জাতীয়

কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষায় নতুন উদ্যোগ

খাল খননের মাটি যাবে বৈধ ইটভাটায়

এস কে সামিউল ইসলাম, অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
খাল খননের মাটি যাবে বৈধ ইটভাটায়
(টপসয়েল

 


কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা ও ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ঠেকাতে ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটির (টপসয়েল) ব্যবহার বন্ধে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে খাল খননের পর পাওয়া উদ্বৃত্ত মাটি সংগ্রহ করে তা বৈধ ইটভাটায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে একদিকে খনন করা মাটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ইট তৈরিতে কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কৃষিজমির টপসয়েল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ উর্বর মাটি কৃষিজমি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উৎপাদনশীলতা কমার পাশাপাশি দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে একটি পাইলট প্রজেক্ট নিয়েছি। আশা করি, এ বছর পাইলট প্রজেক্ট শুরু করলেও আগামীতে এটাকে আরো ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, অক্টোবরের শেষ অথবা নভেম্বরের শুরুতে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হতে পারে। যেসব এলাকায় খাল খনন হবে, সেসব এলাকার জেলা প্রশাসকদের বৈধ ইটভাটার মালিকদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খনন শেষে উদ্বৃত্ত মাটি নির্ধারিত ইটভাটায় সরবরাহ করা হবে। এতে ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহের প্রবণতা কমার পাশাপাশি খাল খননের মাটিরও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, ‘টপসয়েল নষ্ট করতে দেব না—এটা সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত। আমাদের ফার্টাইল ল্যান্ডকে রক্ষা করতে হলে ইটভাটায় টপসয়েলের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।’

ইটভাটার মালিক সমিতির নেতাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইটভাটাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে তাদেরকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি দেশে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রচলিত ইট উৎপাদনে মাটির ব্যবহার কমার পাশাপাশি ইটভাটাগুলো ধীরে ধীরে ব্লক ইট উৎপাদনের দিকে যাবে।
দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় নদী ও খাল খননে বাস্তব জটিলতা থাকলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, টপসয়েল হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগের পুষ্টিকর মাটি, যেখানে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। এই জৈব পদার্থ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টপসয়েল সরিয়ে নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত জমিকে আবার উৎপাদন উপযোগী করতে অতিরিক্ত সার ও অন্যান্য উপকরণের প্রয়োজন হতে পারে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়।


স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে টপসয়েল রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় আট হাজার ইটভাটায় কৃষিজমির টপসয়েল ও এর নিচের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। টপসয়েল অপসারণের পর তা পুনরুদ্ধারে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে। এতে কৃষি উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা কমার পাশাপাশি অনেক জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা খাদ্যনিরাপত্তাকেও হুমকিতে ফেলে।

তিনি বলেন, পোড়ানো ইটের পরিবর্তে ব্লক ইট ব্যবহারে সরকার ২০১৯ ও ২০২৫ সালে পরিপত্র জারি করলেও নানা জটিলতায় তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অসমাপ্ত পরিকল্পনাটি আবার কার্যকর করে সরকারি কাজে পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লক ইট নিশ্চিত করা গেলে টপসয়েল উত্তোলন, মাটির ক্ষয় ও বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব।


তার মতে, টপসয়েল রক্ষা করা হলে একই সঙ্গে মাটি সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ও বায়ুদূষণ কমানোর ‘থ্রি ডাইমেনশনাল’ সুফল পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, ইট তৈরির প্রধান উপাদান মাটি। কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে মাটির প্রয়োজনীয় পুষ্টি নষ্ট হয় এবং জমির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে টপসয়েল রক্ষার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। তবে নগদ লাভের আশায় অনেক কৃষক ইটভাটার মালিকদের কাছে টপসয়েল বিক্রি করেন। আইন অনুযায়ী টপসয়েল কাটার শাস্তির বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করা জরুরি।

আলমগীর কবির আরো বলেন, সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচিতে উত্তোলিত মাটি ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন। খাল থেকে উত্তোলিত মাটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে তা অপচয় রোধের পাশাপাশি ইটভাটায় কৃষিজমির মাটির ব্যবহারও কমাতে পারে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনায় খাল খননের মাটিকে ইটভাটার বিকল্প কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। খননের পর যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ওই মাটি কাজে লাগানো গেলে কৃষিজমির টপ সয়েলের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত মাটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সম্ভব হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল করতে বৈধ ইটভাটার তালিকা, মাটি সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩’-জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য জমির উপরি স্তর কাটলে তার সাজা হবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

দেশে কৃষিজমির পরিমাণ সীমিত হলেও জনসংখ্যা ও খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই বিদ্যমান জমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। একবার উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নিলে স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ কারণে ইট তৈরির মতো কাজে কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খাল খনন, বৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন, উদ্বৃত্ত মাটির ব্যবস্থাপনা এবং ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয়

View more
ফরিদপুরে প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে
ফরিদপুরে প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে

  ফরিদপুর জেলা পরিষদ দেশের সর্বপ্রথম সফলভাবে ৬০ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দিতে শুরু করেছে। দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করা হয়েছে। এতে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রায় ৪০ কিলোওয়াট চাহিদা মিটিয়ে বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ভবনের ছাদে স্থাপিত এই সোলার প্যানেল সিস্টেমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। উদ্বোধনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড আগামী ২০ বছর এটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকে জেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পর্কে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, ‘দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করে সফলভাবে এই প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরই প্রথম জেলা পরিষদ, যারা সোলার সিস্টেম চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন প্রায় ৪০ কিলোওয়াট, বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমরা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করব।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খাল খননের মাটি যাবে বৈধ ইটভাটায়

খাল খননের মাটি যাবে বৈধ ইটভাটায়

ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন

ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন

আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার: প্রধানমন্ত্রী
আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার: প্রধানমন্ত্রী

  পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে। পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার যেটা ডিউটি, তারচেয়ে কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপর যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এসব তথ্য জানান।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের পথে বার কাউন্সিল

ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের পথে বার কাউন্সিল

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি

৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনের ডাক

৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনের ডাক

চিকিৎসকদের পদায়নে স্বাস্থ্যে শুরু হলো অটোমেশন, প্রথম আদেশ পেলেন গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন
চিকিৎসকদের পদায়নে স্বাস্থ্যে শুরু হলো অটোমেশন, প্রথম আদেশ পেলেন গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন

  স্বাস্থ্য খাতের বদলি ও পদায়নে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী যৌথভাবে এই নতুন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।  উদ্বোধনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পদায়নের সরকারি আদেশ জারি করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ব্যাপক দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে অযোগ্য ও দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে বসানোর কারণে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। অতীতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে। তিনি বলেন, "বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই খাতকে নিয়মের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ চলছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং তদবির-দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই অটোমেশন সিস্টেমের উদ্বোধন করা হলো। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, আধুনিক ও মেধাভিত্তিক এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকদের মেধা, যোগ্যতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদায়ন নির্ধারণ করবে।" প্রাথমিক পর্যায়ে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) পর্যায়ের চিকিৎসকদের এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে পদায়ন আদেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সফটওয়্যারটি চিকিৎসকদের বিসিএস ব্যাচের মেরিট, বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে প্রাপ্ত মূল্যায়ন স্কোর এবং তাদের দেওয়া পছন্দের তালিকা (চয়েস লিস্ট) বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মস্থল নির্ধারণ করে দেয়। উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত জানান, প্রথম আদেশ পাওয়া গাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ১০০ নম্বরের ম্যাট্রিক্সে ৮১.৬৫ স্কোর পেয়ে তার প্রথম পছন্দের কর্মস্থল হিসেবে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রথম দিনেই এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সংখ্যক চিকিৎসকের পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। এর ফলে স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি

গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

0 Comments