বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সহজ শর্তের ঋণচুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ দেবে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক)।
প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের।
সোমবার ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এ ঋণচুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের। চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে সই করেন ব্যাংকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেনজঝুন টিয়ান ।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য চীন সরকার দুই শতাংশ সুদে নমনীয় ঋণ দেবে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ২০ বছর।
প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনালের পাশাপাশি কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এসব অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, সংরক্ষণ এবং কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়বে এবং পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত হবে। এতে বন্দরের সেবার মান ও কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের ভূমিকা আরো সম্প্রসারিত হবে।’
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে বন্দরের কার্যক্রম আরো আধুনিক করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আহ্বানে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংসদসচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির এ আদেশ সাধারণ অবগতির জন্য জারি করা হয়। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়েছিল। কয়েক দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২৪ মিনিটে ওই অধিবেশন শেষ হয়। তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তির পর এবার চতুর্থ অধিবেশন আহ্বানের মধ্য দিয়ে সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের দিকে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। আলোচনায় চীনের সঙ্গে যে-সব বিনিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলোতে ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বভৌম ঋণ ও অন্যান্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দু’দেশের অংশীদারত্ব জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। চীনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা এদিকে, আজ (বুধবার) অপর এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গণমাধ্যমের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে সম্ভাবনা, তার অন্যতম উদাহরণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে ৭ বছর আগে গড়ে ওঠা এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়াতে দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম পথ প্রদর্শক হয়ে ওঠেছে। কাপ্তাই কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে নির্মাণ করা হয় ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই সৌরবিদ্যু কেন্দ্র। এক সময়ের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জমিতেই এখন সারি সারি সৌর প্যানেল। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে সোলারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন উৎস। সূর্যের আলোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সঙ্গে তা পরিণত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে। কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটা অনেক লাভজনক একটি প্রকল্প। এর জনবল এবং খরচ অনেক কম। রক্ষণাবেক্ষণ বলতে শুধু পরিষ্কার রাখতে হয়। এছাড়া তেমন কোন খরচ নাই। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কিছুটা উৎপাদন কম হলেও উৎপাদন থেমে থাকে না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার আরো বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। কাপ্তাই কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরো জানান, কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরো ১ মেগাওয়াট এবং নতুন ৭ দশমিক মেগাওয়াট প্রকল্পের কাজ চলছে। তিনি জানান, আমাদের ব্রিকফিল্ডে আরেকটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট করার প্রক্রিয়া চলমান এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তেল,গ্যাস, কয়লার প্রয়োজন হয় না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমান সক্ষমতার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে কাপ্তাইয়ের এই সফল সম্ভাবনাকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার এবং সোলার পার্ক স্থাপনে আরো বিনিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি ও উপযুক্ত জমিতেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি তৈরি হতে পারে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার আর সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এমন উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ। দেশের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান। এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে থাকা সুবিশাল পাহাড়ী অঞ্চলকে সরকারের পক্ষ থেকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল একটি যোগান দেয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন এখন সরকারি উদ্যোগ।