শিক্ষার্থীদের মেধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের শিল্পায়ন, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়।আজকের এই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের পুনরুদ্ধার করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে। আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। তাই আবারও তোমাদেরকে বলব, তোমরা নিজেরা ভেবে দেখো, তোমাদের ভবিষ্যৎ কে করবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে রয়েছে। নেপোলিয়নের মতো হাতের রেখা কেটে বলতে হবে, আমার ভাগ্য রয়েছে। আমি আমার নিজের ভাগ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিন্তু তোমরা সকলেই স্বাধীন। বাবা-মা কেউ কাছে নেই এবং তারা তোমাদের কোনো রকম বাধা-বিপত্তি দিচ্ছেন না। তোমরা তোমাদের মতো লেখাপড়া করছো, তোমরা তোমাদের মতো বেরিয়েছো, তোমরা তোমাদের নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব, বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন, এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদের আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কোন পথে তোমরা যাবে? তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। ভেবো না, তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে। কী হতে চাও? কী করতে চাও? কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে? সেই সময়টা আজ, এখনই।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে নবীন বরণ নয়। আজকে সারা জীবনকে কীভাবে তুমি বরণ করবে? আগামী জীবন তুমি কীভাবে চলবে? আগামী বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেই প্রতিজ্ঞা করার সময় আজকে।’
কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে চীনের মডেল দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেরি রিসেন্টলি ১৮০ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে যদি কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়, আমি কিছু মডেল দেখতে চাই। তিনি জানতে চাইলেন, কোনটা দেখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম, চীনেরটা দেখতে চাচ্ছি। ইউরোপ-আমেরিকা আমার খানিকটা জানা রয়েছে। আমি চায়না মডেল জানতে চাইলাম।’
তিনি বলেন, ‘তিনি বললেন, বেশ, ঘুরে আসেন। আমি চলে গেলাম চীনে চার দিনের সফরে। দেখে আসলাম, তারা তাদের টিভেট সেক্টর, অর্থাৎ কারিগরি সেক্টর, কীভাবে গড়ে তুলছে। অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।’
চীনের শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা বলার অবকাশ রাখে না। যখন তারা লেখাপড়া শিখছে, একই সময়ে কে কোন বিষয়ে পারদর্শী হবে, কে কোথায় কর্মসংস্থানে যাবে, কে কোথায় ইনোভেটর হবে, সেটিও নির্ধারিত
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের শিল্পায়ন, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের এআই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়।আজকের এই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমাদের পুনরুদ্ধার করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে। আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। তাই আবারও তোমাদেরকে বলব, তোমরা নিজেরা ভেবে দেখো, তোমাদের ভবিষ্যৎ কে করবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে রয়েছে। নেপোলিয়নের মতো হাতের রেখা কেটে বলতে হবে, আমার ভাগ্য রয়েছে। আমি আমার নিজের ভাগ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিন্তু তোমরা সকলেই স্বাধীন। বাবা-মা কেউ কাছে নেই এবং তারা তোমাদের কোনো রকম বাধা-বিপত্তি দিচ্ছেন না। তোমরা তোমাদের মতো লেখাপড়া করছো, তোমরা তোমাদের মতো বেরিয়েছো, তোমরা তোমাদের নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব, বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন, এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদের আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কোন পথে তোমরা যাবে? তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। ভেবো না, তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে। কী হতে চাও? কী করতে চাও? কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে? সেই সময়টা আজ, এখনই।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে নবীন বরণ নয়। আজকে সারা জীবনকে কীভাবে তুমি বরণ করবে? আগামী জীবন তুমি কীভাবে চলবে? আগামী বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেই প্রতিজ্ঞা করার সময় আজকে।’ কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে চীনের মডেল দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেরি রিসেন্টলি ১৮০ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে যদি কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়, আমি কিছু মডেল দেখতে চাই। তিনি জানতে চাইলেন, কোনটা দেখতে চাচ্ছেন? আমি বললাম, চীনেরটা দেখতে চাচ্ছি। ইউরোপ-আমেরিকা আমার খানিকটা জানা রয়েছে। আমি চায়না মডেল জানতে চাইলাম।’ তিনি বলেন, ‘তিনি বললেন, বেশ, ঘুরে আসেন। আমি চলে গেলাম চীনে চার দিনের সফরে। দেখে আসলাম, তারা তাদের টিভেট সেক্টর, অর্থাৎ কারিগরি সেক্টর, কীভাবে গড়ে তুলছে। অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।’ চীনের শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা বলার অবকাশ রাখে না। যখন তারা লেখাপড়া শিখছে, একই সময়ে কে কোন বিষয়ে পারদর্শী হবে, কে কোথায় কর্মসংস্থানে যাবে, কে কোথায় ইনোভেটর হবে, সেটিও নির্ধারিত
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে । সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন। ইতোমধ্যে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাস থেকে সখিপুর সোলায়মানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না। একাধিকবার তার কাছে হিসেব চাইলে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান দেই দিচ্ছি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ২০২৫ সালে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন মাদ্রাসাটির সহকারী গ্রন্থাগারিক খালিদ বিন সাঈদ, সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী মৌলভী আব্দুল আজিজকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি অডিট ও তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝিয়ে দিতে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান তদন্ত কমিটির কাছে একমাস সময় চেয়ে নেন। এরপর একমাস পেরিয়ে বছর হলেও তিনি অডিট কমিটির কাছে হিসেব বুঝিয়ে দিতে পারেন নি। পরে মাদ্রাসার সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপন আয়ব্যয়ের হিসেব বুঝে পাওয়ার আগে কোন কাগজে সাক্ষর করবে না বলে জানান। এরপর গত ২০ আগষ্ট অগ্রণী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার ০২০০০০১৪০০৯২৯ সভাপতি জুয়েল আকরাম রিপনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসাটির সুপার আব্দুল মান্নান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বেতন বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেন। টাকা তোলার পর ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নান ওই টাকা নিজে ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করে আত্মসাৎ করেন। প্রথমে সাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা উত্তলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের টাকা উত্তলনের প্রমাণ দেখানে তিনি টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে থানায় ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন এডহক কমিটির সভাপতি। এমন ঘটনার পর মাদ্রসা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক টিউলিজ রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাঝে মধ্যেই তিনি বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। বেতন আমাদের একাউন্টে ঢুকছে না কেনো,এমন প্রশ্ন করা হলে সুপার বলেন সভাপতি সাক্ষর দিচ্ছে না তাই বেতন পাচ্ছি না। গত মাসে আমাদের বেতন উত্তলন করে নিজের একাউন্টে রেখে দিছে। পরে শুনতে পারি সভাপতির সাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসা সুপার টাকা উত্তলন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে আমাদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে। তিনি দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আমাদের সাথে যেই কাজ করেছে আমরা এই সুপারের বিচার দাবি করছি।
নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। ডা. জুবাইদা বলেন, নারীদের সমতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এছাড়া, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিএনপি সরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করে সমতা ও সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন ড. জুবাইদা রহমান। একই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা করছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি জুলাইকে জনগণের যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে অনেক চিকিৎসক শপথ ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হওয়া চিকিৎসকদের শনাক্ত করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের শহীদের সংখ্যা দিয়ে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং প্রতিটি শহীদের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায়।