কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীন লাকসামের মুদাফফরগঞ্জ বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান বরাদ্দ, লিজ, নির্মাণ ব্যয় ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এনামুল হক বশির ২০০৩ সালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় একই জেলা পরিষদে কর্মরত ছিলেন। মাঝখানে দেবিদ্বারের একটি পুকুরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের কারণে তাঁকে আট মাসের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদে বদলি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার কুমিল্লা জেলা পরিষদে ফিরে আসেন। কুমিল্লায় ফিরে জেলা পরিষদের অধীন বিভিন্ন মার্কেট থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায় মুদাফফরগঞ্জ বাজার জেলা পরিষদ মার্কেটের বিরোধের সূত্রপাত ২০০৩ সালে। তৎকালীন সংসদ সদস্য কর্নেল আজিমের মৌখিক নির্দেশে ওই বছর মার্কেটের জন্য জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সেখানে টিনশেড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা ছিল। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০৬টি দোকান নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে ২০৬ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি। তবে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে মাটি ভরাট, জমি লিজ নেওয়া এবং মার্কেট নির্মাণের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেককেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এসব অসম্পূর্ণ কাজ ও আর্থিক হিসাবের জটিলতা পরবর্তী সময়ে মার্কেট নির্মাণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দোকানের জন্য সংগৃহীত অর্থ ঠিকাদার থেকে এনামুল হক জেলা পরিষদে জমা দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু ওই অর্থ জেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয় এবং কয়েকটি দোকান প্রস্তুত করা হয় বলে তিনি জানান। যাঁরা আগে দোকান নেবেন না বলেছিলেন, তাঁদের স্থানে নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সেই অর্থের কিছু অংশ জেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ দিয়ে দোকান প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয় বলে তাঁর বক্তব্য। চুক্তি অনুযায়ী মোট বিলের ৪৫ শতাংশ ঠিকাদার এবং ৫৫ শতাংশ তাঁদের পাওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার তাঁদের কোনো টাকা দেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে যাঁদের কাছে তিনি দোকান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, শত চেষ্টা সত্ত্বেও প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক দুর্বলতা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে দোকানমালিকদের দোকানসংক্রান্ত কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে পারেননি। এ ব্যর্থতার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশির তার স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন,যা জেলা পরিষদ আইনের নীতি পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও নিজের নামে কোন দোকান বরাদ্দ নিতে পারেন না। কিন্তু তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের স্ত্রীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন।
এই মার্কেটের কার্যক্রম যখন শুরু হয় ২০০৩ সালে, তখন অধিকাংশ দোকান বরাদ্দ নেন বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীরা, এখন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে এলাকায় সামাজিক একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কেটসংক্রান্ত বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নিজের কয়েকটি সিদ্ধান্তকেও ভুল বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ২০০৩ সালে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মৌখিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অন্যদের সম্পৃক্ত করা ছিল তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত। একইভাবে ২০০৩ সালে নির্ধারিত নামগুলো পরিবর্তন না করা, ২০০৮ সালে পুনরায় তাঁদের নামে লিজ নেওয়া এবং ২০১৫ সালে তাঁদের নামে দোকান বরাদ্দ নেওয়াকেও তিনি নিজের বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর আশঙ্কা, একই ধরনের প্রক্রিয়ায় অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিজেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার ভাই পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদে একক আধিপত্য নিয়ে একটি বলয় তৈরি করছেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জহিরুল আলম এর মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান মালিক কে হুমকি দিচ্ছেন যদি দোকান খালি করে না দেন, তাহলে ওই দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের ব্যবস্থা করবেন। জেলা পরিষদের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০০৩ সালে মাটি ভরাট, ২০০৮ সালে লিজ গ্রহণ ও নবায়ন এবং ২০১৫ সালে দোকান বরাদ্দ নেওয়া থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তাঁকে এক টাকাও দেননি। অথচ তাঁদের নামের কারণে তাঁকে বিভিন্ন আর্থিক দায় বহন করতে হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের ফটকের সামনের ফুটপাতে বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি মডেল থানাধীন মিনাবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর এক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মারধরের শিকার শহীদ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) এর নামে। এটি নিয়ে রাস্তায় হট্টগোল শুরু হলে কয়েকজন পথচারী ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। এ সময় ওই তরুণীও প্রতিবাদ করতে থাকেন। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে, সব ছাপিয়ে আলোচনায় আসে এক যুবকের মারধরের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাদা শার্ট পরা এক যুবককে বয়স্ক ব্যক্তিটিকে চড়থাপ্পড় ও লাথি মারতে দেখা যায়। খালিদ হাসান নামে ওই যুবককেই আটক করেছে পুলিশ। খালিদ হাসান পেশায় প্রাইভেট কোম্পানির গ্রাফিকস ডিজাইনার।
সরকারি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম। প্রতি মাসে সেই গাড়ির জন্য নিচ্ছেন রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের ভাতা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের এ সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি দখলে রেখেছেন সংস্থার আরও দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাতের এই দুটি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে। আর সরকারের এ দাপুটে অতিরিক্ত সচিবের এসব গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় খরচ যোগানো হচ্ছে জাগৃকের কোষাগার থেকে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জাগৃকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান গাড়ি সুবিধা নিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোসা. ফেরদৌসী বেগম প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ার পরপরই সুদমুক্ত ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনেন। অথচ সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পর সরকারি গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও তিনি জাগৃক থেকে নিজের নামে একটি সাদা রঙের পাজেরো স্পোর্ট জিপ (ঢাকা-মেট্রো ঘ-১৮-০৫১৭) বরাদ্দ নেন। গাড়িটির চালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন শফিকুল ইসলাম; যিনি জাগৃকের নিজস্ব কর্মচারী। নিজের নামে গাড়ি বরাদ্দের পর কৌশলে একান্ত সহকারী (পিএস) মেহেদী হাসানের নামেও একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি বরাদ্দ নেন ফেরদৌসী বেগম। গাড়িটির নম্বর ঢাকা-মেট্রো গ-৩২-৪৭৫২। এই গাড়িটিও তিনি নিজ দখলে রেখেছেন, যা বর্তমানে ব্যবহার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এই গাড়িটির চালক ফজলুর রহমান। তিনিও জাগৃকের নিজস্ব লোক। কথিত আছে বাসায় ব্যবহৃত গাড়িটি কখনো সরকারি দপ্তরে আসে না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পিএস মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি সরকারি কোনো গাড়ি ব্যবহার করি না। এমনকি যে গাড়ির কথা বলছেন সেটির কালার কী তাও বলতে পারবো না।’ তবে তার নামে বরাদ্দ করা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও নম্বরের গাড়িটি বাস্তবে কে ব্যবহার করছেন-এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা খোঁজ নেন। আমি কিছু জানি না।’ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার পর সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ আর বহাল থাকে না। মূলত সরকারি যানবাহনের অপচয় কমাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে উপসচিব হতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া শুরু হয়। নীতিমালার মূল শর্তই ছিল এই সুবিধা নেওয়ার পর সরকারি যানবাহন আর ব্যবহার করা যাবে না। অথচ জাগৃক চেয়ারম্যান সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন। জাগৃকের তথ্যানুযায়ী, একটি গাড়ির পেছনে সংস্থাটিকে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। প্রতি গাড়িতে মাসে ১৮০ লিটার জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একজন চালকের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি গাড়ি দখলে রাখায় প্রতিবছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের সহায়তায় প্রথমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে যোগ দেন ফেরদৌসী বেগম। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তিনি জাগৃকের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) এবং বাজেট ও অডিট অধিশাখার দায়িত্বে ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাগৃক চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি। একপর্যায়ে সংস্থাটির সচিব মনদীপ ঘরাই চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন সাপেক্ষেই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।’ কোন বিধিবিধানের আলোকে সুদমুক্ত ঋণ নেওয়ার পরও সরকারি দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারের মুখপাত্র হিসেবে যতটুকু জানাতে বলেছেন আমি শুধু তা-ই বলেছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।’
পঞ্চগড়ের বোদায় ‘কথা আছে’ বলে এক নারী মোটরসাইকেল থামানোর পর চালককে মারধর, টাকা ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে রনি (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) মোটরসাইকেলে করে বোদা উপজেলা শহরসংলগ্ন প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। এ সময় অপরিচিত এক নারী তাঁর মোটরসাইকেল থামিয়ে ‘কথা আছে’ বলে জানান। পরিমল ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন যুবক সেখানে এসে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি বসে সমাধান করার কথা বলে ইউসুফ আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ওই বাড়িতেও পরিমল ওই নারীকে দেখতে পান। এ সময় তাঁর পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চারটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানান পরিমল। পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বোদা থানায় পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন পরিমল চন্দ্র বর্মন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)। এদিকে, ঘটনার পর রাজু ইসলাম ছাড়া অপর চার যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল। পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান ও সদস্যসচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযুক্তদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায় বলেন, গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।