চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে কী কারণে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটল, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কোর্সে গণমাধ্যমের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সুন্দর নির্বাচনের জন্য পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব আছে। সিইসি বলেন, নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেয়া হবে না। নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা আছে। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো।
ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিলের কারণে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবার পদ্মার ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার লাখ লাখ ইলিশপ্রেমীর আগ্রহ পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় পূজার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতের এই ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। শুধু চিঠি নয়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সফরও করেছেন ভারতের ফিশ ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। ভারতের ব্যবসায়ীদের দাবি, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা থাকে ব্যাপক। এ কারণে পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও পদ্মার ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছি। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায়, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত অনুমতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি উন্মুক্ত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যপ্রেমী মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ রাখবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, এবার তা আরো আগে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অনেক সময় শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদেরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা কার্যকরভাবে কোনো ইলিশই ভারতে পাঠাতে পারেননি। তাই ভুঁইফোড় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই এই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ অনুযায়ী রপ্তানি হয়নি। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে পাঠানো হয় ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে গেছে ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আমার দেশকে বলেন, আমরা আশাবাদী, এ বছর বেশি পরিমাণ ইলিশ আনতে পারব। ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি আরো বলেন, রপ্তানির সময় এক মাস বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময় অনুমোদন পাওয়া সব মাছ আমরা আনতে পারি না। এজন্য সময়সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইলিশের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে ভালো হয়।
আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, অসম চুক্তি এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের একাধিক আপত্তির মুখে পাঁচ বছর আগে বাতিল হয় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পটি। পরবর্তীতে পিপিপির তালিকা থেকেও প্রকল্পটিকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে বিধিগতভাবে পিপিপি কাঠামোর আওতায় এটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। সেই বাতিল প্রকল্পটি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে তৎপরতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়ার পর মাঠে নেমেছেন কর্মকর্তারা। এ জন্য চলতি বছরের আগস্টে জাগৃক থেকে নতুন করে গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটি। অথচ পূর্বের শর্তে চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিইউসি) ও তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জাগৃকের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কমবেশি প্রায় ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জিয়া-বাবলু (গণপূর্তে ঠিকাদার ও তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত) এবং ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের ছোট ভাই ড. মোহাম্মদ এ আমীন (চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর) মিলে এ প্রকল্পে হাত দেন। এভাবে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে জিইসি মোড়ে জাগৃকের ৮ দশমিক ৫ একর জমিতে বাণিজ্যিক, আবাসিক ও অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবনা সামনে আসে। এরপর দরপত্র মূল্যায়নের জন্য কোয়ালিফিকেশন অ্যান্ড টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (কিউটেক) গঠন করা হয়। তৎকালীন জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) এস এ এম ফজলুল কবিরকে সভাপতি করে গঠিত কমিটিতে সদস্য ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী, পিপিপি কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মো. ফারুক আহমেদ, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মুমিতুর রহমান। সদস্যসচিব ছিলেন জাগৃকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম সার্কেল) মো. শামসুল আলম। এই কমিটি ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (সিইউসি) ও ইমপালস প্রপার্টিজ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগকে (জেভি) প্রথম স্থান দিয়ে সুপারিশ করে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের আপত্তি সিইউসি-ইমপালস জেভির কাগজপত্র ও কনসোর্টিয়াম চুক্তি পর্যালোচনা করে পিপিপি কর্তৃপক্ষ একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাইয়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সংস্থাটি ৬টি বড় আপত্তি তুলে ধরে। নথিপত্রে দেখা যায়, কনসোর্টিয়াম চুক্তি অনুযায়ী চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন প্রকল্প কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে। অথচ একই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, তারা কোনো ইকুইটি বিনিয়োগ করবে না এবং প্রকল্পের মুনাফায়ও অংশ নেবে না। তাদের অবদান থাকবে শুধু কারিগরি অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায়। পিপিপি কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তোলে, কোনো মূলধন বিনিয়োগ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারে। পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের লিড মেম্বারের ন্যূনতম ২৬ শতাংশ ইকুইটি অংশীদারত্ব থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অনুপস্থিতি, ন্যূনতম যোগ্যতার শর্তের সঙ্গে অসামঞ্জস্য, উদ্ভাবনী নির্মাণ প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও তোলে পিপিপি কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া মতামতে পিপিপি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, কনসোর্টিয়াম চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নতুন মূল্যায়ন কিংবা নতুন প্রেফার্ড বিডার নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়। দরপত্র মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক দরপত্র মূল্যায়নকে ঘিরেও সামনে আসে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। সিইউসি-ইমপালস জেভির জমা দেওয়া নথিতে পৃষ্ঠা নম্বর ছিল না। বাধ্যতামূলক স্ক্যানকৃত পিডিএফের পরিবর্তে সম্পাদনাযোগ্য ওয়ার্ড ফাইল জমা দেওয়া হয়েছিল। হার্ডকপি ও সফটকপির মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। এমনকি কনসেপ্ট প্ল্যানের অংশ হিসেবে জমা দেওয়া একটি লে-আউট ডায়াগ্রামে দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির কোনো স্বাক্ষরও ছিল না। এসব বিষয়ে পিপিপি কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা চাইলেও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলোকে ‘মাইনর ইনফরমালিটি’ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, কমিটির পঞ্চম সভার কার্যবিবরণীতে সিইউসির পক্ষে ব্যাখ্যা উপস্থাপনের বিষয়ে কমিটির সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই বিষয়ে (৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর সঙ্গে কথা হলে বিস্তারিত শুনে বলেন ‘নো কমেন্টস’। সরকারের গচ্চা যেতে পারে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা প্রকল্পটির আর্থিক হিসাব নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। হিসাবের ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘শুভংকরের ফাঁকি’ দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে পুরো প্রকল্পের ৪৫ দশমিক ১৮ শতাংশ অংশ জাগৃক পাবে বলে দেখানো হয়েছে। এই হিসাব দাঁড় করাতে প্রকল্প অংশে বিদ্যমান তিনটি ভবন, বিড ভ্যারিয়েবল, ইনফ্রাস্ট্রাকচার কস্ট এবং প্রিমিয়াম ও ফির বিপরীতে নির্ধারিত চারটি পৃথক শতকরা হার ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ সরাসরি যোগ করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন খাতের শতকরা হার এভাবে যোগ করে পুরো প্রকল্পে জাগৃকের অংশ নির্ধারণ প্রক্রিয়া গাণিতিকভাবে জটিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত জাগৃকের প্রাপ্য অর্থ এবং নির্ধারিত শতকরা হার বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত মূল্যমান বেরিয়ে আসে। সে হিসাবে তিনটি ভবনের অংশে জাগৃকের ১৯ দশমিক ৬৪ শতাংশের বিপরীতে প্রাপ্য ধরা হয়েছিল ১২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা থেকে ওই খাতের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬৪৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বিড ভ্যারিয়েবল খাতে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশের বিপরীতে ৯৯১ কোটি টাকা ধরলে এর মূল্য দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ইনফ্রাস্ট্রাকচার কস্ট খাতে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশের বিপরীতে ৯২ কোটি ৫২ লাখ টাকা হিসেবে মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, প্রিমিয়াম ও ফি খাতে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশের বিপরীতে ৫৪ কোটি টাকা ধরে এর মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চারটি খাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্য একত্র করলে প্রকল্পটির মোট সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এভাবেই সামনে আসে লোকসানের বড় অঙ্ক। প্রকল্পের মোট মূল্য যদি ৯ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা হয়, তাহলে ৪৫ দশমিক ১৮ শতাংশ হিসেবে জাগৃকের প্রাপ্য হওয়ার কথা প্রায় ৪ হাজার ৪৫৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু জাগৃকের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ২৬৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের মোট মূল্যের বিপরীতে জাগৃকের প্রকৃত প্রাপ্তি দাঁড়ায় মাত্র ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার ৮ দশমিক ৫০ একর বা ৫১৪ কাঠা মূল্যবান সরকারি জমির বর্তমান বাজারমূল্য ও বিদ্যমান স্থাপনার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অথচ যাবতীয় ফি ও ব্যয় বাদ দিয়ে জাগৃকের প্রাপ্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। ফলে শুধু জমির মূল্য বিবেচনায় সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। চেয়ারম্যানের ওপর চাপ, তবুও আটকে গেল ফাইল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রী থাকাকালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে অসম চুক্তির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন দিলে ভবিষ্যতে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কায় জাগৃক কর্মকর্তারা এতে সম্মত হননি। সূত্রমতে, পদে পদে অনিয়মে ভরপুর প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তৎকালীন জাগৃক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন সেই সময়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তবে এতেও রাজি হননি দেলওয়ার হায়দার। যার ফলে মুখ্য সচিব ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে সচিব পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেন সরকারের মেধাবী আমলা হিসেবে পরিচিত দেলওয়ার হায়দারকে। যেভাবে বাতিল হলো প্রকল্পটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাগৃক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দারের সভাপতিত্বে সংস্থাটির ২১৭তম বোর্ড সভায় দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করা হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়, কনসোর্টিয়াম গঠনে ইকুইটি শেয়ারের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি, লিড মেম্বার হিসেবে সিইউসিকে বিবেচনা করা যায় না। বিডের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কনসোর্টিয়াম চুক্তি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ৫ বছর পর যেভাবে আলোচনা শুরু ২০২৫ সালে ড. মোহাম্মদ এ আমীন নতুন করে প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার নানামুখী উদ্যোগ নেন। চীনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেখানে ড. মোহাম্মদ এ আমীনও উপস্থিত ছিলেন। একটি কমিটি গঠন করার অর্থ এই নয় যে প্রকল্পটি চালু করা হবে। নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। তারা সুপারিশ দেবে। পরে সিদ্ধান্ত আসবে এখানে প্রকল্প করা হবে কি না মোসা. ফেরদৌসী বেগম চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২ আগস্ট জাগৃক থেকে নতুন একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আহ্বায়ক হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমান, চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মেহেদী হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক মারিয়া হক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হিল বাকী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীনকে সদস্য এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনকে সদস্য সচিব করা হয়। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে জানতে জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘একটি কমিটি গঠন করার অর্থ এই নয় যে প্রকল্পটি চালু করা হবে। নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। তারা সুপারিশ দেবে। পরে সিদ্ধান্ত আসবে এখানে প্রকল্প করা হবে কি না।’ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’ পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে, চায়না ইউনাইটেড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মোহাম্মদ এ আমীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানের অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। পরে তিনি বলেন, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন একটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিল, তারা স্লিপার বাস সড়কে চালাতে চায়। আমি আদালতে বলেছি, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮—এর ধারা হলো ৪০-এ। ৪০-এ বলে দেওয়া আছে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন। যদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কেউ ভায়োলেশন করে, তাহলে সেটা ৮০-সেকশন ৮৪ দ্বারা এগুলো অফেন্স। এবং পানিশেবল অফেন্স, এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা। এছাড়া সেকশন ২৮, সড়ক পরিবহন আইন, সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে—রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। ‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে। আর স্লিপার বাস চালানোর তো পারমিশন নাই। হাইকোর্টও পারমিশন দেয়নি,’ বলেন আইনজীবী।
চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লিখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হলে এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপস সম্পাদিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা বিনাশ্রম/সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনারের মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা। নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত এক ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় রায় ঘোষণাকালে আদালতে আবেদনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদী পক্ষে (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) ছিলেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)। রায়ে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পুরোপুরি পরিশোধ করে আপস-মীমাংসা করায় এ মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রপিরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ এ কথা বলা নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার খোকনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় জমির দাম অনেক। এই এলাকারই ১৭ একর ৪৬ শতাংশ জমিতে দেশের অন্যতম কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার/গুদাম (সিএসডি)। সে অনুযায়ী এই গুদাম এলাকায় সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। পাশাপাশি পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। উল্টো এই গুদামের অনেকগুলো কক্ষ দখলে নিয়ে ব্যবসা করছে স্থানীয় লোকজন। আবার এখানে বেশকিছু কক্ষ সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ৩০ আগস্ট সরেজমিনে দেখা গেছে, তেজগাঁও সিএসডির চারপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানস্ট্যান্ড। এছাড়া গুদামের সীমানাপ্রাচীর ঘিরে অর্ধশত দোকান ও খুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘরে চলছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান। কিছু ঘরে শ্রমিকেরা বসবাস করছেন। সিএসডির প্রবেশ পথের এক পাশে বসানো হয়েছে একটি রেস্তোরাঁ। সিএসডির ভেতরে বটতলার পূর্বপাশে এক একরের চেয়েও বেশি জমি খালি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই খালি জমিতে দুটি গুদাম ছিল। সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই জমি একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, এখানের প্রতিটি গুদাম একতলা। কাগজে-কলমে মোট ৫১টি গুদাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৮ ও ১৯ নম্বর—এই ৮টি গুদামের কোনো অস্তিত্বই নেই। বর্তমানে থাকা ৪৩টি গুদামের মধ্যে ২০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর গুদাম সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী। এর বাইরে ৩৮, ৪১, ৪৩, ৪৭, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বরসহ ১১টি গুদাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে খাদ্যশস্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, সিএসডির ভেতরের এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১১২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৯১ টাকার এই জমি ২০২২ সালের ২২ মে ওই মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী এক হাজার এক টাকা মূল্যে বরাদ্দ দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্যবহার না করায় ওই জমি খালি পড়ে আছে। এই অব্যবহৃত জমি খাদ্য অধিদপ্তর ফেরত চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। খাদ্য অধিদপ্তর ওই জমিতে এক হাজার টন ধারণ ক্ষমতার তিনটি গুদাম নির্মাণ করতে চায়। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জমি ফেরত না দেওয়ায় সিএসডির অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণ ও নতুন গুদাম নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৯ সালে তেজগাঁওয়ে এই কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিএসডির ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। এখানে চাল, আটা ও গম মজুত করে রাখা হয়। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে এখানে গম আসে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে চাল। এছাড়া চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের বিভিন্ন মিল থেকে এখানে আটা সরবরাহ করা হয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওএমএস (ওএমএস) কর্মসূচি, টিসিবি এবং বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী সিএসডি থেকে চাল, গম ও আটা সরবরাহ করা হয়। তবে সম্প্রতি তেজগাঁও সিএসডির থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত। সম্প্রতি সিএসডির একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যবস্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা, জরাজীর্ণ গুদাম এবং জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়াতে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে ১২টি নিষ্কাশন পথ দিয়ে সিএসডি এলাকার পানি বের হলেও বর্তমানে প্রায় সব পথ বন্ধ রয়েছে। কেবল বিজি প্রেস কোয়ার্টার এবং হলিডে ইন হোটেলের ড্রেনের ওপর পুরো সিএসডির পানি নিষ্কাশন নির্ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের মুখ ময়লায় বন্ধ হয়ে সিএসডির ভেতরে কোমর পানি জমে যায়। এতে গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। একইসঙ্গে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এতে সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরাও ঝুঁকিতে রয়েছে। জনবল সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত সিএসডি পরিচালনায় অনুমোদিত পদ ১৩৬টি। এর মধ্যে ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ব্যবস্থাপকের একটি পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরীর ৪৮টি পদ থাকলেও কর্মরত আছে ৩১ জন। বাকি ১১ জন অন্য দপ্তরে প্রেষণে আছেন। এছাড়া এখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়ুদারের তীব্র সংকট রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ১৯ জন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে তা কমিয়ে মাত্র চারজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। জানা গেছে, সিএসডিতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ মানুষের সমাগম হয়। এখানে দিনে হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য ওঠানো ও নামানো হয়। কিন্তু এই বিশাল চত্বর মাত্র চারজন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরীদের বড় একটি অংশ অন্য দপ্তরে সংযুক্ত আছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য গুদামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভেতরের রাস্তাগুলো বেহাল সিএসডির ১ নম্বর ব্রিজস্কেল থেকে ৩৬ নম্বর গুদাম পর্যন্ত এবং ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গুদামের সামনের রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খাদ্যশস্যবাহী ট্রাক প্রায়ই বিকল হয়ে যায় এবং ঝাঁকুনিতে বস্তা ফেটে চাল বা গম নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যশস্য আনা ও নেওয়ার জন্য সিএসডির ভেতরে রেললাইন রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে সাইডিং ডুয়েলগেজে (প্রধান লাইনের পাশাপাশি ট্রেন পার্কিং, মালামাল ওঠানো এবং নামানো বা ক্রসিংয়ের জন্য একটি অতিরিক্ত লাইন) রূপান্তরের পর গত ১০ মে ওয়াগন প্রবেশের সময় ৩ নম্বর লোহার গেটের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গেটটি ভেঙে যায়। ফলে সিএসডি চত্বর বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিকদের মানবেতর জীবন সিএসডিতে ৩৫০ জন শ্রমিক আছে। কিন্তু উচ্চমূল্যের বাজারে অনেক কম বেতন পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিটন খাদ্যশস্য লোড করতে শ্রমিকেরা পাচ্ছেন মাত্র ৬০ টাকা ৮০ পয়সা। এই অবস্থায় খাদ্য অধিদপ্তর শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি। মজুরি না বাড়ানোর কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শ্রমিকেরা দায়িত্ব শেষে কারওয়ানবাজার গিয়ে সবজি ও অন্যান্য মালামাল ওঠানামার কাজ করে কোনোমতে সংসার টিকিয়ে রাখছেন। দবিরুল নামে একজন শ্রমিক বলেন, ৩৮ বছর ধরে তিনি সিএসডিতে পণ্য ওঠানো ও নামানোর কাজ করছেন। বর্তমানে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালানো দূরে থাক, নিজের চলতেও কষ্ট হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলে অনেক সুবিধা হতো। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিএসডির ১২টি গুদাম ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। আটটি মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে রাস্তা মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে ড্রেনগুলোও সংস্কার করা হবে। সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খান মুঠোফোনে বলেন, যেসব গুদাম অকেজা হয়ে পড়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। তবে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। এছাড়া ২০২২ সালে যে এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী মূল্যে দেওয়া হয়েছিল, সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সিএসডির অন্যান্য সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান সরকারের মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইয়োহেই সাসাকাওয়ার কাছে এ কথা বলেন। বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্বের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তার ধারণা, মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে। জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমা রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজন ইস্যুতে আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্তের পর লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার গত ২ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এসব প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। শাস্তি মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপকমিশনার মো. শাহাদাত জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বাশার, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া, উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল আলম, কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকবদার, উপকর কমিশনার নো. জিল্লুর রহমান, উপকর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, যুগ্ম কর কমিশনার মামুন মিয়া, অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ চাঁদ সুলতানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মাসুমা খাতুন ও যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান করে ওই বছরের ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ আইনসংগত কারণ ছাড়া অবজ্ঞাপূর্বক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন। এর মাধ্যমে তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং বদলি আদেশ অমান্যকারীকে সমর্থন করেন। প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ চাকরির শৃঙ্খলার জন্য হানিকর, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ৩০৩ বিধির লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিভাগীয় মামলায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও বেতন কয়েক ধাপ এবং কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তা দণ্ডাদেশ মার্জনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের মূল বেতনে অবনমিতকরণ সূচক লঘুদণ্ড বাতিল করে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ওই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কলমবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামোতেই এনবিআরের সব কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তৎকালীন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। দাবি আদায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরদিনও কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংস্থাটির সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এরপর নতুন সরকার গঠনের আগেই একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত আসতে থাকে। এর মধ্যে অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হয় লঘুদণ্ড।
স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা ও ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর তিন হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন উপযোগী হবে। আর বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, আচরণবিধিমালা, নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহসহ যাবতীয় কাজ গুছিয়ে এনেছে ইসি। সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির। তবে মামলা ও সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত জটিলতা থাকা ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন হবে পরে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত তাদের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষাকে বিঘ্নিত না করে আগে-পরে দু’ভাবেই হতে পারে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে পরীক্ষার আগেও হতে পারে। এ মাসের প্রথমার্ধে আমরা আশা রাখি যে, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব কোন ধাপে, কখন নির্বাচন হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদে থেকে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় কমিশন। তিনি আরও বলেন, সবাই তো ভালো নির্বাচন চায়। নির্বাচন কমিশনও ভালো নির্বাচন চায়। সেই অর্থে যদি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসা যায়, তাহলে ভালো রেজাল্ট আসবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা চিন্তা করেছি যে, হয়তো মতবিনিময়—একটা আমাদের করার সম্ভাবনা আছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কিন্তু সিংহভাগ নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরকে যদি নিরপেক্ষ রাখা যায়, তাহলে অনেকাংশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সহজ হয়ে যায়। ইসি জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ও দালালদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছেন। দুদক জানায়, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসাবে দৈনিক আদায় করা ঘুষের অঙ্ক কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকা। ঘুষের শতকরা ৭০ শতাংশ চলে যায় কতিপয় অসাধু সাবরেজিস্ট্রারের পকেটে। এছাড়া টাকার ভাগ বাটোয়া হয়ে দালাল, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশদের মধ্যে। ভুয়া নামজারিসহ প্রয়োজনীয় আরও কিছু জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নে চুক্তি সই করেছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির কান্ট্রি প্রোগ্রামসের ডিরেক্টর জেনারেল আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন। প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। আইএসডিবি এই প্রকল্পে মোট ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন (প্রায় ১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতি
। সাক্ষাৎকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অপরাধ দমনে কঠোর এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আইজিপির এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সংগত ও মানবিক আচরণ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশপ্রধানকে নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানেও পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এসব বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি। জবাবে রাষ্ট্রপতি পুলিশ বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের প্রয়োজনীয় তথ্য এনএলডিসি–এর এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।চুক্তির আওতায় রূপপুরের দুই ইউনিটের আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত সিগন্যাল ও তথ্য জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিড পরিচালনার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তথ্যনুযায়, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এনএলডিসি এর এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম জিই ভারনোভা’র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এনএলডিসি’র এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় যুক্ত করার কার্যক্রম জিই ভারনোভা’র সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট–১–এ ফুয়েল লোডিং–পরবর্তী পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্ধারিত কমিশনিং ও পরবর্তী অপারেশনাল সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে এসসিএডিএ/ইএমএস ইন্টিগ্রেশন কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা প্রয়ো
রাজধানীর সার্কিট হাউস সড়কে উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে ট্রাফিক পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার সার্কিট হাউস রোডে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর গাড়ি সকাল ৯টা ৮ মিনিটে সার্কিট হাউস সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়। সেই গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো–ঘ-১৮-....।’ চালককে বলা হয়, এভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। দুটি মামলা হয়েছে এবং তিন হাজার, তিন হাজার করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ ‘রেঞ্জ রোভার’ ওই গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।’ ঘটনার সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী গাড়িতে ছিলেন বলে জানায় ট্রাফিক পুলিশ। তবে এ বিষয়ে এখনো তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে নিশ্চিত করে ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা নজিরবিহীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টো পথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে আসলেও মামলার ঘটনা এটিই প্রথম।’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করছেন। যানজটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে, সেখানে মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টোপথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’
ব্যবসা করার স্বপ্ন আছে, কিন্তু পুঁজি নেই—এমন তরুণদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু একটি ভালো ও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা হবে ব্যাংক ঋণ, আর বাকি ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে। উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়ন করবে তফসিলি ব্যাংকগুলো। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান, সহকারী শাহরিয়ার সিদ্দিকীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ‘উদ্যোগ’ কোনো প্রচলিত প্রতিযোগিতা নয়। এ কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। পরে তাদের ব্যবসায়িক ধারণা, প্রকৃত অর্থের চাহিদা ও উদ্যোগের সম্ভাব্যতা যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা তাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর ৫০ শতাংশ হবে ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ। ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তর করা হবে। একইসঙ্গে ওই ঋণ হিসাব প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হবে এবং ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে পরবর্তীতে তিনি ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। কারা আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক, যাদের বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা, তারা এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। আবেদন করতে কোনো ধরনের ফি লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন করার সুযোগ থাকবে। প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আটটি জেলা-মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণায় এ কর্মসূচি চালু করা হবে। এসব জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে। ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ শুধু অর্থায়ন দেওয়ার মধ্যেই ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের মাধ্যমে ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, একটি সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে উপজেলা পর্যায়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার এ উদ্যোগ একদিকে নতুন ব্যবসা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদরাসার দুটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে সহকারী মৌলভী (কারি) ও ইবতেদায়ি কারি পদে এসব বোর্ডের সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডগুলো হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। এতে সহকারী মৌলভী (কারি) ও ইবতেদায়ি কারি পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ওই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই দুটি পদে কওমি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।