শিক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

হোসেন মাঝি জুলাই ২, ২০২৬ 0
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের

 


২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।

সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।


যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা।

চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়।

পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো:

পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।
প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন।
উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না।


জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিল প্রধান তিন বিরোধী দল

ঢাকা – দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন দেশের প্রধান তিনটি বিরোধী দল—জাতীয় গণফ্রন্ট, উন্নয়ন পার্টি ও জননেতা পরিষদ—আজ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘গণঐক্য জোট’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মুখ্য লক্ষ্য হলো আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন নিশ্চিত করা। জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। তাই আমাদের এই ঐক্য—সত্যিকার অর্থে একটি গণআন্দোলনের সূচনা।” জোটের কর্মসূচি জোট নেতারা জানান, আগামী মাস থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন এবং জেলা পর্যায়ে গণসংলাপ কর্মসূচি শুরু হবে। তারা বলেছেন, এই জোট শুধুমাত্র সরকারবিরোধী নয়, বরং এটি একটি ভবিষ্যত রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে। সরকারের প্রতিক্রিয়া সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অঘোষিতভাবে কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, “বিরোধীদের এই জোট জনভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।” বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব হাসান বলেন, “এই জোট নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা মাঠে বাস্তব আন্দোলন ও বিকল্প নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে সরকার যেভাবে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে, তাতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে।” আগামী সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই জোটকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও দেখছে।

শিক্ষা

View more
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার

    জাহিদুল আলম,  রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানোর অভিযোগ করেছেন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ রোকেয়া খাতুন। প্রায় ১৫ বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালের ২২ মে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরিতে পুনর্বহাল ও পেশাগত অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকা। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে রোকেয়া খাতুন এসব অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার কারণে তাকে ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ অভিযোগপত্রে রোকেয়া খাতুন আরও বলেন, চাকরি হারানোর পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিতে যোগদানের অনুমতি দিলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তাকে কাজে যোগ দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন লিখিত অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করেছেন রোকেয়া খাতুন। তার দাবি, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা জিনাত ফারহানার বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ টাকা এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদুল্লাহ কাসেমীর বিরুদ্ধে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে এসব দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি অভিযোগপত্রের সঙ্গে দেখা যায়নি। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন ওই শিক্ষিকা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুনর্বহালের আবেদন অভিযোগপত্রের শেষাংশে রোকেয়া খাতুন নিজেকে প্রায় দেড় বছর ধরে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না করে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক পদে তাকে পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ন্যায়বিচার ও আমার পেশাগত অধিকার ফিরে পেতে চাই।” যে প্রশ্নগুলো সামনে রোকেয়া খাতুনের অভিযোগ সত্য হলে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে কি না, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়ার পরও কেন তাকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ওয়েবসাইটে স্কুলটি মিরপুর-১০, ঢাকায় পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে জিনাত ফারহানার নাম উল্লেখ রয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ 0
কালাইয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

কালাইয়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে থাকবেন রাষ্ট্রপতি

নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে থাকবেন রাষ্ট্রপতি

পবিপ্রবি'র প্রথম উপাচার্যের প্রয়াণে স্মরণসভা ও দোয়া মোনাজাত

পবিপ্রবি'র প্রথম উপাচার্যের প্রয়াণে স্মরণসভা ও দোয়া মোনাজাত

শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

  শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এমপিওর সব সুবিধা নেবে অথচ একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তা হতে দেওয়া যায় না। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বার্ক) ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মানে শিক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত্রতত্র আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বাড়াতেই এখন কাজ করা হচ্ছে। ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজে নেমেছি। শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। গত ২০ বছরে আমরা পেছনের দিকে গিয়েছি।  এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জোর করে কাউকে যেমন পাস করানো যায় না, তেমনি জোর করে ফেলও করানো যায় না। যারা এবার ভালো করতে পারেনি, তার দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এই দায় তিনি নিজের কাঁধেও নিচ্ছেন বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় ‘ডিফেক্ট’ বা ত্রুটি রয়েছে, প্রকৃত মান কেমন এবং সঠিক উপাত্ত কী—তা নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষক সঙ্কট ও আইনি জটিলতার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে। ২০১৭ সালে ৩২ হাজার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিরো, যা তিনি নিষ্পত্তি করার পরেও আবার আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ১৪ হাজার ৩০০ শিক্ষকের এখনো পদায়ন হয়নি। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেও পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষক সঙ্কট রেখে আগামী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের আশা কীভাবে করা যায়? এনটিআরসিএ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক কিছু খবরের ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে কেবল আলোচনা হয়েছিলো, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার ভেতরের তথ্য আংশিক কেটে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করায় অহেতুক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধিদের ঘন ঘন মামলা করার মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটু কিছু হলেই মামলা করা হয়, যার ফলে নিয়োগ আটকে গিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা থমকে যায়। মন্ত্রী বলেন, শূন্য পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিওর সব সুবিধা নেবে অথচ একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না, তা হতে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে যত্রতত্র আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বাড়াতেই এখন কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই ৫ মাসের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ঘন ঘন আন্দোলন করা সমীচীন নয়। বিনা কারণে হৈচৈ করে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বলবো, যেকোনো আন্দোলন করার আগে আমার সঙ্গে বসুন, কথা বলুন।

News আগস্ট ১১, ২০২৬ 0
সব জাদুঘরে সপ্তাহে একদিন ফ্রি প্রবেশের সুযোগ, পাবেন যারা

সব জাদুঘরে সপ্তাহে একদিন ফ্রি প্রবেশের সুযোগ, পাবেন যারা

রাঙ্গামাটির বিদ্যুৎহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় পাচ্ছে সোলার প্যানেল

রাঙ্গামাটির বিদ্যুৎহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় পাচ্ছে সোলার প্যানেল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

  প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা কোনো বিষয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একই তারিখে পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (১৫ জুলাই) চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে এমনটা জানান তিনি। তিনি বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে পাঁচটি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ ধাপটির কথা বিবেচনা করে মন্ত্রী বলেন, যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতিমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংসদে মন্ত্রী জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ নম্বর এবং ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

0 Comments