রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫ কেন্দ্রের ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে থাকবে এসআরবি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫ কেন্দ্রের ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে থাকবে এসআরবি

  ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ৭০টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছয়টি মোবাইল টহল দল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দলের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর-১৩ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর থেকে এসআরবি-১৩ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দুই দিন, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের আগে, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ছয়টি মোবাইল টহল দল ও দুটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টহল দল মাঠে থাকবে। পাশাপাশি নাশকতা বা বিস্ফোরকসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দলের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দিচ্ছে এসআরবি-১৩। নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও নির্বাচনী নিরাপত্তার সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ে চালু করা হয়েছে অপারেশনস কন্ট্রোল রুম। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হবে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাহিনীটির। সংবাদ সম্মেলনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাংবাদিকদেরও তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি-১৩। তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে সংশ্লিষ্ট দলগুলো। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এরপর আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবারের ভোটের মধ্য দিয়ে এ আসনের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

  ২০২৬ সালের ৭ থেকে ১৫ জুন যুক্তরাজ্যের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে একটি তথ্য অনুসন্ধান মিশন পরিচালনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং একই বছরের আগস্টের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই মিশনের উদ্দেশ্য। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ইউকে হোম অফিস) কর্তৃক ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) সঙ্গে সাক্ষাৎকার উল্লেখ করা হয়েছে। সিপিআইটির তিনজন কর্মকর্তা এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের দুজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যেটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে ৮ জুন নেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- প্রথমে আমাকে অতীতের কথা বলতে হবে। আমি গুমের শিকার হয়েছিলাম এবং আট বছর আয়নাঘরে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক ছিলাম। বিষয়টি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমার বর্তমান কাজের পেছনে এই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর আমি মুক্তি পাই। আমার স্ত্রী ও মা ছাড়া আর কেউ ভাবেননি যে আমাকে আবার দেখা যাবে। তারা অবশ্য আশা ছাড়েননি। এই অভিজ্ঞতার কারণে আমি জানি, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারী হিসেবে এমন একটি সরকারের অধীনে থাকা কেমন, যার ক্ষমতার ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমার চেম্বারের প্রধান ব্যারিস্টার এ রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রায় রোমান সম্রাটের মতো ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা চাই। বর্তমান আইনি কাঠামো অল্প কয়েকজনের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে। এ অবস্থা বদলাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। আমরা চাই, এ কাজ সম্পন্ন হোক। আমি ঢাকা পূর্বাঞ্চলের মিরপুরের সংসদ সদস্য। এটি শহরের সবচেয়ে দরিদ্র ও অবহেলিত এলাকাগুলোর একটি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। অনেকে মনে করেন, মিরপুরে শুধু অভিজাত ও ধনী মানুষের বসবাস। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে অনেক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান দেশের অনেক গ্রামীণ এলাকার চেয়েও খারাপ। মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন, কারণ আমি প্রকৃত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা বলেছি। বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়। সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি আমি বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। এ দায়িত্বে আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। দলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব আমার ওপর রয়েছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সংবিধান ও দণ্ডবিধির বর্তমান কাঠামো নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। তা বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি বদলাবে না। বর্তমানে বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসন নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। সহজভাবে বললে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে কাজ করছে না।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
ফের পেছাল হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি
ফের পেছাল হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি

  রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন আদালত।  ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।  প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে সময় চায় আসামিপক্ষ। পরে এ নিয়ে শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। প্রথমে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ এর অধীনে ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থলসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি। তবে আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালে এটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ হস্তান্তর করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। 'অপারেশন স্টর্ম-২৬' নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
মনোনয়নপত্র বৈধ, এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান
মনোনয়নপত্র বৈধ, এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান

  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এলিজা জামান একক প্রার্থী হওয়ায় তার নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে নির্বাচন কমিশন। গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। ওই শূন্য আসনে বিএনপি এলিজা জামানকে প্রার্থী করে। গত সোমবার তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এলিজা জামান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। নির্বাচনে দল বা জোটের পাওয়া আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না
শহীদদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেব না

.. ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমরা মাঠে তামাশা করতে বা খেলতে নামিনি। আমরা যে দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি—সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবি, হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেব না ইনশাআল্লাহ।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ঐক্য শুধু ১১ দলের নয়, এটি জনগণের ঐক্য। বাংলাদেশের রূপরেখা ও গতিপথ নির্ধারণ করা, আধিপত্যবাদকে মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার যে লড়াই—তাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে।’ এর আগে সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া’ লংমার্চের প্রস্তুতিমূলক আলোচনার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার ওপর দিয়ে লংমার্চ অতিক্রমকালে কোনো হামলার আশঙ্কা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা সেই আশঙ্কা করি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সজাগ থাকে, তবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা আমাদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই পালন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মাঠে রয়েছেন। আমরা আশা করি গোপালগঞ্জে বিপুলসংখ্যক ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক জনগণ রাজপথে থাকবেন। যেকোনো দুর্ভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে ইনশাআল্লাহ। গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে আমরা বলেছি—তারা যেন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে; কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সম্পূর্ণ সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।’ মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূর্বে চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত তৃতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির (তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার) মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নির্লজ্জ দলীয়করণ বন্ধ, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো দাবি তোলা হবে। মামুনুল হক আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি, পূর্বের দুটি লংমার্চের মতোই ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং কোনো পক্ষ থেকে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হবে না বলে আশা করি। কোনো অপতৎপরতা দৃষ্টিগোচর হলে তা প্রতিহত করেই লংমার্চ সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ।’ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত এই লংমার্চে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সংবাদ মাধ্যমসহ সবার ইতিবাচক ভূমিকা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।  চলমান জাতীয় সংকট প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই সহনশীল কর্মসূচি দিয়ে আসছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের এই সহযোগিতা গ্রহণে ইচ্ছুক নয় এবং তাদের সেই মানসিকতাও নেই। তাই স্পষ্ট বার্তা—জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব। সরকারকে আহ্বান জানাব—জনগণের যে আমানত নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন, তাদের মনোভাব অনুধাবন করুন; অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে—এমন আস্থা আমরা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তা উদ্বেগজনক। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আশঙ্কাজনক। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক। ব্যত্যয় ঘটলে আমরা চুপ করে থাকব না, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হব।’ সাম্প্রতিক আইজিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক ও উদ্বেগের বিষয়। দেশের আইনি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদ থেকে কীভাবে বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো বক্তব্য দেওয়া হতে পারে? এতে আমরা স্তম্ভিত ও শঙ্কিত।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন ও সফরসঙ্গীদের তালিকা দেখে দেশের মানুষ হতবাক। এমন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন, যাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব বা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল নেই। রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদন ও ঘোরাঘুরির সফরে পরিণত করা হচ্ছে। দেশ কোথায় যাচ্ছে এবং কারা দেশ চালাচ্ছে—তা নিয়ে জাতির মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঘনাচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধী দলের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আসন্ন সংসদ অধিবেশনের প্রাক্কালে বিরোধী দল আবার বৈঠকে বসবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।’ ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাঁরা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তারা বোধহয় সঙ্গে ছিলেন; তাই তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের
লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২৮ অক্টোবর ঘিরে দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে সংঘটিত লগি-বৈঠার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।  বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে সংঘটিত লগি-বৈঠার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তার দাবি, সেদিনের হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা এবং নাগরিক অধিকার হরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিক ওই ঘটনার দুই দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। অথচ এখনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারের দাবিতে কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জামায়াতের আমির প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।  এ ছাড়া ২৮ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হবে। ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের সব শাখার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ।

News অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম
মেয়র পদে আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিইনি, সমর্থন জানিয়েছি: মীর শাহে আলম

  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আব্দুস সালামের নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আব্দুস সালামকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করিনি। আগামী নির্বাচনে আব্দুস সালাম মেয়র পদে এবং টিপু কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে তাদের সমর্থন দিতে স্থানীয় লোকজনকে অনুরোধ করেছি। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। শাহে আলম বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি নিবাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানে কান্দুলী ও তেলাগু সম্প্রদায়ের ৬৪০টি পরিবারের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের পুরো অংশ প্রচার করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ক্যান্ডিডেট হব, এটা বলিনি। আমি বলেছি, আগামী নির্বাচনে যদি সালাম সাহেব এবং ওখানকার স্থানীয় কাউন্সিলর টিপু অংশগ্রহণ করেন, তাহলে আমরা তাদের সমর্থন দেব। মীর শাহে আলম বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়নের সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে দল প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারে। মেয়র পদে কাকে সমর্থন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটি নেবে। তিনি আরও বলেন, আমি কাউকে মনোনয়ন দিইনি এবং দল-সমর্থিত প্রার্থী বলেও ঘোষণা করিনি। আমি বলেছি, আগামী নির্বাচনে সালাম সাহেব ও টিপু সাহেব মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে আপনারা তাদের সমর্থন করবেন। আমি এইটুকুই বলেছি।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’
‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’

  চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান মেনে করা হয়নি বরং সংবিধান খেলাপ করেই হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে হয়েছে। ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণা মেনে এই সরকার গঠিত হয়নি। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক বুদ্ধিজীবী হয়েছেন—যাদের আমরা আগে চিনতাম না—তারা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথমত, তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হরফে হরফে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা বলেন, গণভোটের ভাষা অনেক কঠিন, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না। এই দুটি যুক্তির মধ্যেই একটি জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা আমাদের জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান খেলাপ করেই করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার পুরোপুরি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।’ ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দিন শেষে বিপ্লবের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়—যা আবার বিএনপি মেনে নিতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘কেবল নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু ন্যায্য, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে। বিএনপি এই যে প্রতারণা করছে, শেষ পর্যন্ত তা তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’  

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার
ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: গোলাম পরওয়ার

  ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’ বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’ জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা
ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে রয়েছেন যারা

  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ঘোষিত এ কমিটিতে সভানেত্রী মনোনীত হয়েছেন নূরুস সাবিহা এবং সম্পাদিকার দায়িত্ব পেয়েছেন আলেমা মাফরুহা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মারকাজ ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটি ঘোষণা ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সভ্যতা নির্মাণে নারীর ভূমিকাই প্রধান। মানব শিশুর মানসিক বিকাশ ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের মূল ভিত্তি নারী। তাই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ইসলামের সুমহান শিক্ষার আলোকে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করতে হবে এবং সমাজে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ‘বর্তমানে তথাকথিত পশ্চিমা ভাবধারার আলোকে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণের অপচেষ্টা চলছে, যা নারীকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে নারীর প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নবগঠিত মহিলা ইউনিটকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে ঘোষিত ২০২৭-২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা: • সভানেত্রী: নূরুস সাবিহা • সহ-সভানেত্রী: জাকেরা রহমান, ফাতিমা আক্তার ও সাইয়েদা মাকসুদা আক্তার • সম্পাদিকা: আলেমা মাফরুহা • সহ-সম্পাদিকা: হাফেজা বুশরা • সাংগঠনিক সম্পাদিকা: রেক্সোনা জাহান জুবাইদা • সহ-সাংগঠনিক সম্পাদিকা: সাওদা মাসরুবা • ছাত্রী সংগঠন পরিচালিকা: মারিয়া কামাল (কেন্দ্রীয়), আফরোজা জান্নাত (বিশ্ববিদ্যালয়), আলেমা রাফিয়া আহমাদ (কওমি মাদরাসা), সায়মা জান্নাত (আলিয়া মাদরাসা), হাফিজা খাতুন (কলেজ) ও ফারজানা নাদিরা (স্কুল) • বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদসমূহ: o ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদিকা: মরিয়ম আক্তার রূপা o প্রশিক্ষণ সম্পাদিকা: হালিমাতুস সাদীয়া (সহ-প্রশিক্ষণ: পাপিয়া খাতুন) o দপ্তর সম্পাদিকা: নেবিন্নাহার (সহ-দপ্তর: মাহমুদা আক্তার) o অর্থ সম্পাদিকা: খাদিজাতুল কুবরা (সহ-অর্থ: হালিমা সাদীয়া রুবা) o প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদিকা: মোসাম্মাৎ তাহেরা বেগম (সহ-প্রচার: ইসরাত জাহান মারিয়াম) o নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদিকা: সৈয়দা নায়লা কারীম (সহ-নির্বাচন: খাদিজা আহমাদ) o যোগাযোগ সম্পাদিকা: মোর্শেদা বেগম (সহ-যোগাযোগ: আলেমা ফাওজিয়া মাসরুবা) • নির্বাহী সদস্য: আকলিমা খাতুন, সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, কোহিনুর বেগম, মোসা. মাকসুদা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মোসা. মাহমুদা আক্তার, আনোয়ারা বেগম, আমেনা খাতুন ও বুশরা জান্নাত।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ
অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না। শনিবার বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সহজে সরকারি সেবা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের অংশ। এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, সততা ও আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী
নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধী দলের রাজপথে নতুন নাটক: রিজভী

  নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের নামে নতুন নাটক করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশ যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন গঠনমূলক ভূমিকা না রেখে বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশজুড়ে পরিকল্পিত নৈরাজ্য ও চক্রান্তের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়, বিরোধী দলগুলোর কেবল ‘নাই নাই’ জিকির। দেশের উন্নয়ন কিংবা জনগণের কল্যাণে তাদের কোনো নজর নেই। নিজেদের দলীয় দ্বন্দ্ব আড়াল করতেই তারা রাজপথে নামার নতুন নতুন বাহানা খুঁজছে এবং নানা কর্মসূচির নামে নাটক সাজাচ্ছে।’ স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্যায় ও অপশাসন চালিয়ে কোনো শাসকই শেষ রক্ষা করতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ রাজপথে জেগে উঠলে অপরাধী শাসকদের পালিয়ে যেতে হয়। এ দেশেও জোর করে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী শক্তিকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসব যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে দলের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। বেইমানি ও হত্যার রাজত্ব এ দেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। আইন ও আদালতের মাধ্যমে সব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রকৌশলী মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন মিশু, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহানারা সিদ্দীকা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রকিবুল ইসলাম, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কাজী সাখাওয়াত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তাওহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র

  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে দেশের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০ অক্টোববর চট্টগ্রাম শহরে পূজার উৎসবে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নগরে সাজ সাজ রব বইছে। তাকে বরণ করে নিতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধর সম্ভাষণ জানাব। প্রধানমন্ত্রীর আগমননকে ঘিরে সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় চসিক মেয়র বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের এসে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি জেএম সেন হলের পূজামন্ডপে আসবেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চট্টগ্রামকে একটি সাম্যের শহর, সৌহার্দ্যের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারই বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন। এ সময় পূজামন্ডপটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ আজ আনন্দে আত্মহারা। শারদীয় দুর্গা উৎসবে এবার নবমীর দিনে তাদের সঙ্গে সামিল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষও তাকে একনজর দেখতে মুখিয়ে আছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজামন্ডপে এসে চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল প্রমুখ। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছে। পূজামন্ডপটির নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিভিন্ন প্রবেশ পথে নজরদারি বাড়ানোতে কাজ করছে তারা। একইসাথে বিএনপি বিভাগীয় ও মহানগর নেতারাও কয়েক দফায় পূজামন্ডটটি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন।  শনিবার সকালে এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এসআরবি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই উৎসব যেন আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন থাকে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই চট্টগ্রামের সকল পূজামন্ডপে ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা উপভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব শেষ হবে। পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখলে আমরা যেকোন ধরনের অপশক্তিকে প্রতিহত করতে পারব। তিনি জানান, পূজা চলাকালিন সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল, টহল দল নিয়োজিত থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যান্ত জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়
‘পেনশন নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরতে পারবেন না’-ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

  হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আতাউস সামাদ বাবুর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। স্ট্যাটাসে আতাউস সামাদ বাবু লেখেন, দেলোয়ার সাহেবদের নাম-ঠিকানা আমরা রাখছি, কারণ তারাও পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।” একই সঙ্গে রাজনীতি করতে গিয়ে কয়েকবার জেল মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে আতাউস সামাদ বাবুর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “ফেসবুকে এভাবে বাবু সাহেব আমার নামে যে ভিত্তিহীন কথা লিখেছেন, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমি মাদকের একটি তদন্তে তার গ্রামের পাশে গিয়েছিলাম। সেটাকে কেন্দ্র করে তিনি ফেসবুকে যে লেখালেখি করেছেন, তা নিতান্তই বোকামি। স্বীয় দায়িত্ব ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। জানা যায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন মাধবপুর থানাধীন কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়ারেন্ট তামিলে ভালো কাজের জন্য তিনি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে, আতাউস সামাদ বাবু মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন
খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি: রাশেদ খাঁন

  গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ভণ্ড ডাক্তার খালিদুজ্জামান শেখ হাসিনার বিপক্ষে ফেসবুকে কখনো কোনো পোস্ট দেন নি। গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ভণ্ড ডাক্তার খালিদুজ্জামান শেখ হাসিনার বিপক্ষে ফেসবুকে কখনো কোনো পোস্ট দেন নি। কিন্তু এই ভণ্ড ডাক্তার প্রায়ই দেখি নেতিবাচকভাবে আমাদের লড়াই- সংগ্রাম প্রশ্নবিদ্ধ করে পোস্ট করে। যার মানুষের কাছে পরিচয় দিতে হয় জনাব তারেক রহমানের আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, সে আবার অন্যদের ত্যাগকে ছোট করে কোন লজ্জায়? তিনি আরও বলেন, এই পরিচয়হীন নির্লজ্জ নব্য রাজকার, কাপুরষ, গুপ্ত খালিদুজ্জামান ফেসবুক পেজ খুলেছে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্টে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে এসব ভণ্ড খালিদুজ্জামানরা নব্য বিপ্লবী হয়েছে। আবার কখনো শেখ হাসিনা ফিরলে এরা গোঁফদাড়ি ছেঁটে ফেলে হয়তো নতুন রুপে আবির্ভূত হবে অথবা পাকিস্তানে পালাবে। সুযোগ সন্ধানী পাকি ভণ্ডরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, বিগত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার সন্তান হিসেবে এরা লীগ হয়ে বেঁচে ছিলো। এখন এরা জামায়াত-শিবির রুপে ফিরে এসেছে। এদেরকে দেশ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করা উচিত। গণঅভ্যুত্থানের পরে এরা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা হিসেবে দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে। একজন প্রকৃত ডাক্তারের ভাষা ও আচরণ ভণ্ড খালিদুজ্জামানের মতো হতে পারে না। এই খালিদুজ্জামান টোটালি একটা বিকৃতমস্তিষ্কের মানুষ।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী একটি উদার রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছেন: প্রেস সচিব শিবলী
প্রধানমন্ত্রী একটি উদার রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছেন: প্রেস সচিব শিবলী

  প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ শিবলী বলেছেন, উদারনৈতিক মনোভাব নিয়ে মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম ও মতের কারণে দেশে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না—এমন একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নতুন সদস্য বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ছালেহ শিবলী বলেন, আগামী দিনগুলোতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবেন। এতে প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি একজন নাগরিক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকারেও বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনো থামেনি, বরং বিস্তৃত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে নিয়ে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে নিয়ে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা থেকে ঘৃণা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনা দেখা গেছে। গত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্যের শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন ছালেহ শিবলী। সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করলে সেটিকে তিনি অন্যায়, অপরাধ বা অস্বাভাবিক কিছু মনে করেন না। কারণ, একজন সাংবাদিক সারাক্ষণ লেখাপড়া করেন, দেশ-বিদেশের খবর রাখেন এবং চারপাশের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে বিভিন্ন বিষয়, আদর্শ ও রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে তার মতামত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। ছালেহ শিবলী বলেন, কোনো বিষয়ে নিজের জানা, শোনা বা বোঝা কিংবা ব্যক্তিগত পক্ষপাত যদি সত্য তুলে ধরতে বাধা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস তার নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি বললেন : এমপি আব্দুস সাত্তার
সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি বললেন : এমপি আব্দুস সাত্তার

  মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি):  ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং শুক্রবার,  ঠাকুরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পশ্চিম ছাতনাই- ইউনিয়নের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি আব্দুস সাত্তার বিএনপি সরকারের ঘুস বানিজ্য, বিভিন্ন চাকুরীতে দলীয় করন, চাদাবাজি, সারের ডিলারসীপে বিএনপি নেতাদের দলীয় করন ও আন্তীয়করন ও টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের পাইয়ে দেওয়া সহ নানান প্রকার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিলো সবার আগে বাংলাদেশ কিন্তু এখন সকল ক্ষেত্রে সবার আগে বিএনপি।  বিশেষ  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান, আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা, কাজী অধ্যাপক মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা। কাজী মাওলানা রুকনুজ্জামান, উপজেলা সেক্রেটারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ডিমলা উপজেলা শাখা। মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান বাবুল, উপজেলা বায়তুলমাল, ডিমলা উপজেলা শাখা। সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল আলিম শিপন, সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১নং পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন শাখা । বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন শাখা আয়োজনে জনাব মোঃ আব্দুল আলিম শিপন সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা
এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হয়েছে যে গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিয়ে খাওয়াতে হয়। চাঁদা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, আমার এলাকায় চাঁদাবাজি হলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালু চোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। নিজের আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নেই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চাঁদা দিয়ে আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। নিজের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব। আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে। আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ফ্যাসিস্ট সরকার বৃক্ষরোপণ করেনি, গাছ কেটে সাবাড় করেছে : এমপি নিলোফার মনি
ফ্যাসিস্ট সরকার বৃক্ষরোপণ করেনি, গাছ কেটে সাবাড় করেছে : এমপি নিলোফার মনি

  বিএনপির স্বনির্ভরতা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ। এই দেশে এমনিতেই অনেক সমস্যা। তার মধ্যে বিগত যে ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল, তারা তো বৃক্ষরোপণ করেনি। যতগুলো গাছ ছিল, সেগুলো কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। মাইলের পর মাইল তারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।’ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর শহরের বাঘেরহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তিন শতাধিক ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, গাছের অভাবে দেশের মানুষকে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। গাছ না থাকায় পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনযাত্রায়। তিনি বলেন, ‘এই বৃক্ষ না থাকার জন্য, সবুজ-সবুজায়ন না থাকার জন্য বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট করছে। দেখেন, এখন এই মুহূর্তে শীতের প্রকোপ নেমেছে। শীত সামলাতে হচ্ছে। তার পরও যে গরমটা, সেটাও কিন্তু আমাদের বৃক্ষের অভাবের জন্য।’ নিলোফার চৌধুরী মনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গাছপালা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশে পর্যাপ্ত গাছ থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ পায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে তিনি বলেন, প্রত্যেকে দুটি করে গাছ লাগালেও দেশে সবুজায়নের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে। গাছের ফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাজে আসবে, তাই এখন থেকেই সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা খানের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তিন শতাধিক ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জামালপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম আব্দুস সোবহান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুক্রবার
মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুক্রবার

  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে বিএনপি। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে (৩২৩ মহিলা-২৩) উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন ফরম পূরণ করে আগামী ১৭ অক্টোবর একই স্থানে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৎকালীন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
আব্দুল হাই ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক : প্রধানমন্ত্রী
আব্দুল হাই ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক : প্রধানমন্ত্রী

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক উপমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, পাঁচবারের সাবেক এমপি, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’ তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে মরহুম আব্দুল হাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দেশে স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাকে হারাল। তাঁর মৃত্যু দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল হাই বুধবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

Serbia
অর্থনীতি

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

News অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0