মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালোপাড়া মোড় থেকে রাজারামপুর নামোপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পৌরসভার ‘টিম-০৮’ এর উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হয়।
রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধন কর্মী, যুবসমাজ, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌরসভার কর নির্ধারক মো. এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শাখার আতাউর রহমান, পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ খাঁন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নওরোজ হুদা। অভিযানকালে বিভিন্ন ড্রেন, জঙ্গল ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হয় এবং মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হয়।
পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পৌরসভার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানান, পৌরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, প্রকল্পের বিল নিয়ে অনিয়ম এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এমনকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো নথিভিত্তিক তদন্ত হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। গুরুতর এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এতগুলো অভিযোগ ওঠার পরও মন্ত্রণালয় কেন নীরব? অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনই বা কেন দেখা হলো না ? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে কায়কোবাদ গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল অনুমোদন, দায়িত্ব বণ্টন এবং বদলি-পদায়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম ই-এম সার্কেল এবং পরবর্তীতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ই-এম সার্কেল-২-এ দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ই-এম বিভাগ-৫ এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি উন্নয়নকাজে প্রকৃত কাজের পরিমাণ ও উত্তোলিত বিলের মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের পর দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন দাবি অভিযোগকারীদের। ৪-৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ, কোথায় গেল তদন্ত ? কায়কোবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তার আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়নকাজ থেকে ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সরকারি প্রকল্পের ব্যয়, দরপত্রের স্বচ্ছতা, কাজের মান এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষার প্রশ্নও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়। কিন্তু এসব অভিযোগ সামনে আসার পরও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে তৈরি হয়েছে বিস্ময় ও প্রশ্ন। অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়, তদন্ত করে তা খারিজ করা হচ্ছে না কেন ? আর অভিযোগের পেছনে সত্যতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচিতি থেকে প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে ? কায়কোবাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও নতুন নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাদের ভাষ্য, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সময় তিনি দপ্তরের আর্থিক বিষয় তদারকির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। সে সময় গণপূর্তের অভ্যন্তরে তার একটি বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়—‘ক্যাশিয়ার’। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সময়ও তিনি একই ধরনের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রেও কায়কোবাদের প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমন প্রভাববলয়ে অবস্থান করতে পারেন ? তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা কী—সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। মোহাম্মদপুরে কোটি টাকার ফ্ল্যাট, ধামরাইয়ে বহুতল ভবন—সম্পদের উৎস কোথায় ? কায়কোবাদের কথিত সম্পদ নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ধামরাই এলাকায় প্রায় ১০ তলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু রাজধানী নয়, তার নিজ জেলা শেরপুরেও তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে কিংবা কথিত বেনামি মালিকানায় জমি ও অন্যান্য সম্পদ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবারের ব্যবহারের জন্য দামি গাড়ি থাকার তথ্যও দিয়েছেন তারা। এসব অভিযোগের পর প্রশ্ন উঠেছে—এই সম্পদের অর্থের উৎস কী? সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন সম্ভব হয়েছে কি না ? আয়কর নথিতে সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না ? সম্পদের প্রকৃত মালিকানা কার নামে ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করার সবচেয়ে কার্যকর পথ ছিল নথিভিত্তিক তদন্ত। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সেই প্রশ্নই এখন আরও জোরালো হয়েছে। যে নথি খুললেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে কায়কোবাদের সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, ঋণ ও বিনিয়োগের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তার দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর— কার্যাদেশ ও দরপত্র নথি,অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়, পরিমাপ বই (এমবি); বিল-ভাউচার, কাজের বাস্তব অগ্রগতি, অর্থ উত্তোলন ও ছাড়ের তথ্য, ঠিকাদারদের পেমেন্ট রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন, বদলি-পদায়নের প্রশাসনিক ফাইল, পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। একই ঠিকাদারগোষ্ঠী বারবার সুবিধা পেয়েছে কি না কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আরেকটি দিক হলো ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতা। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের বিল অনুমোদন, পরিমাপ, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠবে—কায়কোবাদের দায়িত্ব পালনকালে কোন কোন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে কাজ পেয়েছে? দরপত্রে প্রতিযোগিতার প্রকৃত চিত্র কী ছিল ? একই গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ পেয়েছে কি না ? কাজের বিপরীতে বিলের পরিমাণ ও প্রকৃত কাজের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না ? এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কেন নীরব মন্ত্রণালয় ? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন এখানেই। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, কথিত বিল অনিয়ম, বদলি-পদায়নে প্রভাব, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মহল আশা করেছিল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অন্তত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি এবং কোনো দৃশ্যমান উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগও দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগের গুরুত্ব কি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসেনি, নাকি অভিযোগের পরও কায়কোবাদ কোনো অদৃশ্য প্রভাববলয়ের কারণে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন? কায়কোবাদ বলয়ের নেপথ্যে কারা ? গণপূর্তের মতো বৃহৎ সরকারি উন্নয়ন সংস্থায় একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এতগুলো অভিযোগ ওঠার পর তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও মধ্যস্থতাকারীদের যোগাযোগের ধরনও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের দায়িত্বে থাকা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য কি না—তা যাচাই না করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা নয়, সম্ভাব্য সুবিধাভোগী ও সহযোগীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য পাওয়া যায়নি কায়কোবাদের : অভিযোগগুলোর বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম জোন) মো. কায়কোবাদের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবের প্রতি প্রশ্ন : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে এখন সংশ্লিষ্ট মহলের সরাসরি প্রশ্ন— একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো না ? মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথিত লিখিত অভিযোগের কী পরিণতি হয়েছে ? চট্টগ্রাম ও ঢাকার ই-এম সার্কেলে তার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পগুলোর বিল, এমবি ও পেমেন্ট নথি কি যাচাই করা হয়েছে? তার কথিত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো যাচাই হয়েছে কি? বদলি-পদায়নে তার কথিত প্রভাবের বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক অনুসন্ধান হয়েছে কি? কায়কোবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারগোষ্ঠীর প্রকল্পপ্রাপ্তির তথ্য কি কখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে? আর যদি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণ করে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের অবসান ঘটানো হচ্ছে না কেন? সত্য হলে শুধু কায়কোবাদ নন, সুবিধাভোগীদেরও জবাবদিহি : অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে দায় কেবল একজন কর্মকর্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী, প্রশাসনিক সহযোগী এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধাভোগীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা সংস্থা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত করা যেতে পারে। কায়কোবাদ ও তার পরিবারের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি এবং দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আর্থিক নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্য-মিথ্যা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে। তদন্ত না হলে প্রশ্ন আরও বাড়বে : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক প্রভাব এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ ওঠার পরও যদি কোনো তদন্ত না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা না নেওয়া যেমন গুরুতর, তেমনি অভিযোগ মিথ্যা হলেও তদন্ত না করে তা ঝুলিয়ে রাখাও একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তির জন্য অন্যায্য। তাই এখন মূল প্রশ্ন : কায়কোবাদ অভিযুক্ত কি না—সেটি নয়; অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন কি না। নাকি প্রকাশ্যে আসা গুরুতর অভিযোগগুলোও গণপূর্তের ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ে থাকবে ? জনস্বার্থে প্রশ্ন একটাই—কায়কোবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে, নাকি প্রভাবশালী বলয়ের ছায়ায় তদন্তের আগেই থেমে যাবে সব প্রশ্ন?
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালোপাড়া মোড় থেকে রাজারামপুর নামোপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পৌরসভার ‘টিম-০৮’ এর উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হয়। রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধন কর্মী, যুবসমাজ, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌরসভার কর নির্ধারক মো. এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শাখার আতাউর রহমান, পৌর কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ খাঁন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নওরোজ হুদা। অভিযানকালে বিভিন্ন ড্রেন, জঙ্গল ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হয় এবং মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পৌরসভার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানান, পৌরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক দখলের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভাগীয় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পরামর্শে দপ্তর পরিচালনা করছেন তিনি। তাঁর এই বিতর্কিত কার্যক্রমে সহায়তাকারী হিসেবে উঠে এসেছে দুদকের মামলাভুক্ত ও একাধিক অভিযোগ থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম এবং মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের নাম। দুদকের আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, দুদকের দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. অলিউল ইসলামকে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্ল্যানিং শাখার নির্বাহী প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেন চেয়ারম্যান। অলিউল ইসলাম ও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ—উভয়েই ভূমি শাখায় প্রভাব বিস্তার ও পছন্দসই কাজ বাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের নিকটজন হিসেবে পরিচিত। সরকারি দাপ্তরিক সময়ের অধিকাংশ সময় অলিউল ইসলামকে চেয়ারম্যানের দপ্তরে অবস্থান করতে দেখা যায় এবং তিনি সরকারি গাড়িতেও চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গী হন। অনিয়ম ও ঘুস-বাণিজ্যের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ দুই কর্মকর্তা বর্তমান প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ৩ দিনের মাথায় স্বপদে পুনর্বহাল ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এক আদেশে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ হাবিবুরকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাত্র ৩ দিনের মাথায় অজ্ঞাত শক্তিবলে পুনরায় পদে ফিরে আসেন ফেরদৌসী বেগম। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদ দখল করে বসেন তিনি। দপ্তর পরিচালনায় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে প্রাক্তন সচিব নজরুলের দিকনির্দেশনায় কাজ করছেন এবং মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তাঁর অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরব হলেই বদলি ও বরখাস্তের মুখে পড়তে হচ্ছে। আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে বিতর্কিত প্লট বরাদ্দ মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের ৩২টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তিতে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আইনি মতামত, ক্ষেত্র তদন্ত ও কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করতেই আইনি জটিলতায় ঢাকা ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেকশন ১, ব্লক জি, হোল্ডিং নম্বর ১/১-এর ৩০ শতাংশ ভূমির ক্ষেত্রে চরম স্বজনপ্রীতি ও আইনি লঙ্ঘনের চিত্র সামনে এসেছে। তৎকালীন ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশ (স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শাঃ ১০/ঢাকা-৫৯/২০০১) এবং গেজেট অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তি মৃত বন্দে আলীর অনুকূলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়ারিশ জাহাঙ্গীর জানান, তাঁদের পার্ট ফাইল নম্বর ১০৬/১৩ অনুযায়ী ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বৈধ সংযোগ বিদ্যমান রয়েছে। তা সত্ত্বেও এবং ২০১১ সাল থেকে উচ্চ আদালতে (রিট পিটিশন) আইনি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় উক্ত শিল্প ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে বাণিজ্যিক প্লট হিসেবে দরপত্র প্রকাশ ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওয়ারিশগণ লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিকার করেনি। উৎস ঘিরে নানা প্রশ্ন প্রশাসনিক অঙ্গনে ফেরদৌসী বেগমের মূল ক্ষমতার উৎস নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এক পক্ষ বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছর ঢাকার বাইরে বদলি না হওয়া এবং তাঁর স্বামী ডিআইজি রেজাউল ইসলামের (পিপিএম) প্রশাসনিক প্রভাবই তাঁর প্রধান শক্তির ভিত্তি। অন্য পক্ষের মতে, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে তিনি এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। বিপুল অংকের রাজস্ব হারিয়ে সরকার লোকসানে পড়লেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই বিতর্কিত কর্মকর্তা।