অপরাধ

রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

আয়ান তাহরিম অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ
সাইদা ইসলামের

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/১ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ভবন নকশা অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, জোনটিতে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ফি ও বৈধ প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী অনিয়মের সিন্ডিকেট। অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইমারত উচ্ছেদ বা নিয়মমাফিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে মোবাইল কোর্টের নামে কেবল লোকদেখানো ও প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা রাজউকের সার্বিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জোন-৫/১ এলাকায় ৫ থেকে ৬ তলা বিশিষ্ট ছোট বা মাঝারি আবাসিক ভবনের নকশা (Plan Approval) অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ঘুষ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবন ৬ তলা হোক কিংবা ১০ থেকে ১২ তলা—এমন কোনো ফাইল নেই যেখানে ৫ লাখ টাকার কমে লেনদেন হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি ফি এবং নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে যদি কেবল নকশা পাস করাতেই ৫ লাখ টাকা গুনে দিতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে বাড়ি নির্মাণ করবে?

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘুষের এই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ নিয়ে ভুক্তভোগীরা আপত্তি তুললে অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম নাকি সাফ জানিয়ে দেন যে, “এই টাকা একা আমার পকেটে যায় না; পরিচালক থেকে শুরু করে ওপরের মহলের সবাইকে ভাগ দিতে হয়।” ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম জড়ানোর ঘটনায় পুরো রাজউক কার্যালয়ে তীব্র গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত বা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্য ও শিথিলতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও ইমারত সম্পূর্ণ অপসারণ, সিলগালা বা আইনানুগ কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে কেবল বিদ্যুৎ সংযোগ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সাময়িক মিটার খুলে নেওয়ার মতো দায়সারা ও প্রতীকী পদক্ষেপে অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে অভিযানের পরদিনই পুনরায় অননুমোদিত নির্মাণ কাজ চালু হয়ে যায়।

তাছাড়া, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ইমারত পরিদর্শকদের (Buildings Inspectors) দাপ্তরিক কাজেও অযাচিত হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ রয়েছে সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে। কোনো পরিদর্শক আইনগত নিয়ম মেনে কোনো ইমারতের বিরুদ্ধে নোটিশ বা ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাকে কড়া সুরে বলা হয়— “আমাকে না জানিয়ে কিছু করবেন না।” নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালীর ভবনের ক্ষেত্রে অভিযান নামমাত্র রক্ষা করার সংস্কৃতি জোনটিতে স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের দাপ্তরিক কাজের ধীরগতি ও ফাইল নিষ্পত্তির স্থবিরতা নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত আইডিতে বর্তমানে অর্ধশতাধিক অনুমোদনের ফাইল দিনের পর দিন আটকে বা ঝুলে রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলের নামমাত্র অনুমোদন সম্পন্ন হলেও বিপুলসংখ্যক আবেদন টেবিলবন্দী করে রাখা হয়েছে। অভিযোগকারীদের সুনির্দিষ্ট দাবি, নির্ধারিত অতিরিক্ত ঘুষের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই ফাইলগুলো এক ইঞ্চিও সামনে এগোয় না, যার ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাসের পর মাস রাজউকের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে।

ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী, নির্ধারিত নকশা ও শর্ত ভঙ্গ করে ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজউকের অথরাইজড অফিসারদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে নকশা যাচাই করা এবং অবৈধ নির্মাণ তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ বা সিলগালা করা।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, সরকারি পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা ঘুষ বা উৎকোচ গ্রহণ করা এবং ওপরের মহলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে।

রাজউকের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন সংস্থায় দুর্নীতি ও ফাইল বাণিজ্যের এই চিত্র শহরবাসীর মৌলিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে, অভিযুক্ত সাইদা ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি ও বিধিমালার প্রসঙ্গ তুলে পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন মহলের জোর দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সাইদা ইসলামের আমলের ফাইল জট, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হোক। জোন-৫/১-এ সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

অপরাধ

View more
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান ৫০টি চোরাই ভারতীয় মোবাইল জব্দ
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান ৫০টি চোরাই ভারতীয় মোবাইল জব্দ

​ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি  চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এই সাফল্য আসে।​গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোররাত ১২টা ৪০ মিনিটে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ তেলকুপি বিওপি থেকে একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।   সীমান্ত পিলার ১৭৯/৪-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামস্থ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।​অভিযান চলাকালীন চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন মডেলের ৫০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করতে সক্ষম হয়। ​এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ​তিনি আরও বলেন, "বিজিবি সকল প্রকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।"

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

রাজউক জোন-৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘প্ল্যান বাণিজ্য’, প্রতীকী মোবাইল কোর্ট ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপ্রক্রিয়া

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপ্রক্রিয়া

২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে
২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে

  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও যন্ত্রপাতির মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রেখে এবং ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রকল্পের কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব কাজ করেছে। উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এই প্রকল্পে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং বীজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফিউমিগেশন শিট নিয়ে তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের শিট আমদানির কথা থাকলেও পরে চীন থেকে তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাহানারা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ দেওয়ার অভিযোগও তাঁরা তুলেছেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ কম্বাইন হারভেস্টার নিয়ে। ঝিনাইদহের সাধুহাটি খামারে সরবরাহ করা বাংলামার্ক ব্র্যান্ডের মার্কসান এমএস ১০০০ মডেলের হারভেস্টার নিয়ে দাপ্তরিক আবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রটি চালানোর সময় খড়ের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান অপচয় হচ্ছে। যন্ত্রের ট্যাংকে জমা হওয়া ধানের একটি অংশের খোসা ভেঙে চাল বেরিয়ে আসার অভিযোগও আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধুহাটি খামারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল হাই যন্ত্রটি বদলে নতুন ও সচল হারভেস্টার দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। হবিগঞ্জের ইটাখোলা খামারেও একই ধরনের সমস্যার কথা বলা হয়েছে। বারবার মেরামতের পরও সেখানকার যন্ত্রটি সচল করা যায়নি, আর এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছেন খামারটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ওসমান গনি। সাধুহাটি ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং হারভেস্টারের চালকের আসনে বসে ঠিকমতো যন্ত্র চালাতে অসুবিধার কথাও এসেছে। বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে। বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিড ড্রায়ার কেনার দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ১১৭৮৮৪১ ও ১১৭৮৮৪০ নম্বর টেন্ডার আইডির আওতায় অভিজ্ঞ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়ার কারণ কী ছিল এবং সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একই মানদণ্ড মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিএডিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দরপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হোক, আর অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
ইমদাদুল-মিজান সিণ্ডিকেটের সার গ্রাস, নড়েচড়ে বসেছে দুদক

ইমদাদুল-মিজান সিণ্ডিকেটের সার গ্রাস, নড়েচড়ে বসেছে দুদক

এত মধু চট্রগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে, চেটে খাচ্ছে সহকারী পরিচালক!

এত মধু চট্রগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে, চেটে খাচ্ছে সহকারী পরিচালক!

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ১টি স্বর্ণেরবার সহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ১টি স্বর্ণেরবার সহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক।

২১৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৫
২১৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৫

  জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। এ ঘটনায় ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরো একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০ সিসির একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন—ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয় (২৭), বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৭) ও মো. সিফাত (২০), গাজীপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) এবং বকশীগঞ্জের নিলক্ষিয়া মির্ধাপাড়া গ্রামের মো. ফুরকান হোসেন (১৯)। রোববার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদক অনুপ্রবেশ ও এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
মুগদায় তরুণীর নামে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ

মুগদায় তরুণীর নামে ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ

আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

গণপূর্তে একদিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিনই বিল দেওয়ার অভিযোগ

গণপূর্তে একদিনে ২৭ টেন্ডারের চুক্তি, পরদিনই বিল দেওয়ার অভিযোগ

0 Comments