অপরাধ

আওয়ামী কোটায় বাটোয়ারা

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ 0
আওয়ামী কোটায় বাটোয়ারা
আওয়ামী কোটায় বাটোয়ারা

 


ভবন নির্মাণ শেষের আগেই ঢাকার মোহাম্মদপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) দুটি প্রকল্পের ৪৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৬৬টি বরাদ্দ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও বিগত আওয়ামী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

২০২১ সালে গৃহায়নের নিজস্ব অর্থায়নে নেওয়া দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা নামের এই দুই প্রকল্প শেষ হয়নি; বরং বাড়ানো হয়েছে দুই দফা সময় ও এক দফা ব্যয়।

মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটের আওতায় আসাদ অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ রোডে পৃথক দুটি প্লটে ছিল ৮টি জরাজীর্ণ ডি-টাইপ কলোনি ভবন। প্রতিটি ভবনে ৩৬টি করে মোট ফ্ল্যাট ছিল ২৮৮টি।

১৯৬০ সাল থেকে এসব ফ্ল্যাটে বরাদ্দপত্র; ডিমান্ড নোটিস; অফার লেটারের মাধ্যমে নিয়মিত ভাড়া নিত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএইচএ।

প্রকল্পটিতে দুটি প্লটে মোট ৪৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যার মধ্যে কনকচাঁপায় ২৭৭টি ও দোলনচাঁপায় ১৫৩টি ফ্ল্যাট।

শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা, যা পরে বাড়িয়ে করা হয় ৫৪১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে নানা কৌশলে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আমলা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গৃহায়নে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ কোটা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। একাধিক কোটায় এই প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলো ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে।

প্রসপেক্টাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোটা নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে সেই অনুপাত ও অগ্রাধিকার অনুসরণ করা হয়নি। নির্ধারিত কোটা কাঠামো থাকলেও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

সাধারণ আবেদনকারীরা লটারির অপেক্ষায় থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে সংরক্ষিত কোটার মাধ্যমে লটারি ছাড়াই ফ্ল্যাট বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত গ্রেডেশন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের গ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীদের চাকরির মেয়াদ, বয়স ও বেতন স্কেলের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত সিনিয়র ও যোগ্য আবেদনকারীদের আগে ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা থাকলেও অনুসরণ করা হয়নি সেই নীতিমালা।

নিয়ম অনুযায়ী অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ফ্ল্যাট বণ্টন করা হয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির একজন আবেদনকারী কর্মচারী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ প্রকল্পে আবেদন করে টাকা জমা দিলেও কর্মচারীদের কোনো ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্তত ১২ জন কর্মচারী বঞ্চিত হয়েছেন। জমা দেওয়া অর্থও এখনও তোলেননি তারা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী আমলা ও রাজনৈতিক কোটার চাহিদা মেটাতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রকৃত আবেদনকারীদের সংখ্যা কার্যত কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি বঞ্চিত করা হয়েছে কর্মচারীদেরও।

ফলে কোটা ব্যবস্থা থাকলেও তা মূলত কাঠামোগতভাবে অক্ষুণ্ন না থেকে প্রভাবশালী মহলের সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা।

তৎকালীন সংরক্ষিত প্রতিমন্ত্রীর কোটায় নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হাসান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এমএম ইমরুল কায়েস, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মিয়া মোহাম্মদ হাসান জাহিদ তুষার, সাবেক মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মাসুদ বিল্লাহ; তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব একেএম রহিম ভূঁঞা; পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব মাসুম বিল্লাহ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব জাহাঙ্গীর আলম; রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন; নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ; গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাকিলা জেরিন আহমেদ; এনএইচএর সাবেক চেয়ারম্যান একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী; সাবেক অতিরিক্ত সচিব শফিকুর রেজা বিশ্বাস; গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রির স্ত্রী অর্পণ বর্মণ; ময়মনসিংহ ও রংপুরের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক ও আসিব আহসান; আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক উপসচিব এস মোহাম্মদ আলী; সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ এনডিসি; ঢাকার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান; মোস্তাফিজার রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক সচিব মো. মাহাবুব হোসেনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেডেশন ও লটারি কোটায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ১১২টি ফ্ল্যাট। 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোটায় অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেন, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, আবদুন নূর মোহাম্মদ আল ফিরোজ, আ. গাফফার খান; যুগ্ম সচিব মো. মমতাজ উদ্দিন এনডিসি, মো. শওকত আলী; উপসচিব মো. ফরিদুল ইসলাম, লুৎফুন নাহার; পরিকল্পনা শাখার সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. বরকাতুর রহমান; সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের একান্ত সচিব হেমন্ত হেনরী কুবি; উপসচিব মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন, মো. আবুল কালাম আজাদ, অভিজিৎ রায়, শেখ নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন ও নায়লা আহমেদকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোটায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান দেলওয়ার হায়দার, সদস্য (ভূমি) ড. মো. মইনুল হক আনছারী, সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য বিজয় কুমার মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জাজরীন নাহার, পরিচালক (প্র ও অ) মোহাম্মদ শফিউর রহমান, পরিচালন (ভূসব্য) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ উল্যাহ, উপপরিচালক মুহাম্মদ মুশফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন মোল্লা, একরামুল কবীর, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, শেখ সোহেল রানা, উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ও জাহিদুল ইসলামও পেয়েছেন ফ্ল্যাট বরাদ্দ।

অভিযোগকারীদের একজন মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০২১ সালে প্রকল্প শুরু হলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কোনো ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা (সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব), পুলিশ ও আইন বিভাগের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের (যুবলীগ, ছাত্রলীগ) লোকদের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রসপেক্টাস ও ডিপিপিতে বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও নানামুখী কৌশলে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা প্রকল্পের ফ্ল্যাটে আগ্রহী নাগরিকদের আবেদনপত্র আহ্বানের জন্য ২০২০ সালের ১০ মার্চ প্রথম দফায় বিজ্ঞপ্তি দেয় সংস্থাটি। এরপর ২০২৩ সালের ১১ মার্চ দ্বিতীয় দফায়ও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় আগে বসবাসকারী ২৮৮টি পরিবারের মধ্যে ২৫৩টি আবেদন করে।

প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ডি-টাইপ কলোনির বৈধ ভাড়াটিয়াদের জন্য ৫৮.৮৫ শতাংশ বা ২৫৩টি ফ্ল্যাট সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা কমিয়ে ১১৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১২৭টি প্রসপেক্টাসে বর্ণিত শর্ত পূরণ করেনি বলে জানায় এনএইচএ।

এ প্রসঙ্গে ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মারগুব আহমেদ নাজম উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রসপেক্টাস ও আবেদনপত্রে নানা শর্তের বেড়াজালে আমাদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৬০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে আমরা পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছি। আমরা ফ্ল্যাটের জন্য পুরো টাকা দিতে প্রস্তুত, তবুও ফ্ল্যাট না দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।

তিনি প্রকল্পের পরিচালন (পিডি) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এখানে যত অনিয়ম হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দু হারিজুর রহমান। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে। আমাদের বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল ২৮৮ জনের। আমরা আবেদন করেছি ২৫৭ জন। প্রসপেক্টাসে বলা হয়েছে ২৫৩ জনের কথা। এখন তা কমিয়ে ১১৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। হারিজুরসহ গৃহায়নের কয়েকজন কর্মকর্তা চেষ্টা করছেন যেন আমরা কোনো ফ্ল্যাট না পায়। প্রকল্প নেওয়ার সময় তিনি (হারিজুর) গৃহায়নের পরিকল্পনা ও ডিজাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন থেকেই আমাদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করে আসছেন। বর্তমান সরকারের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের জন্য দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সবাই আবেদন করতে পারেনি। অনেকে আবেদন করলেও সঠিক কাগজপত্র জমা দেননি। যাচাই-বাছাই কমিটিতে অন্য কর্মকর্তারাও ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দের কোনো কমিটিতে আমি ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

জানা গেছে, টানা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত হারিজুর রহমান পরিকল্পনা ও ডিজাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 

কোটা পদ্ধতির আইনগত ভিত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের পর ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রসপেক্টাস মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সেই অনুমোদিত প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী তিনটি কোটাসহ অন্য সব কোটায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ আমলা ও রাজনীতিবিদদের অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ জানতে চাইলে ফেরদৌসী বেগম বলেন, অনুমোদিত প্রসপেক্টাসের শর্ত অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ডি-টাইপ কলোনির বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদনও অনুমোদিত ডিপিপি ও প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গ্রেডেশন অনুসরণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম চলছে।

 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

অপরাধ

View more
আওয়ামী কোটায় বাটোয়ারা
আওয়ামী কোটায় বাটোয়ারা

  ভবন নির্মাণ শেষের আগেই ঢাকার মোহাম্মদপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) দুটি প্রকল্পের ৪৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৬৬টি বরাদ্দ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও বিগত আওয়ামী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ২০২১ সালে গৃহায়নের নিজস্ব অর্থায়নে নেওয়া দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা নামের এই দুই প্রকল্প শেষ হয়নি; বরং বাড়ানো হয়েছে দুই দফা সময় ও এক দফা ব্যয়। মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটের আওতায় আসাদ অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ রোডে পৃথক দুটি প্লটে ছিল ৮টি জরাজীর্ণ ডি-টাইপ কলোনি ভবন। প্রতিটি ভবনে ৩৬টি করে মোট ফ্ল্যাট ছিল ২৮৮টি। ১৯৬০ সাল থেকে এসব ফ্ল্যাটে বরাদ্দপত্র; ডিমান্ড নোটিস; অফার লেটারের মাধ্যমে নিয়মিত ভাড়া নিত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এনএইচএ। প্রকল্পটিতে দুটি প্লটে মোট ৪৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যার মধ্যে কনকচাঁপায় ২৭৭টি ও দোলনচাঁপায় ১৫৩টি ফ্ল্যাট। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা, যা পরে বাড়িয়ে করা হয় ৫৪১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে নানা কৌশলে এসব ফ্ল্যাটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আমলা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গৃহায়নে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ কোটা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। একাধিক কোটায় এই প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলো ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। প্রসপেক্টাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোটা নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে সেই অনুপাত ও অগ্রাধিকার অনুসরণ করা হয়নি। নির্ধারিত কোটা কাঠামো থাকলেও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় তা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সাধারণ আবেদনকারীরা লটারির অপেক্ষায় থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে সংরক্ষিত কোটার মাধ্যমে লটারি ছাড়াই ফ্ল্যাট বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত গ্রেডেশন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের গ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীদের চাকরির মেয়াদ, বয়স ও বেতন স্কেলের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত সিনিয়র ও যোগ্য আবেদনকারীদের আগে ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা থাকলেও অনুসরণ করা হয়নি সেই নীতিমালা। নিয়ম অনুযায়ী অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ফ্ল্যাট বণ্টন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির একজন আবেদনকারী কর্মচারী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রকল্পে আবেদন করে টাকা জমা দিলেও কর্মচারীদের কোনো ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্তত ১২ জন কর্মচারী বঞ্চিত হয়েছেন। জমা দেওয়া অর্থও এখনও তোলেননি তারা।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী আমলা ও রাজনৈতিক কোটার চাহিদা মেটাতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রকৃত আবেদনকারীদের সংখ্যা কার্যত কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি বঞ্চিত করা হয়েছে কর্মচারীদেরও। ফলে কোটা ব্যবস্থা থাকলেও তা মূলত কাঠামোগতভাবে অক্ষুণ্ন না থেকে প্রভাবশালী মহলের সুবিধার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।  বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা। তৎকালীন সংরক্ষিত প্রতিমন্ত্রীর কোটায় নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হাসান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এমএম ইমরুল কায়েস, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মিয়া মোহাম্মদ হাসান জাহিদ তুষার, সাবেক মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মাসুদ বিল্লাহ; তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব একেএম রহিম ভূঁঞা; পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব মাসুম বিল্লাহ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব জাহাঙ্গীর আলম; রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন; নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ; গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাকিলা জেরিন আহমেদ; এনএইচএর সাবেক চেয়ারম্যান একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী; সাবেক অতিরিক্ত সচিব শফিকুর রেজা বিশ্বাস; গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রির স্ত্রী অর্পণ বর্মণ; ময়মনসিংহ ও রংপুরের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ এনামুল হক ও আসিব আহসান; আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক উপসচিব এস মোহাম্মদ আলী; সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ এনডিসি; ঢাকার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান; মোস্তাফিজার রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক সচিব মো. মাহাবুব হোসেনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেডেশন ও লটারি কোটায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ১১২টি ফ্ল্যাট।  গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোটায় অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেন, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, আবদুন নূর মোহাম্মদ আল ফিরোজ, আ. গাফফার খান; যুগ্ম সচিব মো. মমতাজ উদ্দিন এনডিসি, মো. শওকত আলী; উপসচিব মো. ফরিদুল ইসলাম, লুৎফুন নাহার; পরিকল্পনা শাখার সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. বরকাতুর রহমান; সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের একান্ত সচিব হেমন্ত হেনরী কুবি; উপসচিব মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন, মো. আবুল কালাম আজাদ, অভিজিৎ রায়, শেখ নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন ও নায়লা আহমেদকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোটায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান দেলওয়ার হায়দার, সদস্য (ভূমি) ড. মো. মইনুল হক আনছারী, সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য বিজয় কুমার মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জাজরীন নাহার, পরিচালক (প্র ও অ) মোহাম্মদ শফিউর রহমান, পরিচালন (ভূসব্য) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ উল্যাহ, উপপরিচালক মুহাম্মদ মুশফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন মোল্লা, একরামুল কবীর, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, শেখ সোহেল রানা, উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ও জাহিদুল ইসলামও পেয়েছেন ফ্ল্যাট বরাদ্দ। অভিযোগকারীদের একজন মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০২১ সালে প্রকল্প শুরু হলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কোনো ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা (সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব), পুলিশ ও আইন বিভাগের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের (যুবলীগ, ছাত্রলীগ) লোকদের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রসপেক্টাস ও ডিপিপিতে বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও নানামুখী কৌশলে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। দোলনচাঁপা ও কনকচাঁপা প্রকল্পের ফ্ল্যাটে আগ্রহী নাগরিকদের আবেদনপত্র আহ্বানের জন্য ২০২০ সালের ১০ মার্চ প্রথম দফায় বিজ্ঞপ্তি দেয় সংস্থাটি। এরপর ২০২৩ সালের ১১ মার্চ দ্বিতীয় দফায়ও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় আগে বসবাসকারী ২৮৮টি পরিবারের মধ্যে ২৫৩টি আবেদন করে। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী ডি-টাইপ কলোনির বৈধ ভাড়াটিয়াদের জন্য ৫৮.৮৫ শতাংশ বা ২৫৩টি ফ্ল্যাট সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা কমিয়ে ১১৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ১২৭টি প্রসপেক্টাসে বর্ণিত শর্ত পূরণ করেনি বলে জানায় এনএইচএ। এ প্রসঙ্গে ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মারগুব আহমেদ নাজম উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রসপেক্টাস ও আবেদনপত্রে নানা শর্তের বেড়াজালে আমাদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৬০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে আমরা পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছি। আমরা ফ্ল্যাটের জন্য পুরো টাকা দিতে প্রস্তুত, তবুও ফ্ল্যাট না দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। তিনি প্রকল্পের পরিচালন (পিডি) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এখানে যত অনিয়ম হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দু হারিজুর রহমান। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে। আমাদের বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল ২৮৮ জনের। আমরা আবেদন করেছি ২৫৭ জন। প্রসপেক্টাসে বলা হয়েছে ২৫৩ জনের কথা। এখন তা কমিয়ে ১১৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। হারিজুরসহ গৃহায়নের কয়েকজন কর্মকর্তা চেষ্টা করছেন যেন আমরা কোনো ফ্ল্যাট না পায়। প্রকল্প নেওয়ার সময় তিনি (হারিজুর) গৃহায়নের পরিকল্পনা ও ডিজাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন থেকেই আমাদের বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করে আসছেন। বর্তমান সরকারের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।   অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের জন্য দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সবাই আবেদন করতে পারেনি। অনেকে আবেদন করলেও সঠিক কাগজপত্র জমা দেননি। যাচাই-বাছাই কমিটিতে অন্য কর্মকর্তারাও ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দের কোনো কমিটিতে আমি ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। জানা গেছে, টানা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত হারিজুর রহমান পরিকল্পনা ও ডিজাইন ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন।  কোটা পদ্ধতির আইনগত ভিত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের পর ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রসপেক্টাস মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সেই অনুমোদিত প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী তিনটি কোটাসহ অন্য সব কোটায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ আমলা ও রাজনীতিবিদদের অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ জানতে চাইলে ফেরদৌসী বেগম বলেন, অনুমোদিত প্রসপেক্টাসের শর্ত অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ডি-টাইপ কলোনির বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদনও অনুমোদিত ডিপিপি ও প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রেডেশন অনুসরণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম চলছে।  

News সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ 0
অভিযোগের ৫ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন নেই; বদলি হয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—মানিকনগর ফাঁড়িতে বহাল পাঁচ কনস্টেবল নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগের ৫ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন নেই; বদলি হয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—মানিকনগর ফাঁড়িতে বহাল পাঁচ কনস্টেবল নিয়েও প্রশ্ন

রাজউকের নিরীক্ষা শাখায় ‘টুম্পা সিন্ডিকেট’, ফাইল আটকে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ

রাজউকের নিরীক্ষা শাখায় ‘টুম্পা সিন্ডিকেট’, ফাইল আটকে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ

কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ: ঠিকাদার সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও বিল অনিয়মের প্রশ্নে নীরব গণপূর্ত মন্ত্রণালয়!

কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ: ঠিকাদার সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও বিল অনিয়মের প্রশ্নে নীরব গণপূর্ত মন্ত্রণালয়!

ফায়ার সার্ভিস ডিজি জাহেদ কামালের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ
ফায়ার সার্ভিস ডিজি জাহেদ কামালের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ

  ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালকে ঘিরে বিপুল স্থাবর সম্পদ, নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাঁর ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের একক ও যৌথ মালিকানায় একাধিক জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস ও তাঁর সরকারি আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত দাপ্তরিক নথির বরাতে জানা গেছে, বসুন্ধরা-সংলগ্ন জোয়ার সাহারা, ডুমনি, পূর্বাচল ও রূপগঞ্জ এলাকায় জাহেদ কামাল ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে জোয়ার সাহারায় ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সম্পাদিত ৯৬৮০ নম্বর দলিলের আওতায় ০.৪৯০১ একর জমির ওপর ১১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও পার্কিংয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ডুমনি মৌজায় ৬/১৯ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক এবং ১৪৩০/১৯ নম্বর জোতে আরও ৪.৯৫ শতক জমির যৌথ মালিকানার তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বাচলের কুতুবপুর মৌজায় ৪৫৮৬ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক জমির একটি প্লট এবং রূপগঞ্জের নাওড়া মৌজায় ৯৯৭৬ নম্বর জোতে ৮.২৬ শতক জমির তথ্যও নথিতে রয়েছে। সম্পদের এই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, একজন সামরিক কর্মকর্তার সরকারি বেতন-ভাতা, বৈধ আয়, ব্যাংকঋণ ও অন্যান্য ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদ অর্জনের অর্থের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উৎস জানতে আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। জাহেদ কামালকে ঘিরে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ফায়ার সার্ভিসের একটি নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল এবং তৎকালীন ডিজি জাহেদ কামালের অপসারণ দাবি করেছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়োগ নিশ্চিত করতে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়েছিল এবং একটি সিন্ডিকেট এতে জড়িত ছিল। ২০২৬ সালের জুলাইতেও ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সে সময় জাহেদ কামাল বলেছিলেন, নিয়োগের বিভিন্ন ধাপে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ফায়ার সার্ভিসের বদলি, পদায়ন, কেনাকাটা, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী চক্র এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করত এবং জাহেদ কামালের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এতে ভূমিকা রাখতেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে বদলি বাণিজ্য, শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ও রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালিয়েছিল। অভিযানের সময় বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছিল। এদিকে, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের পদে পরিবর্তন আনা হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদকে নতুন ডিজি করা হয়েছে এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
ঢাকা কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে উপকমিশনার আমিনুল

ঢাকা কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে উপকমিশনার আমিনুল

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে দুদকের মামলার আসামি মাহবুব এখন সরকারি রেল পরিদর্শক; রমজান আলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলা
৩৫৮ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় মাহবুব দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় রমজান দুই আসামি, রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে.

      অনুসন্ধানী বিশেষ প্রতিবেদন ৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে দুদকের মামলার আসামি মাহবুব এখন সরকারি রেল পরিদর্শক; রমজান আলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলা বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত দুই সাবেক কর্মকর্তাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। তাঁদের একজন আহমেদ মাহবুব চৌধুরী—১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনায় রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার অন্যতম আসামি। বর্তমানে তিনি সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে। দুদকের মামলার তথ্য ও সরকারি নথি পর্যালোচনায় এ দুই কর্মকর্তার বিষয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে মাহবুব বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ছয়জন রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় আহমেদ মাহবুব চৌধুরীর নামও রয়েছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় যথাযথ বাজার সমীক্ষা, সম্ভাব্যতা যাচাই, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রকৃত চাহিদা এবং পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। প্রকল্প প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ আয় ও লাভের যে হিসাব দেখানো হয়েছিল, বাস্তব আয়ের সঙ্গে তার বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকল্পটি থেকে ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা মুনাফার প্রক্ষেপণ করা হলেও ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে প্রকৃত আয় হয় ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতিতে ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৭৭ক ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মাহবুব দুদকের ওই মামলার পরও আহমেদ মাহবুব চৌধুরী রেলওয়ের চাকরিতে রয়েছেন। রেলপথ পরিদর্শন অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে বর্তমানে ‘সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর)’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল এ পদে যোগ দেন। জিআইবিআর পদটি রেলপথ পরিদর্শন অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফলে দুদকের মামলার আসামি একজন কর্মকর্তার এমন সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে রেলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। তবে শুধু মামলার আসামি হওয়া নিজেই দোষ প্রমাণের সমতুল্য নয়। মাহবুব চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না। রমজান আলীর বিরুদ্ধে সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলা- অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা রয়েছে। প্রকাশিত দুদক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান আলীর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ২৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটির অভিযোগের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও পৃথকভাবে আসামি করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত নথিভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। চাকরি থেকে অপসারণের পরও প্রভাবের অভিযোগ- রমজান আলীকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদকের মামলার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সঙ্গে কিছু প্রতিবেদনে তাঁকে রেলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করা হয়েছে। ডিজি পদ দখলের চেষ্টায় – আহমেদ মাহবুব চৌধুরী বর্তমানে জিআইবিআর পদে থাকায় তাঁর ভবিষ্যৎ পদায়ন নিয়েও রেল অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে মহাপরিচালক পদে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে তদবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একইভাবে রেলের বর্তমান মহাপরিচালক দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টার সঙ্গে মাহবুব-রমজানের সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে। নথি, তদন্ত ও জবাবদিহির প্রশ্ন লাগেজ ভ্যান প্রকল্পের বিষয়ে দুদকের মামলাটি নিজেই রেলওয়ের ক্রয়প্রক্রিয়া, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রকল্প অনুমোদন ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে প্রকল্পের প্রত্যাশিত আয় ও বাস্তব আয়ের পার্থক্য এবং বাজার সমীক্ষার ঘাটতির বিষয়গুলো দুদকের অভিযোগে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের প্রশাসনিক ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাহবুব ও রমজান: অভিযোগের চিত্র- কর্মকর্তা| মামলার অভিযোগ| বর্তমান/সর্বশেষ দায়িত্বের তথ্য আহমেদ মাহবুব চৌধুরী| ১২৫টি লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ| ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সরকারি রেল পরিদর্শক (জিআইবিআর); সরকারি ওয়েবসাইটে এ পদে তাঁর নাম রয়েছে মো. রমজান আলী| ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ২৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ| সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক; মামলার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প যাচাই এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়ও।

News সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ 0
রংপুর গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি

রংপুর গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি

বিজিবির অভিযানে ডিমলায় ইয়াবাসহ আটক-১

বিজিবির অভিযানে ডিমলায় ইয়াবাসহ আটক-১

জাগৃক চেয়ারম্যানের ক্ষমতার উৎস কোথায়? অলিউল-ফুয়াদ সিন্ডিকেটে জিম্মি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

জাগৃক চেয়ারম্যানের ক্ষমতার উৎস কোথায়? অলিউল-ফুয়াদ সিন্ডিকেটে জিম্মি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

0 Comments