দেশজুড়ে

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব
বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’

 


বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করতে চান স্থানীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি)। সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

সংসদ সদস্যদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত ই জাহান।

বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ার সব সংসদ সদস্য ওই সভায় অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


সভায় বগুড়া ৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ার যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। প্রতিবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। একটি নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশ এবং ভালো জায়গা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের অনুরোধ জানান মোরশেদ মিলটন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির সভায় বগুড়ার সাতজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’ এর বাইরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ সংসদে পাস হয়েছে। এখন উপাচার্য প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের। বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করতে চাইলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। এরপর সংসদে পাস হতে হবে; যা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার।


এ বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ফোন করা হলে তারা রিসিভ করেননি। তাদের মোবাইল নম্বরে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি।

তথ্যমতে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন করা হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হয়নি। দুটি বিভাগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তখন। পরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি অনুষদের অনুমোদন পেয়েছি। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

দেশজুড়ে

View more
এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী
এনআইডি সেবা চাইতে গিয়ে চড় খেলেন প্রবাসী

  সেবা না পেয়ে পেলেন কর্মকর্তার চড়! জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা চাইতে গিয়ে এমনটাই অভিযোগ পর্তুগাল থেকে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে আসা এক প্রবাসীর। অভিযোগ রয়েছে , সেবা দেওয়ার পরিবর্তে তার গায়ে হাত তুলেছেন খোদ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওই প্রবাসীর অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একটি সমস্যার সমাধানে অফিসে যান তিনি। কিন্তু সেবা পাওয়ার বদলে কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের শিকার হন। একপর্যায়ে তাকে চড় মারা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরেই এই অফিসে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির মুখে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলেও দিনের পর দিন ঘুরতে হয় বিভিন্ন ডেস্কে। অনেকেই দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। প্রবাসীকে চড় মারার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। তবে তিনি ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে সাধারণ নাগরিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে নিছক ভুল বোঝাবুঝি বলে চালিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

News সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ 0
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

অল্প পানিতেই তলিয়ে যায় কাঁচা রাস্তা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ধনবাড়ীতে দৈনিক মজলুমের কন্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য
পদে পদে আইন ভেঙে আনোয়ার মডার্নের হাসপাতাল বাণিজ্য

  রাজধানীর ধানমন্ডির কথা শুনলেই এক অভিজাত আবাসিক এলাকার চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে। এখানে লেক আছে। আছে সবুজে ঘেরা পার্ক। আশির দশকেই এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হারিয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। তখন থেকেই এই এলাকার কিছু অংশে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ভবনগুলোতে চলছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। এর মধ্যে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কেই মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পদে পদে আইন লঙ্ঘন করে হাসপাতাল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের দুই পাশে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক সেন্টার ও আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। প্রায় ৪৫ কাঠা জমিতে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–রাজউক অবৈধ সুবিধা নিয়ে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজকে আবাসিক এলাকায় এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গত ২৬ ও ৩০ আগস্ট সরেজমিন দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের পূর্বপাশে ১৭ ও ১৭/১ হোল্ডিংয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ভবন। এই ভবনের বেইসমেন্টে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা থাকলেও সেখানে জেনারেটর রাখা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেইসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় কয়েক শ গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে দুটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের বেইসমেন্টের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় মালামাল রাখা হয়েছে। তবে আনোয়ার খান মডার্ন কার্ডিয়াক হাসপাতালের (প্রস্তাবিত) জায়গায় টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জানতে চাইলে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. এনায়েত হোসাইন শেখ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, রাজউকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়েই এখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। কার্ডিয়াক সেন্টারের পাশে তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করবেন। তবে ৮ নম্বর সড়কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে পড়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজউক বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজউক অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পারায় এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় চিকিৎসকদের চেম্বার, অভ্যর্থনা কক্ষ ও ফার্মেসি স্থাপন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। এছাড়া রাজউক একাধিকবার অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম ও নকশার ব্যত্যয় করে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় গুদাম করায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সতর্ক করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন অঙ্গীকারনামা দিয়ে রক্ষা পাওয়ার পর আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরে যায়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে আতাঁত করে। এরপর থেকে তারা হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পূর্ব পাশেই পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচে প্যানারোমা হসপিটাল লিমেটেড নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে। এই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ১৬। ভবনের দেয়ালে বিশেষজ্ঞ ডজনখানেক চিকিৎসকদের নামফলক শোভা পাচ্ছে। হাসপাতালের সামনের সড়ক দখল করে সাত–আটটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ব্যাংক, স্কুল ও করপোরেট অফিস রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের মাথায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এই সড়কের পুরোটাই আবাসিক। কনকর্ড টাওয়ারের বিপরীতে একটি ভবনে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারও রয়েছে। ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের পাশের ভবনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ভবনে হাসপাতালের পাশাপাশি ব্যাংক, স্কুল, করপোরেট অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। ধানমন্ডির ভুতের গলির স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধানমন্ডির গ্রিন রোড ও আশপাশে পুরোটাই আবাসিক এলাকা। এই আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক করার জন্য যেসব সংস্থা অনুমোদন দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নগরবিদের বক্তব্য এ বিষয়ে বিশিষ্ট স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘রাজউক ঢাকা শহরের বারোটা বাজিয়েছে। পরিবেশবিদদের কঠোর আপত্তি সত্ত্বেও রাজউক রাজধানীর অনেক এলাকাকে মিশ্র বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা ঢাকা শহরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট না করে একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।’ ইকবাল হাবিব আরও বলেন, যেকোনো স্থানে হাসপাতাল করা যায় না। আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এর সব দায়ভার রাজউকের। গ্রিন রোড সংলগ্ন ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে গড়ে ওঠেছে চিকিৎসকদের চেম্বার, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আশির দশকের শেষে এবং নব্বই দশকের শুরুতে রাজধানীর গ্রিন রোডে চিকিৎসা সেবা শুরু হয়। শুরুতে গড়ে ওঠে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সেন্ট্রাল হাসপাতাল। এরপর কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন রাজউক দিয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন শুধু রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নির্মাণ করে। এই বিষয়ে রাজউকের সঙ্গে কথা বললে পরিষ্কার হতে পারবেন। অবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ফি জমা দিয়ে আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক করার একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর সড়কে নির্মিত হাসপাতালগুলো বাণিজ্যিক অনুমোদন নিয়েছিল কি না-সে বিষয়টি এই মুহূর্তে ফাইল না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে এই বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ বলতে পারবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়ন্টিফোরকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকা কনভারশন ফি দিয়ে বাণিজ্যিক করার শর্ত ছিল। সে অনুযায়ী ধানমন্ডির ৪, ৫, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না–তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সচিব আরও বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

দেওয়ানগঞ্জে ৫ মেট্রিকটন অবৈধ সার জব্দ

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ

বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ

এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিনদুপুরে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই

এবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে দিনদুপুরে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ডলার সহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ডলার সহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

   রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানে সংঘবদ্ধ ডলার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাতে সদর উপজেলার ১ নম্বর গড়েয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজী মিলনপুর এলাকার মৃত নছিন আলীর ছেলে মো. জালাল উদ্দীন (৪৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. ফরিদ জামান (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ডলার দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তিকে কৌশলে মিলনপুর হাট বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। পরে তাকে পুলিশ পরিচয়ে আটক করে মারধর ও নির্যাতন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও  ০১৭৪৮৬১০৮০

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির বড় ধরনের সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ

ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র

ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ীসহ হেরোইন ও ইয়াবা আটক ৫৯ বিজিবি’র

বয়স ও পদবি জালিয়াতি: ইন্তেজারের বিরুদ্ধে তদন্তের পরও নীরব প্রশাসন

বয়স ও পদবি জালিয়াতি: ইন্তেজারের বিরুদ্ধে তদন্তের পরও নীরব প্রশাসন

0 Comments