অপরাধ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’: স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি, কমিশন ও শতকোটি টাকার সম্পদ

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’: স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি, কমিশন ও শতকোটি টাকার সম্পদ
উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে

 


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি করে বিশাল প্রভাবের এক ‘অদৃশ্য কাঠামো’ গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিজের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে তা অন্যের কাছে বিক্রি এবং বিল ছাড় করাতে কমিশন দাবিসহ নানা অভিযোগে এখন তোলপাড় অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় আনোয়ার হোসেনের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিবর্তন হলেও তার আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকার সুবাদে প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

আগে কাজ নির্ধারিত, পরে তৈরি হতো প্রাক্কলন

অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে প্রচলিত সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আগে থেকেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ নিশ্চিত করা হতো। কাজ ঠিক হওয়ার পর সেই অনুযায়ী তৈরি করা হতো প্রাক্কলন বা এস্টিমেট। অর্থাৎ ‘আগে কাজ, পরে এস্টিমেট’—এমন একটি নিয়মবহির্ভূত অলিখিত চর্চা চালু করেছিলেন এই কর্মকর্তা।

স্ত্রীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ‘কাজ বিক্রি’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘মেসার্স ওহি ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটি যশোর ও চাঁদপুরে গ্রাউন্ড ওয়াটার বিভাগের বেশ কয়েকটি কাজ বাগিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে চুক্তিপত্র, কার্যাদেশ ও ব্যাংক লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওহি ট্রেডার্স কাজ পাওয়ার পর সেগুলো বাস্তবায়ন না করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তরিত বা ‘হাতবদল’ করা হতো। সরকারি প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিবার সরাসরি একই প্রকল্পের ঠিকাদার হওয়ায় স্বার্থের দ্বন্দ্বের (Conflict of Interest) বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিল ছাড়াতে ২% কমিশন দাবি

ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন কাজের বিল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেনকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এর বাইরেও প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনো কোনো প্রকল্প পরিচালক তার কথা না শুনলে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটানো হতো বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

দশম গ্রেডের কর্মচারীর কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও অঢেল সম্পদ

দশম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী হিসেবে আনোয়ার হোসেনের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ এই বেতনের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে রাজধানীতে কোটি টাকার ফ্ল্যাটসহ শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিংয়ের ‘খ’ ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাড়িতে আনোয়ারের পরিবারের একটি ১৫০০ বর্গফুটের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসূত্রে আনোয়ার হোসেন উক্ত ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকার দাবি করলেও, পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রীর নামে কেনা। বর্তমান বাজারমূল্যে গ্যারেজসহ এই ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও রাজধানীতে তার পরিবারের আরও একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের তথ্য রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

অপরাধ

View more
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’: স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি, কমিশন ও শতকোটি টাকার সম্পদ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’: স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি, কমিশন ও শতকোটি টাকার সম্পদ

  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি করে বিশাল প্রভাবের এক ‘অদৃশ্য কাঠামো’ গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিজের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে তা অন্যের কাছে বিক্রি এবং বিল ছাড় করাতে কমিশন দাবিসহ নানা অভিযোগে এখন তোলপাড় অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রাক্কলন (এস্টিমেট) ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় আনোয়ার হোসেনের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পরিবর্তন হলেও তার আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকার সুবাদে প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। আগে কাজ নির্ধারিত, পরে তৈরি হতো প্রাক্কলন অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে প্রচলিত সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আগে থেকেই নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ নিশ্চিত করা হতো। কাজ ঠিক হওয়ার পর সেই অনুযায়ী তৈরি করা হতো প্রাক্কলন বা এস্টিমেট। অর্থাৎ ‘আগে কাজ, পরে এস্টিমেট’—এমন একটি নিয়মবহির্ভূত অলিখিত চর্চা চালু করেছিলেন এই কর্মকর্তা। স্ত্রীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ‘কাজ বিক্রি’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘মেসার্স ওহি ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটি যশোর ও চাঁদপুরে গ্রাউন্ড ওয়াটার বিভাগের বেশ কয়েকটি কাজ বাগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চুক্তিপত্র, কার্যাদেশ ও ব্যাংক লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওহি ট্রেডার্স কাজ পাওয়ার পর সেগুলো বাস্তবায়ন না করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তরিত বা ‘হাতবদল’ করা হতো। সরকারি প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিবার সরাসরি একই প্রকল্পের ঠিকাদার হওয়ায় স্বার্থের দ্বন্দ্বের (Conflict of Interest) বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিল ছাড়াতে ২% কমিশন দাবি ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন কাজের বিল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেনকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এর বাইরেও প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোনো কোনো প্রকল্প পরিচালক তার কথা না শুনলে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব খাটানো হতো বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। দশম গ্রেডের কর্মচারীর কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও অঢেল সম্পদ দশম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী হিসেবে আনোয়ার হোসেনের মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ এই বেতনের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে রাজধানীতে কোটি টাকার ফ্ল্যাটসহ শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিংয়ের ‘খ’ ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাড়িতে আনোয়ারের পরিবারের একটি ১৫০০ বর্গফুটের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসূত্রে আনোয়ার হোসেন উক্ত ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকার দাবি করলেও, পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রীর নামে কেনা। বর্তমান বাজারমূল্যে গ্যারেজসহ এই ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও রাজধানীতে তার পরিবারের আরও একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের তথ্য রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ধনবাড়ীতে দুই গ্রাম হে*রো*-ইন উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার...

ধনবাড়ীতে দুই গ্রাম হে*রো*-ইন উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার...

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ মাগুরার অভিযোগ পেরিয়ে সংসদ ভবনে

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ মাগুরার অভিযোগ পেরিয়ে সংসদ ভবনে

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদকসহ আটক ১

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদকসহ আটক ১

গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য প্রপার্টি সিন্ডিকেট’ গোপনে চালাচ্ছেন আবাসন ব্যবসা
গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর ‘অদৃশ্য প্রপার্টি সিন্ডিকেট’ গোপনে চালাচ্ছেন আবাসন ব্যবসা

  অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই সরকারি কর্মকর্তা—সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসার এবং তাঁর স্ত্রী, একই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহার—মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ‘অদৃশ্য প্রপার্টি সিন্ডিকেট’। সরকারি পদের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্বজনদের আড়ালে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল বাসার তাঁর সহোদর ভাই ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ-উল আলমের নামে ‘ডালাস ডেভেলপারস অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড’ পরিচালনা করছেন। কাগজপত্রে ভাইয়ের নাম থাকলেও মূল নেপথ্য পরিচালনায় রয়েছেন আবুল বাসার নিজেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টত আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী, সরকারের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী লাভজনক কোনো ব্যবসা বা বাণিজ্যে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারেন না। গণপূর্তের প্রকৌশলীরা যেখানে সরকারি ভবন নির্মাণকাজের বাজেট প্রাক্কলন, কাজের তদারকি ও বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন, সেখানে একই পদে থেকে ব্যক্তিগত আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করা ‘স্বার্থের চরম সংঘাত’ (Conflict of Interest)। সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের এক জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে সহকারী প্রকৌশলী ই/এম আবুল বাসারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক যোগাযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে এই সিন্ডিকেটের আসল রূপ বেরিয়ে আসে, নাকি তাঁরা অধরাই থেকে যান। এ বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই সরকারি কর্মকর্তা—সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) আবুল বাসার এবং তাঁর স্ত্রী,  সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহার কে একাধিকবার ফোন করার পরেও কোন প্রকার কোন ফোন রিসিভ করেনি  বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।    

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
গণপূর্তের শীর্ষ চেয়ার পেতে মরিয়া প্রকৌশলী খায়ের

গণপূর্তের শীর্ষ চেয়ার পেতে মরিয়া প্রকৌশলী খায়ের

বিটিসিএলের হাম্মাদ মুজিবের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

বিটিসিএলের হাম্মাদ মুজিবের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

সরকারি সম্পদে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল

সরকারি সম্পদে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

  নিয়োগ–পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন। এর সঙ্গে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এমন বিস্তর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। দুদক জানায়, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগটি সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। দুদক বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্ক হিসাবে সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। বিষয়টি অনুসন্ধানে যাচাই করবে দুদক। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক। এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।  যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বিদেশে ১১ হাজার কোটি: দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দুদক। চার দেশে মোট অর্থপাচারের অভিযোগ ১১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।  দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।  পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়েই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এর আগেও আসিফ মাহমুদসহ সচিব মো. মাহবুব–উল–আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।  এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলা হয়। চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিমকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন অভিযোগে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ–পদায়ন এবং চার দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় বিষয়টি বড় পরিসরে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সরকারি প্রকৌশলী, নাকি ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যস্থতাকারী? আব্দুর রউফকে ঘিরে প্রশ্ন

সরকারি প্রকৌশলী, নাকি ফ্ল্যাট বিক্রির মধ্যস্থতাকারী? আব্দুর রউফকে ঘিরে প্রশ্ন

জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ পূজা চেরির বাবার বিরুদ্ধে

জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ পূজা চেরির বাবার বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও ফেন্সিডিল জব্দ

0 Comments