অপরাধ

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের
পরিবার পরিকল্পনা

 


জুতা, স্যান্ডেল, মোজা কিংবা ছাতা - পণ্য যাই হোক, দাম প্রায় হাজার টাকা। টুপি, শাড়ি, নামফলক কিংবা ফুল শার্ট এসবের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আবার কোনো কোনো পণ্যের দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গাড়ি চালক ও কর্মচারীদের জন্য পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী কেনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি চালক ও কর্মচারীদের জন্য মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩১ ধরনের পণ্য কিনেছে সরকারি এই সংস্থাটি। এসব পণ্যের বাজার মূল্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও কেনাকাটার বিলে অধিকাংশ পণ্যের একক মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। ফলে কিছু পণ্যের দাম বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেনাকাটার বিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কর্মচারীদের জন্য হাফ ও ফুল সাফারি স্যুট, ফুল শার্ট, ভি-নেক সোয়েটার, জুতা, স্যান্ডেল, টুপি ও ছাতা কেনা হয়েছে। নারী কর্মচারীদের জন্য কেনা হয়েছে জর্জেট ও সুতি শাড়ি, ব্লাউজ, শাল, জুতা ও ছাতা। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য নামফলকও কেনা হয়েছে।

হাজার টাকার জুতার দেড় হাজার টাকার মোজা

কেনাকাটার বিলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মোজার দাম নিয়ে। বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের এক জোড়া মোজা সাধারণত ১২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অথচ গাড়ি চালকদের জন্য কেনা ১৪৪ জোড়া মোজার প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে শুধু ১৪৪ জোড়া মোজার পেছনেই ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, গাড়ি চালকদের জন্য ৭২ জোড়া জুতা ও ৭২ জোড়া স্যান্ডেল কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ একই কেনাকাটায় জুতার চেয়েও ৫০ শতাংশ বেশি দামে মোজা কেনা হয়েছে।

গাড়ি চালকদের জন্য ১০৮টি হাফ সাফারি প্রতিটি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। এ ছাড়া ৭২টি টুপি, ৩৬টি ছাতা ও ৩৬টি নামফলকের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। দুটি ফুল সাফারি ও দুটি সোয়েটারও কেনা হয়েছে। এর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা।

পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি করে ফুল ও হাফ সাফারি কেনা হয়েছে। এগুরোর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য ১৩২ জোড়া জুতা ও ১৩২ জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া ৬৬টি ছাতা ও ৬৬টি নামফলকের প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।

নারী কর্মচারীদের জন্য ১৮টি জর্জেট ও ১৮টি সুতি শাড়ি কেনা হয়েছে। প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। ১৮ জোড়া স্যান্ডেল ও ১৮ জোড়া মোজার দামও ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য নয়টি ছাতা ও নয়টি নামফলক কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি ভি-নেক সোয়েটার ও ৬৬টি ফুল শার্ট কেনা হয়েছে, প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। নারী কর্মচারীদের জন্য নয়টি শাল বা সোয়েটার এবং নয়টি ফুলহাতা ব্লাউজ কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা।

পুরুষ কর্মচারীদের জন্য আরও ৪০ জোড়া জুতা কেনা হয়েছে। প্রতি জোড়া জুতার দাম পড়েছে ২ হাজার টাকা দরে। একইসঙ্গে আরও ৪০ জোড় জুতা কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার ৪৭৫ টাকা করে। এ ছাড়া ২০টি ছাতা কেনা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে।

নারী কর্মচারীদের জন্য আরও ছয় জোড়া জুতা বা স্যান্ডেল এবং ছয় জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতিটি জোড়ার দাম ১ হাজার টাকা। আরও তিনটি ছাতা কেনা হয়েছে। প্রতিটি ছাতার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে।

যোগসাজশে অস্বাভাবিক বিল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ মার্চ ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে এসব পণ্য কেনা হয়। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটি গণপূর্ত অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ ও দাপ্তরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক, উপপরিচালক হাসান আমিন সুমন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন স্বত্বাধিকারী মো. ফখরুল আলম পাটোয়ারী, জিএম (প্রকিউরমেন্ট) মো. নূর আলম এবং জিএম (এডমিন) মোহাম্মদ আবদুল হক।

পণ্য সরবরাহের পর গত ১৩ এপ্রিল ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালকের কাছে জমা দেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারী। ইতোমধ্যে বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে বিল তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিপত্র ও বিলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

অন্যদিকে কেনাকাটার চুক্তিতে অধিদপ্তরের পক্ষে সই করা তৎকালীন উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘তিন মাস আগে আমি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে বদলি হয়ে এসেছি। বিল বা অর্থছাড় আমি করিনি।’

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারীর জানান, তিনি এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

  জুতা, স্যান্ডেল, মোজা কিংবা ছাতা - পণ্য যাই হোক, দাম প্রায় হাজার টাকা। টুপি, শাড়ি, নামফলক কিংবা ফুল শার্ট এসবের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আবার কোনো কোনো পণ্যের দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গাড়ি চালক ও কর্মচারীদের জন্য পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী কেনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি চালক ও কর্মচারীদের জন্য মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩১ ধরনের পণ্য কিনেছে সরকারি এই সংস্থাটি। এসব পণ্যের বাজার মূল্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও কেনাকাটার বিলে অধিকাংশ পণ্যের একক মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। ফলে কিছু পণ্যের দাম বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেনাকাটার বিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কর্মচারীদের জন্য হাফ ও ফুল সাফারি স্যুট, ফুল শার্ট, ভি-নেক সোয়েটার, জুতা, স্যান্ডেল, টুপি ও ছাতা কেনা হয়েছে। নারী কর্মচারীদের জন্য কেনা হয়েছে জর্জেট ও সুতি শাড়ি, ব্লাউজ, শাল, জুতা ও ছাতা। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য নামফলকও কেনা হয়েছে। হাজার টাকার জুতার দেড় হাজার টাকার মোজা কেনাকাটার বিলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মোজার দাম নিয়ে। বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের এক জোড়া মোজা সাধারণত ১২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অথচ গাড়ি চালকদের জন্য কেনা ১৪৪ জোড়া মোজার প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে শুধু ১৪৪ জোড়া মোজার পেছনেই ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে, গাড়ি চালকদের জন্য ৭২ জোড়া জুতা ও ৭২ জোড়া স্যান্ডেল কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ একই কেনাকাটায় জুতার চেয়েও ৫০ শতাংশ বেশি দামে মোজা কেনা হয়েছে। গাড়ি চালকদের জন্য ১০৮টি হাফ সাফারি প্রতিটি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। এ ছাড়া ৭২টি টুপি, ৩৬টি ছাতা ও ৩৬টি নামফলকের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। দুটি ফুল সাফারি ও দুটি সোয়েটারও কেনা হয়েছে। এর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি করে ফুল ও হাফ সাফারি কেনা হয়েছে। এগুরোর প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য ১৩২ জোড়া জুতা ও ১৩২ জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া ৬৬টি ছাতা ও ৬৬টি নামফলকের প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা। নারী কর্মচারীদের জন্য ১৮টি জর্জেট ও ১৮টি সুতি শাড়ি কেনা হয়েছে। প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। ১৮ জোড়া স্যান্ডেল ও ১৮ জোড়া মোজার দামও ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। তাদের জন্য নয়টি ছাতা ও নয়টি নামফলক কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া পুরুষ কর্মচারীদের জন্য ৬৬টি ভি-নেক সোয়েটার ও ৬৬টি ফুল শার্ট কেনা হয়েছে, প্রতিটির দাম ১ হাজার টাকা। নারী কর্মচারীদের জন্য নয়টি শাল বা সোয়েটার এবং নয়টি ফুলহাতা ব্লাউজ কেনা হয়েছে, প্রতিটির দামও ১ হাজার টাকা। পুরুষ কর্মচারীদের জন্য আরও ৪০ জোড়া জুতা কেনা হয়েছে। প্রতি জোড়া জুতার দাম পড়েছে ২ হাজার টাকা দরে। একইসঙ্গে আরও ৪০ জোড় জুতা কেনা হয়েছে প্রতি জোড়া ১ হাজার ৪৭৫ টাকা করে। এ ছাড়া ২০টি ছাতা কেনা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। নারী কর্মচারীদের জন্য আরও ছয় জোড়া জুতা বা স্যান্ডেল এবং ছয় জোড়া মোজা কেনা হয়েছে। উভয় পণ্যের প্রতিটি জোড়ার দাম ১ হাজার টাকা। আরও তিনটি ছাতা কেনা হয়েছে। প্রতিটি ছাতার দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। যোগসাজশে অস্বাভাবিক বিল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ মার্চ ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে এসব পণ্য কেনা হয়। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটি গণপূর্ত অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ ও দাপ্তরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক, উপপরিচালক হাসান আমিন সুমন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন স্বত্বাধিকারী মো. ফখরুল আলম পাটোয়ারী, জিএম (প্রকিউরমেন্ট) মো. নূর আলম এবং জিএম (এডমিন) মোহাম্মদ আবদুল হক। পণ্য সরবরাহের পর গত ১৩ এপ্রিল ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালকের কাছে জমা দেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারী। ইতোমধ্যে বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে বিল তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চুক্তিপত্র ও বিলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’ অন্যদিকে কেনাকাটার চুক্তিতে অধিদপ্তরের পক্ষে সই করা তৎকালীন উপকরণ ও সরবরাহ ইউনিটের পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘তিন মাস আগে আমি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে বদলি হয়ে এসেছি। বিল বা অর্থছাড় আমি করিনি।’ এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্বত্বাধিকারী ফখরুল আলম পাটোয়ারীর জানান, তিনি এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

  প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের যোগসাজশের অভিযোগ, পিডি সনিয়া নওরিনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। কাগজে উন্মুক্ত টেন্ডার, নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্প সবই আছে। কিন্তু এর আড়ালেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জলবায়ু সহনশীল ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরএএলইপি)-এর আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে ঘিরে বড় ধরনের অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটে জনবল সরবরাহের সুযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পদভেদে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগের তীর উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সনিয়া নওরিনের দিকেও। তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ‘একনায়কতান্ত্রিকভাবে’ প্রকল্প পরিচালনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই প্রয়োজন এবং অভিযোগের বিষয়ে পিডি সনিয়া নওরিনের বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। টেন্ডার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে CRE_NCS_1001 প্যাকেজের আওতায় পিএমইউ ও পিআইইউ ইউনিটের জন্য আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার/প্রস্তাব আইডি 1308828 এবং প্রকল্প কোড 224421900। ক্রয় পদ্ধতি রাখা হয়েছে উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতি (OTM)। টেন্ডার সিকিউরিটি ৩০ লাখ টাকা, ডকুমেন্টের মূল্য ৪ হাজার টাকা এবং মূল্যায়নে পাসিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০। নথি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চার বছর ধরে প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করতে হবে। সম্ভাব্য সেবা শুরুর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৯ আগস্ট ২০৩০। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি এই সরকারি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের সুযোগকে ঘিরে বিপুল অর্থের লেনদেনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নয়, প্রকল্পের অভ্যন্তরের একটি অংশও প্রার্থী বাছাই, তালিকা প্রস্তুত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে উন্মুক্ত টেন্ডার ও নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতির আড়ালে যদি আগে থেকেই প্রার্থী নির্ধারণ হয়ে থাকে, তাহলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত? বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক সনিয়া নওরিনের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও অভিযোগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রকল্পের নিয়োগ ও জনবল ব্যবস্থাপনায় তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখছেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চার বছর মেয়াদি জনবল সরবরাহের এই টেন্ডারকে ঘিরে যদি সত্যিই জনপ্রতি লাখ লাখ টাকা লেনদেনের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ নয়; সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অভিযোগের বিষয় পিডি সনিয়া নওরিনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করেননি

News আগস্ট ৩০, ২০২৬ 0
জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি

জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!
জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ নিলেন ৭১ টিভির সিইও শফিক আহমেদ!

  গত ৩০ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা সাংবাদিক ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।  ১৭ ই আগষ্ট বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে এর সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর এক অভিযোগ করেন।  সেখানে দাবি করা হয়, একাত্তর টিভির সিইও সাংবাদিক শফিক আহমেদ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসায় নিয়োগ নিয়েছেন। যা বিএফইউজের মহাসচিব সভাপতি সহ সংগঠনের কার্যনিবাহী কমিটির ১৯ সদস্যের কেউ জানেন না। এমনকি শফিক আহমেদ বিএফইউজের ১৯ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতেও নেই। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা ওয়াসার সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শফিক আহমেদ একজন আপাদমস্তক স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএফইউজে।

News আগস্ট ২৭, ২০২৬ 0
বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ; তদন্তে দুদক

পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পিপিআর মানেননি কামরুল-ফিরাদুল, সমাজসেবায় পৌনে ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

0 Comments