ধর্ম ও জীবন

অর্থাভাবে বন্ধ কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ

জানিফ হাসান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
অর্থাভাবে বন্ধ কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ
ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানের খামার আদিনা

 


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদের নির্মাণকাজ। নতুন দ্বিতল মসজিদ ভবনের পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হলেও অর্থের অভাবে দেয়াল নির্মাণ ও ছাদ ঢালাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই টিনের ছাউনির ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বৃষ্টির সময় চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে এবং রোদে ঘরটি প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে খলিল ব্যাপারী খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ১৪০ বছর। পরে কাঠ ও টিন দিয়ে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। খলিল ব্যাপারীর মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজাম্মেল হক ব্যাপারী ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে মসজিদটির নতুন ঘর নির্মাণ করেন। ওই ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় করে আসছিলেন এলাকার মুসল্লিরা।


কয়েক বছর আগে পুরোনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে মসজিদ কমিটি ও মোজাম্মেল হক ব্যাপারীর বড় ছেলে মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এজন্য আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী জানান, নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ৬০ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পিলার নির্মাণের পর দেয়াল ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদের নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের পাশে টিনের একটি ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তারা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। অন্যদিকে রোদে ঘরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এমন পরিবেশে নামাজ আদায় করতে তাদের কষ্ট হয়।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, মসজিদটির ভিত্তি নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা এখন বিপাকে পড়েছি। কারো কাছ থেকে অনুদান পাচ্ছি না, কাজেরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নির্মাণকাজ থমকে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম নোমানী বলেন, মসজিদের আশপাশের এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা মসজিদের উন্নয়নে বেশি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প স্থানে নামাজ আদায় করতেও মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী বলেন, সমাজভুক্ত মুসল্লিদের অনুদান থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতেই কষ্ট হয়। তাই নির্মাণকাজ শেষ করতে দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সহায়তা পাঠানোর জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, ভূরুঙ্গামারী শাখার হিসাব নম্বর ০২০০০২৫৮৪২২৪৮ (দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদ) এবং বিকাশ/নগদ নম্বর ০১৭২৯৬৭৮২৯২ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার শুধু মসজিদ নয়; রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি। সুযোগ পেলে ওই মসজিদের উন্নয়নেও চেষ্টা করব।
 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ধর্ম ও জীবন

View more
অর্থাভাবে বন্ধ কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ
অর্থাভাবে বন্ধ কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আদিনা মসজিদের নির্মাণকাজ

  কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদের নির্মাণকাজ। নতুন দ্বিতল মসজিদ ভবনের পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হলেও অর্থের অভাবে দেয়াল নির্মাণ ও ছাদ ঢালাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই টিনের ছাউনির ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বৃষ্টির সময় চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে এবং রোদে ঘরটি প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে খলিল ব্যাপারী খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ১৪০ বছর। পরে কাঠ ও টিন দিয়ে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। খলিল ব্যাপারীর মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজাম্মেল হক ব্যাপারী ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে মসজিদটির নতুন ঘর নির্মাণ করেন। ওই ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় করে আসছিলেন এলাকার মুসল্লিরা। কয়েক বছর আগে পুরোনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে মসজিদ কমিটি ও মোজাম্মেল হক ব্যাপারীর বড় ছেলে মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এজন্য আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী জানান, নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ৬০ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পিলার নির্মাণের পর দেয়াল ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদের নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের পাশে টিনের একটি ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তারা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। অন্যদিকে রোদে ঘরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এমন পরিবেশে নামাজ আদায় করতে তাদের কষ্ট হয়। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, মসজিদটির ভিত্তি নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা এখন বিপাকে পড়েছি। কারো কাছ থেকে অনুদান পাচ্ছি না, কাজেরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নির্মাণকাজ থমকে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম নোমানী বলেন, মসজিদের আশপাশের এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা মসজিদের উন্নয়নে বেশি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প স্থানে নামাজ আদায় করতেও মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী বলেন, সমাজভুক্ত মুসল্লিদের অনুদান থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতেই কষ্ট হয়। তাই নির্মাণকাজ শেষ করতে দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সহায়তা পাঠানোর জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, ভূরুঙ্গামারী শাখার হিসাব নম্বর ০২০০০২৫৮৪২২৪৮ (দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদ) এবং বিকাশ/নগদ নম্বর ০১৭২৯৬৭৮২৯২ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার শুধু মসজিদ নয়; রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি। সুযোগ পেলে ওই মসজিদের উন্নয়নেও চেষ্টা করব।  

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
বিমানবন্দরে বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা

বিমানবন্দরে বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা

কল্যাণপুরে মাদরাসাতুর রাইহানের ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ

কল্যাণপুরে মাদরাসাতুর রাইহানের ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ

বাবরের উদ্যোগে ৪৭ জন বিএনপি নেতা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা

বাবরের উদ্যোগে ৪৭ জন বিএনপি নেতা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা

পবিত্র কাবায় বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় মুসল্লিদের
পবিত্র কাবায় বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় মুসল্লিদের

  সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় ভারি বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হয়েছে। এ সময় মসজিদুল হারামে কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে এ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃষ্টির সময় মসজিদুল হারামের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। ভারি বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় অব্যাহত রাখেন। আবহাওয়ার অবনতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উপত্যকা এবং নিচু এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসেও মক্কাসহ কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। আল-জাজিরার ভিডিওতে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামের পরিবেশ এবং কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিরল ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে কাবা শরিফ

বিরল ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে কাবা শরিফ

আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি

0 Comments