অপরাধ

মশা নিধনে কেরোসিন, ময়লায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মশা নিধনে কেরোসিন, ময়লায় কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ
বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ দখলদারিত্ব

 

মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহ এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি চক্র, ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ; উভয় সিটি করপোরেশনেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ ও ২০১৯ সালে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান নাম ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে ডিএসসিসি থেকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সঠিক মানের কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের নামে কেবল কেরোসিন ছিটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।


অন্যদিকে, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও নেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা জামানত দিয়ে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে ডিএসসিসিতে প্রতিবছর বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ‘ময়লা-বাণিজ্য’ পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

অপরাধ

View more
দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ
দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

  জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং শত শত কোটি টাকা লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির এই নেতার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এছাড়া তার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৫৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন (জমা ও উত্তোলন) হয়েছে, যার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো জরুরি বলে আদালতকে জানায় দুদক। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

News নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
দুই পোশাক কারখানার বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

দুই পোশাক কারখানার বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

৫ কোটি টাকার কার্যাদেশ, ৫০ লাখের কথিত লেনদেন—মামলার নেপথ্যে কী?

৫ কোটি টাকার কার্যাদেশ, ৫০ লাখের কথিত লেনদেন—মামলার নেপথ্যে কী?

দুদকের জালে প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন, ঢাকায় ফেরার রহস্য কী?

দুদকের জালে প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন, ঢাকায় ফেরার রহস্য কী?

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সসহ ৮ জন গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

  সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় রোববার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকার দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর ছেলে, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), একই এলাকার দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাদের ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০) ও মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুরা মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মব (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া হাসপাতালের সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মো. রতন শেখ।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
গণপূর্তে ৫কোটি টাকার ভূয়া বিল পাশের অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত প্রকৌশলী মাসুদ রানা এবার ঢাকা মেডিকেলের ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প দখলের চেষ্টায়

গণপূর্তে ৫কোটি টাকার ভূয়া বিল পাশের অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত প্রকৌশলী মাসুদ রানা এবার ঢাকা মেডিকেলের ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প দখলের চেষ্টায়

জনতা ব্যাংক থেকে ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েও কারখানা চালু করেনি কনিকা কমার্শিয়াল

জনতা ব্যাংক থেকে ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েও কারখানা চালু করেনি কনিকা কমার্শিয়াল

শেরেবাংলানগর গণপূর্তের সদ্য বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

শেরেবাংলানগর গণপূর্তের সদ্য বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের অমানবিক নির্যাতন করা সুনামগঞ্জ দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়
বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের অমানবিক নির্যাতন করা সুনামগঞ্জ দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

  বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন, সুরমা ও ধোপাজান নদী থেকে বালু লুট ও চাঁদাবাজির আশ্রয়দাতা হওয়া এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চরম বেপরোয়া আচরণ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলমত দমনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের দিরাই থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুনামগঞ্জে অবস্থানকালে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস পুলিশি নির্যাতন, ঘরবাড়িতে হামলা, সাজানো মামলায় গ্রেফতার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম (বিপি নং-৭৫০২০০৮৬৮৩) সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপত্যকা হাসননগরে (শান্তিবাগ) নিজের নামে ‘এ.আর.এস মহল’ নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর-১৮১ সম্বলিত বাস ভবনটির কর পরিশোধ নথিপত্র অনুযায়ী, ষোলঘর মৌজায় বাড়িটির মালিক আমিনুল ইসলাম এবং তাঁর পিতার নাম সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছর থেকে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছর পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর বছরে ৭ হাজার ৯১৪ টাকা হারে পৌর কর পরিশোধ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শহরের মূল সড়কের পাশে অবস্থিত ওই এলাকার প্রতি শতক জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা। ৮ শতক জমির ওপর নির্মিত সাত কোটি টাকা মূল্যের এই সুরম্য অট্টালিকা ছাড়াও সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন মূল্যবান এলাকায় তাঁর নামে-বেনামে আরও বিপুল জমি ও অবৈধ সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্পদের বিষয়ে দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়ির সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেন, বাড়িটি ব্যাংকের ঋণ নিয়ে করা হয়েছে এবং এখনও তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন। তবে ঠিক কোন ব্যাংক থেকে এবং কবে কত টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিরোধী দল দমনের বিষয়ে তিনি সাফাই গেয়ে বলেন, “আমরা সরকারের চাকরি করি। চাকরিকালে যার পক্ষে কাজ করি তিনি খুশি হন, আর যার বিরুদ্ধে যায় তিনি ক্ষেপে যান। হয়তো সেরকম কিছুই ঘটেছে।” **ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর তাণ্ডব:** নথিপত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য মতে, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা শহরে ওসি আমিনুল ছিলেন এক মূর্তিমতি আতঙ্ক। তাঁর ভয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিনের পর দিন ঘরছাড়া ছিলেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ডামি নির্বাচনের ঠিক আগে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য সচিব তারেক মিয়া ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ফরহাদসহ শীর্ষ নেতারা শান্তিবাগে এক বাসায় আশ্রয় নিলে ওসি আমিনুলের নির্দেশে পুলিশ পুরো এলাকা ঘেরাও করে তাদের ওপর বেধড়ক শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং জেলহাজতে পাঠায়। একইভাবে ২০১৮ সালে জেলা জামায়াত কার্যালয় (ইসলামিক সেন্টার), জেলা আমীর ও সেক্রেটারির বাসায় হামলা-ভাঙচুর পরিচালনা এবং জেলা শিবির সভাপতি কুদরতে এলাহী মারুফকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেন এই আমিনুল। সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ফরহাদ বলেন, আওয়ামীলীগ শাসনামলে পুলিশ কর্মকর্তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দৌড়াবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। এনিয়ে কারও বিরুদ্ধে রাগ বা ক্ষোভ থাকার কথা নয়। কিন্তু এই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয় ভিন্ন। ওসি আমিনুল ইসলাম কতটা বেপরোয়া ছিল সুনামগঞ্জের বিএনপি,ছাত্রদলসহ আমাদের নেতাকর্মীরা এর সাক্ষী। তার নির্যাতন ছিল ভয়াবহ। তার কারণে ঘরবাড়িতে এক মুহূর্তের জন্যেও অবস্থান করা সম্ভব হয়নি।পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণাকালে সে ধানের শীষের লিফলেট পর্যন্ত বিতরণ করতে দেয়নি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ঘটনার বর্ননা দিয়ে তিনি বলেন,আমরা ভেবেছিলাম যেহেতু তিনি বিএনপি নেতার আত্মীয় পরিচয় দেন তাহলে তিনি হয়তো বিপদের সময় কিছুটা হলেও নমনীয় হবেন কিন্তু ঘটনা হল এর উল্টো। তার স্ত্রী পুলিশ ডেকে এনে আমাদের ধরিয়ে দেন। আমিসহ ছাত্রদলের জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে পেটানো হয়। শাহ ফরহাদ বলেন,স্বৈরাচারের শাসনামলে প্রশাসনে থাকা অতিউৎসাহী ‘ডেভিল’ পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসির দায়িত্ব দেওয়ায় সত্যিই হতবাক হয়েছি। তিনি তার অতীত কর্মকান্ডের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেকআহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন,এসব অতীত দিনের ঘটনা। আমরা এর সাথে জড়িতদের যথাযথ বিচার চাই। সুনামগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর এ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার মামুন বলেন, এই পুলিশ কর্মকর্তার মাঝে নুন্যতম পেশাদারিত্ব ছিল না। এজন্যে সে আমাদের সাথে এরকম কর্মকাণ্ড করে গেছে। সাধারণ লোকজনকে ধরে নিয়ে তারপর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেবার ঘটনা ছিল তার নিয়মিত কাজ। সে জামায়াতের অফিসে ভাংচুর করে। পুলিশ প্রশাসনের উচিত হবে এরকম দোষী কর্মকর্তাদের তদন্ত করে ব্যবস্হা গ্রহণ করা এবং যোগ্য, মানবিক কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেয়া। এতে মানুষ উপকৃত হবেন, আইনশৃংখলা পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সাবেক ছাত্রশিবির নেতা কুদরতে এলাহী মারুফ বলেন, একমাত্র আল্লাহর দয়ায় বেঁচে আছি না হয় সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হতাম। ওসি আমিনুল ওই ঘটনার নেতৃত্বে দেন। মারুফ বলেন,ওসি আমিনুলের কত ঘটনা বলব। তার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করতে হবে। তাহলে মূল রহস্য উদঘাটন হবে তিনি কি পেশাদার ছিলেন নাকি “সন্ত্রাসী” ছিলেন। বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সুনামগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সাঈদ বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী দলমত দমনে অতিউৎসাহী যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, আমিনুল তাদের মধ্যে অন্যতম। দুর্নীতির পাহাড় গড়া এ ধরনের কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ওসির পদে বহাল রেখে বর্তমান সরকারের পক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি সুযোগ পেলেই অপশক্তিকে মদদ দিয়ে সরকারকে বিব্রত করবেন। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠানো আর্থিক ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগের বিভাগীয় ও আইনি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত হলেন লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন

কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত হলেন লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কার পেটে ?

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পের ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কার পেটে ?

কক্সবাজার সড়ক বিভাগে থাকাকালীন ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত সেই মনিরুজ্জামান এখন সওজের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে

কক্সবাজার সড়ক বিভাগে থাকাকালীন ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত সেই মনিরুজ্জামান এখন সওজের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে

0 Comments