রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাবেদ আহামেদ (৫১) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কে আবেশ হোটেলের পেছনে সেতুর নিচে লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জাবেদ একজন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট ছিলেন।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।
এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল
পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাবেদ আহামেদ (৫১) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কে আবেশ হোটেলের পেছনে সেতুর নিচে লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জাবেদ একজন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট ছিলেন। ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।
কুমিল্লার লালমাইয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার তিন বছরেও চালু হয়নি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় অব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে সেন্টারের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই সেন্টারে তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বছরে প্রায় তিন হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি প্রশিক্ষণসহ মূল কার্যক্রম। সেন্টারের অফিস সহায়ক মারুফ বিল্লাল জানান, নির্মাণকাজ শেষ হলেও এটি এখনো চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চালু হলে আশপাশের মানুষের উপকার হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেন্টারটি চালু হলে তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে।
-পবিপ্রবি ভিসি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এইচ আর( হিউম্যান রিসোর্স) ক্লাবের উদ্যোগে "১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা" শীর্ষক আলোচনা সভা অদ্য ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এইচ.আর ক্লাবের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক মো:মমিনউদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মো: আনাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম নেছা ঐশি এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এইচ আর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোফাসেরুল হক তন্ময়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বদিউজ্জামান, এইচ আর ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম,প্রফেশনাল এমবিএ শিক্ষার্থী গাজী সাইয়েদা বিনতে মিতু, শিক্ষার্থী আলামীন আহমেদ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহান বলেন, আজকের এই দিনটি তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই মেজর সেমিস্টারে পদার্পণ করার অর্থ হলো তোমরা তোমাদের সাধারণ শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে এখন একটি নির্দিষ্ট পেশাদার দক্ষতায় বিশেষায়িত হতে যাচ্ছ।তোমারা যারা হিউম্যান রিসোর্স বা ম্যানেজমেন্টকে তোমাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছ মনে রাখতে হবে যে- যে কোন প্রতিষ্ঠান বা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানব সম্পদ। আর সেই মানবসম্পদকে দক্ষ,যোগ্য এবং উৎপাদনশীল করে তোলার গুরুদায়িত্ব কিন্তু ভবিষ্যৎ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার হিসেবে তোমাদের ওপরই বর্তাবে। তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকেই জোর দিয়ে আসছি যে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তোমাদের লিডারশিপ, কোয়ালিটি, কমিউনিকেশন স্কিলস,সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। হিউম্যান রিসোর্স ক্লাবের মতো সহ- শিক্ষা কার্যক্রম গুলো তোমাদের এই প্রয়োগিক দক্ষতা বা সফট স্কিলস উন্নত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে। হিউম্যান এন্ড রিসোর্স ক্লাবকে বিজনেস স্টাডিজ ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে এ ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।তিনি বলেন,অবিলম্বে আমরা হিউম্যান রিসোর্স বিভাগ চালু করবো।অনুষ্ঠানের শুরুতে এইচ আর ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। কৃতি ২ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস মেরিট অ্যাওয়ার্ড ও নবাগত শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।