অপরাধ

স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস

জানিফ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
স্ত্রীর কর ফাইলের আড়ালে ১০ কোটি টাকা সাদা করার অভিনব জালিয়াতি: কাঠগড়ায় বিপুল দাস
বিপুল দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক,

ঢাকা:দেশের কর বিভাগে আয়কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ বৈধ করার নানা কৌশলের কথা শোনা গেলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিনব জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানী ঢাকার বারীধারা ডিজাইন এইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিপুল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে নিজের গৃহিণী স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০ কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ‘

ডেইলি ভয়েস নিউজ’-এর এক অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর অঞ্চল-১৪ (ঢাকা)-এর কর কমিশনারের নিকট একজন সচেতন নাগরিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট আয়কর নথি পর্যালোচনা করে এই অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়।গৃহিণীর নামে কাল্পনিক ব্যবসা ও কোটি কোটি টাকার পুঁজিনথি অনুযায়ী, এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিপুল কান্তি দাসের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস।

তিনি পেশায় একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী, যার নিজস্ব কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। এমনকি তার বাবা সত্য রায় এবং মা মিনতি রায়ও আর্থিকভাবে সচ্ছল নন এবং তাদের কোনো আয়কর ফাইল বা কর প্রদানের ইতিহাস নেই।

অথচ এই গৃহিণীর নামেই রাতারাতি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও নগদ সম্পদ প্রদর্শন করা হয়েছে, যা মূলত বিপুল কান্তি দাসের অবৈধ কালো টাকা বৈধ করার একটি সুনিপুণ অপচেষ্টা।একদিনেই ৯ বছরের ফাইল অনুমোদন: কর প্রশাসনের নজিরবিহীন অনিয়মঅনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কর ফাঁকির মূল কারসাজি শুরু হয় ২০২১ সালে।

বিপুল কান্তি দাস তার অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকাকে দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পদ হিসেবে দেখানোর জন্য একটি নজিরবিহীন আইনি ফাঁকফোকরের আশ্রয় নেন।১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১: কর অঞ্চল-১৪ এর অধীনে কর সার্কেল-৩০৫ এ পূর্ণিমা দাসের নামে একটি ই-টিন (e-TIN: 7726690928) সার্টিফিকেট নেওয়া হয়।৩ জুন, ২০২১: কর সার্কেল-৩০৫ এর তৎকালীন সহকারী কর কমিশনার মো. জাহিদুলের ইসলাম অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে পূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষ থেকে শুরু করে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত টানা ৯ বছরের আয়কর নির্ধারণী আদেশ একই দিনে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেন।

একদিনে ৯ বছরের ব্যাক-ডেটেড ফাইল অনুমোদনের এই ঘটনাটি কর প্রশাসনের ইতিহাসে একটি বড় অনিয়ম ও অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।কোনো অস্তিত্ব নেই ব্যবসার, ব্যালেন্স শিটে ১০ কোটি টাকাপূর্ণিমা দাসের ২০১০-১১ করবর্ষের রিটার্ন ফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে ব্যবসার ধরন হিসেবে ‘ডিলিংস ইন বিবিধ গুডস’ (বিবিধ পণ্যের ব্যবসা) উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, দোকান বা গুদামের অস্তিত্ব নথিতে নেই।

এই কাল্পনিক ব্যবসা থেকে প্রথম বছরে মাত্র ২,৪০,০০০ টাকা মোট প্রাপ্তি এবং ১,৬০,০০০ টাকা নিট লাভ দেখিয়ে মাত্র ২,০০০ টাকা কর দেওয়া হয়।কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সামান্য আয়ের বিপরীতে ওই বছরের ব্যালেন্স শিটে পূর্ববর্তী বছরের পুঁজি হিসেবে এক লাফে ৩,৭৭,২১,০০০ টাকা (তিন কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার টাকা) নগদ সম্পদ দেখানো হয়েছে।

প্রথম বছরেই তিনি কোথা থেকে এই পৌনে চার কোটি টাকার বিশাল পুঁজি পেলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা বা আয়ের উৎস আয়কর নথিতে দেওয়া হয়নি।একইভাবে ওই বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত পূর্ণিমা দাসের মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০,১০,৯৬,০০০ টাকা (দশ কোটি দশ লাখ ছিয়ানব্বই হাজার টাকা)। অর্থাৎ, কর প্রদানের প্রথম বছরেই একজন গৃহিণীকে কাগজে-কলমে ১০ কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী করবর্ষগুলোতেও (২০১১-১২ থেকে ২০১৮-১৯) একইভাবে নামমাত্র লাভ এবং ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা কর দিয়ে এই বিশাল সম্পদকে ফাইলে টিকিয়ে রাখা হয়।২০২০-২১ বর্ষে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অলস নগদ অর্থঅনিয়মের এই ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্ণিমা দাসের ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে ৩,৭৭,৯৬,০০০ টাকা এবং হাতে নগদ হিসেবে বিপুল অঙ্কের ৫,৬০,০০,০০০ টাকা (পাঁচ কোটি ষাট লাখ টাকা) দেখানো হয়েছে।


ফলে তার মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৪০,০০,০০০ টাকা। কোনো সক্রিয় ব্যবসা বা আয়ের উৎস ছাড়া বছরের পর বছর সাড়ে ৫ কোটি টাকা নগদ ঘরে বা ব্যাংকে অলস ফেলে রাখা এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক পুঁজি অপরিবর্তিত থাকা সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ধানমন্ডি ও বনানীতে আরও ১৯ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটস্ত্রীর নামে ১০ কোটি টাকা সাদা করার পাশাপাশি বিপুল কান্তি দাস ও তার স্ত্রীর নামে আরও অঢেল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে:ধানমন্ডি: রোড নম্বর ১২/এ, বাসা নম্বর ৬৯, ফ্ল্যাট নম্বর বি-২/৩ ঠিকানায় রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।বনানী: ব্লক-জি, রোড নম্বর ২৩, বাসা নম্বর ৯৬, ‘গফুর রিজ গার্ডেন’-এর ৭/এ নম্বর ফ্ল্যাটে রয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকার আলিশান ফ্ল্যাট।ব্যাংক হিসাব: বিপুল কান্তি দাসের বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ রয়েছে।

অভিযুক্তের দায় এড়ানোর চেষ্টাএই জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুল কান্তি দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার উকিল আপনার উত্তর দিতে পারবেন।"এই নিউজ ফরম্যাটটি কি আপনার পছন্দ হয়েছে, নাকি এটিকে কোনো আইনি নোটিশ, অভিযোগপত্র বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোতে পরিবর্তন করতে চান? জানালে আমি সাহায্য করতে পারব।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি
অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ভিডিও ভাইরাল, মামলা হয়নি

  বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে ব্যারিকেডের পর এবার সীতাকুণ্ডে আলোচনার কেন্দ্রে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। সংঘাতের ঘটনায় দিনভর উত্তেজনার পর এসব ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করলেও ঘটনার একদিন পরও থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অস্ত্রধারীদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচিকে ঘিরে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের অনুসারীরা পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করায় সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। দুপুরে পৌর এলাকার হাসান গোমস্তা মসজিদসংলগ্ন মাইক্রো স্টেশন এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। একপর্যায়ে পরপর ককটেল বিস্ফোরণে সীতাকুণ্ড সদরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান। পরে সংঘাতের প্রভাব পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ব্যারিকেড দেওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ ও র‍্যাব-৭-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে কয়েকজন যুবককে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো সত্যতা ও স্থান-কাল যাচাই করা না হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর দাবিতে থাকা দুই অস্ত্রধারীসহ সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়কে ব্যারিকেড, গাড়ি ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!
৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

  রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ শতক জমি মাত্র ৫০ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে হাতছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশনের একটি চক্রের যোগসাজশে জমি-সংক্রান্ত মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে অনুপস্থিত থেকে একতরফা রায়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলাটি খারিজ হওয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আপিল করেনি সিটি করপোরেশন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর কেরানীপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে সিটি করপোরেশনের একটি কাঁচাবাজার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন রমজান আলী মধু। সেখানে নির্মিত দোকানঘরগুলো ভাড়া দিয়ে তিনি প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের নথিপত্র অনুযায়ী, রঘুনাথগঞ্জ মৌজার কেরানীপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে সিএস ৪৭৩ ও ৫৪৩ নম্বর দাগে মোট ১৮ শতক জমি সিটি করপোরেশনের নামে রেকর্ডভুক্ত। তবে রমজান আলী মধুর কাছে ওই জমির মালিকানা দাবির পক্ষে কোনো দলিল নেই। স্থানীয়ভাবে জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। জমিটি উদ্ধারে ২০২১ সালে রংপুরের যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১-এ মামলা করে সিটি করপোরেশন। মামলার দীর্ঘ শুনানিতে রমজান জমির মালিকানার পক্ষে কোনো দলিল আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশনের কয়েকজন সার্ভেয়ার ও সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলায় সুবিধা নেন রমজান। আদালত থেকে নোটিশ জারি হলেও মামলার শুনানিগুলোতে বাদী সিটি করপোরেশন ও তাদের নিয়োজিত আইনজীবী অনুপস্থিত ছিলেন। এভাবে সাত কার্যদিবস আদালতে অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৫ সালে একতরফা রায়ে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা জমির ওপর রমজানের অবস্থান আরও শক্ত হয়। রমজান আলী মধু দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশন আদালতে উপস্থিত না থাকায় তিনি মামলায় সুবিধা পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন ও তাদের আইনজীবীকে ‘ম্যানেজ’ করতে তাকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন দোকান মালিকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, দোকান বরাদ্দ বা দখল দেওয়ার কথা বলে রমজান তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরে ওই অর্থের একটি অংশ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। রমজান আরও জানিয়েছেন, তার বাবা কীভাবে ওই জমির মালিকানা পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো দলিল বা নথি নেই। দখলসূত্রে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে তিনি ভাড়া আদায় করে আসছেন। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আট মাস পেরিয়ে গেলেও সিটি করপোরেশন এখনো আপিল করেনি। এরই মধ্যে রমজান আলী মধু ওই জমিতে স্থায়ী মার্কেট নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুটি দাগের মধ্যে ১৩ ও ৫ শতক—মোট ১৮ শতক জমিতেই নির্মাণকাজ চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কেরানীপাড়া চৌরাস্তা মোড়ের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, জমিটি রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে রমজান আলী মধু সেটি দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, জমি উদ্ধারে মামলা করার পর কেন সিটি করপোরেশন টানা সাত কার্যদিবস আদালতে উপস্থিত হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সিটি করপোরেশনের জমি হাতছাড়া হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়
বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

  বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও মেরামতকাজে লটারিতে নির্বাচিত ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কৌশলে পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের একটি বলয় গণপূর্ত কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও বরিশাল গণপূর্ত কার্যালয়ে সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে গড়ে ওঠা পুরোনো প্রভাববলয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। লটারিতে কাজ পেলেও ওয়ার্ক অর্ডার অন্যকে দেওয়ার অভিযোগ বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ‘মেসার্স মুস্তাকিম বিল্ডার্স’-এর মালিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মাহফুজের অভিযোগ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি কাজের লটারিতে তার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। ওই কাজের আইডি নম্বর ১২৫৭৬৪০। তার দাবি, লটারিতে মুস্তাকিম বিল্ডার্স নির্বাচিত হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম প্রতিষ্ঠানটিকে ওয়ার্ক অর্ডার দেননি। বরং আগে থেকেই মনোনীত সিফাত নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে কাজটির কিছু অংশ করিয়ে নেওয়া হয়। সিফাত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইনানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের (এসও) সঙ্গে যোগসাজশ করে সিফাতকে কাজটি সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করার সনদও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাহফুজ। এ ধরনের আরেকটি ঘটনা ২০২৫ সালের মে মাসের একটি দরপত্রেও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দরপত্রের আইডি নম্বর ১১০৫২০৩। অভিযোগ অনুযায়ী, শেবাচিম হাসপাতালের মেরামতকাজের জন্য লটারিতে ‘জেড আর এন্টারপ্রাইজ’ নির্বাচিত হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে কৌশলে অযোগ্য দেখিয়ে কাজটি ‘এম এস খান এন্টারপ্রাইজ’-কে দেওয়া হয়। পাসওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদার রিপন, কয়েস এবং সরকারি বরিশাল কলেজের সাবেক ভিপি শাহীন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পাঁচটি মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, দুদক ভবন, আনসার অফিস, উজিরপুর থানা ভবন ও বিটেকসহ বড় অঙ্কের বেশ কয়েকটি কাজ একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসও) জাকারিয়ার ভূমিকা রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর দরপত্র-সংক্রান্ত পাসওয়ার্ডও তার কাছে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ, যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই এস্টিমেট প্রস্তুত এবং দরপত্রের রেট কোড মিলিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঝালকাঠিতে প্রভাব বিস্তার করা এই প্রকৌশলী বর্তমানে বরিশালে এসে ‘কাশি মিজান’, ঝালকাঠির খান্ড বিল্ডার্সের নাসির খান এবং বরিশালের ‘ছোট মাহফুজ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, মিজান ওরফে ‘কাশি মিজান’ বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের লোক হিসেবে পরিচিত এবং তার কাছে অন্তত ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের পাসওয়ার্ড রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হত্যা মামলার আসামি প্রকৌশলী, বহাল রয়েছেন পদে এদিকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর পরোক্ষ হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমকে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং গণপূর্ত কার্যালয়কে দলীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি মুজিব কোট ও নৌকার ব্যাজ পরা অবস্থায় তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। মামলার বাদী জুলাই যোদ্ধা মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা কী পর্যায়ের, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু স্থানীয় নেতার ছত্রচ্ছায়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ফয়সাল আলম স্বপদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ অস্বীকার প্রকৌশলীর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুজিব কোট পরা ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, ছবিগুলো সম্পাদনা করা হয়েছে। দরপত্রের রেট কোডের গোপনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো একটি দপ্তর থেকে তথ্য ফাঁস হওয়া অসম্ভব নয়। তবে তিনি নিজে এ ধরনের তথ্য কাউকে দেননি বলে দাবি করেন। এসও জাকারিয়া অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতি ছাড়া তার কথা বলার নিয়ম নেই বলে জানান তিনি। সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খান বিল্ডার্সের নাসির খানও। তার দাবি, তারা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এবং পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিভিন্ন কাজ পেয়ে থাকেন। তদন্তের আশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে থেকে তাবেদারি করছে, বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গত ১৭ বছর বিরোধী মতের ঠিকাদাররা কাজের সুযোগ না পাওয়ায় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেননি। তাই পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। গোপালগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বরিশাল জোনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোক্তার দেওয়ান বলেন, ফোনে অভিযোগের বিষয়টি পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি বরিশাল কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল গণপূর্ত কার্যালয়ে লটারিতে নির্বাচিত ঠিকাদারকে কাজ না দেওয়া, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব এবং প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের একটি বলয়ের আধিপত্যের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

0 Comments