নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে আগামী ১৮ অক্টোবর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাঁকে এ শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ১২ অক্টোবর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আসাদুজ্জামান রিপনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধান প্রকৌশলীকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় শুনানি
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মতিনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভবন-৫-এর দ্বিতীয় তলায় ২০৯ নম্বর কক্ষে এ শুনানি আয়োজনের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানিতে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কী বক্তব্য দেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কী তথ্য উঠে আসে, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকে নজর
গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং তদন্তের ফলাফল স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি কী তথ্য-প্রমাণ পায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কী উঠে আসে এবং শুনানিতে তাঁর বক্তব্য কী হয়—এসব বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তদন্ত কমিটি গঠন বা শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুরোধকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-প্রমাণ, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্বচ্ছ তদন্তের প্রত্যাশা
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে থাকা তথ্য ও নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য এবং তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। শুনানির ফলাফল বা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না পর্যন্ত বিষয়টিকে তদন্তাধীন হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীন লাকসামের মুদাফফরগঞ্জ বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান বরাদ্দ, লিজ, নির্মাণ ব্যয় ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এনামুল হক বশির ২০০৩ সালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় একই জেলা পরিষদে কর্মরত ছিলেন। মাঝখানে দেবিদ্বারের একটি পুকুরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের কারণে তাঁকে আট মাসের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদে বদলি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার কুমিল্লা জেলা পরিষদে ফিরে আসেন। কুমিল্লায় ফিরে জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন মার্কেট থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। অনুসন্ধানে জানা যায় মুদাফফরগঞ্জ বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের বিরোধের সূত্রপাত ২০০৩ সালে। তৎকালীন সংসদ সদস্য কর্নেল আজিমের মৌখিক নির্দেশে ওই বছর মার্কেটের জন্য জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সেখানে টিনশেড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা ছিল। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০৬টি দোকান নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে ২০৬ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি। তবে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে মাটি ভরাট, জমি লিজ নেওয়া এবং মার্কেট নির্মাণের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেককেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এসব অসম্পূর্ণ কাজ ও আর্থিক হিসাবের জটিলতা পরবর্তী সময়ে মার্কেট নির্মাণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দোকানের জন্য সংগৃহীত অর্থ ঠিকাদার থেকে এনামুল হক জেলা পরিষদে জমা দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু ওই অর্থ জেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয় এবং কয়েকটি দোকান প্রস্তুত করা হয় বলে তিনি জানান। যাঁরা আগে দোকান নেবেন না বলেছিলেন, তাঁদের স্থানে নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সেই অর্থের কিছু অংশ জেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ দিয়ে দোকান প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয় বলে তাঁর বক্তব্য। চুক্তি অনুযায়ী মোট বিলের ৪৫ শতাংশ ঠিকাদার এবং ৫৫ শতাংশ তাঁদের পাওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার তাঁদের কোনো টাকা দেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমানে যাঁদের কাছে তিনি দোকান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, শত চেষ্টা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক দুর্বলতা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে দোকানমালিকদের দোকানসংক্রান্ত কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে পারেননি। এ ব্যর্থতার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশির তার স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন,যা জেলা পরিষদ আইনের নীতি পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও নিজের নামে কোন দোকান বরাদ্দ নিতে পারেন না। কিন্তু তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন। এই মার্কেটের কার্যক্রম যখন শুরু হয় ২০০৩ সালে, তখন অধিকাংশ দোকান বরাদ্দ নেন বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীরা, এখন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে এলাকায় সামাজিক একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কেটসংক্রান্ত বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নিজের কয়েকটি সিদ্ধান্তকেও ভুল বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ২০০৩ সালে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মৌখিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অন্যদের সম্পৃক্ত করা ছিল তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত। একইভাবে ২০০৩ সালে নির্ধারিত নামগুলো পরিবর্তন না করা, ২০০৮ সালে পুনরায় তাঁদের নামে লিজ নেওয়া এবং ২০১৫ সালে তাঁদের নামে দোকান বরাদ্দ নেওয়াকেও তিনি নিজের বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর আশঙ্কা, একই ধরনের প্রক্রিয়ায় অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার ভাই পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক আধিপত্য নিয়ে একটি বলয় তৈরি করছেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জহিরুল আলম এর মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান মালিক কে হুমকি দিচ্ছেন যদি দোকান খালি করে না দেন, তাহলে ওই দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের ব্যবস্থা করবেন। জেলা পরিষদের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৩ সালে মাটি ভরাট, ২০০৮ সালে লিজ গ্রহণ ও নবায়ন এবং ২০১৫ সালে দোকান বরাদ্দ নেওয়া থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাঁকে এক টাকাও দেননি। অথচ তাঁদের নামের কারণে তাঁকে বিভিন্ন আর্থিক দায় বহন করতে হয়েছে।
ঢাকার সাভারে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে ২৯০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। তাঁদের মধ্যে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত সাভার মডেল থানার বক্তারপুর মাঝিপাড়া, হেমায়েতপুর ও ইমান্দিপুর এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় ডিবি উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথম অভিযান চালানো হয় রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বক্তারপুর মাঝিপাড়া এলাকায়। এ সময় নুর আলম (৩০) ও রাকিবুল ইসলাম (৩০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা। একই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল গফুর (২৪) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ হাজার টাকা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই সেতু দিয়ে পারাপার হয় এবং আদায় হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি টোল। কিন্তু সেই টোল আদায় ও হিসাব সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক অভিযোগের কেন্দ্রে এসেছে টোল আদায়ের স্বচ্ছতা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা, টোকেন/রসিদ প্রদান এবং আদায়কৃত অর্থের সঙ্গে সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের সামঞ্জস্য। এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি কতটা হচ্ছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী (চ: দা:) মো. মাইদুল ইসলামের দায়িত্বে শাহ আমানত সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন টোল আদায়ে জড়িত কর্মচারীরা। টোকেন ছাড়া টোল আদায়ের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত সেতুতে টোল আদায় নিয়ে এর আগেও গণমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে টোকেন না দিয়ে টাকা আদায় এবং আগের প্রিন্ট করা রসিদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এবং রশিদ দিলেও রশীদে গাড়ীর নাম্বার উল্লেখ থাকে না, লেখা থাকে শুধু চার ডিজিটের শূন্য। এখনো সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী। এই অনিয়মের কারণে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, টোকেন ছাড়াই টোল আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি মাসভিত্তিক মোট টোল আদায়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য প্রকাশ করে না সওজ। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—প্রতিদিন সেতু দিয়ে কত যানবাহন পার হচ্ছে, তার বিপরীতে কত যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় হচ্ছে এবং আদায়কৃত অর্থের পুরোটা সরকারি হিসাবে জমা হচ্ছে কি না? হিসাবের অমিলেই কি লুকিয়ে আছে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ? তথ্য সূত্রে জানা যায়, যানবাহনের সংখ্যা ও টোল আদায়ের হিসাব নথিভুক্ত করা টোল আদায় কারি প্রতিষ্ঠানের এবং সওজ কর্তৃপক্ষ তা তদারকি করবে। কিন্তু টোল আদায় বেড়ে গেলে, এবং পরিমাণ কমে গেলে ওই সময়ে কত যানবাহন সেতু পার হয়েছে—সে তথ্য দিতে পারেনা সংশ্লিষ্ট টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান। এখনো সেই অনিয়ম চলছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক কর্মকর্তা জানান, শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে সংঘবদ্ধ সিণ্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া কখন কিভাবে আদায় করা টোল মেরে দেয় কেউও টের পায় না, এই টাকার একটি প্যাকেট প্রতিদিন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে চলে যায়। এই চেয়ারে শুধু তিনি নন যেই বসে সেই হরিলুটের সঙ্গে জড়িত। সরকারি (ই-জিপি) নথিতে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর তিন বছরের (Web-Based Toll Collection, Operation and Management) সেবার জন্য চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের মাধ্যমে একটি ক্রয়প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রাক্কলিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ টোল ব্যবস্থাপনা কেবল টাকা সংগ্রহের বিষয় নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন গণনা, টোল হিসাব, ডাটা সংরক্ষণ, অর্থ জমা এবং সরকারি রাজস্বের হিসাব মিলিয়ে দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই অবস্থায় অভিযোগ উঠছে—সওজ থেকে এসব কার্যক্রমের যথাযথ তদারকি হচ্ছে কি না এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সিণ্ডিকেটের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ? একাধিকবার অভিযোগ, তারপরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে শাহ আমানত সেতুর টোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু রাজস্বের হিসাব নয়, টোল প্লাজায় যানজট এবং অটোমেশন নিয়েও আগেও সমস্যা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে আরএফআইডি ও এএনপিআর ক্যামেরা, অনিবন্ধিত যানবাহন এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়ার জটিলতার কথা উঠে আসে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা থাকার পরও যদি টোল আদায় ও যানবাহনের সংখ্যার মধ্যে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা কোথায়? এভাবেই কি সংঘবদ্ধ সিণ্ডিকেট মাসের পর মাস টোল আদায়ে কি হরিলুট করে যাবে? তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র শাহ আমানত সেতুর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিদিনের যানবাহন চলাচলের ডাটা, প্রতিটি লেনের টোল আদায়ের হিসাব, টোকেন ও রসিদের সিরিয়াল, সফটওয়্যার/সার্ভারের লগ, সিসিটিভি ফুটেজ, দৈনিক আদায়কৃত অর্থের ব্যাংক জমা, সরকারি কোষাগারে জমার চালান, টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের বিল ও পেমেন্ট, এবং সওজের তদারকি প্রতিবেদন পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। তখন থলের বিড়াল দ্রুত বেরিয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে—নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বনাম টোল আদায়ের অর্থ—এই দুটি তথ্য পাশাপাশি রাখলেই কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি আছে কি না, তা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে। নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম টোল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে, তিনিও সুকৌশলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন নিয়মিত, সওজ অফিসের নির্দিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টোল আদায়কারীরা মাইদুলের সহযোগী বলে জানা যায়, তারা কখন কি ভাবে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করবে তার হিসাব পানির মত সচ্ছ। কারণ এই দপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীরাও টোল আদায়ে হরিলুট করেছেন বলে সওজের সুত্রে জানা গেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন লাখ লাখ সরকারি টাকা মাইদুলের পকেটে ঢুকে, এটা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলমান প্রক্রিয়া, এখানে যেই নির্বাহী প্রকৌশলী আসুক টোলের টাকা তাদের কাছে স্ব-সম্মানে পৌছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি শাহ আমানত সেতুর টোল আদায় সরকারি রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এখানে সামান্য অনিয়মও সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সওজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুদকের তদন্ত ও নিরপেক্ষ অডিট বা তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে টোল আদায়ের সম্পূর্ণ ডাটা জনসম্মুখে প্রকাশ এবং প্রতিদিনের যানবাহন সংখ্যা ও আদায়কৃত অর্থের স্বয়ংক্রিয় মিল নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। উল্লেখ্য— চট্টগ্রামের কর্ণফুলী (শাহ আমানত) সেতুর টোল আদায়ের জন্য ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি ‘সেল-ভ্যান জেভি’ তারা চুক্তির মাধ্যমে শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় এবং সেতুর সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে আসছিল, কিন্তু তাদের মেয়াদ শেষ হওয়াতে বর্তমানে সওজের সড়ক বিভাগ নিজস্ব পদ্ধতিতে টোল আদায় করছে বলে জানা গেছে।