনো ও ভারী। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়—চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালতের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির জোরে বারবার বেঁচে গেছেন তিনি। ঢাকার বুকে নামে-বেনামে অঢেল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন রিসিভ করেননি। পরিবেশবান্ধব সরকারি প্রকল্পে এমন নগ্ন দুর্নীতি ও রাতারাতি দল বদলানোর এই প্রতারণায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের পরিষ্কার দাবি, শুধু বদলিতে কাজ হবে না; অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন করতে হবে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব অর্থ উদ্ধার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর পরিকল্পনা বিভাগে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী মো. নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে স্থপতি পদে নিয়োগ নেওয়া, প্রায় ২২ বছর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাভার পৌরসভায় সংশ্লিষ্ট সময়ে সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ পদ ছিল না। এমনকি ওই পৌরসভায় নজরুল ইসলামের চাকরির তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য পাঁচ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্বও পেয়েছেন। অন্যদিকে, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে স্থপতি পদে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর তাঁকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথির স্বাধীন যাচাই এবং আইনগত পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট নয়। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও এই শর্তের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের আবেদনের সঙ্গে নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় কাজ করার একটি অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। কিন্তু সনদে উল্লিখিত সময়ে ওই পৌরসভায় সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ বা সহকারী অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ নামে কোনো পদ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি ওই সময়ে তিনি সাভার পৌরসভায় অন্য কোনো পদেও চাকরি করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাভার পৌরসভার রেকর্ডপত্রেও নজরুল ইসলামের চাকরির গ্রহণযোগ্য তথ্য নেই। এ দাবি সত্য হলে নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত অভিজ্ঞতার শর্ত তিনি পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময়ই তাঁর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। এ বিষয়ে অভিযোগও জমা পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর নিয়োগপত্র দীর্ঘদিন আটকে ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয় ও বড় অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে তিনি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। নজরুল ইসলামের নিয়োগের সময় সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন, আপত্তি ওঠার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোন নথি বিবেচনা করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের আকস্মিক মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। সে সময় স্থপতি পদে দায়িত্ব পালনকারী সিরাজুল ইসলামকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা তাঁর ছিল না। স্থপতি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এরপরও তিনি প্রায় ২২ বছর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে বহাল ছিলেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সাময়িকভাবে কোনো কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও স্থায়ী নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই সময়ে মেয়র, প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল, কেন পদটিতে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তগুলো কোন প্রশাসনিক যুক্তিতে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ডিএসসিসির তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর মো. নজরুল ইসলামকে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নগর পরিকল্পনাবিদের মূল পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর নিয়োগের সময় দাখিল করা অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে পদে নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল, তা পূরণ হয়েছিল কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে নিয়োগের বৈধতা, দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক ভিত্তি এবং পরবর্তী পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠতে পারে। ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগ ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত। ফলে এ বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নগর উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রকল্পভিত্তিক তথ্য ছাড়া ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে যোগ্যতা যাচাইয়ের দুর্বলতা, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্বে পদ পরিচালনা এবং নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নজরুল ইসলামের সাভার পৌরসভার অভিজ্ঞতার সনদ কে যাচাই করেছিলেন এবং কীভাবে তা গ্রহণ করা হয়েছিল, সনদে উল্লেখ করা পদ ও চাকরির মেয়াদের সঙ্গে পৌরসভার মূল নথির মিল রয়েছে কি না এবং নিয়োগের সময় ওঠা অভিযোগ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। একইভাবে, সিরাজুল ইসলাম কী ভিত্তিতে ২০০৪ সাল থেকে দীর্ঘ সময় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পসংক্রান্ত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ডিএসসিসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থানও প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। সাভার পৌরসভার নথি, ডিএসসিসির নিয়োগ ফাইল, সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি সামনে এসেছে। মূল প্রশ্ন শুধু কে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্বে আছেন, তা নয়; বরং নিয়োগের যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও যন্ত্রপাতির মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রেখে এবং ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকল্পের কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব কাজ করেছে। উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্পে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং বীজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফিউমিগেশন শিট নিয়ে তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের শিট আমদানির কথা থাকলেও পরে চীন থেকে তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাহানারা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা তুলেছেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ কম্বাইন হারভেস্টার নিয়ে। ঝিনাইদহের সাধুহাটি খামারে সরবরাহ করা বাংলামার্ক ব্র্যান্ডের মার্কসান এমএস ১০০০ মডেলের হারভেস্টার নিয়ে দাপ্তরিক আবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রটি চালানোর সময় খড়ের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান অপচয় হচ্ছে। যন্ত্রের ট্যাংকে জমা হওয়া ধানের একটি অংশের খোসা ভেঙে চাল বেরিয়ে আসার অভিযোগও আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধুহাটি খামারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল হাই যন্ত্রটি বদলে নতুন ও সচল হারভেস্টার দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। হবিগঞ্জের ইটাখোলা খামারেও একই ধরনের সমস্যার কথা বলা হয়েছে। বারবার মেরামতের পরও সেখানকার যন্ত্রটি সচল করা যায়নি, আর এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছেন খামারটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ওসমান গনি। সাধুহাটি ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং হারভেস্টারের চালকের আসনে বসে ঠিকমতো যন্ত্র চালাতে অসুবিধার কথাও এসেছে। বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে। বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিড ড্রায়ার কেনার দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ১১৭৮৮৪১ ও ১১৭৮৮৪০ নম্বর টেন্ডার আইডির আওতায় অভিজ্ঞ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়ার কারণ কী ছিল এবং সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একই মানদণ্ড মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিএডিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দরপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হোক, আর অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) প্রধান কাজ হলো সার উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি রাসায়নিক ও অন্যান্য শিল্পকারখানা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিল্পোন্নয়নে অবদান রাখা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের একটি সিন্ডিকেট সেই সার উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বিসিআইসির অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, কেনাকাটা ও ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদক ও বিসিআইসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক, চিটাগাং ইউরিয়া সার কোম্পানির (সিইউএফএল) ও ডিএপিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী আবীদ আল হাসানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির একজন সহকারী পরিচালক অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক, সিইউএফল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান এবং ডিএপিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর জলিলসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করাসহ অভিযুক্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা দ্রুত সময়ে অনুসন্ধান শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্বকালে বিসিআইসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, নিয়োগ-বাণিজ্য, পদোন্নতি, পরিবহন ঠিকাদারি, ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে (ডিপিএম) কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। এসব দুর্নীতির সঙ্গে বিসিআইসির সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে বেশি অভিযোগ বিসিআইসির চেয়ারম্যান হিসেবে শাহ মো. ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি ২০২১ সালের জুনে বিসিআইসিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। বিসিআইসিতে যোগদানের পর তিনি সিইউএফএলসহ কয়েকটি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেন। এর মধ্যে এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি থেকে সাসপেন্ড হওয়া মিজানুর রহমানকে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া ইমদাদুল হক তার নিকট আত্মীয়ের ছেলেকে বিসিআইসির প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন। সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড এমডি মিজান বিসিআইসির চেয়ারম্যান ইমদাদুল হকের সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হলেন ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, শাহজালাল সার কারখানায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন এবং মামলায় জয়ী হন। এরপর তিনি চেষ্টা-তদবির করে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। শাহ মো. ইমদাদুল হক বিসিআইসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাকে এক কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে মিজানুর রহমান পরিচালক থেকে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার পর চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগে বলা হয়, মিজানুর রহমান ডিএপিএফসিএলের এমডি হওয়ার পর বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খরচ করে এফডিআর ফান্ডের ৯৭৫ কোটি খরচ করে ফান্ড শূন্য করেন। তিনি সিইউএফএল-এ প্রতি মাসে ১৪৫ জন আনসারের স্থলে ২০০ জন আনসারের বিল উত্তোলন করেন। আনসার কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান ও হাবিলদার কমল বড়ুয়ার মাধ্যমে তিনি এ কাজ করেন। তিনি ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন দরদাতাকে নিয়োগ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি হিসাব ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে নন-টেকনিক্যাল কাউকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি একমাত্র ঠিকাদার আইয়ুব আলীকে ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেন না। তিনি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কাজ থেকে কমিশন নেন। তিনি ২০২২ সালের দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক মানিক নাথের স্ত্রী, বোন, ভাতিজিকে জনপ্রতি ৮ লাখ করে টাকা নিয়ে চাকরি দেন। মিজানুর রহমানের ঘোষণা হলো টাকা দেন, সুবিধা নেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারখানায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কেনাকাটা, পরিবহন ঠিকাদারি, শ্রমিক নিয়োগসহ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান বর্তমানে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান জানান, তিনি অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে অবগত আছেন। দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ১১ হাজার ৫০০ টাকার ইউনিফর্ম ভাতা দুদকে দেওয়া অভিযোগে ইউনিফর্মের অর্থ নয়ছয় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তার জন্য বছরে ১১ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। অথচ কর্মীদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা বুঝে পাওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। শুধু ইউনিফর্ম থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী তালিকা, বরাদ্দের অফিস আদেশ, ব্যাংক হিসাব, ভাউচার, রসিদ এবং কর্মীদের জবানবন্দি নিয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন চেয়ারম্যানের দায়িত্বকালে শাহ মো. ইমদাদুল হক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিসিআইসিতে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে একই পরিবার, একই এলাকা বা একই গ্রামের একাধিক ব্যক্তির নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে কর্মচারী মো. জাকির হোসেনসহ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। ১২০০ কোটি টাকার সার আত্মসাতের সুযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের একটি পরিবহন টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। যাদের পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারি ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সার আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে নবাব অ্যান্ড কোম্পানি সাতটি চুক্তির আওতায় ৬৬ হাজার ৮৭৪ টন ইউরিয়া সার লোপাট করেছে। যার মূল্য প্রায় ৬১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আর পোটন ট্রেডার্সের সাতটি চুক্তির বিপরীতে ৭১ হাজার ৮০১ টনের বেশি সার লোপাট করেছে। যার মূল্য প্রায় ৫৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ডিপিএম কেনাকাটায় পছন্দের ঠিকাদার বিসিআইসির বিভিন্ন কারখানায় ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন কারখানার ডিপিএম কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার এবং তদবিবের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিটি কারখানার ডিপিএম ক্রয় প্রক্রিয়ায় একই প্রতিষ্ঠান কতবার কাজ পেয়েছে, একই কর্মকর্তা কতগুলো ক্রয় কমিটিতে ছিলেন, বাজারমূল্যের তুলনায় পণ্যের দাম কত বেশি ছিল এবং কেন প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করে ডিপিএম করা হয়েছে এসব তথ্য যাচাই করছে দুদক। অভিযোগে সিন্ডিকেটের কয়েকজন কর্মকর্তার নামে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট, জমি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
যেকোনো দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনায় সবার আগে পাশে দাঁড়ায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। দুর্ঘটনা যত বড়ই হোক জীবন বাজি রেখে লড়াই করে যান অগ্নিসেনারা। কিন্তু অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখা এই বাহিনীতে ঘাপটি মেরে বসেছে কিছু অসাধু বড় দুর্নীতিবাজ। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, লাইসেন্স বাণিজ্য, বদলি-পোস্টিংয়ে আর্থিক লেনদেন, সরকারি মালামাল বিক্রি, রেশন সরবরাহ এবং বিল পরিশোধে কমিশন দাবিসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে বারবার অভিযোগ ওঠার পরও তিনি জবাবদিহির আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নবাগত মহাপরিচালকের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। জানা যায়, তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, ফায়ার লাইসেন্স রি-অ্যাসেসমেন্ট বা নবায়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, ফায়ার সার্ভিসের নষ্ট ও অকেজো সরকারি মালামাল প্রচলিত সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে না তুলে গোপনে বাহিরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করে যাচ্ছেন। আরও জানা যায়, চরম বেপরোয়া এই কর্মকর্তা নিজের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ফায়ার সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সমস্ত ইন্সপেক্টরদের তার ভাইয়ের কাছে জিম্মি করে রেখেছেন। টাকার বিনিময়ে তিনি অগ্নি নিরাপত্তার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে মোট ৪৫২টি ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ইস্যু করেছেন। বদলি ও পোস্টিং বাণিজ্যের জাল অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং নিতে তিনি তৎকালীন ডিজির স্টাফ অফিসার (উপপরিচালক) আরমানকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ প্রদান করেছিলেন। একইভাবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির সুপারিশের ক্ষেত্রেও তার স্বাক্ষর বা সুপারিশ পেতে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদান করতে হয়, টাকা না দিলে তিনি ফাইল আটকে রাখেন এবং বদলির সুপারিশ করেন না বলে জানা গেছে। এর আগে সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে চলতি বছরের ২০২৬ সালের মে-জুনে তিনি ইন্সপেক্টরদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। টেন্ডারে অনিয়ম, কেনাকাটায় দুর্নীতির চিত্র চট্টগ্রাম বিভাগের ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে রেশনের জন্য সরবরাহকৃত নিম্নমানের ডাল তার দপ্তরের ইউডি হাশেমের মাধ্যমে চাক্তাই থেকে ক্রয় করে শহরের বাইরের বিভিন্ন স্টেশনে সরবরাহ করা হয়। এ নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া জানালে তিনি তাদের বদলির ভয় দেখিয়ে হুঙ্কার দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, এছাড়া বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৫টি ফায়ার স্টেশনের বিভাগীয় কারিগরি কারখানায় বিভিন্ন গাড়ি ও পাম্পের মেরামতের বকেয়া বিল পরিশোধ না করে নিজের ইচ্ছেমতো নতুন বিল তৈরি করে সরকারি টাকা আত্মসাত করেছেন মিলেমিশে। অগ্রিম ১৫% কমিশন নির্ধারিত, কারণ এই টাকার ভাগ নাকি ঢাকা অধিদপ্তরেরও পৌঁছাতে হয়, অন্যথায় বিল পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী জানান, সম্প্রতি কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের ইনানী টুপ টুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এর ঠিক পূর্বে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি (রহিম ও কামাল) লাইসেন্সের জন্য এডি তৌফিকুলের সাথে দেখা করে ফায়ার সেফটি বা অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ চান। ওই প্রতিষ্ঠানে বসে তিনি খাওয়া-দাওয়াও করেন এবং পরবর্তীতে তার দপ্তরের রানারের সাথে কথা বলতে বলেন। তার নির্দেশমতো রানার লাইসেন্স বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে এই অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সংঘটিত আগুনে ১০টি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যায়। এর আগে কুমিল্লায় কর্মরত থাকার সময় তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এপিএস কামাল তার ঘনিষ্ট বন্ধু হওয়ার সুবাদে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে মনোহরগঞ্জ নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করেন। তাছাড়া কুমিল্লা ফায়ার স্টেশন মসজিদ নির্মাণের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ টাকা, রড, সিমেন্ট, বালি, ফ্যান ও টাইলস সংগ্রহ করা হলেও সেই নির্মাণসামগ্রী ও নগদ অর্থের একটি বড় অংশ তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। এসব চাঞ্চল্যকর অনিয়ম-দুর্নীতি ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে এডি মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল কেটে দেন। উল্লেখ্য—ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৭০ জন। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৩ হাজার ৬৩৫ জন। শূন্য পদ সংখ্যা ৯৩৫ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির (গ্রেড ১ থেকে ৯ পর্যন্ত) অনুমোদিত ৭১ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪০ জন। দ্বিতীয় শ্রেণির (গ্রেড ১০ থেকে ১২) অনুমোদিত ১ হাজার ১৫১ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৫৫ জন। তৃতীয় শ্রেণি (গ্রেড ১৩ থেকে ১৬) পদে অনুমোদিত ৪ হাজার ২০৭ জনের বিপরীতে আছেন ৪ হাজার ৩ জন। চতুর্থ শ্রেণি (গ্রেড ১৭ থেকে ২০) পদে অনুমোদিত ৯ হাজার ১৪১ জনবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮ হাজার ৯৩৭ জন। খালি চোখে ৯৩৫ জন শূন্য পদকে তেমন কিছুই মনে না হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোই শূন্য রাখা হয়েছে। এতে করে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশনাল কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি—চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নির্যাতিত ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নবাগত মহাপরিচালকের জোরালো পদক্ষেপ আশা করেছেন।
আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টারঃ---- যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আফিল জুট মিলের সামনে বিজিবি অভিযানে ২৪ লক্ষ টাকা মু্ল্যের ১১৬.৬৫ গ্রাম ওজনের ১টি স্বর্ণবারসহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যরা। আটক আসামী হলেন,পিরোজপুর জেলার কালিবাড়ি উপজেলার জিয়া নগর থানার চর বারইখালী গ্রামের মৃত কাসেম আলী শেখের ছেলে জালাল উদ্দিন শেখ (৫৫)। সোমবার ( ২৬ অক্টোবর ২০২৬) ভোর সাড়ে পাচটার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি অভিযান টহলদল যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আফিল জুট মিলের সামনের পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ১১৬.৬৫ গ্রাম ওজনের ১টি স্বর্ণের বার, ১টি মোবাইল এবং নগদ ৩২৪০/-টাকাসহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তির শরীরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় উক্ত স্বর্ণের বারটি পাওয়া যায়। আটককৃত আসামীকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ঢাকা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বার নিয়ে যাচ্ছিল। আটককৃত স্বর্ণের মূল্য ২৪,৪২,০৬৭/- টাকা ও ১টি মোবাইল এর মূল্য ২০,০০০/- টাকা এবং নগদ ৩২৪০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ২৪,৬৫,৩০৭/- (চব্বিশ লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার তিনশত সাত) টাকা। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, জানান, কিছুদিন যাবত বাংলাদেশ হতে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত স্বর্ণসহ পাচারকারী আটকের নিমিত্তে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রম ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণসহ পাচারকারী আটক করতে সক্ষম হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের অভিযান কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকবে এবং আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আসামীকে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান বিজিবি।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। এ ঘটনায় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন—ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয় (২৭), বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)। রোববার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ ও এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা রাজধানীর মুগদা থানাধীন দক্ষিণ মান্ডা এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিকৃত করে প্রকাশ, অশালীন মন্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রিয়া চৌধুরী (২৪) নামে এক তরুণী। অভিযোগপত্রে প্রিয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৪ থেকে অথবা অভিযোগে বর্ণিত সময় অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। তাঁর দাবি, ‘kasem k’ ও ‘investigation’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিকৃত করে আপত্তিকর, অশালীন ও মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি মানসিক চাপের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। প্রিয়া চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগের সমর্থনে তিনি স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির লিংকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তদন্তের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করা, অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আইডির তথ্য, পোস্টের লিংক, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সত্যতা এবং অপরাধে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে মুগদা থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর পদায়ন ও দুর্নীতি ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহর এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনার সার্বিক দায়িত্বে। এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় তার পদায়ন পক্ষান্তারে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ৩৩তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং লটারির ক্যাটাগরির মানদণ্ড বদলে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন হাতিয়ে নিয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সরোয়ার জাহান বিপ্লবকে তিন কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে মাসুম বিল্লাহ এই বদলি বাগিয়ে নেন বলে চাউর হয়েছে। এমনকি অগ্রিম অর্থ লেনদেনের একটি স্পর্শকাতর ভিডিওচিত্র দৈনিক মানব কথার হাতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০১৬ সালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় পরিচয়ে প্রথম পদায়ন হিসেবে নগর গণপূর্ত বিভাগে স্টাফ অফিসার হিসেবে যোগ দেন মাসুম বিল্লাহ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দ্রুত ধনকুবের হয়ে ওঠার গল্প। নগর গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাসুম বিল্লাহ। গোপালগঞ্জের ছাত্রলীগ ক্যাডার দীন ইসলামের মালিকানাধীন এস এ এন্টারপ্রাইজসহ ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে এক থেকে দুই শতাংশ হারে কমিশন বাণিজ্য চালান তিনি। তিনটি অর্থবছরে শুধু এই খাত থেকেই প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মিরপুর উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব নেওয়ার পর পাইকপাড়া অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার ও অগ্রিম অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এর চার বছর পর আমির হোসেন আমুর সুপারিশে শের-ই-বাংলা নগর ৩ নম্বর উপবিভাগে পদায়ন পেয়ে পরোক্ষ ঠিকাদারি ও ঘুষ বাণিজ্যে তিনি আরও লাগামহীন হয়ে পড়েন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঝালকাঠির রাজাপুরের কাঠিরপাড়া গ্রামে একসময় মাসুম বিল্লাহদের একটি সাধারণ ভাঙা টিনের ঘর ছিল। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চাকরিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়েই অলৌকিক আলাদিনের চেরাগ হাতে পান তিনি। নিজের গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন বিপুল সম্পদ। ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ থেকে শুরু করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কোটি টাকার বিনিময়ে স্বমহিমায় একই চেয়ারে টিকে আছেন এই কর্মকর্তা। এতে এতদিন ধরে বঞ্চিত ও শোষিত প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতদের রোষানলে পড়ে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বর্তমান গণপূর্ত প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী। ইতোমধ্যে মাসুম বিল্লাহর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। সম্প্রতি দুদক মাসুম বিল্লাহ, তার বড় ভাই শফিউল বসর ও স্ত্রী নাইমা আক্তার সুমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে এই পরিবারটি নির্বাচনে বিপুল অর্থ ঢালত এবং তাদের বাড়িতে সবসময় নগদ টাকা ও সোনা মজুত থাকত। এমনকি গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের আগে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের বাড়িতে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রেখে যান। গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর রাতে তাদের বাড়িতে এক ডাকাতির ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা এবং কয়েকশত ভরি সোনা লুট হয় বলে গ্রামবাসীরা জানান। কিন্তু অর্থের বৈধ উৎস না থাকায় থানায় লিখিত এজাহারে তারা মাত্র ১৩ ভরি সোনা, ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন চুরির কথা উল্লেখ করে প্রকৃত তথ্য গোপন করেন। আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতার দাপট ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে সব অভিযোগ ধামাচাপা দিলেও বর্তমানে তার একের পর এক অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সব অভিযোগ পাশ কাটিয়ে দাবি করেন, তার এই সংবেদনশীল স্থানে পদায়ন ও দায়িত্বের বিষয়ে এনএসআই এবং ডিজিএফআই অবগত রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ অন্তত ১০ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার ১৪ জন ঠিকাদার। গত ২১ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ১৪ জন ঠিকাদারের সই করা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। একই ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছেও। এতে বলা হয়, প্রায় তিন বছর ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অবৈধ কাজে জড়িত ছিলেন। এক দিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিন বিল ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী অন্তত ৩৫টি কাজ ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে করেছেন। যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ এলটিএমে করার কথা, সেখানে অধিকাংশ কাজই ওটিএমে করা হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ না করে পছন্দের কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এলটিএমে যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন ঠিকাদার অংশ নেন, সেখানে ওটিএমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত জনে নেমে আসে। ঠিকাদারদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর একটি ঘটনা কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজ নিয়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জুন এসব কাজের জন্য ওটিএম টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পরদিন ২২ জুনই চুক্তিপত্র সম্পন্ন করা হয়। এর পরদিন ২৩ জুন কাজের বিলের চেক দেওয়া হয়। ২৭টি কাজই পাঁচজন পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত করে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা কমেছে এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আগের অর্থবছরেও একই অভিযোগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও পিপিআর অনুসরণ না করে এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে কাজ ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারেরা। তাদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের কয়েকজন ঠিকাদারকে এসব কাজ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তার নিজ জেলা নাটোরে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকারি বাসা সংস্কারে অনিয়ম কিশোরগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর সরকারি বাসা সংস্কারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারেরা। তাদের দাবি, ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ করে ‘সিকিউরিটি’ নেওয়া হয়েছে এবং এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। চলতি বছর ঈদুল আজহার আগে ঢাকার এক পরিচিত ঠিকাদারের নামে নয়টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। মডেল মসজিদ, মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, আইনজীবী ভবন ও বিভিন্ন থানা ভবনের কাজ পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল পরিশোধ এবং মিঠামইন শিল্পকলার বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিংয়ের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অফিসে অনুপস্থিতি ও সরকারি গাড়ি ব্যবহার অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রায়ই ‘ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন’ বলে জানানো হয়। সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকা ও নাটোরে যাতায়াত করেন। ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছুটি অনুমোদন না পেলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজে সময় দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কোয়ার্টার সংস্কার না করায় দখলের শঙ্কা সরকারি সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাট গবেষণা এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের কোয়ার্টারে ছয়টি পরিবার বসবাস করত। বসবাসের উপযোগী রাখতে কোয়ার্টারটি সংস্কার করা প্রয়োজন হলেও তা করা হয়নি। ফলে কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং জায়গাটি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ঠিকাদারেরা। ‘অভিযোগগুলো মনগড়া ও ভিত্তিহীন দাবি নির্বাহী প্রকৌশলীর’ এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। তার দাবি, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ঠিকাদারদের মধ্যে দু-একজন তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।’ অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে আগেও তদন্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তদন্তে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের খাবার বগিতে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার ক্যাটারিং কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। একই সাথে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ২৯ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। তবে গুরুতর এই অপরাধ সত্ত্বেও অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ করপোরেশন’ এর ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বিচার শেষ হওয়ার আগেই তুলে নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহল। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। গত ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ও ৩০ ধারায় চার্জ গঠন করেন। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে মামলাটির আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। মামলার বেঞ্চ সহকারী মো. পারভেজ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত চার আসামিরা হলেন, মো. জামাল (২৯), রাশেদুল হক প্রকাশ রাশেদুল ইসলাম (২৮), শরিফ মিয়া (২১), আবদুর রব রাসেল (২৮) অভিযুক্ত চারজনই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ কর্পোরেশন’র কর্মরত কর্মী ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ জুন রাতে এক তরুণী টিকিট না পেয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের খাবার বগিতে বসেন। ট্রেন চলার পর থেকেই এস এ করপোরেশনের কর্মীরা তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সাধারণ যাত্রীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে অভিযুক্তদের বাধা দেন। তবে ২৬ জুন ভোরের দিকে খাবার বগিতে যাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেলে অভিযুক্ত কর্মীরা ওই তরুণীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ যাত্রীদের সহায়তায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রেন থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা, রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক এস এম শহীদুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য, ডিএনএ টেস্টের ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিচার শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার শাহ আলমের ‘এস এ কর্পোরেশনের’ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার—ক্ষোভ! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদয়ন এক্সপ্রেস এবং একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে এস এ করপোরেশনের খাবার সরবরাহ ও ক্যাটারিং সেবা চুক্তি স্থগিত করেছিল। তবে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হতেই কেবল ‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না’ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের এমন মৌখিক ও লিখিত প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ তুলে নেয় রেলওয়ে। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে আবেদন করায় তাদের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আইনবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, চলন্ত ট্রেনে এমন জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা এক ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। এর ফলে রেলে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চরম গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক আদালতের স্থগিতাদেশের সুযোগে নির্মাণকাজ চালানোর দাবি; তদারকিতে গাফিলতি নাকি যোগসাজশ? ঢাকা: রাজধানীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অননুমোদিত ভবন নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যেই সরকারি ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক বন্ধের সুযোগে কিছু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্মাণকাজ কয়েক তলা এগিয়ে যাওয়ার পর শুরু হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া। অনুসন্ধানে এমন ৩ থেকে ৪টি ভবনকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বর্তমান অবস্থা, আদালতের আদেশ এবং রাজউকের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ছুটির দিনে নির্মাণকাজ, নজরদারি কোথায়? অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক বন্ধের সময়ও কিছু নির্মাণাধীন ভবনে কাজ চলতে থাকে। এসব ভবনের নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, ভবনের উচ্চতা, সেটব্যাকসহ অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে শুরুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সড়কব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, অগ্নিনিরাপত্তা ও সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। নির্মাণের পর আদালতের আশ্রয়? অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ভবনের নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকেরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পাওয়ার দাবিও রয়েছে। তবে আদালতের আদেশের প্রকৃতি না জেনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশ, রাজউকের নোটিশ ও ভবনের অনুমোদিত নকশা পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো কোনো ভবনের নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এবং রাজউক কী ধরনের তদারকি করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভবনমালিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ৩–৪টি ভবনের মালিকদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। বারবার ফোন করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। ফলে ভবনগুলোর নির্মাণ অনুমোদন, আদালতের আদেশ, নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ভবনমালিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। রাজউক জোন-৬-এর বক্তব্য এ বিষয়ে রাজউক জোন-৬-এর অথরাইজড অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনিয়ম প্রতিরোধে তাঁরা তাঁদের এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে চিহ্নিত ভবনগুলোতে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, কোন ভবনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কতটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিরুদ্ধে রাজউকের গৃহীত ব্যবস্থার ধরন ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বিষয়টি নিয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য নেওয়ার জন্যও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অননুমোদিত ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ প্রতিরোধে রাজউকের নজরদারি ব্যবস্থা, সরকারি ছুটির দিনে তদারকি এবং আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। তদারকিতে ঘাটতি, নাকি দায়িত্ব পালনে অবহেলা? রাজধানীতে কোনো ভবনের নির্মাণকাজ বিধিবহির্ভূতভাবে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকের দায়ের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কোনো কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে, কোনো ভবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর রাজউক কখন ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলে তা মানা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। শেষ কথা রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করাও জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভবনমালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন—রাজধানীর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ঠেকাতে রাজউকের তদারকি কতটা কার্যকর? আর অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও নির্মাণকাজ চলতে থাকলে তার দায় নেবে কে?
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।