বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার (১৭) হত্যা এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ডেমরা জোনের সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) নাজিম উদ্দিন ফকির আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে নাইম হাওলাদার বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিনই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, তারেক চৌকিদার নামের এক শিক্ষার্থী যাত্রাবাড়ি এলাকায় বাসার ছাদে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ মামলায় সাবেক চিফ হুইপের যোগসাজশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আ স ম ফিরোজ বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। নাইম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে আটক রাখার প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে নাইম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগের পর রাতেই মা‘রা গেছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থককে নিয়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আলোচনা প্রসঙ্গে খোকন বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ গণসংযোগ শেষে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শরীরে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃ‘ত ঘোষণা করেন। তার মেজো ছেলে মো. সাঈদ জানান, সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার পর সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন তার বাবা। রাতে হঠাৎ বুক ব্যথায় তার মৃ‘ত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের মৃ‘ত্যু‘তে শোক জানিয়েছেন কুমিল্লা–৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। এর আগে খোকন চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা একটি মাফিয়া গ্যাং’। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হওয়া হামলার তিনি নিন্দা জানান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ আসলে কী বস্তু এবং তারা কারা, সেটি তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বারবার প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দলটির ন্যূনতম বোধ নেই এবং যাদের কর্মকাণ্ডে জনস্বার্থের লেশমাত্র নেই, তাদের এদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না, প্রশ্ন রাখেন। অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মাফিয়া গ্যাংয়ের হামলার শিকার হওয়া প্রমাণ করে যে বাঁধন সঠিক পথেই ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন বাঁধনের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি একে তার এক ধরনের অর্জন ও সম্মান হিসেবে অভিহিত করেন। জাহেদ উর রহমান আরও নিশ্চিত করেন, এই মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সরকার কোনোভাবেই বিষয়টিকে ছেড়ে দেবে না। ভবিষ্যৎ হামলার হুমকিকে তোয়াক্কা না করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মতো শাসককে যেখানে এদেশ থেকে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে, সেখানে তার অনুসারী মাস্তানদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, মাস্তানি করে পার পাওয়ার দিন শেষ এবং সরকার এই অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
মো: মিশিকুল মন্ডল স্টাফ রিপোর্টার জয়পুরহাটের কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, কালাইয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী সহ , সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনছুর রহমান,কালাই থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম সহ কালাই উপজেলা বিভিন্ন শি
গোলাম রব্বানীর শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ বগুড়ার মোকামতলার রহবল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন পাকুড়তলার পরিবর্তে রহবল এলাকায়ই নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রহবল বন্দরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোকামতলা এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে তিনটি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নতুন নামকরণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সৃষ্টি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গত ২৩ জুন ভরিয়া হাই স্কুল মাঠে দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের দাবিতে গণশুনানিতে প্রায় ১,১০০ জনের সমর্থন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২৫ জুন রহবল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত আরও একটি গণশুনানিতে প্রায় ৩,৭০০ জনের সমর্থন নিয়ে রহবল ইউনিয়ন গঠনের জোরালো দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়নটির নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে জানানো হয়, রহবল ইউনিয়ন মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৬টি মৌজা রহবল বাজার কেন্দ্রিক এবং মাত্র ২টি মৌজা পাকুরতলা কেন্দ্রিক। ইউনিয়নের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম রহবল বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। অথচ নাম ‘রহবল ইউনিয়ন’ রাখা হলেও ইউপি ভবনটি রহবলে নির্মাণ না করে পাকুড়তলার (কৃষ্ণপুর মৌজায়) নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে, যা প্রস্তাবিত স্থান হিসেবে মোকামতলা পৌরসভা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত। প্রশাসনিক কেন্দ্রটি রহবলে স্থাপন করা হলে সাধারণ জনগণের যাতায়াত ও সেবা প্রাপ্তি অধিকতর সহজ, সুবিধাজনক ও জনবান্ধব হবে। বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের নামকরণের সাথে প্রশাসনিক কেন্দ্রের একটি সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি। অবিলম্বে এলাকাবাসীর দাবি বিবেচনা করে রহবল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রহবলেই নির্মাণের জন্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। প্রয়োজনে সঠিক স্থান নির্ধারণে পুনরায় গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানানো হয়। দ্রুত রহবল এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা। সাবিত হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান, সজিব ইসলাম, বেলাল সরকার, রাখিবুল ইসলাম প্রমুখ। সাংবাদিক/ গোলাম রব্বানী শিপন। মহাস্থান- বগুড়া। মোবাইল নাম্বার, ০১৭১১২৫২৪৯৬ ৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কাজের অদক্ষতা ও অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জবাব ও প্রমাণের অভাবে ঝুলে আছে ওই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২৩টি অডিট আপত্তি। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) আটটি বিভাগীয় মামলা দীর্ঘ দিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে দুটি এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে আছে। এদিকে চিঠিপত্র নিষ্পত্তিতেও দেখা গেছে কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি অডিটে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া অনিষ্পন্ন নথি ও চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম গতিশীল করতে চার মাসের মধ্যে ‘ডি-নথি’র ব্যবহার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই মাসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভার আলোচনায় উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন অদক্ষতা ও অবহেলার চিত্র। ওই সমন্বয় সভার কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে ২৮টি অডিট আপত্তির জবাব নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও মাত্র পাঁচটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) আটটি বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি এক বছরের বেশি এবং ছয়টি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় চিঠিপত্র নিষ্পত্তির হার ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। কার্যপত্র অনুযায়ী, জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ১৯টি অডিট আপত্তির ব্রডশিট জবাব নিয়ে কাজ করে অডিট শাখা-১। এর মধ্যে মাত্র দুটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পূর্ত অডিট অধিদপ্তরে সুপারিশসহ পাঠানো হয়। বাকি ১৭টির জবাব যথাযথ না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থাকে পুনরায় জবাব দিতে বলেছে পূর্ত অডিট কর্তৃপক্ষ। অডিট শাখা-২ জুলাই মাসে আরও ৯টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে তিনটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হলেও ছয়টি অডিট আপত্তির প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় পুনরায় জবাব চেয়েছে। দুই শাখার হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৮টি অডিট আপত্তির মধ্যে ২৩টির ক্ষেত্রেই জবাব বা প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। এসব আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি অডিট কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি অডিটে আর্থিক দুর্নীতি চিহ্নিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গুরুতর আপত্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সমন্বয় সভায়। সভায় জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে মোট ১১টি বিভাগীয় মামলা ছিল। এর মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট আটটি বিভাগীয় মামলা এখনো নিষ্পত্তি করা যায়নি। এসব মামলার ৬টি ছয় মাসের বেশি এবং দুটি এক বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ছয় মাস ও এক বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলার সঠিক পরিসংখ্যান পরবর্তী সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর চিঠিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছ। জুলাই মাসে ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এ ১১৬টি চিঠির মধ্যে ১০০টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১৬টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ শাখায় নিষ্পত্তির হার ৮৬ দশমিক ২০ শতাংশ। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা-১-এর ১০১টি চিঠির মধ্যে ৯৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে, অনিষ্পন্ন রয়েছে ছয়টি। শাখা-২-এর ১৩টি চিঠির মধ্যে সাতটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ছয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ দুই শাখায় নিষ্পত্তির হার যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। অনিষ্পন্ন চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব। এ সময় প্রতিটি শাখাকে প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষসহ ছয়টি নবগঠিত কর্তৃপক্ষের প্রবিধানমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সভায় মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম ডি-নথিতে নোট নিষ্পত্তির হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নথির নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুরোনো নথির কাভার পরিবর্তন এবং দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪’ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিন সংবিধান ও কার্যপ্রণালি-বিধি মেনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটিগুলোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার পিটিশন কমিটি গঠন করেন। কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৬৪ বিধি অনুযায়ী ২৬৩ ও ২৬৫ বিধিতে বর্ণিত কাজ ও দায়িত্ব পালনের জন্য ১২ সদস্যের কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে। কমিটির সদস্যরা হলেন-ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), মো. আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), এ. এম. মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-৮), সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১) এবং আখতার হোসেন (রংপুর-৪)। পিটিশন কমিটিও স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৩১ ও ২৩২ বিধি অনুযায়ী নাগরিকদের পিটিশন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ সদস্যের পিটিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতিও মনোনীত হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পিটিশন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোণা-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) (লক্ষ্ণীপুর-৪), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), মো. জি কে গউছ (হবিগঞ্জ-৩), মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১) এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)। এ ছাড়া সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এবার বগুড়া অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ৬ দফা দাবিতে এ লংমার্চ বগুড়ায় হয়ে রংপুরে পৌঁছাবে। বগুড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে পথসভা। ১১ দলীয় জোটের তথ্য মতে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া। চারমাথায় পথসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে। সেই জন্য জামায়াত কাজ করছে। বগুড়ার ১১ দলীয় ঐক্য নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। লংমার্চের অংশ হিসেবে বগুড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পথসভার স্থান পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা ও মহানগরী শাখার নেতারা। এসময় তারা সম্ভাব্য মঞ্চ কোথায় হবে ও গাড়িবহর কোথায় থামবে, সেসব স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান, এনসিপির বগুড়া জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতা। অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চে যেভাবে জনতার ঢল নেমেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা–রংপুর লংমার্চেও তার চেয়ে বেশি জনসমাগম হবে, ইনশাআল্লাহ। বগুড়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। চারমাথায় আমাদের পথসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে। সেই লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তিনি আরও বলেন, লংমার্চকে স্বাগত জানাতে বগুড়ার সর্বস্তরের জনগণ প্রস্তুত। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সফল করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ৪টি লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা–রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা–খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা–সিলেট লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ফলে শিগগিরই আসনটিতে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। আখতার আহমেদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল এ সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে।’ এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। এ নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। পূজা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, ‘এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড যে আপনার পোস্টাল ভোটিং, সেটারও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’ এর আগে গত ২২ আগস্ট সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন, অর্থাৎ ২১ আগস্ট থেকে আসনটি শূন্য হয়েছে। আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা শাখা ইতোমধ্যে ভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এর আগে বলেছিলেন, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আমরা খুব বেশি সময় নেবো না।’ এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই এ আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পোস্টাল ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করছে কমিশন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরদিন ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এখন সেই শূন্য আসনেই উপ-নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে তার প্রথম সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর তিনি জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সংবর্ধনাস্থলে জড়ো হন হাজারো মানুষ। মাঠের পাশাপাশি আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের ছাদেও মানুষের ভিড় দেখা যায়। গণসংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা অনেকটাই অবহেলিত। জেলার মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন তিনি। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
খুলনায় প্রথম দফায় ৯টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১০৫ জন কৃষক কৃষি কার্ড পাবেন। বর্তমান সরকারের আমলে ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে জেলায় কৃষি কার্ড পাবেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৩ জন কৃষক। খুলনা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের সুবিধার লক্ষ্যে ৯ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এসব ইউনিয়নগুলো কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এরইমধ্যে দুটি ব্লকের (এরিয়া) জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ব্লকের জরিপের কাজ চলছে। ইউনিয়নগুলো হলো, রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ, দাকোপ উপজেলার সদর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালি ও কয়রা উপজেলা সদর। কৃষি দপ্তর আরো জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি এ ৯ ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১৫০ জন কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে শনাক্ত করেছেন। এ কমিটির সদস্যরা মধ্য আগস্ট পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৭৯ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে তালিকা ব্যাংকে পাঠিয়েছে। কৃষকরা জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংক থেকে বার্ষিক অনুদানের অর্থ পাবে। প্রত্যেক কৃষক বছরে আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সেচ, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, রোগ বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি পণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষি বিমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি-প্রণোদনা, ঋণ ও কৃষি উপকরণ পাবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. তৌহিদীন ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকরা কার্ড পাবেন। এটি ডেবিট কার্ড হিসেবে গণ্য হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকরা আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিশ্বের নানা জায়গায় যুদ্ধের কারনে বর্তমানে চলমান তেল সংকটের মধ্যে হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচীর অযৌক্তিক। রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ পুকুরে পাছের পোনা অবমুক্তকরন ও শিশুদের সাতার প্রশিক্ষনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামাত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে। আজ তারাই আবার তেল, বিদ্যুৎ, সার সহ বিভিন্ন সংকটের কথা বলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট থাকা, পানিতে ডুবে অপমৃত্যু রোধে শিশুদের সাঁতার শেখানোর উপর গুরুত্বারোপ এবং যুব সমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম আব্দুল হালিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা, বোদা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহ সাতার প্রশিক্ষনার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগঘেঁষা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. কিশালয় সাহাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কুয়াকাটার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা থেকে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), শ্রেণি-১ পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দাপটের সঙ্গে চলাফেরা এবং দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা এই চিকিৎসককে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. কিশালয় সাহাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকায় সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়ন করা হয়েছে। তার বিসিএস পরিচিতি নম্বর ১০১১৮১১৫। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। ডা. কিশালয় সাহা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড ও ছবিতেও আওয়ামী লীগঘেঁষা অবস্থানের চিত্র পাওয়া যায়। তার ফেসবুক প্রোফাইলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তার পদায়নের পর ওই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এছাড়া ডা. কিশালয় সাহার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও রয়েছে। ডা. কিশালয় সাহার কর্মজীবনের আরেক পর্যায় নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরির সময় তিনি তৎকালীন এমপি, পরবর্তীতে বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর আস্থাভাজন হিসেবে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই সময়ে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন তিনি। নিয়মিত মাদক সেবন করতেন চেম্বারে বসে। এতে বাধা দেওয়ায় তৎকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে তৎকালীন এমপির প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদটি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে এ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে এমন একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে অতীত ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অভিযোগ রয়েছে, কুয়াকাটার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা থেকে সরাসরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়নের পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করেছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন পদায়ন সম্ভব নয় বলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এমন পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একদিকে আওয়ামী লীগ আমলে দাপট দেখানোর অভিযোগ, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ থাকার পরও ডা. কিশালয় সাহাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন কীভাবে হলো, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এ বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন। তবে মাননীয় মন্ত্রী (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) গতকাল চলে গেছেন। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি এসে বিষয়টি বাতিল করবেন। আপাতত এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি বাতিল করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী এসে এটি বাতিল করবেন।’
জনগণের দাবি ও সমস্যার সমাধান করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, দেশ আজ জাহান্নামে পরিণত হয়েছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই এ সরকারের পতন ঘটবে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমদ বলেন, মানুষের ঘরে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই; হাতে কাজ নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতেও মানুষ দিশাহারা। এ সময় অলি আহমদ ‘বিদ্যুৎ দে-গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অথচ নাগরিকদের মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করা হচ্ছে না। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়েব আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন।
মহাসড়কের ডিভাইডারের বসে লালকার্ড প্রদর্শন করেন ওই ছাত্রদল নেতা। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। লাল কার্ড দেখানো ওই যুবকের নাম তৌহিদুল ইসলাম নিশান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মিরসরাই উপজেলা ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সদস্য। দলীয় সূত্রে বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চটি মিরসরাই এলাকা অতিক্রম করার সময় বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের গাড়িবহর লক্ষ্য করে লাল কার্ড দেখান নিশান। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নিজ আইডিতে আপলোড করেন। এরপরই ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর নিশানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ নিশানের এই প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনা করেছেন।
প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই। এর আগে গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়া বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ছিল। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ২০০৮ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে হেলিকপ্টারে রওয়ানা হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি বঙ্গভবন থেকে রওয়ানা হন। দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দর্শক সারিতে বসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান। এর আগে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও আমন্ত্রিত গুণীজনেরা আলোচনায় অংশ নেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভাটি পরিচালনা করেন। পরে জাসাসের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। সংগীত পরিচালক ও গীতিকার ইথুন বাবুর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী সাজ্জাদ হুসাইন পলাশ, মৌসুমী চৌধুরী, পরান আহসান, আকলিমা মুক্তা, গামছা পলাশ, শেহমান, আব্দুর রউফ, রোদসী, সানি, সাদমান পাপ্পু, শাহিনুর, রাফিজা আলমসহ আরও অনেকে।
চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হুইলচেয়ারে করে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। মির্জা আব্বাসকে স্বাগত জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে এই সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।’ এর আগে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার সঙ্গে স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসও দেশে ফিরেছেন। গত ১১ মার্চ রমজান মাসে ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
এবার রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শিক্ষা ভবন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত মেট্রোরেলের মিডিয়ানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। সময় থাকতেই হকারদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে মতিঝিলে অফিস সময়ের পর নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা কথা জানান প্রশাসক। প্রশাসক বলেন, মতিঝিলে অফিস সময়ের পর বিকেল চারটার পর থেকে নাইট মার্কেট চালু করা হবে। হকাররা সেখানে বসবেন। সপ্তাহে সাতদিন তাদেরকে সব জাগয়ায় বসতে দিত পারবো না। এটা তাদেরকেও মানতে হবে। নিয়মের অনুযায়ী, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অনুযায়ী তাদের বসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ সুরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান আছে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, পর্যায়ক্রমে নগরের সব ফ্লাইওভারের নিচে গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ব্যবসায়ী ও অফিস কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন তিনি
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। বুধবার দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। অভিযোগসংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ, মানিলন্ডারিং, বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন। এছাড়া চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও দুদকে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।