অপরাধ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

হোসেন মাঝি আগস্ট ৩০, ২০২৬ 0
জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
কেএম নূরুন্নবী

 


ভুক্তভোগীরা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টারের উপাধি দিয়েছে একেএম নূরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি। বিভিন্ন সুত্র বলছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টার নুরুন্নবী গত ২ বছরে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ২ শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুন্নবীকে অপকর্মে প্রতিপোষণ দিয়েছে।

টাকা দিলে নতুন কোম্পানি বা সোসাইটি কিংবা সংগঠনের সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায় একদিনে। আবেদন দেয়ার একদিন পরেই ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় সংস্থা বা কোম্পানির অনুমতি। তবে ঘুষ না দিলে যতোই নিয়মতান্ত্রিক হোক কিংবা আবেদনকারী ক্ষমতাধর হোক কাউকে নিবন্ধন দেবে না রেজিস্টার নুরুন্নবী। এতেই ভুক্তভোগীরা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেসির অফিস ভবন বা টিসিবি ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করেছে “রেজিস্টার একেএম নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি”। গতকাল সকলে পোস্টার দেখা গেলেও দুপুরে দেয়াল থেকে উধাও হয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ছড়ানো পোস্টার।

টিসিবি ভবন ১ নং কারওয়ান বাজারে বসেন দুর্নীতির এই মহাকবি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তিনি দুর্নীতি করেও হয়েছেন নাম্বার ওয়ান (১ নং)। তার কার্যালয়ের প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে, জয়েন্ট স্টকের সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকে। ১নং কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনে বহু সরকারি বেসরকারি অফিসের ব্যবহারের জন্য বৃহৎ ৪টি লিফট থাকলেও শত-শত দালাল লাইন দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চলাচল করে লিফটগুল সর্বদা ব্যাস্ত রাখে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

টিসিবি ভবনের নিচ তলা ও তার আশেপাশে কাব্যকস ভবন, তাজ ম্যানশন, এসি ভবন ছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে ছড়িয়ে থাকা শতশত দালাল বসে থাকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার জন্য। দোকানের সামনে ঝুলে থাকা ব্যনারে লেখা আছে; “জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন কনসালটেন্ট ফার্ম”। টিসিবি ভবনের পেছনে পেট্রোবাংলা গলি বা কাঠপট্টির গলিতে এসি ভবন ৩/বি ঠিকানা বসে সোহাগ ভুঁইয়া। সোহাগ ভুঁইয়ার বসার স্থান একটি যতোটুকু তাতে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসবে কোনরকমে। তার ছোট্ট একটি চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসার স্থান সামনে পেছনে এক গজ জায়গায় হবে। তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে তিনি সিএফ কনসালটেন্সির উপদেষ্টা।

ভবনের গলিতে মানুষ চলাচল করলে এই উপদেষ্টার বসার চেয়ারে ধ্বাক্কা লাগে। উপদেষ্টা সোহাগ ভুঁইয়া সেই স্থানে বসতে মাসিক ভাড়া দেয় ৩৫ হাজার। এর পরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের টাকা দেয়া ছাড়াও অন্য অন্য খরচ করতে হয় তাকে। সোহাগ ভুঁইয়া বলেছেন তিনি ইউনুস সরকারের (ইন্টেরিয়াম সরকার) শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকশো সোসাইটি ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেয়ার আবেদন করিয়েছে। চোর, ডাকাত, মাদকাসক্ত, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী, পলাতক আসামি, খুনি, বখাটে, হিরোইনখোর, (নতুন ভোটার হয়েছে এমন) নানাপ্রকার কিশোর অপরাধীরা নামে-বেনামে কোম্পানি ও সংগঠন রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছে। সোহাগ ভুঁইয়ার বিকাশ নাম্বার চেক করলে বের হবে কতো লাখ টাকা লেনদেন হয় মাসে।

সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত দালাল ওঁৎ পেতে বসে আছে কম্পিউটার নিয়ে, নানাবিধ কনসালটেন্সি ফার্মের নাম দিয়ে। তাদের বক্তব্য গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যাচাই-বাছাই করে না এই সুযোগ গ্রহণ করছে জয়েন্ট স্টকের লোকসহ সকলে। সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জয়েন্ট স্টকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবেদন দেয়ার সাথে সাথেই রেজিষ্ট্রেশন। শুধু দরকার হবে নগদ টাকা। সোহাগ ভুঁইয়া মতো শতশত উপদেষ্টা, পরিচালক, এমডি, প্রোপ্রাইটর পরিচয় দিয়ে একটি গঠনতন্ত্র সকল মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। শুধু সোসাইটি বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সংশোধন এবং উদ্যোক্তাদের নাম ছবি পরিচয় পরিবর্তন করেই নতুন সংস্থা বা কোম্পানির কাগজ তৈরি করে আবেদন জমা দেয়। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন ব্যবস্থা করে দিতে এই কম্পিউটার অপারেটারদের ক্ষমতা লক্ষনীয়। তারা চাইলে এক দিনের মধ্যেই রেজিস্টেশন হয়। বেশি দিন লাগলে সর্বোচ্চ দুই দিন। নামের ছাড়পত্রের জন্য ২৩ শতো এবং রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সরকারি ফি ১৮ হাজার, মোট ২০ হাজার পাচ শতো খরচ। সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও কমিটির নাম ছবি সাজিয়ে দিতে কম্পিউটার অপারেটরেরা গ্রাহকদের নিকট থেকে নেয় ১৫ হাজার। টোটাল খরচ ৩৫ হাজার। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এক ঘন্টায় কাজ কমপ্লিট করে। ১৫ হাজার টাকার এই কাজ অন্য কোথাও করলে খরচ হওয়ার কথা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।

কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ ভুঁইয়ার জবানবন্দিতে জানা জায় তিনি “বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি” নামের একটি সংস্থার অনুমতি এনে দিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনেরের সাথে যুক্ত হয়। সোহাগ ভুঁইয়া নিজে ওই সংস্থার সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়েন্ট স্টকে রেজিস্টেশনের জন্য আবেদন জমা দেয়। ২০২৬৩৯৭৩২৭ আবেদনটির সাবমিট নাম্বার। রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে সংস্থাটির রেজিষ্ট্রেশন এনে দিতে পারবে এমন একজন সাংবাদিকের সাথে সোহাগ ভুঁইয়া কন্টাক্ট করে ৪০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি নামের ওই সংস্থা অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে করা কন্টাক্ট ২দিন পরেই প্রত্যাহার করে সোহাগ ভুঁইয়া ওই সাংবাদিককে জানায় লাইসেন্স হয়েগেছে। জুলাই এর ২ তারিখ বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি জয়েন্ট স্টকের কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজ উদ্দিনের টেবিলে পরীক্ষাধীন ছিলো। রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানাযায় তার টেবিল থেকে ফরোয়ার্ড করে যথাযথ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমতিতে কোন ঘুষ লেনদেন হওয়ার ব্যাপারে এই কম্পিউটার অপারেটার কোন মন্তব্য করতে চায়নি।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য ; সজল নামের নারায়নগঞ্জের একজন বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন তার জন্মস্থান এলাকা বরিশালের একটি গ্রামীণ উন্নয়ন সোসাইটির রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তিনি এসে বহুরকম হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের সহকারী খায়েরকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার সোসাইটি অনুমোদন পেয়েছে। ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা জানতে জয়েন্ট স্টেকের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবুল খায়ের (পিএ টু রেজিস্ট্রার) কোন মন্তব্য করেনি। তার হটসঅ্যপে টেক্সট দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। একই দিনে মোঃ শামসুদ্দিন শামস নামের আরো একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরা এক হাতে টাকা নেয় অন্য হাতে রেজিষ্ট্রেশন দেয়। নিবন্ধক একেএম নূরুন্নবী কবির, রণজিৎ কুমার রায় উপ নিবন্ধক, যাদব কুমার পোদ্দার সহকারী নিবন্ধক, আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শামসের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে বলেন, টাকা ছাড়া আসলে কোন সোসাইটি বা সংস্থার অনুমতি হয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের নির্ধারিত খাম রাখতে হয়, এর পরেই রেজিষ্ট্রেশন। লেনদেন কম বা চাহিদা মাফিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন শামসের সাথে আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার বাদানুবাদে জড়িয়ে পরে। এই ভুক্তভোগী বলেছেন, তার সোসাইটির অনুমতির জন্য তিনি হাইকোর্ট যাবেন এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত ও বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অবহিত করবেন।

খুঁটির জোর: মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম বলেন মন্ত্রণালয়ের অনেকেই জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অংশ গ্রহণ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টাকা দিলেই কোম্পানি বা সংস্থা অনুমতির জন্য ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের শুরু থেকে তার সংগঠনের অনুমোদন পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করে অনুমতির জন্য। মন্ত্রী ও সচিব এবং টিও শাখার মহাপরিচালক সকলের কাছে যেতে যেতে বহু হয়রানি হওয়ার এক পর্যায়ে টিও শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি পত্র পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম। চার মাস হয়রানির পরে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে। জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী তার সহকারী আবুল খায়েরকে দেখিয়ে ফয়সাল আলমকে বলেন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে। পরের দিন আবুল খায়ের ১৪ লাখ টাকা চেয়ে ফয়সাল আলমকে জানিয়েছে আগামীকাল আপনার ফাউন্ডেশন রেজিষ্ট্রেশন হবে। এতে বিস্মিত হয়ে ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে গেলাম, রেজিস্ট্রার মন্ত্রণালয়ের চিঠি গুরুত্ব দিলো না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে পরে খারিজ হয়ে যায়। টাকা দিয়ে সংস্থা অনুমতি নিতে আগ্রহী নয় তার কমিটির সদস্যরা।

১৪ লাখে সোসাইটির নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করেন ফয়সাল আলম। আবেদনের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যাওয়া অনুরোধ করলে ফয়সাল আলম ওই রেজিস্ট্রারের সহযোগিতা চায়। একদিন পরে ফয়সাল আলমকে ফোন করে রেজিস্ট্রার বলে, আপনার নামে অন্য এক সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে তাই আপনার সংগঠন অনুমতি পেতে বিলম্ব হবে। এর পরের দিন আবু তালেব নামের একজন লোক এই সংস্থার অনুমতি দিতে পারবে বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। জয়েন্ট স্টকের পাশে “কাব্যকস” নামের একটি ভবনে আবু তালেবের অফিস রয়েছে। জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির অনুমতি পাইয়ে দিতে ক্লায়েন্টকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন এই আবু তালেব। ফয়সাল আলম বলছেন জয়েন্ট স্টকের চারপাশে এরকম শতাধিক আবু তালেব আছে, যারা রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর ঘুষ লেনদেনের সহযোগীতা করার জন্য অফিস খুলে বসছে। ফয়সাল আলম নিশ্চয়তা দিয়ে অভিযোগ পুনঃব্যক্ত করেছেন; রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী ইশারা ইঙ্গিতে টাকা চেয়েছে।

ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখার ডিজি যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারকে নজরদারি করেছি তিন মাসের বেশি সময়। পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সচিব দুর্নীতি করবেই এটা স্বাভাবিক। তবে তাকে নানাভাবে দুর্নীতির পথ দেখায় আশেপাশের কর্মচারীরা। সচিবের দুর্নীতির বড় সহায়তাকারী হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বাণিজ্য সংগঠনের অনুমতি নিতে আসা লোকজনের নিকট থেকে এই মহাপরিচালক নানারূপের সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণ করে। ফয়সাল আলম বলেন, তিনি সরকারের অসৎ কর্মচারী। তার দুর্নীতির পাল্লা খুবই ভার। তিনি রাষ্ট্রের সামান্য কর্মচারী হয়েও সর্বক্ষণ তার অফিস কক্ষ ভেতর থেকে লক করে রাখে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এরিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সেখানে একজন সামান্য যুগ্মসচিব নিজের কক্ষে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখে। নাজমুল নামের একজন অফিস সহকারী মহাপরিচালকের কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো থাকে সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীর স্টাইলে। এমন স্টাইলে দেখা যায় না কোন সচিবের নিরাপত্তা কর্মীকেও। মন্ত্রণালয়ে আরো শতাধিক যুগ্মসচিব আছে। সকলের কক্ষ সর্বসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই খোলা দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা যায়, সেবা নেয়া যায়। কিন্তু এই মহাপরিচালক নিশ্চয়ই মহাদুর্নীতি করে আত্মরক্ষার জন্য এভাবে অফিস রূদ্ধ করে রাখে। কিছুদিন আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কি কারনে এই দীর্ঘ ছুটিতে ছিলো সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না।

 
এ ব্যাপারটা তার মন্তব্য নিতে মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার কক্ষে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ থাকায় তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল করলেও তিনি পরে কল ব্যক করবেন বলে সক্রিয় টেক্সট দেন। কিন্তু পরে আর কথা বলেন না।

রেজিস্ট্রারের বক্তব্য : টাকা নিয়ে সনদ কোম্পানি বা সোসাইটির অনুমতি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন; “আজ আমার চাকুরি জীবনের শেষ বৃহস্পতি। আপনি আরো কয়েকদিন ফোন করেছিলেন, ধরতে পারিনি অফিসে খুব বিজি থাকি। এই মুহুর্তে আমার সামনে ১০ লোক, ২টি হাত দিয়ে কাজ করি আরো ২টি হাত বেশি থাকলে আরেকটু বেশি কাজ করতে পারতাম। আমি আগামী রবিবার অফিস করবো না। সোমবার আসবো, সেদিন আপনি আসেন”। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২৫ আগস্ট ২০২৬ ইং রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবেন। সুত্র বলছে, অবসরের সাথে সাথেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছুদিন আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজ হারিয়ে যাওয়ার করা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এ, কে, এম, নূরুন্নবী কবির (৫৮), পিতা: মোঃ জয়েন উদ্দিন, মাতা: মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ঠিকানা (বর্তমান)-কাওরান বাজার টিসিবি ভবন, গ্রাম-কাওরান বাজার, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-নতুন-২৬ (পুরাতন-৩৯), থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা। এস.এস.সি, সাল ১৯৮২, রোল নং – ৫৯৯০৯, রেজি: নং – ৪১২৫৯, এইচ.এস.সি সাল ১৯৮৪, রোল নং-১২৯২৬, রেজি: নং- ২৪১৪ উভয় ঢাকা বোর্ড এবং বি.এস.সি. (সম্মান), রসায়ন বিভাগ, সাল-১৯৮৭ এবং এম.এস.সি. সাল-১৯৮৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেজগাঁও থানা জিডি নং: ১৮৬৯ তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬। তার সরকারি সার্ভিস আইডি নং ৫৯১৪ ভোটার আইডি 19675611076707257
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলছেন, জয়েন্ট স্টকের এ.সি.আর অত্যন্ত অসন্তোষজনক। কোন পক্ষ যদি মন্ত্রী পরিষদের কাছে অভিযোগ দেয় তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হতে পারে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এ.সি.আর) হ‌চ্ছে কো‌নো সরকারি কর্মচারীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ক‌রে তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রদত্ত প্রতিবেদন। শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই নয়, এতে তার আচরণ, চ‌রিত্র এবং সততা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ উ‌ল্লেখ করা হয়।

জয়েন্ট স্টকে কর্মরত আইনজীবী ও স্টেক হোল্ডাররা উক্ত দুর্নীতিবাজ রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরসহ আরজেএসসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়
বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

  একসময় ছিলেন সামান্য বেকার যুবক। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়কে কাজে লাগিয়ে গত প্রায় ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ৮ তলা বিশিষ্ট বিশাল আলীশান বাড়ী এবং সিরামিস এর ব্যবসা যা বিভিন্ন ভাবে চাঁদার টাকায় এই অবৈধ সম্পদের মালিক —এমন অভিযোগ উঠেছে মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সোনাপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন জুয়েল। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজের একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন জুয়েল। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। কেউ টাকা দিতে আপত্তি করলে তাকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে জুয়েলের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। কিন্তু গত ১৬ বছরে তার জীবনযাপন ও সম্পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এই বিপুল সম্পদ অর্জিত হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জুয়েলের নামে থাকা সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।  রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’
ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত এক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই অভিযোগটি আগামীকাল দুদকে জমা দেবেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের দিয়ে বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এবং পরে সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়া চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায় গ্রামের বাড়ি হামিদুল ইসলামের। তিনি দর্শনে এম.এ ডিগ্রিধারী। ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে জোন-৫ এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ও ২০ এপ্রিল ২০২৫ এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে আদায় করেন। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দিলেও চাকরি হয়নি, টাকাও ফেরত পায়নি। মোঃ মাজেদুল ইসলামের আগের অভিযোগেও এ তথ্য উল্লেখ আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচালক হিসেবে ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ঘন ঘন এরিয়া পরিবর্তন করেন এবং মাসিক চাঁদা আদায় করেন। ইমারত পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করে পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা নেন। তাঁর নির্দেশে অধীনস্থরা বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় সৃষ্টি করেন। পরে টাকা নিয়ে নোটিশ গায়েব করে দেন। রাজউকের একজন অথরাইজড অফিসারও একইভাবে নোটিশ গায়েব করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না। মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডে হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ (মালিক কামরুল হাসান) এর ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই এলাকার হোল্ডিং-৮২ (মালিক মিসেস রহিমা সাহাবুদ্দিন) এর ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়া হয়। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং, বসিলা, চাঁদ উদ্যান ও তেজতুড়ি বাজারসহ একাধিক ভবন মালিকের সাথে রফা করে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তিনি অভিজ্ঞ ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া যথাযথভাবে না দিয়ে নতুন ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ আছে। শ্বশুরবাড়িতেও সম্পদ গড়েছেন বলে চাউর রয়েছে। রংপুরের লালপুকুর-মিঠাপুকুর এলাকার স্থানীয়রা জানান, এই সম্পদের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করতে পারবেন না তিনি। বর্তমানে তিনি মোটা অংকের টাকা খরচ করে জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখি। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, “আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখি। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হয়। এই অভিযোগটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। নোটিশ বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নগর পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা নষ্ট হয়।” সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজউকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ শুনে আমরা ক্ষুব্ধ। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।” মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকায়ও এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। পরিচালক যদি নিজেই জড়িত থাকেন, তাহলে নিচের কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জবাবদিহিতা চাই।” গুলশানের সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোন পরিবর্তনের লবিংয়ের অভিযোগও গুরুতর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দুদক যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।” এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, “জনস্বার্থে এই অভিযোগ করছি। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।” রাজউক ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে তদন্ত কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নাগরিক সমাজ ও স্বচ্ছতাবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে। পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের পরিণতি কী হয়, তা এখন দুদকের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী
হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

  নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। তবে হাজিরা খাতায় তাদের অনেকের স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া ছিল বলে জানান তিনি। পরিদর্শনকালে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগাম হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণ দেশের প্রকৃত মালিক এবং তাদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কোনো দয়া নয়। তাই সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণকে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৌনে ৯টায় অফিসে যান। আপনারা যদি এমন করেন, তাহলে কি আমরা সেবাটা দিতে পারব? সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। মেহেদী হাসান সৈকত/আরকে

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

0 Comments