জাতীয়

সরকারের ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

রতন লাল আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
সরকারের ছয় মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
জ্বালানি সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ খাতের

 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিনেই নেট মিটারিং সংযোগের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ নতুনভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।  
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেট মিটারিং, এনার্জি স্টোরেজ, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 

অপরদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ট্যারিফ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অগ্রগতি হয়েছে ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দুই বিভাগ মিলিয়ে সরকারের সামগ্রিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে।


বিদ্যুৎ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্রেডার উদ্যোগে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চেন্ট পলিসির আওতায় চারটি মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে ১০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস ও বায়োগ্যাস, ক্লিন কুকিং, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ব্যবসায়িক মডেল প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অফশোর উইন্ড পাওয়ার প্রকল্প উন্নয়ন গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।

অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঈশ্বরদী ও ভুলতা গ্রিড উপকেন্দ্রে যথাক্রমে ১২০ মেগাওয়াট ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোলায় বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এর বাইরে জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পাশাপাশি ৩০টি ডেজিগনেটেড কনজুমারের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সাতটি গ্যাসকূপ খনন ও চারটি কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কূপের (সিলেট-১০ ও ১১, শ্রীকাইল-৫, রশিদপুর-১১, তিতাস-২৮ এবং সুন্দলপুর-৪) খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক মোট ২১ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়ার্কওভার সম্পন্ন শেষে চারটি কূপ থেকে দৈনিক আরও ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে নতুন করে মোট ৩২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সারা দেশে ৫০টি কূপ খননের বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় ২৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ হাজার হর্স পাওয়ারের একটি রিগ কেনার দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয়ের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসির-২০২৬ আওতায় বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থলভাগে অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসির -২০২৬ খসড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ২ডি সাইসমিক সার্ভের ৫০০ লাইন কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। তবে বর্ষাকালের কারণে ৩ডি সাইসমিক সার্ভের ১০০ বর্গকিলোমিটার কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ

মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুুবজোম এলাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়ন মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে ট্রানজ্যাকশন এডভাইজার নিয়োগের জন্য ইওআই আহ্বান করা হয়েছে। ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের লক্ষ্যে মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইআরএল প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগের জন্যও ইওআই আহ্বান করা হয়েছে।

কমেছে সিস্টেম লস

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি খাতে এ বছরের ফেব্রুয়ারি-জুন এই পাঁচ মাসে সিস্টেম লস ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমিয়ে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। 

অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ অনুযায়ী কমিশনের গণশুনানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের ট্যারিফ নির্ধারণের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প খাতে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় গ্যাস বরাদ্দ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, অফুরন্ত সম্ভাবনার উৎস: রাষ্ট্রপতি
কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, অফুরন্ত সম্ভাবনার উৎস: রাষ্ট্রপতি

  কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে রোধ এবং সমাজে তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’ বিটিভি ও বিটিভি নিউজে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন এবং কন্যাশিশুর মেধা ও স্বপ্নকে বিকশিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া নয়- এটি তার মৌলিক অধিকার, আর তার নিরাপত্তা বজায় রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি একটি কন্যাশিশুর জন্মকে একটি নতুন স্বপ্ন, আগামী দিনের সম্ভাবনা এবং একজন গর্বিত নাগরিকের জন্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এক ডানায় ভর করে যেমন কোনো পাখি উড়তে পারে না, তেমনই নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।’ কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, অফুরন্ত সম্ভাবনার উৎস: রাষ্ট্রপতি সম্পত্তি হেবা-হস্তান্তরে নতুন বিধান, দাতার ভোগদখলের অধিকার নিয়ে পরিপত্র জারি বাল্যবিয়ে রোধ ও জিরো টলারেন্স নীতি: চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিয়ে একটি শৈশবের থেমে যাওয়া এবং সম্ভাবনার অপচয়। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে কঠোর বিচারের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। যেকোনো বিপদে দ্রুত সহায়তার জন্য হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। অভিভাবক ও সমাজের প্রতি আহ্বান: অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা না ভেবে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করুন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে সহায়তা করতে বলেন তিনি। একই সাথে তিনি পবিত্র কুরআন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার আলো তুলে ধরে সমাজে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা ও মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান। কন্যাশিশুদের প্রতি বার্তা: কন্যাশিশুদের সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো এবং দক্ষতা অর্জন করো। অন্যায় ও নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা হেল্পলাইনের সহায়তা নাও।’ উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বাসভাড়া থেকে ভিক্ষা, ১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে করা যাবে সব লেনদেন

বাসভাড়া থেকে ভিক্ষা, ১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ দিয়ে করা যাবে সব লেনদেন

ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা

ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা

আ.লীগ আমলে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ, দুর্নীতির তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি
আ.লীগ আমলে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ, দুর্নীতির তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি

  ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘দুর্নীতির উদ্দেশ্যে’ গ্রহণ করা প্রকল্প বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। কমিটির সভাপতি বলেন, “জনগণের স্বার্থে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির জন্য যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং পদায়নের জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।” উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আমরা বলেছি, যেন সব কাজ টেকসই হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে যা-ই নির্মাণ করা হোক, এগুলোর গুণগত মান যেন ঠিক থাকে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পরে তিন বছর সেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে গুণগত মান ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।” স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বাহিনী এখনো মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে কমিটি মনে করে। এ কারণে কিছুটা সময় নিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেছে কমিটি। আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রতি শনিবার দক্ষিণ প্লাজা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। সারা দেশে এ কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন, “এবার কিন্তু যেভাবে প্রতিবছর মশার যে পরিমাণ উপদ্রব ছিল, এবার কিন্তু সেটি ওইভাবে নেই। কিন্তু ডেঙ্গু কেন যেন এই মাত্রাটা অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। কারণটা কী? অতীতে ছিল যে মশার তাড়নায় কেউ ঘুমাতে পারেনি। কিন্তু এখন মশা নিয়ে এ রকম কোনো পত্রিকায় আমরা লেখালেখি দেখি না। কিন্তু ডেঙ্গু যাদের হচ্ছে, তাদের মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এটির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আশা করি, এগুলোর সমাধান হবে।” সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলাম খান।

News অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0
সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে

সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে

ছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারিছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারি

ছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারি

পথচারীকে ছুরি মারতে গিয়ে নিজ দলের সদস্যকেই খুন করলো ছিনতাইকারী!

পথচারীকে ছুরি মারতে গিয়ে নিজ দলের সদস্যকেই খুন করলো ছিনতাইকারী!

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

  শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছে দেশ। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।  তবে এই টানা ছুটির সমন্বয়ের জন্য এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবরের কর্মদিবসেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। তবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও ওই দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। ফলে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর টানা তিনদিন পূজার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওইদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন  বিশেষ অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৬নং ওয়ার্ডে মশক নিধন  বিশেষ অভিযান

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

0 Comments