অপরাধ

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের
পরিবার পরিকল্পনা

 


জুতা, স্যান্ডেল, মোজা কিংবা ছাতা - পণ্য যাই হোক, দাম প্রায় হাজার টাকা। টুপি, শাড়ি, নামফলক কিংবা ফুল শার্ট এসবের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আবার কোনো কোনো পণ্যের দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গাড়ি চালক ও কর্মচারীদের জন্য পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী কেনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি চালক ও কর্মচারীদের জন্য মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩১ ধরনের পণ্য কিনেছে সরকারি এই সংস্থাটি। এসব পণ্যের বাজার মূল্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও কেনাকাটার বিলে অধিকাংশ পণ্যের একক মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। ফলে কিছু পণ্যের দাম বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেনাকাটার বিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কর্মচারীদের জন্য হাফ ও ফুল সাফারি স্যুট, ফুল শার্ট, ভি-নেক সোয়েটার, জুতা, স্যান্ডেল, টুপি ও ছাতা কেনা হয়েছে। নারী কর্মচারীদের জন্য কেনা হয়েছে জর্জেট ও সুতি শাড়ি, ব্লাউজ, শাল, জুতা ও ছাতা। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য নামফলকও কেনা হয়েছে।

হাজার টাকার জুতার দেড় হাজার টাকার মোজা

কেনাকাটার বিলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মোজার দাম নিয়ে। বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের এক জোড়া মোজা সাধারণত ১২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অথচ গাড়ি চালকদের জন্য কেনা ১৪৪ জোড়া মোজার প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে শুধু ১৪৪ জোড়া মোজার পেছনেই ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, গাড়ি চালকদের জন্য ৭২ জোড়া জুতা ও ৭২ জোড়া স্যান্ডেল কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ একই কেনাকাটায় জুতার চেয়েও ৫০ শতাংশ বেশি দামে মোজা কেনা হয়েছে।

গাড়ি চালকদের জন্য ১০৮টি হাফ সাফারি প্রতিটি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। এ ছাড়া ৭২টি টুপি, ৩৬টি ছাতা ও ৩৬টি নামফলকের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। দুটি ফুল সাফারি ও দুটি সোয়েটারও কেনা হয়েছে। এর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা।

পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি করে ফুল ও হাফ সাফারি কেনা হয়েছে। এগুরোর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য ১৩২ জোড়া জুতা ও ১৩২ জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া ৬৬টি ছাতা ও ৬৬টি নামফলকের প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।

নারী কর্মচারীদের জন্য ১৮টি জর্জেট ও ১৮টি সুতি শাড়ি কেনা হয়েছে। প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। ১৮ জোড়া স্যান্ডেল ও ১৮ জোড়া মোজার দামও ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য নয়টি ছাতা ও নয়টি নামফলক কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি ভি-নেক সোয়েটার ও ৬৬টি ফুল শার্ট কেনা হয়েছে, প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। নারী কর্মচারীদের জন্য নয়টি শাল বা সোয়েটার এবং নয়টি ফুলহাতা ব্লাউজ কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।

পুরুষ কর্মচারীদের জন্য আরও ৪০ জোড়া জুতা কেনা হয়েছে। প্রতি জোড়া জুতার দাম পড়েছে ২ হাজার টাকা দরে। একইসঙ্গে আরও ৪০ জোড় জুতা কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার ৪৭৫ টাকা করে। এ ছাড়া ২০টি ছাতা কেনা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে।

নারী কর্মচারীদের জন্য আরও ছয় জোড়া জুতা বা স্যান্ডেল এবং ছয় জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতিটি জোড়ার দাম ১ হাজার টাকা। আরও তিনটি ছাতা কেনা হয়েছে। প্রতিটি ছাতার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে।

যোগসাজশে অস্বাভাবিক বিল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ মার্চ ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে এসব পণ্য কেনা হয়। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটি গণপূর্ত অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ ও দাপ্তরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক, উপপরিচালক হাসান আমিন সুমন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন স্বত্বাধিকারী মো. ফখরুল আলম পাটোয়ারী, জিএম (প্রকিউরমেন্ট) মো. নূর আলম এবং জিএম (এডমিন) মোহাম্মদ আবদুল হক।

পণ্য সরবরাহের পর গত ১৩ এপ্রিল ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালকের কাছে জমা দেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারী। ইতোমধ্যে বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে বিল তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিপত্র ও বিলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

অন্যদিকে কেনাকাটার চুক্তিতে অধিদপ্তরের পক্ষে সই করা তৎকালীন উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘তিন মাস আগে আমি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে বদলি হয়ে এসেছি। বিল বা অর্থছাড় আমি করিনি।’

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারীর জানান, তিনি এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’
ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত এক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই অভিযোগটি আগামীকাল দুদকে জমা দেবেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের দিয়ে বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এবং পরে সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়া চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায় গ্রামের বাড়ি হামিদুল ইসলামের। তিনি দর্শনে এম.এ ডিগ্রিধারী। ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে জোন-৫ এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ও ২০ এপ্রিল ২০২৫ এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে আদায় করেন। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দিলেও চাকরি হয়নি, টাকাও ফেরত পায়নি। মোঃ মাজেদুল ইসলামের আগের অভিযোগেও এ তথ্য উল্লেখ আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচালক হিসেবে ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ঘন ঘন এরিয়া পরিবর্তন করেন এবং মাসিক চাঁদা আদায় করেন। ইমারত পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করে পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা নেন। তাঁর নির্দেশে অধীনস্থরা বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় সৃষ্টি করেন। পরে টাকা নিয়ে নোটিশ গায়েব করে দেন। রাজউকের একজন অথরাইজড অফিসারও একইভাবে নোটিশ গায়েব করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না। মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডে হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ (মালিক কামরুল হাসান) এর ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই এলাকার হোল্ডিং-৮২ (মালিক মিসেস রহিমা সাহাবুদ্দিন) এর ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়া হয়। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং, বসিলা, চাঁদ উদ্যান ও তেজতুড়ি বাজারসহ একাধিক ভবন মালিকের সাথে রফা করে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তিনি অভিজ্ঞ ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া যথাযথভাবে না দিয়ে নতুন ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ আছে। শ্বশুরবাড়িতেও সম্পদ গড়েছেন বলে চাউর রয়েছে। রংপুরের লালপুকুর-মিঠাপুকুর এলাকার স্থানীয়রা জানান, এই সম্পদের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করতে পারবেন না তিনি। বর্তমানে তিনি মোটা অংকের টাকা খরচ করে জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখি। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, “আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখি। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হয়। এই অভিযোগটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। নোটিশ বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নগর পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা নষ্ট হয়।” সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজউকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ শুনে আমরা ক্ষুব্ধ। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।” মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকায়ও এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। পরিচালক যদি নিজেই জড়িত থাকেন, তাহলে নিচের কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জবাবদিহিতা চাই।” গুলশানের সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোন পরিবর্তনের লবিংয়ের অভিযোগও গুরুতর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দুদক যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।” এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, “জনস্বার্থে এই অভিযোগ করছি। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।” রাজউক ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে তদন্ত কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নাগরিক সমাজ ও স্বচ্ছতাবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে। পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের পরিণতি কী হয়, তা এখন দুদকের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী
হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

  নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। তবে হাজিরা খাতায় তাদের অনেকের স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া ছিল বলে জানান তিনি। পরিদর্শনকালে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগাম হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণ দেশের প্রকৃত মালিক এবং তাদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কোনো দয়া নয়। তাই সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণকে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৌনে ৯টায় অফিসে যান। আপনারা যদি এমন করেন, তাহলে কি আমরা সেবাটা দিতে পারব? সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। মেহেদী হাসান সৈকত/আরকে

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

  গাড়ি কেনার জন্য সরকারের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রতি মাসে পাচ্ছেন জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ নগদ অর্থ। তারপরও সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা জিপ ব্যবহার করছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাঁচ সদস্য। এসব জিপের জন্য সংস্থাটির কোষাগার থেকে চালকের বেতন ও জ্বালানি বাবদ নিয়মিত অর্থও পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রেষণে আসা প্রশাসন ক্যাডারের কর্তকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং নিজস্ব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ দেয় সরকার। শর্ত ছিলো এ সুবিধা নেওয়ার পর আর সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু রাজউকের এই পাঁচ সদস্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। তারা একদিকে গাড়ি কেনার সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কেনা জিপও ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তারদের গাড়ি বিলাসে বঞ্চিত হচ্ছেন রাজউকের অন্য কর্মকর্তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ও রাজউক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান, ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ও সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া এবং ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম। জানা যায়, সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪১৮৪৯ নম্বরের জিপ। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কেনা গাড়িটির চালক মোজাহারুল ইসলাম। সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমানের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪২১৫০ নম্বরের জিপ। গ্রিন বিল্ডিং প্রকল্পের এই গাড়ির চালক মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য (উন্নয়ন) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৯৬৪ নম্বরের জিপ। পূর্বাচল প্রকল্পের আওতায় কেনা এই গাড়ির চালক মো. সামসুদৌহা চৌধুরী। সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলমের কাছে রয়েছে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৬৩৭ নম্বরের জিপ। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) প্রকল্পের গাড়িটির চালক মো. কামাল হোসেন। অন্যদিকে সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া ব্যবহার করছেন ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৪-২৩২৪ নম্বরের জিপ। এটির চালক মো. পারভেজ রহমান। রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রাজউক সূত্রে জানা যায়, একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ সংস্থাটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কমবেশি একটি গাড়ির জন্য জ্বালানি বাবদ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা যাচ্ছে রাজউকের কোষাগার থেকে। এছাড়া একজন চালকের বেতন ভাতা বাবদ বছরে খরচ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একটি গাড়ির জ্বালানি ও চালক বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি গাড়ির পেছনে বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা পান তারা। এই সুবিধা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব গাড়িই ব্যবহারের কথা। সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগও তখন আর থাকে না। কিন্তু এ নিয়ম শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা চেয়ারে বসেই ইচ্ছেমাফিক সরকারি গাড়িসুবিধা নিচ্ছেন।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক সদস্য (পরিকল্পনা) বশিরুল হক ভূইয়া বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘গাড়ি কেনার জন্য ঋণসুবিধা নেওয়ার কারণে সরকার আমার বেতন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয়। এছাড়া আমার পদের বিপরীতে বরাদ্দ থাকা গাড়ির জন্য রাজউককে আরও ৮০০ টাকা করে দিতে হয়।’ একপর্যায়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কোনো সমস্যা থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করুন।’ সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি বিধি মোতাবেক লোন নিয়েছি এবং বিধি মোতাবেক অর্থ সমর্পণ-পূর্বক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি।’ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত) এর বরাত দিয়ে রাজউক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহীনুর আলম বলেন, ‘নীতিমালায় আছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরও কোনো কর্মকর্তা যদি সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করে তবে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ যে অর্থ দেওয়া হয় তার অর্ধেক (২৫ হাজার) প্রাপ্ত হবেন।’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে তা কিছুদিন যাবত নষ্ট হয়ে আছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে অফিসে আসতে হচ্ছে।’ তবে নীতিমালায় ‘সুদমুক্ত ঋণসুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’ অংশে দেখা যায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর হতে গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করলেও গাড়ি সেবা নগদায়নের আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণপূর্বক গাড়ি ক্রয়ের পর যানবাহন অধিদপ্তরের গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা আর বহাল থাকবে না।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

0 Comments