সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনি অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন। এই ঘটনায় তার গাড়িচালক বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।
দুর্নীতি, প্রতারণা, প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক জোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ মামলার আসামি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ মামলায় তার সঙ্গে রয়েছেন আরো ১৯ জন। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলাটি করেন। আদালত ওই দিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন। সোমবার মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। তবে ওই দিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ অগাস্ট প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন। মামলার এজাহারে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন নামে। তাকে এজাহারের ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের দ্বারা যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক। পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দ চুপ্পুই মামলার আসামি কি না, সে পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। আদালতের কর্মকর্তা, এমনকি আইনজীবীও নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেননি তিনি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি। তবে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ জানিয়েছেন, তিনিই পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই রাষ্ট্রপতি কি না, আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে লিস্ট দিয়েছে তা ধরে মামলা ফাইলিং করা হয়েছে।’ এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জি. আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল করিম। মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করেন, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা। ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে ও একই অভিপ্রসভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মোট ৮১ দশমকি ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যাদের অনেককেই এস. আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের তারিখ উভয় পক্ষের ক্ষেত্রেই একই দিনেই হয়েছে, অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এস. আলম গ্রুপ, তার মালিক/উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের ওপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাদের উপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তসরূপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারী বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাদে অন্য আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত এবং যারা এমন মন্তব্য করছেন, তাদের বিএনপির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিএনপির গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানান। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিআরডিবির রংপুর বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি পাঁচবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, কোনো ধরনের জুলুম বা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় আসেনি। তাই বিএনপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের অপলাপ।” রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটি নেবে। দল যাকে সবচেয়ে যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো মন্তব্য নেই বলেও তিনি জানান। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু পরিকল্পনা করছে। এটি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব বিষয়। এ প্রক্রিয়ায় বিএনপি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। উত্তরাঞ্চলকে কৃষিতে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা জানান তিনি। বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর আগে সকালে রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিআরডিবির বিভাগীয় দপ্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং ঋণের চেক বিতরণ করেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিআরডিবির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সচিব, বিআরডিবির মহাপরিচালক, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিআরডিবির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
এবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে তৃতীয়বারের মতো দেশটিতে যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সফরে তার সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এছাড়া এই সফরে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট চারজনের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৭ তারিখ) রাত ৯টায় তারা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন বলে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমন্বয় সভা ৩০ তারিখ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তা এগিয়ে ২৭ তারিখে এগিয়ে আনা হয়েছে। যদিও এ সফর সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আঠারো বারের মত পিছিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কি হবে সেটা তো আমরা এখানে আলাপ আলোচনা করে সংসদে আমরা সংবিধান সংশোধন করে, পররাষ্ট্রনীতি সংশোধন করে আমরা এখানে করতে পারি। সেটা তো সরকারের একক কোনো দায়িত্ব না। প্রতিবেশীকে তো কখনো পাল্টানো যায় না। কথায় আছে যে আপনি আপনার স্ত্রী পাল্টাতে পারবেন কিন্তু প্রতিবেশী তো আপনি পাল্টাতে পারবেন না।’ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে (৬৮ বিধিতে) আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুতরাং প্রতিবেশীর সঙ্গে কি সম্পর্ক হবে, বাইল্যাটারেল কি সম্পর্ক হবে, ট্রেড অ্যান্ড কমার্সের কি সম্পর্ক হবে, অবশ্যই সেটা হবে অন দ্য বেসিস অব দি মিউচুয়াল ডিগনিটি, রেসপেক্ট অ্যান্ড অন দ্যা বেসিস অফ দি সভারেন ইকুয়ালিটি। সেটা আমরা আগেই ঘোষণা করেছি। আমরা তো আগেই বলেছি, আমাদের নেতা আগেই বলেছেন, ওই অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। আমি নাম নিলাম না। সবার আগে বাংলাদেশ নীতিতেই আমরা আছি এবং এইভাবেই আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি। সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চার-পাঁচ মাসের সরকারে আমরা সমস্ত জায়গায় কঠোর অবস্থানে রয়েছি। একজনকে অবৈধভাবে পুশ ইন হতে দেই নাই, সেটা অন রেকর্ড। আমাদের সার্বভৌমত্বকে আমরা যেন সর্বতোভাবে রক্ষা করতে পারি, সেই চেষ্টা আমরা করেছি। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, আমাদের বর্ডারে বিজিবির জোয়ানরা পাল্টা গুলি করেছে। আমরা বলেছি, এমন কোনো আচরণ আমরা বরদাস্ত করব না যাতে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়। জাতীয় ইস্যুতে কোনো বিভেদ নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে সরকারিদল বিরোধীদল বলতে কোনো কথা নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো। ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যেভাবে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য আমরা গড়ে তুলেছি, ন্যাশনাল ইস্যুতেও তা সব সময় এক থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের যা কিছু তর্ক-বিতর্ক, তা এই হাউজের (সংসদ) মধ্যেই করবো। কিন্তু কোনো জাতীয় ইস্যুতে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই ছাড় দেব না। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা এই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমাদের বলা হয় জুলাই ব্যবসায়ী। হ্যাঁ, আমরা হাদী ব্যবসায়ী, আমরা জুলাই ব্যবসায়ী। তবু আমরা চাঁদাবাজি ব্যবসায়ী না। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর বগুড়া মহানগরীর জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জেলা এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গত ১৭ বছর একেকজন ব্যাবসায়ী ভাই অনেক কস্ট করে ব্যাবসা করেছে। শেখ হাসিনার গুন্ডা বাহিনী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ তাকে ব্যাবসা করতে দেয় নাই। সেও জুলাই আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেছেলো, যে নতুন বাংলাদেশে আমাকে চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখলো শেখ হাসিনার আমলের চেয়েও যে বিএনপির ভাইদের আমরা উদ্ধার করতে গেলাম তারা নতুন করে জুলুম চাপিয়ে দিলো। আগে যদি ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো, এখন ২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এই হলো আমাদের নতুন বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি নিয়ে যখন আমরা রাজপতে দাঁড়িয়েছি, তখন তারা আমাদের বলল, “তোমরা হাদী ব্যাবসায়ী, তোমরা জুলাই ব্যাবসায়ী।” আরে ভাই হ্যাঁ,আমরা হাদী ব্যবসায়ী, আমরা জুলাই ব্যবসায়ী। আমরা চাঁদাবাজি ব্যাবসায়ী না, আমরা গুন্ডাতন্ত্র কায়েম করি না, আমরা সন্ত্রাস কায়েম করি না।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং আন্দোলনের দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে একপাশে সরিয়ে রেখে বর্তমান সরকারের উদাসীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তৎকালীন গণহত্যার বিচার সংশ্লিষ্ট বিশেষ সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলন কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের স্বৈরশাসনবিরোধী লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত ফসল। এই দীর্ঘ সময়ে যারা গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন কিংবা বুকের ভেতর ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বুলেটের স্প্লিন্টার নিয়ে পঙ্গু হয়ে আজীবন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, তাদেরকে ভুলে যাওয়া নিজেদের আত্মার সঙ্গে চরম ও নিকৃষ্টতম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। মুখে মুখে জুলাইয়ের গল্প ফেঁদে বাস্তবে যারা ক্ষমতার ফসল ঘরে তুলেছেন, তারা আজ পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে বাধ্য করছেন। সংসদে ড. শফিকুর রহমান সময়ের বণ্টন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি দল ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের ইতিহাসের চরম বিকৃতির জবাব দেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের কোনো কোনো দায়িত্বশীল সদস্য ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোটের ইতিহাস না জেনে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞের মতো অসত্য তথ্য উপস্থাপন করছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সাবেক ও বর্তমান সরকারের ভূমিকার একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সদ্য সাবেক সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের এত বড় বড় কথা বলার পরও আজ অসংখ্য আহত ও পঙ্গু মানুষ চিকিৎসার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বর্তমান সরকারকে দোষারোপের নোংরা ও সস্তা রাজনীতি পরিহার করে অতি দ্রুত এসব আহত ও বীর যোদ্ধাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার জোরালো দাবি জানান। প্রয়োজনে এই বীর সন্তানদের পুনর্বাসনের জন্য দেশের সব সংসদ সদস্যের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কর্তন করার সাহসী প্রস্তাব দিয়ে তিনি নিজের সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা প্রথম বাতিল করার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করে জুলাই জাদুঘর এখনো বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরের কাজ শেষ হয়নি, এই ঠুনকো অজুহাতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় স্মারক কেন মাসের পর মাস বন্ধ রাখা হয়েছে তা জনগণের কাছে অস্পষ্ট। সংস্কার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি চলতে চলতেই মানুষের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করা যেত। তাই কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে জুলাই জাদুঘরটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি তাগিদ দেন। একই সঙ্গে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মতো সংবেদনশীল ও অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিগত পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও গতিশীল ও প্রাণবন্ত করার দাবি জানান। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও গণহত্যাকারীদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের আপোষকামী বা নমনীয় সুরের কড়া সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে কোনো ধরনের টালবাহানা, ধীরগতি বা গড়িমসি এ দেশের কোটি জনতা কখনোই বরদাশত করবে না। যদি ক্ষমতার কোনো অপশক্তির কারণে এই ঐতিহাসিক বিচারে কোনো অবহেলা বা গড়িমসি করা হয়, তবে হাশরের ময়দানে তিনি নিজে এই গাফেলদের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান বাদী হিসেবে দাঁড়াবেন। তবে বিচারের নামে যেন নির্দোষ কোনো মানুষের ওপর অন্যায় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অবিচার করা না হয়, সেদিকেও তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দেন। একই সঙ্গে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও রক্তপিপাসু সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারের মেরুদণ্ডহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে সমস্ত ফ্যাসিস্ট মিডিয়া তৎকালীন স্বৈরাচারকে আরও বেশি উগ্র ও রক্তপিপাসু হতে ইন্ধন জুগিয়েছিল, তারা আজ আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য ময়দানে নেমে চরম রাষ্ট্রদ্রোহী কথাবার্তা বলছে। কোন অদৃশ্য শক্তির আশকারা ও খুঁটির জোরে এই রাষ্ট্রদ্রোহীরা এত সাহস পাচ্ছে এবং সরকারের আসল দুর্বলতাটা ঠিক কোথায়, তা অবিলম্বে ১৮ কোটি মানুষের সামনে পরিষ্কার করার জন্য তিনি দাবি জানান। দেশের সীমান্তে চলমান অস্থিরতা ও প্রতিবেশী দেশের উস্কানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নতজানু ও রহস্যজনক নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে কোনো কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়নি। এ সময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এই দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির সার্বভৌমত্ব ও প্রতিটি বালুকণার পাহারাদারি দেশের ১৮ কোটি জনগণ এক হয়ে বুক দিয়ে করবে। বক্তব্যের শেষ অংশে ঐতিহাসিক ১৪ জুলাইকে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকার ও বিরোধী দলের সব দায়িত্বশীল নেতাদের কথা বলার ক্ষেত্রে আরও বেশি সংযত ও কেয়ারফুল হওয়ার অনুরোধ করেন। অতি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুঃখ প্রকাশ করাকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে যাতে সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখ থেকে আন্দোলনের চেতনা ক্ষুণ্নকারী কোনো অসতর্ক মন্তব্য না আসে, সে ব্যাপারে সতর্ক করেন। সবশেষে একটি নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে ও অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অতীতে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের রায়কে পাস কাটিয়ে কেন বারবার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের রায়কে সম্মান না জানালে এ দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান অচিরেই ধ্বংসের মুখোমুখি হবে এবং এর পুরো দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে শুরু থেকেই সরকার রয়েছে এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলায় অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ পাহাড় কাটা ও দখলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলেও জানান তিনি।
দেশের মানুষ যখন বন্যায় মারা যাচ্ছে, গৃহপালিত পশু ডুবে যাচ্ছে, তখন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গেছেন বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘বন্যায় গরু ডুবে যাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে না গিয়ে গেলেন বরিশালে। এর আগের দিন উনি ঢাকা মেডিকেলে গেলেন, প্রিয় জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তুললেন।’ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বিয়ের আগে শুনেছি মানুষ প্রেম করে, প্রধানমন্ত্রীর আলহামদুলিল্লাহ বিয়ের পরে যে সুন্দর প্রেম, বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রেম দেখতে পাচ্ছে। আপনাকে আমরা ভোট দিয়েছি, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য, বিচার করার জন্য, আওয়ামী লীগের গুন্ডা-সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করার জন্য, বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার জন্য—আপনাকে লাল বাসে ঘুরে ঘুরে প্রেম করার জন্য মানুষ প্রধানমন্ত্রী বানায় নাই।’ আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী ডাকবাংলো মোড়ে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনাদের সন্তানেরা যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছে, তারা সাঁতার কেটে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এহছানুল হক মিলন, আমার এলাকার ভাই, উনি খুব সজ্জন ব্যক্তি, খুব সুন্দর ভাব দেখান। বাংলাদেশের মন্ত্রীরা এমন একটা ভং ধরে থাকে যে, সে সবচেয়ে ভালো লোক। আপনার সন্তান সাঁতার কেটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে যে মা আছে, বাবা আছে—হাঁটু পরিমাণ রাস্তার পানির মধ্যে গর্তে পড়ছে। আপনার চোখে লজ্জা-শরম নাই?’ প্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিরপ্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার যদি এইচএসসি পরীক্ষা এক দিন স্থগিত করত বা পরে নিত, তাহলে কী কোনো সমস্যা হতো। যিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, উনি এসি রুমে বসে না থেকে যদি গিয়ে বলত যে—‘‘আমি তোমাদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি বা এই পরিস্থিতি করে দিচ্ছি, যেখানে পানি সেখানে সেন্টার না করে অন্য জায়গায় সেন্টার দিয়ে দিচ্ছি’’, তাহলে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারত।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা একটা ভবনের নাম শুনেছেন—হাওয়া ভবন। এই হাওয়া ভবনের যারা, তারা এখন বাংলাদেশে আইসা ক্ষমতায় বসেছে। এদের হাতে বাংলাদেশ, আমরা নিরাপদ মনে করি না। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাব্যবস্থা যদি ঠিক করতে হয়, তাহলে এদের থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে হবে।’ জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে কাতারের বর্তমান আমির, রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দোহা যাচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ তথ্য জানান। এদিকে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। প্রসঙ্গত, রোববার (১২ জুলাই) কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে পাঠানো শোকবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাতারের আমির, রাজপরিবার, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
চট্টগ্রাম নগরে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে দিনদুপুরে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করুন। তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। জানি না, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না। লক্ষণ খুব ভালো নয়। জনগণকেই এখন নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ সরকার কোনো কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারছে না। একের পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেই চলছে। এদের খুঁটির জোর কোথায়? সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতর সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন। এক পর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় তাকে। পরে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন— ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’ এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন। ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন। ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন। ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে। ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও প্রচারণায় পবিত্র কোরআনের আয়াত বা ধর্মীয় বার্তার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তাদের যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনসমক্ষে এ ধরনের পোস্টের পেছনে রাজনৈতিক এবং আদর্শগত কয়েকটি দিক জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ যেভাবে দেখে থাকেন, তা হলো—দলটির মূল রাজনৈতিক দর্শনই হলো সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। ফলে, তাদের প্রচারণায় কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি থাকাটা তাদের দলীয় পরিচিতিরই একটি স্বাভাবিক অংশ। এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দলটি সমাজে নিজেদের একটি নৈতিকভাবে অবক্ষয়মুক্ত, সৎ ও সুশৃঙ্খল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তাদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরিতে সাহায্য করে। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করা এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ধর্মীয় বাণী একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে যখন নৈতিক বা ধর্মীয় পোস্ট দেওয়া হয়, তখন তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দলের প্রতি এক ধরনের সফট কর্নার তৈরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়তে। এখান থেকে বের হওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু সভ্য দেশ হয়েও যেভাবে যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা হচ্ছে, তা কাম্য নয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পরিবেশ দিবসে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ সময় নির্বাচনের আগেই দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোন পরিবেশে কেমন গাছ লাগাতে হবে– এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠান। বৃক্ষরোপনে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সাত শ্রেণিতে মোট ২১ জন। উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্বের ১৭৩টি বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী।
চলতি বছরে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খাতে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করে ফের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অলস পড়ে থাকার ফলে এখন দায়ে পরিণত হয়েছে, এগুলোকে আবার সম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি, প্রাইভেট সেক্টরকে নতুন বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সরকারের প্রয়োজনীয়তা সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে পোশাক রফতানি গতি পায়নি। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের জন্য বৈশ্বিক ব্যবসার মন্দা ভাবও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী চলমান সমস্যা কেটে গেলে পোশাকের রফতানি বাড়বে। বৃহস্পতিবার সকালে টিকে গ্রুপের সাথে চুক্তি সম্পাদন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলসের ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি লিজ প্রদান করা হয় টিকে গ্রুপকে৷ এতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ৷ এতে কাজের সুযোগ পাবে ৩ হাজার কর্মী। এর আগে, একই জায়গায় ৭৭ একর জায়গা লিজ দেয়া হয় জুট এল্যায়েন্সকে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নড়িয়া থানায় একটি জিডি করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা। জিডি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন দুপুর প্রায় ২টার দিকে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে এসে উপজেলা প্রকৌশলীর অবস্থান জানতে চান। প্রকৌশলী রাস্তার কাজ পরিদর্শনে রয়েছেন বলে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার চেপে ধরে চড় মারেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারতে এসেছেন বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মতিউর রহমান সাগর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা বা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি আবারও অফিসে এসে মারধর করবেন এবং ক্ষতি করবেন। এ ঘটনার পর থেকে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর কেন জিডি করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আগেই ঘটেছিল, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে আমার কিংবা আমাদের অফিসের অন্য কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমি জিডি করেছি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম অনলাইনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারি থেকে জাতীয় মৎস্য দিবস উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কটিয়াদীর আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারিতে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয়ভাবে দিবসটির উদ্বোধন করবেন এবং মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সচিবালয়ে যাওয়ার পথে বেইলী রোডে দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানানো নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। উপহার পেয়ে তিনি বলেন, কল্পনাও করেননি তার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে প্রধানমন্ত্রী মনে করবেন। আর্থিক টানাপোড়েনের বিষয়টি উল্লেখ করে তার ড্রাইভার ছেলের জন্য একটি চাকরির আবেদন জানান আব্দুস সালাম। মুখের জড়তা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন বেইলী রোডে অবস্থিত যমুনা ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তকর্মী আব্দুস সালাম। কারণ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। আব্দুস সালামের গ্রামের বাড়ি পাবনার বেড়া থানায়। ২৫ বছর ধরে গাড়ি চালাতেন তিনি। স্ট্রোক করার পর তিন বছর ঘরবন্দি ছিলেন। অভাবের সংসারের চাকা সচল রাখতেই ৮ মাস আগে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন তিনি। সচিবালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে নিয়ে প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট জানান আব্দুস সালাম। প্রধানমন্ত্রীও তার স্যালুট গ্রহণ করেন। একজন নিরাপত্তাকর্মীর এই আবেগকে মূল্যয়ন করতে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আব্দুস সালামকে উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদও সেখানে ছিলেন। ১৭ বছর ধরে ধানের শীষকে বুকে ধারণ করেন জানিয়ে আব্দুস সালাম জানান, দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সময় দিতে হবে। তাহলেই দেশ সামনের দিকে আগাবে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, কেউ অপরাধ করলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ অস্বীকার করত, কিন্তু আমাদের দলের মধ্যে এই কালচারে নেই। অতীতেও ছিল না, এখনো পুরোপুরিভাবেই এটা আমরা পরিহার করে চলি। তিনি বলেন, আমাদের দলের কোনো নেতা বা কর্মী বিপথগামী হতে পারে। যুবদল একটি বড় সংগঠন। তাকে আমরা শাস্তির আওতায় আনবো, আমরা বহিষ্কার করব এবং তার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বহিষ্কারের পরেও যদি কোনো অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয়। বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তদন্ত করা উচিত। আমরা মনে করি যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আইনের আওতায় নেবে এবং তার পেছনে কারা মদত দিচ্ছে সেটাও সরকারের বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স আছে তারা এটা বের করবে এবং তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যিনি বাংলাদেশে নজির স্থাপন করতে চান। তিনি চান বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তিনি ১৪টা গাড়ির বহর বাদ দিয়ে ৪টা গাড়ি নিয়ে চলেন। তিনি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে সিগন্যাল মানেন এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করেন। তিনি অসাধারণ হয়েও কত সাধারণ জীবন যাপন করেন এবং আমাদের দেশের এই ২০ কোটি মানুষকে মূলত এটা লেসন দেওয়ার জন্য যে, আমাদের প্রত্যেকেরই এরকম হওয়া উচিত। তিনি আমাদের প্রত্যেককে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে মানবিক বাংলাদেশে তৈরি করতে চাই, যেই বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের কাছে যারা বিএনপি করবে তারা যেমন নিরাপদ থাকবে, যারা বিএনপি করবে না তারাও বিএনপি সরকারের কাছে নিরাপদ থাকবে। তাহলে আমাদেরকে এরকমের হতে হবে। আমরা একে অপরকে ভাই-বন্ধু মনে করি, আপনাদের সহযোগিতা চাই এবং গঠনমূলক সমালোচনা আমরা যেকোনো সময় গ্রহণ করব। সাংবাদিকদের উদ্দেশে যুবদল সভাপতি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা আমাদেরকে করেন। আমি নিজেও যদি কোনো অন্যায় করি প্রমাণ সাপেক্ষে আপনারা আমার অন্যায়কে তুলে ধরবেন। কিন্তু আমি যাতে কোনো অন্যায়ের শিকার না হই। সেটাও আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে লেখার মাধ্যমে। আপনি লিখলেন, সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ জানল। সেখানে যেন অপপ্রচারের শিকার না হই। তিনি বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক আমাদেরকে সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে থাকতে শিখিয়েছেন। আমার এবং সাধারণ সম্পাদকসহ আমাদের শীর্ষ নেতা এবং আমাদের যারা কেন্দ্রীয় নেতারা আছে তাদের প্রতি আমাদের একটি বার্তা। আমাদের কোনোরকমের লাইনচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই (বুধবার) দিন রাখেন। দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে কোনো ডিজি বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞাপনে চাওয়া এনটিআরসিএ সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পায় দুদক। এ ঘটনায় রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন