জাতীয়

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

  বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্যও ভাতা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার এই ভাতা ও অনুদান বৃদ্ধি করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। তাঁদের জন্যও উৎসব ভাতা ১০ হাজার টাকা, মহান বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানি ভাতা, ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, খাদ্য ভাতা ৫ হাজার টাকা, উৎসব ভাতা ২৩ হাজার টাকা ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ২ হাজার টাকা পাবেন। এ ছাড়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে মাসিক সম্মানি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষম) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সর্বশেষ এই ভাতা বৃদ্ধি সেই উদ্যোগেরই অংশ, যা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের
উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

  উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ) জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে পাঠানোর জন্য নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দ্রুততম সময়ে পাঠানোর নীতিমালা নির্ধারণের জন্য কমিটি গঠন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত  সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি সাইয়েদ মোহাম্মদ তাজরুল হোসাইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন এবং নিম্ন আদালতের ২ জন আইনজীবী বাদী হয়ে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। তারা হলেন- অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট সাব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান। শুনানিতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি নজির উপস্থাপন করে বলা হয়, ভার‍তে উচ্চ আদালতের জামিন আদেশের পর তা দ্রুততম সময়ে অনলাইনে পাঠানোর একটি পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে।  আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। এই কমিটিকে ২০ আগস্ট নীতিমালা নির্ধারণে করণীয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের
নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের

  এবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব পরিস্থিতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার আপাতত সেই সুপারিশ পুরোপুরি মেনে নিতে রাজি নয়। বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে আইএমএফের প্রতিনিধি দল অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই অন্তত দুই বছর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্রগুলো জানায়, আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি নবম পে স্কেল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করতে আগ্রহী। তবে সরকার চায়, ওই বৈঠকের আগেই পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যাতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না আসে। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, এর আর্থিক প্রভাব এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এদিকে অর্থ বিভাগ নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের যেকোনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, সরকার নীতিগতভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চায় না। তবে একবারে কার্যকর করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের উপায়ও খোঁজা হচ্ছে। বর্তমান অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নবম পে স্কেলের আওতায় আসবেন। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ চায়, সরকার বড় ধরনের পুনরাবৃত্ত ব্যয় বাড়ানোর আগে রাজস্ব সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করুক।

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের নির্ভুল তালিকা তৈরির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদের নির্ভুল তালিকা তৈরির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা না করে তখনকার সরকার রাজনীতি করেছে। বর্তমান সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে সকল শহীদদের সঠিক তালিকা করে মর্যাদা নিশ্চিত করবে।  বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। বেলা ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাসের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের তালিকা এবং যারা গণহত্যার স্বীকার হয়েছেন তাদের তালিকা করা হবে কিনা; এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে তা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। বেলা ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাসের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল জানতে চান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের তালিকা এবং যারা গণহত্যার স্বীকার হয়েছেন তাদের তালিকা করা হবে কিনা; এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সঠিক সংখ্যা ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রকাশ করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে তা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
সবাই একটি করে গাছ লাগাবে: প্রধানমন্ত্রী
সবাই একটি করে গাছ লাগাবে: প্রধানমন্ত্রী

  পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি সবাইকে একটি করে গাছ লাগানো ও সেই গাছের ভালো পরিচর্যা করার আহ্বান জানান তিনি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা স্টল ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আনহ এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রদর্শনীর স্টলগুলোতে শিশুরা তাদের নিজ নিজ এলাকার স্বতন্ত্র ঐতিহ্য, নিজেদের আঁকা ছবি, বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং কাগজ দিয়ে তৈরি নানা ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার রেপ্লিকা প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী স্টলগুলোতে প্রবেশ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। প্রতিটি স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো তোমরা?’ এ সময় শিক্ষার্থীদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প দেখে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এসব কি তোমরা বানিয়েছো?’ শিক্ষার্থীরা সমস্বরে উত্তর দেয়, ‘জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’ প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই দারুণ সব সৃজনশীল কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শনকালে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খেলার ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষকরা ‘আনন্দ শিক্ষা’ ও ‘ডিজিটাল শিক্ষা’ ব্যবস্থার কার্যকারিতা তাঁর সামনে তুলে ধরেন। একটি স্টলের খুদে শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এক মানবিক উদ্যোগের কথা শেয়ার করে। সে বলে, ‘আমরা প্রতিদিন আমাদের টিফিনের টাকা জমিয়ে অসচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করি। আমরা সবাই একসাথে বসে টিফিন খাই।’ কোমলমতি শিশুদের এই চমৎকার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা খুব ভালো কাজ করছো পরে ওই স্টলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের দৈনিক পাঠ্যক্রম, ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় এবং টিফিনের সময়ের বিভিন্ন মজার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে। সেখানে একটি শিক্ষণীয় গেম সম্পর্কে জেনে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘গেমটা তো চমৎকার!’ একটি স্টলে গিয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে করমর্দন করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা বিদ্যালয়কে সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানেই ময়লা দেখবে, তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে?’ শিক্ষার্থীরাও তার এই আহবানে সানন্দে সায় দেয়। অনুরূপভাবে হবিগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘সবাই নিজেরা একটি করে গাছ লাগাবে এবং সেই গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করবে। ঠিক আছে?” এ সময় শিক্ষার্থীবৃন্দ উৎসাহের সাথে সমস্বরে বলে ওঠে, “জি স্যার।’ প্রদর্শনীর একটি স্টলে অভিনব ‘পকেট লাইব্রেরি’ দেখে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একটি খুদে শিক্ষার্থী তাকে লাইব্রেরিটির ব্যবহার ব্যাখ্যা করে বলে, ‘এই লাইব্রেরিতে লেভেল (তাক) অনুযায়ী আমাদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটির যে বই পড়তে ইচ্ছা করবে, সে সরাসরি সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নিয়ে পড়তে পারবে।’ এই চমৎকার চিন্তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা খুব সুন্দর জিনিস সেট করেছ। এজন্য তোমাদের অনেক ধন্যবাদ।’ স্টলগুলো পরিদর্শনের সময় কোমলমতি শিশুদের নানারকম মিষ্টি আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি স্টলে শিশুরা আবদার করে বলে, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি নিজের হাতে একটি টবে গাছের চারা রোপণ করে দেন, তবে সেটি আমরা স্মৃতি হিসেবে আমাদের স্কুল আঙিনায় নিয়ে লাগাবো।’ প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ হেসে রাজি হয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘কোথায় তোমাদের টব ও গাছ?’ শিক্ষার্থীরা দ্রুত চারাগাছ ও টব নিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাটিতে চারাটি রোপণ করে দেন। বিদ্যালয়ভর্তি গাইড আরেকটি স্টলে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তোলার যৌথ আবদার জানিয়ে বলে, ‘আমরা আপনার সাথে স্যার একটি ছবি তুলতে চাই।” প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে বলেন, কোনো অসুবিধা নেই। এই বলে তিনি নিজেই স্টলের ভেতরে গিয়ে শিশুদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান এবং ফ্রেমবন্দী হন। উল্লেখ্য, আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা সময় ধরে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর পরিদর্শন শেষ করেন।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল
ঢাকা পরিচ্ছন্ন করতে দল-মতহীন ঐক্য চান মির্জা ফখরুল

  রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঢাকাকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী দেখতে চাই না; আমরা সবাই ঢাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা আজ বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে নিচের দিক থেকে তিন নম্বরে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে ফেলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশনের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় তারা অনেকটাই অসহায়। রাজউক, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে বর্ষা এলেই রাস্তা খোড়াখুড়ির মতো সমস্যা তৈরি হয়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে সিটি কর্পোরেশনকে একটি শক্তিশালী মূল কাঠামোর (গভর্নমেন্ট) অধীনে এনে অন্যান্য বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নদী ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের পানি অত্যন্ত চমৎকার ও পরিষ্কার ছিল, আজ তা তীব্র দূষণে মৃতপ্রায়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এখন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকা শহরে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং প্রাকৃতিক খালগুলো দখল ও দূষণ থেকে পুনরুদ্ধার করতে না পারলে ঢাকা শহরকে বাঁচানো যাবে না। পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করার ওপরও তিনি জোর দেন। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন প্রয়োগ করে বা সরকারি উদ্যোগে শুধু সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। ক্যান্টনমেন্ট ও সিগন্যালে এআই প্রযুক্তির ভয়ে মানুষ যেভাবে নিয়ম মানছে, ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই সচেতনতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের মাধ্যমে শুরু করতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারে ছড়াতে হবে তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বহু সেমিনার ও ভালো খাওয়া-দাওয়ার ওয়ার্কশপ হয়েছে, কিন্তু আসল কাজ একটাই—‘আমার শহর আমি পরিষ্কার রাখবো।’ জীবনের শেষভাগে এসে ঢাকাকে আবারো সুন্দর ও সবুজ দেখার আকুলতা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন— স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলামসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  এবার আইসিটি বিভাগ থেকে স্টার্টআপের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতা করতে সরকার প্রস্তুত। তিনি বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এ  অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে বেলা ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে বলেন, বাবার জমি বা সম্পত্তি দেখে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। কিছু ভিন্ন উপায়ও আছে। তবে তা যথার্থ নয়। যাদের ভালো স্টার্টআপ ধারণা আছে, কিন্তু জামানত নেই, তাদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে। এ সময় অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
শেখ হাসিনা ফিরলে তাকে স্বাগত জানাবো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

  ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তার (শেখ হাসিনা) মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তিনি আসবেন, তাকে আমরা যদি প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি। আর উনি যদি আমাদের সাথে দুই পক্ষে যোগাযোগ করে আসে, তাহলে আদালতে যাবেন, উনি মামলা ফেস করবেন। তিনি বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমাদের চিফ প্রসিকিউটর জবাব দিয়েছেন এবং গতকাল আমি দেখলাম আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কথা বলেছেন। উনার আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি, উনি যদি আসেন আমরা কিন্তু শুরু থেকেই বলছি আমরা তাকে স্বাগত জানাবো। জাহেদ উর রহমান আরো বলেন, উনি মামলার জন্য আইসিটি-তে এখন বিদেশি আইনজীবী আনারও স্কোপ আছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবী তিনি আনুন। উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনি তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন। ওখানে অবজারভার রাখা যায়, ওখানে ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায়, এতটাই আধুনিক করা হয়েছে ইন্টেরিমের সময়। এই আইসিটিকে একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রসেস চলবে। উপদেষ্টা বলেন, এই দেশের জনগণ চায় তিনি যে অপরাধ করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড আছে সেটা যেন বহাল থাকে। সেটা কার্যকর হবে, সেটাও জনগণ দেখতে চায়।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

  স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, সব মন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র একটি অনন্য রোল মডেল ও পজেটিভ ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সোমবার ( ১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রজেক্ট প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও স্পেস গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল মাঠকর্মী বাহিনী তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করে প্রাথমিক মেডিকেল অ্যাটেনশন ও থেরাপির মাধ্যমে এই ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক লিঙ্কেজ বা সংযোগ তৈরি করে দেবে। ফলে চিকিৎসার সাথে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটবে। প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান দেশে বর্তমানে ৪৬ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ডেটাবেজের আওতায় থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার মেগা টার্গেট নিয়েছে নতুন সরকার। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করতে কোনো দয়া বা চ্যারিটি মডেল নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন যে রাষ্ট্র এদের দয়া করছে এমন পরিবেশ তিনি চান না, বরং অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার যেন তারা উপভোগ করতে পারেন।’ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে গঠিত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ স্টিয়ারিং কমিটি’, যেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নীতিসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে এবং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। কমিটিগুলো গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মিটিং সম্পন্ন হওয়া কাজের গতিশীলতা প্রমাণ করেছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শীর্ষ পর্যায়ের এই সমন্বয়ের ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ বা প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে একটি ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী শিশু যখন জন্মায়, তখন তার এক ধরণের চিকিৎসা ও থেরাপির প্রয়োজন হয়। ৬ বছর বয়সে তার চাহিদা ভিন্ন হয়, ১২ বছর বয়সে প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রয়োজন আলাদা এবং যৌবনে তার দরকার কর্মসংস্থান। জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে এবং কনভেয়ার বেল্টের মতো ধাপে ধাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তার চাহিদা পূরণ করবে।

News জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনের সময় তিনি স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দু’টি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ এবং এক আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শনকে ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চলছে নানা প্রস্তুতি। উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত এ সরকারি মেডিকেল কলেজ বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে স্নাতক পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ, তদারকি ও প্রতিক্রিয়া—সবই হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিযোগ, তদারকি ও প্রতিক্রিয়া—সবই হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

  জাহিদুল আলম ঢাকা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ক্লিন কেয়ার (Clean Care)’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকেরা পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি অনুসরণ করতে এবং সেবার মান সম্পর্কে মতামত দিতে পারবেন। মঙ্গলবার রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আব্দুস সালাম বলেন, একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিকল্প নেই। বিশ্বের উন্নত শহরগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ডিএসসিসিও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করেছে। তিনি বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় কী ধরনের বর্জ্য বেশি তৈরি হচ্ছে, কোথায় অতিরিক্ত জনবল বা যানবাহনের প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এতে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণ কার্যক্রম আরও সমন্বিত, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে। ডিএসসিসি জানায়, অ্যাপে অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, মোবাইল নম্বর এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে। কাজ শেষ হলে সেবার মান সম্পর্কে নাগরিকরাও তাদের মতামত জানাতে পারবেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘Clean Care’ অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নিবন্ধন করলেই এই সেবা পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে প্রশাসক নগরবাসীর প্রতি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করতেই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার। ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের আশা, নতুন এই ডিজিটাল উদ্যোগ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও স্মার্ট ঢাকা গড়ে তোলার উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটালেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি। মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনাসদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখছে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।▫️

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে : শরীফ ভূঁইয়া
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে : শরীফ ভূঁইয়া

  বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে,সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গতকাল (৬ জুলাই) বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এই রায়ে। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।  রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে। গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো। হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আইনমন্ত্রী), ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী প্রতিষ্ঠান সুজনের সম্পাদক বদিউল আলমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ, সেন্টার ফর ল’ গভর্নেন্স ও পলিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন। পরে রুলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়া বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ৫ আগস্টের আগে
জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন ৫ আগস্টের আগে

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই জাদুঘর আগামী ৫ আগস্টের আগে উদ্বোধন করা হবে। এ সরকার জুলাইয়ের সরকার। কাজেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। খাদ্য মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বর্তমানে ৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রোডম্যাপ করা হয়েছে, এতে আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান

  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ‘ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট’ (ডিওএস)- এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল (ইউএসজি) অতুল খারে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে আন্ডার সেক্রেটারি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ/প্রতিপূরণ দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা অ্যাজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পর মন্ত্রী, শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করার ক্ষেত্রে ‘ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট’ (ডিওএস)- এর ধারাবাহিক ও কার্যকর সহায়তার জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ডিওএস- এর পরিবেশ বিভাগকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এই খাতে বাংলাদেশের যে বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে জাতিসংঘের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর প্যানেল স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকায় নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ, উপযুক্ত এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল বা শত্রুভাবাপন্ন আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য তাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রচলিত এফপিইউ- এর তুলনায় এই ইউনিটগুলো সোয়াত, র‍্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক অর্ডন্যান্স নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী। হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১৫-১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনায় অংশ নেবে। এই আলোচনা সফল করতে এবং প্রস্তাবিত সরঞ্জামসমূহ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের (পিসিসি) স্ব-নির্ভর ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ টিম বা প্ল্যাটুন মোতায়েন করতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। আলোচনার শেষভাগে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকাতলে বাংলাদেশের অবিচল ও দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি, পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে, হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
পতিত সরকার কোনো প্রকল্পই জনস্বার্থে নেয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী
পতিত সরকার কোনো প্রকল্পই জনস্বার্থে নেয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী

  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে দেশে কোনো প্রকল্পই জনস্বার্থে নেওয়া হয়নি। সব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল তাদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য। তারা দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে ধ্বংস করে গেছে। তার দায় এখন আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর এসে পড়েছে। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পেশ করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। উপস্থাপিত এই প্রবন্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে একে জনগণের উপযোগী করার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
নতুন দায়িত্বে আইন, জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রী.
নতুন দায়িত্বে আইন, জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রী.

  সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করতে কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল রবিবার (৫ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ), ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ এর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আওতাভুক্ত অংশ পর্যালোচনাসহ অধিকতর কার্যকর করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক অর্পিত হবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ; নৌপরিবহন এবং সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি; অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার; বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ।  

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আইএপিবির সিইও পিটার হল্যান্ড
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আইএপিবির সিইও পিটার হল্যান্ড

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফোর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিটার হল্যান্ড। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশে চক্ষুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা হ্রাস এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং আইএপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।  

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
সোনা চোরাচালানের ‘গডফাদাররা’ অধরা
সোনা চোরাচালানের ‘গডফাদাররা’ অধরা

  গত ১৪ বছরে মামলা ১৩৪৫টি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের সোনা চোরাচালানের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে। এ কারবারের নেপথ্যের নায়ক বা ‘গডফাদাররা’ সবার নাকের ডগায় একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল ‘কারিগররা’ পর্দার অন্তরালে ঠিকই বহাল তবিয়তে। ধরা পড়ছেন ‘চুনোপুঁটি’র মতো সাধারণ বাহকরা। আটক হয়, মামলা হয় কিন্তু বড় কোনো শাস্তি নেই। ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কোনো একটি চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের নায়করা পেছন থেকে আরো ১০টি চালান ঠিকই ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বিনা বাধায়। জানা যায়, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। কিন্তু দুর্বল আইনের কারণে একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এমনকি ‘গডফাদাররা’ও সামনে আসেননি। ফলে থামছে না সোনা চোরাচালানের বেপরোয়া সিন্ডিকেট। মামলার এজাহার, চার্জশিট (অভিযোগপত্র), সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহককে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রধান কারণ হলো—উপযুক্ত আইনে মামলা না করা। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় যেখানে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ মামলা হওয়ার কথা, সেখানে মামলা হচ্ছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এসব মামলায় চোরাচালানকৃত স্বর্ণের উৎস খুঁজে বের করা তথা দেশ-বিদেশে থাকা সম্পৃক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রায় অসম্ভব। গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, এর প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং আইনের মামলা হলে ‘টাকার উৎস’ খুঁজে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু দুর্বল মামলাই নয়, এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, জব্দ তালিকায় গরমিল, উল্টো সাক্ষী দেওয়া ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশসহ নানা কারণে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বেশির ভাগ আসামিই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। ফলে জড়িতদের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়টি একটি বিশেষায়িত খাত। চোরাচালান প্রতিরোধে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থের মোহে না পড়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি কাজেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সৃষ্টি হলেই স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে। মামলার সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক জেলা জজ মো. মঈদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা শুধু ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহকের কাছ থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেন তা খুবই সামান্য। আর এটি দৃশ্যমান যে বাহকরা কোথা থেকে স্বর্ণ এনেছেন—সেই উৎসর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে যান না। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বের দায় তদন্তকারী ও তদারককারী কর্মকর্তার। মামলায় ভালো ফলাফল পেতে হলে তদারককারী কর্মকর্তাদের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। তদারককারী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বর্ণ চোরাচালানের উৎসর দিকে যেতে পারবেন। সাধারণত দীর্ঘদিন পর এসব মামলার চার্জশিট হয়ে থাকে। তখন আরো অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু বহনকারীকে আসামি করে এবং চোরাচালানের উৎসর সন্ধান না করেই চার্জশিট দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেও খুব বেশি ফল হবে না। যদিও এমন নির্দেশনাও খুব একটা দেখা যায় না। সাবেক এই জেলা জজ আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশে জড়িতদের নিয়েই তদন্তে ব্যস্ত থাকেন। বিদেশি যারা জড়িত, তাদের তদন্তে যুক্ত করা হয় না। চোরাচালান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সম্পৃক্ত একটি অপরাধ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা চাইলে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলাগুলো মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা সম্ভব। এতে করে অর্থপাচারের বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক এই ক্রাইমে জড়িত ক্যারিয়ার থেকে স্বর্ণ ইনপুটকারী প্রতিটি চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বর্ণের সাপ্লাইয়ারকে ধরতে হবে। সাপ্লাইয়ারকে ধরতে না পারলে এই চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্বর্ণ চোরাচালানের পরিসংখ্যান : ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৬৯৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫৫ কেজি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১৭ কেজি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। আর চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৫৪০টি মামলা করা হয়েছে। অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে ঢাকা কাস্টম হাউস থেকে ৮০৫টি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ২৭টি, ২০১৪ সালে ১২০টি, ২০১৫ সালে ৯৩টি, ২০১৬ সালে ৫০টি, ২০১৭ সালে ৬২টি, ২০১৮ সালে ১১০টি, ২০১৯ সালে ৭৭টি, ২০২০ সালে ৩২টি, ২০২১ সালে ১০৫টি ও ২০২২ সালে ১২৯টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। একটি মামলাও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা হয়নি। মামলার তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ বছরে যেমন চোরাচালানের প্রচুর স্বর্ণ আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস, তেমনি এসব ঘটনায় থানায় হওয়া মামলাগুলোর প্রায় আসামিই জামিন পেয়েছেন। গত ১০ বছরে করা ঢাকা কাস্টম হাউস চোরাকারবারিদের হাতেনাতে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এই সময় বড় চালানের দিক থেকে অন্তত ৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন। বাকি ৩৫টি মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। রায় হয়েছে একটি মামলায়। এ ছাড়া বাকি ৪৫টি মামলার মধ্যে ১১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বাকি মামলাগুলো ঢাকা মহানগরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা কাস্টম হাউস উল্লেখযোগ্য স্বর্ণের ১২টি চোরাচালান আটক করে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৪ মার্চ মো. তাজুল ইসলাম ছয় কেজি ৪৯২ গ্রাম, ১২ এপ্রিল মোহাম্মদ আরিফ ছয় কেজি ৮২৭ গ্রাম, ১৫ এপ্রিল মোহাম্মদ রাসেল এক কেজি ৩৩০ গ্রাম, ১৯ এপ্রিল শাহনাজ চৌধুরী ছয় কেজি ৮৪৪ গ্রাম, ১ মে পরিত্যক্ত অবস্থায় আট কেজি ১২০ গ্রাম ও ২৬ মে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আখন্দ আট কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এর মধ্যে একটি মামলায় কোনো আসামি আটক নেই। বাকি পাঁচ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন। ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি সরোয়ার উদ্দিন সাত কেজি ২৯০ গ্রাম, ৪ মার্চ মো. আবুল খায়ের পাঁচ কেজি ২২০ গ্রাম, ১ মে মোমেনুর রহমান ও মো. নজরুল ফরাজী তিন কেজি ৪০০ গ্রাম, ১ মে জয়নাল আবেদীন দুই কেজি ৮১৭ গ্রাম, ১৮ জুলাই রাকিবুল হাসান ছয় কেজি দশমিক ৩২ গ্রাম ও ২৭ জুলাই মহিন উদ্দিন চার কেজি ২৯২ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এই ছয় মামলার মধ্যে সরোয়ার উদ্দিনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ ছাড়া মামলাগুলোর মধ্যে শুধু মহিন উদ্দিন জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে। ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি পরিত্যক্ত এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩ মার্চ আবু সালেহ মুসা এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ১৮ জুলাই মোহাম্মদ জসিম এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ২৩ অক্টোবর পরিত্যক্ত সাত কেজি ৮৮৮ গ্রাম, ২২ নভেম্বর মোহাম্মদ জাভেদ এক কেজি ৪২৩ গ্রাম ও ২৮ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত দুই কেজি ৫৫২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলা তদন্তাধীন ও বাকি পাঁচটি মামলা ঢাকা মহানগরের বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মাসুদ খান দুই কেজি ৮৯ গ্রাম, ২ মার্চ আব্দুল আউয়াল দুই কেজি ৩৯০ গ্রাম, ১৩ মার্চ চীনা নাগরিক চেন জিফা পাঁচ কেজি ৫৬৮ গ্রাম, ৩০ এপ্রিল ভারতীয় নাগরিক মোহাম্মদ আমির খান তিন কেজি ২০০ গ্রাম, ৮ আগস্ট জাপানি নাগরিক সুচি সাৎও পাঁচ কেজি ৯৯৮ গ্রাম ও ৩ ডিসেম্বর হিমেল খান আট কেজি ৯৯৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলায়ই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি লাকি আক্তার দুই কেজি ৭৮৫ গ্রাম, ১৩ জানুয়ারি জাপানি নাগরিক কেঙ্গু শিবাতা ১০ কেজি ৯৫৬ গ্রাম, ২৫ জানুয়ারি মোস্তফা কামাল চার কেজি ৬৪০ গ্রাম, ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আবু তাহের এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩০ জানুয়ারি মোহাম্মদ বাসেদ দুই কেজি ৪৪০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা পাঁচটি মামলায় এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ নবাব সলিমুল্লাহ ৮৮৪ গ্রাম, ২৬ অক্টোবর ইউসুফ চৌধুরী ৩৩০ গ্রাম, ১০ ডিসেম্বর মো. মাহাবুবুল ইসলাম ও ভূঁইয়া মাহফুজ ৫৫৩ গ্রাম, ৩ নভেম্বর পঙ্কজ দে ৩৪৪ গ্রাম ও ৮ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ৪৬৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা প্রতিটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোয় আাাসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মজিব সরকার এক কেজি ৩৭০ গ্রাম, ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ৫৭৬ গ্রাম, ২৫ এপ্রিল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তিন কেজি ৫০০ গ্রাম, ১৪ মে মোহাম্মদ আবু বক্কর ৯৩২ গ্রাম ও ১৭ অক্টোবর মো. মোর্শেদ হোসেন এক কেজি ৩৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলোর মধ্যে জামিনে গিয়ে পলাতক মজিব সরকারের মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল মো. শাকায়েত উল্লাহ, ৭ সেপ্টেম্বর নান্না লাল মজুমদার, ১৬ নভেম্বর মো. হুমায়ুন কবির, ২৭ নভেম্বর আব্দুল আউয়াল ৫৯৪ গ্রাম, ২৪ নভেম্বর মো. সায়েম খান ও ৬ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার সবটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৪ সালের ৫ জুলাই মো. রফিকুল ইসলাম, ৬ জুলাই মোতাহার হোসেন, ৮ জুলাই আলাউদ্দিন ৫৪ পিস স্বর্ণের বার, ৬ নভেম্বর মোহাম্মদ মামুন ৪৯৪ গ্রাম, ১১ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ৫০০ গ্রাম ও একই দিন মো. আব্দুল আজিজ তিন কেজি ১০৫ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। চার্জশিট হওয়া এসব মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন। ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল খাদিজা আক্তার ১৫০ ভরি, ৪ মে মো. আব্দুর রউফ ১৯৬ গ্রাম ১৪ মে অন্য একটি, ৯ জুন গোলাম রব্বানী ও শহিদুল হক এবং ১৫ ডিসেম্বর মো. শহিদুল্লাহ দুই কেজি ৪৪৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?

  নতুন অর্থবছর শুরু হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। ফলে বেতন বৃদ্ধি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, ভাতা সংযোজন ও অবসর-সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে, যদিও নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হতে পারে। অথচ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। গেজেট না থাকায় বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে বাড়বে, ভাতা কবে যুক্ত হবে-এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর মিলছে না। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। তারা এখন আর সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। ফলে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও সহজে পান না। গণমাধ্যমের খবরে নির্ভর করেই তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অনেকেই প্রতিদিন সাংবাদিকদের ফোন করে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইছেন। আবার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব কী হবে সেই বিষয়েও সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা কোটি মানুষের উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক দফা সব জিনিসের দাম বাড়বে। ভোক্তাদের এই উদ্বেগ নিরসনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্ধারণের কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরো বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে বেসিক বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক যুগান্তরকে বলেন, আগের মতো এখন আর হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, পরে আবার বাকি অংশ দেওয়া হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।  তিনি বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, নির্বাচন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।  পিআরএল শেষে চাকরি ছাড়তে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ আরও বেশি। কারণ একজন কর্মচারীর পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদায়নসহ প্রায় সব সুবিধা শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।  আব্দুল মালেক আরও বলেন, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা দুই বা তিন ধাপে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কেউ আংশিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে গেলে পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবেন কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বিকল্প হিসাবে প্রস্তাব দেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার হবেন না।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী হলেও এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হবে।  এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, চলবে মাউন্ট এলিজাবেথ মডেলে
৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, চলবে মাউন্ট এলিজাবেথ মডেলে

  আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ভর্তি তথ্য হাসপাতালটি বেসরকারি খাতের মতো চলবে কি না— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন থাকবে। তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের। কোম্পানি ফর্ম করে পরিচালনা করা হবে এবং হাসপাতালটি হবে অলাভজনক।’ তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ বা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মডেলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি ও আধুনিক পদ্ধতিতে এটি পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা একটি গঠনপ্রণালী তৈরি করে দিয়েছি এবং যন্ত্রপাতি দিয়েছি। এটি উন্নত মানের হাসপাতাল হবে। সরকার এই হাসপাতালের রেট নির্ধারণ করে দেবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের সেবা পায়। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হবে। আশা করি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।’

News জুলাই ২, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয়

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

News জুলাই ৮, ২০২৬ 0