রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় জমির দাম অনেক। এই এলাকারই ১৭ একর ৪৬ শতাংশ জমিতে দেশের অন্যতম কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার/গুদাম (সিএসডি)। সে অনুযায়ী এই গুদাম এলাকায় সবসময় নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। পাশাপাশি পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। উল্টো এই গুদামের অনেকগুলো কক্ষ দখলে নিয়ে ব্যবসা করছে স্থানীয় লোকজন। আবার এখানে বেশকিছু কক্ষ সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত ৩০ আগস্ট সরেজমিনে দেখা গেছে, তেজগাঁও সিএসডির চারপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানস্ট্যান্ড। এছাড়া গুদামের সীমানাপ্রাচীর ঘিরে অর্ধশত দোকান ও খুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এসব ঘরে চলছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান। কিছু ঘরে শ্রমিকেরা বসবাস করছেন। সিএসডির প্রবেশ পথের এক পাশে বসানো হয়েছে একটি রেস্তোরাঁ।

সিএসডির ভেতরে বটতলার পূর্বপাশে এক একরের চেয়েও বেশি জমি খালি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই খালি জমিতে দুটি গুদাম ছিল। সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই জমি একটি বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, এখানের প্রতিটি গুদাম একতলা। কাগজে-কলমে মোট ৫১টি গুদাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৮ ও ১৯ নম্বর—এই ৮টি গুদামের কোনো অস্তিত্বই নেই। বর্তমানে থাকা ৪৩টি গুদামের মধ্যে ২০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর গুদাম সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী। এর বাইরে ৩৮, ৪১, ৪৩, ৪৭, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বরসহ ১১টি গুদাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোতে খাদ্যশস্য রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিএসডির ভেতরের এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১১২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৯১ টাকার এই জমি ২০২২ সালের ২২ মে ওই মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী এক হাজার এক টাকা মূল্যে বরাদ্দ দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্যবহার না করায় ওই জমি খালি পড়ে আছে। এই অব্যবহৃত জমি খাদ্য অধিদপ্তর ফেরত চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। খাদ্য অধিদপ্তর ওই জমিতে এক হাজার টন ধারণ ক্ষমতার তিনটি গুদাম নির্মাণ করতে চায়। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জমি ফেরত না দেওয়ায় সিএসডির অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণ ও নতুন গুদাম নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে।
সিএসডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৯ সালে তেজগাঁওয়ে এই কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষাণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিএসডির ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। এখানে চাল, আটা ও গম মজুত করে রাখা হয়। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে এখানে গম আসে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে চাল। এছাড়া চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের বিভিন্ন মিল থেকে এখানে আটা সরবরাহ করা হয়।
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ওএমএস (ওএমএস) কর্মসূচি, টিসিবি এবং বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী সিএসডি থেকে চাল, গম ও আটা সরবরাহ করা হয়। তবে সম্প্রতি তেজগাঁও সিএসডির থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত।

সম্প্রতি সিএসডির একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যবস্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা, জরাজীর্ণ গুদাম এবং জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়াতে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে ১২টি নিষ্কাশন পথ দিয়ে সিএসডি এলাকার পানি বের হলেও বর্তমানে প্রায় সব পথ বন্ধ রয়েছে। কেবল বিজি প্রেস কোয়ার্টার এবং হলিডে ইন হোটেলের ড্রেনের ওপর পুরো সিএসডির পানি নিষ্কাশন নির্ভর করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের মুখ ময়লায় বন্ধ হয়ে সিএসডির ভেতরে কোমর পানি জমে যায়। এতে গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। একইসঙ্গে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এতে সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকেরাও ঝুঁকিতে রয়েছে।
জনবল সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত
সিএসডি পরিচালনায় অনুমোদিত পদ ১৩৬টি। এর মধ্যে ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ব্যবস্থাপকের একটি পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরীর ৪৮টি পদ থাকলেও কর্মরত আছে ৩১ জন। বাকি ১১ জন অন্য দপ্তরে প্রেষণে আছেন। এছাড়া এখানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়ুদারের তীব্র সংকট রয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে ১৯ জন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে তা কমিয়ে মাত্র চারজনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
জানা গেছে, সিএসডিতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ মানুষের সমাগম হয়। এখানে দিনে হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য ওঠানো ও নামানো হয়। কিন্তু এই বিশাল চত্বর মাত্র চারজন খন্ডকালীন ঝাড়ুদার দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রহরীদের বড় একটি অংশ অন্য দপ্তরে সংযুক্ত আছে। এতে এই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য গুদামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভেতরের রাস্তাগুলো বেহাল
সিএসডির ১ নম্বর ব্রিজস্কেল থেকে ৩৬ নম্বর গুদাম পর্যন্ত এবং ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গুদামের সামনের রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খাদ্যশস্যবাহী ট্রাক প্রায়ই বিকল হয়ে যায় এবং ঝাঁকুনিতে বস্তা ফেটে চাল বা গম নষ্ট হয়ে যায়।
খাদ্যশস্য আনা ও নেওয়ার জন্য সিএসডির ভেতরে রেললাইন রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে সাইডিং ডুয়েলগেজে (প্রধান লাইনের পাশাপাশি ট্রেন পার্কিং, মালামাল ওঠানো এবং নামানো বা ক্রসিংয়ের জন্য একটি অতিরিক্ত লাইন) রূপান্তরের পর গত ১০ মে ওয়াগন প্রবেশের সময় ৩ নম্বর লোহার গেটের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গেটটি ভেঙে যায়। ফলে সিএসডি চত্বর বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
শ্রমিকদের মানবেতর জীবন
সিএসডিতে ৩৫০ জন শ্রমিক আছে। কিন্তু উচ্চমূল্যের বাজারে অনেক কম বেতন পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিটন খাদ্যশস্য লোড করতে শ্রমিকেরা পাচ্ছেন মাত্র ৬০ টাকা ৮০ পয়সা। এই অবস্থায় খাদ্য অধিদপ্তর শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি।
মজুরি না বাড়ানোর কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শ্রমিকেরা দায়িত্ব শেষে কারওয়ানবাজার গিয়ে সবজি ও অন্যান্য মালামাল ওঠানামার কাজ করে কোনোমতে সংসার টিকিয়ে রাখছেন।
দবিরুল নামে একজন শ্রমিক বলেন, ৩৮ বছর ধরে তিনি সিএসডিতে পণ্য ওঠানো ও নামানোর কাজ করছেন। বর্তমানে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চালানো দূরে থাক, নিজের চলতেও কষ্ট হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলে অনেক সুবিধা হতো।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিএসডির ১২টি গুদাম ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। আটটি মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে রাস্তা মেরামত করা হবে। গুদামের ভেতরে ড্রেনগুলোও সংস্কার করা হবে। সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খান মুঠোফোনে বলেন, যেসব গুদাম অকেজা হয়ে পড়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। তবে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। এছাড়া ২০২২ সালে যে এক একর জমি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে প্রতীকী মূল্যে দেওয়া হয়েছিল, সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সিএসডির অন্যান্য সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রপিরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি (৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ও দালালদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছেন। দুদক জানায়, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসাবে দৈনিক আদায় করা ঘুষের অঙ্ক কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকা। ঘুষের শতকরা ৭০ শতাংশ চলে যায় কতিপয় অসাধু সাবরেজিস্ট্রারের পকেটে। এছাড়া টাকার ভাগ বাটোয়া হয়ে দালাল, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশদের মধ্যে। ভুয়া নামজারিসহ প্রয়োজনীয় আরও কিছু জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।