রাজনীতি

শুক্রবার ঢাকায় আসছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার
শুক্রবার ঢাকায় আসছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের এক‌টি সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় আসার কথা র‌য়ে‌ছে ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর। হাইক‌মিশনা‌রের স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন।  বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এ‌প্রিলের শে‌ষের দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।  ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লি সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে উভয়পক্ষ। এমন সময়ে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিবিদ দিনেশ ত্রিবেদীকে পাঠাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মধ্যদি‌য়ে দীর্ঘদিন পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব দিলো ভারত। ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক রেলমন্ত্রী। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।  দীনেশ ত্রিবেদী লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেরই সদস্য ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই বিজেপিতে যোগ দেন।  উ‌ল্লেখ্য, ঢাকায় ভারতের সা‌বেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলা‌ভি‌ষিক্ত হ‌বেন দীনেশ ত্রিবেদী। প্রণয় ভার্মা বর্তমা‌নে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছেন।

Admin জুন ১১, ২০২৬ 0
থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে মার খেলেন সেই ‘সমন্বয়ক’ মাহাদী
থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে মার খেলেন সেই ‘সমন্বয়ক’ মাহাদী

  হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ডিসি অফিসের ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এবার অভিযোগ করা হয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এর আগে গতকাল ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছেন অভিযোগ করে মাহাদী বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’ লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তার পরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’ মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।  এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহাদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’ বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহাদী হাসান।  এ ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’ ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।’  

Admin জুন ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচনের আগে জামায়াতের গাড়ি-বাড়ি লাগত না, কিন্তু পরে সব লাগে
নির্বাচনের আগে জামায়াতের গাড়ি-বাড়ি লাগত না, কিন্তু পরে সব লাগে

  বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়ি, বাড়ি, অফিস লাগত না, কিন্তু নির্বাচনের পরে সব লাগে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে আসা এ নেতা লেখেন, ‘শুরুতে জামায়াত-এনসিপি জোট বললো, তারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবে না। অথচ তারা সংসদে ঢুকেই গাড়ি চেয়ে বসলো, এরপরে অফিস।’ রাশেদ খান বলেছেন, ‘এখন আবার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মারদিয়া মমতাজ আপা বলছেন, আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে আসতে খুব কষ্ট হয়। তিনি নাকি কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন, আবার নিয়মিত টকশো-তে যেতেন। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো আপা কি এতদিন আত্মীয়ের বাসায় থেকেই শিক্ষকতা ও টকশো করে বেড়াতেন?’ বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘তিনি একদিন আমার সঙ্গে গ্লোবাল টেলিভিশনে শিক্ষক ও রাজনৈতিক পরিচয়ে টকশোতে ছিলেন। জামায়াতের পক্ষে তার বক্তব্য শুনে আমি বলে ফেলি, ‘আপা, জামায়াত করেন, কিন্তু শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে টকশোতে আসা কি দরকার? পরিচয় প্রকাশ করে টকশো করলে তো সমস্যা নেই।’ তিনি শেষমেশ স্বীকার করেন, তিনি (মারদিয়া মমতাজ) জামায়াতের কোনো পদে নাই, তিনি কর্মীও নন। তিনি একজন সমর্থক! আপা একটা বক্তব্য বলেছিলেন, শরিয়া আইন আসমান থেকে আসা কোন জিনিস না যে, রাতারাতি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে! শরিয়া আইন তো জামায়াতের নিজস্ব আইন! ঠিক জামায়াতে ইসলামের মত! রাশেদ খান বলেছেন, এই আইন এতো শক্তিশালী যে, নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি, অফিস লাগে না, কিন্তু নির্বাচনের পরে সব লাগে!  

Admin জুন ৯, ২০২৬ 0
ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী

  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আওয়ামীপন্থি ৬১ আইনজীবী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত এ মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা ‘ইউনূসের বিচার চাই’-সহ নানা স্লোগান দেন। মানববন্ধনে কারামুক্ত আইনজীবী মাহফুজুর রহমান লিখন বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া, মামলা পরিচালনা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বিগত সরকারের সময় কারাগারে থাকা আইনজীবীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মানববন্ধনে কারামুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট লিটন মিয়া ও অ্যাডভোকেট মো. তৌহিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীম আল সোহাগ সাইফুল।

Admin জুন ৯, ২০২৬ 0
জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

  এবার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং নিমসার কাঁচাবাজারে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন দুর্বৃত্তরা। গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলার বুড়িচং কাঁচাবাজার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে । একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে দুর্বৃত্তরা । নিমসার বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বুড়িচং উপজেলা মোকাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের জিলানীর ইন্ধনে এই হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা । গাড়িতে হামলা করার জন্য আব্দুল কাদের জিলানী কিছু যুবককে উসকানি দিয়ে গাড়িটি ভাঙচুর করান। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং নিমসার এলাকায় থ্রি হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আইন ভঙ্গ করেছেন কয়েকজন চালক। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হলে চড়াও হয়ে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও তাদের গাড়ি ভাঙচুর করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁচাবাজারের পণ্য আনা–নেওয়ার কাজে অটোরিকশাগুলো মহাসড়কে চলাচল করে। মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের জন্য পুলিশ বাধা দিলে চালকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় এক অটোরিকশাচালক আহত হন। পরে অটোরিকশাচালেরা হামলা করলে পুলিশ সদস্যরা গাড়ি রেখে নিরাপদে চলে যান। তারপর কিছু লোক গাড়িটি ভাঙচুর করে। এদিকে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আব্দুল মুমিন বলেন, ‘মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করে কিছু দুর্বৃত্ত । আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছি ।’

Admin জুন ৯, ২০২৬ 0
হাদি হত্যা ও সাংস্কৃতিক লড়াই
হাদি হত্যা ও সাংস্কৃতিক লড়াই

  শরীফ ওসমান হাদিকে কাল্ট বানাতে যারা চেয়েছেন, তারা হাদিবিরোধী। ইনকিলাব মঞ্চ শুধু চেয়েছে হাদি হত্যার বিচার। জাবের হাদিকে পির হিসেবে দাবি করেননি; করেননি আসাদ ও ঝুমাও। হাদির মাজার বানাতে চায়নি কেউ। হাদির কবর মানুষ জিয়ারত করতে গেছে ভালোবাসা থেকে। আজও যায় সেই ভালোবাসা থেকেই। কিন্তু হাদি হত্যার বিচার চাওয়াকে যারা ভিন্ন নাম দিতে চেয়েছে, তারা মূলত ফ্যাসিজমের শিক্ষা থেকে তা চেয়েছে। ‘তাকে একটা খারাপ নাম দিয়ে দাও’—এটাই সেই শিক্ষা। তারা হাদির খারাপ নাম দিতে চেয়েছে। এখন অনেকে বলছেন, হাদি-ব্যবসার ইতি ঘটেছে। মানুষ এখন হাদির নামে রাস্তায় বের হচ্ছে না। এটাও সেই ফ্যাসিজমের বয়ান। ফ্যাসিজমকালে মানুষ যখন দেখত, বিচার হচ্ছে না, আটকে গেছে, তখন তারা চুপ করে থাকত; আর বিচার না হওয়ার ক্ষোভটা বুকের ভেতর পুষে রাখত। এখনো তাই। একই কারণে তারা চুপ। সেই চুপ থাকা ক্ষোভ থেকেই চব্বিশের জুলাই শেষ হয়েছিল ছত্রিশ দিনে। কাল্টের প্রধান মন্ত্র হলো ভয়। মানুষকে ধর্মের নামে, মতবাদের নামে ও ক্ষমতার দম্ভে ভয় দেখানো, যা করেছিল ফ্যাসিজম। ফ্যাসিজমের ধর্ম ছিল ‘চেতনা’। চেতনা’র নামে মানুষকে ভীত করে রেখেছিল। ভয়টাকে দারুণভাবে অ্যামপিফ্লাই করেছিল ফ্যাসিস্টরা। সেই চেতনার খারাপ নাম ছিল ‘রাজাকার’। মানুষকে সেই নামে ডেকে তাকে হত্যাযোগ্য করে তোলা হতো এবং শারীরিক, রাজনৈতিক কিংবা সামাজিকভাবে তাকে হত্যা করা হতো। বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমও খারাপ নাম দেওয়ার কাজটা করছে। এই কাজটা করছে তারা ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমে দুটি গ্রুপ রয়েছে; একটার নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ী গ্রুপ, আরেকটার নেতৃত্বেও তাই—‘কেউ কারে নাহি ছাড়ে, সমানে সমান।’ উল্টোদিকে দুটো কাল্টের মিল আবার ওই এক জায়গাতেই। তাদের কাল্টের তীর্থ সীমান্তের ওপারে। তাদের সব সাপোর্ট সেখান থেকেই। তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলেও খারাপ নাম দেওয়ার বেলায় তারা এক গুরুর অনুসারী। একটা গ্রুপ একটু আর্টিস্টিক ওয়েতে তাদের কাজ-কারবার চালায়; আরেক গ্রুপ আর্টের ধারও ধারে না। ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ জাতীয় অবস্থা। এদের ফ্রেমিংয়ের ধরনটা অনেকটা এ রকম—ধরেন, কেউ একজন এনজিও কিংবা এমএলএম, অর্থাৎ মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়ের নামে অথবা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করল। তাকে যখন পাওনাদাররা ধরবে, তখন হবে ফ্রেমিং। সেই বাটপাড় যদি চেতনাপন্থি কেউ হন, তাহলে খবরের শিরোনাম হবে—‘ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা আদায়,’ কিংবা ‘সালিশের নামে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মব’! এই হলো ফ্রেমিং। অর্থাৎ ভালো কাজকেও ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বিতর্কিত করা যায়। যৌক্তিক সালিশকেও, কিংবা বিক্ষোভকেও মব বানিয়ে দেওয়া যায়। এমন উদাহরণ অসংখ্য রয়েছে। একইভাবে কালচারাল ফ্রন্ট রয়েছে কাল্টের অনুসারীদের। তারা মানুষের মৃত্যুতে কাঁদেন না, কাঁদেন গাছের মৃত্যুতে। তারা মানুষ পোড়ানোর ব্যথায় কাতর হন না, হন ভবন পোড়ানোর ব্যথায়। এমন ইতরদের দেখা পাবেন অহরহ। কালচারাল এই ফ্রন্ট মূলত স্টেজ তৈরির কাজ করে কাল্ট প্রসারে। যারা ‘চেতনা’ ছড়ানোর কাজ করেন, তারাও গণমাধ্যমের মতন ফ্রেমিং করেন। যেমন মানুষ পোড়ানোর বিষয়টিকে আড়াল করতে তারা স্টেজে হাজির করেন ভবন পোড়ানোর শোকগাথা। তারা সেই ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তৈরি করেন। সেই গুরুত্বকে নানা নাটকের মাধ্যমে তারা স্টেজে প্রদর্শন করেন। এমন অসংখ্য নট-নটী দৃশ্যমান এখন। এরাও অসম্ভব নির্লজ্জ। হাদি হত্যার বিচার চাওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতাপ্রবণ এই কালচারাল কাল্ট। হাদি যাদের বলতেন, কালচারাল ফ্যাসিস্ট, তারা অগ্রগামী। হাদি ছিলেন মূলত এই কালচারাল কাল্টের জন্য বিপজ্জনক। এই কালচারাল কাল্টটি চেতনার নামে বিষ-বটিকা খাওয়াচ্ছিল জাতিকে। হাদি তাতে বাদ সেধেছিলেন। এর ফলে তাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছিল হাদির ওপর। ইনকিলাব মঞ্চের ওপর রাগ সে কারণেই। কারণ ইনকিলাব মঞ্চ হলো সেই বিষ তথা ভেনমের অ্যান্টি-ভেনম। হাদি হত্যার বিচার চাওয়ার ধরন নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে। কেউ একে বাড়াবাড়ি কিংবা রাজনৈতিক চাল বলছেন। কিন্তু হাদি হত্যার বিচার চাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আলাপে কোনো রাজনৈতিক চাল ধরা পড়েনি। খুব সীমিত ক্ষমতা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ সীমাহীন কাজ করেছে। তারা শুধু হাদি হত্যার বিচার চায়নি, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে মূলধারায় প্রতিস্থাপনের কাজ করেছে। ঈদ মিছিল, ঘুড়ি উৎসব—এসবেরই ধারাবাহিকতা। যারা হাদি হত্যার বিচার প্রার্থনাকে খারাপ নাম দিতে চান, তারা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোনো পদক্ষেপই নেননি। প্রকাশ্যে তো নয়ই। তারা প্রকারান্তরে সেই কালচারাল কাল্ট তথা ফ্যাসিস্টদের আলাপেই সায় দিয়ে গেছেন নিজেদের অজান্তে। কালচারাল কাল্ট সেজন্যই অন্যের ধর্মীয় কালচারকে আমাদের মূলধারার কালচার বলে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালিয়েছে। সেই প্রয়াস এখনো চলমান। ঈদুল আজহা গেল। কই গত বছরের মতন আনন্দপূর্ণ ঈদ মিছিল? কোথায় সেই ঈদ উৎসবের মুখরতা? বরং উল্টো ঈদের বিরোধিতা রয়েছে মৌনস্বরে। আগে যেমন পশুহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা হতো। ঈদ এলেই একদল পশুপ্রেমীর দেখা মিলত। যারা বনের পশু নয়, মনের পশু কোরবানির কথা বলত বিফ কাবাব খেতে খেতে, বিফ কাবাবের সঙ্গে থাকত দামি কোনো মদিরা—সেই ছাগলগুলো এবারও একই কথা বলেছে, যা গত ঈদুল আজহায় বলতে সাহস পায়নি। এখানেই হাদি প্রাসঙ্গিক; হাদির কালচারাল ফাইট প্রাসঙ্গিক। জানি, কেউ কেউ হাদিকে ঈর্ষা করেন। ঈর্ষা করার কারণ, মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা একটা তরুণ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের তরুণ তুর্কি হয়ে উঠবেন, এটা মেনে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঈর্ষা সেখান থেকেই। একই কারণে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল তার সমসাময়িক অন্যদের ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবীদের সেই একই ঈর্ষাজনিত কারণে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না অনেকেরই। সব দলেই অনেক বৃদ্ধ আছেন, যারা তরুণদের কাছে সাহসে, যুক্তিতে ও বুদ্ধিতে হেরে গিয়েও জিতে যেতে চাইছেন রাজনৈতিক চালে। এটা যে ভুল চাল, যা তারা বুঝতে পারবেন কিছুদিন পরেই। পরবর্তী সময়ে জেনারেশন জেড এবং জেনারেশন আলফা যখন দেশের ভার হাতে তুলে নেবে, তখন এই বৃদ্ধরা এবং তাদের চিন্তা সত্যিকার অর্থেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। জানি, আমাকেও এখন কেউ কেউ খারাপ নাম দিতে চাইবেন সেই ফ্যাসিস্ট কাল্টের শেখানো মতে। তারপরেও বলে যাই, এর আগেও বলেছিলাম—একটুও ভুল হয়নি, ফ্যাসিস্টদের বিদায় নিতে হয়েছে। যেভাবে ধারণা করেছিলাম, বলেছিলাম, সেভাবেই নিতে হয়েছে। আবার বলছি, লিখে রাখতে পারেন, ভীতু বৃদ্ধরা আগামী ইতিহাসের কাছে নিশ্চিত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন; হয়ে উঠবেন এ সময়ের খলনায়ক।

Admin জুন ৯, ২০২৬ 0
জুনের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা সফরে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুনের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা সফরে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  দুই দিনব্যাপী ৫ম জাতিসংঘ পুলিশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আমেরিকা যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সফরে সঙ্গী হচ্ছেন পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকির। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ৮ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইজিপিসহ মোট ৫ জন সরকারি সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ৫ম জাতিসংঘ পুলিশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। মন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে অন্যরা হলেন, পুলিশ সদরের অতিরিক্ত আইজিপি অপারেশন খন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া। জানা গেছে, এ সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধ দমন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা আরও জোরদার করা এবং আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধান শীর্ষ সম্মেলন (ইউএনসিওপিএস ২০২৬) ২০২৬ সালের ৭ থেকে ৮ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, পুলিশ প্রধান এবং আঞ্চলিক ও পেশাদার পুলিশিং সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও জাতিসংঘ পুলিশিংয়ের একীভূতকারী শক্তি এবং সক্ষমকারী ভূমিকার মাধ্যমে সবার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা।

Admin মে ১৯, ২০২৬ 0
আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু

  মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ (অস্বস্তি) অনেক বেশি বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে যেখান থেকে এসেছিল সেই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত রোববার (১৭ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাথর ছোড়ার ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে এবং আহত তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গুন্ডামি, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের অশান্তির ঘটনায় রাজ্য সরকারের নীতি হবে ‘জিরো টলারেন্স’। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা এই ক্ষতি করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে ২০০ শতাংশ উসুল বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। সূত্র: এবিপি

Admin মে ১৯, ২০২৬ 0
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

  মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি নেতার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান রবের কাছে দোয়া করেন। এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

Admin মে ১৯, ২০২৬ 0
পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স লাগবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা এডহক ভিত্তিতে র‍্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তাই এখন র‍্যাবের জন্য আইন করা হচ্ছে। আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কিনা বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করবো কিনা সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়, সরকার বিবেচনা করছে। তবে সব ক্ষেত্রেই ফোর্সের ক্ষেত্রেই আমরা জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা, ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি আমরা এনশিওর করবো।  তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে রেসপন্সিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি নিশ্চিত করা হবে, সেই একই আইনে। সেভাবে আমরা আগামীতে আইনের শাসন চেষ্টা করবো এবং জননিরাপত্তা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেটা হবে ইনশাল্লাহ। র‍্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকার আমেরিকা একটি স্যাংশন দিয়েছে। তো সেই স্যাংশন উইথড্র করতে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে র‍্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বিগত পতিত শাসন আমলে যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে।  ‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পুরো প্রতিষ্ঠান দায় দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে সেই সব অফিসারদেরকে অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং বিচারের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আইন আছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে কর্মকর্তারা কীভাবে সে আইন মেনে চলবে, পরিচালনা হবে। যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী বিপথগ্রস্ত হয় বা বিপথে যায় তারা পার্সোনালি দায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র‍্যাবের উপরে স্যাংশন দিয়েছিল সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের যারা দণ্ডমণ্ড ছিলেন শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্রবাসনা তাদের ছিল সেটা কায়েমের জন্য। এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সেই কারণে র‌্যাবের উপরে যে স্যাংশনটা আমেরিকা ইমপোজ করেছে। সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন কোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ করা যায় যে এখন অনেক কিছু বাকি আছে। দেখা যাক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করে দিয়েছি এবং সেই আইনটা আমি নিজে করবো এবং সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসেনি। আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশ্লেষণ করার কাজ করছি। বর্তমানে র‍্যাব যে আইনি পরিচয় হচ্ছে সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা সার্ভিস প্রফেশনের উপরে দাঁড়িয়ে পরিচালিত হয়। এটা এডহক ভিত্তিতে চলেছে। একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে এডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন আমরা সেটা আইন করবো আলাদা এনফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে। তাদের রেসপন্সিবিলিটি ফিক্সড করা থাকবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সি দেওয়া নিশ্চিত হবে। সেই হিসাবে আইনটা আসবে। এখনো ডিটেইলস বলার সময় আসেনি। তিনি বলেন, এখন যেভাবে চলছে একটা ধারার অধীনে, সেটা তো আজকে না, সেটা আরো ১০/১২ বছর আগে থেকে হয়েছে এবং সেটা আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পরে দেখলাম যে, সেটা ঠিক না। একটা বাহিনী প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা থাকবে, সেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকবে। সেই হিসাবেই অন্যান্য বাহিনী থাকবে। কিন্তু এই একটা নয়। তাই আমরা এখন সংশোধন করবো, নতুন প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস লজিস্টিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস সবকিছু সেখানে যাবে। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে র‍্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে। র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারাও বলেছেন যে তারা এভাবে কারো হাতিয়ার হতে চান না। আপনার সরকার সামনে নতুন যে এলিট ফোর্স নাম পরিবর্তন করে যে বাহিনীটা আসবে তাদেরকে যে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মর্নিং সোজ দ্য ডে। তিন মাস হয়েছে। র‍্যাব কি ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন ও ইনকোয়ারি করা হয়েছিল। সেখানের যে ফাইনাল রিপোর্টে উঠে এসেছিল র‍্যাব এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে যে একটা মিলিটারি ইন্টার্নাল ইনকোয়ারি বোর্ড হয়েছিল সে বোর্ডটা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে। যে বোর্ডটা বন্ধ হয়ে গেল তদন্তের জায়গা থেকে যারা আসলো, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কীভাবে হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আপনার কোয়েশ্চনটা সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর ওয়াইফ আইসিটি কোর্টে মামলা করেছেন। আমিও মামলা করেছি। আইসিটি কোর্টের একটা আইন আছে। সেই আইনটা সবচাইতে শক্ত আইন। গুম কমিশন যে করা হয়েছিল সেখানে কোনো সুনির্দিষ্টকরণ ছিল না। আইসিটি আইনের মধ্যে যদি আমরা সেই এমেন্ডমেন্টগুলো নিয়ে আসতে পারতাম, এখনো যেটা আমরা চেষ্টা করছি। তাহলে সব ধরনের গুমের বিচার ওখানে হবে। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত আসে নাই। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত এসেছে। কেউ গুমের হুমকি পেয়েছে। কেউ গুমের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ডেফিনেশন ওখানে আসতে পারবে। বিভিন্ন রকমের মেজারস নিয়ে যেতে পারবে। একটা কমিশন হলো সেখানে শুনানি হবে, মেজারস হবে না। অন্য একটা অথরিটি সেটা তদন্ত করবে। সেই অথরিটি আবার মামলা করবে। আমি ব্যক্তি হিসেবে ভিকটিম হলে আমি মামলা করতে পারবো না। এসব ডিবেটগুলো তো ছিল। আইনকানুনের ব্যাপার। এর চাইতে বেশি আইন বলা হতে পারবে না। র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র‍্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা যেকোনো সময়, চমক দেখাতে পারেন যেসব ছাত্রনেতা
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা যেকোনো সময়, চমক দেখাতে পারেন যেসব ছাত্রনেতা

  সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে পুরোদমে মাঠে নামতে চায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো। সরকারের পাশাপাশি রাজপথেও যুগোপযোগী কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকারকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়ার সংকল্প তাদের। এ লক্ষ্যে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনগুলো। যেকোনো সময় ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি। এত চমক দেখাতে পারেন সাবেক ছাত্রনেতারা। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ইউনিটগুলোতে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে সংগঠনে গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।  তারা জানান, পদায়নের ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, গুরুত্ব পাবে বিগত আমলে মামলার সংখ্যা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের চিত্র। যারা বিগত কয়েক বছরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তারাই হবেন নতুন কমিটির কান্ডারি। পদপ্রত্যাশীদের লবিং ও তদবিরেও এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আমলনামা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটি ঘোষিত হয়েছে ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে দলটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে দুজনের কেউই আর আগের মতো সমায় দিতে পারছেন না। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ সাধারণত ৩ বছর। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে। যদিও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগাঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। সাক্ষাতে কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে তারা হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন তারেক রহামন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় চার নেতার সঙ্গে আলোচনায় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।  সভাপতি পদে আলোচনায় যারা  নেতৃত্ব সংগঠনের ভেতরে থেকে আসবে নাকি বাইরে থেকে আনা হবে মূলত এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের নাম জোরালো আলোচনায় আছে। পাশাপশি আলোচনায় রয়েছেন সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা সাধারণ সম্পাদক পদে সাধারণত সাবেক ছাত্রদল সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে একজনকে আনা হয়। এবার যারা আলোচনায় তাদের মধ্যে রয়েছেন— ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক  ইকবাল হোসেন শ্যামল ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল। ঢাকা মহানগর দক্ষিন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনের নামও রয়েছে আলোচনায়। এছাড়াও আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামানের নাম। কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম জি মাসুম রাসেল, নজরুল ইসলাম নোমান, শেখ ফরিদ হোসেন, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

  যুক্তরাজ্য থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবতরণ করেন।বঙ্গভবনের প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে, গত ৯ মে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোম্যাটিক কোর ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, যুক্তরাজ্য হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। লন্ডন সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার পরিবার সদস্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সভপতিত্বে এনইসির সভা শুরু
প্রধানমন্ত্রীর সভপতিত্বে এনইসির সভা শুরু

  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা। সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। আলোচ্যসূচিতে রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্তকরণ ও অনুমোদন। এছাড়া পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের রূপরেখা উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে। দুপুর ১টায় একনেক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাস্থল ত্যাগ করার পর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব দলকে বসার আহ্বান সিইসির
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব দলকে বসার আহ্বান সিইসির

  এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত না ঘটাতে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার (১৮ মে) ‎দুপুরে নির্বাচন কমিশন বিটের সংগঠন– আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই আহ্বান জানান তিনি। সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে রক্তপাত না ঘটে, এ জন্য সব দলকে একসঙ্গে বসে আলোচনার আহ্বান জানাই।’ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দিতে নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকারের আইন বিধিতে পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এসব কাজ শেষ হলেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে নির্বাচন কমিশন।’  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা দেখার ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‎ভোটের সময় সিরাতুল মুসতাকিমের মধ্যে ছিল নির্বাচন কমিশন। পক্ষপাতিত্ব ছিল না ইসির কোনো কর্মকাণ্ডে।’ সিইসি বলেন, ‘ইসি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ডিজাইনে কাজ করেছে। সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচনে নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা ছিল, কিন্তু হস্তক্ষেপ করেনি।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছার নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি: চসিক মেয়র
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছার নির্দেশ সিটি করপোরেশন দেয়নি: চসিক মেয়র

  এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি বিজড়িত কোনো গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি অপসারণ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চসিক সবসময় নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অপসারণের প্রশ্নই আসে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চসিকের কোনো বিভাগ বা শাখাও গ্রাফিতি মোছার কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে, নগরের টাইগারপাস এলাকায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে, চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও আশপাশ এলাকায় সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার, সিএমপি সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
মেহেরপুরের গাংনীতে হত্যার হুমকি দিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার।
মেহেরপুরের গাংনীতে হত্যার হুমকি দিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার।

  এস কে সামিউল ইসলাম, মেহেরপুর প্রতিনিধি  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি  ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত রিয়াজুল মাস্টারের বাড়ীর সামনে হত্যার হুমকি দিয়ে বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ববিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বাবলুর বাড়ি সংলগ্ন দোকানের সামনে এসব রেখে যায়। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তু,ও চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ । এর আগে ৪-৫ বার চিরকুট লিখে হুমকি দিয়েছে বলে জানান বাবলু মিয়া,বাবলু উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত রিয়াজুল মাস্টারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালটেপ দিয়ে  মোড়ানো  দুইটি বোমা সদৃশ বস্তু, এবং হুমকিমূলক দুটি  চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল-১ ঘন্টা সময় পেলে তোদের বিএনপিদের কি হাল করবো লাভলুর মত তোদের জবাই করব,পুলিশ আমাদের হয়ে কাজ করবে আমরা ওদের টাকা দিই, আরেকটিতে বলা হয়েছে শেখ হাসিনা আসবে ছয় মাস সময়, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

Admin মে ১৮, ২০২৬ 0
আপিলেও জামিন বহাল আইভির, পেতে পারেন মুক্তি
আপিলেও জামিন বহাল আইভির, পেতে পারেন মুক্তি

হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রোববার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের এ আদেশের ফলে আইভীর বিরুদ্ধে থাকা মোট ১২টি মামলার সবকটিতেই জামিন বহাল রইল। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। আদালতে আজ আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন। আইভীর আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এস এম হৃদয় রহমান জানান, সবকটি মামলায় জামিন বহাল থাকার প্রত্যয়ন ও আদালতের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আমরা আশা করছি।  

Admin মে ১৭, ২০২৬ 0
নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল ও কিছু জাতীয়তাবাদী ছোট দলের নেতৃবৃন্দ একাধিক দফায় বৈঠকে বসেছেন এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের মতানৈক্য ও পারস্পরিক অনাস্থা ভুলে নেতারা এখন একটি বৃহত্তর ঐক্যের দিকে এগোচ্ছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। বিশেষ করে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই জোটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এতে করে নির্বাচনে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের দাবি ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতৃবৃন্দ। জোট গঠনের আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো একমত হয়েছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় একটি সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করবে। নির্বাচনী আসন ভাগাভাগি, প্রার্থী নির্বাচন, নীতিগত রূপরেখা ইত্যাদি বিষয়েও খসড়া আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সমঝোতা চুক্তির। তবে এই প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে সহজ নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন মতাদর্শ, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও আস্থার ঘাটতি মাঝে মাঝে প্রক্রিয়াকে মন্থর করে তুলছে। তবুও বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেক নেতাই আশাবাদী যে, বাস্তবতা ও সময়ের দাবি মেনে সবাই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাবেন। এই জোট গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তারা যদি বৃহৎ বিরোধী শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমন্বয় করতে সক্ষম হয়, তবে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, একটি সুসংগঠিত ও নীতিনির্ভর জোট দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হতে পারে ইতিবাচক বার্তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সমঝোতা এবং নেতৃত্বে নমনীয়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবাই যদি নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ কিছুটা পেছনে রেখে সম্মিলিত লক্ষ্যে একমত হতে পারেন, তাহলে এ জোট একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়ে রূপ নিতে পারে। সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠক ও চলমান আলোচনা একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে অচিরেই এই নতুন জোট দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারে। জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয়—এই আলোচনা কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তবে রূপ নেয় কার্যকর এক ঐক্যে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
নির্বাচনের প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ
নির্বাচনের প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই রোডম্যাপে নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত সময়সূচি, প্রাথমিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি এবং ভোট গ্রহণের কাঠামো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসি প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। প্রকাশিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদ থেকে শুরু করে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটকেন্দ্র সংস্কার, নির্বাচনী আসনের সীমা পুনঃনির্ধারণ, পর্যবেক্ষক নিবন্ধন, ইভিএম প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণ—সবকিছুই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। কমিশনের দাবি, এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা ফেরানো ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এই রোডম্যাপ প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন দল এটিকে সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং এই রোডম্যাপ একটি স্থিতিশীল নির্বাচনী পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে। অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো রোডম্যাপকে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে বলেছে—এটি শুধু সময়ক্ষেপণের কৌশল, যেখানে প্রকৃত সমস্যার সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোডম্যাপ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় রোডম্যাপে সুন্দর পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তা পূর্ণরূপে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোডম্যাপ কাগজে সীমাবদ্ধ থেকেই যাবে। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কমিশনের করণীয় অনেক। একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া জরুরি, তেমনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জনসাধারণের আস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। কারণ একটি অবাধ নির্বাচন শুধু সময়সূচির ওপর নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং নির্বাচনী আইন সংশোধন—এসব বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন। রোডম্যাপে এসব বিষয় যুক্ত থাকলেও বাস্তবে কতটুকু অগ্রগতি হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাধারণ জনগণ এই রোডম্যাপকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও তারা চান এর বাস্তব প্রতিফলন। কারণ অতীতে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ও সহিংসতার কারণে মানুষ আস্থাহীনতায় ভুগেছে। একটি অংশগ্রহণমূলক, সহিংসতামুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে। সবশেষে বলা যায়, নির্বাচন কমিশনের এই রোডম্যাপ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে পারে, যদি তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং সব পক্ষ এতে আস্থা রাখে। শুধু ঘোষণা নয়, দরকার সম্মিলিত প্রয়াস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা—যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি হতে পারে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক
জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক

জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সংসদে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা। চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একপক্ষ বলছে এটি একটি “উন্নয়নমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট”, অন্যপক্ষ এটিকে বলছে “গণবিরোধী, ঋণনির্ভর ও সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা।” চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, রপ্তানিমুখী শিল্প, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূল্যস্ফীতি ও কর কাঠামো। বিরোধী দল অভিযোগ করে বলেছে, সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা, তখন বাজেটে কর আরোপ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জনগণের কাঁধে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেবে। তারা দাবি করেন, এই বাজেট উচ্চবিত্ত ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানবান্ধব, যেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও এই বাজেট স্থিতিশীলতা ধরে রাখবে। তারা যুক্তি দেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চ থাকলেও তা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। অনেকেই বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে উন্নয়ন খাতে বড় বরাদ্দ থাকলেও সময়মতো কাজ শেষ হয় না, ফলে অর্থের অপচয় হয়। এই বাজেটে কৃষিখাতে কিছু প্রণোদনা থাকলেও, বাস্তব সহায়তা কম বলে অভিযোগ করেছে কৃষক সংগঠনগুলো। একইভাবে শিক্ষাখাতে ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলা হলেও, গ্রাম ও মফস্বলে প্রযুক্তির বাস্তবপ্রয়োগে ঘাটতি থাকায় তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে সুশাসন, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা, এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক দাবিগুলোও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন একাধিক সংসদ সদস্য। সংসদে এই বাজেট নিয়ে আরও কয়েকদিন আলোচনা চলবে এবং সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তবে এরইমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে—এই বাজেট কেবল আর্থিক দলিল নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিশনের প্রতিফলনও বটে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি: প্রধান দলগুলোর নতুন কৌশল

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি: প্রধান দলগুলোর নতুন কৌশল বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় নির্বাচন সবসময়ই একটি উত্তপ্ত এবং আলোচিত বিষয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ঘিরে রাজপথ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় তুমুল আলোচনা, সমালোচনা এবং নানা হিসাব-নিকাশ। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বড় বড় দলগুলো নতুন কৌশল, নতুন মুখ এবং নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হচ্ছে জনগণের দরবারে। বর্তমান সরকার টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর এখন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা বিগত সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অবকাঠামোগত পরিবর্তন, ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে সামনে এনে জনগণের মন জয় করতে চাইছে। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধন, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের প্রসার ইত্যাদিকে সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্ব ইস্যুতে জনগণের ক্ষোভ কমাতে নানা প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলগুলো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরছে স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের অভাবের বিষয়ে। তারা বলছে, বিগত নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এবার তারা চায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে সমান সুযোগ নিয়ে। এই দাবিকে সামনে রেখে তারা জোট গঠন, রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গণসংযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে তারা গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-মফস্বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে জনগণের আস্থা অর্জন করা যায়। নতুন এই নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি বা বিকল্প রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম, সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক চিন্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি এই দলগুলোর মূল হাতিয়ার। তারা জনগণকে ‘নতুন রাজনীতি’র স্বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। যদিও মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রভাব এখনো সীমিত, তবে অনলাইন এবং শহুরে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে তারা একটি আলোচনার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই নির্বাচনে একটি নতুন ট্রেন্ড হচ্ছে—রাজনৈতিক কৌশলে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিভিন্ন দল ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। ডিজিটাল প্রচারকৌশল, ইমেজ বিল্ডিং, লাইভ বিতর্ক, অনলাইন জরিপ—সবকিছুই এখন নির্বাচনী কৌশলের অংশ। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সব দলেরই এখন বড় নজর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। যদি জনগণ মনে করে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, তবে তা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু যদি আগের মতো অভিযোগ, সহিংসতা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সময় অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। জনগণ এখন অপেক্ষায় আছে—দলগুলো কীভাবে তাদের কথা রাখবে, কেমন হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব, আর কোন কৌশল জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হবে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

Top week

অপরাধ

কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

Admin মে ৩০, ২০২৬ 0