সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’—এসএসএসডিডব্লিউ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া।
মহড়ায় ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে টহল, চোরাচালানিদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও দেখানো হয়।
এ ছাড়া বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রমেও ড্রোনের ব্যবহার তুলে ধরা হয়।
মহড়ার শেষ পর্যায়ে ম্যাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে প্রদর্শন করা হয় আকর্ষণীয় ‘ড্রোন ফ্লাই-পাস্ট’। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
নতুন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সীমান্ত নজরদারি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সিলেটে উদ্বোধন করা হয়েছে বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’—এসএসএসডিডব্লিউ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ব্যবহার সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ড্রোন পাইলটদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ‘ড্রোন ম্যানুভার’ মহড়া। মহড়ায় ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে টহল, চোরাচালানিদের শনাক্ত ও আটকের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশকারী বা অপরিচিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এন্টি-ড্রোন সিস্টেমের ব্যবহারিক প্রয়োগও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিজিবির সিক্সম্যান পেট্রোল টিমের আভিযানিক কার্যক্রমেও ড্রোনের ব্যবহার তুলে ধরা হয়। মহড়ার শেষ পর্যায়ে ম্যাভিকসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের সমন্বয়ে প্রদর্শন করা হয় আকর্ষণীয় ‘ড্রোন ফ্লাই-পাস্ট’। এর মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। নতুন এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সীমান্ত নজরদারি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মসজিদে আসা মুসল্লিরা। সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এসিগুলো। মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি ব্যবস্থার দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও তাগাদার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলে এসি ব্যবস্থা চালু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে জোহরের নামাজ আদায় করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে ভালো লাগল। সেখানে মসজিদের নতুন এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেমের উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করলাম। মুসল্লিদের মুখে স্পষ্টতই আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ দেখলাম।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর অবশেষে মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ পূর্ণতা পেল।’ অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, ‘প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে। এর উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়। ড. ফাওজুল কবির খান তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় ওই দাতাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। পরবর্তী কয়েক মাস ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সাবেক উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এসি ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছিল না। ফলে মসজিদের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে মসজিদের এসি সিস্টেম চালু করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, একটা লম্বা সময় যুদ্ধের পর মসজিদে এসি চালু হলো। মসজিদের পুরো কাজটা করতে যে কষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে এসির লাইন পেতে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি, নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস—সব জায়গায় দীর্ঘদিন ঘুরেছি।’ ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টায় প্রশাসনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের শত বাধা উপেক্ষা করে ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রেখেছে।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি। আবু সাদিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ করা জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দিয়েছে দলীয় প্রভাবশালী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ডাকসু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোও সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ মেয়াদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে পরীক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তাদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। শুধু রাজধানী নয়, শাহবাগ, মিরপুর এবং সায়েন্সল্যাবেও একই ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে এসব স্থানে কর্মসূচি শুরুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।