শিক্ষা

ভিসিকে বহালের দাবিতে চুয়েটে শাটডাউন, অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
ভিসিকে বহালের দাবিতে চুয়েটে শাটডাউন, অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা
অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্ব পদে

 


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এ আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা—সদ্য অপসারিত অধ্যাপক ড. সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিও পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক ছাত্রীও অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অধ্যাপক ড. সায়েমকে স্বপদে ফেরানোর দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর তারা একজন অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য পেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

শিক্ষা

View more
ভিসিকে বহালের দাবিতে চুয়েটে শাটডাউন, অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা
ভিসিকে বহালের দাবিতে চুয়েটে শাটডাউন, অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা

  চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে এ আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা—সদ্য অপসারিত অধ্যাপক ড. সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিও পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক ছাত্রীও অংশ নেন। রাত ১২টার দিকে মিছিলটি পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং অধ্যাপক ড. সায়েমকে স্বপদে ফেরানোর দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর তারা একজন অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য পেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

News সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ 0
মেধাবী শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ না দিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে: শিক্ষামন্ত্রী

মেধাবী শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ না দিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতি উপজেলায় একটি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি

প্রতি উপজেলায় একটি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল
সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়াতে সিলেটে উদ্বোধন হলো ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ স্কুল

  সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’—এসএসএসডিডব্লিউ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া। মহড়ায় ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে টহল, চোরাচালানিদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রমেও ড্রোনের ব্যবহার তুলে ধরা হয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে ম্যাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে প্রদর্শন করা হয় আকর্ষণীয় ‘ড্রোন ফ্লাই-পাস্ট’। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। নতুন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সীমান্ত নজরদারি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার

অনুমতি ছাড়াই সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেন মাদ্রাসা সুপার

পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

পবিপ্রবিতে সিরাতুন্নবী (সা:)-২০২৫ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ

বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত

বিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে স্থাপিত হলো ২১ এসি

  দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মসজিদে আসা মুসল্লিরা। সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এসিগুলো। মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি ব্যবস্থার দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তাগাদার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে এসি ব্যবস্থা চালু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে জোহরের নামাজ আদায় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে ভালো লাগল। সেখানে মসজিদের নতুন এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করলাম। মুসল্লিদের মুখে স্পষ্টতই আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ দেখলাম।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর অবশেষে মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।’ অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে। এর উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ড. ফাওজুল কবির খান তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় ওই দাতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পরবর্তী কয়েক মাস ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সাবেক উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এসি ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মসজিদের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে মসজিদের এসি সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, একটা লম্বা সময় যুদ্ধের পর মসজিদে এসি চালু হলো। মসজিদের পুরো কাজটা করতে যে কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে এসির লাইন পেতে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি, নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস—সব জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরেছি।’ ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রেখেছে।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। আবু সাদিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দিয়েছে দলীয় প্রভাবশালী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোও সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।  

News আগস্ট ১০, ২০২৬ 0
স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা

স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের পড়ালেখা ফ্রি করবে সরকার: ডা. জুবাইদা

আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আ.লীগ আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে: সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

একযোগে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

0 Comments