অপরাধ

সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ

রতন লাল সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ
গুলনাহারের বিরুদ্ধে

 

স্টাফ রিপোর্টার:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় কথিত ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় গুলনাহার তাঁর স্বামী ও নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে বেসরকারি ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। বিশেষ করে ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে গুলনাহার বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানা, অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ কিংবা আর্থিক স্বার্থ রয়েছে কি না—তা অনুসন্ধান প্রয়োজন।

দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে কোনো লাভজনক ব্যবসা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গুলনাহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে থাকলে সেটি প্রযোজ্য সরকারি চাকরির বিধি ও আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীর দাবি, গুলনাহারের সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এ জন্য গুলনাহার, তাঁর স্বামী ও সংশ্লিষ্ট নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডেভেলপার ব্যবসার মাধ্যমে ফ্ল্যাট বিক্রি, জমি উন্নয়ন বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা—তা অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা সরকারি নির্মাণকাজের কারিগরি মূল্যায়ন, তদারকি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরিবারের ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক সম্পর্ক থাকলে সরকারি দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

দুদকের কাছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র, পরিচালক ও মালিকানার তথ্য, জমি ও ভবনের দলিল, ফ্ল্যাট বিক্রির নথি, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি এবং সম্পদ বিবরণী পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে গুলনাহারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। দুদকের অনুসন্ধানেই অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ
সরকারি চাকরিতে প্রকৌশলী, পরিবারের নামে ডেভেলপার ব্যবসা! গুলনাহারকে ঘিরে দুদকে অভিযোগ

  স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গুলনাহারের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় কথিত ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে। দুদকে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় গুলনাহার তাঁর স্বামী ও নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে বেসরকারি ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। বিশেষ করে ফিউচার ড্রিম বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে গুলনাহার বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানা, অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ কিংবা আর্থিক স্বার্থ রয়েছে কি না—তা অনুসন্ধান প্রয়োজন। দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে কোনো লাভজনক ব্যবসা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গুলনাহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে থাকলে সেটি প্রযোজ্য সরকারি চাকরির বিধি ও আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীর দাবি, গুলনাহারের সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। এ জন্য গুলনাহার, তাঁর স্বামী ও সংশ্লিষ্ট নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডেভেলপার ব্যবসার মাধ্যমে ফ্ল্যাট বিক্রি, জমি উন্নয়ন বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা—তা অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা সরকারি নির্মাণকাজের কারিগরি মূল্যায়ন, তদারকি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরিবারের ডেভেলপার ব্যবসার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক সম্পর্ক থাকলে সরকারি দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। দুদকের কাছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র, পরিচালক ও মালিকানার তথ্য, জমি ও ভবনের দলিল, ফ্ল্যাট বিক্রির নথি, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি এবং সম্পদ বিবরণী পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে গুলনাহারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। দুদকের অনুসন্ধানেই অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হবে।

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
পূর্তে ‘বীরদর্পে’ ফিরেছে প্যারাডাইম

পূর্তে ‘বীরদর্পে’ ফিরেছে প্যারাডাইম

১৪তম গ্রেডের চাকরি, এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

১৪তম গ্রেডের চাকরি, এক দশকে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

শার্শায় পুলিশের অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা সহ ১ জন গ্রেপ্তার।

শার্শায় পুলিশের অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা সহ ১ জন গ্রেপ্তার।

গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ
গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার ‘চিঠি’! আলমগীর খানকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

  গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম জোনের দায়িত্ব পেতে কোটি টাকা দিয়ে একটি চিঠি কিনেছেন আরেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খান। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী এই চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। অথচ এর আগে অন্য এক কর্মকর্তাকে এ পদে পদোন্নতি দিতে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই অধিদপ্তরের ইএম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক আগামী ৩১ আগস্ট অবসরে যাচ্ছেন। তার শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের জন্য প্রায় ১ মাস আগে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। যে চিঠিতে তিনি বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আচমকা আরেকটি চিঠি পাঠানোয় এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। বলা হয়, বড় অঙ্কের বিনিময়ে তিনি এই চিঠি দিয়েছেন। এমনিতেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বদলি ও পদোন্নতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট প্রমাণ থাকায় গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলি ব্যবস্থা চালু করেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বদলি করেছেন। গণপূর্ত ইএম পিএন্ডডি জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খান দীর্ঘদিন ইএম জোনের দায়িত্বে ছিলেন। আবারও তিনি এই পদে নিয়োগ পেতে উঠে-পড়ে লেগেছেন। এ জন্য তিনি প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ম্যানেজ করে চিঠি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব ওই চিঠির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে আশ্রাফুল হকের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়া গেলে রোববারই এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। আশ্রাফুল হককে অবসর প্রদান করে ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি

অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি

বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান
পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

  সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক গুম-খুনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেছেন জিয়াউল আহসানের লোমহর্ষক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা। ট্রাইব্যুনালকে তিনি জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসান মাঝরাতে বন্দি নিয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারে আসতেন। বন্দিদের গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে গুলি করে হত্যা করা হতো, পরে সাংবাদিক ডেকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো হতো। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলাটির দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, কীভাবে ২০১০ এবং ২০১১ সালে র‍্যাবের তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান বন্দিদের গুলি করে হত্যা করতেন এবং লাশ গুম করতে পেট কেটে ও সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেন। মাঝরাতে বন্দি নিয়ে আসত র‍্যাব সাক্ষ্যে আব্বাস মল্লিক জানান, যেদিন এলাকায় অভিযান হতো, সেদিন বিকালে সাদা পোশাকে দুইজন র‍্যাব সদস্য এসে স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখতে এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ খেকে ৫টি মাইক্রোবাস বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের নিয়ে এসে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা সঙ্গে করে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন। আব্বাস মল্লিকের জবানবন্দি অনুযায়ী, বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর পানির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো। গভীর পানিতে যাওয়ার পর ট্রলারের গতি কমিয়ে দেয়া হতো এবং ট্রলারের ভেতর থেকে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্ট নামের অংশে বন্দিকে দুইজন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন। এরপর জিয়াউল আহসান নিজে এসে ওই বন্দির মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতেন। পেট চিরে ও বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ গুম গুলির পর মৃতদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য লাশ নদীতে ফেলার আগে পেট কেটে ফেলা হতো। এরপর সুন্দরবনে নিয়ে অন্য বন্দিদের বোট থেকে নামিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হতো এবং সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো। হত্যাকাণ্ড শেষে বরফ মিলে ফিরে আসার পর মাঝিদের খামে করে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্বাস মল্লিক। নিখোঁজ ছোট ভাই আলকাছ প্রত্যক্ষদর্শী এই মাঝি ট্রাইব্যুনালে তার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলকাছের দুটি ট্রলার ছিল এবং তিনি র‍্যাবের সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু র‍্যাবের এই বর্বর কর্মকাণ্ডের কথা আলকাছ বাজারে আলোচনা করায় স্থানীয় অন্য বোটের মালিকরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, র‍্যাব তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। পরে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আলকাছ, কারণ র‍্যাব থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়েছিল যে, ‘জিয়া স্যার’ তাকে বটতলা মানিকখালীতে ডেকেছেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই আলকাছের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আজ পর্যন্ত তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল এবং ঢাকার র‍্যাব কার্যালয়ে ঘুরেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাননি আব্বাস মল্লিক। পাথরঘাটা থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেখানে জিয়াউল আহসান ও র‍্যাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে সাক্ষ্যে উঠে আসে। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে সরাসরি শনাক্ত করে আব্বাস মল্লিক ট্রাইব্যুনালের কাছে তার ছোট ভাই নিখোঁজের বিচার দাবি করেন।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

0 Comments