জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক দখলের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভাগীয় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পরামর্শে দপ্তর পরিচালনা করছেন তিনি। তাঁর এই বিতর্কিত কার্যক্রমে সহায়তাকারী হিসেবে উঠে এসেছে দুদকের মামলাভুক্ত ও একাধিক অভিযোগ থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম এবং মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের নাম।
দুদকের আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, দুদকের দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. অলিউল ইসলামকে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্ল্যানিং শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেন চেয়ারম্যান। অলিউল ইসলাম ও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ—উভয়েই ভূমি শাখায় প্রভাব বিস্তার ও পছন্দসই কাজ বাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের নিকটজন হিসেবে পরিচিত। সরকারি দাপ্তরিক সময়ের অধিকাংশ সময় অলিউল ইসলামকে চেয়ারম্যানের দপ্তরে অবস্থান করতে দেখা যায় এবং তিনি সরকারি গাড়িতেও চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী হন। অনিয়ম ও ঘুস-বাণিজ্যের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ দুই কর্মকর্তা বর্তমান প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
৩ দিনের মাথায় স্বপদে পুনর্বহাল ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এক আদেশে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ হাবিবুরকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাত্র ৩ দিনের মাথায় অজ্ঞাত শক্তিবলে পুনরায় পদে ফিরে আসেন ফেরদৌসী বেগম। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদ দখল করে বসেন তিনি। দপ্তর পরিচালনায় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে প্রাক্তন সচিব নজরুলের দিকনির্দেশনায় কাজ করছেন এবং মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তাঁর অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরব হলেই বদলি ও বরখাস্তের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে বিতর্কিত প্লট বরাদ্দ মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের ৩২টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তিতে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আইনি মতামত, ক্ষেত্র তদন্ত ও কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করতেই আইনি জটিলতায় ঢাকা ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সেকশন ১, ব্লক জি, হোল্ডিং নম্বর ১/১-এর ৩০ শতাংশ ভূমির ক্ষেত্রে চরম স্বজনপ্রীতি ও আইনি লঙ্ঘনের চিত্র সামনে এসেছে। তৎকালীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ (স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শাঃ ১০/ঢাকা-৫৯/২০০১) এবং গেজেট অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি মৃত বন্দে আলীর অনুকূলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়ারিশ জাহাঙ্গীর জানান, তাঁদের পার্ট ফাইল নম্বর ১০৬/১৩ অনুযায়ী ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বৈধ সংযোগ বিদ্যমান রয়েছে। তা সত্ত্বেও এবং ২০১১ সাল থেকে উচ্চ আদালতে (রিট পিটিশন) আইনি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় উক্ত শিল্প ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে বাণিজ্যিক প্লট হিসেবে দরপত্র প্রকাশ ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওয়ারিশগণ লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিকার করেনি।
উৎস ঘিরে নানা প্রশ্ন প্রশাসনিক অঙ্গনে ফেরদৌসী বেগমের মূল ক্ষমতার উৎস নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এক পক্ষ বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছর ঢাকার বাইরে বদলি না হওয়া এবং তাঁর স্বামী ডিআইজি রেজাউল ইসলামের (পিপিএম) প্রশাসনিক প্রভাবই তাঁর প্রধান শক্তির ভিত্তি। অন্য পক্ষের মতে, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে তিনি এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। বিপুল অংকের রাজস্ব হারিয়ে সরকার লোকসানে পড়লেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই বিতর্কিত কর্মকর্তা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
রংপুর গণপূর্ত বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে বিভাগটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উঠেছে গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের দিকেও। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। রংপুরেও সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও পেশাগত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, গণপূর্ত বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞাপনের কথা বলে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তাকে ৭ লাখ টাকার একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগটির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে চেক বা লেনদেনের কোনো নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে ‘একই জায়গায় বারবার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয় বলে জানা গেছে। রংপুরের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে করা ওই আবেদনে তামিম ইকবাল, আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদা, আরমান, আব্দুর রশীদ মিয়া, সুজন মিয়া ও আলমগীরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, অভিযোগ দাখিলের প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিককে হামলার চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক গেলে ঠিকাদার আবু বকর সিদ্দিক মিঠু তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আতিকুর রহমানের অভিযোগ, এ সময় তাকে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে একই ঠিকাদার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ফেরদৌসি আক্তার এবং সাংবাদিক ও এনসিপি নেতা রুস্তম আলী সরকার ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সাংবাদিক আতিকুর রহমান আতিক রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, হাজীরহাটে নভোথিয়েটারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেকোরেশন বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার মিঠু চক্রের বিরুদ্ধে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বৈদ্যুতিক, সাউন্ড সিস্টেম, এসি সরবরাহ ও সিভিল কাজসহ বিটা প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন টেন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের সমন্বয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন একই দপ্তরে থাকার প্রশ্ন অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলম ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কীভাবে একই দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন এবং এর মধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করানো হয়েছে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাফিউল মন্ডলের বিরুদ্ধেও টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চললেও অনেক প্রকল্পে যথাযথ সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রকল্পের ব্যয়, ঠিকাদার ও কাজের সময়সীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিজার্ভার নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রংপুর মেডিকেল কলেজের পেছনে রিজার্ভার নির্মাণকাজ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ যথাযথভাবে না করায় পাশের ভবন ও আশপাশের রাস্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য খনন করা মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, পুরোনো ইট ব্যবহার এবং নির্ধারিতসংখ্যক ট্যাংক স্থাপন না করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ২০২০-২১ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজিয়া সুলতানা নামে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অডিটের কথা বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে এক ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ঠিকাদারদের বৈষম্যের অভিযোগ রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, কাজের ভাগ-বাটোয়ারা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক অর্থ দাবি করা হয়। ই-জিপি ও ওটিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী—বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহারিয়া আরেফিনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন রংপুরে কর্মরত থাকার সুযোগে ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আরএফকিউ ও কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের বিভিন্ন কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অল্প সময়ে সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি প্রকাশ্যে আসেনি। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। পরে বদলি হয়ে আবার রংপুরে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ নিয়ে প্রশ্ন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ক্যান্সার রোগী ও সচেতন নাগরিকরা। এ ছাড়া জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পাঁচতলা রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের কাজও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, তার জানা মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক রংপুরে আসেননি। এর কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তদন্তের দাবি রংপুর গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈষম্য এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিউল আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানকে অর্থ দিতে হয় এবং এ কারণেই কাজ শেষ করতে তাকে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বক্তব্যও পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও শহরের ২৪ টিউবওয়েল এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাদকসহ মো. আনোয়ার হোসেন খোকন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শহরের ২৪ টিউবওয়েল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. আনোয়ার হোসেন খোকন পঞ্চগড়ের রামেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। এ সময় আনোয়ার হোসেন খোকনের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান কবিরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন খোকনকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উসকানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মাকসুদ কামাল, জাফর ইকবালসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। এর আগে ৬ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে উসকানির ঘটনায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালসহ ৮ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কাছে তদন্ত সংস্থা কর্তৃক এ প্রতিবেদন দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে তা পর্যালোচনা করা হয়। এরপর ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। মামলার আরও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন– শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, সাবেক বিচারপতি এ বি এম নিজামুল হক মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।