জাতীয়

চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী

 


চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অথমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না। যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে একটি বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফলাফল পাচ্ছি কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চার শর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রজেক্ট পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কিনা; দ্বিতীয়ত এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কিনা এবং চতুর্থত পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কিনা। এই চার শর্ত পূরণ না করলে আমার কাছে কোনো প্রজেক্ট আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।

আমির খসরু বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি- এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়, তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত এবং এখান থেকে কী আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে। ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব এবং চুয়েট ভিসিকেও ঢাকায় এসে বৈঠক করে এই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করার পরামর্শ দিচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য চুয়েট উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আশা করি বিজনেস-অ্যাজ-ইউজুয়াল ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।ac

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার, জব্দ করলো কোস্ট গার্ড
মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার, জব্দ করলো কোস্ট গার্ড

  মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, সোমবার দিনগত রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানার বাড়বকুণ্ড ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারী। এ সময় ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বহন করা ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যান। ফলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
রাস্তার পাশে বাস থামিয়ে রাখলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে: ট্রাফিক কমিশনার

রাস্তার পাশে বাস থামিয়ে রাখলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে: ট্রাফিক কমিশনার

চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

চার শর্ত পূরণ না করলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

দুদকের নতুন মহাপরিচালক হলেন মো. নাজমুল আলম

দুদকের নতুন মহাপরিচালক হলেন মো. নাজমুল আলম

জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী
জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে ট্যাব উপহার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

  শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড দেবেন। সদ্য পাসকৃত ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলাচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় ড. মিলন বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হয় সেজন্যই তাদের উপহার দেয়া হবে।   

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সেপ্টেম্বরে ডিজেল-অকটেন-পেট্রলের দাম ঘোষণা

সেপ্টেম্বরে ডিজেল-অকটেন-পেট্রলের দাম ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

  প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে মাননীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ আয়োজন, বিশেষায়িত কোর্স ও প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিকস সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে যৌথ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। সাক্ষাৎকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য আত্মত্যাগ, উচ্চমানের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার সাথে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে এই বন্ধুত্ব আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ

এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার

এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার

সরকারের ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

সরকারের ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

0 Comments