অপরাধ

পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়

হোসেন মাঝি আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
পাঁচ প্রকল্পে অনিয়মের পাহাড়
উন্নয়ন প্রকল্পে মিলেছে

 


চলমান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মিলেছে বিস্ময়কর অনিয়ম-দুর্নীতির একাধিক উদাহরণ। যার ফলে আর্থিক ক্ষতি, তহবিল তসরুপ ও অপচয় হয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। এসব প্রকল্প ঘিরে রয়েছে ১০৮টি অডিট আপত্তি, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র সাতটির। সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনগুলো কার্যকর করার বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিশেষ করে অডিট আপত্তিসহ যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’


আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে রয়েছে ৩৬টি অডিট আপত্তি। এগুলোর মধ্যে মাত্র ৩টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া দেশের ৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে রয়েছে ২৯টি আপত্তি, যেগুলোর একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। ঢাকা-সিলেট চার লেন প্রকল্পে রয়েছে ১৯টি অডিট আপত্তি। এগুলোর মধ্যে ৪টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলোর ব্রডশিটে জবাব দেওয়া হলেও এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রিপাওয়ারিং প্রকল্পে ১৪ আপত্তির একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে রয়েছে ১০টি অডিট আপত্তি, যেগুলোর কোনোটিই নিষ্পন্ন হয়নি।

ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্প

আইএমইডি সূত্র জানায়, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পটি দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা চীনের ঋণ থেকে পাওয়ার কথা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে খরচ বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৯২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। 

এই প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। পরে তা এক বছর বাড়ানো হয়। এখন দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে চীনের ঋণ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় কমিয়ে ২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হচ্ছে। চীনের প্রতিশ্রুত ঋণ পাওয়া না গেলেও সরকারি অংশের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। এটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। 

প্রকল্পটিতে বহিরাগত নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ (এক্সটারনাল অডিট) আপত্তিগুলো হলোÑ সরকারি ক্রয় আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ খরচ, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সরবরাহ ছাড়াই অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের জন্য ৯২ কোটি টাকা পরিশোধ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত হারে অফিস ভাড়া দেওয়া। এছাড়া রয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত অফিস সংস্কার খরচ, প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, পণ্য সরবরাহ ছাড়াই পরিশোধ এবং অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত টাকায় চুক্তি করে খরচ। আরও আছেÑ ভিন্ন প্যাকেজে একই ধরনের ওয়াইফাই রাউটার বিভিন্ন দামে কেনা, ১০ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে ইচ্ছেমতো প্রাক্কলন করে আর্থিক ক্ষতি এবং অতিরিক্ত প্যাচ কর্ড (ছোট দূরত্বের তার) দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার অনিয়মিত চুক্তি।

পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন

দেশের বিভিন্ন পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৭৯ কোটি ৫০ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে খরচ করা হচ্ছে ১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে ১৫৪ কোটি টাকা কমিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এখনও প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ শতাংশ।

প্রকল্পটিতে অডিট আপত্তি রয়েছে ২৯টি। এ প্রকল্পে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বহিঃস্থ নিরীক্ষায় (এক্সটারনাল অডিট) উঠে আসা অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সরকারি আইন ভঙ্গ, কাজের পরিধি কমিয়ে উচ্চ দরে পুনরায় দরপত্র আহ্বান, যোগাসাজশ করে পরামর্শককে কার্যাদেশ দেওয়া এবং আবাসিক প্রকৌশলীর পারিশ্রমিক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ আপত্তি। আরও আছে, নন-রেসপনসিভ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া, ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ, নকশার বাইরে টাকা খরচ করা। আইএমইডি বলছে, নন-রেসপনসিভ ঠিকাদারকে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫১ হাজার ১৪১ টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত বিওকিউ ড্রয়িং, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশনের বাইরে বিভিন্ন আইটেম বাবদ ঠিকাদারকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। একইভাবে ভুল হিসাবের কারণে ঠিকাদারকে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। নকশার বাইরে ট্রান্সমিশন পাইপলাইনের জন্য ব্যয় করা হয়েছে অতিরিক্ত ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। প্রতিস্থাপনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই কি-এক্সপার্টকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর-২০০৮) লঙ্ঘন করে ঠিকাদারের বিল থেকে জামানত বাবদ কাটা হয়নি ১১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া পূর্বপরিমাপ ছাড়াই ভূমি ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অনুমোদিত নকশা ছাড়া এবং নন-টেন্ডার আইটেম হওয়ার পরও মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অগ্রিম প্রদানের ব্যাংক গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা টাকা অগ্রিম সমন্বয় বা আদায় না করায় এবং সয়েল টেস্ট রিপোর্টের সুপারিশ ছাড়াই ‘স্যান্ড কম্প্যাকশন পাইল’ দেখিয়ে সরকারের ২৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়া ডিটেনশন এবং পোর্ট চার্জ (গুদাম ভাড়া) বাবদ ৪৭ লাখ ৫১ হাজার টাকার অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়, ডিপিএইচই সার্কেল অফিস স্থাপন না করেই সরকারের ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে আইটি সরঞ্জাম কেনার ফলে সরকারের ১৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির ঘটনা বাংলাদেশের যেন স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখনকার সরকার অবশ্য এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অডিট আপত্তি বলে অবহেলার সুযোগ নেই। কেননা এমনি এমনি তো অডিটররা আপত্তি দেননি। এখানে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বলেই আপত্তি এসেছে। এসব বিষয়ে আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ 

ঢাকা-সিলেট করিডোর উন্নয়ন

সরকারের সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর উন্নয়ন (চার লেন) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হচ্ছে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মূল মেয়াদের ৮৯ শতাংশ শেষ হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া প্রধান নির্মাণকাজের মধ্যে মূল সড়কের বাস্তবায়ন হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ, সার্ভিস লেনের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেতুর কাজ ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং কালভার্টের হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আইএমইডি বলছে, এই অগ্রগতি কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পটিতে রয়েছে ১৯টি অডিট আপত্তি। এগুলো মধ্যে ৪টির নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রধান আপত্তিগুলো হলোÑ আর্থিক অনিয়ম, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ঠিকাদারকে মূল সমন্বয়ের নামে টাকা দেওয়া। এতে ক্ষতি হয়েছে ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৬ টাকা। প্রকৌশলীদের আবাসন নির্মাণে কোনো কাজ না করলেও ঠিকাদারকে বিল দেওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার। মোট অনিয়ম হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১৭ হাজার টাকার। এছাড়া ঠিকাদারের বিল থেকে রিটেনশন মানি কাটা হলেও ভ্যাট ও আয়কর বাবদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আদায় করা হয়নি। সঞ্চিত ব্যয় সুদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। ভ্যারিয়েশন অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত কাজের জন্য ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত ভেঙে বীমা কাভারেজ করা হয়নি। আরও আছে প্রাপ্য নয়Ñ এমন চার্জ অ্যালাউন্স গ্রহণ এবং প্রকৃত ব্যয়ের পরিবর্তে চুক্তি ভেঙে আন্তর্জাতিক বিমানভাড়ার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইএমইডি বলেছে, উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আপত্তি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি হয়নি। একাধিক আপত্তি পুনর্জবাব পর্যায়ে থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অধিক কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যÑ অধিকাংশ অডিট আপত্তিরই ব্রডশিটে জবাব দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত এসব নিষ্পত্তি হবে। 

ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প

ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। মেয়াদ ২০২৬ সালের অক্টোবর। কিন্তু গত মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ প্রকল্পে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের দেওয়া অডিট আপত্তি রয়েছে ১৪টি। কিন্তু একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। উল্লেখযোগ্য আপত্তিগুলো হলোÑ অপ্রয়োজনীয় ঋণের ফি বাবদ ক্ষতি হয়েছে ১৬ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই অনিয়মিতভাবে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করে ও চুক্তির ভ্যারিয়েশন বাড়িয়ে আর্থিক ক্ষতি, ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া, ভ্যাট থেকে অর্থ না কাটায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি।

মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ

উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৮৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রকল্পটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এছাড়া এতে রয়েছে ১০টি অডিট আপত্তি। এগুলোর একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রধান আপত্তিগুলো হলোÑ ঠিকাদারের দাখিল করা দরের চেয়ে বেশি দরে ভ্যারিয়েশন করা আইটেমে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে ঠিকাদারের দাখিল করা উদ্ধৃত দরের চেয়ে বেশি দরে বিল পরিশোধ, রোডের পরিমাণ বেশি দেখিয়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল দেওয়া এবং ঠিকাদারকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে আইএমইডির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরেছি। প্রতিবেদনগুলো ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন সবগুলো প্রতিবেদন গ্রন্থিত করে বই আকারে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়
বেকার যুবক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! ১৬ বছরে জুয়েলের সম্পদের পাহাড়

  একসময় ছিলেন সামান্য বেকার যুবক। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়কে কাজে লাগিয়ে গত প্রায় ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ৮ তলা বিশিষ্ট বিশাল আলীশান বাড়ী এবং সিরামিস এর ব্যবসা যা বিভিন্ন ভাবে চাঁদার টাকায় এই অবৈধ সম্পদের মালিক —এমন অভিযোগ উঠেছে মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সোনাপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন জুয়েল। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজের একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন জুয়েল। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। কেউ টাকা দিতে আপত্তি করলে তাকে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে জুয়েলের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। কিন্তু গত ১৬ বছরে তার জীবনযাপন ও সম্পদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এই বিপুল সম্পদ অর্জিত হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জুয়েলের নামে থাকা সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।  রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

News সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ 0
চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চলন্ত ট্রেনে নারী ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশ ফেলতেন জিয়াউল আহসান

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

৭ কোটি টাকার সিটি করপোরেশনের জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া!

ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’
ঘুষ-নোটিশ বাণিজ্যে রাজউক পরিচালক হামিদুলের ‘অবৈধ বিপুল সম্পদের পাহাড়’

  দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়েরকৃত এক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫ এর পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নোটিশ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল করিম এই অভিযোগটি আগামীকাল দুদকে জমা দেবেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিচালক হামিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ ইমারত পরিদর্শকদের দিয়ে বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এবং পরে সেই নোটিশ গায়েব করে দেন। এছাড়া চাকরি বাণিজ্য, মোবাইল কোর্টের নামে রফা এবং একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর থানার রূপসায় গ্রামের বাড়ি হামিদুল ইসলামের। তিনি দর্শনে এম.এ ডিগ্রিধারী। ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী সচিব হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে উপ-পরিচালক এবং ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে জোন-৫ এর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ২০৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর অবসরে যাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ও ২০ এপ্রিল ২০২৫ এবং ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটান। ২০১৬-১৭ সালে রাজউকে ড্রাইভার নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কেরানীগঞ্জের শাহীন ও আব্দুল্লাহপুরের মতিনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে আদায় করেন। শাহীন পৈতৃক জমি বিক্রি করে এবং মতিন স্ত্রীর গহনা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দিলেও চাকরি হয়নি, টাকাও ফেরত পায়নি। মোঃ মাজেদুল ইসলামের আগের অভিযোগেও এ তথ্য উল্লেখ আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিচালক হিসেবে ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া বণ্টনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ঘন ঘন এরিয়া পরিবর্তন করেন এবং মাসিক চাঁদা আদায় করেন। ইমারত পরিদর্শকদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এরিয়া বণ্টন করে পরে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকা নেন। তাঁর নির্দেশে অধীনস্থরা বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের নোটিশ দিয়ে ভয় সৃষ্টি করেন। পরে টাকা নিয়ে নোটিশ গায়েব করে দেন। রাজউকের একজন অথরাইজড অফিসারও একইভাবে নোটিশ গায়েব করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না। মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে নিউ এলিফ্যান্ট রোডে হোল্ডিং-১১০, ১১১ ও ১১২ (মালিক কামরুল হাসান) এর ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর ২০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই এলাকার হোল্ডিং-৮২ (মালিক মিসেস রহিমা সাহাবুদ্দিন) এর ক্ষেত্রে আবাসিক অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের পর ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়া হয়। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং, বসিলা, চাঁদ উদ্যান ও তেজতুড়ি বাজারসহ একাধিক ভবন মালিকের সাথে রফা করে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তিনি অভিজ্ঞ ইমারত পরিদর্শকদের এরিয়া যথাযথভাবে না দিয়ে নতুন ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। ২০১০ সালের পর থেকে রংপুরে অধিক ফসলি জমি এবং ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের অভিযোগ আছে। শ্বশুরবাড়িতেও সম্পদ গড়েছেন বলে চাউর রয়েছে। রংপুরের লালপুকুর-মিঠাপুকুর এলাকার স্থানীয়রা জানান, এই সম্পদের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করতে পারবেন না তিনি। বর্তমানে তিনি মোটা অংকের টাকা খরচ করে জোন-৪ (গুলশান) এ বদলি হওয়ার জন্য জোরালো লবিং চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো অভিযোগ এলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখি। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, “আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখি। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর তদন্ত শুরু করা হয়। এই অভিযোগটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। নোটিশ বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও নগর পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা নষ্ট হয়।” সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “রাজউকের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। নোটিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ শুনে আমরা ক্ষুব্ধ। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।” মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকায়ও এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। পরিচালক যদি নিজেই জড়িত থাকেন, তাহলে নিচের কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। জবাবদিহিতা চাই।” গুলশানের সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “জোন পরিবর্তনের লবিংয়ের অভিযোগও গুরুতর। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। দুদক যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।” এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক মোঃ হামিদুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ পুরোনো। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে জানি। এর আগে দুদকে অভিযোগ করা একজন তাঁর অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। আমি আমার দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করি। কোনো অনিয়ম করিনি। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অভিযোগকারী মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, “জনস্বার্থে এই অভিযোগ করছি। দুদক যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হয়।” রাজউক ও দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ জমা পড়ার পর প্রাথমিক যাচাই শেষে তদন্ত কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নাগরিক সমাজ ও স্বচ্ছতাবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে। পরিচালক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের পরিণতি কী হয়, তা এখন দুদকের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

News সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ 0
কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

কেনাকাটায় অনিয়ম, মোজার দাম ১৫০০ টাকা  পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

দেড় বছরেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধারে ২০ কেজি নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

বরিশাল গণপূর্তে লটারির কাজ হস্তান্তর ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ, পটপরিবর্তনের পরও ‘পুরোনো বলয়’ সক্রিয়

হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী
হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ভূমি অফিসে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

  নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। তবে হাজিরা খাতায় তাদের অনেকের স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া ছিল বলে জানান তিনি। পরিদর্শনকালে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগাম হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণ দেশের প্রকৃত মালিক এবং তাদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কোনো দয়া নয়। তাই সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণকে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৌনে ৯টায় অফিসে যান। আপনারা যদি এমন করেন, তাহলে কি আমরা সেবাটা দিতে পারব? সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি। মেহেদী হাসান সৈকত/আরকে

News আগস্ট ৩১, ২০২৬ 0
চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

চাকরিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য, এলজিইডির CRALEP প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অভিযোগ

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

জয়েন্ট স্টকে ‘ঘুষই গতি’, নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

আইন অমান্য করে প্রাইজ পোস্টিং! গণপূর্তের তৈমুর আলমের ‘ই/এম সিন্ডিকেটে’ পুড়ছে সরকারি অ

0 Comments