বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাইপ্রাসে তার নিজের নামে দুটি এবং ‘বাগুটেল লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে সংস্থাটি। এসব হিসাবে লাখ লাখ ইউরো ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদেশে থাকা সম্পদ তিনি সরিয়ে ফেলতে বা কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন, এই শঙ্কায় হাম্মাদ মুজিব ও সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাইপ্রাসে হাম্মাদ মুজিবের একটি ব্যাংক হিসাবে ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো জমা হয়। নিজের নামে আরেকটি হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২২৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া ‘বাগুটেল লিমিটেড’-এর দুটি হিসাবে যথাক্রমে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭২ ইউরো এবং ২০ লাখ ৪৪ হাজার ২৮ মার্কিন ডলারের জমা ও উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। বাগুটেল লিমিটেডের মাধ্যমে হাম্মাদ মুজিব অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) ব্যবসা চালাতেন বলে অভিযোগ আছে। টেলিকম খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদের অপব্যবহার করে সাইপ্রাসে তিনি অবৈধ এই ভিওআইপির ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাইপ্রাসের হিসাব থেকে যুক্তরাজ্যে তার বোন রাহি রহমানের কাছে তিন দফায় ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮ ইউরো পাঠানো হয়। ব্যাংক নথিতে এসব অর্থ ‘উপহার’ হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের দাবি, লন্ডনের একটি সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থগুলো পাঠানো হয়েছিল। একই হিসাব থেকে ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের শিক্ষার ব্যয় বাবদ যুক্তরাজ্যের একটি কলেজে ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।
দুদক বলছে, হাম্মাদ মুজিব এসব বিদেশি ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য ২০২০ সালে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে উল্লেখ করেননি। বিদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথিও পাওয়া যায়নি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুদকের ভাষ্য, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডি, অর্থ স্থানান্তর ও স্তরীকরণের মাধ্যমে বিদেশে নেওয়া এবং সাইপ্রাসের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থের উৎস ও মালিকানা আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে।
আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে সম্পদ গোপন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট অস্থাবর সম্পদ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আদেশ দেন।
মামলার তদন্তে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে দুদক।
এসব অভিযোগ নিয়ে হাম্মাদ মুজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। হাম্মাদ মুজিব সিজেডএনকে বলেছেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি আওয়ামীপন্থী বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সাইপ্রাসে বাগুটেল লিমিটেড নামের কোম্পানির কথা বলা হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪১ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ২২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় চকোপ্লাস সিরাপ, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে আটক করেছে বিজিবি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের হঠাৎপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২২ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় চকোপ্লাস সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে ৫৩ বিজিবির মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সদর উপজেলার চরবাগডাংগা ইউনিয়নের বাখেরআলী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বাখেরআলী বিওপির টহলদল। এ সময় মো. হুমায়ুন (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর এলাকার কালিনগর গ্রামের মৃত এমরানের ছেলে। তার কাছ থেকে ৪১ পিস ভারতীয় ইয়াবা, একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। বিজিবি জানায়, জব্দ করা ইয়াবা, চকোপ্লাস সিরাপ, মোবাইল ফোন ও দুটি মোটরসাইকেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ১০০ টাকা। আটক হুমায়ুনসহ ইয়াবা, মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় এবং চকোপ্লাস সিরাপ ও অপর মোটরসাইকেল শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ বিজিবির বিভিন্ন অভিযানে একজন আসামিসহ ভারতীয় ১৮৮ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ৪৯ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ, ২২ বোতল চকোপ্লাস সিরাপ, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪১ পিস ইয়াবা ও ৬৫ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে। ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশ ইন প্রতিরোধ এবং মাদকসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও আ’লীগের সুবিধাভোগী শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নেতৃত্বে গত দুই বছর যাবৎ ডিভিশনটিতে এক ধরনের নীরব হরিলুট হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৌশলী শফিউল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রায় কোটি টাকার আরএফকিউ করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে ১০ শতাংশ হিসাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা লোপাট করেছেন। এ কাজে তিনি রাইসা এন্ড সন্স, এ খান এন্ড সন্স, এজেড ইঞ্জিনিয়ারিং, জিএনএস ইঞ্জিনিয়ারিং ও নবরূপা বিল্ডার্সসহ আরও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছেন। তাদের নামে এসব কাজ পাইয়ে দিয়ে বরাদ্দের প্রায় কোটি টাকা প্রকৌশলী শফিউলের নেতৃত্বে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শোষিত-বঞ্চিত এক ঠিকাদার জানিয়েছেন। আরও জানা যায়, পাবনার লোক হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর প্রভাবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডিভিশনটির দায়িত্বে এসে টাকার নেশায় এলটিএম টেন্ডার নিয়ে জালিয়াতি, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা, ভুয়া বিল-ভাউচারসহ বিবিধ অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এভাবে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এই পিসিখোর গণপূর্ত প্রকৌশলী। এমনকি ফ্যাসিবাদী লোকদের নামে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজেই পরোক্ষভাবে ব্যবসা করেছেন বলেও অভিযোগ আছে। প্রকৌশলী শফিউলের আসকারায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আস্থাভাজন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত পতিত লীগ সরকারের আমলে ৭ নম্বর ওয়ার্ড তেজকুনিপাড়া ও তেজগাঁও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক জামাল হোসেন এখনও বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে। তাঁর প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম। বর্তমানে এই প্রকৌশলী ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপিপন্থী দাবি করছেন। এমনকি পাবনা নিবাসী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিমুল বিশ্বাসের নাম ভাঙিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। লুটপাটকৃত অর্থের কিছু অংশ বিনিয়োগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে সেখানে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকা ও পাবনায় নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম। জানা যায়, গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পর তাঁর নেতৃত্বে এক সুবিশাল সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে উঠেছে। লীগের দোসর কথিত ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে ত্রুটিপূর্ণ কাজ এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার শরিফুল ইসলাম। আরও জড়িত ছিলেন একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। এই তিন কর্মকর্তার কাছে সাধারণ ঠিকাদাররা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪-২৫-২৬ অর্থবছরে গণপূর্ত ট্রেনিং একাডেমির সুইমিং পুল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এলেনবাড়ি এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ভবনের মেরামতের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। ১ নম্বর ভবনে বসবাসকারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, গত দুই বছরে বিল্ডিংয়ে কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। অন্যদিকে, ১২ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ-সংক্রান্ত টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ করা হয়েছে, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিতভাবে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ খাতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। একাধিক সূত্রে আরও জানা যায়, বিএনপি সরকারপ্রধান জনাব তারেক রহমান তেজগাঁও নভোথিয়েটার পরিদর্শন ও আগমন উপলক্ষে, থিয়েটারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তাঁর মনোনীত ঠিকাদার লীজা এন্টারপ্রাইজকে ১৭ লাখ টাকা, তিনটি প্যাকেজে মোট ৫০ লাখ টাকা কার্যাদেশের বিপরীতে অগ্রিম ১০ শতাংশ হারে কমিশন নিয়ে নামমাত্র মূল্যে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করার পাঁয়তারা করছেন ঠিকাদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মিলে। এ ছাড়া তেজগাঁও বিমান জাদুঘর সাজানো, মেরামত-সংস্কার কাজের বিপরীতে একই কায়দায় তাঁর মনোনীত ঠিকাদার দিয়ে নামমাত্র সংস্কার-মেরামত কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে খামারবাড়ি তুলা ভবনের মেরামত-সংস্কার কাজের প্রাক্কলন করে চড়া মূল্য, সেখানেও নয়-ছয় করে মেরামত-সংস্কার কাজ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। আর আনুষঙ্গিক কাজের নামে কাগজে-কলমে সংস্কার-মেরামত কাজ করা হয়। বাস্তবে কাজের হদিস পাওয়া যাবে না। বরাদ্দের পুরো টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে গিলে খাচ্ছেন দুর্নীতির বরপুত্র নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম। সম্পদ বিভাগের অধীনে ট্রেনিং একাডেমির মেরামত-সংস্কার ও কেনাকাটা কাজের বিপরীতে একই কায়দায় অতিরিক্ত প্রাক্কলন করে বরাদ্দকৃত অর্থ তসরুপ করছেন মহা ঘুষখোর, দুর্নীতিপরায়ণ লীগের দোসর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম। উল্লেখিত অভিযোগগুলোর ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলামের মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৪৪ বোতল মদ ও ২৮ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ভোর ৫টায় ৫৩ বিজিবি’র অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন পাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দকৃত ৪৪ বোতল ভারতীয় মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬,০০০ টাকা এবং ২৮ বোতল ফেন্সিডিলের মূল্য ১১,২০০ টাকা; যার মোট মূল্য ৭৭,২০০ (সাতাত্তর হাজার দুইশত) টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত ভারতীয় ১৮৮ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ৪৯ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৬৫ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।