ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশিরভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাবো, তাদের সময় দিয়ে যাবো। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার, সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজের থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং একইসাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। এ সময়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তিনি ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমরা জানিয়েছি চলতি অর্থ বছরে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই আমরা। এ বিষয়ে হাইকমিশনারের সাথে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনেশ ত্রিবেদী এ সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদেরও শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর আবার ফুটপাতে বসলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেপ্তারও করা হবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাজস্ব আদায় ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজ বেশিরভাগ লোককে আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে যাবো, তাদের সময় দিয়ে যাবো। এই সময়ের মধ্যে যদি তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে এবং আইন অনুযায়ী যেভাবে থাকা দরকার, সেভাবে না থাকে, তাহলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন, বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হবে। পাশাপাশি যাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নেওয়া এবং যাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি, তাদের নবায়নের জন্য অনুরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। আপনারা নিজের থেকে আইন মেনে সবকিছু করলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যেতে চাই না। অভিযানে সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা কাজ করবেন জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি এবং রাষ্ট্রগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ভিকটিম ফার্স্ট, অ্যাকশন নাউ’ (প্রথমে ভুক্তভোগী, এখনই পদক্ষেপ)। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রেক্ষাপটে দেশের আলোচিত গুমের ঘটনাগুলোর একটি আবারও সামনে এসেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান মেলে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তার দেশে ফেরার পর এখনো বিস্তারিত প্রকাশ্যে বলেননি তিনি। তবে যে ফ্ল্যাট থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেই ফ্ল্যাটের মালিক ও তার ঘনিষ্ঠজন সৈয়দ হাবিব হাসনাত ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। গুলশান থেকে উত্তরায় ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে সরকার ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে যায়। বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশের প্রস্তুতি নিলে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয় এবং একের পর এক সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিবৃতি দিয়ে আসছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কয়েক দিনের মধ্যে তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তখন দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সৈয়দ হাবিব হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখপাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব ও পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমদকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করে। তিনি গুলশানের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অবস্থান পরিবর্তন করে দলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একপর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার গুলশানে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দলের পরামর্শে তিনি গুলশান ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সৈয়দ হাবিব হাসনাত তখন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন এবং তার অফিস গুলশানে সালাহউদ্দিনের অবস্থানের কাছাকাছি ছিল। বিকল্প কয়েকটি জায়গার মধ্যে সালাহউদ্দিন তার উত্তরার ফ্ল্যাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে দুপুরে সালাহউদ্দিন ফোন করে দ্রুত গুলশান ছাড়ার কথা জানান এবং হাবিব হাসনাতের উত্তরার ফ্ল্যাটে উঠতে চান। হাবিব তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্মতি দেন। সন্ধ্যার দিকে গাড়ি নিয়ে গুলশানে গিয়ে হাবিব হাসনাত ড্রাইভারকে একটি মিষ্টির দোকানে পাঠিয়ে দেন। এরপর নিজেই গাড়ি চালিয়ে সালাহউদ্দিনের অবস্থান করা বাড়ির কাছে যান। সেখান থেকে সালাহউদ্দিন ও বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল গাড়িতে ওঠেন। উত্তরায় যাওয়ার সময় পুলিশের চেকপোস্ট এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়। উত্তরার ফ্ল্যাটে পৌঁছে দারোয়ানকে বিষয়টি বুঝতে না দিয়ে কৌশলে তাকে বাইরে পাঠানো হয়। সেই সুযোগে সালাহউদ্দিন ও তাবিথ আউয়ালকে দ্রুত ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই একজন বাবুর্চি ও সহকারীকে রাখা হয়েছিল। তাদের জানানো হয়, একজন মেহমান সেখানে থাকবেন এবং তার প্রয়োজনীয় সেবাযত্ন করতে হবে। এরপর হাবিব হাসনাত তার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে চলে যান। উত্তরার ওই ফ্ল্যাট থেকেই সালাহউদ্দিন দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকেন। ১০ মার্চের ঘটনা হাবিব হাসনাত জানান, ১০ মার্চ সন্ধ্যার পর তিনি উত্তরার ওই ফ্ল্যাটে যান। এলাকায় ঢোকার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পান। কিছু সড়কের বাতি নেভানো ছিল, কোথাও গুমোট পরিবেশ এবং আশপাশে মানুষের চলাচল ছিল না। আবাসিক এলাকার দোকানপাটও বন্ধ ছিল। এমনকি সন্ধ্যার পর যে খেলার মাঠগুলোতে তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলা করতে দেখা যেত, সেখানেও কাউকে দেখা যায়নি। বাড়ির কাছে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো উপস্থিতি দেখতে পান। বাড়িতে ঢোকার পর দারোয়ানকে মনমরা অবস্থায় দেখেন। ফ্ল্যাটের দরজার কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান দরজা ভাঙা। তাকে দেখে ভেতর থেকে বাবুর্চি ও সহকারী কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এসে জানান, ‘মেহমানকে তুলে নিয়ে গেছে।’ হাবিব হাসনাত বলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, তাকেও গ্রেপ্তার বা গুম করা হতে পারে। আবার তিনি বাইরে না থাকলে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানানোর মতো কেউ থাকবে না। এ কারণে দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার ভিসা করা ছিল। ওপরের আরেকটি ফ্ল্যাটে থাকা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এক কাপড়ে বিমানবন্দরে চলে যান। সহযোগীদের মাধ্যমে দ্রুত টিকিটের ব্যবস্থা হয়। বিমান দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি উত্তরা থানার তৎকালীন ওসির ফোন পান। ওই কর্মকর্তা তাকে খুঁজছেন বলে জানান। বিদেশে থেকেও নীরব থাকার হুমকি হাবিব হাসনাত পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমন একটি এলাকায় ওঠেন, যেখানে বাঙালির সংখ্যা কম। সেখান থেকে তিনি সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। বরং তিনি আত্মগোপনে গেছেন এমন বক্তব্য দেওয়া হতে থাকে। হাবিব হাসনাত জানান, একপর্যায়ে খালেদা জিয়া অন্য একজনকে দিয়ে তাকে ফোন করিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা দুবাইয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সালাহউদ্দিনকে তার উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে তুলে নেওয়ার কথা জানাতে বলেন। তিনি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে তাকে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একটি কথাও বললে তিনি আর কোনো দিন দেশে ফিরতে পারবেন না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর আর সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি গুমের আগে গ্রেপ্তার দুই চালক ও ব্যক্তিগত সহকারী সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার আগে ৭ মার্চ তার দুই চালক শফিক ও খোকন এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওসমান গণিকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৮ মার্চ সালাহউদ্দিনের খোঁজে গুলশানের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। ওই অফিস ও ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন সৈয়দ হাবিব হাসনাত। এরপর ১০ মার্চ উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়া হয়। এর আগে একাধিকবার তার গুলশানের বাসায় তল্লাশি চালানো এবং বাসার সামনে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা পাহারা বসানোর কথাও জানা যায়। ১৮ মার্চ ঢাকার দুটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও নিউ এজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই নিয়ে গেছে—এমন তথ্য দিতে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও ঘটনার বর্ণনা দেন। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সালাহউদ্দিনকে নিয়ে যাওয়ার আগে ওই বাসার কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। পিকআপে থাকা সদস্যরা ৩ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ১৩-বি নম্বর সড়কের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। পরে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীরা সালাহউদ্দিনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে। গুমের ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য ঘটনার শুরু থেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য তারা খুঁজছেন এবং তিনি কোথায়, তার জবাব খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে। একই বক্তব্যে তিনি সালাহউদ্দিনের গুলশানে অবস্থান ও ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ থেকে বিবৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। এরপর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও সালাহউদ্দিন কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন—এমন বক্তব্য দিতে থাকেন। ১৩ মে মেঘালয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সালাহউদ্দিনের সন্ধান পাওয়ার পরও এসব বক্তব্যের রেশ থেকে যায়। ওই দিনই রাজধানীর এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এটি গুম, অন্তর্ধান কিংবা নিখোঁজ নয়; এটি আত্মগোপন। তার দাবি ছিল, আত্মগোপন ও গুম এক বিষয় নয় এবং এই আত্মগোপন দলীয় প্রধানের নির্দেশেই করা হয়েছে। দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর ভারতের শিলংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচিত ওই ঘটনার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। আর তার গুম হওয়ার আগে কোথায় ছিলেন এবং উত্তরার ফ্ল্যাটে কী ঘটেছিল, সেই ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন সৈয়দ হাবিব হাসনাত।